হোম কবিতা পরম করোনাময়

পরম করোনাময়

পরম করোনাময়
1.77K
0

আমরা শুনেছি প্রলয়ের কালে কালো হাঁস ওড়ে,
আকাশের কোনাকুনি উড়ে যায় সাপ;
আমরা শুনেছি মহামারি কালে দেখা দেয় সেও
সভ্যতার সীমাদেশে—গ্রামের কিনারে:
ঘোমটা দেওয়া এক নারী দেখি গোধূম সন্ধ্যায়
লন্ঠন দুলিয়ে যায়; মাটিও উগড়ে দেয় বীজ,
মৃত্যুর সামিয়ানায় ঢেকে যায় দেশ।

কেউ কি দেখেছ তাকে, কেউ কি দেখেছ?
জিজ্ঞাসার তরবারি খোলা রেখে প্রশ্ন করে গেছে
এক লোক। কানে কানে বাজারে ও ঘাটে।
জন্মান্তের শোকে ঢাকা তার দুই চোখ।

আমরা শুনি নি তাকে—সত্যের পোশাকে
দেখি নি আমরা কারো নিজের শরীর।
আমাদের চোখে পোড়ে খাকের আহার
আমাদের মনে দোলে জাদুর রুমাল।

আমরা দেখি নি কালো সারসের ওড়া,
দেখি নি ডাকিন ওই প্রাসাদের চূড়া
ধবল হাড়ের চুনে হয়ে আছে সাদা।
কেবল দেখেছি লোকে লাশ খুঁজে ফেরে—
লোভের চুল্লিতে আর রানার প্লাজায়।
কালবসন্তের এই অকাল সন্ধ্যায়,
ফারাও ফানুশ ওড়ে আমার আকাশে
নিরঙ মেঘেরা ঝরে ভীষণ ফ্যাকাশে।
হেমন্তে গাছেরা নিঃস্ব হয়ে গেলে,
ভেবেছি বসন্ত ওই এসে গেছে। অথচ সে
হৃদয় অশোক ক’রে বলে গেছে—
কুঁড়ির বদলে দ্যাখো ফুটেছে গন্ধক
হাতে হাতে মৃত্যু করে নীল দস্তখত।

শুভদিন আজ, (সামনে আরও শুভ দিন আছে)
তীর্থে তীর্থে কারা রেখে যায় পাপ,
বুকে ক’রে সেই পাপার্ত ময়ূর
গভীর শিখার দিকে চা’ই—
কোনো তীর্থ আর নাই পৃথিবীতে
হরিয়াল পাখি গুটিয়ে ফেলেছে ডানার সটান।
এত পাপ এত হত্যা ঘৃণার বিকার;
শুষে নেবে এমন নিকষ পাথর কোথায়,
যখন আমার চোখে পোড়ে খাকের আহার
যখন তোমার মনে দোলে জাদুর রুমাল।

আমার আপন তীর্থে তবু কার ছায়া ভাসে!
ও বজ্রঘন পাহাড়, ও মৃত্যুর নিশিপাখা শ্বাস
ও গহন মূর্চ্ছা রে, কার চোরা গীতিকার টানে
কতদিকে ছুটে যায় বীজবন্ধহারা মন
শিমুলের মতো ফাটে আমার চেতন।

নদীর বন্ধন আজ খুলে গেছে হেই অবতার
উছলায় জল তবু কেন খোলো দ্বার
আগম ও নিগমের সাঁকো যদি ভাঙা!
মানুষের ঠিকানায় আছে যত ঘাট
স্রোতোমুখে ভাসা যত জাহাজ ও ফেরি
জলেশ্বরী ঘাটে যত ফেরারি শুশুক
অতল উথলে জাগা আছে যত জীব;
জলে ভ’রে রোমকূপ বিস্মিত বিকল,
কাঁপে রক্ত কাঁপে জীবেরো আদল।

মড়কে মড়কে দেশ হলো তো উজাড়
জীবাশ্মে শোভিত যদি মহাপ্রাণ ভিটা
বিষের বটুলি যত খোলো মহামতি
অভিসম্পাতের কালে হবে তুমি একা।

স্মৃতির পাঁজর জুড়ে রয়েছে ভরাট
কয়েক জন্মের বিষ;
স্নায়ুরা অশান্ত আজ, মুখাগ্নি হবেই
নদী তুই দেখে নিস!

(খসড়া ২০.০৩.২০)

(1773)