হোম কবিতা তিন লাইন

তিন লাইন

তিন লাইন
519
0

ভূমিকা

তিন লাইন বললেই সারা বিশ্বের কবিতাপ্রেমীদের মনে ‘হাইকু’র কথা মনে আসে। জাপানি এই ধ্রুপদি সুর বাংলায় তুলে আনার সাধ্য আমার নাই, তবে সাধ তো থাকেই। সেই সাধ পুরনো একটা চেষ্টা এই ‘তিন লাইন’। একেক ভাষার চলন-বলন একেক রকম, একেক দেশের ঋতুও আলাদা। জাপানিদের তো মূলত চারটি ঋতু। ইউরোপ আমেরিকাতেও গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত আর বসন্তে ঋতুচক্র শেষ। তারা বর্ষা ঋতুকে আমাদের মতো করে দেখে না, হেমন্ত তো না-ই বললেই চলে। অথচ আমাদের রবীন্দ্রনাথ বর্ষাকে নিয়ে কী মাতামাতিই করেছেন, জীবনানন্দ দাশ তো হেমন্তেরই কবি। মোদ্দা কথায় এই যে ছয় ঋতুর দেশ, সেখানে কবিতায় ঋতুর চেহারাটা কদাচ দৃষ্ট। রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ’র কবিতায় বাংলার প্রকৃতি আর ঋতু এসেছে নানা সাজে। কিন্তু আধুনিক কবিরা বোধহয় ঋতুবৈচিত্র্যকে ভুলে গেল। শহরের ফ্লাটবাড়িতে ঋতুবৈচিত্র্য কোথায়! আর ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ নামের এক দৈত্য ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলছে প্রকৃতি আর বাংলার ঋতুবৈশিষ্ট্য।

আমি সচেতনভাবেই একেকটা ঋতু নিয়ে বারোটি করে হাইকু লেখার চেষ্টা করলাম। অন্য অর্থে, এই বারোটি হাইকু মিলেও একটা কবিতা হতে পারে হয়তোবা। এটা কিছুই নয়। গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নয়। এ কেবল একটা চেষ্টা। আমাদের ঋতুবৈচিত্র্যকে কুর্নিশ জানানোর চেষ্টা। আমি কবি হলে হয়তো এই চেষ্টাটা কাজে লাগত। কিন্তু ওই যে সাধ্য না-থাকা সত্ত্বেও সাধ পূরণের একটা সুযোগ নিয়ে নিলাম।

সত্যিকার কবিরা যদি দয়া করে ভাবে, তবে হয়তো আধুনিক বাংলা কবিতায় ঋতুবৈচিত্র্যের সম্ভার দেখা যাবে।

জয় হোক বাংলা কবিতার।
ভালোবাসা প্রিয় কবিতাপ্রেমী ও কবিদের।

– মুম রহমান


গ্রীষ্ম



লাল সবুজ
তরমুজের ফালি
গ্রীষ্মে আদর।


শরীরে তাপ
মনে উত্তাপ
পাগলও তৃষ্ণার্ত।


পুকুরপাড়
লেবুর গাছ
একে অপরকে দেখে।


বাসররাত
জামাই-বউ—
অর্থহীন গরম।


স্মৃতি রঙিন
পুরনো দিন
দুলছে তালপাখা


বর্ষা



পালকে বৃষ্টি
চড়ুই তবু জানে,
রোদ আসবে।


উত্তাল ঢেউ—
মেঘকে চুমু খাবে
লাফাচ্ছে তাই।


এক বর্ষার
স্মৃতিতে ভিজে
বাকি জীবন কাঁদি।


মেঘ পাঠালো
বারান্দায় আদর
বৃষ্টির খামে।


বৃষ্টিতে ভেজা
গাছের পাতা—
সেই কোমল হাত।


শরৎ



নীল আকাশে
ছেনালি অবিরাম
সাদা মেঘের।


অক্লান্ত তারা
গর্ভবতী আকাশ—
ক্ষুদ্র পৃথিবী।


শান্ত, মধুর
সাদা কাশ, উড়ুক্কু মেঘ—
প্রতিযোগিতা!


শরৎকাল
শহরে পলাতক—
গ্রামে ঘুমায়।


মাছেরা দেখে
জলের আয়নাতে
শরৎশশী।


হেমন্ত



হৃদয়ে নিয়ে
জীবনানন্দ—
জেগে থাকে হেমন্ত।


অগ্রহায়ণ
ধান কাটা চলছে
পাখির ঈদ।


পোয়াতি ধান
বাতাসে দারবিশ
সুফি হেমন্ত।


মৃদু হাওয়া
কাচপোকারা নাচে
শাপলাবিলে।


হেমন্তরাত
ভরা জোছনাসুধা—
মুম নির্ঘুম।


শীত



নকশি কাঁথা
শরীরকে সাজাচ্ছে
উষ্ণ আদরে।

কুয়াশা থাক
পুরনো প্রেম সে—
আড়ালে রাখ।

শয্যায় শীত
গুটি মেরে ঘুমায়
ফাঁটা ঠোঁটে।

ঝরা পাতারা
চুপচাপ নিথর
আমার মতো।


পোড়াচ্ছি সুখে
অপ্রয়োজনীয় যা
শীত পোহাতে।


বসন্ত



কাঠ-ঠোকরা
ঠোঁটের ঠুকঠুকু
এই বসন্তে।


নতুন ডালে
পাখিদের সঙ্গম
যৌনবসন্ত।

হাইব্রিড প্রতাপে
ছাদে বসন্ত—
প্রাণ ছোঁয় না।


জানি কোকিল
প্যারাসিটামল—
আমি ক্যান্সার-রোগী।


চিরন্তন বসন্ত
স্বপ্নে দেখেছ—
বাস্তবে নয়।

মুম রহমান

জন্ম ২৭ মার্চ, ময়মনসিংহ। এমফিল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা লেখালেখি।

প্রকাশিত বই :

উপন্যাস—
মায়াবি মুখোশ
কমৎকার

ছোটগল্প—
অন্ধকারের গল্পগুচ্ছ
ছোট ছোট ছোটগল্প
শতগল্প
হয়তো প্রেমের গল্প

কবিতা—
চার লাইন

চলচ্চিত্র বিষয়ক—
বিশ্বসেরা ৫০ চলচ্চিত্র
বিশ্বসেরা আরো ৫০ চলচ্চিত্র
১০ রকম ১০০ চলচ্চিত্র
বিচিত্র চলচ্চিত্র
বিশ্বসেরা চলচ্চিত্র সমগ্র
বিশ্বসেরা শত সিনেমা
অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র

নাটক—
দুইটি ব্রিটিশ নাটক
তিনটি মঞ্চ নাটক

অনুবাদ—
সাদাকো ও সহস্র সারস
বব ডিলান গীতিকা
কাফকা : অণুগল্প
সাফোর কবিতা

শিশুতোষ—
মজার প্রাণীকূল

চিত্রকলা বিষয়ক—
বেদনার রং তুলিতে একটি জীবন

প্রবন্ধ—
বই কেনা, বই পড়া
বই বিশ্ব
কিতাবি কথা

অন্যান্য—
তিতা কথা

সম্পাদনা—
অনির্ণীত হুমায়ূন

ই-মেইল : moomrahaman@gmail.com

Latest posts by মুম রহমান (see all)