হোম কবিতা কাঠের পুতুল

কাঠের পুতুল

কাঠের পুতুল
241
0

A poem doesn’t need to be honest. It always is a psychological game. Honesty is a vital part of your poetics. Poetics is all about you or what you aspire to be… and you don’t play games with yourself.

পুতুল’কে বলি—
তোমাদের সংঘবদ্ধ নীরবতা আমার মুকুট
টিঁকে যাব। টিঁকে যাব হেমন্তবাগানে
তোমাদের ঋতুভাষী হলুদ পাতার ভিড়ে
চোখের আড়ালে
দু’চোখের বালি হয়ে। টিঁকে যাব

.
কাঠের পুতুল

.
Dreams are for all and survival is for those who can afford it.

No object can be described until another comes along to stand close, ready to be compared.
Most of us grew beards, you see, shaving was difficult, straight-razors were aplenty but mirrors were few, some tried shaving looking at reflections on another’s pupils dilated by dopamine; a prospect of a reward called survival.
It was bitter there, you see, living in ghettos, eyes permanently stuck on rusted window gratings and stick-thin limbs masquerading as jacket-hangers, voices crooning tunes, lyrics gone, snatched by miscarriages and then came the psychoanalysts who would teach us about anxiety, about totems and a chilly river that they said flows through our nerves without us ever knowing it and that dreams were for all and survival was for those who could afford it.
Of course every one of us wanted to survive. No one wants burial under this leaden sky dispensing wet ashes even when no coal smoulders anywhere in the known world, yet we die of asphyxiation in this rarefied dreamworld. You see, dreams kill you.

* * *

এই পোড়োজমি তোমার দু’ভুরুর মাঝে
আর আমার দু’পঙ্‌ক্তি
আমি চোয়ালে শ্যাওলা
বাসি ডিকশান মুখে নিভিয়ে দেয়া আলো

অন্ধকারে পুতুলগুলো জেগে ওঠে
আমরা কাতরাতে কাতরাতে ভাষার ভেতর ঢুকে পড়ি
তোমার আর আমার ভাষার মাঝে পোড়োজমি
কাগজফুলের ঝাড় আর পুতুলের ঘর

শেষ পর্যন্ত আমার সমস্ত লেখাই পুতুলের সাথে শোয়
কামড়ে ধরে কাঠের বোঁটা

ধাতুর যোনির ভেতরে দু’পংক্তি যাওয়া, এক লাইন ফেরা
ছায়া আর শব্দের এই সন্নাটা
আর কীইবা লিখতে চেয়েছি, এই আকালে?

* * *

পুতুল ঘুমিয়ে পড়লে ওর ভেতর জেগে ওঠে
শহর, নদী পার করে ঢুকে যায় বাষ্পের বনে
যতই আঁকড়ে ধর পুতুলের আঙুল,      নখ
আলগা হয়ে আসবে তোমার, তবু পুতুলের ভেতর
দিয়ে হেঁটে যাবে তুমি, একা আর ঐ বাষ্পের বন

পুতুলের ভেতর পৃথিবীর হাড় মটমট করে
পুতুলের ভেতর ছাইরঙা বেড়াল উল নিয়ে
খেলে, উলের গোলা পেঁচিয়ে ধরে ওর রোঁয়া
ওঠা ঘাড়, বেড়ালের শ্বাসনালির ভেতর হামা টানে
বাষ্পের বন…সেই বাষ্পের বন যেখান থেকে
কুড়িয়ে পেয়েছ এই কাঠের পুতুল।

* * *

পুতুল ঘুমিয়ে আছে ভোরবেলা
ওকে তুমি দাঁত দিয়ে জাগাও
—স্বদেশ সেন

* * *

পুতুল তো ভাষা, যে ভাষা সশব্দে
দরজা আবজে দেয় মুখের ভেতর
হারিয়ে রয়েছ, পোড়োবাড়ি, নুনের খিলান
পুতুলের স্মৃতির ভেতর শুধু একগজ খেলা করে হাত

জানি না কেমন করে তোমাকে বোঝাব—
ফুলদানি থেকে নেমে বাগানে এসেছি
পূর্বাভাসের মতো আখরেরা ওড়ে…
দাঁতের ফোকরে পাখিগুলো ওড়ে…
এটুকুই বাসযোগ্য, এটুকুই লেখালিখি অচেনা ভাষায়…
পুতুলের স্তনের খাঁজটুকুই আলো
আর সে’ই স্তব্ধতা, যাকে ফুঁপিয়ে ওঠার
দিন দেখা যায় বড়জোর দু’এক লহমা
ওটুকুই লেখালিখি, শূন্যতা, গতরখায়েশ
কী করে ভাবলে আমি ভাষাকেও অনুমতি দেব,
বাজিয়ে তোলার মতো সর্বনাম দেব শীতের বিকেলে…

* * *

পুতুলের চেন হাতে আমরা বেড়াতে যাই,
আমাদের কতকিছু হয়
বাগানের গেট ঠেলে বেরোতেই দেখি সূর্য উঠছে
ধূসর আকাশে, নিষ্ফলরঙা খুব সূর্য উঠছে
লালছাদ বাড়িগুলো মুষড়ে রয়েছে, যেন ছাদের
তলায় মানুষ-মানুষীরা কালরাতে কেউ কাউকে
ছুঁয়েও দেখে নি, একে অপরের দিকে পিঠ ফিরে
নিজের নিজের পুতুলের বুকে ঠোঁট চেপে ঘুমিয়ে থেকেছে
বারবার ডুকরে উঠেছে মাত্র দু’তিন কাঠা স্বপ্নের ভেতর

অথচ পুতুল আমাদের ভালোই চেয়েছে
অথচ পুতুল ব’লে—ভালোবাসো,—সে চায়, তোমার
অর্ধেক পুতুলের হোক, বাকিটুকু তোমার, মেয়ে-মরদের
সাথে পাবে যাক, জ্যোৎস্নার ঘাটে আড়বাঁশির মজ্জায় ঢালুক
দীর্ঘশ্বাস—সে মোটেই হিংসুটে নয়…তার নখ ঝিকিয়ে ওঠে না
মোটে, সে শুধু হাসে আর অন্ধকারে দাঁতগুলো ঝকঝক করে

পুতুল আমাকে হেমন্ত চিনিয়েছে
বলেছে—যখন পাতা ঝরে, সে তার
নিজের ভেতরেই ঝরে—পৃথিবীতে শুধু
তার হলুদ আভাস—আমাদের বিকেলের
কাস্টার্ডবাটিতেও আজ তারই আশরা-বসেরা
দুটো একটা ভুলে ফেলা শ্বাস

* * *

আমার স্বচ্ছতা থেকে আমি নিজের লেখাকে
লুকিয়ে রাখি। অথচ ওরা মৃত মানুষের গলায়
কথা বলে, খোঁড়া কুকুরের গলায় কথা বলে
ভাষার ঘরের মধ্যে, গনগনে তাওয়ার
পাশে গুঙিয়ে ওঠে—পবন, পবন! চোখের সামনে
বাংলার সব বৃথা নীপবনবিথি ঢেকে যায় হলুদ কুয়াশায়
যে পুতুল মারা গেল, আজ তার গান
যে পুতুল মারা গেল, আজ তার নীলপরি ড্রেস
আমাদের স্বচ্ছতা শুধু অতীতের দিকেই ফেরানো
আর আমার লেখাপত্র সব কাঠের পুতুল
পুতুলের দুধ খেয়ে বড় হয়, পুতুল মাংসে রুচি
মরা পুতুলের জুতো পরে ওই দ্যাখো কুটুর কুটুর
করে ঢুকে পড়ছে হলুদ কুয়াশায়…

* * *

পুতুল কোথায় থাকে? পুতুলের কোনো দুঃখ নেই?
—স্বদেশ সেন

* * *

পুতুল এসেছে আজ আমার বাড়িতে
বিছানায়, চায়ের টেবিলে—আমি
তার মানডেন ক্রাইসিসগুলি ধৈর্য ধরে শুনি
তার আঙুল-প্রমাণ জুতোয় পা ভরে
মতামত দিই। রুমাল এগিয়ে দিই—তার কাঠের
অশ্রু, তার তামার অশ্রু, তার আইভরি কোঁদা জল…
আমার গোড়ালি ফোস্কায় ভরে যায়…
পুতুল আমায় তার কবিতাও শুনিয়েছে কিছু
পরামর্শ চেয়েছে…

আমি জানি কালকে পুতুল, অন্য এক ‘আমার’ বাড়িতে
বিছানায়, চায়ের টেবিলে— পুরোনো ‘আমাকে’
নিয়ে তার ক্রাইসিস গুছিয়ে বলবে—অন্য এক আমি
তার আঙুল-প্রমাণ জুতোয় সেঁধিয়ে পা মতামত দেব
নতুন ফোস্কায় ভরে যাবে গোড়ালি আঙুল
পুতুল কোথায় থাকে? পুতুলের কোনো দুঃখ নেই।

* * *

পুতুল তোমার শেষ যে না পাই
প্রহর হল শেষ—
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

* * *

প্রহর শেষ হলো আর আমি বৃষ্টির
ফাঁকে অসম্ভবকে দেখতে পাচ্ছি
সে ভিজতে ভিজতে গাড়িতে পেট্রোল
ভরে নিচ্ছে, এর পর লং জার্নি এর পর
তার না থাকা ভেজা বাতাসের মধ্যে মৃদু একটা
আকার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, প্রহর হলো শেষ
অথচ কেউ গান গাইছে, গানের জামা নীল
গানের প্যান্টি কালো, গান তার বুক আমার
উদলা পিঠে…আমি আর গান দুজনেই উত্তেজনা
পার করে এসে, শুধু স্পর্শ, শুধু স্পর্শ, চেয়ে
আছি জানলার বাইরে, ওখানে পুতুলের বাড়ি
ওর অনন্তবাগান, ঘাটশিলা, অগাধ পিয়ানো…

পুতুলের হাতখানি দেখে যাও
পুতুলের রান্নাঘরে সোনালি বৌলে
জেগে ওঠে মাছ। পুতুলই কেটেছে তাকে
আঁশের বাইরে এনে কবিতা করেছে।
ক্ষতখানি দেখে যাও যার জন্য
পুতুল বুনেছে আজ নতুন আঘাত

* * *

ব’লে দাও সুখ চাই; পুতুলের এই কথা ছিল
—স্বদেশ সেন

* * *

পুতুল সেভাবে কথা বলে, যেভাবে বুকেই থাকে কথা
আমাদের হাতগুলি বহুদূর অজানায় ঘুরে,
ঘুরে ফিরে বুকে এসে বসে
পুতুলকে বলি; এই যে অভিজ্ঞান, ওই যে পৃথিবী
যাও আমার তরফ থেকে ঘুরে এস, বাটিতে কড়ুয়া তেল
এঁচড় ছাড়ায় যে আর যে চর্বি দিয়ে গাছের
গুঁড়িকে ঘষে স্বচ্ছন্দ করে তোলে মাংসের প্রতি
তার সাথে কথা বলো, জৈষ্ঠের রোদে, কথা বলো
করুণারহিত। পৃথিবীতে কত কথা থাকে, মাছি হয়ে
কাঁঠালের ভুতির ওপর, লপ্তে নাগাড়ে, কত কথা থাকে…

বাতাস আমার মুখ হাবড়ে খেয়েছে
চোখের কোনায় তার থাবা লেগে আছে
পুতুল সেখানে বসে বিঘৎ-প্রমাণ, দশ বর্গফুট
তার মর্ম বসে আছে…ব’লে দাও সুখ চাই;
পুতুলের এই কথা ছিল।

* * *

তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও—আমি এই পুতুলের পাশে
রয়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে
—জীবনানন্দ দাশ

* * *

পুতুলের যোনির ভেতর ঘুম যায় পুতুলশিকারি
শিথানে পোখরাজ, অভ্রের খনি
রাত হলে নামে নীল শিখা,
আকাশে শিকারি জেগে ওঠে

নিঃশ্বাসের ইকোগুলি নিঃশ্বাসের আয়োজনে লাগে,
সারাদিন বন্ধ ঐ লাল দরোয়াজা—যোনির বাইরে থেকে
ক্রমাগত ডেকে গেছি—পুতুল! পুতুল!
স্বস্তি এসে জল হয়ে আছে পুতুলের অ্যালকালি চোখে

শূন্যতা থেকে ফিরে তুমি যা-যা দেখ
যা কিছু দৃশ্য, সব তোমার ভেতর
যে ডাকে দিচ্ছ সাড়া, সে ডাকও তোমার
গলার ভেতর থেকে পুতুল বলেছে…

পঙ্‌ক্তি বেছে সাড়া দিতে পারো। দু’লাইনের ফাঁকে
ঢুকতে যেও না। ওখানে পুতুল থাকে, পুতুলের
সাড়াশব্দ থাকে…

তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও—আমি এই কবিতার পারে
রয়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে খাদের কিনারে

* * *

দূরে আধো-অন্ধকারে, আগুনে ও সন্ধ্যার মেঘে
ডুবে যেত পুতুলের লাল বড়ো বাড়ি।
—উৎপলকুমার বসু

* * *

পুতুল আমাকে চিনবে না জানি। এ উপলব্ধি
আমার মুখোসের, মুখোস সমেত তার শরীরে ঢুকেছি
ঠেলে উঠে গেছি, গভীরে, ওপরে, পুতুল নিচের ঠোঁট
কামড়ে রেখেছে, যন্ত্রণা করে, আতি

সব্যসাচী সান্যাল

জন্ম ১৯৭৩ ত্রিপুরা, আগরতলা। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বোলপুর, ইটানগর, হাজারিবাগ ও পুরুলিয়ায়। ১৯৯১-১৯৯৬ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। ১৯৯৭-২০০২ দক্ষিণ কোরিয়ায়, চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রথম বিদেশি গবেষক হিশেবে আণবিক জীববিজ্ঞানে পিএইচডি। ২০০২-২০০৭ স্টকহোমের ক্যারোলিন্সকা ইন্সটিটিউটেট-এ পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক হিশেবে কাটানোর পর বর্তমানে লখনৌ-এর সেন্ট্রাল ড্রাগ রিসার্চ ইন্সটিটিউটে কর্মরত।

২০০৩ থেকে 'কৌরব' পত্রিকার সহ-সম্পাদক।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
নীল গ্রামাফোন [কৌরব]
হরিপদগিরি [কৌরব]
ব্র্যাকেটশহর [কৌরব]
প্রিয় পিয়ক্কড় [কৌরব]
ডুবোপাহাড়ের লগবুক [সৃষ্টিসুখ]
গোয়েন্দা গল্প [পাঠক]
তদোগেন গিরতের কবিতা [বেহুলাবাংলা, ২০১৭; সৃষ্টিসুখ, ২০১৮]

গদ্য—
এপ্রিলতা/পানুর ইচ্ছে [কৌরব]
কৃতী বাঙালি, বিস্মৃত বাঙালি [সৃষ্টিসুখ]

ই-মেইল : sanyal73@yahoo.com

Latest posts by সব্যসাচী সান্যাল (see all)