হোম কবিতা অনুভবের বাগানবাড়ি

অনুভবের বাগানবাড়ি

অনুভবের বাগানবাড়ি
2.41K
0

পরিহাস

দিতে পারি যতটুকু চাও, তারও অধিক
ঋতুর বিরহ। শৈত্য প্রবাহের সুপেয় সন্ধ্যা
বরফের নিপুণ নিপীড়ন—নাকফুল, মালা।

হতে পারে পায়ের নূপুর সুভদ্র তুষারধারা
আর ঐ হিমায়িত কথার পরাগ যদিও
মুদ্রণহীন সরলে ভরা। এখনো পুবের
ক্রমিক আলো পশ্চিমের তামসিক আঁধার,
বটপাতা নিরক্ষর আজও! অস্ফুট গুঞ্জরনে
উজাগর-পরিযায়ী পাখি ডানা ঝাপটায়
অনুক্ষণ। সহস্র ক্ষরণের অভিযোগ শুধু কি
একার?  রণশিঙ্গা বাজে, বয় ধূলিঅগ্নিঝড়
হয় নি সময় তখনো তাকিয়ে দেখার!

 


ইনা রায়

দূর থেকে দেখি—বিমন্দ্রিত সন্তর্পণ

মেঘালয়ের খোঁপায় জোছনা গুঁজে দিতে
যে কারণেই প্রকট হয় পর্যটনপিপাসা!

এভাবেই ভারতভ্রমণ অসমাপ্ত রেখে
প্রতিবিম্বের কাছে মর্মাহত ফিরে আসা

রাজস্থানের তপ্ত বালি পদতলে লুণ্ঠিত
দার্জিলিঙের শীতোষ্ণ সৌন্দর্যের ধারা—
তোমার নিদ্রালাবণ্য চুরি করে গড়ে তুলছে
ঈর্ষাইমারত। ভোরের আযান, সন্ধ্যার উলুধ্বনি
আর মৃদুস্বরে জমাট গির্জাগীত—কণ্ঠভিলা হতে
উৎসারিত। পৃথিবীর সব কটা পথে রহস্য ছড়ায়!

বেঁচে থাকা যখন স্বতন্ত্র সন্দেহবীজ!

সাক্ষাৎ দেবী তুমি—কেন তবু পূজা এলেই
পদচারণা চলে যায় মণ্ডপে-মণ্ডপে? এমন
প্রশ্নপতাকা অহর্নিশ উড়ছে শিলং পাহাড়ে
শিলিগুড়ির শীর্ষ সবুজে!

যেটুকু দূরত্ব শুধুই কাঁটাতার
সব জেনেও রয়েছি এখানে—
যদি অবজ্ঞা করো, নিরুদ্দেশ হও

ভারত ভেঙে দেবো।

 


দিবানিদ্রার উপাখ্যান

মেঘের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, সম্ভবত
অরণ্যশোভিত কোনো নির্জন উপত্যকায়।

যে সব তরুণীরা সবেমাত্র ঋতুর ছাড়পত্র হাতে
বেহেস্তের স্বর্ণজলে স্নান সেরে, শুধুই শুভ্রতা নিয়ে
পুনয়ায় ফিরে এসেছে—অনাঘ্রাতা, প্রশস্ত প্রান্তরে!
তাদের অতুলনীয় রূপের জৌলুস বর্ণনাতীত
বর্ণমালা করে না ধারণ অধরা বিভূতির—
কিন্তু প্রবল অনুভবে বিচূর্ণ হওয়া যায়। সারিবদ্ধ
সবার শরীরে বস্ত্র বলতে একটি করে কাশবন—
দুগ্ধফেনোনিভ। হাওয়াদের যে অংশ প্রেরণা
যোগাতে এসেছিল, প্রস্তরের আকার নিয়ে লাল
বিস্ময়ে পিরামিডের গৌরবে বিলীন। ছিলাম না
কখনোই কাবার পাথর! তবুও কেন অসহ্য
রূপসীরা, একে একে প্রথম কবোষ্ণ স্পর্শ ও চুম্বন
আমারই ঠোঁটে অশেষ যত্নে স্থাপন ক’রে, নিজেদের
ধন্য ভেবে হারিয়ে যাচ্ছে—নিকটস্থ সাদা শূন্যতায়
ওদের লালায় অসম্ভব মধু, মহুয়া-মৌতাত!

পুলকিত আমি, সবাক শিহরিত! নিমজ্জনের জলাধারে
দুষ্প্রাপ্য, অভিজাত আনন্দে বাক্যহারা!

 


বিস্মৃতি

কে যেন কড়া নাড়ে!
সময়ে-অসময়ে, অস্থির
দরজা খুলে দেই
কই, কেউ তো নেই?
অবয়বহীন স্তব্ধতা ছাড়া!

নেমে যাওয়া সিঁড়িতে
দণ্ডিত নজর চলে যায়।

অবাক, অপলক দেখি—
ভোরের কংকাল
বাদ্যহীন দুপুরের নূপুর
বিষণ্ণ বিকেল শেষে
সন্ধ্যার অপঘাত!
আর যদিও নিহত
সুদীর্ঘ করুণ রাত।

 


মুকুট

ভুলের অন্তরিত অভিজ্ঞানে
ফুল প্যারেড হচ্ছে—
কাঁপছে লাল স্যালুট বক্স।

(2405)

Latest posts by অনন্ত সুজন (see all)