হোম কবিতা পাণ্ডুলিপির কবিতা : দ্বিতীয় আয়না

পাণ্ডুলিপির কবিতা : দ্বিতীয় আয়না

পাণ্ডুলিপির কবিতা : দ্বিতীয় আয়না
475
0

দেবাশীষ ধরের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ দ্বিতীয় আয়না, ’১৮-এর বইমেলায় আসছে খড়িমাটি প্রকাশনা থেকে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী রাজীব দত্ত। বইটি পাওয়া যাবে বহেরা তলার লিটল ম্যাগ চত্বর (৯১ নং স্টল), খড়িমাটি প্রকাশনায়।

 


সুজিনা এবং দক্ষিণের গল্পগুলো

১.
চশমাটা সে-দিন থেকেই রোদের জল নিয়ে দ্রাক্ষাখেতে বপন হচ্ছিল। আমাদের উঠোনজুড়ে শিউলিমাখা গন্ধরা প্রস্তুত, চিঠিরা বাঘবিহারী ছায়ার চূড়ায় এখন। চোখ দুটো বন্ধ হলেই জ্বলে উঠে চশমার ফুলেরা, দ্রাক্ষাখেতে দাঁড়িয়ে রোদেরা গল্প লিখছে।

সুজিনা এদিকে এসো, তোমাকে ওই বাঘবিহারীর শেষ চূড়ার গল্প শোনাব।

২.
দরজা টোকা দিতেই প্রেমিকা বেরিয়ে সামনে দাঁড়াল সোমবারের বিকেলে। তার ঠোঁট থেকে সোঁদা মাটির তীব্র গন্ধ আসছিল, কৈশোরে এরকম বিকেলগুলোতে জেলে পাড়ার রাস্তা ধরে সমুদ্রে বেড়াতে যেতাম লুকিয়ে। তখনো এই সোঁদা মাটির গন্ধ পেতাম। এবারও লুকিয়ে এসেছি আমার সামনে সমুদ্রের ঢেউ।

সুজিনা, বাসায় ফেরার পর তোমার পাঠানো চিঠির সাথে শুকনো পাতাগুলো হতে আমি আবারো সেই গন্ধ পেলাম।

৩.
বাবার চশমাটি থেকে বাবার বাবা ছাপ এসেছে। একটি টর্চ লাইট হাতে নিয়ে বাবা ঝুঁকে বই পড়ছেন, সেই সময় এমির কুস্তারিকার সিনেমায় ট্রামপেট-এর তালে সার্বিয়ান গানের সাথে দাদি আর নাতির যুগল নাচ দেখছিলাম। তিন বছর আগে শ্মশানঘাটের সামনে আমিও নেচেছিলাম আমার দাদির সাথে।

সুজিনা, তুমি বলেছিলে পদ্মার পারে আমাকে নিয়ে যাবে। একদিন বিকেলে পদ্মার ঢেউয়ের শব্দে আমিও তোমার সাথে নাচব।


শব্দ

শব্দ, বহু মনোরঞ্জন দিয়ে প্রতিলিপি বানায় এত!
আমাদের বোধের প্রকাশিত পত্রমুকুলে কতটা
সীমারেখা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে ফের ঝরে যাওয়ার আগে কুড়মুড় করে।


সরিষার টিপ

হেঁটে যাচ্ছি…
পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছ
ধানখেতে পা রেখেছি, রেখেছ
একটি বক নদীর ধারে, তাকিয়ে হাসছে
কালো প্রজাপতি, আরেকটি সবুজ ফড়িং
পৃথিবীর আরেক বিকেল জেগেছে কপালে
একটি সরিষার টিপ।

হেঁটে যাচ্ছি…
সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছ
ধনেফুল বাগানে পা রেখেছ
শিশিরের ঠান্ডা স্পর্শ, হাতের সীমারেখা,
পাতার গায়ে বিকেলের চুল, সরিষার হাসি।
একটি সমীকরণ পায়ের পাতায়
ধনেফুল বাগানে লুকিয়ে আছে সরিষার টিপ।


শিল্পী

সিঁড়ি যেখানটায় শেষ সেখানে একটা ঘরের দরজা আছে। দরজায় পাহারা দিচ্ছে সারা জীবন ধরে এক দারোয়ান। একদিন বিশাল এক ঝড়ে দরজা উড়ে গেল, দারোয়ান অজ্ঞান হলো। সবাই আগ্রহী হয়ে ঘরের ভেতর ঢুকল, দেখল একজন শিল্পী বিশাল ক্যানভাসে একটি মুখ আঁকছেন। পুরো ঘরে অনেকগুলো একই মুখের স্কেচ।

দেবাশীষ ধর

কবি, গল্পকার, গদ্যকার ও অনুবাদক। জন্ম ৫ জানুয়ারি, ১৯৮৯; চট্টগ্রাম।

শিক্ষা : গণিতে স্নাতকোত্তর, চট্টগ্রাম কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : গণিতের শিক্ষক, মীপস পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রাম।

সম্পাদক :
বাঙাল, ঘুণপোকা [ছোট কাগজ]

প্রকাশিত বই :
ফসিলের কারুকাজ [কবিতা, অনুপ্রাণন প্রকাশন, ২০১৬]
দ্বিতীয় আয়না [কবিতা, খড়িমাটি, ২০১৮]

ই-মেইল : debdhar121@gmail.com