হোম অনুবাদ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়

একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়

একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়
533
0

ইসলামের প্রতি পাশ্চাত্যের অদ্ভুত মোহ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিককালে ত্রিনিদাদের বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ভিএস নাইপল তিনটি মুসলিম দেশে তার ভ্রমণের উপর ভিত্তি করে বিশাল ভলিউমের বই বের করেছেন—সবগুলো দেশই হচ্ছে অনারব—চলমান একটা বইয়ের ঘটনার মতো আঠার বছর আগে তিনি এই চারটি দেশের উপরই লিখেছিলেন। প্রথম বইয়ের নাম ছিল—বিশ্বাসীদের মধ্যে : একটি ইসলামি যাত্রা (Among the Believers : An Islamic Journey); নতুনটা হচ্ছে—বিশ্বাসের ওপারে : ধর্মান্তরিত মানুষের মাঝে ভ্রমণ (Beyond Belief : Islamic Excursions Among the Converted Peoples)। ইতোমধ্যে নাইপল স্যার ভি এস নাইপল হয়ে গেছেন, বিশাল খ্যাতিমান এবং একথা অবশ্যই বলতে হবে যে খুবই প্রতিভাবান লেখক, যার উপন্যাস ও অন্যন্য লেখা (বিশেষ করে ভ্রমণকাহিনি) বিশ্বসাহিতের দরবারে তাকে একজন অন্যতম নির্ভেজাল সুপ্রসিদ্ধ এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রসিদ্ধ লেখক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


আজকে কেউই আর খ্রিস্টধর্ম অথবা ইহুদিবাদ নিয়ে এ ধরনের কোনো বই লিখবেন না।


প্যারিসে, উদাহরণ হিশেবে বলা যায় যে, সোনিয়া রাইকিয়েলের বিলাসবহুল শোরুমের জানালাগুলো স্কার্ফ, বেল্ট এবং হাতব্যাগের সাথে বিশ্বাসের ওপারে বইয়ের ফরাসি অনুবাদে ঠাসা। এটা অবশ্যই একধরনের সম্মাননা, যদিও নাইপল এতে খুব একটা সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন। অন্যদিকে সম্মানজনক সব ব্রিটিশ ও আমেরিকার দৈনিকে বইটির রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে এবং বইটি একজন সুচতুর পর্যবেক্ষণশক্তির অধিকারী ও নিখুঁত বর্ণনাদানকারী একজন মহান গুরুর কর্ম হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছে। বইটি ইসলামের অনেক রহস্যের উন্মোচন ঘটিয়েছে এবং যার প্রতি পাশ্চত্যের রয়েছে সীমাহীন ক্ষুধা। আজকে কেউই আর খ্রিস্টধর্ম অথবা ইহুদিবাদ নিয়ে এ ধরনের কোনো বই লিখবেন না। অন্যদিকে ইসলাম হচ্ছে আলোচনা বা সমালোচনার উপযুক্ত একটি বিষয়, যদিও বিশেষজ্ঞরা এর ভাষা হয়তো বোঝেন না অথবা এই বিষয় সম্পর্কে তেমন বেশি কিছু জানেন না।

যাই হোক, নাইপলের বিষয়টা একটু অলাদা। তিনি একজন পেশাদার প্রাচ্যবিদ্যা বিশেষজ্ঞ নন, আবার থ্রিল অন্বেষণকারীও নন। তিনি একজন তৃতীয় বিশ্বের মানুষ, যিনি কিনা তৃতীয় বিশ্ব থেকে বার্তা পাঠান পশ্চিমের উদার ও মুক্ত মানুষদের উদ্দেশ্যে, যারা কখনোই তৃতীয় বিশ্বের মিথ সম্পর্কে যথেষ্ট খারাপ কথা কখনোই শুনতে পারে না—জাতীয় মুক্তি আন্দোলন, বিপ্লবী উদ্দেশ্য, উপনিবেশবাদের নষ্টামি—দুরবস্থার শিকার আফ্রিকা ও এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহ, যারা দারিদ্র্য, স্থানীয় বন্ধ্যাত্ব, অশিক্ষা-কুশিক্ষায় ডুবে আছে এবং এখনো পশ্চিমা শিল্পায়ন ও আধুনিকায়ন গ্রহণ করতে পারে নি, তাদের করুণ অবস্থার কারণ নাইপলের অভিমত কিছুতেই ব্যাখ্যা করে না। নাইপল তার একটা বইয়ে বলছেন, এরা হচ্ছে সেই সমস্ত লোক যারা জানে কিভাবে টেলিফোন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু কিভাবে টেলিফোন ঠিক করতে হয় অথবা তা আবিষ্কার করতে হয় তা জানে না। নাইপলকে এখন তৃতীয় বিশ্বের একজন দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ব্যক্তি হিশেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি একজন ভারতীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক; তিনি ১৯৫০ সালে ব্রিটেনে পাড়ি জমান এবং পরবর্তীকালে ব্রিটিশ রাজশক্তির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যে পরিণত হন এবং সবসময় নোবেল পুরস্কারের একজন প্রার্থী হিশেবে তার নাম শোনা যায়। তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব, তৃতীয় বিশ্ব সম্পর্কে সত্য কথা বলার জন্য যার উপর নির্ভর করা যায়। ১৯৭৯ সালে একটা রিভিউতে তার সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়—’তিনি আদিবাসীদের নৈতিক দাবি সম্পর্কে যে কোনো রোমান্টিক চন্দ্রালোক থেকে মুক্ত’ এবং তিনি এই কাজটা ‘এমনভাবে করেন যে তার মধ্যে পশ্চিমের অনুকম্পা অথবা উপনিবেশবাদের জন্য নস্টালজিয়ার বিন্দুমাত্র চিহ্ন আমরা দেখতে পাই না’।


ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ ঘটনা হলো ভারতে ইসলামের আবির্ভাব এবং পরবর্তীকালে এর উপস্থিতি, যা কিনা ভারতের ইতিহাসের অঙ্গহানি ঘটিয়েছে।


এখনও এমনকি নাইপলের জন্য তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য সমস্যার চেয়েও বেশি খারাপ সমস্যা হচ্ছে ইসলাম। তার হিন্দু-উৎসকে অনুভব করে তিনি সম্প্রতি বলেছেন যে, ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ ঘটনা হলো ভারতে ইসলামের আবির্ভাব এবং পরবর্তীকালে এর উপস্থিতি, যা কিনা ভারতের ইতিহাসের অঙ্গহানি ঘটিয়েছে। তিনি অন্যান্য লেখকের মতো ইসলামের উপর দিয়ে একবার ভ্রমণ করেই খান্ত হন না। তিনি দ্বিতীয়বার ভ্রমণ করেন, যাতে করে তিনি এই ধর্মের প্রতি, এই ধর্মের মানুষের প্রতি, এই ভাবধারার প্রতি তার গভীর বিদ্বেষ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। পরিহাসের বিষয় হচ্ছে এই যে, বিশ্বাসের ওপারে বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে তার মুসলিম স্ত্রী নাদিরাকে, যার ভাবনা অথবা অনুভূতির কথা উল্লেখ করা হয় নি। প্রথম বইতে তিনি কিছুই শেখেন না—তারা, মুসলমানরা, প্রমাণ করে সেই কথা যা তিনি আগেই জানতেন। কিন্তু কী প্রমাণ করে? প্রমাণ করে যে, ইসলামের দিকে ফিরে যাওয়া হচ্ছে নির্বুদ্ধিতা। মালয়েশিয়াতে নাইপলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ‘আপনার লেখালেখির উদ্দেশ্য কী? এটার উদ্দেশ্য কি এই যে লোকজনকে এই সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে বলা?’ তিনি উত্তর দিচ্ছেন, ‘হ্যাঁ, আমি বলব উপলব্ধি।’ ‘এটা কি টাকার জন্য নয়?’ ‘হ্যাঁ। কিন্তু কাজের প্রকৃতিটা গুরুত্বপূর্ণ।’ এভাবেই তিনি মুসলমানদের মধ্যে ভ্রমণ করেন এবং এ সম্পর্কে লিখেন। প্রকাশকরা ও ম্যাগাজিনগুলো তাকে ভালো সম্মানী দেন এবং তারা তার বই থেকে উদ্ধৃতি দেন, কারণ তা হলো গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ এই নয় যে, তিনি তা করতে পছন্দ করেন। মুসলমানরা তাকে গল্প সরবরাহ করে, যা তিনি রেকর্ড করেন ‘ইসলামের’ একটি উদাহরণ হিশেবে।

ঐ দুটো বইয়ে আনন্দ ও সহানুভূতি উভয়ের পরিমাণ খুবই কম। প্রথম বইয়ে মুসলমানদেরকে হাসির পাত্র করা হয়েছে, যারা নাইপলের ব্রিটিশ ও আমেরিকান পাঠকদের দৃষ্টিতে কুৎসিত, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ও বদ্ধোন্মাদ, যারা বানান করতে ও সুসঙ্গত হতে জানে না। তাদের এ দৃষ্টিভঙ্গি ঐ পাঠকদের কাছে পার্থিব জ্ঞানে সঠিক মনে হয় এবং তা পাশ্চাত্যের একধরনের একপেশে মূল্যায়ন। যখনই মুসলমানরা কোনো ইসলামি দুর্বলতা প্রদর্শন করে তখনই নাইপলের মতো তৃতীয় বিশ্বের সাক্ষী সেখানে খুব দ্রুত উপস্থিত হয়। যখনই কোনো মুসলমানের কোনো ভুল হয়, একজন ইরানি পশ্চিমের প্রতি কিছু ঘৃণা প্রকাশ করে তখনই নাইপল ব্যাখ্যা করেন, ‘এটা হচ্ছে মধ্যযুগীয় এক উচ্চবিত্ত লোকের বিভ্রান্তি, যে জেগে উঠেছে তেল ও অগাধ অর্থের মধ্যে, একধরনের ক্ষমতা ও সন্ত্রাসের মানসিকতা এবং একটি মহান ও নতুন সভ্যতা (পাশ্চাত্য)-র মুখোমুখি দোদুল্যমানতা। এটাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং একই সময়ে এর উপর নির্ভর করতে হবে।’

শেষের দেড় লাইনের কথা স্মরণ করুন। কারণ এটা হচ্ছে নাইপলের থিসিস এবং একই সাথে এটা হচ্ছে সেই প্লাটফর্ম যেখান থেকে তিনি পৃথিবীর মানুষদের উদ্দেশে কথা বলেন : পশ্চিম হচ্ছে জ্ঞানের ভাণ্ডার, সমালোচনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার কার্যকর প্রতিষ্ঠান। ইসলাম হচ্ছে ভয়ঙ্করভাবে ক্রুদ্ধ এবং বিকৃতভাবে এর উপর নির্ভশীল একটা সত্তা, যারা জেগে উঠেছে নতুন কিন্তু নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটা শক্তির কাছে। পাশ্চাত্য বাইরে থেকে ইসলামকে ভালো জিনিশই প্রদান করে, কারণ ‘ইসলামের যে জীবনীশক্তি সেটা ভেতর থেকে আসে নি’। এভাবেই একশো কোটি মুসলমানের অস্তিত্বের সারাংশ মাত্র একটি বাক্য দিয়ে প্রকাশ করে তা বাতিল করা হয়েছে। ইসলামের ত্রুটি ছিল এর ‘উৎসে—যেটা কিনা তার ইতিহাসের পথ ধরে প্রবাহিত হয়েছে : রাজনৈতিক যে ইস্যুগুলো সে তুলে ধরেছে তার কোনো রাজনৈতিক বা বাস্তব সমাধান করা হয় নি। সে শুধুমাত্র একটা বিশ্বাসের কথা বলেছে। সে শুধু নবিজির কথা বলেছে, যিনি সমস্ত সমস্যার সমাধান করতেন এবং যিনি আজকে আর অস্তিত্ববান নন। এই রাজনৈতিক ইসলাম ছিল উন্মত্ততা ও বিশৃঙ্খলার’। নাইপলের সব উদাহরণ এবং তিনি যাদের সাথে কথা বলেন তারা সবাই বিষয়টাকে এভাবে দেখে—ইসলাম বনাম পাশ্চাত্য। ইসলাম বনাম পাশ্চাত্যের বিরোধ বের করতে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এর সব কিছুই খুবই ক্লান্তিকর এবং একঘেয়ে এবং একই কথা তিনি বারবার বলতে থাকেন।


নাইপলের কথা মতো, তাহলে, অ্যাংলিকানরা, যারা ব্রিটিশ নয়, তারা ধর্মান্তরিত এবং তারাও মালয়েশিয়ান বা ইরানিদের মতো অনুকরণ ও অযোগ্যতার জীবন পরিচালনা করার জন্য ভাগ্যনির্দিষ্ট, যেহেতু তারা ধর্মান্তরিত।


তাহলে কেন তিনি দু’দশক পর একই রকম দীর্ঘ এবং একই রকম একঘেয়েমিতে পূর্ণ একটি বই লিখলেন? আমার কাছে এর একমাত্র উত্তর হচ্ছে এই যে, তিনি ভাবছেন যে ইসলাম সম্পর্কে তিনি নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছেন। এবং সেই অন্তর্দৃষ্টিটা হচ্ছে এই, যেহেতু ইসলাম আরবদের ধর্ম, সুতরাং যদি আপনি আরব না হন তাহলে আপনি ধর্মান্তরিত মুসলমান। ধর্মান্তরিত মুসলমান হিসেবে মালয়েশিয়ান, পাকিস্তানি, ইরানি এবং ইন্দোনেশিয়রা সঠিকভাবেই এই ভাগ্য বরণ করে নেয় যে তারা যথার্থ মুসলিম নয়। তাদের কাছে ইসলাম হচ্ছে একটা অর্জিত ধর্ম যা তাদেরকে তাদের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং তখন তারা এখানে অথবা ওখানে কোথাও অবস্থান করতে পারে না। নাইপল তার নতুন বইয়ে দলিলপত্র দিয়ে যা দেখাতে করতে চেষ্টা করছেন তা হলো, ধর্মান্তরিতদের ভাগ্য—যারা তাদের নিজস্ব অতীতকে হারিয়েছে নতুন ধর্মকে গ্রহণ করতে গিয়ে এবং নতুন ধর্ম থেকে তারা অল্প কিছুই পেয়েছে। আর এই নতুন ধর্ম তাদেরকে অধিক বিভ্রান্তি, অধিক দুর্ভাগ্য, অধিক (পশ্চিমা পাঠকদের জন্য) হাস্যকর অযোগ্যতা এনে দিয়েছে। এর সমস্ত কিছুই ঘটেছে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে। এই হাস্যকর যুক্তি নির্দেশ করে এই ঘটনা যে, কেবলমাত্র স্থানীয় রোমানরাই ভালো রোমান ক্যাথলিক হতে পারবে; অন্যান্য ক্যাথলিক—ইতালীয়, স্পেনীয়রা, লাটিন আমেরিকানরা, ফিলিপিনোরা—যারা ধর্মান্তরিত তারা যথার্থ ক্যাথলিক নয় এবং তারা তাদের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। নাইপলের কথা মতো, তাহলে, অ্যাংলিকানরা, যারা ব্রিটিশ নয়, তারা ধর্মান্তরিত এবং তারাও মালয়েশিয়ান বা ইরানিদের মতো অনুকরণ ও অযোগ্যতার জীবন পরিচালনা করার জন্য ভাগ্যনির্দিষ্ট, যেহেতু তারা ধর্মান্তরিত।

কার্যত, এই ৪০০ পৃষ্ঠার বিশ্বাসের ওপারে বইটি ঐ নির্বোধ এবং অপমানকর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে লেখা ছাড়া অন্য কিছু নয়। এটা সত্য কিনা এটা কোনো প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ভি এস নাইপলের মতো একজন অসাধারণ বুদ্ধিমান ও প্রতিভাবান লেখক কী করে এমন নির্বোধ এবং এমন একঘেয়ে একটি বই লিখলেন, যেটা ঘটনার পর ঘটনাতে পূর্ণ এবং চিত্রিত আছে একই আদিম, অপরিণত, অসন্তোষজনক ও সরল থিসিসে এবং থিসিসটা হচ্ছে এই যে, অধিকাংশ মুসলমান হচ্ছে ধর্মান্তরিত মুসলমান এবং এজন্য তারা যেখানেই থাকুক না কেন একই ভাগ্য বরণ করবে। ইতিহাস, রাজনীতি, দর্শন, ভূগোলে কিছু আসে যায় না—মুসলমান যারা আরব নয় তারা খাঁটি মুসলমান নয়, তারা ধর্মান্তরিত এবং তাদেরকে একই শোচনীয় মিথ্যা ভাগ্য বরণ করতে হবে। আমার মতে নাইপল নিজেই পথের কোথাও মারাত্মক বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। ইসলামের প্রতি তার তীব্র কুসংস্কার কোনো না কোনোভাবে তার চিন্তার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল, যার কারণে তিনি একই তত্ত্ব বারবার আউড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং একধরনের মানসিক আত্মহত্যা করেছেন। এটাকেই আমি বলব প্রথম সারির একটা বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়।


অথচ তিনি এখন একটি প্রেতাত্মায় পরিণত হয়েছেন।


পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই যে, নাইপলের কাছ থেকে অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। তিনি বারবার একই বিষয় নিয়ে লিখে চলেছেন এবং তার লেখা অত্যন্ত ক্লিশে। তার অসাধারণ প্রতিভা বাজে কাজে খরচ করে ফেলেছেন। তিনি আর অর্থবহ কিছু বলতে পারছেন না। তিনি তার বিশাল খ্যাতির মধ্যে বেঁচে আছেন এবং এই খ্যাতি তার প্রকাশকদের এমন ধারণা দিয়ে বোকা বানাচ্ছে যে, তারা ভাবছে তারা কোন মহান লেখকের সাথে লেনদেন করছে। অথচ তিনি এখন একটি প্রেতাত্মায় পরিণত হয়েছেন। আরও বেশি অনুকম্পার বিষয় হচ্ছে এই যে, ইসলামের উপর নাইপলের লেখা সাম্প্রতিক বইটি বিবেচিত হবে একটা মহান ধর্মের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা হিশেবে এবং মুসলিমরা আরো বেশি সংখ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অপমানিত হবে। এবং তাদের সাথে পশ্চিমের দূরত্ব আরও বাড়বে ও গভীরতর হবে। প্রকাশকরা ছাড়া আর কেউই এতে করে লাভবান হবে না। এই প্রকাশকেরা বিপুল পরিমাণ বই বিক্রি করতে পারবে। আর নাইপলও প্রচুর টাকা কামাই করবেন।

কায়সার আহমদ

জন্ম ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭; ঢাকা। বিএ (সম্মান), এমএ, ইংরেজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা অধ্যাপনা।

ই-মেইল : kaiser.ahmad1@gmail.com