হোম অনুবাদ ভাষার কাব্যিক জুলুমঘর : কিভাবে কবিতা জাতিগত নির্মূলে অংশ নেয়

ভাষার কাব্যিক জুলুমঘর : কিভাবে কবিতা জাতিগত নির্মূলে অংশ নেয়

ভাষার কাব্যিক জুলুমঘর : কিভাবে কবিতা জাতিগত নির্মূলে অংশ নেয়
1.27K
0

একদা কবিদের নগরের বাইরে ছুড়ে ফেলার প্রস্তাব করার কারণে প্লেটোর মর্যাদা কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়েছিল। পরবর্তীকালের যুগোস্লাভিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বিচার করলে, এটি বরং একটি সুবিবেচনাপূর্ণ উপদেশ, যেখানে জাতিগত শুদ্ধি-অভিযানের নীল-নকশা তৈরি হয়েছিল কবিদের বিপজ্জনক স্বপ্নগুলো নিয়ে। এটা সত্য যে, স্লোবাদান মিলোশেভিচ জাতীয়তাবাদী হুজুগকে নিজ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু এটা ছিল সেই কবিদের ভূমিকা, যারা তাঁকে এই মালমশলা যুগিয়েছিলেন, যে চিন্তা নিজেই নিজেকে ধার দিয়েছিল ব্যবহৃত হতে। তাঁরা—সেইসব সচেতন কবি, দূষিত রাজনীতিবিদেরা নন কিন্তু—যাঁরা ছিলেন এই সবকিছুর মূলে, সত্তরের দশক এবং আশির দশকের প্রথমদিকে যখন আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করতে শুরু করেছিলেন শুধু সার্ভিয়াতেই নয়, বরং একইসাথে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রজাতন্ত্রগুলোতেও। শিল্প-সামরিক ব্যবস্থার পরিবর্তে, পরবর্তী সময়ের যুগোস্লাভিয়ায় কাব্যিক-সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে আমরা কাল কাটাচ্ছিলাম, যে বৈশিষ্ট্যগুলো মূর্তরূপ পেয়েছিল দুইজন সমচরিত্রের ব্যক্তি রাদোভান কারাদজিচ এবং রাতকো ম্লাদিচের মধ্যে। কারাদজিচ শুধুমাত্র একজন নিষ্ঠুর রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাই ছিলেন না, বরং একজন কবিও ছিলেন। তাঁর কবিতাকে উদ্ভট বলে বাতিল করে দেয়া যাবে না। কবিতাগুলো অনেকখানি নিবিষ্ট পাঠ দাবি করে, অতঃপর এটি সেই বার্তার সন্ধান দেয়, কিভাবে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নির্মূল-প্রক্রিয়া কাজ করে। এখানে তাঁর একটি শিরোনামহীন কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি দেয়া হলো,  যে পঙ্‌ক্তিগুলো ‘ইজলেট সারাজেলিকের জন্য’ বলে  উৎসর্গ করা হয়েছে :

ধর্মান্তরিত হও আমার নবীন বিশ্বাসের ভিড়ে
আমি তোমায় নিবেদন করছি এমন কিছু
যা কেউ করে নি এর আগে
আমি নিবেদন করছি ঝড়ো হাওয়া এবং দ্রাক্ষারস
একজন যার অন্ন নেই, আমার সূর্যকিরণ
তার আহার যোগাবে
হে জনগণ আমার বিশ্বাসে কিছুই নিষিদ্ধ নয়
সেখানে আছে কেবল ভালোবাসা এবং মদ্যপান
এবং সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকো
যতক্ষণের জন্য তুমি চাও
এবং স্বর্গীয় প্রকৃতি তোমাকে কিছুই
নিষেধ করবে না
ওহ সমীহ করো আমার আহ্বানকে ভ্রাতৃগণ
ভিড়ের মানুষেরা।


মিলোশেভিচই প্রথম ব্যক্তি, যিনি আমাদের সেই পর্বতশৃঙ্গ থেকে নিচে তাকাতে বাধ্য করেছিলেন।


নৈতিক বিধিনিষেধে বন্দি সুপারইগো (পরা-অহম) আজকের ‘উত্তরাধুনিক’ জাতীয়তাবাদের সঙ্কটপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। এখানে, প্রচলিত মতানুসারে, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের নানা দোলাচলের সুযোগ নিয়ে আবেগী জাতিগত পরিচয় দৃঢ়ভাবে কিছু মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসের পুনর্জাগরণ ঘটিয়ে চায় সমাজটাকে ঘুরে দাঁড় করাতে : জাতীয়তাবাদী  ‘মৌলবাদ’ আকারে তা গোপনে গোপনে কাজ করে, এমনকি আপনার ভিতরেও। আজকের এই জাতীয়তাবাদের বিকৃত, কপট-উদার ভাবটিকে পুরোপুরি চিনতে না পারলে, এবং বুঝতে না পারলে কিভাবে সামাজিক রীতিনীতির ক্ষেত্রে কর্তৃত্ববাদী সুপারইগো সম্পূরক ভূমিকা রাখে, এর প্রকৃত গতিবিধি আমরা ধরতে পারব না।

হেগেল তাঁর Phenomenology of Spirit গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন নিঃশব্দ, বিরামহীন ‘আত্মার বয়ন’-এর কথা : যা তলে তলে বদলে দেয় মতাদর্শিক সহযোগীদের, বেশিরভাগ সময়েই তা থাকে জনগণের চোখের আড়ালে, তারপর হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়, বিস্ময়ে বিহ্বল হয়ে পড়ে সবাই। এটাই ঘটে চলেছিল প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ায় সত্তর ও আশির দশকজুড়ে। আশির দশকের শেষপ্রান্তে যখন এসব বিষয় হঠাৎ প্রকাশিত হলো, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, ততদিনে পুরাতন মতাদর্শিক ঐক্যের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে নিজের মধ্যেই এটি ভেঙে পড়েছিল। সত্তর এবং আশির দশকে যুগোস্লাভিয়া ছিল কার্টুনছবির সেই বিখ্যাত বেড়ালের মতো—যে পর্বতশৃঙ্গের দিকে ক্রমাগত তার যাত্রা অব্যাহত রাখে, শুধুমাত্র তখনই তার পতন ঘটে, একদম শেষমুহূর্তে, যখন সে নিচে তাকায় এবং দেখে যে তার পায়ের তলে কোনো জমি নেই। মিলোশেভিচই প্রথম ব্যক্তি, যিনি আমাদের সেই পর্বতশৃঙ্গ থেকে নিচে তাকাতে বাধ্য করেছিলেন।


অস্ট্রিয়ান পিটার হান্দকের ব্যাপারে কী বলা যায়, যিনি প্রায় আজান দিয়ে স্লোবাদান মিলোশেভিচের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন?


কারাদজিচ ও তার বন্ধুদের ফালতু কবি হিশেবে খারিজ করা খুবই সহজ; যদিও সে সময় অন্যান্য যুগোস্লাভ জাতির (সার্ভিয়াসহ)  ‘মহান’ এবং ‘মৌলিক’ বলে স্বীকৃত কবি-সাহিত্যিকেরাও ছিলেন পুরোপুরিভাবে জাতীয়তাবাদী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। সমসাময়িক ইউরোপিয়ান সাহিত্যের একজন ক্লাসিক, অস্ট্রিয়ান পিটার হান্ডকের ব্যাপারে কী বলা যায়, যিনি প্রায় আজান দিয়ে স্লোবাদান মিলোশেভিচের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন? প্রায় এক শতাব্দী আগে, জার্মানিতে নাজিদের উত্থানকে ইঙ্গিত করে, কার্ল ক্রাউস রসিকতা করে বলেছিলেন, কবি ও চিন্তকদের (Ditchter und denker) দেশ জার্মানি হয়ে উঠেছে বিচারক ও কসাইদের (Richter und henker) দেশ। হয়তো এরকম ওলট-পালট আমাদের আর বেশি হতবাক করে না। আর এই কাব্যিক-সামরিক জটিলতা যে কেবল বলকান বৈশিষ্ট্য নয়, সে বিভ্রান্তি দূর করতে অন্তত হাসান গেজের নামটি উল্লেখ করা যায়, যাকে বলা হয় রুয়ান্ডার কারাদজিচ, তার পত্রিকা ‘কাঙ্গুরা’তে পরিকল্পিতভাবে তুতসি-বিরোধী ঘৃণা ছড়িয়েছিলেন তিনি এবং উশকে দিয়েছিলেন গণহত্যার অভিযানকে।

কিন্তু কবিতা ও সহিংসতার এই যোগাযোগ কি নেহাত একটি দুর্ঘটনা?  ভাষা এবং সহিংসতা কিভাবে পরস্পর যুক্ত? ওয়াল্টার বেঞ্জামিন তাঁর Critique of Violence গ্রন্থে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন : ‘সংঘাতের কোনো অহিংস সমাধান কি সম্ভব?’ তাঁর উত্তর হলো, ‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক’, সৌজন্য, সহানুভূতি ও বিশ্বাসের মাধ্যমে তা সম্ভব। মানুষের বোঝাপড়ার একটি ক্ষেত্র আছে যেখানে সহিংসতার দ্বারা প্রবেশ অসম্ভব, সমঝোতার ভাষা দিয়েই কেবল পৌঁছুনো যায়। এই গবেষণা (বেঞ্জামিনের) ভাষা এবং প্রতীক-বিন্যাস সম্পর্কিত মূলধারার প্রভাবশালী ধারণার সাথে যুক্ত—যার মধ্যে নিহিত পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়ন, মধ্যস্থতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান—যা তাৎক্ষণিকভাবে সহিংস, আনাড়ি কোনো মোকাবেলার পথ এড়িয়ে যেতে সাহায্য করে। একে অন্যের ওপর চড়াও না হয়ে যখন আমরা ভাষার মাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক বা কথা চালাচালি করি, সেটা কখনো আক্রমণাত্মক হলেও, তাতে কিছুটা অন্তত প্রতিপক্ষের গ্রাহ্যতা থাকে।


ফ্রয়েডের মতে মানুষ ভাষার দ্বারা বন্দি এবং নির্যাতিত।


কী হবে, যদি সত্যিই মানুষ শুধু ভাষার জোরেই পশুদের সহিংসতাকেও ছাড়িয়ে গিয়ে থাকে? ভাষার মধ্যে প্রচুর সহিংস উপাদান চিহ্নিত করেছেন বোর্দিও থেকে হাইডেগার পর্যন্ত অনেক দার্শনিক ও সমাজতত্ত্ববিদ। তা সত্ত্বেও হাইডেগারে ভাষার একটি সহিংস দিক অনুপস্থিত, যেটা লাকাঁর প্রতীকী বিন্যাসতত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দু। হাইডেগারের সমগ্র কাজের মধ্যে লাকাঁ এই জায়গাটিতে দ্বিমত করেন, যেখানে ভাষাকে তিনি বলতে চেয়েছেন সত্তার আবাস-ঘর : ভাষা মানুষের সৃষ্টি নয়, নয় কোনো যন্ত্র; মানুষই ভাষার মধ্যে ‘বাস’ করে। “বিষয়ী* বাস করে যে ভাষায় তার বিজ্ঞান হওয়া উচিত মনোবিশ্লেষণ।” এখানে ‘প্যারানয়াক’ (ভীতিভ্রমাচ্ছন্ন) বলে লাকাঁ যে প্যাঁচটি দেন, যা তার ফ্রয়েডীয় চিন্তাধারারই সংযোজন, তা এসেছে কথিত ঘরটিকে জুলুমঘর হিশেবে চিত্রিত করার মাধ্যমে : ফ্রয়েডের মতে মানুষ ভাষার দ্বারা বন্দি এবং নির্যাতিত।

১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত আর্হেন্তিনায় সামরিক স্বৈরতন্ত্র ভাষা-ব্যবহারে এক অদ্ভুত ব্যাকরণ চালু করেছিল, কর্তৃবাচ্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে : যখন হাজার হাজার বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী এবং বুদ্ধিজীবীরা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল এবং যাদের কখনোই আর দেখা যায় নি, নির্যাতিত এবং খুন হয়েছিল সেনাবাহিনীর হাতে, অথচ যারা তাদের পরিণতি বা হদিস সম্পর্কে সামান্য অবগতির কথাও অস্বীকার করেছিল। তাদের উল্লেখ করা হয়েছিল ‘নিখোঁজ’ হিশেবে, সেখানে ক্রিয়া তার স্বাভাবিক অর্থে ব্যবহৃত হয় নি যে তারা হারিয়ে গেছেন, বরং সক্রিয় সকর্মক অর্থে : তাদের ‘নিখোঁজ বা গুম করা হয়েছে’ (সামরিক বাহিনীর গোপন সংস্থা কর্তৃক)। স্তালিনের শাসনামলেও এমন একটা সরকারি বয়ান ছিল ‘পদত্যাগ করেছেন’ : যখন এটা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হতো যে একজন উচ্চপদস্থ সদস্য তার স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে নিয়মমাফিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, প্রত্যেকেই বুঝত এর সত্যিকার কারণ ছিল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তার পরাজয়, লোকেরা বলত তাকে ‘পদচ্যুত করা হয়েছে’।  লক্ষণীয়, একজন ভুক্তভোগী সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবে যে বয়ান চাপিয়ে দেয়া হয় (সে নিখোঁজ, সে পদত্যাগী), অপর পক্ষের অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ডের ফলে তা পুনর্বাখ্যা পায় (গুপ্ত পুলিশ তাকে গুম করেছে, পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠরা তাকে অপসারণ করেছে)। ফলে, আমাদের কি উচিত নয় ঠিক একই পদ্ধতিতে লাকাঁর গবেষণাটি পড়া যে, একজন মানুষ কথা বলে না, কিন্তু তাকে দিয়ে কথা বলানো হয়? এটা মূল প্রসঙ্গ নয় যে কী সম্পর্কে বলানো হচ্ছে, বক্তব্যের কী শিরোনাম। কিন্তু যখন মানুষ কথা বলছে বলে মনে হয়, তখন আসলে তাকে দিয়ে বলানো হচ্ছে, অনেকটাই হতভাগা কমিউনিস্ট নির্বাহী কর্মকর্তাটিকে অপসারণ করার মতন। এই সমরূপতা দাপুটে প্রতিপক্ষের সেই ভাষা-কাঠামোই নির্দেশ করে, যেখানে তার জুলুমঘরের অস্তিত্বও ফাঁস হয়ে যায় ।


‘সত্য বলানোর জন্য ভাষার উপর জুলম করা দরকার’


আমরা সাধারণত বিষয়ীর বক্তব্যকে গ্রহণ করি তার সব অসংগতিসহ, তার আভ্যন্তর গোলযোগ, দ্ব্যর্থতাবোধক আবেগ ইত্যাদির অভিব্যক্তি হিশেবে। এসব জড়িয়ে থাকে এমনকি শিল্পসাহিত্যকর্মেও : মনোবিশ্লেষণধর্মী পাঠের কাজ হলো শিল্পের সাংকেতিক আড়াল থেকে এর ভেতরের আত্মিক গোলযোগকে উদ্ঘাটন করা। চিরায়ত সাহিত্য আলোচনায় এদিকটা বাদ পড়ে যায় : বাচন শুধুমাত্র নির্যাতিত মনোব্যাধিগ্রস্ত জীবনকেই লিপিবদ্ধ বা প্রকাশ করে না; বাচনের ভেতর এই ভুক্তি নিজেই হয়ে ওঠে উৎপীড়নকারী একটি বিষয়। তার মানে হলো, আমাদের উচিত মানসিক আঘাতমূলক বাচনের তালিকায় অন্তভুর্ক্ত হওয়া, যা স্বয়ং মানসিক আঘাত সামলাতে চেষ্টা করে। আত্মিক গোলযোগ ও এর অভিব্যক্তির যে সম্পর্ক, উচিত হবে একইভাবে তাকেও ঘুরিয়ে দেওয়া : বাচন শুধুমাত্র আত্মিক গোলযোগকে প্রকাশ বা স্পষ্ট করে না; নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, এইসব আত্মিক গোলযোগ মূলত ‘ভাষার জুলুমঘরে’ বসতকারীর মানসিক আঘাতের একটি প্রতিক্রিয়া।

ঠিক এই কারণেই, সত্য উচ্চারণের জন্য বিষয়ীর সক্রিয় হস্তক্ষেপ রোধ করা এবং  ভাষাকে স্বয়ং বলতে দেয়া যথেষ্ট নয়—এ ব্যাপারে এলফ্রিডি জেলিনেক মোক্ষম কথাটা ছুড়ে দিয়েছেন : ‘সত্য বলানোর জন্য ভাষার উপর জুলম করা দরকার’।  উচিত হবে একে মোচড়ানো, অপ্রকৃতস্থ করা, শিথিল করা, সংহত করা, কাটা এবং পুনরায় জোড়া, নিজের বিরুদ্ধে লাগার জন্য প্রস্তুত করা। যত ‘বড়’ ক্ষেত্রই থাক, ভাষা সাক্ষাৎ জ্ঞানের প্রতিনিধি নয় যে তার বক্তব্যের সাথে আমাদের তাল মেলাতে হবে, বরং নির্দয় উদাসীনতা ও নির্বুদ্ধিতার জায়গা এটি। কারও ভাষাকে নির্যাতনের সবচেয়ে মোক্ষম আঙ্গিকটির নাম কবিতা।


* জাক লাকাঁর চিন্তাসূত্রে ইংরেজি Subject শব্দটিকে এই লেখার সর্বত্র ‘বিষয়ী’ হিশেবে অনুবাদ করা হয়েছে। – অনুবাদক

মূল ইংরেজি লেখাটি পোয়েট্রি ফাউন্ডেশনে প্রকাশিত হয় ৩ মার্চ ২০১৪ সালে

রোজেন হাসান

জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯০; হবিগঞ্জ। স্নাতকোত্তর (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা)।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
অক্ষর স্তব্ধবন [ঐতিহ্য, ২০১৮]

ই-মেইল : rozenhasan45@gmail.com