হোম সাক্ষাৎকার হার্ড কপি যে ব্যাপার তা চিরকালই থেকে যাবে

হার্ড কপি যে ব্যাপার তা চিরকালই থেকে যাবে

হার্ড কপি যে ব্যাপার তা চিরকালই থেকে যাবে
521
0

সজল সমুদ্র : লিটল ম্যাগাজিনআন্দোলন‘—এই আন্তর্জালিক যুগের বাস্তবতায় ব্যাপারটা আপনি কিভাবে দেখেন?

আলী প্রয়াস : লিটল ম্যাগাজিন অবশ্যই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সেটা চোখে দেখার বিষয় নয়। বাস্তবিক আন্দোলনের মতো নয় এই আন্দোলন। কিন্তু বাস্তব আন্দোলনের অন্তর্গত দিকে কাজ করে এটি। এই আন্তর্জালিক যুগের বাস্তবতায় অনেকেই ভেবেছিলেন লিটলম্যাগ বুঝি উঠে যাবে। কিন্তু হার্ড কপি যে ব্যাপার তা চিরকালই থেকে যাবে। যেরকম যতই ক্রেডিট কার্ড হোক না কেন, ওই টাকা থেকেই যাবে। তাই আন্তর্জালিক যুগের শুরুতে লিটলম্যাগে কিছুটা ভাটা পড়লে আবার এটি স্বরূপেই ফিরবে। এবং যেটুকু টিকে থাকবে সেটুকুই আসল। আগেই বলেছি লিটলম্যাগের বিপ্লবটা ভাবনা ও সমাজের অন্তর্গত দিক দিয়ে কাজ করে, এটা হুট করে কিছু একটা হয়ে যাবার মতো নয়।

সজল সমুদ্র : আমরা জানি, আপনার সম্পাদিত তৃতীয় চোখ‘-এর এবার দেড় দশক পূর্তি হলো। বলা হয়ে থাকে দীর্ঘায়ু হওয়া লিটল ম্যাগাজিনের ধর্ম নয়। কবিতাপত্রিকার ২০ বছর পূর্তিতে এর সম্পাদক কবি বুদ্ধদেব বসু মন্তব্য করেছিলেন—কোনো কবিতা পত্রিকার পক্ষে আমরা বড় দীর্ঘকাল টিকে আছি…হয়তো অসংগত রকম দীর্ঘকাল।এক্ষেত্রে আপনার পর্যবেক্ষণ কেমন?

আলী প্রয়াস : দীর্ঘায়ু হওয়া লিটল ম্যাগের ধর্ম নয়। এই কথাটা মানতে পারা যায় না। ভালো সব সময় হতে পারে, আবার কম সময়ও হতে পারে। স্থান-কাল-পাত্র ধরে এটা হবে না। বুদ্ধদেব বসু যা-ই বলে থাকুন, আমি এটার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। তবে যেটা কথা, আপনি যা করতে চান, তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে এবং লক্ষ ঠিক রেখে কাজ করলে অবশ্যই স্থান-কাল-পাত্রের বিষয়টা থাকবে না। এখানে একটা আত্মপক্ষ সমর্থনের মতো কাজ করে নিই। তা হলো, কী করতে পেরেছি জানি না, কী করতে পারব জানি না। কাজ করতে চাই।

jkkj
তৃতীয় চোখের শেষ দুটি সংখ্যা

সজল সমুদ্র : এই পনের বছরে তৃতীয় চোখ‘-এর অর্জনগুলো যদি খুব সংক্ষেপে আমাদের বলেন…

আলী প্রয়াস : শুরুটা ২০০১। সে সময় তুমুল কবিতাচর্চার পাশাপাশি ছোটকাগজ বের করার উদ্দীপ্ত স্বপ্নে বিভোর ছিলাম। যেহেতু সময় এবং শিল্প বরাবরই এক উৎসে এক বিন্দুতে লীন। সেহেতু কিছু স্বপ্ন, কিছু উত্তেজনা, আবেগ ও মানবিক দায়বোধ যুক্ত হয়ে জন্ম নিয়েছিল ‘তৃতীয় চোখ’। অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে সাধারণে যা দেখেন না, কবি তা দেখেন বলেই কবির কবিতাকে পৃথিবীর তৃতীয় চোখ বলা হয়। সাহিত্যের শব্দগৌরবীয় নান্দনিক শাখার এই পথে ‘তৃতীয় চোখ’ প্রথমদিকে কেবলই ছিল সমুদ্র-প্রতিবেশী কবিতার খাতা। প্রান্তিক জনপদে সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও সময়ের প্রবাহে চিন্তার লালন ও মননচর্চার শৈল্পিক প্রয়াসে তা আজ সত্যাশ্রিত উচ্চারণ ও সুন্দর কথামালার এক স্বকীয় ছোটকাগজ। ‘তৃতীয় চোখ’ বের হয় সেই দক্ষিণবাংলা টেকনাফ থেকে, যেখানে বাতাসে সমুদ্র-লবণের ঘ্রাণ; যেখানে পাহাড়, মাটি, জল, জোনাকি একসঙ্গে কথা কয়। সেই শিল্পের ইতিহাস বিভিন্নভাবে বহন করেছে পত্রিকাটি। বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তুলে ধরতে চেয়েছে সমুদ্রতীরবর্তী মানুষদের কথা। ফলে উঠে এসেছে তাদের জীবন ও দর্শন। স্থান পেয়েছে তাদের ভাবনা এগিয়ে যাওয়ার দিকটিও। ‘তৃতীয় চোখ’-এর ১৫ বছরে অনেক কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। যাদের অনেক লেখাই পত্রিকাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। কখনো বিশেষ আয়োজন করেছি। উল্লেখযোগ্য হলো— দাঁড়, পাল ও জলের কণ্ঠস্বর; কক্সবাজারের কবি ও কবিতা—নব্বই দশক; গল্পকার খোকন কায়সারকে নিয়ে ছোট্ট আয়োজন; অদ্বৈত মল্লবর্মণ ও কমলকুমার জন্মশতবার্ষিকী স্মরণ; কবি চন্দন চৌধুরীর পাণ্ডুলিপি, অকালপ্রয়াত কবি মাসুদ শাফির জন্য ক্রোড়পত্র; গণজাগরণ সংখ্যা ও কথাসাহিত্যিক শেখ মোরশেদ আহমেদ বিশেষ সংখ্যা  ও বিশেষ বিশেষ কবি-সাহিত্যিদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চেতনার উপলব্ধিজাত যাত্রার বাঁকে বাঁকে ‘তৃতীয় চোখ’ নির্মাণ করে যাচ্ছে কালের প্রত্নস্মারক। এবারে ‘তৃতীয় চোখ’-এর পঞ্চদশবর্ষপূর্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সময়, যোগাযোগ ও লেখা পাওয়ার বিড়ম্বনার কারণে আশানুরূপ কাজ করতে পারি নি। ফলে এবারে বিশেষ কোনো আয়োজন না থাকলেও বর্তমান সময়ের সক্রিয় সকল দশকের উল্লেখযোগ্য কবির লেখা সংখ্যাভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি প্রবন্ধ, গল্প, নাটক অনুবাদ, সাক্ষাৎকারসহ অন্যান্য পর্বগুলো যথারীতি আছে।

পরস্পরকে ধন্যবাদ।

সজল সমুদ্র

সজল সমুদ্র

জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৮২, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা : শিক্ষকতা।

প্রকাশিত বই :
পত্রে রচিত ভোর [কবিতা, ২০০৫, চিহ্ন]
ডালিম যেভাবে ফোটে [কবিতা, ২০১৪, চিত্রকল্প]

ই-মেইল : sajalsomudro39@gmail.com
সজল সমুদ্র