হোম কবিতা আমাকে বাঁচায়ে রাখে কেবল একটা ইগো

আমাকে বাঁচায়ে রাখে কেবল একটা ইগো

আমাকে বাঁচায়ে রাখে কেবল একটা ইগো
917
0

মেয়েরা পড়তে না পারা দিয়া হইলেও, পড়ো এই কবিতা
❑❑

অনেক মেয়েরে ‘কবিতা’ পড়তে দেই, যেন সে ডিজায়ার পড়ে, এই বাসনা স্পষ্ট জাইনা কিংবা অস্পষ্টতা থেইকা। প্রেমিকাদের পড়তে দেই কিছু কিছু ‘কবিতা’, যেন সে আমাদের, ভালোবাসতে পারা ও না পারার, অর্থ এবং অর্থহীনতার ভিতর, ভাষার সংকট পাড়ি দিতে পেরে, আমি মরে যাবার পরও, সম্পর্কের ব্যক্তিগত অমরতায়, আমাকেই ভালোবেসে যাবে। অনেক মেয়েকে আমি ‘কবিতা’ পড়তে দেই, তার প্রতি মুগ্ধতা জানাইতে, অথবা তার সৌন্দর্যকে এপ্রিশিয়েট করতে, যেমন বিপক্ষের ব্যাটসম্যান ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছে বলে, বাউন্ডারি থেকে বলটি ফেরত আসার আগে, পিঠ চাপড়ে দেওয়ার মতন। নিছক মেয়ে বলেও অনেকরেই, আমি ‘কবিতা’ পড়তে দেই, যেন সে ‘পুরুষ’ পড়ে চকিত চঞ্চল হয়; যেন সেইসব মেয়েরা তাদের প্রেমিকের সঙ্গে প্রেম করার সময়ও, আমাকে স্মরণ করে, কার্যকারণহীন। অনেক অবলা মেয়েকে ‘কবিতা’ পড়তে দেই, যেন সে ভাষা পায় কিছু বলবার… অথবা অনেক মেয়ে যেন তার কানে শুনতে না পারাকে জয় করে শ্রবণযন্ত্রের ব্যবহার শুরু করতে পারে। অনেক মেয়ের অন্ধ চোখে আমার লেখাই দৃষ্টি হয়ে ওঠে দৃশ্যত যা, অথবা অদৃষ্টের ভূত ও ভবিষ্যৎ, এজন্যও কত মেয়েকে ‘কবিতা’ পড়তে দেই। এমনি, একদম এমনিও যে কত মেয়েকে আমি কবিতা পড়তে দেই..,, কারণ অগণিত মানুষের মধ্যে, মেয়েদেরই আমার পছন্দ বেশি—যদি এই প্রশ্ন সামনে আসে—নারী নাকি পুরুষের মধ্যে কাকে আমি, এই ধরেন—এই কবিতাটাই পড়তে দিতে চাই। তবে এইটা ঠিক যে, তারা সকলেই ‘কবিতা’ পড়তে চেয়ে, কিংবা মূলত তাকে ওই পড়তে দেওয়া কবিতায়, যা কিছু বলা হয়—তা পড়তে অক্ষম; যেন সে ঘুমচোখে মাথা দুলিয়ে পড়ে যাচ্ছে কোরআন শরিফ, শৈশবের বারান্দায়, অথবা যেন সে শপথ পড়ে যায় সামরিক শাসকের মতন করে, মিথ্যা রাষ্ট্রের দিনকে রাত এবং রাতকে দিন হতে দেখে দেখে, কেবলমাত্র নিয়মানুবর্তিতায়। কিছু কিছু কবিতার কথাগুলো মেয়েরাই উদ্ধার করতে পারবে, যদি না সে পড়তে অক্ষম হয়—কবিতা। মেয়ে বলেই মরে যেতে যেতে এইসব বাঁচা-মরা দ্বন্দ্বেও যেন পায় জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য, সান্ত্বনা; সেজন্য কত কবিতার ছন্দহীনতা লিখে অনেক ‘কবিতা’ আমি মেয়েদেরই পড়তে দিতে চেয়ে থাকি। এছাড়া এমনিতে একটি কবিতা লিখে, এই পৃথিবীতে নিছকমাত্র ছেলে-ছোকরা, পুরুষ-নাবালক কিংবা তরুণ-যুবকদের পড়ানোর চাইতে; কেবলমাত্র মেয়ে হিসেবে প্রতিভাত, তাদেরকেই ‘কবিতা’ পড়ানোর ছলে, বুঝে বা না বুঝে, ভুল কিংবা উল্টো, বা একদমই অন্য কিছু… যা বলা বা না বলা কথা বলে বলে লাইফটাইমের সবটুকু টকটাইম খরচ করতে চাই। কারণ, আমি এই পুরুষ-দুনিয়াতে, অনেক নারীবাদ না কিংবা ঘাড়ে চেপে বসা সভ্যতা বা নারী-দিবসে পুরুষের মেয়েলি কান্নার পুংসংবেদনশীলতার চাপ, এসবের কিছুই না… কেবল কবিতায়-ই লিখা যায় যে-স্তনে শিশুর দুধদাঁতের দংশনে বিষ নয়, অথবা নয় মোহনীয় ইন্দ্রিয়ের জয় বা পরাজয়; বরং স্বপ্নবুঁদ হয়ে ওঠে মা…। কিংবা, আরও আরও কিছু, যা দিনকে রাত করে যাওয়া, সাদা ও কালোর রঙিন দুনিয়াতে, পুরুষ মানুষের ভাষাহীনতা এবং শব্দ ও তার অর্থের অনেক নিবিড়ে সন্ধ্যামুহূর্তমাত্রের মতো, যেন কূটাভাস বা ইশারাও নয়, তবু এক পাঠযোগ্য কথা রহস্যভাষায়—কবিতায় বলা যায়, যা মেয়েরা পড়তে পারুক বা না পারুক, তবু, উনারাই পড়ুক, এটুক আমি চাই… এইসব ছেলেছোকরা বা মানুষ হিসাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষ ইত্যাদি হোক বা না হোক, মেয়েরে ‘কবিতা’ পড়তে দেই, যেন সে ডিজায়ার পড়ে; হয়তো পুরুষ-শরীরে বসে লিখতেছি বলেই—আরও অনেক অনেক, সমসাময়িক এই পৃথিবীর প্রায় সব মেয়েরা, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বা না করে, হোক বা আগামাথাসম্পর্কহীন… তবু সবসময় আরও কিছু বাড়তি মেয়ে পাঠক অনবরত পড়তে থাকুক, আমার ‘কবিতা’ এবং সেখানে লিখা বা না-লিখা, বলা বা না বলা, বলতে পারা না পারা… এমনকি কোনো কোনো কবিতায় এতক্ষণ যা কিছু, তার লেশমাত্র নাই—তবু সেই সব কথা, নীরবতা, কথাহীনতা… কবিতার, অনেক মেয়েকে আমি অনেক ‘কবিতা’ পড়তে দেই, যেহেতু সে মেয়ে।


আমাকে বাঁচায়ে রাখে কেবল একটা ইগো
❑❑

আমার অনেক ভয়, সব কিছুতেই, সবাইকেই…। নিজেরে একটু বেশি করে—ভয়। যেহেতু আমি অনেক মরছি আগে, মরতেছি, মরতে থাকব এবং হরেক বহুজন্মের কালে—নিজেরই হঠকারিতায়। আমাকে বাঁচায়ে রাখে কেবল একটা—ইগো।

আমার সাহস নাই কোনো, আমার ভীরু, কাপুরুষ, বোকা মরণ হলো যে কত কত শত…। ফিরবার পথের নাই কোনো শুরুর বিন্দু, ক্রমাগত ওই গন্তব্যহীন দিকে, বাঁক বদল করে গেল নাকি কেউ, নাকি ছায়া, বিভ্রম, অথবা দূরদৃষ্টির অভাব বলা যাবে কি একে! ইগো আমাকে সামনে তাকাতে বাধ্য করে, তাই বৃষ্টি-বাদল-রাতে, ইগো আমাকে রোমান্টিক পথে, কার্যত জোর করে হাঁটায় তখনও; আমাকে বাঁচায়ে রাখছে কেবল একটা ইগো।

এদিকে সামনে এবং পেছনে, যদিও হাতছানি নাই, পিছুটানহীন অপেক্ষাঅস্থির হয়ে, কেউ নাই কারু… সবার মতোই আমি এক ভীতু, যেই পথ গেছে তোমাদের সাহসের দিকে, চর্চায় রেখে যুদ্ধ জয়ের…; তোমার সঙ্গে সন্ধি শেষে, নিজের সাথে সংঘাতে, আমি পালিয়ে যাবার ভয় সাথে নিয়ে পালিয়েছি, সেই থেকে থাকি, নিজের কাছাকাছি… এক বাধ্যবাধকতায়…. ঘাড় ধরে ভয় দেখাতে দেখাতে… পলায়নপথের রেখায় লেখা দেখি—hands up don’t shoot। তবু ইগো আমাকে চালিয়ে নিয়ে যায়…

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, বিসর্গবহুল বিস্ময়কর, আমি পাই না ছুঁতে তোমার বিরামখানা, প্রশ্নবোধক তাই যাবতীয় অব্যয়, যেন তোমার তরে অবিরাম আমাদের ইগো নিয়ে—ছেঁড়া পৃষ্ঠার অসম্পূর্ণতায়, বিরাম চিহ্নের বিরামহীন চিরঅবসরের, স্পেসটুকুসহ—

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি… মহা-আকাশের দিকে, ওই।


আমি হতাশ, আপনি?
❑❑ 

আমি হতাশ। আপনি? হয়তো আপনি ইনাফ হতাশ না, পর্যাপ্ত হতাশা আপনার না থাকাতেই, আপনার উঠতেছে নাভিশ্বাস… হতাশ হোন, সুস্থ থাকুন।

আমি পুরোপুরি হতাশ, সবকিছু নিয়া। নিজেরে নিয়া, অন্যদের নিয়া। অন্যদের ভিতরও আমি দেখছি যে, আমারে লইয়া তাদেরও রহিয়াছে কিছু হতাশা…, যা আমাকেও হতাশ করে কিছুটা।

অনেক হতাশ হইয়া তারপরও, মনের মইধ্যে খানিক আশা, পামু তোমার ভালোবাসা… এই আশাবাদের কথা এখন আর নাহি মোটে দরকার… বোরিং তা, মিডিয়ার ব্যবসা… প্রোপাগান্ডা… হোপ শপ থেকে হোপ সাবান কিনে, হোপ অ্যাপার্টমেন্টের বাসার বাথরুমে, গোসল করিয়া… হতাশা কাটানো না যাওয়াতে, কর্পোরেট স্যোশাল রেসপনসিবিলিটির বার্ষিক সভায় বইসা ঘামতেছি… হল রুমে এসি নাই, ফ্যান ঘুরতেছে না… লোডশেডিংও হইতে পারে… বলেন, অশেষ হতাশার আর কি শেষ আছে?

সো, আশাবাদ লইয়া আমি তো হতাশ ও অন্য সকলে এই নিয়া হইতেয়াছেন বরবাদ, তারাও করছেন মোরে আরও বেশি হতাশ। আশা ফাউন্ডেশানের তলায় হতাশ হইয়া বইসা থাকতে চাহিয়াছি… পুলিশ ডিস্টার্ব করছে একদিন, এছাড়া আরও কয়েকদিন, হতাশ হইয়া বইসা থাকতে গিয়া, হতাশ হইয়া বইসা থাকতে না পারাতেই, হতাশার চূড়ান্ত দশায়, ছাইড়া যাইতে হইসে আমার আশা ফাউন্ডেশান।

আশার স্বপ্ন দেইখা দেইখা, আশা এবং স্বপ্ন দুই-ই আমাকে বোর কইরা ফেলছে একসময়, আশার স্বপ্ন দেইখা দেইখা, আমিও হতাশ, অনেকের মতো। তারপরও আরও আশার স্বপ্ন না দেখায় হতাশ হয়ে চোখে চশমা পইড়া দেখছি… সব ঝাপসা… হতাশা। পৃথিবীতে স্বপ্ন বাস্তবায়ন কারখানা স্থাপনের অনেক গল্পতেও, আমি হতাশ। এদিকে পৃথিবীতে গল্প কম, বা আরও গল্প কেন হইতেছে না… সেইটা তো আমার আরও একটা কারণ, হতাশার।

অনেক সময়, স্বপ্নের দাম বেডরুম ও খাটের গায়ে লিখা দেইখা আমি দুঃস্বপ্নের মতো হতাশ হইছি। আমি আশা করার মানবিক অভ্যাসে হতাশ হইতেয়াছি… আরও।

আমি বন্ধুত্ব নিয়া হতাশ, সম্পর্ক, পরিবার, সমাজ, শ্রেণিবদ্ধ ও শ্রেণিহীন—পেশাগত এবং অ্যামেচার এমনকি তা সাধুসংঘ থেকে শুরু করে, পাঠচক্র থেকে জাতিসংঘ… সবকিছু নিয়া আমি হতাশ। প্রেম নিয়া। প্রেম থাকা, না থাকা… দুই-ই আমাকে হতাশ করে।

অনেক প্রেম পাইয়া থাকিবার কালে, অনেক হতাশা ক্লান্তির মতো ঝরে, দেখিয়াছি… আমি দেখিতে পাহিয়াছি ইচ্ছাহীন সেক্স করার হতাশা অনেক সময়, তোমার সেই হতাশা আমার প্রেম বা জান্তব ইচ্ছাকে হতাশ করেছে। হতাশা নিয়া আমি সেক্স করিয়াছি কত… আরও কতবার, তোমার ইচ্ছা জেগে উঠতে থাকলে পশুজন্মের স্মৃতি ভেঙে… তখনই আউট হয়ে আমি হয়েছি হতাশ।

এক সময় না এক সময় ঘুম ভাঙবেই, সকাল হবেই যে যার মতন… সারাক্ষণ ঘুমানো ইমপসিবল বলে আমি হতাশ। চিরদিন জেগে থাকার কিছু নাই, প্রচণ্ড দমকা বাতাস… তুমুল বৃষ্টিতেও ‘শিখা চিরন্তনী’ ঠিক ‘শিখা অনির্বাণ’ হয়ে রয়… চিরদিন একটি হতাশ প্রত্যেকদিনের মতন।

পর্যাপ্ত হতাশ না হওয়াতেও আমি হতাশ হইছি… স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি, এছাড়াও খুচরা দোকানের মতো ইন্সট্যান্ট… সবরকম পারস্পরিকতায়, সবখানেই আমি হতাশ।

এত হতাশায় আমি তো হতাশ বটে, আপনিও হতাশ হোন। হতাশা জয়ের আশাভরা চোখে দেখিয়া থাকছি আমি, কত কত ছায়া, হতাশার… অনেক হতাশার চোখে দেখিতে পাইয়াছি আশার ঝিলিক… তথাপি আকাশভরা তারাদের অনেকই মৃত নক্ষত্র, এত বেশি তারা দেখে, নাবিকের তারা চিনে পথ খোঁজার কথা ভেবে, আকাশের দিকে চেয়ে… হতাশ হয়েছি আমি বেশ। হতাশ হইতে হইতে আমি, হতাশ। পুরোপুরি…।

হতাশ আমি। আমারে নিয়া। তোমারে নিয়াও আমি অনেক হতাশ, আর তোমাকে ছাড়াটা এখনও তো নিজ থেকেই, সব থেকে বেশি হতাশার। তোমারে নিয়া অনেক হতাশা নিয়া, তুমিময় এবং তুমিহীন… এমনকি তোমার নামগন্ধহীন বিভিন্ন ভিরের দিকে তাকাইয়াও… আমি হতাশ হইছি… সবকিছু থেইকা… সর্বত্র… আমি তোমারে লইয়া এবং থুইয়া… হতাশার দেখা পাইয়া… আমার হইতে থাকতেছে, হতাশা। কতবার তোমাকে গালি দিতে না পারায় একা একা হতাশায় করে গেছি গজর গজর… আর শেষে তোমাকে গালি দিয়ে ফেলে… একদম ডুবে গেছি হতাশার গ্লানিতে…

মানুষ এখনও পর্যাপ্ত হতাশ না হইতে পারাতেও, আমি কিন্তু খুব হতাশ। আমার আরও বেশি হতাশার প্রয়োজন রহিয়া যাইতেছে টের পেয়ে, আমি কেবলমাত্র, আরেকটু হতাশ হই, আশার স্বপ্ন দেখার সময় ঘুম ভাইঙা যাওয়াতে আমি জাইগা রইলাম সারারাত প্রায়… হতাশায়।


অন্য কেউ… আছেন, অন্য কেউ?
❑❑

আপনার বিদ্যাবুদ্ধি, জ্ঞানার্জনের শিক্ষাচর্চা ও ঐতিহ্যচর্চার নিরিখে আমি কবিতা লিখি না, সাহিত্য করি না। ক্ষমতাকাঠামো নিয়ন্ত্রিত প্রকল্পের বাইরে আপনার কোনো বোঝাপড়া হয় না, কি সাহিত্যে, কি ধর্মে কিংবা রুটি-রুজিতে।

আর এখন আপনার ওই নির্দিষ্ট স্পেসে আমার সাহিত্যিক কাজকর্ম নিয়া কথাও চালাইতে, আর রাজি নাই আমি। একটা ফরমেটের বাইরে আপনার আর্ট এবং আপনি বিলুপ্ত হয়ে পড়ার ভয় আপনাকে সাধারণের মতো সামান্য এবং আপনার আর্টকে ঐতিহ্যের একটা মননশীল চর্চা ছাড়া কিছুই হইতে দেয় না।

একরকম মুখস্থ উচ্চারণ ছাড়া আপনার, আপনাদের কবিতা, সাহিত্য, আর্ট হয় না, আর যার, যাদের হয়, হচ্ছে এবং হবে তাদেরকে নিজেদের মাপ-মান ও স্পেসে নামায় রাখার প্রাকটিসকে আপনি, আপনারা ক্রিটিক হিসেবে জারি রাখতে চান সবসময়। আর পরে হয়তো বিদ্যালয়ভিত্তিক তথ্যের ভিতর নতুন কবিতা, সাহিত্য, আর্ট শিক্ষামূলক প্রাপ্তির খুশিতে শিক্ষার্থীসুলভ রিডিং আপনারা করতেও পারেন, কিন্তু সেটাও খণ্ডিত।

সো, আপনারা আপনাদের স্কুলে পড়েন, পড়ান… পারস্পরিক হয়ে রন, উপরের দিকে, নিচের দিকে… চারিদিকে যেদিকেই যান স্কুলিংয়ের ভেতর বাঁচেন মরেন গিয়া। শ্রেণিবিভাজিত ও নির্ধারিত সমতার বিভিন্ন মান ধরে রেখে শ্রেণিকক্ষগুলোতে আপনাগোর সব কোরাসের শব্দ বিদ্যালয়ের দেয়ালের বাইরে থেকে শোনাই যায় না। আপনাদের কোথাও মুক্তি মেলে না বিদ্যালয়কেন্দ্রিক সীমানা প্রাচীর দেয়া মাঠ ছাড়া।

সেই বিদ্যার মাঠের দিকে আপনাদের বিবিধ ‘শ্রেণিকক্ষ’ থেকে মন উদাস করা মননশীলতার একটা ভাব থেকে আর্ট-কালচারের দিকে এক ধরনের রোমান্টিক দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কী করবেন? আপনাদের রোমান্টিক দৃষ্টি আমাকে দেখবে এই এক সান্ত্বনায় আমি আপনাদের বিদ্যার মাঠে বসে থেকে আর কী করব!!! আর বসে থেকে মাঠে চড়ে বেড়ানো গাই-গরু, যারা আপনাদের দুধ দেবে বলে নিজে খাচ্ছে ঘাস… ওদের খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করে ফেলব নাকি?

—ওঁরা বুঝবেন তো, সেটা?

আর এখন আপনার ওই নির্দিষ্ট স্পেসে আমার সাহিত্যিক কাজকর্ম নিয়া কথাও চালাইতে, আর রাজি নাই আমি। তারা চাইলে শুনতেই পারেন… বাট তাগো নতুন কিছু বলার নাই, হুদাই আমি তার পুরানা দিনের, মানের গল্প শুনতেই থাকব, বলেন তো অন্য কেউ… আছেন অন্য কেউ?