হোম সাক্ষাৎকার লিটল ম্যাগাজিনের সংকট আসলে নিজেদের সংকট

লিটল ম্যাগাজিনের সংকট আসলে নিজেদের সংকট

লিটল ম্যাগাজিনের সংকট আসলে নিজেদের সংকট
400
0

সজল সমুদ্র : আমরা জানি, লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে ‘হুচ্‌’-এর স্বতন্ত্র একটা অ্যাপ্রোচ আছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো—যাদের নিয়ে মূলত ‘হুচ্‌’-এর আয়োজন, মানে লেখক ও পাঠক, তারা কি ‘হুচ্‌’-এর কাছাকাছি আসতে পেরেছে বা ‘হুচ্‌’ সত্যি সত্যি তাদের দ্বারে পৌঁছতে পেরেছে?

আলোড়ন খীসা : যে সব লেখকদের নিয়ে এই ‘হুচ্‌’ তাঁরা সবাই আসলে একটা হুচ্‌-পরিবার, তাঁরা শুধু এটাতে লিখেই ক্ষান্ত দেন না, তাঁরা এর বিক্রি, বণ্টন, প্রচার, প্রসারেও সহায়ক ভূমিকা রাখেন।

পাঠকদের ক্ষেত্রে, সৎভাবে বলতে গেলে পুরোপুরি তাঁদের কাছে পৌঁছানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় নি, তবে আমরা বোদ্ধাদের কাছাকাছি যেতে পেরেছি। যারা এখন পাহাড়ের নানান সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন। কিন্তু যদি আমরা আমজনতার হিসেবে এটাকে বিচার করি তাহলে দেখা যাবে অনেকেই এখনো ‘হুচ’-এর নাম পর্যন্ত শুনেন নি।

এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রটা আসলে আমরাই অতিক্রম করতে পারি নি।

তবে যাদেরকে লক্ষ্য করে এই ‘হুচ্‌’ তাঁদের কাছে আমাদের পৌঁছানোর যে কাঙ্ক্ষিত জায়গা সেখানে, সেই লক্ষ্যবিন্দুতে যেতে পেরেছি বলে আমরা (হুচ্‌-পরিবার) মনে করি।

হুচের দুটি সংখ্যা

সজল সমুদ্র : লিটল ম্যাগাজিন মানেই প্রতিবন্ধকতা। তো ‘হুচ্‌’ প্রকাশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো কেমন? লেখা ও আর্থিক উভয় ক্ষেত্রে?

আলোড়ন খীসা : আমার কাছে মনে হয়েছে লিটল ম্যাগাজিনের সংকট আসলে নিজেদের সংকট। অনেকেই আর্থিক সংকটকে প্রধান সংকট বলে মনে করেন, তবে সামগ্রিকতার বিচারে আমার কাছে মনে হয়েছে অর্থ মূল সংকটের ভূমিকা পালন করে না। এখানে সদিচ্ছা এবং ভালো মানের লেখা পাওয়াটা বেশ কঠিন একটা বিষয় বা সংকট। যেমন, যদি হুচ-এর লেখকদের নিয়েই বলি, তাঁরা একটা সময় প্রচুর পড়েছে,  প্রচুর লিখেছে, কিন্তু এখন যেটা দাঁড়িয়েছে, অন্যান্য কাজে এত বেশি জড়িয়ে পড়েছে যে তাঁরা এখন ওই পরিমাণে পড়তে বা লিখতে পারছে না। এই সংকটটা লেখকের নিজের বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর। আপনারা অন্যান্য যেকোনো লিটলম্যাগের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন আসলে সংকটটা ঠিক কোথায়।

সজল সমুদ্র : নতুন লেখক বা লিখিয়েদের জন্য ‘হুচ্‌’ কি একটি ‘ক্ষেত্র’ হিসেবে তৈরি হতে পেরেছে? এক্ষেত্রে আপনার মতামত জানতে চাই।

আলোড়ন খীসা : ‘হুচ্‌’ নিয়ে বেশ বড় একটা জায়গা তৈরি হয়েছে আদিবাসী নতুনতম লেখকদের মধ্যে, বিশেষ করে আমাদের পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসীরা বা তাঁদের তরুণতম প্রজন্ম, যারা কিছু ভাবছে, কিছু করছে বা কিছু করতে চাইছে। এটা বিশ্বাস করতে ভালো লাগে যে বর্তমান সময়ের তরুণদের মধ্যে প্রতিনিধিত্বকারীগণ আমাদের এই ‘হুচ্‌’ থেকেই তাঁদের বোধের বিকাশে জড়ো হয়েছিলেন একই কাতারে। বর্তমানেও তরুণ লেখকগণ হুচের দিকে তাকিয়ে থাকেন স্বতন্ত্র চিন্তার প্রকাশে, কারণ হুচের স্বাতন্ত্র্য বিষয় প্রকাশ সবার নজর কেড়েছে, যেটা প্রথম সংখ্যা থেকেই লক্ষণীয়।

সজল সমুদ্র

সজল সমুদ্র

জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৮২, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা : শিক্ষকতা।

প্রকাশিত বই :
পত্রে রচিত ভোর [কবিতা, ২০০৫, চিহ্ন]
ডালিম যেভাবে ফোটে [কবিতা, ২০১৪, চিত্রকল্প]

ই-মেইল : sajalsomudro39@gmail.com
সজল সমুদ্র