হোম নির্বাচিত রাজীব চৌধুরীর সাথে আলাপ

রাজীব চৌধুরীর সাথে আলাপ

রাজীব চৌধুরীর সাথে আলাপ
946
0
এ সময়ের একজন তরুণ প্রকাশক রাজীব চৌধুরী। থাকেন ঢাকার বাইরে, সিলেটে। মাত্র দুবছরের মধ্যেই তাঁর প্রকাশনা সংস্থা ‘চৈতন্য’ সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে। এ সাক্ষাৎকার মূলত তরুণ প্রকাশকের প্রতি পরস্পরের ভালোবাসা জ্ঞাপন। ফেসবুকে তাঁর সাথে কথা বলেছেন কবি সোহেল হাসান গালিব…

প্রথমত আপনাকে অভিনন্দন জানাই। গত বছর বেশ বড় একটা আয়োজন নিয়ে আপনি মেলায় এসেছিলেন। তো, মোট কয়টি বই বেরিয়েছিল?

রাজীব চৌধুরী : ২০১৫ বইমেলায় আমরা শতাধিক বই করেছিলাম। তার মধ্যে বেশিরভাগ বই-ই ছিল তরুণ লেখকদের। আনন্দের বিষয় হচ্ছে আমরা কিন্তু অনেক তরুণ কবির প্রথম বই বের করেছিলাম।

গালিব ভাই, প্রশ্নগুলা একসাথে পেলে উত্তরগুলা সাজিয়ে দিতাম। অভ্রতে।

কিন্তু বস, আপনার উত্তরের ভিত্তিতে আমাকে কিছু প্রশ্ন করতে হবে। আপনি সময়মতো উত্তর দিয়েন। সমস্যা হবে?

রাজীবওকে বস। ঠিক আছে।

বাণিজ্যিক বইয়ের দিকে না গিয়ে সিরিয়াস বইয়ের দিকে, বিশেষত তরুণদের কবিতার বইয়ের দিকে চৈতন্য-এর আগ্রহের কারণ কী?

রাজীববাণিজ্য আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য নয়। আমরা লক্ষ করেছি যে তরুণ কবিদের কবিতার বই প্রকাশ করার ব্যাপারে বড় প্রকাশকদের অনীহা আছে। তারা তো বাণিজ্য করতে চান। বাংলাদেশের তরুণ কবি-লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতাই আমাদের স্বপ্ন। তারাই একদিন বড় লেখক হবেন।

12606803_1073157042729416_2042595674_n
চৈতন্য থেকে প্রকাশিতব্য তরুণদের কবিতার বই

 

কিন্তু প্রকাশনা চ্যারেটি তো নয়। টিকে থাকবার জন্যও রিটার্ন আসার দরকার আছে। সেক্ষেত্রে এটাকে যদি চৈতন্য-এর ব্র্যান্ডিং ভাবি, তবে নিশ্চয়ই একটা গুরুত্ব আছে। এই ইনভেস্টমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন? কী ধরনের রেসপন্স পাচ্ছেন?

রাজীবপ্রকাশনা অবশ্যই চ্যারেটি না, কিন্তু তরুণদের বই যে একেবারে বিক্রি হয় না, তা তো না। প্রকাশনায় আমার অভিজ্ঞতা বেশি দিনের না, তারপরও আমার মনে হয় ভালো বই পাঠকের কাছে যদি ঠিকমতো পৌছানো যায় তাহলে পাঠক তা সানন্দে গ্রহণ করেন। গত মেলায় আমি আশাতীত রেসপন্স পেয়েছি। আমার ধারণা প্রচুর লেখক যেমন আসছেন তেমনি তাদের একটা পাঠকগোষ্ঠীও তৈরি হচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। বড় প্রকাশকরা তো তরুণদের বই করলেও সেটার ব্যাপারে তাদের যেহেতু আগ্রহ নাই, ফলে বইটি অন্ধকারে পড়ে থাকে। কিন্তু সব লেখক যেহেতু তরুণ, ফলে আমি তাদের বই নিয়ে নিজের মতো প্রচার করতে গিয়ে বিভিন্ন ছোট ছোট বইমেলায় অংগ্রহণ করি। রেসপন্স ভালোই বলতে পারেন। বইয়ের খরচ উঠে যায়।

ওয়েল। বলা হয়ে থাকে মেলার পর বই তেমন বিক্রি হয় না কিংবা সেভাবে পাওয়াও যায় না। বছরের অন্যান্য সময় আমাদের এখানে বইয়ের সার্কুলেশনে কোনো সমস্যা দেখতে পান?

রাজীবসার্কুলেশনে সমস্যা অবশ্যই আছে। আছে বলেই দেশের সর্বত্র বই পাওয়া যায় না, যে কারণে বিক্রিও হয় না । বইয়ের বিপনণ জরুরি। আমরা প্রত্যেক বিভাগে মানে বিভাগীয় শহরে কমপক্ষে একটা লাইব্রেরিতে আমাদের বই রাখার পরিকল্পনা নিয়েছি এবং বর্তমানে সকল বিভাগীয় শহরে আমাদের বই পাওয়া যায়। প্রতিনিধির মাধ্যমেও আমরা বিপনণে যাব। আমাদের পরিকল্পনা আছে।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এখানে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে? গত বছর এই প্রতিষ্ঠান কয়েকটি মেলার আয়োজন করেছিল বলে শুনেছি। শুনেছি তারা প্রতিবছর বেশ কিছু বই কেনে। চৈতন্যের সাথে যোগাযোগ হয়েছে কি?

রাজীবজাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয় নি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যে বইমেলাগুলি হয় তার কয়েকটাতে আমরা অংশগ্রহণ করি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চৈতন্যের একক বইমেলা করার পরিকল্পনা আমাদের আছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ছোট ছোট বইমেলা হয়, সেগুলিতেও হয় আমাদের উদ্যোগে না-হয় লেখকদের উদ্যোগে আমরা অংশগ্রহণ করতে চেষ্টা করি। এইসব মেলায় ভালো বিক্রি হয়।

12571399_1073157472729373_1736265706_n

জনপ্রিয় ধারার উপন্যাসের বাইরে, এসব মেলায় কী ধরনের বইয়ের চাহিদা বেশি বলে মনে হয়েছে আপনার?

রাজীবআমার ধারণা জনপ্রিয় ধারার উপন্যাসের পাঠকরা এইসব মেলা থেকে বই কেনে না। কারণ জনপ্রিয় বইগুলি তো সবখানে পাওয়াই যায়। এইসব মেলায় শিশুদের বই, বিভিন্ন এলাকার ইতিহাস, অনুবাদগ্রন্থ, এবং তরুণদের বই ভালো চলে।

বেশ। এইসব মেলার অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষ কোনো ক্যাটাগরির বইয়ের ঘাটতি আছে বলে মনে হয়েছে কি? সেক্ষেত্রে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?

রাজীবশিশুদের বই, অনুবাদগ্রন্থের ঘাটতি আছে। আমরা অনুবাদে বিশেষ নজর দিচ্ছি। বিদেশি শিশুতোষ বই অনুবাদেরও উদ্যোগ নিচ্ছি।

সামনের মেলায় আনুমানিক কতগুলি বই আসছে?

রাজীবশতাধিক তো হবেই।

বিশেষ কিছু বইয়ের কথা কি বলবেন?

রাজীবমিথের উপর একটা বই হচ্ছে। ‘মিথের পৃথিবী পৃথিবীর মিথ’ নামে। এখানে শুধু গ্রিক মিথ নয় বরং ভারতীয় মিথ, আরব অঞ্চলের মিথ, ল্যাটিন আমেরিকান প্রধান প্রধান মিথের একটা সংগ্রহ হবে এটা। তাছাড়া আন্তনিয়ো পোর্কিয়ার ভয়েসের অনুবাদ হচ্ছে। লোরকার একটা নাটক, ‘নিটসের ভাবনাগুচ্ছ’ নামেও একটা বই হচ্ছে। ইমরুল কায়েসের কবিতার অনুবাদও বের করব আমরা।

অনুবাদকের নামগুলি কি জানা যাবে? পোর্কিয়া সম্ভবত মজনু শাহ

রাজীবনা পোর্কিয়া অনুবাদ করছেন মুহম্মদ ইমদাদ। লোরকা আর নিটশে করছেন গল্পকার এমদাদ রহমান। জাকির জাফরান ভাইও একটা অনুবাদ করছেন। ভানু ভাস্করের দুই একটা অনুবাদ আসতে পারে।

12583707_1073157566062697_1252594824_n

আচ্ছা, এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে চাই। প্রকাশনার কাজ সম্পাদনার ব্যাপারে

রাজীব : বলুন প্লিজ।

আপনাদের কোনো সম্পাদনা প্যানেল কি আছে, যারা বই নির্বাচন থেকে শুরু করে বইয়ের টেক্সট এডিটিংয়ের কাজ করে থাকেন? আপনি নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, অনেক প্রকাশনা থেকেই প্রচুর ভুল বানানে বই বের হচ্ছে। ভাষাগত অসংগতির কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। সেক্ষেত্রে একটা এডিটিং প্যানেল জরুরি কিনা?

রাজীবঅবশ্যই জরুরি। বাংলাদেশে এটা চালু হওয়া দরকার। আমাদের একটা প্যানেল আছে যারা সরাসরি প্রকাশনার সাথে জড়িত না এবং এখন পর্যন্ত তাদের আমরা কোনো সম্মানীও দিই নি।

প্রকাশনার ভার বহন করতে গিয়ে ছোটকাগজ হিসেবে চৈতন্য কিছুটা চাপে পড়েছে মনে হয়…

রাজীবছোটকাগজের প্রতি যে একাগ্রতা দরকার সে ক্ষেত্রে কিছুটা হয়তো পড়েছে। সময়টা তো প্রকাশনাতেই বেশি দিতে হয়। তবে এখন পত্রিকাটি কন্টিনিউ করা আমার জন্য সহজ। ছাপা-ব্যয়টা প্রকাশনাই বহন করতে পারে। তাছাড়া তরুণ লেখকদের সাথে আমার যোগাযোগ ভালো, ফলে লেখা পাওয়াটাও সহজ। কিন্তু ওই একাগ্রতা না থাকায় বিশেষভাবে পত্রিকাটি করতে পারছি না।

চৈতন্যকে ‘বইয়ের দেশ’এর মতো একটা পত্রিকা করে ফেললে কেমন হয়? এমন পত্রিকা কিন্তু আমাদের এখানে নেই

রাজীবভাবি নি কখনো। দেখি কী করা যায়। ছোট পরিসরে আছি তো।

আপনার ছোটকাগজ এবং প্রকাশনার প্রতি পরস্পরের পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা রইল। প্রসঙ্গক্রমে একটা কথা মনে পড়ল, জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি, অনলাইনে বই বিক্রি বিপণনের কোনো সুবিধা পাচ্ছেন কি?

রাজীবরকমারিতে আমাদের বই আছে, তবে সাড়া বলার মতো নয়। অনলাইনে বই বিক্রির জন্য আসলে বিচিত্র ধরনের বই লাগবে। বিপনণের সুবিধা অবশ্যই পাচ্ছি। খুব সহজেই পাঠকরা বই সম্পর্কে জানতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে ফেসবুকও ভালো ভূমিকা রাখে।

গালিব ভাই আপনাকে এবং ‘পরস্পর’কেও শুভেচ্ছা।

ধন্যবাদ। সাক্ষাৎকারটা এখানেই শেষ করি। আপনার প্রকাশনার কিছু বইয়ের কাভার দিয়েন। সেগুলা এখানে আপ করে দিব

রাজীবআপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। অবশ্যই দেবো।

ওকে বস

রাজীবওকে, ভালো থাকবেন বস।