হোম কবিতা পাণ্ডুলিপি থেকে : নুর নুর বলে চমকায় পাখি

পাণ্ডুলিপি থেকে : নুর নুর বলে চমকায় পাখি

পাণ্ডুলিপি থেকে : নুর নুর বলে চমকায় পাখি
729
0

জুতা

আমার জুতা হারিয়ে গেছে।

এখানে—ওখানে, যারা জানত—
তারা সুন্দরী ছিল এককালে
কিন্তু পিতলের আয়না
সে রূপকথার মতো, আম্মা বলতেন—
বাছা, তোর তো পালাবার পথ নেই আর।

দেখ, প্রাচীন এই পেট—
তুই যখন এখানে থাকতি, অন্ধকার
তাদের ভালোবাসতি তুই

পানির ভেতর, মৃৎ—মৎস্য ছিলি আমার।

সমস্ত ঋতু দিয়ে বানানো সে পুকুর ঘাট
ও গোলাপ, ও জবা—
                    তুই কি শুধুই লাল?

যেন এই প্রথম লজ্জা—
আমাকে ছুঁয়ে মরে গেছে গতকাল!

তবু বলি আয়, আয় এখানে—
এই পেটের ভেতর—
আবার নতুন করে জুতা বানানো শুরু করি

তোর মতো এক পাগলের আশায়।


ঢিল

এখানে এসো—
আর মিলিয়ে যাও
               মুখ, মথেরা আমার

লোহা পোড়ানো হচ্ছে, বাজারে—
কামারের পেশি—শিল্প মনে হচ্ছে
দূর থেকে, ঠান্ডা বাতাসে
                   শুধু এই শীতের জন্য।

কে পাঠাচ্ছে?

তুমি সেই রাগী বেড়াল—
লেজ ফুলিয়ে
যেন রোদকে শাসন করছ।

এটা ছোট্ট দিন—
আমি আমার ঘুম ভাঙতে চাই না

তুমি এসো, যমদূত—
এখানে কয়লা পড়ে আছে
                    ধুয়ে দাও। মগজ—

আর ডেকো না আমাকে।

কী বলতে এসেছিলাম—
তার কিছুই বলতে পারি নি
যদিও আমি, ঈশ্বরের ছোড়া পাথর

কখনও কখনও হয়তো—
একটুআধটু জ্বলে উঠি কোথাও
                         অন্য কোথাও—

জানি এর কোনো শর্ত নেই!

তবুও এসো, মিলিয়ে নাও—
আমরা হাঁটতে হাঁটতে
যখন লাফিয়ে উঠব বাতাসে

দ্যাখো, শেষবারের মতো—
শেষবার বাতি নেভার আগে
যেভাবে জ্বলে ওঠে—
                                  হঠাৎ, আলো!
তারপর আমি যাই—
আরও দূরে, আকাশ থেকে ঢিল মারি

আমার চোখের মণি।


পাখির দল

এরা সেইসব চমকপ্রদ পাখির দল—
যারা নিবিড়াচ্ছন্ন ভাষায় চৌচির করে দেয়
                      সমস্ত পাতার ধ্যান—
                      ফলের সুষমায়
যেন মানুষের বিস্মৃত গানের পাশেই
একেকটি চমকিত পাথর!

দূরে—ছড়িয়ে পড়া তুমিও কি ভাবের মতো
ঘরে ঘরে—দীর্ঘ বাহানার পর
শিশুটির চোখ থেকে বেঁকে যাওয়া মেয়েমানুষ

ছায়ার নিচে ফুটে ওঠা চিরফুল—
শব্দের চেয়ে কালো আভা নিয়ে
                            ছুটে যায় যে আকাশ—
তারই গ্রহ-উপগ্রহগুচ্ছ কখনো ভুলায় না পথ
শুধু অঙ্কের খেয়াল বাজে তারায়—

আর মাথায় দুলে ওঠে দূরে মৃদু বাতাস।


ডুব

যে আমাকে প্রশ্ন করল,
                      সে কিছুই না—
যদি এমন বাতাসের কাছে গিয়ে রোজ
আমি মারা যাই
            কিংবা, আমার দিকে—

তাকিয়ে তুমি ছোট্ট একটি ভাষার মতো
তাকে আদর দাও—আর বলো কিছুই না!

এই দেখা,
অন্য কিছুর সাথে কিছুই মেলে না—
অথচ পাতার নিচে পিঁপড়ের সম্মেলন
যুদ্ধ আর মুক্তির চেয়েও
                        তারা সুন্দর নৃ—

বিস্ফোরণের আগের রাত, এটা আশ্চর্য
আমাকে সব দেখাও—কিন্তু সে আমি না!

ভাবি, প্রতিটি ছকের সাথেই
                    ধাক্কা হবে আমার—
কোথাও শব্দ হবে আবার হবে না!
মৃদু রেণুর ভেতর
         পাখি ও ফুলের সম্পর্ক কী?

কে জানে? শুধু কাচকান্নার মতো এই দৃশ্য
যেন যাবতীয় যন্ত্র—তারা কোথাও স্থির না!

কিভাবে দেখি তোমাকে
              মৃত্যু কি এমন অভয়—
বাতাসকে ফাঁকি দিয়ে যাওয়া
              একটি ফুল
আমাকে বিশ্বাস করে ফোটে,
দূরের হাওয়ায়

যে কাঠবিড়ালি বিগড়ে যায় রোজ হঠাৎ হঠাৎ
সেও তো হৃদয়—বনের ছোট্ট এক পরিখা

দমের উপর বসে যে আঁকছে
                   চোখের মণি—
আর তোমার প্রতিবিম্ব।

                   ওখানে কে আমি?

ছোট্ট গাছের শরীর, পোকা খাওয়ার সুর—
গৃধিনীর গুঞ্জনে ভারি এ ঘর, জাহাজ যেন
আমাকে নিয়ে যায়। কিন্তু কোথাও যাচ্ছি না!

কালো কৃষক,
     তুমি শস্য বানাও। হালকা—
এবং মিষ্টি—কিছুটা বিষ,
লালের গভীরে
সে সূর্যাস্তের শার্ট আমার!
                   গৃহিণীর আঙুল—

তাকে জোড়া লাগাচ্ছে রাত্রি দিয়ে, আকাশ
কে নিবে এখন? কেউ তা জানে না!

তবু কথার কয়েন
     বাজি ধরতে পারি আমি—
এটা পরিবর্তনযোগ্য,
     টস করছে কেউ গাছে

ছায়া আর শরীরের ভেতর ছাতারের দল—

কেউ কেউ ধূলিতে ডুব দিয়ে
আর ভাসছে না।


সৌন্দর্য

যেন রোদে ডুব দিয়ে বিড়ালটি
মানুষের আকার পেল
আর তুমিও—

লোমে বিলি কেটে পার হচ্ছ

ঘর—
বিছানা—
বালিশ—

তুলোগুলো উড়ে যাচ্ছে হাওয়ায়
আঁচড়ের দাগে—কানের কাছে

এখন ঘুম

আর অগণিত শিশুরা মুখে স্তন গুঁজে
পাহারা দিচ্ছে মায়ের সৌন্দর্য।

সারাজাত সৌম

সারাজাত সৌম

জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকুরি।

প্রকাশিত বই :
একাই হাঁটছি পাগল [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৮]

ই-মেইল : showmo.sarajat@gmail.com
সারাজাত সৌম