হোম নির্বাচিত হোর্হে লুইস বোর্হেসের সাক্ষাৎকার : মারিও বার্গাস যোসা

হোর্হে লুইস বোর্হেসের সাক্ষাৎকার : মারিও বার্গাস যোসা

হোর্হে লুইস বোর্হেসের সাক্ষাৎকার : মারিও বার্গাস যোসা
691
0
borges-yosa১৯৬৩ সালে প্যারিসে মারিও বার্গাস যোসার সুযোগ হয়েছিল তাঁর উপাস্যদের একজন আর্হেন্তিনীয় লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের সাক্ষাৎকার নেয়ার। তাঁর ব্যক্তিগত ভাণ্ডার থেকে এই লেখাটি উদ্ধার করে বার্গাস যোসার Website-এ ‘অপ্রকাশিত ও বিরল’ বিভাগে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন কবি-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন।

 

বোর্হেসকে মারিও বার্গাস যোসার প্রশ্ন

মাফ করবেন, হোর্হে লুইস বোর্হেস, তবে সাক্ষাৎকারটা শুরু করার লক্ষ্যে আমার মাথায় একমাত্র যা আসছে তা হলো এই চিরাচরিত প্রশ্ন: কী কারণে ফ্রান্সে এলেন?

দুটো দাওয়াত পেয়েছিলাম; বার্লিনের কংগ্রেস ফর লিবার্টি অব কালচার আমাকে দাওয়াত করেছে, জার্মান সরকারের ডয়েটসে রেজিয়েরুমও দাওয়াত করেছে। পরে আমি যাই হল্যান্ডের আমস্টার্ডাম শহরে। এই শহরটা দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। এরপর আমার সচিব মারিয়া এস্তের বাস্কেস ও আমি গেলাম ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক আর এখন এই প্যারিসে। শনিবার মাদ্রিদে যাব; ওখানে সপ্তাখানেক থাকব। তারপর আমরা দেশে ফিরব। পুরো সফরটা দুই মাসের কিছু বেশি হবে।

শুনেছি সম্প্রতি বার্লিনে অনুষ্ঠিত জার্মান ও লাতিন আমেরিকান লেখকদের একটি সম্মেলনে আপনি যোগ দিয়েছিলেন। এই সম্মেলন সম্পর্কে আপনার অনুভুতি জানাবেন কি?

সম্মেলনটা এই অর্থে আনন্দের ছিল যে সহযাত্রী অনেকের সাথে কথা বলতে পেরেছি। তবে এসব সম্মেলনের ফলাফল মনে হয় পুরোপুরি নেতিবাচক। তাছাড়া আমাদের যুগ আমাদেরকে এগুলো করতে বাধ্য করে; বিষণ্নতার সাথেই আমি বিস্ময় প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিলাম এটা দেখে যে, লেখকদের একটা সম্মেলনে সাহিত্য নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে সামান্য আর রাজনীতি নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে প্রচুর। রাজনীতি বলা যায়, একঘেয়ে বিষয়। তবে তা সত্ত্বেও এই সম্মেলনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাহীন আমার মতো একজন মানুষকে অচেনা কিছু দেশ জানার সুযোগ করে দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের শহরগুলোর অবিস্মরণীয় বহু দৃশ্য আমার স্মৃতিতে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এই সম্মেলন। মনে হয় সাহিত্য সম্মেলনগুলোর জন্ম পর্যটনের একটা ধরন হয়ে ওঠার জন্যই, তাই না? শেষ পর্যন্ত এর সবটাই মন্দ নয়।

একটা বই যখন এক হাজার বা দুই হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায়, তখন সংখ্যাটা এতই বিমূর্ত হয়ে পড়ে যেন একটি কপিও বিক্রি না হওয়ার মতোই ব্যাপার

শেষ ক বছর, ফ্রান্সে আপনার কাজ লক্ষ করার মতো পাঠকগোষ্ঠী অর্জন করেছে। ইস্তোরিয়া উনিবের্সাল দে লা ইনফামিয়া, এবং ইস্তোরিয়া এতের্নিদাদ পকেট বুক হিসেবে বেরিয়েছে এবং কয়েক সপ্তার মধ্যেই হাজার হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লা হের্নে (“L’ Herne”) এবং আরও গোটা দুই সাহিত্যপত্রিকা আপনার কাজ সম্পর্কে বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। আর আপনি তো দেখেছেন, আপনার বক্তৃতা শোনার জন্য যারা ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায় নি তাদের জন্য লাতিন আমেরিকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত একেবারে রাস্তা অবধি সাউন্ডবক্স ঝুলাতে বাধ্য হয়েছিল। এসব আপনার মধ্যে কী অনুভূতি দিয়েছে?

বিস্ময়কর অনুভূতি, বিপুল বিস্ময়। চিন্তা করুন, ৬৫ বছরের এক লোক আমি, প্রচুর বই লিখেছি, কিন্তু এগুলো ছিল প্রধানত আমার নিজের জন্য লেখা এবং আমার অল্প কিছু বন্ধুদের জন্য লেখা। আমার সেই বিস্ময় আর আনন্দের কথা মনে পড়ছে যখন জানলাম, অনেক বছর আগের কথা, আমার ইস্তোরিয়া দে লা এতের্নিদাদ বইটির ৩৭ কপি বিক্রি হয়েছে এক বছরে। ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক ক্রেতার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানানো বা মাফ চাওয়া উচিত ছিল। এই ৩৭ জন ক্রেতা অনুমান করা সম্ভব, মানে এই ৩৭ ব্যক্তির ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, তাদের জীবনযাপন, ঠিকানা ইত্যাদি। অন্যদিকে, একটা বই যখন এক হাজার বা দুই হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায়, তখন সংখ্যাটা এতই বিমূর্ত হয়ে পড়ে যেন একটি কপিও বিক্রি না হওয়ার মতোই ব্যাপার। ঘটনা হলো ফ্রান্সে পাঠকরা অবিশ্বাস্য রকমের মহান, এতটাই মহান যে আমার প্রতি তা অবিচারের মতো। যেমন ‘লা হের্নে’ (“L’ Herne”)-এর বিশেষ সংখ্যা আমাকে কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ করে তুলেছে, আবার একই সাথে আমাকে খানিকটা অস্বস্তির মধ্যেও ফেলে দিয়েছে। এত বুদ্ধিদীপ্ত, এত সূক্ষ্ম, এত তীক্ষ্ণ মনোযোগের যোগ্য নিজেকে মনে হয় না। আবারও বলি নিজেকে আমার এতটা সহৃদয় মনোযোগের দাবিদার মনে হয় না। লক্ষ করেছি ফ্রান্সে প্রচুর লোক আছেন যারা আমার কাজকে (শব্দটা উদ্ধৃত কমায় রেখে বলছি) আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো করে চেনেন। মাঝেমধ্যে এই দিনগুলোয় অনেকে গল্পের কোনো চরিত্র সম্পর্কে নানান রকম প্রশ্ন করেছেন। যেমন জন ভিনসেন্ট মুন কেন উত্তর দেয়ার আগে দ্বিধাগ্রস্ত হলো। কিছুক্ষণ পরে নিজেকে ধাতস্থ করার পর লক্ষ করলাম জন ভিনসেন্ট মুন আমারই গল্পের একটা চরিত্র এবং গল্পটার কথা যে আমি পুরোপুরি ভুলে গেছি সেটা স্বীকার না করার জন্য কোনো একটা উত্তর আমাকে আবিষ্কার করতে হলো। গল্পের পরিস্থিতি বা এর কার্যকারণ আমার হুবহু জানা নেই। এসব কিছুই আমার জন্য আনন্দের এবং একই সাথে আমার মধ্যে তা হাল্কা ও আনন্দদায়ক বিপাকের জন্ম দেয়।

যদি একজন মাত্র লেখককে (যদিও একজন লেখককে নির্বাচন করে অন্যদেরকে বাদ দেওয়ার মোটেই কোনো কারণ নেই) বেছে নিতে হয় তাহলে সেই ফরাসি লেখকটি হবেন সবসময়ই ফ্লবেয়ার

আপনার গড়ে ওঠার পেছনে ফরাসি সংস্কৃতির কী ভূমিকা রয়েছে? ফরাসি কোনো লেখকের লক্ষণীয় প্রভাব কি আপনার মধ্যে কাজ করেছে?

অবশ্যই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমার সমস্ত কলেজ জীবন কেটেছে জেনেভায়। তার মানে হচ্ছে বহু বছর ধরে, ফরাসি ছিল—এই ভাষায় গুনাগুনতি বা স্বপ্ন দেখতাম—তা আমি বলব না, কারণ অত দূর জানা হয় নি। তবে হ্যাঁ, আমার জন্য এটা দৈনন্দিন ভাষাই ছিল। তখন থেকেই ফরাসি সংস্কৃতি আমার মধ্যে প্রবাহিত, যেমনটা দক্ষিণের সব আমেরিকাবাসীর সংস্কৃতিতে প্রবাহিত হয়ে আছে, হয়তো স্পেনের সংস্কৃতিতে যতটা তার চেয়েও বেশি। তবে বিশেষভাবে আমি কয়েকজন লেখকের কথা উল্লেখ করতে চাই, তারা হচ্ছেন মঁতেইগ, ফ্লবেয়ার—হয়তো অন্য যে কারোর চেয়ে ফ্লবেয়ারই বেশি—তারপর ধরা যাক, লেয়ন ব্লয়, কেউ হয়তো তার বইগুলো মূল্যায়ন করে ব্যক্তিগতভাবে লেখক বলতে পারেন। কিন্তু ঘটনা হলো তিনি আসলে অনাকর্ষণীয় হওয়ারই চেষ্টা করেছেন। লেয়ন ব্লয়ের ঐ আইডিয়াটা আমার ভালো লাগে যার কথা ইতিমধ্যে কাব্বালাপন্থি এবং সুইস মরমি লেখক সুইডেনবোর্গ বলেছিলেন, তবে সন্দেহ নেই যে তিনি তা নিজে নিজেই আবিষ্কার করেছেন, আইডিয়াটা হচ্ছে মহাবিশ্বকে লেখার নমুনা হিসেবে দেখা, এক দিব্য সংকেতলিপি হিশেবে দেখা। আর কবিতা পছন্দের ক্ষেত্রে, হয়তো আমাকে যথেষ্ট ‘Pompier’ (ফরাসি শব্দ; অর্থ সম্ভবত ‘দাম্ভিক’), যথেষ্ট ‘Vieux Jouer’ (ফরাসি শব্দ; অর্থ সম্ভবত ‘প্রাচীনপন্থি’), অনগ্রসর মনে হতে পারে, কারণ ফরাসি কবিতায় আমার পক্ষপাত রোলাঁগীতি (Chanson de Roland), হুগোর লেখা, ভের্লিনের লেখা, এবং অপেক্ষাকৃত স্বল্প পরিচিত কবিদের কাজ যেমন Contrerines-এর পল জাঁ তোলেৎ। তবে নিঃসন্দেহে আরও অনেক লেখক আছেন যাদের নাম বলছি না, কিন্তু তারাও আমার মধ্যে প্রবাহিত। এটা অসম্ভব নয় যে আমার কোনো কবিতায় অ্যাপোলনিয়ারের কোনো কোনো কবিতা, স্বরের প্রতিধ্বনি থাকতে পারে—এতে আমি বিস্মিত হব না। তবে যদি একজন মাত্র লেখককে (যদিও একজন লেখককে নির্বাচন করে অন্যদেরকে বাদ দেওয়ার মোটেই কোনো কারণ নেই) বেছে নিতে হয় তাহলে সেই ফরাসি লেখকটি হবেন সবসময়ই ফ্লবেয়ার।

দুই ফ্লবেয়ারকে দেখা যায় একজন মাদাম বোভারি ও এদুকাসিওন সোন্তিমেন্তাল-এর বাস্তববাদী আর অন্যজন সালাম্বোলা তেন্তাসিওন দে সান আন্তানিও-এর মতো ঐতিহাসিক মহৎ সৃষ্টির লেখক। এ দুজনের মধ্যে কাকে আপনার পছন্দ?

মনে হয় তৃতীয় আরেক ফ্লবেয়ারের উল্লেখ করা দরকার, যিনি আপনার কথিত দুইজনের কিছুটা মিশ্রণ; মনে হয় আমার বারবার পড়া বইগুলোর একটি হচ্ছে অসমাপ্ত বুভার ই পেকুশে। আমি খুবই গর্বিত এই কারণে যে আমার বুয়েনোস আইরেসের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে সালাম্বো এবং তেন্তাসিওন-এর প্রথম সংস্করণ আছে। বুয়েনোস আইরেসে আমি এগুলো জোগাড় করেছিলাম। শুনলাম এখানে নাকি তা দুষ্প্রাপ্য। বুয়েনোস আইরেসে, কী সৌভাগ্য, আমার হাতে এসে পড়েছে! আলোড়িত হই এই ভেবে যে ফ্লবেয়ার এক সময় যা দেখেছিলেন সেটাই আমি হুবহু দেখতে পাচ্ছি। এই প্রথম সংস্করণ একজন লেখককে কী যে আবেগাপ্লুত করে!

আপনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ লিখেছেন। এই শিল্প প্রকরণের কোনোটার প্রতি কি আপনার পক্ষপাত আছে?

সাহিত্যিক বৃত্তির শেষ পর্যায়ে এসে বলব, আমার অনুভূতি হচ্ছে আমি একটি মাত্র শিল্পপ্রকরণের চর্চা করেছি। আর সেটা হচ্ছে কবিতা। সৌভাগ্যক্রমে আমার কবিতা বহুবার অভিব্যক্ত হয়েছে গদ্যে, কবিতায় নয়। কিন্তু দশ বছর হলো আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি আর আমি যেহেতু লেখা হওয়ার পর সেগুলো ঘষামাজা ও সংশোধন করতে খুব পছন্দ করি, ফলে এখন আমি আবার কবিতার প্রচলিত কাঠামোয় ফিরে গেছি। যেমন, একটা সনেট রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে, ট্রামে যেতে যেতে বানিয়ে ফেলা যায়। জাতীয় গ্রন্থাগারের করিডোরে হাঁটতে হাঁটতে তৈরি করে ফেলা যায়। আপনি জানেন ছন্দের একটা স্মরণযোগ্য গুণ আছে। অর্থাৎ যে-কেউ এটা করতে পারে এবং মাথার মধ্যেই এটাকে ঘষামাজা করতে পারে। আর পরে সনেটটা যখন মোটামুটি একটা পরিপক্ক অবস্থায় চলে আসে তখন এটাকে বলে লিখিয়ে নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত না সনেটটা প্রকাশ করলে লেখকের জন্য বড় ধরনের কোনো অসম্মানের ব্যাপার হয়ে ওঠে।

আমার স্মৃতিভাণ্ডার কবিতা দ্বারা এতটাই সমৃদ্ধ যে, মনে হয় কবিতার বইয়ের আর দরকার পড়বে না

প্রচলিত একটা প্রশ্ন দিয়ে শেষ করতে চাই, যদি একটা নির্জন দ্বীপে পাঁচটি বই নিয়ে বাকি দিনগুলো কাটাতে হয় তাহলে কোন বইগুলো বেছে নিবেন?

এটা একটা কঠিন প্রশ্ন, কারণ পাঁচটি খুব অল্প কিংবা খুব বেশি। তাছাড়া, জানি না পাঁচটি বই নাকি পাঁচটি খণ্ডকে বুঝানো হচ্ছে।

ধরা যাক, পাঁচটা খণ্ড।

পাঁচটা খণ্ড? বেশ, মনে হয় গিবনের হিস্টরি অব ডিক্লাইন এন্ড ফল অব রোমান এম্পায়ার সঙ্গে নেব। মনে হয় না কোনো উপন্যাস নিয়ে যাব; বরং ইতিহাসের একটা বই নিয়ে যাব। ধরা যাক, এটা হবে দুই খণ্ডের একটা সংস্করণ। এরপর আমি নিতে চাই অন্য আরেকটা বই, যেটা আমি পুরোপুরি বুঝি নি, অতএব বারবার পড়ে বুঝার জন্য নিয়ে যাব রাসেলের এ্যান ইন্ট্রোডাকসন টু ম্যাথমেটিকাল ফিলসফি  বা আঁরি গোইঙ্কায়ের কোনো বই। এটাও আমার নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। তিন খণ্ড হলো। এরপর চোখ বুঝে এনসাইক্লোপোডিয়ার যে-কোনো একটা খণ্ড। ওর মধ্যে অনেক লেখা পাওয়া যাবে, তবে সত্যিকারের এনসাইক্লোপেডিয়া নয়। কারণ সত্যিকারের এনসাইক্লোপেডিয়াগুলো পরামর্শমূলক বই (Libro de Consulta), আমি বরং ১৯১০ বা ১৯১১ সালের দিকে প্রকাশিত এনসাইক্লোপেডিয়া চাই, ব্রোখাস মেয়ার-এর কোনো খণ্ড বা এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার কোনো খণ্ড, অর্থাৎ এনসাইক্লোপিডিয়াগুলো তখনও পর্যন্ত ছিল পাঠ করার মতো বই। তো চারটা বই পেলাম। এরপর শেষটার ক্ষেত্রে একটা চাতুরি করা যাক, এমন একটা বই নিয়ে যাবো যেটা নিজেই একটা গ্রন্থাগার, অর্থাৎ আমি বাইবেল নিয়ে যাব। এবার কবিতা প্রসঙ্গ, যেহেতু এই তালিকার মধ্যে এটা অনুপস্থিত, অতএব এর দায়িত্ব আমি নিজের উপর চাপিয়ে দেব। সুতরাং কবিতা পড়ার দরকার হবে না। তাছাড়া আমার স্মৃতিভাণ্ডার কবিতা দ্বারা এতটাই সমৃদ্ধ যে, মনে হয় কবিতার বইয়ের আর দরকার পড়বে না। আমি নিজে নানান ধরনের সাহিত্যের একটা সংকলনের মতো। যে-আমি নিজের জীবনের ঘটনাবলি স্মরণ করার ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য নই, সে-আমি অসংখ্য কবিতা একঘেয়েভাবে বলতে পারব লাতিন, স্পানঞল, ইংরেজি, প্রাচীন ইংরেজি, ফরাসি, ইতালীয়, পর্তুগিজ ভাষায়। জানি না আপনার প্রশ্নের সঠিক জবাব আমি দিতে পেরেছি কিনা।

হ্যাঁ, ঠিকই আছে হোর্হে লুইস বোর্হেস। অসংখ্য ধন্যবাদ।

রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন

জন্ম ১৯৬৫, শরিয়তপুরে। লেখাপড়া এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরেই। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। ভিন্ন পেশার সূত্রে মাঝখানে বছর দশেক কাটিয়েছেন প্রবাসে। এখন আবার ঢাকায়। ইংরেজি এবং স্পানঞল ভাষা থেকে অনুবাদের পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি সাহিত্য নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বিশ।

প্রকাশিত বই :
অনূদিত কাব্যগ্রন্থ—
গেয়র্গ ট্রাকলের কবিতা (মঙ্গলসন্ধ্যা প্রকাশনী, ১৯৯২)
সি পি কাভাফির কবিতা (শিল্পতরু প্রকাশনী, ১৯৯৪)
টেড হিউজের নির্বাচিত কবিতা (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৪)
আকাশের ওপারে আকাশ (দেশ প্রকাশন, ১৯৯৯)

অনূদিত সাক্ষাৎকার গ্রন্থ—
সাক্ষাৎকার (দিব্যপ্রকাশ, ১৯৯৭)
কথোপকথন (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৭)
অনূদিত কথাসমগ্র ( কথাপ্রকাশ)

সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ—
মেহিকান মনীষা: মেহিকানো লেখকদের প্রবন্ধের সংকলন (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ১৯৯৭)
খ্যাতিমানদের মজার কাণ্ড (মাওলা ব্রাদার্স, ১৯৯৭)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত কবিতা (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত সাক্ষাতকার (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত প্রবন্ধ ও অভিভাষন (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
প্রসঙ্গ বোর্হেস: বিদেশি লেখকদের নির্বাচিত প্রবন্ধ (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
রবীন্দ্রনাথ: অন্য ভাষায় অন্য আলোয় (সংহতি প্রকাশনী, ২০১৪)
মারিও বার্গাস যোসার জীবন ও মিথ্যার সত্য (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ২০১৫)

গৃহীত সাক্ষাৎকার—
আলাপচারিতা ( পাঠক সমাবেশ, ২০১২)

কবিতা—
আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি (শ্রাবণ প্রকাশনী, ২০১৪)

জীবনী—
হোর্হে লুইস বোর্হেসের আত্মজীবনী (সহ-অনুবাদক, সংহতি প্রকাশনী, ২০১১)

প্রবন্ধ—
দক্ষিণে সূর্যোদয়: ইস্পানো-আমেরিকায় রবীন্দ্র-চর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস( অবসর প্রকাশনী, ২০১৫)

ই-মেইল : razualauddin@gmail.com
রাজু আলাউদ্দিন