হোম সাক্ষাৎকার শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠকি আলাপ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠকি আলাপ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠকি আলাপ
1.66K
0

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর বাংলাদেশে তার জন্ম। পিতা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। ছেলেবেলা কেটেছে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিভিন্ন অংশে। কলকাতার ভিক্টোরিয়া কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলায় মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু প্রথম চাকরি নেন স্কুল শিক্ষক হিশেবে। পরে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের যোধপুর পার্কে তার বাসায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠকি আলাপে কথা হয়েছে। কথা ছিল আমাদের আলাপ হবে আধ ঘণ্টা, সেটি গিয়ে ঠেকল এক ঘণ্টায়। এ আলাপে তার শৈশব, নকশাল আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ল্যাটিন আমেরিকার লেখা, হুমায়ূন আহমেদ, আধ্যাত্মিকতা, প্রেমসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা উঠে এসেছে।


সা ক্ষা ৎ কা র
❑❑


হাবীব ইমন

আপনার জন্ম তো বাংলাদেশে। বাংলাদেশের কোথায়?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ঢাকার বিক্রমপুরের বাইনখানা গ্রামে আমার বাড়ি। কিন্তু জন্ম ময়মনসিংহ শহরে। দাদুর বাড়িতে।

হাবীব ইমন

পশ্চিমবঙ্গে কবে আসলেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমরা পার্টিশনের পরে চলে আসি।

হাবীব ইমন

পার্টিশন বলতে ৪৭?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হ্যাঁ। পার্টিশন বলতে ১৯৪৭ সাল।

হাবীব ইমন

তখন আপনি কোন ক্লাসে পড়েন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সিক্স কি সেভেন-টেভেনে পড়ি হয়তো।


নকশাল আন্দোলন একটা ভুল আন্দোলন ছিল।


 হাবীব ইমন

আপনার শৈশবের কথা জানতে চাই।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তখন তো বাবার বদলি চাকরি। রেলওয়েতে চাকরি করতেন তো। কাজেই আমরা, ধরো, চার বছর বয়সে বাবার সঙ্গে চলে আসি ময়মনসিংহ শহর থেকে। তারপরে বাবা তো বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতেন। তবে মাঝে মাঝে ময়মনসিংহ শহরে যেতাম। ময়মনসিংহ আমার প্রিয় জায়গা। আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গাই ছিল ময়মনসিংহ। যেহেতু জন্মস্থান, সে তো একটা আকর্ষণ আছেই। সে আকর্ষণ এখনো বর্তমান। এখনো মনে হয় যদি ফিরে যেতে পারতাম। কী আনন্দ হতো! যাই হোক, অনেক আগেই ছেড়ে আসতে হয়েছে। তখন আমার বয়স খুব কম। তবে ৪৭-এর আগে এক বছর আমরা টানা ময়মনসিংহ শহরে ছিলাম। এক বছর-দেড় বছর প্রায়। বাবা তখন ময়মনসিংহে বদলি হয়েছেন। তো পার্টিশন হয়ে গেল, কাজেই বাবা অবসর নিয়ে চলে এল। সাথে আমরাও চলে এলাম। সেই ময়মনসিংহের সাথে সম্পর্ক চুকে গেল। ঘুচে গেল।

এ নিয়ে অজস্র লেখা আছে। দেখে নিতে পারবে। উজান উপন্যাসটাই তো ময়মনসিংহ নিয়ে লেখা। তাছাড়া আমার বিভিন্ন স্মৃতিচারণেও আছে। ময়মনসিংহের কথা অনেকবারই এসেছে। বিভিন্ন লেখায় এসেছে।

কলকাতায় এসেছি আমরা অনেক পরে। বিএ ক্লাস ভর্তি হয়েছি, তখন এসেছি। তার আগে উত্তরবঙ্গেই ছিলাম। ঘুরে ঘুরে। আমাদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা ছিল না তখন। স্থায়ী ঠিকানাটা হলো ধরো তোমার ৬৪ সাল নাগাদ। তখন আমাদের বাবা শিলিগুড়িতে একটা জমি কিনে বাড়ি করলেন। সেই বাড়িটাই আমাদের, মানে ভারতবর্ষে প্রথম আমাদের স্থায়ী ঠিকানা।

হাবীব ইমন

তখন তো নকশাল আন্দোলন ছিল।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

৬৪ সালে ঠিক না। একচুয়েলি নকশাল আন্দোলনটা শুরু ৬৬-৬৭ সালে, ওইরকম সময়ে শুরু হয়। তারপর নকশাল আন্দোলনটা চলে অনেকদিন। প্রায় ৭৪-৭৫ পর্যন্ত।

হাবীব ইমন

নকশাল আন্দোলন আপনার বেশ কিছু লেখায় কিভাবে প্রভাব রেখেছে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তখন আমাদের লেখায় আসত। আমরা নিজেরাই তখন ভিকটিমাইজড ছিলাম। আমি নিজে তখন স্কুলে মাস্টারি করতাম। আমাদের স্কুলটা নকশাল অধ্যুষিত ছিল। ফলে আমাকে যথেষ্টই একটা টেনশনের মধ্যে থাকতে হতো। বিপদের মধ্যে থাকতো হতো। তখন আবার ফতোয়া হয়েছিল স্কুল টিচারদের মারা হবে। এইরকম একটা কথা মাঝখানে শোনা গেল। তো সেইসব মাথায় নিয়ে আমাদেরকে কাজ-কর্ম করতে হয়েছে। আমরা নিরস্ত্র এবং আমাদের নিরাপত্তার অভাব। কে আমাদের বাঁচাবে, কাজেই অসহায় লাগত। তবে এই ছাত্র পড়াতাম তো, ছাত্ররা প্রত্যক্ষভাবে মাস্টার মশায়ের গায়ে হাত তুলবে, মারবে না, এইরকম একটা বিশ্বাস ছিল।

হাবীব ইমন

শ্যাওলা’য় নকশাল আন্দোলনের পটভূমি দেখেছি। দূরবীন-এ দেখেছি কৃষ্ণকান্তের রাজনীতি। লেখায় রাজনীতি কিভাবে আসে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমি রাজনীতির লোক নই। আমার রাজনৈতিক মতবাদ সচেতনভাবে লেখায় কোনো দিন আসে নি। অনেক সময় পটভূমি বোঝাতে গিয়েই রাজনীতির আঙিনায় যেতে হয়েছে।

হাবীব ইমন

বর্তমান সময়ের থেকে কিছুটা দূরত্বে এসে নকশাল আন্দোলন এখন কিভাবে দেখছেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

নকশাল আন্দোলনটা তো আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। নকশাল আন্দোলন একটা ভুল আন্দোলন ছিল। নকশাল আন্দোলন করে আমাদের দেশে এত মারকাট হলো, এত নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল এবং আন্দোলনটা একেবারেই নেতৃত্বহীন হয়ে গেল। নেতা নেই, যে যার খুশি মতো আন্দোলন করে গেল। নেতৃত্ব থাকলে যেরকম কন্ট্রোলিং নিয়ন্ত্রণ থাকে আন্দোলনের ওপর, সেইটা ছিল না। চারু মজুমদার ব্যাপারটা শুরু করলেন, তারপর ওদের হাতে আর লাগামটা ছিল না, রশিটা ছিল না। ফলে এইটা হয়ে গেল একটা ‘নো ম্যানস মুভমেন্ট’। ফলে যে যার খুশি করত। অকারণে পুরুষগুলোকে মারল, কতগুলো নিরীহ নেতাকে—হেমন্ত বোস টোস, নেপাল, এদেরকে মেরে দিল। অকারণ মারকাট শুরু হয়ে গেল। দুনিয়ার রাজনীতিতে এর কোনো দিশা ছিল না। কোনো লক্ষ্য ছিল না।

একচুয়েলি জোতদার-টোতদার মারার চেয়েও এরা ওই ভিকটিম করত, সফট টার্গেট ঠিক করে মারত। ফলে এমন একটা অবস্থা হলো আমরা বুঝতে পারলাম যে, এটা একটা দিশাহীন আন্দোলন, কোনো আন্দোলনে মাথামুণ্ডু ছিল না। তবে এটা ঠিক নকশাল আন্দোলনটা যারা করেছিল তারা খুব সাহসী ছিল। অসম্ভব কারিজিয়ার্স, তারা জান কবুল হয়ে এসব লড়াইটা করেছিল। হয়তো তখন ওদের একটা স্বপ্ন ছিল যে, দেশ মুক্ত হবে। সর্বসাধারণের, সর্বহারাদের প্রতিষ্ঠা হবে। তবে এ আন্দোলনের মূল যে ফিলোসফি সেটা তো এখন ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এখন জানা যাচ্ছে যে গোটা মার্কসিজমটাই পৃথিবীতে পরিত্যক্ত। এর মধ্যে অনেক গণ্ডগোল আছে। এই গণ্ডগোল ড্রিম হিশেবে খুব ভালো। কিন্তু এটা প্র্যাকটিক্যাল না। প্র্যাকটিক্যাল নয় বলে কমিউনিজমটা কোথাও সাকসেসফুল হলো না। ইটস এ ফেইলিউর। এই ফেইলিউরের জন্যই আমরা জানি যে নকশাল আন্দোলনও ফেইলিউর। এর একটাই কারণ খুন-খারাপিটা, যেহেতু ইলজিক্যাল খুন-খারাপি শুরু হয়ে গেল। যাকে হাতের কাছে পাচ্ছে তাকেই মারছে। স্কুলে ঢুকে একজন টিচারকে মেরে দিল। এটা কিসের প্রতিবাদ হলো। ট্রাফিক পুলিশকে মারল, কার প্রতিবাদ হলো। প্রচুর ছেলেকে মারল, পুলিশ মারল, একটা রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে গেল কয়েক বছর ধরে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের ইকোনমিকে, সামাজিক উন্নতিকে, রাষ্ট্রের উন্নতিকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে এ নকশাল আন্দোলন। নকশাল আন্দোলন না করে আজকে পশ্চিমবঙ্গ অনেক বেটার জায়গায় থাকত। তবে হ্যাঁ এ আন্দোলন থেকে আবার মাওবাদী আন্দোলন সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে গেল। ছোট্ট একটা আন্দোলন নকশাল বাড়ি থেকে শুরু হয়ে একটা বিশ্বখ্যাতি পেয়ে গেছিল। আন্দোলনটা হয়তো ভুল। মাওবাদী আন্দোলনটা যেটা হচ্ছে চারদিকে মাও সন্ত্রাস দেখা যাচ্ছে, এটাও ভুল। সম্পূর্ণ ভুল।

এই নকশাল বাড়ির আন্দোলন থেকেই কিন্তু গোটা ভারতবর্ষে মুভমেন্ট শুরু হয়েছিল। পিপলস মুভমেন্ট নামে একটা ফতোয়া দিয়ে, তকমা দিয়ে মাওবাদী আন্দোলন। এখন তো ওদের বহু ফ্র্যাকশন, এখন তো আর নকশাল আন্দোলন বলে কিছু নেই। এখন নকশাল আন্দোলন থেকে বহু রকমের, বোধহয় হাজার খানিক পার্টি আছে। কেউ কারোর সঙ্গে একমত নয়। প্রত্যেকে আলাদা, আলাদা। এখনও মাওবাদীরা যে খুনগুলো করছে, এ খুনগুলো সম্পূর্ণ ভুল। একবারেই যুক্তিহীন। খুন করে কোনো দিশা পাচ্ছে না। এখন তো দমননীতি নিচ্ছে সরকার। আমার লেখা মধ্যে এর কিছুটা প্রভাব এসেছে।


নিজের লেখার খুব সমঝদার নই আমি।


 হাবীব ইমন

হাফ শার্ট আর লুঙ্গি পরে রোজ বাজার যান, আবার সাহিত্যের নিমন্ত্রণে যান আমেরিকা, বাংলাদেশে। এই দুই-ধারাকে মেলান কেমন করে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মেলানোর দরকার পড়ে নি কখনও। ছেলেবেলা থেকেই নিজের অস্তিত্বকে ঘিরে একটা অদ্ভুত বিষণ্নতা আমায় তাড়া করে বেড়ায়। সেই আবেশঘন বিষাদ আমার ওপর এমনই ভর করে আছে যে, আমি লিখি বা আমি বিখ্যাত লেখক এ সব মাথায় কখনওই আসে না।

 হাবীব ইমন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যুবক শীর্ষেন্দুর চোখে কিভাবে ধরা দিয়েছিল?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

যুবকই বলতে পারো। একটু বয়স্ক যুবক, আর কী! যাই হোক, তিরিশের উপর বয়স তখন আমার। তখন আমাদের তো ভয়ঙ্কর একটা রাগ ছিল। খানসেনাদের উপর। যেভাবে তারা বাংলা ভাষার উপর, বিশেষ করে জিন্নাহ এসে যে ডিক্লারেশনটা দিয়েছিলেন, তারা পুরো পাকিস্তানে, উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা, বাংলা নয়। তিনি বাংলাকে কোনো রকম পাত্তাই দিলেন না। এটা জিন্নাহর ভুল। এই ভুলটা ভবিষ্যতে তাকে তারই মারণাস্ত্র হিশেবে উপ্ত করে গেলেন। একটা জাতির ভাষাকে অমর্যাদা করা হলো। ভাষা বিরাট একটা সেন্টিমেন্টাল জিনিস, ভালোবাসার জিনিস। এই ভাষাকে উপেক্ষা করা মানে একটা গোটা দেশের এতগুলো মানুষকে, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে তাদের উপেক্ষা করা। সে ভাষাকে রিকোগনাইজ করল না, উপেক্ষা করল, এটা একটা অত্যন্ত যুক্তিহীন ব্যাপার। সবাইকে উর্দুতে বলতে হবে, উর্দুতে লিখতে হবে, অত্যন্ত যুক্তিহীন আবদার এবং যুক্তিহীন দাবি, যা চাপানো হয়েছিল। ফলে বাঙালিরা প্রতিবাদ করতে শুরু করল।

এদিকে পাঞ্জাবিরা, সিন্ধিরা আছে, আর ওদিকে বাঙালিরা আছে। বাঙালিদের সংখ্যা অনেক। ওদেরকে উপেক্ষা তো করলই তারপর খানসেনারা অত্যাচার শুরু করল। বাংলাদেশে প্রচুর অবাঙালি ঢুকে গেছে। বিহার থেকে গেছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে গেছে। তারাই ডোমিনেট করত আমি শুনেছি। গায়ের জোর, প্রতাপ বা টাকা-পয়সার জোর, প্রতিষ্ঠার জোরে ডোমিনেট করত। বাঙালি এটা কতদিন সহ্য করবে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি বাংলাদেশিদের পক্ষেই ছিলাম।

হাবীব ইমন

আপনার উপন্যাসগুলোর মধ্যে নিজের প্রিয় কোনটি?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ওরকম ভাবে আমি বলতে পারি না। কারণ যখন আমি লিখি তখন অনেক সংশয়ে থাকি, ভয়ে থাকি। উপন্যাসটা কেমন হচ্ছে, না হচ্ছে বুঝতে পারি না। নিজের লেখার খুব সমঝদার নই আমি। লেখা কেমন হচ্ছে, না হচ্ছে বুঝতে পারি না। নিজের লেখা ভালো না মন্দ কিছুই জানি না। লিখি, লিখার পর আমি অপেক্ষা করি, পাঠক যদি পড়ে, তার কেমন লাগবে, রিঅ্যাকশন কেমন হবে, তার উপর হয়তো আমি খানিকটা অ্যাসেসমেন্ট করতে পারি, কিন্তু আমি নিজে বুঝতে পারি না।

তবে এটা ঠিক আমি যখন লিখি, তখন খুব একটা কনশাস অবস্থায় লিখি না। একটা মজ্জমান অবস্থায় লিখি, ডুবে যাই কিছু একটার মধ্যে। এটা একটা ঘটনা, আমার ঘটনাগুলো চোখের সামনে দেখতে পাই, সেভাবে লিখি। যেন কিছু লোক কী করছে, না করছে তা দেখে আমি নোট নিচ্ছি। ফলে আমার লেখার বিচার আমি করতে পারি না। কোনটা শ্রেষ্ঠ, কোনটা অশ্রেষ্ঠ। কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, এসব আমার সাধ্যই নেই বলার।

হাবীব ইমন

দিন যায় একটি তুলনামূলক অজনপ্রিয় উপন্যাস। এই উপন্যাস সম্পর্কে কিছু বলুন।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

এটা এতদিন আগের লেখা, আমি তো ভুলেই গেছি। এখন আর মনে নেই অনেক কিছু। তবে নায়কের নাম মনোরম মনে আছে। নায়িকার নাম সীতা—এ টুকু মনে আছে। এই চরিত্রগুলো আমার আবছা মনে আছে। যা লিখেছি, লিখেছি—এখনকার পাঠক পড়ে কী বলে সেটা আসল কথা। (মৃদু হেসে)

হাবীব ইমন

দূরবীন-এর ধ্রুব’র চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাই।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

(হা, হা, হা) ধ্রুব’র চরিত্র সম্বন্ধে কী আর বলব। যখন লিখেছিলাম, তখন তো ধ্রুবকে খলনায়ক করে লিখেছিলাম। পরে দেখি, ধ্রুব মেয়েদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিল। একটা বিরক্ত, রাগী, স্বেচ্ছাচারি, অত্যাচারী একটা ছেলে। সে তার স্ত্রী রিমিকে যেভাবে ওঠবস করিয়েছে, রিমির প্রতি কেমন নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে। নিজেকে বিপন্ন করে, বাবাকে এবং পরিবারকে এত বিপন্ন করেছে। সে চরিত্র মেয়েদের কাছে কেন এত জনপ্রিয় হলো, তা বুঝতে পারি নি। শুধু এই দেশে নয়, বাংলাদেশেও বইটি অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। প্রচুর মানুষ পড়েছে। একজন আমাকে বলেছে, ‘বইটি আমি একশ বারের বেশি পড়েছি।’ তিনি একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। দেখা হলে বলেছিলেন, ‘দাদা, আমি একশবারের বেশি পড়েছি দূরবীন।’ আমি হেসে বলেছিলাম, কী আছে এতে, আমি তো একবারও পড়ি নি আর। এটা এখনো রহস্য আমার কাছে। ধ্রুব চরিত্রটি মেয়েটির কাছে কেন এত জনপ্রিয়। আমাকে আবার বইটি পড়ে দেখতে হবে এটা বোঝার জন্য যে এর মধ্যে কী আছে, যা মেয়েদের অ্যাট্রাক্ট করে।

আমি তো মোটামুটি এমন চরিত্র করার চেষ্টা করেছি যার প্রতি মানুষ বিরক্ত হবে। এরকম পাজি ছেলেটা, এরকম ঝামেলা করে, বিশেষ করে রিমিকে সে খুব অত্যাচার করেছে। তবু মানুষের কাছে সে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটা আমার কাছে খুব বিস্ময়কর।


নোবেল প্রাইজ যারা পাচ্ছে, তারা অধিকাংশই মিডিওকার লেখক।


হাবীব ইমন

ল্যাটিন আমেরিকার সাহিত্য কি আপনাকে কখনো প্রভাবিত করছে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কেন প্রভাবিত করবে। ল্যাটিন লেখা আমরা যেটুকু পেয়েছি, মার্কেজ বা অন্যদের লেখায়, যে ম্যাজিক রিয়েলিজম, এসব তো বাংলা সাহিত্যে অনেক আগে হয়ে গেছে। আমরা যখন জুনিয়র সাহিত্যিক ছিলাম, তখন এসব নিয়ে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছি। আমি যখন মার্কেজের হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড পড়েছি। তখন আমার কাছে মনে হয়েছে, এ ধরনের এক্সপেরিমেন্ট তো আমরা অনেক আগে করেছি। সেখানে তেমন কিছু নেই, যা আমাদের প্রভাবিত করবে। মার্কেজ ভালো লিখে, মজা আছে, ‘ম্যাজিক রিয়েলিজম’ আছে। কিন্তু পঞ্চাশ দশকের লেখকরা অনেকেই আছে এমন করেছেন, বিশেষ করে আমি তো করেইছি। ভালো-মন্দ জানি না। এক্সপেরিমেন্ট করেছি। তবে ম্যাজিক রিয়েলিজম’ নামটি জানতাম না। আমরা গল্পগুলোকে ফ্যান্টাসিতে নিয়ে যেতাম।

আমার কাছে মনে হয়, বিশ্বে এখন যা কিছু লেখা হচ্ছে, সেটা খুব উঁচুদরের কিছু বলা যাবে না। শেষ ভালো লেখা আমরা কামু’র পেয়েছি। কাফকা তো ছিলেনই। আমেরিকা স্পেনের, পর্তুগিজের দু-চারজন ছিলেন, যারা মোটামুটি ভালো লিখতেন। কিন্তু মনের ভেতর আলোড়ন তোলার মতো লেখক বিশ্ব খুব একটা নেই। এখন এলেবেলে লোকজন নোবেল প্রাইজ নিচ্ছে। নোবেল প্রাইজ যারা পাচ্ছে, তারা অধিকাংশই মিডিওকার লেখক।

হাবীব ইমন

বলতে চাইছেন এখন যারা নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন, এরা উঁচুমানের লেখক না?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

উঁচুদরের নয়। একেবারেই মিডিওকার লেখক।

হাবীব ইমন

আপনার গল্প বা উপন্যাস আদৌ কি চলচ্চিত্রের উপযোগী? আপনার লেখায় যে ম্যাজিক রিয়্যালিজমের কথা বলছেন সেটা দেখাতে গেলে তো হলিউডের বাজেট লাগবে।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমার লেখা নিয়ে যা ছবি হয়েছে সেগুলো কোনোটাই ভালো হয় নি।

হাবীব ইমন

তা হলে ছবি করতে দেন কেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আরে পয়সার জন্য দিই। তবে ছবির ভালো-মন্দের ওপর কিন্তু আমার লেখার মান ওঠানামা করে না।

হাবীব ইমন

উপন্যাস, হাসির গল্প, ছোটদের লেখা, খেলা নিয়ে লেখা, এত বিষয় নিয়ে অনায়াসে লেখা সম্ভব হয় কেমন করে? প্রতিদিন কি লেখেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

রোজের লেখা বলে কিছু নেই আমার। লেখার প্রয়োজনে লিখি। আমি যখন কিছু লিখি, তখন কিছু ক্রিয়েট করি না। বড় উপন্যাস থেকে ছোট গল্প কখনোই কিছু প্লান করে প্লট ভেবে লিখি নি। হঠাৎ একটা লাইন এসে যায়। ওই যেমন তুলোর থেকে একটা একটা করে সুতো বেরিয়ে আসে, তেমনি ওই লাইন থেকে শব্দেরা ভিড় জমায়। ভাবনা শুরু হয়। চরিত্র আসে, ঘটনা আসে। আমি শব্দ দিয়ে ছবি দেখতে আরম্ভ করি। সেগুলোকে অনুসরণ করতে করতেই লেখা হয়ে যায়।

হাবীব ইমন

এই তৈরি হয়ে যাওয়া লেখায় জীবনরহস্য উন্মোচিত হয়?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

জীবনকে আঁতিপাঁতি করে খুঁজতে গিয়েই লিখে চলেছি আজও। হয়তো সমাধান দিতে পারি না, কিন্তু প্রশ্ন থাকেই। এই প্রশ্ন, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তাই মনুষ্যত্বের খানিকটা ভাগিদার করে রেখেছে আমায়।

হাবীব ইমন

লেখক হিশেবে স্বীকৃতি, সম্মান, গোছানো সংসার এত কিছু পেয়েও এত বিষাদের মেঘ কেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

দু’কোটি টাকা জমল না এমন জাগতিক বিষাদ নেই আমার। কিন্তু আমি কোথা থেকে এলাম? কোথায় যাব? মহাবিশ্বের সঙ্গে আমার যোগটাই বা কী? এই প্রশ্ন তাড়া করে আমায়। দর্শনের কাছে গেলে দর্শন আরও গুলিয়ে দেয়। বিজ্ঞান তো গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছে, তার কাছেও আমার অস্তিত্বের খবর নেই।

হাবীব ইমন

সেই খবর জানতেই কি আধ্যাত্মবাদের রাস্তা নিয়েছিলেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ঠাকুরই আমার মেলাঙ্কলি দূর করেছিলেন। তার কাছে গিয়েই আমার জীবনের যে পরিণতি, আমার জন্য অপেক্ষা করেছিল তা সম্পূর্ণ বদলে যায়। ওর পজেটিভ ফোর্সই আমার জীবনের সমস্ত পাওয়াকে আমার সামনে এনে দিয়েছে।

হাবীব ইমন

চলতি পথের সঙ্গে আধ্যাত্মবাদ কেমন করে মেলে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আত্মাকে অধিকার করে যা কিছু আছে সেটাই তো আধ্যাত্মিকতা। নিজেকে জানাটাই আধ্যাত্মিকতা। লোকে এটা বুঝতে পারে না। ঠাকুর বলছেন সংসারে সন্ন্যাসী চাই।


শেষ পর্যন্ত সিরিয়াস লেখাগুলোই টিকে যায়। তারা জয়ী হয়।


হাবীব ইমন

আত্মজীবনীমূলক কিছু লেখার ইচ্ছা কি আছে আপনার?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনীমূলক লেখা নেই। তবে উজান-এর মধ্যে আমার দাদুর কথা, ময়মনসিংহের কথা অনেকটাই আছে। আমার ছেলেবেলার কথা আছে যেটিতে। আমার বিভিন্ন উপন্যাসে জীবনের কিছু কিছু অংশ আছে। যেমন ধরো আশ্চর্য ভ্রমণ উপন্যাসের মধ্যে আমার স্কুল লাইফের কিছু কথা আছে। তারপর ধরো আমার অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে বা গল্পের মধ্যে ছেলেবেলার নানান রকম স্মৃতি ঢুকে গেছে। আমার মা, আমার অনেক লেখার ঢুকে গেছে। মা-র সাথে আমার সম্পর্ক অসম্ভব, আমি অসম্ভব মাতৃভক্ত ছেলে ছিলাম। খুব ভালোবাসতাম। ভালোবাসতাম বলতে এখনও ভালোবাসি মাকে। মা নেই আজকে, মাকে নিয়ে আমার অনেক লেখা আছে। বাবাকে নিয়েও আছে। মায়ের সাথে সম্পর্ক ছিল এরকম মাকে ছাড়া থাকতে পারব না ব্যাপার ছিল। মাকে ছাড়া কিভাবে থাকব। সেই মাকে ছেড়ে আমাকে থাকতে হয়েছে। কেননা পার্টিশন হয়ে গেল, বিভিন্ন জায়গায় চলে গেলাম আমরা। আজ এখানে আছি, কাল সেখানে। এই করে করে হোস্টেল লাইফে চলে এলাম। তখন তো মায়ের সাথে একটা দূরত্ব রচিত হলো। মাঝে মাঝে ছুটি-ছাটায় মায়ের কাছে যেতাম। যে ক’টা দিন থাকা যায়।

হাবীব ইমন

ভবিষ্যতে লেখার পরিকল্পনা আছে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভবিষ্যতে লেখার সময় পেলে করব। আমি তো গল্প, উপন্যাস লিখে ইদানীংকালে আর সময় পাই না। আলাদাভাবে আত্মজীবনী লেখার তাগাদা আছে। আমার ছেলে, বউমা আমাকে খুব প্রভাবিত করে। তারা বার বার বলছে তুমি আত্মজীবনী লেখ। কারণ আমার জীবনের কথাগুলো তাদের কাছে বলি, সেটা ওরা খুব মন দিয়ে শোনে। ওরা খুব ঈর্ষণীয় ইমোশনাল হয়ে যায়। জিগ্যেস করে, এসব কথা তুমি কেন লিখছ না? আমি সময় করতে পারি না। আমার বউমা বলছে, তুমি যেভাবে বলো আমি সেভাবে লিখে নিয়ে নিব। যদি সময় করতে পারি এসব ছোট-খাট, আমার অনেক স্মৃতি লিখতে চেষ্টা করব।

হাবীব ইমন

এ-সময়ের উপন্যাস, বাংলা সাহিত্য নিয়ে কিছু বলুন।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। পড়ার সময় আমার খুব কম, আমি পড়তে পারি না। এখনকার যেসব উপন্যাস লেখা হচ্ছে, এ দেশেই হোক, ও দেশেই হোক, বাংলাদেশের বাইরে পশ্চিমবঙ্গে আমার পড়ার কোনো সময় নেই। এ কারণে আমার অনেক ভালো বিদেশি সাহিত্য কেনা আছে, সংগ্রহে আছে। ছেলেও বই কেনে, আমি এখন এতটা বই কিনি না, খুব কম, আগে তো খুব কিনতাম, এখনও যে এক গাদা বই জমে আছে বাড়িতে। আগে রাত জেগে পড়তাম, দেড়টা-দুটো পর্যন্ত গল্পের বই পড়েছি। সময় এখন আর পাই না। সেই সময়টা না পাওয়ার ফলে এখন আর বইপত্র উল্টে দেখা হয় না। কনটেম্পায়ারি বা আমার জুনিয়র যারা লিখছে, তাদের লেখার সম্পর্কে ভালো আইডিয়া করতে পারি নি। দু-চারটা আমি পড়েছি।

হাবীব ইমন

এ সময়ের উপন্যাস ক্রেতার মুখাপেক্ষী। অনেক লেখক বিষয়টি ভেবে চেষ্টা করেন পাঠক মনোরঞ্জনের। আপনি কখনও এমন ভেবেছেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমি এমন কখনও ভাবি নি। কারণ আমি তা নই। লেখাটা আমার মিশনারি ওয়ার্ক। লেখার ভেতর দিয়ে আমি কিছু বলতে চাই। দয়া করে আমার লেখা যারা পড়েন তারা জানেন, আমি প্রথমত পাঠক যা চান অর্থাৎ যেভাবে লিখলে বই বিক্রি হয়, সে রকম কোনো লেখা লিখতে পারি নি। এ কারণে দীর্ঘকাল আমার বইয়ের কাটতি ছিল না। আমার পাঠকের সংখ্যা ছিল খুব কম; মুষ্টিমেয় কয়েকজন। ইদানীং দেখছি আমার লেখা একটু বেশি সংখ্যক পাঠক পড়ছেন। তাদের কথা কখনও মনে রাখি না। আমি কিছু বলতে চাই। সে কথা পাঠকের ভালো লাগতে পারে, নাও লাগতে পারে। আদর, মনোরঞ্জন করে কিছু রোজগার করব এমন মন আমার ছিল না, এখনও নেই। এটা ঠিক যে, প্রতি দেশে, কালে, পাঠক মনোরঞ্জনের জন্য সব সময়ই কিছু লেখা হয়ে থাকে। তা বন্ধ করা যাবে না। পাশাপাশি সিরিয়াস সাহিত্যও তো লেখা হচ্ছে। সেগুলোর পাঠক কম হলেও দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত সিরিয়াস লেখাগুলোই টিকে যায়। তারা জয়ী হয়।

হাবীব ইমন

গল্প, উপন্যাসে অনেক সময় অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠে। আপনি আধ্যাত্মবাদ চর্চা করেন। কিন্তু এই উপলব্ধি উপন্যাসের জন্য নীরস বলে মনে হয় না?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

এ-বাংলা, ও-বাংলা দুই বাংলার পাঠকের মধ্যে যদি জরিপ চালানো হয়, তাহলে দেখা যাবে সিংহভাগ পাঠক সেক্সপ্রধান লেখা পছন্দ করবে না। বেশির ভাগ মেয়েই এ সব লেখা পছন্দ করে না। তারা বরং রোমান্টিক লেখা পছন্দ করে। বাংলা ভাষায় এমন যারা লিখেছেন তাদের সে লেখা খুব জনপ্রিয় হয় নি। অনেক পাঠিকার সাথে দেখা হয়, কথা হয়। তাদের কাছ থেকে জেনেছি, তারা ওই ধরনের লেখা পছন্দ করে না। তবে কেউ কেউ ঈর্ষা করে।

হাবীব ইমন

আপনার হৃদয় বৃত্তান্ত উপন্যাসে আমেরিকা প্রবাসী পরাগ ও শর্মিষ্ঠা এবং ভারতে বসবাসরত তোতন আর যশোধরাকে নিয়ে যে কাহিনি সেখানেও কিন্তু গোপন প্রণয় বা নষ্টামি আছে।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সম্পর্কের জটিলতা আর নষ্টামি এক নয়। জটিলতা ছাড়া তো জীবন হয় না। ঘটনা স্বল্প পরিসরে আনা হয়েছে। কাহিনিতেও নানা রকম মোড় আছে। তবে এটা বুঝতে না পারার মতো খুব জটিল নয়। ব্যবসায় বিশেষ করে নর-নারী সম্পদ। সে জন্যে ওটার নাম হৃদয় বৃত্তান্ত। আমার মনে হয়, একটু সময় নিয়ে পড়লে পরিষ্কার হবে। এটা কঠিন উপন্যাস নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে তো এ লেখাটি মনে হয় পাঠকগ্রহণ করেছে।

হাবীব ইমন

সত্তর দশকের বাংলা উপন্যাস প্রথম থেকে আমিত্ব সচেতন। কিন্তু আত্মপ্রকাশের একটা রীতি আছে যা আপনি গ্রহণ করেছেন। কেন করেছেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পুরনো লেখালেখির মধ্যে অন্যের কাহিনি বলার একটা ঝোঁক ছিল। সত্তর দশকের লেখকদের মধ্যে দেখা গেল যে, তারা বাইরের কাহিনি থেকে নিজেদের কথা আত্মকথনের ভঙ্গিতে বলতে বেশি পছন্দ করতেন। এটা  যে একটা সার্বজনীন ঝোঁক ছিল তা বলব না। কোনো কোনো লেখকের মধ্যে এই প্রবণতা আমরা দেখতে পাই। এতে খুব ব্যাপ্তি লেখার মধ্যে আসে না। যেটা আসে সেটা গভীরতা। বিশেষ করে আত্মবিশ্লেষণ। লেখালেখির জগতে একটা পরিবর্তন আমরা এই দশকে দেখতে পাই।


হুমায়ূন আমাকে গুরু বলে মানত, অনেকবার সে বলেছে।


হাবীব ইমন

বাংলাদেশের হুমায়ূন আহমেদের সাথে আপনার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিভাবে দেখেছেন তাকে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল মাত্র একবার। হুমায়ূন আহমেদ অনেক কৌশল করে আমার সঙ্গে দেখা করেছিল। ঘটনাটি অনেক মজার। সেটা বলি। আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম। সেই সময় আমার একজন পাবলিশার্স, তার নাম হচ্ছে আলমগীর। আলমগীর আমাকে নিয়ে গাড়ি করে ঢাকায় ঘুরছিল। ঘুরতে ঘুরতে আলমগীর এক সময় বললেন, দাদা, চলেন এক জায়গায় যাই। আমি বললাম, কোথায়? সে বলল, চলেন। আমি বললাম, আমার নাওয়া-খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। আমি ফিরব। আলমগীর বলে, চলেন ঘুরে আসি। তারপর নিয়ে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করাল একটি সুন্দর বাড়ির সামনে। গেইটে ছিপছিপে চেহারার একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে, ফর্সা-মতো। দেখেই চিনলাম, হুমায়ূন আহমেদ। সে দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য। আমাকে না বলে আমাকে নিয়ে গেছে। (মৃদু হেসে) তারপর তো খুব আদর করে ভেতরে নিয়ে গেল। তার বউয়ের সাথে দেখা হলো। তখন তো আগের বউয়ের সাথে থাকত সে। অপূর্ব ফুটফুটে সুন্দরী মেয়ে ছিল। বউটিও খুব সুন্দরী। এরপর কফি-টফি খেলাম, গল্প-টল্প করলাম। তারপর চলে এলাম।

হুমায়ূন আমাকে গুরু বলে মানত, অনেকবার সে বলেছে। ওর সাথে সেইভাবে আর দেখা হয় নি। আদান-প্রদানটা হয় নি। তবে ফোনে কথা হয়েছে কখনো-সখনো। ট্র্যাজিক ঘটনা যেটা, গতবার আমি আমেরিকায় ছিলাম। তখন শর্ট ট্যুরে গিয়েছিলাম। খুব লম্বা ট্যুর নয়। তখন নিউইর্য়ক থেকে ফিরব। সেই সময় আমাকে বিশ্বজিৎ সাহা নামে এক বুক সেলার আমাকে বলল, দাদা, হুমায়ূন আহমেদ নামে এখানে এসেছেন, নিউইর্য়কে এসেছেন, চিকিৎসা করানোর জন্য। আমি জিগ্যেস করলাম, ওর কী হয়েছে? বলে, ওর তো ক্যান্সার হয়েছে। ওর খুব ইচ্ছা আপনি যেন তার সাথে দেখা করেন। আমি বললাম, ঠিক আছে দেখা করতে তো অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার তো কালকে ফ্লাইট। আর আমার এইসব কাজ আছে। এর মধ্যে সময় কিভাবে বের করব বলো। তো সময় বের করতে পারি নি আমি, দেখাটাও আর হয় নি।

হাবীব ইমন

হুমায়ূন আহমেদের লেখা নিয়ে আপনার বক্তব্য কী।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়েছি অনেক দিন আগে, প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে। বাংলাদেশের কিছু প্রকাশক, তারা আবার হুমায়ূন আহমেদের বই ছাপে, হুমায়ূনের ভক্ত প্রকাশকরা অনেকগুলো বই আমাকে দিয়ে গিয়েছিল। হিমু সিরিজের কিছু বই, ওর কিছু সায়েন্স ফিকশন আছে সেগুলোর কিছু সংকলন, এমনি কয়েকটা বই। পড়ার সময় তো এত ছিল না, তবুও আমি কিছু কিছু পড়লাম। পড়ে আমার মনে হলো, হুমায়ূন আহমেদ এমন একটা শৈলীর অধিকারী, জনপ্রিয় হওয়ার ইনগ্রেভিয়েন্টস তার মধ্যে যথেষ্টই আছে। বেশ স্মার্ট লেখা। গদ্যটা ভালোই লিখত। গল্পটা খুব সুন্দর বানাতে পারত। কিন্তু একটা মুশকিল হচ্ছে, ওই স্টাইলটা এদেশে জনপ্রিয় না, হয় নি। হুমায়ূন বাংলাদেশে একটা ক্রেজ, হটকেকের মতো বই বিক্রি হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ও পাঠকের কাছে তেমন নন। এটা খুব দুঃখের ব্যাপার। কেন এটা হলো না, আমার কাছে একটা বিস্ময়। ওর গদ্যের মধ্যে যে স্মার্টনেসটা বেশি আছে, সেটা বোধহয় এখানকার পাঠকরা নিতে পারে নি। এটা নিয়ে ওর দুঃখও ছিল। He wanted to be equally popular here at west Bengal. সেটা বাঙালি পাঠকের মধ্যে সে পপুলারিটি পায় নি। এইটা ওই বঙ্গে পেয়েছে, এই বঙ্গে সেটা হয় নি। ওর লেখা দেশ পত্রিকায় কয়েকবার ছাপা হয়েছে। আনন্দ পাবলিশার্সের সেল রিপোর্ট তার সেসব লেখা এখানকার পাঠক নেয় নি। এটা ওরও দুঃখের ব্যাপার। আমি শুনেছি, ওকে খুব দুঃখ দিত, ওখানে এত জনপ্রিয়তা, এখানে একদমই নেই।

হাবীব ইমন

অসুখের পর উপন্যাসে আপনি নায়কের দুই বিবাহকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আপনি কি বহুবিবাহ সমর্থন করেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মানুষ মাত্রেই বহুগামী। আগেকার দিনে সেরকম বাপের বেটা ছিল বলেই অনেকগুলো বিয়ে করত। এখন লুকিয়ে লুকিয়ে মানুষ বিয়ে ছাড়া সবই করে। আর ডিভোর্স? ওটা তো রিজেকশন অফ উইমেন। সেটা আরও খারাপ। আমার দেখা অনেক লেখক আছেন বিতর্ক সভায় বহুবিবাহর বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়ে নিজেরা গোপনে চার-পাঁচটা সম্পর্ক রাখছেন।

হাবীব ইমন

আপনার আশ্রয় কি পেয়েছেন আপনি?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আশ্রয়ের জন্যই আমি খুব ঘরমুখো। মায়ের গায়ের গন্ধ নিয়েই আমার বড় হওয়া। তার পরে তো বিয়ে হলো। ধীরে ধীরে আমার গৃৃহ রচনা হলো। আমি আর আমার স্ত্রী দু’জনে সিনেমা দেখতে যাওয়ার চেয়ে বাড়িতে, সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতাম।

হাবীব ইমন

আপনার স্ত্রী সোনামন মুখোপাধ্যায়কে বলতে শুনেছি, আপনি স্বামীর চেয়ে লেখক হিশেবে আধুনিক এটা কি ঠিক?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হ্যাঁ, ঠিক। আমি শক্তি বা সুনীলের মতো ফসফস করে কোথাও চলে গেলাম। প্রচুর মদ্যপান করলাম। এমনটা ছিলাম না।

হাবীব ইমন

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদারের মতো লেখকরা আপনার চারপাশে থাকতেন। কখনও গোষ্ঠীকোন্দল বা ঈর্ষার সম্মুখীন হন নি?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমাদের সময় এটা একদম ছিল না। সুনীল আমার ভালো লেখা পড়ে ভালো বলার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। আমিও তাই। সমালোচনা করতে চাইলেও করতাম। সুনীলকে আমিই একমাত্র শাসন করতাম। পঁচাত্তরের জন্মদিনে দেখেছিলাম ওঁর পা কাঁপছে। বললাম, সুনীল, আপনাকে বাংলা সাহিত্যের জন্য অনেক দিন বাঁচতে হবে। তার জন্য যা যা নিয়ম মানার আপনি এবার সেটা করুন। কোথায় আর শুনলেন?


সুনীলের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। শক্তিকে ধরাই যেত না।


 হাবীব ইমন

আর শক্তি চট্টোপাধ্যায়?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সুনীলের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। শক্তিকে ধরাই যেত না।

হাবীব ইমন

একজন লেখকের জীবনের শক্তি কী?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

শক্তি! মানে স্ট্রেংথ! স্ট্রেংথ তার পরিশ্রম। এই ছাড়া আর কিছু না। তাকে অগাধ পরিশ্রম করতে হবে। অনেক মনে করে আমি একটু বাংলা লিখতে পারি, সুতরাং আমি লিখে গেলাম গল্প, উপন্যাস। আসলে ব্যাপারটি তা নয়। অত সোজা নয়। আমরা লিখতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, লেখার যে ভাষা—You’ve to create your own style. সেটা যে কত কঠিন। তার জন্য কত পরিশ্রম করতে হয়। কত হাতড়াতে হয়। কত শব্দ বুঝতে হয়। কতভাবে বাক্য বিন্যাস করতে হয়। কতভাবে মানুষকে, জীবনকে দেখতে হয়, এবং কতভাবে ভাবতে হয়। চিন্তা-ভাবনা যদি না থাকে, তুমি কী লিখবে? তুমি ধরলে আর গল্প বেরিয়ে গেল, এ তো নয়। প্লট তৈরি করে লিখলাম, গল্প বানিয়ে লিখলাম, তা তো নয়। জীবনের গভীর অনুভবের ব্যাপারগুলি থাকতে হবে। এই যে আমাদের দেশের সন্দীপন, একটা সময় ক্রেজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সন্দীপনের লেখা যদি পড়, ওর লেখার মধ্যে কোনো ভাবনা-চিন্তার ব্যাপারটা নেই—স্টাইলটা আছে, শৈলী আছে। গদ্যটা খুব সুন্দর করে লিখত, খুব কায়দা করে লিখত, খুব চালাকিতে লিখত। কিন্তু ভাবনা-চিন্তায় গভীরতা নেই। প্লটটা ছিল, সহজ গল্প। গদ্যটা বেশ স্মার্ট ছিল, সাংঘাতিক ভালো লিখত, মূল ব্যাপারটা যেটা, কনটেন্ট সেটা খুব সনাতন। বিমল মিত্রের মতো গল্প, বা শরৎচন্দ্রের মতো গল্প, বাদ বাকিটা চালাকি, এমন ভাবে পরিবেশন করত, মনে হতো না-জানি কী একটা করছে। এসব আছে। আসলে যে লেখা আমাকে টেনে নেয় ভেতরে, আমাকে ভাবায়, আমাকে প্রশ্নের সামনে ঠেলে দেয়, আমাকে অন্য করে তোলে, জীবনের নানান রকমের গভীর যে সমস্ত সংকটগুলো আছে মানুষের সেগুলোর সম্মুখীন করে তোলে, সে যদি না করতে পারে, তাহলে সে লেখার কি মূল্য আছে।

হাবীব ইমন

প্রেম কী, কেন প্রেম?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রেম তো আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। প্রেম ছাড়া কোনো কিছুই হয় না। সবচেয়ে বেশি প্রেম আমাদের জীবনের প্রতি হওয়া উচিত। নারীর প্রেম—বিষয়টিকে মানুষ আজকাল খুব হাইলাইটস করছে। দেখতে পাচ্ছি, এই নারীর প্রেমটাও খাঁটি নয়। ইদানীং শুনছি খুব প্রেম হচ্ছে। কিন্তু তারা এক সাথে বসবাস করতে পারছে না। আমরা অনেক প্রেম করছি, অনেক ভ্যালেন্টাইস ডে পালন করছি। কিন্তু হঠাৎই ছেলে এবং মেয়ের সম্পর্কের মধ্যে বিরক্তি চলে আসছে। রিপালশন চলে আসছে। পরস্পর পরস্পরের থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। এটা প্রেম নয়। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন :

যে আমারে দেখিবারে পায়, অসীম ক্ষমায়, ভালোমন্দ মিলায়ে।

সে কোথায়? প্রেম হচ্ছে খুব শুনছি। কিন্তু এটাকে আমরা প্রেম বলি না। আমার লেখাতেই আছে, একটি ছেলেকে একটি মেয়ে বলছে, তুমি যে এই মেয়েটিকে ভালোবাস, কতটা ভালোবাস? ছেলেটা বলে, ‘অনেক ভালোবাসি’। তখন বলে ছেলেটিকে, ভালো। মেয়েটিও খুব সুন্দর। কিন্তু, যদি মেয়েটির মুখে কেউ অ্যাসিড ঢেলে দেয়, তাহলেও কি তুমি তাকে এভাবে ভালোবাসবে? সাংঘাতিক প্রশ্ন এটি। আমাদের মধ্যে একরকম দেহমুগ্ধতা আছে। ব্রাউনিং এর কথাই বলি। ব্রাউনিং এর যিনি প্রেমিকা ছিলেন, তিনি চিররুগ্‌ণ ছিলেন। তার সাথে তার প্রেমিকার কখনো যৌনসম্পর্ক হয় নি। কিন্তু এই স্ত্রীকে তিনি এত ভালোবাসতেন যে, ঐ স্ত্রীর শয্যাপাশে তিনি সারাজীবন কাটিয়ে গেছেন। এটিকে প্রেম বলে, সেখানে দেহগত আকর্ষণ কাজ করছে না। এটা একটা প্লেটোনিক প্রেম। দেহাতীত ব্যাপার এখানে কাজ করছে। এটিকে প্রেম বলে। এখন যা হচ্ছে এটা প্রেমটেম কিছু নয়। এটা একটা ফক্কিকারি। প্রেম তো বড় জিনিস, একটা ভালো বিষয়। কিন্তু সে প্রেম উত্তীর্ণ হতে গেলে মানুষকে অনেক ধৈর্য ধরতে হয়। অনেক সাধনা করতে হয়, সওয়া-বওয়া লাগে, তবে প্রেম।

হাবীব ইমন

বিশ্ব সাহিত্য’র সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলা সাহিত্য কতটুকু এগোতে পেরেছে?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

এক পাল্লায় বিশ্বসাহিত্যকে, আরেক পাল্লায় বাংলা সাহিত্যকে বসিয়ে দিলে অন্যায় করা হবে। বিশ্বসাহিত্য বলতে রাশিয়ান ক্ল্যাসিক রয়েছে, ইংলিশ ক্ল্যাসিক রয়েছে, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, আমেরিকার সব, সারা পৃথিবীতে তো ফসলের অভাব নেই। বাংলা সাহিত্য কতটুকু, কতটুকু জায়গা রয়েছে, খুব অল্প জায়গা বিস্তৃত। সেখানে বাংলা সাহিত্য অনেক এগিয়েছে।

হাবীব ইমন

আজও কি বঙ্কিমের লবঙ্গর মতো পরজন্মের দিকে তাকিয়ে থাকেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ইহজন্মে নয়, কিন্তু যদি পরজন্ম থাকে। উফফ বুকে মোচড় দেয় এই কথা।

হাবীব ইমন

পরজন্ম আছে বলে কি ভূতে বিশ্বাস করেন?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হ্যাঁ, অবশ্যই ভূতে বিশ্বাস করি। ভূতের সঙ্গে দেখাও হয়েছে কয়েকবার।

হাবীব ইমন

পরজন্মে কি শীর্ষেন্দু থাকবেন না?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

জন্ম আছে কী না জানি না। কিন্তু মনে হয় সব শেষ হয়ে যাবে না। আত্মা, আত্মার সঙ্গে স্মৃতি হয়তো থেকে যাবে।

হাবীব ইমন

জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৮০; মাইজদী, নোয়াখালী। এমবিএ। জার্নালিজমে ডিপ্লোমা। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
অন্ধকার, নীল গান [স্বরাজ প্রকাশনী, ২০১১]
কালো মেয়ের প্রতি ভালোবাসা [স্বরাজ প্রকাশনী, ২০১২]
কবি হয়ে জন্মাতে চাইনি [অভিযান পাবলিশার্স, ২০১৬]

গদ্য—
লেখা-অলেখা [কলামসমগ্র; দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৫]
একুশে ফেব্রুয়ারি : আঁধারে বাঁধা অগ্নিসেতু [সাকী পাবলিকেশন্স, ২০১৩]
মুক্তিযুদ্ধের আগুনমুখো গল্প [সাকী পাবলিকশেন্স]
অধ্যক্ষ আবদুল জলিল [স্মারক, যৌথ সম্পাদনা; স্বরাজ প্রকাশনী, ২০০৯]

ই-মেইল : emonn.habib@gmail.com