হোম কবিতা আমি মৃত্যুর অধীনে থাকতে চাই না

আমি মৃত্যুর অধীনে থাকতে চাই না

আমি মৃত্যুর অধীনে থাকতে চাই না
570
0

মৃত্যুর অধীনে থাকব না
❑❑

দেখো, আমাকে কত লোক ভালোবাসে। তবে আমি কেন মৃত্যুর অধীনে থাকব?
মৃত্যু থাকুক, তার মতো। আমি আমার মতো।  কেউ কাউকে ডিস্টার্ব করব না

মৃত্যু যদি প্রেম করতে চায় করুক
করুক সঙ্গম কনডমবিহীন
জন্ম নিক জীবন, বিয়াক, বিকশিত হোক

মৃত্যু যদি আত্মহত্যা করে করুক
আফ্রিকায় গিয়ে করুক, আমেরিকায় গিয়ে করুক
আমার কী বলার আছে?

আমি মৃত্যুর সাথে কোনো বিজনেস করব না
মৃত্যুকে আমি এক রত্তি বিশ্বাস করি না
বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক, বদমাশ
কথা শোনে না, জেদি!

আমি মৃত্যুকে মোহিত কামালের হাসপাতালে ভর্তি করে দেবো
ওর সাইকোথেরাপি প্রয়োজন। কথা না শোনলে চড় মারব।


আমার নাতনির প্রতি
❑❑

ধরা যাক তোমার নাম সুচরিতা। তুমি আমার বড় বা ছোট কন্যার প্রথম সন্তান। অথবা এমনও হতে পারে আমার দুই কন্যা তোমাকে জন্ম দেয় নি। তুমি জন্মগ্রহণ করেছ অন্য কোনো নারীর গর্ভে। সমস্যা নাই। তুমি আমার নাতনি। আমি তোমাকে ভালোবাসি।

আমি; তোমার নানাভাই, একজন পাখি। সারা জীবন উড়েছি। তবে আমার মন কখনোই মাটিকে অস্বীকার করে নি। মাটির প্রতি অনেক টান অনুভব করেছি। মাটি থেকে জন্মেছি, আমিও এক পুং সীতা। বলতে পারো শীত-আক্রান্ত সরকার। হৃদয়ের মধ্যে সদা অনুভব করেছি প্রেমের কাঁপুনি। তোমার নানিকে কখনোই করি নি অস্বীকার। কারণ তার অসামান্য সারল্য দুইচারটি বিশ্বসুন্দরীর চেয়ে মহৎ বলে আমার ভ্রম হয়েছে। মনে রেখো সুচরিতা, প্রেম হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রম! আশা করি তুমি তাতে পতিত হয়েছ, বা অচিরেই হবে।

সংগ্রাম ভালোবেসেছি। মানুষের হাসি সবচে সুন্দর। হাসি দেখতে চেয়েছি মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মুখেও। শিশুদের ভালোবেসেছি, তাদের হাসির মধ্যে কোনো প্রতারণা নাই। বয়স্কলোকদের মধ্যে দেখেছি প্রতিযোগিতা। কে কাকে কোন কুয়োয় ফেলে দেবে এই নিয়ে মহারণ। সবসময় মনে ময়লা না লাগাতে চেয়েছি, তবু আমার আত্মা কলুষিত হয়েছে। আর তখনই আত্মা মেরামতের জন্য কলেমা তৈয়বের মতো করে কবিতা লিখেছি, গানলামি করেছি। তুমি কি আমার কবিতা পড়ো, গানলামি শোন সোনামণি?

আমার নাতনি [জন্ম নেওয়া বা না নেওয়া], শোনো, আমি এক তৃষ্ণার্ত রাখাল। জলের খোঁজে যেই না গেছি টিউবওয়েলের দিকে, গল্পের বাঘ এসে খেয়ে গেছে আমার সবকটা গরু। গরু হারালে একজন কবির কী আর থাকে বাকি, সুচরিতা!

আশা করি, তুমি [জন্ম নেওয়া বা না নেওয়া] আমার নাতনি, তোমার নানাভাইয়ের জন্য আকাশের দিকে একটা কাগজের উড়োজাহাজ ছুড়ে দেবে। আকাশে অপেক্ষমাণ আমি, তোমার মিছামিছি উড়োজাহাজের আশায়।


মন থেকে মনকে খুলে রাখতে হয়
❑❑

মনের আগুন নিজেকেই নিভাতে হয়। অন্যের সাহায্য নিলে ভুল হতে পারে। হয়তো সেই হেলপার অতিরিক্ত প্রেমবশত ঢেলে দিল পেট্রোল, হয়তো ঢেলে দিল অ্যাসিড, হয়তো ঢেলে দিল ইউরিনাম, তখন?

সো; আগুন নিজেকেই নিভাতে হয়। নগর ভবন কোনো কাজে আসে না। কাজে আসে না ফায়ার ব্রিগেড!

মন থেকে মনকে খুলে রেখে মনকে ভালোবাসলে মনে আর আগুন থাকে না


খুব রাগ ! 
❑❑

বার বার ডাক কেন? এত ডাকলে কি চলে?

ঘুম ভেঙে যায় না? দেখো, সূর্য কচলাচ্ছে চোখ, খুব রাগ! সকাল সকাল ঘুম ভাঙানোয়! রাতের তারাগুলোও হামাগুড়ি দিচ্ছে অন্ধকারের বিছানায়! এখন সময় ঘুমাবার!

মাথার ভেতর বেশকটা ঘোড়া দৌড়াচ্ছে। আমি আলিবাবা!

কারো সাথে কোনো কথা নেই।

তস্করপরিভ্রমণে নৈঃশব্দ্যই পরম প্রার্থনা


অপশন
❑❑

পৃথিবীতে কত কত মানুষ! কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ বাদামি! কেউ ধনী, কেউ নির্ধন, কেউ ক্ষুধার্ত, কারো ক্ষিধাই নাই, কেউ শোষক, কেউ শোষিত। কেউ জালেম, কেউ মজলুম! কেউ প্রেমিক, কেউ কামুক। কেউ উদাসীন। কেউ অন্ধ। কেউ বেশি দেখে। কেউ দেখতে চায় না।

সব মানুষ, একটা জায়গায় মিল দেখে। সে দেখে তার সামনে, পেছনে বামে ডানে খাদ! একটা আঙুল পিলারে রেখে সে ঝুলছে! এমন কোনো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নেই, বাঁচাবে তাকে। জানাবে নদীসাঁতারের তরিকা। এমন কোনো  যিশুনবী নেই, জাগাবে তাকে মৃত্যুর কানাগলি থেকে।

ঝুলন্ত মানুষ। তোমার দুটোমাত্র সম্ভাবনা। হয় পড়ে যাবে, নয় উঠে দাঁড়াবে। এ ছাড়া কোনো অপশন নাই।


ধনীলোকদের হৃদরোগ হয় !!!
❑❑

বাংলাদেশের ধনীলোকদের ৩ টা পা থাকে। একটা পা তিনি রাখেন ভূমিতে। একটা আকাশে। একটা জলে। ৩ পা-কে নিয়ন্ত্রণ করে ৩টা রাডার। নাম—টাকা। ধর্ম। রাষ্ট্র।

ধনীলোকদের হাত থাকে ১ টা। প্রজননযন্ত্র অগণিত। গণিত কিংবা
দর্শন, সংস্কৃতি কিংবা সদাচার, সংগীত কিংবা নৃত্যকলা সবকিছুই ধনীদের খাদ্য।

বাংলাদেশের ধনীলোকদের হৃদ্‌রোগ হয়, কিন্ত অনেকেরই হৃদয় নাই। এটাই সবচে বড় মিরাকল!


আগুন আগুনকে পোড়াতে চেষ্টা করে না
❑❑

রাতকে শত্রু ভেবো না। সে তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। দিনকে শত্রু ভেবো না, সেও তোমার ক্ষতি করবে না। ডানদিকে তাকাও, ওখানে আছে তৃণখেকো বাঘ; সে তোমার বন্ধু। বামদিকে আছে আগ্নেয়গিরি, এর লাভায় কেবল পুড়ে যাচ্ছ তুমি!

যতই পুড়ে যাচ্ছ ততই খাঁটি হচ্ছ। কথাটা স্বর্ণকার বোঝে। শোনো কামারের স্ত্রী, আগুনের প্রেমিকা হতে চেষ্টা করো। আগুন আগুনকে পোড়াতে চেষ্টা করে না

সরকার আমিন

জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৭; সুহিলপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর;পিএইচডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উপপরিচালক, বাংলা একাডেমি।

প্রকাশিত বই :
কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও গবেষণাগ্রন্থ ২৫ টি।

ই-মেইল : sarkeraminba@gmail.com

Latest posts by সরকার আমিন (see all)