হোম কবিতা পাণ্ডুলিপি থেকে : চিল্লাই কিল্লাই

পাণ্ডুলিপি থেকে : চিল্লাই কিল্লাই

পাণ্ডুলিপি থেকে : চিল্লাই কিল্লাই
496
0

চিল্লাই কিল্লাই

কোনো কিছু ঘটলেই
কোনো কিছু রটলেই
তারপর দল বেঁধে কিছুদিন চিল্লাই
                       —কিল্লাই?

আগে-পরে ঘুম যাই
ঘুম ছাড়া কাম নাই
এই ফাঁকে হরিলুট, তারপর চিল্লাই
                       —কিল্লাই?

দিন শেষে ভুলে যাই
ভুলগুলো গিলে খাই
খানা পিনা শেষ হলে হুদা কামে চিল্লাই
                       —কিল্লাই?

আগে এত গলাবাজি
                       —থাকে কই?
ঘটনার পরে কেন
                       —হৈ চৈ?


ঠিক না বেঠিক

কত্ত বড়ো মুফতি জিগায়
ঠিক না বেঠিক
আম মুসুল্লি চিল্লাইয়া কয়
ঠিক ঠিক ঠিক
ফতোয়াটা তাই হইতাছে কার
ভাবতাছি তাই
নিজের গুণে ফতোয়া দেয়ার
মুফতি কি নাই

তিন কেলাশও পাশ দেয় নাই
আবুল ফজল
বয়ান শুনে কাইন্দা বিলায়
চোক্ষের জল
হুজুর যখন হঠাৎ জিগায়
ঠিক না বেঠিক
ফজলও তখন চিল্লাইয়া কয়
ঠিক ঠিক ঠিক

গলির মোড়ে ফতোয়া চলে
কাফের কেঠা
কমেডি সিরিজ চলছে চামে
বলছে জেঠা
লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে
বাহাস ডাকে
বিভাজনের ময়দানে তার
ফন্দি আঁকে

ডোবার ব্যাঙের এলেম নিয়া
আলেম সেজে
ধর্মটাকে তিন বেলাতেই
খাচ্ছে ভেজে
ওলামায়ে সু এরাই বুঝি
কলিকালের
এদের চোখে আম মুসুল্লি
বলদ হালের

ইউ টিউব মাওলানাতে
ভইরা গেছে
বয়ান শুনে বাঁশের আগায়
ঝুইল্যা নাচে
এদের কাছে চিড়িয়াখানার
বান্দরও ফেল
এর’চে বেশি বললে আবার
খাই যদি জেল

পাবলিকেরও মাথার ঘিলু
জানি না কোথায়
বাছ বিচারের বালাই ছাড়া
দৌড় মেরে যায়
যাচাই করেন আলেমটাই
ঠিক না বেঠিক
তারপরে ভাই চিল্লাইয়া কন
ঠিক ঠিক ঠিক


ধুম

ধুম মাচালে ধুম
লক্ষণে কয় হইবে শুরু
          যবন মারার ধুম

আল্লাহু আকবর
কাঁটাতারের এপাশটাও
          কাঁপছে যে থরথর

হরে কৃষ্ণ রাম
যদু পাগল ফাল দিয়া কয়
          ওরে বেকুব থাম


বেদখল

সবকিছু হয়ে গেছে বেদখল,
দিনে দিনে সবকিছু হয়ে যায় বেদখল

শৈশব
কৈশোর
খাল নদী মাটি ঘর

পথ ঘাট
ইশকুল
প্রজাপতি পাখি ফুল

সবকিছু হয়ে গেছে বেদখল,
দিনে দিনে সবকিছু হয়ে যায় বেদখল

রঙতুলি
পেন্সিল
হাসিমুখ খিল খিল

প্রতিবাদ
সংগ্রাম
নীল চিঠি ভরা খাম

সবকিছু হয়ে গেছে বেদখল,
দিনে দিনে সবকিছু হয়ে যায় বেদখল
শ্বাপদের ঝংকারে খুনে নদী ছলছল


দুরমুজ

যেই শালা মুখ খোলে
মেরে চাপা ভেঙে ফেল
গিরা নলি গুঁড়া করে
চুল কান ছিঁড়ে ফেল

হাত ছিঁড়ে নাক ছিঁড়ে
টেনে টুনে দাও জেল
জিভ করে কচুকাটা
তছনছ করে ফেল

যেই শালা দেখে ফেলে
চোখ তার তুলে নাও
থ্রেট করে ঘর থেকে
তুলে তারে নিয়ে যাও

যেই শালা ফাল পাড়ে
পিছ মোড়া করে ধর
ছাল তুলে নুন মেখে
কলিজটা ভুনা কর

যেই শালা হাঁটে দেখো
শিনা করে টান টান
দুরমুজ দিয়ে ছেঁচে
করে ফেল খান খান


রাজাকার ভাজা

এক দেশে ছিল এক ডিজিটাল রাজা
রোজ রাতে খান তিনি রাজাকার ভাজা
জাতি পাতি রাজাকার ফ্রাই আহা বেশ
কিছুদিন পর দেখে তারা প্রায় শেষ

তাই সারা দেশ জুড়ে খোঁজা হলো শুরু
পাতি-জাতি রাজাকার ছিল কার গুরু
ছানা পোনা যদি মেলে তাও ঢের ভালো
খোঁজ নিতে লাখ লাখ চামচারা গেল

কচি-বাতি-বুড়া যত রাজাকার ছিল
বড়ো সড়ো তালিকায় সব লিখে দিল
রাজা মহা খুশি হয়ে দিল হাততালি
এই ফাঁকে দেখে তার কোষাগার খালি

এক দেশে ছিল এক ডিজিটাল রাজা
সেই দেশে কিছু লোক খায় দেশ ভাজা


বাঁশ ডলা

কসাই কাদের যাওয়ার পরে কব্বরে
বদ দোয়া দেয় পাশের বাড়ির জব্বরে
ফেরেস্তারা জিগায় ‘কাদের-ঘটনা কী’
মানুষ জবাই করছ তুমি, ছি ছি ছি!

কাদের বলে ওই শালা সব মালাউন
নিজের হাতে জবাই দিছি, করছি খুন
ডিস্টার্ব আর করবি না কেউ, সর দূরে
আমার জন্য সরাব আনবে কোন হুরে?

কোন রাস্তায় বেহেস্তে যায় সেইটা বল
হুরের বাড়ি কোথায় আমায় লইয়া চল
তাদের নাচন এক্ষুনি যে দেখতে চাই
সইছে না তর আমার অত ধৈর্য নাই

ফেরেস্তারা বলেন মিয়া—চুপ মারেন
সুয়াল-জওয়াব পর্বটা তো শেষ করেন
নিরীহ সব মানুষ মাইরা ভাব দেখান
ধর্ম নিয়ে অঙ্কবাজির ফল মিলান

কাদের বলে এসব আমি শুনছি কী
ফেরেস্তারা শোর তুলেছে, ছি ছি ছি
সবাই মিলে দিচ্ছে তারে কান মলা
তার পরেতেই হইছে শুরু বাঁশ ডলা


চাকরি নট

হরেক রকম ভাবনা আমার
মাথার ভিতর ঘুরছে
প্রজাপতির পাখায় পাখায়
মেঘের উপর উড়ছে

এই ধরা যাক যুদ্ধবিমান
হঠাৎ মজার খেলনা
কপ্টারগুলো কামান নিয়ে
হঠাৎ করেই দোলনা

আবার ধরো ক্লাস্টার বোম
হয়ে গেল ঘোড়ার ডিম
হঠাৎ ধরো হাতের গ্রেনেড
হয়ে গেল মোবাইল সিম

মিসাইল গুলে ছুটত যদি
মাথায় নিয়ে শিউলি ফুল
সাবমেরিনে থাকত যদি
মারমেইডের কানের দুল

আবার ধরো ট্রাম্প-পুতিনে
দোস্তি করে ঘুরতে যায়
সিরিয়া মিসর আরব জুড়ে
দুধের শিশু স্বস্তি পায়

অদ্ভুত সব ভাবনা এসে
মাথার ভেতর বাঁধল জট
স্বপ্নে দেখি সৌদ যুবরাজ
সালমানেরই চাকরি নট


উন্নয়নের চাটনি

পেঁয়াজ ছাড়া রান্না জানি
সাবান ছাড়া কাচতে
না জানি হায় শিখতে হবে
খালি পেটেই বাঁচতে

লবণ ছাড়া রান্না শিখি
ইলিশ ছাড়া সরষে
পানি খেয়েই থাকতে হবে
সবাই বলো জোরসে

হাওয়া খাব বাতাস খাব
উন্নয়নের চাটনি
মধ্য আয়ের দেশে এখন
করব কেন খাটনি

চাল ডাল তেল আদা জিরা
এসব ছাড়াই চলছি
ধুত্তুরি ছাই পরের কথা
আগেই কেন বলছি


ফাউল-টাউট-চিটার

আমরা শালার এত্ত বড় ফাউল,
বস্তা ভইরা লবণ কিনি—
ঘরেতে নাই চাউল!

সাত টাকাতে এক জিবি খাই
চ্যানেল টিপে সানি,
তার ফাঁকে কী চুক্তি হলো
সেই খবর কি জানি!

আমরা শালার এত্ত বড় টাউট,
নিজের নাকটা কাইটা করি—
অন্যের লাইফ টু..ট!

এক লাফেতে মঙ্গলে যাই
সাবমেরিনে ঘুরি,
এক নিমেষে দেশ হয়ে যায়
এই ফাঁকেতে চুরি!

আমরা শালার এত্ত বড় চিটার,
দেশের টাকায় চামচা রাখি—
জুতার তলা চাটার!


ব্যাপারটা কী, মাম্মা?

মরার পরে দেশপ্রেমিক
মরার আগে ভণ্ড,
          এইটা কেমন কাণ্ড?

বাঁইচা থাকতে প্রতারক
মইরা গেলে দোস্ত,
          কারণটা কী, কও তো!

মরার আগে দাবড়ানি
মরার পরে চুম্মা,
          ব্যাপারটা কী, মাম্মা?

ভাইবা দেখি বাঁইচা যখন ফায়দা নাই
ইঁদুর মারার বিষেই তখন মরতে চাই

মোক্তার হোসেন

জন্ম ৬ এপ্রিল ১৯৮২, লক্ষ্মীপুর। স্নাতকোত্তর, মৎস্যবিদ্যা, ঢাকা কলেজ। পেশা : চাকুরি।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
একটি লাল ঘুড়ি এবং আমি [জেব্রাক্রসিং, ২০১৭]
মহুয়া মাতাল হলে [বেহুলা বাংলা, ২০১৭]

ছড়া—
মগজবিহীন গাধার দল [তিউড়ি প্রকাশন, ২০১৭]
ধুর শালা কস কী [অগ্রদূত অ্যান্ড কোং, ২০১৯]

গল্প—
আইসিইউ বেড নম্বর নাইন [বেহুলা বাংলা, ২০১৮]

শিশুসাহিত্য—
রোদবৃষ্টির মিষ্টি ছড়া (ছড়া) [টাপুর টুপুর, ২০১৮]

ই-মেইল : hossain.mokthar@gmail.com