হোম নির্বাচিত দেখান কিভাবে আমি ওরিয়েন্টালিস্ট

দেখান কিভাবে আমি ওরিয়েন্টালিস্ট

দেখান কিভাবে আমি ওরিয়েন্টালিস্ট
404
0
11007509_980614631951191_2128061227_n
উইলিয়াম ডালরিম্পলের সাথে রেজাউল করিম রনি

উইলিয়াম ডালরিম্পল মূলত ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ। ১৯৬৫ সালের ২০ মার্চ স্কটল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। একাধারে ইতিহাসবিদ, ভ্রমণ-সাহিত্যিক, চিত্রবিশারদ এবং সাংবাদিক। তাঁর কাজের ক্ষেত্র ব্যাপক, বিস্তৃত। ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য, মুসলিম-খ্রিস্টান সম্পর্ক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির নানা দিক নিয়ে কাজ করেন। তিনি উপন্যাসের আদলে ইতিহাসের এমন ন্যারেশন বা বয়ান তৈরি করেন যা গল্পের মতো সুখপাঠ্য হয়ে ওঠে। তাঁর কাজের ক্ষেত্র ইতিহাস হলেও তিনি তুমুলভাবে পাঠকনন্দিত। তাঁর মনোমুগ্ধকর ভাষাভঙ্গি পাঠককে আলোড়িত করে। তিনি ঔপন্যাসিকের বয়ানকৌশল ও জনপ্রিয়তাকেও ছাড়িয়ে যান কখনো কখনো। ভারতীয় ইতিহাস, বিশেষ করে মোগল আমলের উপর কাজ করছেন প্রায় তিন দশক ধরে। তাঁর বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হোয়াইট মোগল, লাস্ট মোগল, এইজ অব কালি, রিটার্ন অফ এ কিং । বর্তমানে কাজ করছেন মোগল আমলের চিত্র নিয়ে। সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন ‘হে উৎসব’এর আমন্ত্রণে। তাঁর ঢাকা অবস্থানের সময় এই আলাপটি ধারণ করা হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ডালরিম্পলের সাথে এই আলাপটি করেন তরুণ কবি ও চিন্তক রেজাউল করিম রনি।

ইংরেজিতে ধারণ করা আলাপটির নির্বাচিত অংশ ছাপা হলো।

 

 প্রবেশিকা:

তার সর্বশেষ বইটি (রিটার্ন অফ এ কিং) সাধারণ পাঠকদের জন্য একটি ভ্রমণ-ইতিহাস হিসেবে লিখিত হয়েছে। এই বইয়ে তিনি  ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।

তিনি মনে করেন, ভারত-পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য যে ধরনের প্রতিযোগিতায় মেতেছে তা গোটা বিশ্বের শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের এক লেখাতে তিনি আফগানিস্তানের চলমান যুদ্ধের সাথে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ইতিহাসের যেন পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ১৮৩৯ সালের ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধের ভয়াবহতা ফিরে এসেছে ৯/১১-এর পরে, আমেরিকার উপর। ধারণা করা হয়, ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধ ছিল দক্ষিণ এশিয়াতে পশ্চিমাদের পরিচালিত সবচেয়ে করুণ ক্ষতির চিহ্ন। ১৯ শতকের আগে ও পরে এতটা মূল্য আর কোনো যুদ্ধে দিতে হয় নি পশ্চিমাদের। আজও ব্রিটিশ শাসকদের তাড়া করে ফিরে আফগানভীতি। যাকে অনেকে বলেন পশ্চিমের আফগান-ফোবিয়া। ২০০১ সাল থেকে আমেরিকা যে যুদ্ধ আফগানিস্তানে ধারাবাহিকভাবে জারি রেখেছে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নামে,  তার প্রভাব বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়াতেই পড়ছে। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল এইসব বিষয়সহ নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এই আলাপচারিতায়।


রনি: আপনার সাম্প্রতিক একটা সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে আলাপ শুরু করি। আপনি বলেছেন, ব্রিটিশরা ভারত দখল করতে চায় নি! একটু পরিষ্কার করবেন কি আপনি আশলে কী বুঝাতে চাইছেন?

ডালরিম্পল: আমি বলেছি ব্রিটিশরা নয়। ইন্ডিয়া দখল করেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। মাত্র ৩৫ জন লোক লন্ডনে এই কোম্পানিটির গোড়া পত্তন করেন। এই কোম্পানি কেবল তার শেয়ার হোল্ডারদের নিকট জবাব দিতে বাধ্য। এভাবে কোম্পানিটি বেপরোয়া জন্তুর মতো চরে বেড়াতে থাকে দুনিয়া জুড়ে। কোম্পানিটিকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কায়দা ছিল না।


এখানকার ক্ষমতা সম্পর্ক রোহিঙ্গা টেনশন, আল কায়েদার নতুন শাখার মধ্যে বাংলাদেশও আছে। বাংলাদেশ আপনার দৃষ্টি এড়াইল কেন?


রনি:  আপনার এই যুক্তি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে মেনে নেয়া মুশকিল। এখানে এখনও কলোনিয়াল চিহ্ন পুরানা দাদের মতো দগদগ করছে। শিক্ষা থেকে অাইন, এমনকি জনরুচির উপর কলোনিয়াল প্রভাব ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে। আজও এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলছে। এমন অবস্থায় এটা মানা মুশকিল যে, কোম্পানি আর ব্রিটিশ শাসকশ্রেণি আলাদা। কিন্তু আপনি কি কোম্পানির উপর দোষ চাপিয়ে ব্রিটিশ শাসকশ্রেণিকে কলঙ্কমুক্ত করতে পারবেন?

ডালরিম্পলবাংলাদেশে বিষয়গুলো কিভাবে দেখা হয় আমি বলতে পারব না। কোম্পানির তো নিজস্ব বাহিনী ছিল। কোম্পানির ভুমিকাটা অামি দেখাতে চেষ্টা করেছি। দেখেন, আমি উপনিবেশ বা উপনিবেশিত এমন কোনো বিষয়ই লিখি নি। আমি হোয়াইট মোগল- যে সময়টা ধরে লিখেছি তা ছিল মোগল শাসনের একটা চূড়ান্ত বা ভাগ্যনির্ধারণী মুহূর্ত। ব্রিটিশরা ধীরে ধীরে ক্ষমতা সম্পর্ক থেকে শুরু করে যৌন সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিকভাবে ভারতে শিকড় গেড়ে বসছিল। প্রাক-উপনিবেশ আমল থেকেই ব্রিটিশ এলিটরা মোগল এলিটের সাথে যে সখ্য গড়ে তুলেছিল তা প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস-চর্চায় তেমন গুরুত্ব পায় নি। আমি এই দিকটা দেখতে চেয়েছি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের বদান্যতায় ব্রিটিশ বণিকরা নিজেদের পোক্ত করার সুযোগ পেয়েছে। আমি মনে করি, এইসব বিষয় ব্রিটিশদের গতানুগতিক ইতিহাস অধ্যয়ন বা সাম্রাজ্যবাদী অধ্যয়ন অথবা এডওয়ার্ড সাঈদীয় তরিকায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। তাই আমি ব্রিটিশদের সাথে মোগলাই এলিটের সম্পর্ককে খুব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে চেয়েছি।

রনি:  আপনার  সাম্প্রতিক প্রবন্ধ ‘ডেডলি ট্রায়াঙ্গেল’  ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান নিয়ে লিখেছেন। আফগানযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো জায়গা পায় নাই। অথচ তথাকথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ বাংলাদেশও যে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এটা তো এখন আর গোপন নাই। এখানকার ক্ষমতা সম্পর্ক রোহিঙ্গা টেনশন, আল কায়েদার নতুন শাখার মধ্যে বাংলাদেশও আছে। বাংলাদেশ আপনার দৃষ্টি এড়াইল কেন?

ডালরিম্পল: সত্যি কথা বলতে কি বাংলাদেশ নিয়া আমি পর্যাপ্ত জানি না। বাংলাদেশ নিয়া আমাকে আরও খোঁজখবর করতে হবে। আমি বরং পশ্চিম বাংলা নিয়ে একটু খোঁজখবর রাখি। সেখানে বেশি সময় থাকারও সুযোগ হয়। আপনার কথা ধরে বলতে পারি, অবশ্যই বাংলাদেশ এই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে।

রনি:  আমি বলছি আফগানিস্তানের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে, আপনি লিখেছেন আফগানযুদ্ধের ফলে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে গুণগত পরির্বতন আসবে। বাংলাদেশে এন্টি ইন্ডিয়ান ও প্রো-ইন্ডিয়ান—দুই ধরনের লোকই আছে। আবার পাকিস্তানকে ৭১ সালের ঘটনার জন্য ঘৃণাও করা হয়, যদিও এখনকার পাকিস্তান নিয়ে বাংলাদেশের খোঁজখবর খুব সামান্য। আপনি কী মনে করেন?

ডালরিম্পল: ভারত-পাকিস্তান দুটাই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। এই দুই দেশের মধ্যে কোনো গণ্ডগোল বিশ্বশান্তির জন্যও উদ্বেগের বিষয়। স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। পাকিস্তানের নানা ভূ-অংশে এবং ভারতের অংশেও ক্ষুদ্র জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠার লড়াই জারি আছে। বেলুচিস্তানের আন্দোলনে ‘র’-এর মদদ আছে এমনটা মনে করে পাকিস্তান। কাশ্মিরের কথা তো সবাই জানেন। অন্যদিকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাকিস্তানের আইএস সাহায্য করে বলে মনে করে ভারতীয়রা। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্ডিয়ান গেস্ট হাউসে যে হামলা হয়েছে তাকেও ৬০ বছর যাবৎ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবেই দেখতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বেশ গরম হয়ে উঠছে। পাকিস্তানে তো লস্কর-এ-তৈয়েবার মতো শক্ত এন্টি-ইন্ডিয়ান ফোর্স রয়েছে, যারা আবার আল কায়েদার সাথে সম্পর্কিত। পরিস্থিতি সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে শুধু বাংলাদেশ কেন, আফগানযুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশসহ গোটা দুনিয়াতেই পড়বে। আর সাম্প্রতিক বই, রিটার্ন অফ এ কিং-এ আফগানিস্তানের উপর ফোকাস করেছি। ১৮৩৯-১৮৪২ সালে ব্রিটিশরা যে যুদ্ধ করে চরম মূল্য দিয়েছে আমেরিকা আফগানিস্তানে এখন একই যুদ্ধ করে চলেছে। এই যুদ্ধে ব্রিটিশরা চরম বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল। ৯/১১-এর পরে আমেরিকা একই ধরনের যুদ্ধ শুরু করেছে। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র খুবই ব্যয়বহুল। সবচেয়ে অমানবিক হলো যুদ্ধে মানুষের করুণ পরিণতি।


আপনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী গোপন স্রোত রয়েছে মনে হয়


রনি: আপনি বলেছেন, আফগানিস্তানে গণতন্ত্র বিরাজ করছে? আমরা জানি সেখানে গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে দ্বন্দ্ব এখনও চরমভাবে হাজির আছে। জনগণ বিভক্ত। অন্যদিকে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি কি গণতান্ত্রিক নেতা? তাকে তো জনগণ আমেরিকার পাপেট মনে করেন?

ডালরিম্পল: আমি বলছি, ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে। তখনকার সময়ে যে আফগানিস্তানের চিত্র পাই, তাতে আফগানিস্তানে কোনো রকম গণতন্ত্র সম্ভব, তেমন ধারণা করাও কঠিন। যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশদের যেতে হয়েছে তার প্রেক্ষিতে বলব, এখনকার বাস্তবতা হলো, আফগানিস্তানে গণতন্ত্র বিরাজ করছে একভাবে। আমি আরও বলব, এ যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব।

রনি: আপনি যে তরিকায় ইতিহাসকে দেখেন তাকে তো প্রশ্ন করা যায়। আপনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী গোপন স্রোত রয়েছে মনে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয়, আপনি আশলেই ওরিয়েন্টালিস্ট দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে যেতে পারেন না!

ডালরিম্পল: আমি এই প্রশ্নের জবাবে কিছু বলব না। শুধু বলব, আমাকে দেখান কিভাবে আমি ওরিয়েন্টালিস্ট।

রনি: অামি সহজে যদি বলি, ইতিহাস মানে তো শুধু অতীতের ব্যাপার না। বা এটা তো শুধু টাইম ফ্রেম নিয়ে কাজ করে না। ইতিহাস তো তৈরি হয় বিশেষ চিন্তা পদ্ধতির প্রকরণ বা ধরনের সাপেক্ষে। এবং তার উপরেই ন্যারেশনটা নির্ভর করে। আপনি তো ন্যারেটিভ হিস্ট্রিই করেন। উপন্যাসের মতো করে লিখেন আপনি। কিন্তু পদ্ধতির মধ্যেই এই ক্রিটিকটা উঠতে পারে—

ডালরিম্পল: ইতিহাসকে ডিফাইন করবার, দেখবার নানা রকম পদ্ধতি আছে। আমি ফিলোসফির দিকে এত মনোযোগ রাখি না। আমি যেভাবে কাজ করি, এটাকে ন্যারেটিভ হিস্ট্রি বলা যায়। ইতিহাসের বয়ানের অনেক পরে কিন্তু উপন্যাসের বয়ানের কৌশলটি সামনে এসেছে। আমার লিখার পদ্ধতিকে চাইনিজ খাবার রান্নার পদ্ধতির সাথে আমি প্রায়ই তুলনা করে থাকি। অনেক সময় ধরে নানান জিনিস আমি জোগাতে থাকি। যখন সব জোগাড় শেষ হয় তখনই রান্না করতে বসি। মানে লিখতে শুরু করি। সাধারণত ৬/৭ বছর সময় লেগে যায় একটা বই লিখতে।

আমি পরিষ্কারভাবেই মনে করি সভ্যতার দ্বন্দ্বটা থেকে যাওয়া অসম্ভব নয়, পশ্চিম যদি শক্ত অবস্থানে থাকে। আমেরিকা-ইউরোপ (ব্রিটিশ) যদি তাদের পেশি দেখায় এবং ইসলামি বিশ্বকে অসম্মান করে, অবমূল্যায়ন করে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কিন্তু ভারতীয় ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ আপনি পাবেন, যেখানে হিন্দু-খ্রিস্টান-মুসলমান চমৎকার ঐক্যবন্ধনে অাবদ্ধ। পরম শান্তিতে পাশাপাশি তারা অবস্থান করেন। হোয়াইট মোগল-এ আমি পরিত্যক্ত অনেক কথাই ইতিহাস থেকে আবার কুড়িয়ে এনেছি। এর মানে এই নয় যে সভ্যতার দ্বন্দ্বটা অসম্ভব। সভ্যতার দ্বন্দ্ব আছে। ক্রুসেডই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু ইতিহাসের অন্য উদাহরণ দেওয়াও সম্ভব।

রনি: সাধারণত ইতিহাস বিষয়টিকে কাঠখোট্টা বিষয় মনে করা হয়। আপনি এই রকম একটা বিষয় নিয়ে কাজ করেও ব্যাপক পাঠ টানতে পারছেন? আপনার সরলীকরণের ধরনটা বেশ মজার। হোয়াইট ব্রিটিশ-এর আদলে ‘হোয়াইট মোগল’…?

ডালরিম্পল: আমি সাধারণত কাজ করি আন্ত:ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে। ইতিহাসের ব্যক্তিকে ও তার আশপাশের খুটিনাটি বিষয়কে ঘিরে অামি বয়ান তৈরি করি, যা পড়তে উপন্যাসের মতো হয়। ফলে আমাকে কিছু বানাতে হয় না। ঘটনার ঘনঘটায় বয়ান আগায়, যা পাঠককে একই সাথে উপন্যাস ও ইতিহাসের ভিতরে নিয়ে যায়। এটা কিভাবে ঘটে আমি জানি না। তবে মনে হয় অতীত দিনটা যখন স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় তখন পড়তে সহজ হওয়ারই কথা। ব্রিটিশদের সাথে মোগলদের সম্পর্ক উপনিবেশ কায়েমের আগে থেকেই ছিল। সেখানে প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের মতো বিষয় তো ছিল। এইসব প্রমাণ বেশির ভাগই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। পেট্রিকের সাথে মেহেরুন্নিসার প্রেমের বিষয়টা তো গল্প নয়। এটার পরিষ্কার রেফারেন্স আছে। অবশ্য বেশির ভাগ চিঠিই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

রনি: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ডালরিম্পল: ধন্যবাদ।

 content (1)content (3)content (2)content

রেজাউল করিম রনি

রেজাউল করিম রনি

সাংবাদিক, সহকারী সম্পাদক at নিউ এজ
জন্ম : ২০ জুলাই, ১৯৮৮, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ। কবি। তবে বিশেষ ঝোঁক তার সাহিত্য, রাজনীতি ও দর্শন নিয়ে বিশ্লেষণী লেখার প্রতি।

প্রকাশিত কবিতার বই : ‌‘গোলাপসন্ত্রাস’, ‘দাউ দাউ সুখ’। গদ্য: ‘শহীদুল জহিরের শেষ সংলাপ ও অন্যান্য বিবেচনা’।

ই-মেইল : rkrony@live.com
রেজাউল করিম রনি