হোম অনুবাদ অস্ট্রেলিয়ার নারীবাদী কবিতা

অস্ট্রেলিয়ার নারীবাদী কবিতা

অস্ট্রেলিয়ার নারীবাদী কবিতা
455
0

সিন্দুক
পাওলা সুফিয়া বিলব্রো

তুমি আমাকে একটা খাঁচা এনে দিয়েছ, ধূসর-নীল
ঈষৎ মলিন। একটা বিচ্ছিন্ন বাল্বের যেন সে মৃত্যুপুরী

পুরনো জীবনে এরও হয়তো ছিল সানডে রোস্ট
তাতে চর্বি, পুঁতির মতোই ছড়ানো অথবা বাটার, একটা ভাঙা পিরিচে

কল্পনা করছি, তুমি আলো জুড়ে দিচ্ছ, তোমার দু’হাত
ছোট, ঘন প্যাডে জড়ানো, আনন্দময় তোমার ও মুখ

আমি খাঁচাটিরে এ ঘর থেকে ঐ ঘরে নিই, খুলি
আর বন্ধ করি দ্বার, যেন এক শিশু ও তার পুতুলের ঘর

সিন্দুকের চাবিটি চালাই, একে পূর্ণ করি লেসযুক্ত ছায়ায়
অদ্ভুত ও তীব্র, যেখানে মঞ্চস্থ হতে পারে ছোট্ট এক খেলা

মর্চেধরা মেঝে, তোমার সঙ্গেই বসে থাকা ভালো লাগা উচিত আমার
দৈত্যাকৃতির একটা পদ্মের রূপে গ্রামোফোন আমাদের কাছে পৌঁছে গেছে

কুশীলবদের কণ্ঠস্বর আমাদের চারপাশে প্রতিধ্বনিময়
কিছুটা কমেডি তার, কিছুটা সার্কাস

এবং তোমার হাত আমার বুকের ওপর, মধ্যচ্ছদায়
তার থেকে হাসি ঝরে পড়বার অপেক্ষায়।


কবি-পরিচিতি : পাওলা সুফিয়া বিলব্রো মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি এবং আরএমআইটি ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে কাজ করেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে একটি নারীবাদী সংস্থায় কাজ করছেন। তিনি একাধারে কবি, চলচ্চিত্রকার এবং গবেষক। তার কবিতা আমেরিকা, লন্ডন এবং নিউজিল্যান্ড-এর বিভিন্ন জার্নাল ও অ্যান্থলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই দ্যা বেল টাং

যন্ত্রমানবী
মেরেডি ওরটেগা

যদি হ্যাক করি, প্রথমেই করব জরায়ু
যেভাবে টিনের কাঠুরে কুপিয়ে টুকরো করে
এক জাদুমুগ্ধ কুঠারে তাহার
ঠিক সেভাবেই কুপিয়ে আনব তুলে জরায়ু আমার
সেখানে রাখব এক মিউজিক-বক্স, শুনব গ্রিনস্লিভসের গান

আমার কৃত্রিম ফুসফুস নিয়ে, কখনও ছাড়ব না ধূমপান
দিনে চার প্যাকেট
চাহিদামতো নতুন হাড় বানিয়ে আনব,
আমার ফাইবার অপটিক চুল, সমলয়ে জ্বলবে জোনাকির মতো

আমার কপাল জুড়ে স্ক্রল করে যাবে এলইডি বার্তা
কখনও বলবে ‘ফাক অফ’, উস্কানিবিহীন
কখনও জানাবে, নিজের ইচ্ছেকে ব্যবহার করো

রবোটিক রক্তকণা আমাকে জলের তলে নিশ্বাস নিতে সাহায্য করবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
টেট্রাক্রোমাটিক দৃষ্টি দিয়ে দেখব প্রতিটি রঙ, এখন পর্যন্ত যা অনাবিষ্কৃত,
সামুদ্রিক মৎস্যের ত্বকে আমি অধিক অদৃশ্য সাধারণের চেয়ে
আমার থাকবে একটা পেরিস্কোপ

খুলির ভেতর থেকে যেটা বেরিয়ে আসবে
বৃক্ষসারির ওপর দিয়ে, টোয়াইলাইটের ভ্যাম্পায়ারের মতো আমি ঝাঁপিয়ে পড়ব
জানালায় আঠার মতো লেগে থাকব টিকটিকির মতো টোপ্যাড দিয়ে
অতটা ঠান্ডা ও দুঃখিত হব না কখনও

আটগুণ দ্রুততায় লিখতে পারব কবিতা
ধূসর ভল্লুকের ঘ্রাণ পাব মন্টানার বা উয়মিং-এর অথবা সেসব এলাকার

জীবন্ত প্লাস্টিকে তৈরি আমার আঙুল
বন্দুকের নলে পরিণত হবে যখন দেখব
আমার দেয়ালে শিশুরা লিখছে বা আঁকছে শিশ্ন
আমি তাদের গুলি করে মারব


কবি-পরিচিতি : ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার খনি-শহর টম প্রাইসে জন্ম মেরেডি ওরটেগার। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সাইন্স পোয়েট্রি প্রাইজ পান ২০১৩ সালে। উল্লেখযোগ্য কবিতার বই অস্ট্রেলিয়ান লাভ পোয়েম, দ্যা ডিসএপিয়ারিং

মৎস্যকন্যার গল্প
সুসান ফিলি

সমস্ত জীবন ধরে তার গল্প আমাকে ভোগাচ্ছে
আমি কি তোমাকে বড় করে তুলেছি এমন গল্পের ভেতর?
প্রতি পদক্ষেপে ব্যথা পাচ্ছ
যেনবা হাঁটছ ভাঙা কাচের ওপর
যেনবা জেনেছ বাতায়ন এর মধ্যে ভেঙে গেছে
যখন বয়স চার, তাহারা তোমার চোখ দুটো
দিয়েছে সেলাই করে
কারণ তোমার আঁখিপল্লব তাদের কাটছে
যখন তোমার পাঁচ, তুমি জিভ ঘষছিলে
যতক্ষণ না পারছ কথা বলতে
তুমি শিখে যাচ্ছ
কিভাবে হাঁটতে হয় পেছনের দিকে
একদিন আরও বেশি রক্তাক্ত হবে তোমার বিছানা
হয়তো তখন তোমাকে জাগাবে তোমারই কণ্ঠস্বর।


কবি-পরিচিতি : সুসান ফিলি একই সঙ্গে কবি, সমালোচক এবং একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট। তার কবিতা অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও ভারতের বিভিন্ন জার্নাল ও অ্যান্থলজিতে প্রকাশিত হয়েছে।

মাসিকের দিন : একতারা
ফেলিসিটি প্লাঙ্কটে

১. ভোর বেলাকার মেঘ, ইতিহাসের মতোই লাল, যা বিষণ্ন করে তোলে
আকাশ-নরম একটা চাদরে আমি গড়াগড়ি করি

২. ঘণ্টা দিনটাকে ছিলে ফেলে বহুবিধ টুকরোয়

৩. হারানো স্মৃতির সেলাই লাগানো সন্ধিমুখ, আমি শিশুদের বলি কিভাবে ভুলতে হয়

৪. উদীয়মান রক্তাভা, যেন এক সৃষ্টি-উন্মাদনা মাথার ভেতর, এর ভার আর মীমাংসাসমেত

৫. কৈশোরের ঝড়, পুনরায় : আমার পেছনে কোথাও রয়েছে একটা ছাতা

৬. রক্তচক্র : চক্রের রক্তিম আবহাওয়া রুদ্ধ ও প্রহরাবেষ্টিত

৭. তাহার পিতার মৃত্যু : যে ঘড়িটি তিনি দিয়েছিলেন তা বিকল, এমনকি সেই মেঝে যেখানে দাঁড়িয়ে সবাই দেখত, সেটিও

৮. আমার শেষ বিদ্যানিকেতন, তিন বছর আগের, একটা লাল আঁচড়ে তোমার ক্ষুদ্র সে জীবন মুছে গেছে

৯. ছোট ছোট কণ্ঠস্বর, তাদের কাছেই নতজানু আমি


কবি-পরিচিতি : ফেলিসিটি প্লাঙ্কটের প্রথম কবিতার বই ভ্যানিশিং পয়েন্ট (২০০৯) আর্টস কুইন্সল্যান্ড থমাস শ্যাপকট পুরস্কার পায়।  তিনি থার্টি অস্ট্রেলিয়ান পোয়েট নামে একটি  অ্যান্থলজির সম্পাদক। কবিতার পাশাপাশি লিখেছেন ছোটগল্পও।

শেলী নাজ

জন্ম ১১ মার্চ ১৯৬৯; হবিগঞ্জ। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। মাস্টার্স অফ ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া। ডক্টরাল স্টুডেন্ট, সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া।

প্রকাশিত বই :
নক্ষত্র খচিত ডানায় উড্ডীন হারেমের বাঁদি [অপরাজিতা ২০০৪]
বিষাদ ফুঁড়ে জন্মেছি বিদ্যুৎলতা [ম্যাগনাম ওপাস ২০০৬]
শেকলে সমুদ্র বাজে [অনন্যা ২০০৭]
মমি ও মাধুরী [ম্যাগনাম ওপাস ২০০৯]
চর্যার অবাধ্য হরিণী [পাঠসূত্র ২০০৯]
সব চাবি মিথ্যে বলে [ম্যাগনাম ওপাস ২০১১]
সূচের ওপর হাঁটি [বেঙ্গল পাবলিকেশন ২০১৩]
পুরুষসমগ্র [অ্যাডরন পাব্লিকেশন ২০১৫]

ই-মেইল : shellynaz777@gmail.com

Latest posts by শেলী নাজ (see all)