হোম কবিতা একশত সাপ, আমার অরণ্যে-রোদন

একশত সাপ, আমার অরণ্যে-রোদন

একশত সাপ, আমার অরণ্যে-রোদন
646
0

বিদীর্ণ ক্রিয়ায় মন হাওয়ার সরোদ, সুর করে, বেরিয়ে আসে সর্পের দল।
নিঝুম জিজ্ঞাসার দিকে কে কতটুকু বাজিয়ে চলেছি? রু রু। ধ্বনিবিপর্যয়।
অন্ধ ক্রিয়ায় মন হাওয়ার সমীপে।

শব্দ না করি, আলাপের দিকে ছুড়ে না দেই বিষম বিস্তৃতি—কেবল
বাজুক এই উৎকৃষ্ট ভায়োগীত। মর্মান্তিক সাপবেলা। আমার দুঃখ নমরুদ।
দেরি করো ক্ষতি নেই—আরো ক্ষণিক বেজে যাক রু রু।
শব্দের ভেতরের ডাকিনি রুধির।

 

রিক্ত হস্তে মন ঘাসের মাদুর। মৃদু হয়ে আছে। সফেদার মতো তুমি পড়ে আছ।
আমাদের দেনাপাওনা কবে মিটে যাবে? অপেক্ষা করি শ্লেষের—
অনাবিল ভঙিমায় আমি হাঁটি ফিরি।

মুহূর্ত—চেয়ে থাকা কচ্ছপের মতন। রিক্ত হস্তে মন ঘাসের মাদুর—
চিত হয়ে—মৃদু হয়ে আছে। মুহূর্ত—চেয়ে থাকা কচ্ছপের মতন। পতন।
এইসব সবুজ পাতাও ঝরে যাবে। আরো কিছু শিখে নেই ক্ষরণের ঘোলাটে
ব্যাকরণ। আরো কিছু কিরিচের গান ধরি। অতঃপর লুপ্ত করো
হে আয়ুর প্রতিপালক। এটা পোড়াদহ—সুনিবিড় স্টেশান।

 

এক ছায়াধারণার পাশে একশত সাপ। ধাবমান। কুটকুটে ভালো।
পোড়াদহ থেকে ঘাসের মাদুর। পাবর্তীপুর।
কলসে পাপ নিয়ে বাড়ি ফিরি নাই। জলপাই মন নাই।
ছিল ধুলোর নূপুর। ছিলাম বিদ্যার কুসুম।
এখন ঘন ভুল। মৃতমগ্নের পাশে
আমার ছাতিম—ছায়া ও দোলনার ঋণ।

 

ধাওয়া খাওয়া মাছির মতো বিষমবায়ু—হাড়জুড়ে । অন্ধ প্রতিপালকের দেশ—বিভীষিকা আছে। ভাটির মাটির টানে নদী নেমে গেছে। গুরুবেশে মূলাধারে কামনা—সে থাকে দুধের রুধির মতো।

পৃষ্টতায় ক্ষয় হলো অগভীর ধারা—একশত ভাষা । প্রীতি ও প্রত্যুষের জপে
তলপেটে লুকানো শৃঙ্গার। সে তো অন্ধপ্রতিপালক—চোখে চোখে বিফল।
কয়েন ছুড়েছে তরুণী ডাহুকি। সে আছে ফলের নিভৃতে।

 

যেটুকু আয়ত্তে এল তার অন্ধকার, বিধি ও তরঙ্গ আমার।
দূরগমন। দূরব্যঞ্জন। একশত চুমুর লন্ঠন!
কে অধিক?
এই যে একতারা,
এই যে ছায়াধারণা
উহ্য মুদ্রা। এ কেবল আক্রমণ।

 

এই ভুল দৃশ্যত ছায়াধারণা। অদৃষ্ট। অনুষ্ঠান।
অযথা হেঁটে গেছি। বনে গেছি। দৃশ্যত খাড়িপথ।
বুকের দুপাশ উঁচু—নদী বয়ে যায়
বুকের দুপাশ উঁচু—ঝঞ্ঝা বয়ে যায়

স্কেচে ইশারা—তার আদিম পালক
অভিনন্দন। অভিনন্দন। ছায়া তার বৃহৎ নন্দন।

 

তরকারির মতো ফুটছে। ছুটছে। তাড়া খাওয়া মাছের মতন,
সবজির মতন, জঙ্গির মতন। আমার ভুল, মরণ,
তরবারি হে, কাটাফলের অবয়ব ধরে আছি। 

 

বিধিতে কলতান, আমি আর নাই। এই সুরা ও সুরপথ ভ্যাপসা ঋতুকাল। তুমি কল্পনা করো ম্যাজিক মোমেন্ট। গরমকাল। আমি কদাচিৎ হেঁটে যেতে চাই ।

সম্মুখে ঋতুপরিবর্তন। সম্মুখে পতন। সম্মুখে খেলা। সম্মুখে আমি আর নাই।

ঋতুপরিবর্তনের কালে পাতারা জানে বদল, প্রণয়ে মৃত্যুর প্রক্রিয়া।

 

এতটা দুর্গন্ধ! আপন খাদ্যমল। চিন্তা ফেটে গেছে। ঘন হতে হতে ভূমিতে মিশেছে। ছিলে তো দুধের নিনাদ, আপন আধেক, ভূমিতে পল্লব। ছিলে তো খেতের থইথই সুর। ঘন হতে হতে ভূমিতে মিশেছে। অন্ধ ক্রিয়ায় মন ঘাসের মাদুর। মধু-মধু। চুম্বন। পেয়ারার বন সহাস্যে লুটায়। তোমার বিয়োগ শূন্য পেয়েছে। তোমার মন্ময় অন্ধ সরীসৃপ।

 

১০

বিবিধ বিষের মতো শুয়ে আছি। সমস্ত দিনশেষে স্বাদে। বিবিধ দিনশেষে
বিষাদে। অন্ধকার থ্যালাসেমিয়া, অন্ধকার নিদান, বিষবাষ্পের ধার উড়ছে
শরীর ছায়া হলে পাখি কলরব, পাখি জাগরণ, পাখি জাগে না।
সন্ধ্যা অসারতা, কাল অসারতা, তিন দিকে ফটফটে আলো।
নিমিত্ত নেই। গলি-ঘুপচি নেই। ছায়া আছে, মনিহারি দোকান
মাছের, মাংসের পানির ঘ্রাণ। তোমার বেহালা নিচু হতে হতে অসুরে নেমেছে।
এই বাষ্পবায়ু, এই উদগ্র টান, তরকারি মন চড়া হতে হতে কিচেনে মজেছে।

নুসরাত নুসিন

জন্ম : ২১ নভেম্বর, ১৯৯০; পাঠানপাড়া, রাজশাহী।

একটি স্থানীয় দৈনিকে সাব-এডিটর হিশেবে কর্মরত।

ই-মেইল : nushinnushrat@gmail.com

Latest posts by নুসরাত নুসিন (see all)