হোম কবিতা আমার বিনাশ

আমার বিনাশ

আমার বিনাশ
339
0

পুবে সূর্যটা
চোখ মেলে দিলে ধীরে
মোরগের ডাকে
ঘুম ভাঙে পৃথিবীর,
সকাল পাই নি
এসেছি দুপুরে ফলে—
নদী নেই আর
একা শুয়ে আছে তীর।

উপরে আকাশ
বিভ্রমে হলো নীল
রোদ্দুর আরও
ছড়িয়ে পড়ছে তাতে,
পৃথিবী নিজের
ব্যয় করে যথাসব—
ঋণে জড়িয়েছে
মানুষও তো নানাখাতে।

মলিন মুখের
শ্যাওলা সরিয়ে কেউ
চুমুতে নেবে না
শুষে যত ব্যাধিজরা!
ঘা থেকে গড়িয়ে
নামছে যে কলতানি
তাকে পান করে
মাতাল বসুন্ধরা।

তড়িৎ-গতিতে
ছুটে এসে এই দেখা—
পৌঁছানো নেই
যেখানেই যাই চলে,
অভিজ্ঞতার
গোলকধাঁধায় পড়ে
যে যাকে পারছে
দিচ্ছিল কান মলে!

অদূরে হাইওয়ে
গাড়ির কান্না আসে—
শোকের কুয়াশা
জমে আছে তার কাচে,
নিকট দৃশ্যে
দুয়েকটা ফুল গাছ—
সুন্দর দেখি
পা ঝুলিয়ে বসে আছে।

কুঞ্জে পুষ্প
কামনায় মশগুল
নিষেকের কাল
যেতে চায় সরে সরে—
একে অপরেরে
পড়ছে কি ঠিকঠাক?
মনের পাঠ্য
করে নিক শরীরেরে।

যদি পোড়োজমি
শরীরেও নেই ডাক—
লুপ্ত ভাষারা
ইশারা নির্বিকার,
নখ-দাঁত-ঠোঁট
কাস্তের সম হলে
সব কাঁধে যেন
মহাজগতের ভার!

কুয়াশাভেদের
দৃষ্টি তো নেই খোদা,
আবছায়া দেখে
চেনাজানা লাগে পাখি—
যত জলাধার
মৎস্যশূন্য বলে
চোখ দু’টো নিয়ে
ঠোকরের ভয়ে থাকি।

বুকের মধ্যে
ভারী পাহাড়ের বোঝা
সারাদিন চলে
করাত-কুঠার তাতে,
ঢুকে বসে থাকি
কাটা বৃক্ষের মূলে
সকলে চাইছে
আমাকে তাদের পাতে!

সব বিষ ক্রমে
ফিসফাস হয় আসে
গোপনেরা যদি
নিজে থেকে জানাজানি—
কিছু উড়ে গেছে
জলীয়বাষ্পে তায়
বরফ নিয়েছে
বাদবাকি যত পানি।

কিসে মিশে তবে
গরলেরা পাবে রূপ?
নারকেল গাছে
নেই কোনো কচি ফল—
হুদহুদ কোনো
সংবাদ আনে না তো
স্মৃতির মধ্যে
ধারা বয় কল কল।

পানের জন্য
প্রাণ হলে হাহাকার
ফোরাতের থেকে
কারবালা কত দূর!
বাষ্পের প্রতি
রাখা ছিল যত আশা,
আকাশে ঘটবে
জিমৃত-ভাংচুর।

তার সংকেতে
কৈ মাছ পাবে নেশা
মাঠ থেকে তারা
কানে বেয়ে রাস্তায়,
শ্যাম-দেশে বাঁশি
নৃত্য করবে মনে
স্মৃতি কাতরাবে—
গাছগুলো হায় হায়!

শঙ্কা-আভাসে
ইসকুল হবে ছুটি
অফিসেও অত
থাকবে না লোকজন,
রেডিওর নব
ঘুরতে থাকবে গ্রামে
সকল টিভিতে
ব্রেকিংয়ের আলোড়ন।

সেন্টারে দ্রুত
জড়ো হবে উপকূল
পোষা প্রাণীসব
ছুটবে তাদের সাথে,
এর মাঝে কোনো
জন্মের চিৎকারে
ঝড়ো বাতাসের
উৎসব হবে রাতে।

তাতে ভেঙে যাবে
ইন্দ্রের গাঢ় ঘুম,
পুষ্পক রথ
ছুড়ে দেবে বিদ্যুৎ—
কিন্তু কোথাও নেই
কোনো ঘনঘটা,
বৃষ্টি দাবিতে
প্রার্থনারত লুত!

লু হাওয়া ছড়ায়
এজিদের রাগ হয়ে
নিতে চায় নিজ-
নির্মিত-প্রতিশোধ,
যদিও জেনেছি
বন্ধুর মতো ভাই
পেছনে শত্রু
রোজকার চেনা রোদ।

কামজর্জর
ভুখা শরীরের ঘামে
ঝিমিয়ে পড়ছে
দুপুরের মস্কারা,
গুমোট একটা
গ্রহের বিভ্রমে
ডাকের আশায়
দিচ্ছিল কেউ সারা।

তাতে চারিধারে
কেলেঙ্কারির শেষ
প্রাপ্তিমাত্র ধেয়ে
আসা ভর্ৎসনা—
যা-কিছু চাওয়ার
ঢেকে রাখা প্রাণপণে
তথাপি বেরোয়
কামের গোপন ফণা।

জীবনও করছে
আঘাতে মজুরি দাবি
বিচারক তাতে
সায় দেয় আদালতে,
ইটের কুটিরে
রূপকথা হলে রাত
শূন্যবিলাপ
উপশম হয় ক্ষতে।

হাঁটারা তবুও
ফিরবে বলেছে পথে
দুপাশে গাছেরা
উঁচু করে ফলে শির,
মৃত সাগরের
নুন জানে অভিশাপ—
অতিউত্তাপে
ধরেছে শরীরে চিড়।

বেঁকে গেছি ঠিক
অর্ধবৃত্তাকার
যেনবা হয়েছি
অক্ষয় সেই তূণ—
নিজেকেই নিজে
ছুড়ছি নিজের দিকে
কখনো কর্ণ,
কখনোবা ফল্গুন।

সন্ধ্যার বুকে
তলোয়ার চলে কার!
রক্তিম হয়ে
শোক করে পশ্চিম—
অসুখের চারা
ছড়াচ্ছে ডালপালা,
পৃথিবীতে নেই
কোনো আমলকী-নিম!

রাতের গল্পে
শূন্য ভিটারা জাগে
কবরে বসেছে
মুর্দাআড্ডা বেশ;
তারা ভুলে গেছে
ঘরবাড়ি-সংসার,
শস্যআবাদ—
কোনটা তাদের দেশ!

অন্ধকারে টর্চ
লাইট হাতে গান
ফিরছে বাড়িতে
হাতে জ্বলে সিগারেট—
জীবনে থাকে তো
নানাবিধ অপমান
তবু উপশম,
কণ্ঠ চালায় পেট!

পেট ও হৃদয়
জীবনেরে করে দাবি
ওঁৎ পেতে থাকে
কে নেবে কখন কেড়ে,
ঝগড়ার শেষে
অসুখী কাপল যেমন
ঘুমের গভীরে
মুখোমুখি পাশ ফেরে।

তেমনি হয়তো
সমঝোতা হতে হতে
ঘুম ভেঙে গেলে
কেটে যায় সব তাল,
যতটা পেরেছি
দেখিছি পরখ করে
বুঝি নি কোনটা
সুঁই থেকে হয় ফাল।

মধ্যরাতের
হাতের তারায় শুয়ে
আকাশে কারা যে
ছিটিয়ে দিচ্ছে তারা—
জাগতিক সব
আস্কারা যদি জাগে,
মহাবিশ্বের
কেউ কি দেবে না সাড়া!

নদীতে আবার
সেই ধারা যদি বয়
শরীরেও যদি
জোয়ালের বেগ বাড়ে,
দুইটা অঙ্গে
মহাতরঙ্গ সুখ—
আকাশপাতাল
কেঁপে ওঠ্ শীৎকারে।

বীর্যপতনে
মন্থর হলে ধরা
আঁধার তীর্থে
হিমবাতাসের রাতে—
কিছু আকাঙ্ক্ষা
পূরণের হাসি ছুড়ে
আমার বিনাশ
ঘটাবো নিজের হাতে!


মূল পাতার লিংক : পরস্পর ঈদ আয়োজন ২০২০

মিছিল খন্দকার

জন্ম ২০ ডিসেম্বর, বরিশাল। স্নাতকোত্তর (অর্থনীতি)।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
মেঘ সামান্য হাসো [ঐতিহ্য, ২০১‌৫]
পুষ্প আপনার জন্য ফোটে [জেব্রাক্রসিং ২০১৮ ও বৈভব সংস্করণ ২০২০]
আকাশ চাপা পড়ে মরে যেতে পারি [বাতিঘর, ২০২০]

ই-মেইল : kmisil85@gmail.com

Latest posts by মিছিল খন্দকার (see all)