হোম অনুবাদ চার্লস সিমিকের কবিতা

চার্লস সিমিকের কবিতা

চার্লস সিমিকের কবিতা
585
0

চার্লস সিমিক ৯ মে ১৯৩৮ সালে যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেইডে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভাঙাগড়া, জীবন-করের ভিতর সিমিকের শৈশব কাটে। ইউরোপ ঘুরে অতঃপর যুক্তরাষ্ট্রে বাবার সঙ্গে মিলিত হয়ে  সেখানেই থিতু হন। সিমিক নিজের জবানিতেই বলেন, ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ভালোভাবে ইংরেজিও বলতে পারতেন না। স্থিতি ও পলায়নপরতা, স্বপ্ন ও আশাভঙ্গের দ্বৈরথ তার কবিতার সামগ্রিক মানসে অভিব্যক্ত হয়ে ওঠে। সিমিকের প্রারম্ভ জীবনের রূঢ়তা, আক্ষেপ আর শৈশবহীন শিশুকালের মানসিক পীড়ন প্রথাগত কবিতার ছন্দে, কমনীয়তায় ঠিক ধরা যাচ্ছিল না বোধ করি; ফলে জীবনের রক্তচক্ষু তিনি কবিতার গদ্যে বয়ান করেন। আমেরিকান কবিতায় সিমিকের গদ্যের চাল ইতিহাস তৈরি করে: কবিতায় এক অপ্রচল ধরন ও চাক্ষুষ তদন্তধর্মিতা তাকে পুলিৎজার পুরস্কার এনে দেয়; তা ছিল চার্লস সিমিকের জন্য, তারচেয়ে বেশি গোটা সাহিত্যে কবিতা মাধ্যমের জন্য এক অসামান্য ঘটনা।


প্রবীণ লোকটি আমাকে বলল


এখানে একসময় একটি সিনেমা হল ছিল—নির্বাক ছায়াছবি দেখানো হতো। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম—এক বৃষ্টিনিষ্ঠ সন্ধ্যায় কালো চশমা চোখে তুমি নিখিল দুনিয়া পরখ করছ।

একরাতে হলো কী—রহস্যজনকভাবে পিয়ানোবাদক লোকটা নাই হয়ে যায়। ঝড়সংকুল সমুদ্রের সাথে তখনও আমরা রয়ে গেছি—তুফান আছে, কিন্তু সবকিছু নিঃশব্দ সুনসান। তার মধ্যে দিঘল, খাঁখাঁ সাগরের তীরে বসে থাকে এক সুন্দরী নারী—আকুল তাকিয়ে দেখে—আমি আমার মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়ছি; আর তখনই মহিলার দুচোখ বেয়ে নীরবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে!

English Version : The Old Man Told me.


রাতে পুরনো পোস্টকার্ড


আমি দম-দেয়া এক দাবারুকে খোঁজ করছি, তার মাথায় থাকবে লাল পাগড়ি। আমি শুনি ওখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন পিথাগোরাস এবং সুশোভন ভারী এক বুজুর্গ—যিনি ঈশ্বরের কর্ণকুহরে নীরবতার রেওয়াজ শুনতে পান।

অসীমতা আর সময় দুই দরকারি চাবি—প্রত্যেকেই তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশভাগ, কিন্তু এক ঝলক দেখামাত্র বোঝা যায়, ওই সমগ্রের যৌগ আসলে কিছু নয়।

ভাসমান, উজাগর মানুষের রাত, ঘড়ির চাবিআঁটা আত্মায় নিশিঘোর রজনী তাদের—সকলই হাজির যামিনীর কারখানায়—আয়নামহল যার।

এখানে পিতলের গিনি সোনায় অলংকৃত একটি  হাত উত্থিত—হাতের পাঁচ আঙুল অঙ্গুলি নয়—বুঝি লকলকে কুকুরের পঞ্চমুখ- সবার আগে বিস্ফারিত ভয়াকুল দুটি চোখ!

English Version : Old Postcard Of 42nd Street At Night.


শিরোনামহীন


আমাকে জিপসি যাযাবরেরা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। আমার মা-বাবা সেখান থেকে তার ঠিক পরপরই পাল্টা চুরি করে ফেরত নিয়ে আসে। যাযাবরেরা আমাকে ফের চুরি করে ফেলে। চুরি, আবার ফেরতা চুরি—এভাবে বেশ কয়েকবার ঘটনাটি ঘটে। পথিমধ্যে, যে-ক্যারাভানে আমাকে নেয়া হচ্ছিল সেখানে সাকুল্যে আমি মিনিটখানিক কালো স্তনের বোঁটা চুষে দুধ খেয়েছিলাম—ওটা ছিল আমার রাস্তার নতুন মা; পরে এসে পৌঁছি একটা ঢাউস খাবার ঘরে এক লম্বা টেবিলের কাছে—ওখানে আমি একটি চামচ দিয়ে নাস্তা সারি।

সেটি ছিল বসন্তস্য প্রথম দিবস। শুনতে পাই—আমার একজন বাবা বাথটবে গোসল করে, আর গান গায়; আমার আরেকটা বাবা জানালায় বসা একটি চড়ুইয়ের ছবি আঁকে যার শরীরে গরমাঞ্চলিক রঙের ছোপ আছে।

English version : A poem without a caption in the Prose Poetry Anthology- No Boundaries.

বদরুজ্জামান আলমগীর

জন্ম ২১ অক্টোবর ১৯৬৪; কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর। পড়াশোনা বাজিতপুরে, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০ বছর দেশের বাইরে, থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায়। মূলত নাট্যকার, কবি ও অনুবাদক।

প্রকাশিত বই :

নাটক—
নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে [বাঙলা একাডেমি, ১৯৯৭]
আবের পাঙখা লৈয়া [জন্মসূত্র, ২০১৬]

কবিতা—
পিছুটানে টলটলায়মান হাওয়াগুলির ভিতর [অপরাজিতা, ২০০৫]
নদীও পাশ ফেরে যদিবা হংসী বলো [ঘোড়াউত্রা প্রকাশন, ২০১৯]

প্যারাবল—
হৃদপেয়ারার সুবাস [ঘোড়াউত্রা প্রকাশন, ২০১৮]

বাংলাদেশে নাটকের দল 'গল্প থিয়েটার'-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য; নাট্যপত্রের সম্পাদক। এছাড়া সম্পাদনা করেছেন—সমাজ ও রাজনীতি, দ্বিতীয়বার, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, পূর্ণপথিক, মর্মের বাণী শুনি, অখণ্ডিত।

প্যানসিলভেনিয়ায় কবিতার প্রতিষ্ঠান 'সংবেদের বাগান'-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

ই-মেইল : ecattor@yahoo.com

Latest posts by বদরুজ্জামান আলমগীর (see all)