হোম কবিতা প্রভাস্বর

প্রভাস্বর

প্রভাস্বর
249
0

আলোর সুষমা জুড়ে এই সকাল—
                       সত্য বোধকরি
তাতে বহুরঙ—
আর সবুজের পেখম
তবু খুব একা রোদ
ফড়িং উড়ছে অঙ্গ নির্ভার

আমি নীরব যেন পরাহত সয়ে যাই
যখন শুনছি পুরনো কোনো গান
যদি তাতে নাচে—
অতীত স্মরণের খোঁপা
              তবে ক্ষতি কি তাতে—
এই তো জানলাম
জীবন এক মরমী পাখি—
কেবল জীবের নিকটে এসে তড়পায়

তখনও রোদে মথিত হাওয়া বইছে—
আর এই শহরে গাড়ির হর্ন
শত শত যন্ত্রণা সমেত
মনে হয় দূরে কোথাও যাই
যেখানে হাঁটতে হাঁটতে পায়ের কাছে পরবে
এলোমেলো ভাঙা বাজার—
ধরো মেঘ মোক্ষম একটা বিকেল

যেখানে ঝরাপাতারাও সৌর অবিচল—
দধির পাতিলে উড়ছে হৈ হৈ পতঙ্গ
হালকা আবরণ—
          কিংবা হলুদ রবিবার
তাতে কি প্রখর পুড়ে যায়
                       সলতাখানি সূর্যের

কতদূরে যাব বলো, কতদূর?
                      ওই যে দ্যাখো—
কতকালের মেঘ যূথচারী
আকাশটার কোনো প্রাচীর নেই
                      নেই ধারণাও—
তাই তো পৃথিবীকে ধরি আমি তালাবদ্ধ ঘর
যেখানে আমার সকল অজানা
আকুল হতে ব্যাকুলতার ভেতর—
          কারা যেন ছুটে পালায়!

দ্যাখো, এই সন্ধ্যাটায়—
মাানুষ মৃত্যু পেরিয়ে কোনো এক প্রভাস্বরের
                            অপেক্ষায়

এখানে পোড়া হৃদয়—
            জং ধরা মাউথ অর্গান
ঘুমের মুখোশে স্বপ্নপরাভূত রাত আমার
যেখানে বেশ ঘুমে জড়িয়ে আছে শূন্যপার
যেখানে নামে পরির বিস্ময়—
                     নামে মেঘের বসন খুলে
শ্রান্ত ডানা আর শ্রুতির কাছে
                     তারাদের গান

মাথার উপরে ঘুরছে—
ঘড়ঘড় শব্দের ফ্যান
                     শীতল উল্লম্ফন
যেখানটায় ওই যে নেমে আসা ঝিলিকের মিড়

তাতে থাকে বহুভাব—
ঘরের পেছনের পথ ধরে
তবে কারা ধেইধেই করে চলে যায়
অন্য পথের আকাঙ্ক্ষায়!

ভাবি, উঠোন পেরুলেই—
          আমাদের কলপাড়
কিছুটা সবুজ শ্যাওলায় মাখা
যেখানে পড়ে থাকে জলপাই পাতারা
          ঈষৎ বিথিলাল—

এমন শূন্য ভিটায়—
              আধখানা ভাঙা মুখ
যেন শ্লথ বাড়ছে—গোবরের কান্দি এক
মুখ ডুবিয়ে শালিকেরা ঝগড়ার করে
আর গোবরেপোকা খায়

দ্যাখো, ও আমার জনম জিগার—
ওইটুকু সুন্দরই অধীর
এই যে জমে আছে জখম
             পরমের বুকের পাথর
তাতে ঠুকে রেখো তোমার যত অভিমান

ওহ! গার্হস্থ্য বিরহ আমার—
কেন এত তোমার বিরহ বিস্তার?
তারচে বরং তুমি আমার যাপনের কুম্ভরাশি
                                              খুলে নাও—
দেখ আমার অতীত—
কত কত রাতের গল্প
চাঁদের প্রাথমিক জোছনায় হাত ধরে
বসে থাকা এক বন্ধুটির হাত

আহা—সেই স্পর্শদাগ
প্রণয়ে আমার চিরিক দিয়ে ওঠে

ধরো, নদীটার পাড়ে—
                    অথবা ফেরির ঘাটে
এমন আগস্টে—
পৃথিবীর নদীগুলোর পাশে
তরঙ্গ ফোটা কাশফুলের প্রস্ফুটন
                    যেন দাবড়াচ্ছে মেঘ!

তখনো আমি দাঁড়িয়ে—
ভাবছি, ফিরছি কি বাড়ির দিকে
যেখানে পাখিরা ভিজে আছে—
                    পাখার প্রপেলারে
যেন মুখখানা খিটখিট ফুটছে

ধরো, এই মফস্বলটা—
মরা মাছের পেটের মতন
ফোলে ফেঁপে বিষাক্ত হয়ে গেছে

আহা! ঘর, ঘর তো—
যেমন ওয়ার্কশপের বারান্দা
ঘুমের ইমেজ নিয়ে বসে থাকা লোকটা
তার হয়তো কোনোদিনই বান্ধা হয় নি ঘর

আবার সে লোকটা—
রোদনভরা কখনও সংসারে
                    ফিরে না আর
ভাঙা মনের শোকলিপিতে লিখা থাকে
যার চোখের বিস্মরণ

এই যে ঘর আর সংসার—
আমি তাকে বসন্ত বুঝি
পাতার পর পাতা তারপর ফুল
যেভাবে গেঁথে থাকে দূরে—
                দূরে একেকটা করে মানুষ
মুছে যায় স্বাভাবিক—
        তখন বিকেল
মাকে দেখলাম সূর্যাস্ত দেখতে—
যেন সে লাল, চিরফুল আমার
              আমি তাকে দেখছি
কেমন ছায়ানির্ভর ঘিরে আছে

আশ্চর্য আমাদের বাড়িটার চারপাশে…

শুভ্র সরকার

জন্ম ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯; মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকরি।

সস্পাদিত ছোট কাগজ : মেরুদণ্ড।

ই- মেইল : shuvrosarker31@yahoo.com

Latest posts by শুভ্র সরকার (see all)