হোম নির্বাচিত “চরমপন্থীরাই অন্যান্য চরমপন্থীকে স্বীকৃতি দেয়”

“চরমপন্থীরাই অন্যান্য চরমপন্থীকে স্বীকৃতি দেয়”

“চরমপন্থীরাই অন্যান্য চরমপন্থীকে স্বীকৃতি দেয়”
407
0

রামচন্দ্র গুহর সাথে রেজাউল করিম রনির আলাপচারিতা


রামচন্দ্র গুহ (জন্ম : ২৯ এপ্রিল, ১৯৫৮, দেরাদুন) ভারতের ব্যাঙ্গালোরে বসবাস করেন। তিনি বিখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং জীবনীকার। ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, অসলোসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়িয়েছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া এবং বার্কলির ইন্দো-আমেরিকান কমিউনিটির আমন্ত্রিত অধ্যাপক ছিলেন।

তার সর্বশেষ বই ‘প্যাট্রিওটস এন্ড পার্টিজানস’ (পেঙ্গুইন,২০১২) এবং ‘গান্ধী বিফোর ইন্ডিয়া’ (২০১৩)। রামচন্দ্র গুহ ডান-বাম মতবাদের বাইরে বিতর্কমূলক সাহিত্যপ্রতিভার মাধ্যমে বিশদ এবং বিশেষ ভঙ্গিমায় উদার নীতির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। ভারতের সবচেয়ে প্রশংসিত ইতিহাসবিদ এবং বুদ্ধিজীবী হিসেবে গুহ সুনিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রথমবারের মতো তিনি এবার ঢাকা লিট ফেস্ট-এ উপস্থিত ছিলেন নভেম্বর ২০১৫-তে। তখন এই সাক্ষাৎকারটি নেন রেজাউল করিম রনি। এটি প্রথমে ইংরেজিতে ছাপা হয় (৭ ডিসেম্বর ২০১৫, নিউ এজ)। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন  ফাতিন আরেফিন। তিনি একজন কবি ও অনুবাদক।


রেজাউল করিম রনি : গান্ধীকে নিয়ে আপনার প্রথমদিকের স্মৃতি কিংবা মুগ্ধতা দিয়েই শুরু করি?

রামচন্দ্র গুহ : প্রকৃতপক্ষে সে সময়ে তেমন বিশেষ কোনো মুগ্ধতার কিছু ছিল না। অনেকটা বাংলাদেশি তরুণদের মতোই ব্যাপারটা ঘটেছিল। তারা যেমন তাঁদের জাতির জনক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পড়েন ও তাঁকে নিয়ে নানান আয়োজন দেখেন, আমি তেমনি ভাবে গান্ধীর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। এসব দেখেই বড় হচ্ছিলাম। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে একজন ভারতীয় হিসেবে সেটা মহাত্মা গান্ধীই ছিছেন। আমার বাসায় গান্ধীর অনেক ছবি ছিল, গান্ধীর জন্মদিন পালিত হতো, ইত্যাদি—এর চেয়ে বেশি কিছু না। এটা অনেকটা অন্যান্য ভারতীয়দের মতোই। আমার বয়স যখন প্রায় ২০ বছর, তখন আমি গান্ধীর ব্যাপারে সিরিয়াস হতে শুরু করি। কিন্তু পরবর্তীতে গান্ধীর প্রতি আমি মনোনিবেশ দিই একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে।

১৯৮০-এর দিকে আমি যখন সমাজবিজ্ঞানের একজন তরুণ পি.এইচ.ডি. স্টুডেন্ট, দার্শনিক রামচন্দ্র (রামু) গান্ধীর সাথে তখন তার দাদার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আমার বিতর্ক হয়েছিল। আমি সবসময়ই মহাত্মা গান্ধীর ব্যাপারে মুগ্ধ ছিলাম, কিন্তু আমার নিজস্ব সেকুলার-সমাজতান্ত্রিক দর্শনে তাঁকে আধ্যাত্মিক ঘরানা থেকে বের করতে চেয়েছি। আমরা কি গান্ধীকে তার ধর্মীয় চরিত্র বাদে—যেখানে তার দর্শন ছিল গোপন, গরীবের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং অহিংস দৃঢ়তার প্রেক্ষাপট থেকে অনুসরণ করতে পারি না? রামু গান্ধী ভিন্নমত পোষণ করে বলেন যে, গান্ধীকে সেকুলারাইজ করা ভুল। যদি তার বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে তাঁকে গ্রহণ করতে চাও, তাহলে গান্ধী মহাত্মা হবেন না। তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের জন্যই তিনি গুরুত্বপূর্ণ। এই হিসেবে, ব্যক্তিগান্ধী ছিলেন একটা মেসেজ বা বার্তা।

.

রেজাউল করিম রনি : আপনার বিখ্যাত বই ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’ লিখতে কিভাবে উৎসাহিত হয়েছিলেন?

রামচন্দ্র গুহ : ভারতের হিস্ট্রিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্রিটিশ উপনিবেশ এবং এর সম্প্রসারণ—শোষণ এবং জাতীয় আন্দোলনের দিকে বেশি মনোনিবেশ করা হয়েছে। অথচ স্বাধীন ভারতের ইতিহাস এখানে অমূল্যায়িত। এটা অবশ্যই একটা মোহনীয় অভিজ্ঞতা যে এখানে সবসময়ই অশান্তি, দুশ্চিন্তা ও দ্বন্দ্ব লেগে ছিল। আমি আমার দেশকে বুঝতে চেষ্টা করেছি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার গল্প এবং এর সকল প্রাপ্তি ও ব্যর্থতা তুলে ধরতে চেয়েছি। আমি এখন বইটি প্রকাশনার দশ বছর পূর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা আগামী বছর বাজারে আসবে। সমসাময়িক ইতিহাসকে তুলে ধরতেই এটা করেছিলাম।

.

রেজাউল করিম রনি : সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর আলোকে, আমি যদি সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদের প্রবণতার দিকে লক্ষ দিই, যা ভারতীয় কিংবা হিন্দুত্ববাদী বিশ্বাসের মধ্যে মূলানুগভাবে অন্তর্নিহিত আছে, সাম্প্রতিক গরু-রাজনীতি ( কাউ পলিটিকস) এবং গান্ধীর ভারতে মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

রামচন্দ্র গুহ : এটা একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। দিল্লি থেকে মাত্র পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে এক গ্রামে, উচ্ছৃংখল জনতার নির্মম অত্যাচারে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পঞ্চাশ বছর বয়স্ক একজন মুসলিম। উচ্ছৃংখল জনতারা—হিন্দু মতাবলম্বী যারা, মনে করেন, তাদের ধর্মমতে গরু পূজনীয় এবং পবিত্র। সমস্ত ভারত এবং বাইরেও এর প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও নরেন্দ্র মোদী প্রথমে কোনো জবাবই দেন নি। এটা নিয়ে কোনো কথা বলেন নি। এটা আরো মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, যখন ঐ গ্রাম, যেটি প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির একজন মন্ত্রীর নির্বাচন এলাকা, যিনি এই বেআইনি হত্যাকে একটি দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করেন। মোদী একজন বিলিয়ার্ড খেলোয়াড়ের একটি টুর্নামেন্ট বিজয় এবং একজন গায়কের পুত্রের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে টুইট করেন, অথচ একজন সাধারণ ভারতীয়র বেআইনি হত্যায় তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। অবশেষে ঘটনার দশদিন পর, বেদনানাশকের মতো সম্প্রীতির আহ্বান জানান। এটা খুবই সামান্য, খুবই অল্প এবং ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে! এটা এমনই একটা নমুনা যা মোদীর উৎসাহে স্থায়ী রূপ লাভ করছে। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে, ধর্মীয় হিন্দু মৌলবাদের সাথে যোগসূত্রের অভিযোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে তিনি নিজেকে আধুনিক অর্থনৈতিক রূপকার হিসেবে তুলে ধরেন, যদিও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এখন গতিশীলতা হারিয়েছে, যখন সামাজিক ও ধর্মীয় পার্থক্য খুব ভালোভাবেই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই, মোদীর দলের কর্মীরা ‘হিন্দুই প্রথম’ এজেন্ডা পুনর্জীবিত করে। একটি প্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, অহিন্দুরা অবিশ্বাসযোগ্য বদমাশ। একজন বিজেপি এমপি মুসলিম পুরুষদের হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তোলেন। অন্য একজন মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের ধর্মান্তরিত করে হিন্দুত্ববাদে নিয়ে আসতে ব্যাপক প্রচারণার দাবি তোলেন।

পিছনে তাকালে দেখা যাবে, মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বের শুরুতে, আরএসএস প্রথম এই ইস্যুতে জল ঢেলেছিল। যখন আধিপত্যবাদীদের বক্তব্যগুলোয় কোনো বাধা দেয়া হলো না, তখন এদের সাহস বেড়ে গেল। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যায়, খুব গভীরভাবে মোদী এই বিষয়গুলোতে আরএসএস-কে অগ্রাহ্য করতে দুর্বলতার পরিচয় দিচ্ছেন। এটা এমনও হতে পারে যে তার হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি কয়েক ডজন দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং আরও অনেক দেশ সামনে ভ্রমণের অপেক্ষায় আছেন। যখন তিনি বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় ভোজনে ব্যস্ত, তখন ভারতের ভেতর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তাদের নোংরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবকাঠামো ও শিল্প কারখানার উন্নয়নে অবশ্যই মূলধন অনেক গুরুত্বপূর্ণ, যেমনি ভারতকে বিশ্বের কাছে দৃশ্যমান করে তোলাও জরুরি। কিন্তু অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সংঘাত ও অনিশ্চয়তার কারণে ভেঙে পড়তে পারে। বিনিয়োগ নিশ্চিতকরণের জন্য এবং অধিকন্তু ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে মোদীকে স্পষ্টভাবে ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং সম্প্রীতির কথা বলতে হবে— যেটা গান্ধী প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।


আমি সেকুলারিজম শব্দটা পছন্দ করি না, এটাকে বলা যেতে পারে বহুত্ববাদ। আমাদের মিশ্র-সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সমাজে, বহুত্ববাদ খুব জরুরি। যেমনটা বাংলাদেশে, এখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, হিন্দুরা সংখ্যালঘু এবং বৌদ্ধ সংখ্যালঘুও রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য বহুত্ববাদী বা প্লুরালিস্টিক দর্শন থাকা খুব জরুরি


রেজাউল করিম রনি : তাহলে, সমজাবিজ্ঞানে শক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড-অলা একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে, ভারতের চলমান হিন্দুত্ববাদী সহিংসতাকে আপনি কিভাবে বর্ণনা করবেন? এবং ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও উদার বুদ্ধিজীবীরা যে ‘সেকুলারিজম’-এর দাবি তুলছেন সে ব্যাপারেও আপনি কী মনে করেন?

রামচন্দ্র গুহ : একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে আমি হয়তো বর্তমান রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে কথা বলব না। আমার ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’ বইয়ে এই বিষয়ে কথা বলেছি। আমি ভারতকে একটি অস্বাভাবিক এবং অসম্ভাব্য গণতান্ত্রিক দেশ বলেছি। ভারত একটি নানা মতের, একতাবদ্ধ, খুব গরিব এবং সমমাত্রিক দেশ। কিভাবে এখানে সহিষ্ণুতা এবং সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা যাবে? এটা একটা দীর্ঘ সংগ্রামের বিষয়। প্রত্যেক জাতিরই এমন উত্থান-পতন আছে। যেকোনো দেশের প্রতিষ্ঠাই একটি জটিল পদ্ধতি, যেমনি ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশের ক্ষেত্রেও এই জটিলতার বিষয়গুলো আছে।

আমি সেকুলারিজম শব্দটা পছন্দ করি না, এটাকে বলা যেতে পারে বহুত্ববাদ। আমাদের মিশ্র-সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সমাজে, বহুত্ববাদ খুব জরুরি। যেমনটা বাংলাদেশে, এখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, হিন্দুরা সংখ্যালঘু এবং বৌদ্ধ সংখ্যালঘুও রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য বহুত্ববাদী বা প্লুরালিস্টিক দর্শন থাকা খুব জরুরি। এই জায়গা থেকে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তাই বর্তমানের ভারত এবং একইসাথে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার জন্য গান্ধীর সম্প্রীতির শিক্ষা অনেক বেশি জরুরি। প্রত্যক মানুষের বিশ্বাসকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। সব ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সমঝোতা থাকতে হবে। কেবল ধর্ম নয়, ভাষার ক্ষেত্রেও বহুত্ববাদ থাকতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই অন্য মানুষের বিশ্বাস এবং ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে।

আমি একটি উদার মনের হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। কেউ একজন হিন্দু হয়েও যেকোনো জাতিগত বৈষম্য এবং নারীর প্রতি অবিচারের বিরোধিতা করতে পারেন। যে কেউ একজন বিশ্বস্ত হিন্দু হয়েও অন্য ধর্মের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে। গান্ধীর শিক্ষায় এসবই আমি খুঁজে পেয়েছি। সামাজিক বহুত্ববাদী ধারণার জায়গা থেকে হিন্দুত্ববাদী উগ্রতা ও ঘৃণার সংস্কৃতিকে রূপান্তরিত করা যেতে পারে। উগ্র ধ্যানধারণা অধিকাংশই এইসব হিন্দুত্ববাদীর নিজেদের মজ্জাগত ব্যাপার। এটাই একটা গভীর সন্দেহ এবং অহিন্দু ভারতীয়দের প্রতি নিপীড়ন হিসেবে প্রকাশিত হয়। বিশেষভাবে খ্রিস্টান এবং মুসলিমরাই শত্রু হিসেবে সামনে হাজির হয়। হিন্দুত্ববাদের দর্শন কেবলমাত্রই একটা ভেজাল ব্যাপার এবং প্রতিপক্ষকে, অন্যকে এর বিরোধী হিসেবে তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে যেটা মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র চরমপন্থীরাই অন্যান্য চরমপন্থীকে স্বীকৃতি দেয়।

.

রেজাউল করিম রনি : অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক একটা আলোচিত ব্যাপার। বস্তুত, অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশই ভারতের উপমহাদেশকেন্দ্রিক কূটনৈতিক ভূমিকায় বেজার। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

রামচন্দ্র গুহ : এটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা যে ভারতীয় কূটনীতি নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকার সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারে নি। বড় ভাইসুলভ বা দাদাগিরি টাইপের একটা আধিপত্যবাদী ভূমিকা ভারতের রয়েছে, যেটা পাকিস্তান মোকাবেলা এবং প্রতিহত করছে; এবং কাশ্মীর-সংঘাত নিয়ে অবশ্যই সত্যিকার সমস্যা রয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতা, ইতিহাসে যার উৎসমূল প্রথিত, শেষমেশ কয়েকবারই সংঘাতে রূপ নিয়েছে এবং আমরা দেখেছি যে পাকিস্তান এই সন্ত্রাসে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলংকার সাথে সমস্যা কোথায়? তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকার কোনো কারণ নেই। অধিকন্তু শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধন আমাদের ও তাদের জন্য খুবই উপকারী। ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা আমাদের মধ্যে সমঝোতা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে সক্ষম না হওয়া।

.

রেজাউল করিম রনি : নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে সাম্প্রতিক বক্তৃতায় আপনি ভারত-ভ্রান্তি মানে সমস্যা (ফল্টলাইন) নিয়ে কথা বলেছেন এবং কেন ভারত একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে হাজির হতে পারবে না, সে সম্পর্কে কিছু পয়েন্ট শেয়ার করেছেন। আপনি কি বিষয়টা আরও একটু ব্যাখ্যা করবেন?

রামচন্দ্র গুহ : অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে : সামাজিক ত্রুটি, জেন্ডার সমস্যা, জাতিগত ত্রুটি, ধনী-গরিব ব্যবধান, হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা, উঁচু জাত-নিচু জাতের মধ্যে উত্তেজনা, কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্য পার্থক্য। আমি মনে করি অনেক ত্রুটি রয়েছে। এবং সবাইকেই এগুলোর সমাধানে কাজ করতে হবে, যেহেতু প্রত্যকে সমাজেই ত্রুটি রয়েছে। শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, বিদ্বান সবাইকেই এই সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে হবে, অহিংস পন্থা ও আলোচনার মাধ্যমে এসবের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। ভারত হয়ত একটি বৃহৎ শক্তি হবে কিংবা হবে না। এটা সাধারণভাবেই ভারত সরকারের কিছু অংশ এবং অন্যদের বেপরোয়া ও উচ্চাভিলাষী দাবী। এটা সবচেয়ে অস্বাভাবিক একটি দেশ, যার ব্যতিক্রমধর্মী ধর্মীয়, সংস্কৃতি, ভাষা ও পরিবেশগত বিভিন্নতা রয়েছে। জাতি হিসেবে ভারত মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ এবং যেখানে অধিকাংশই অশিক্ষিত। তুমি যদি ভারতের সাম্প্রতিক রাজনীতি অনুসরণ করো, তুমি দেখবে যে আমাদের গণতন্ত্র অসম্পূর্ণ।


আমি জাতীয়তাবাদী নই। অনেকের মধ্যে আমার একজন প্রিয় খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম। সে একজন অসাধারণ ব্যাটসম্যান। আমি তার উইকেট কিপিং পছন্দ করি। আমার ছেলেও তাঁকে পছন্দ করে, বিশেষভাবে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তার রণতেজ এবং দৃঢ়তা দেখার মতো। সুতরাং ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেটা তুমি অবশ্যই উপভোগ করবে। ঐ সময়ে ভারতের ভূমিকা ছিল দুর্ভাগ্যজনক


রেজাউল করিম রনি : ৯/১১ এর পর আমরা তথাকথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ এবং সশস্ত্র অভ্যুত্থান দেখেছি। এই বিষয়গুলো কিভাবে ভারত এবং উপমহাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে বলে আপনি মনে করেন?

রামচন্দ্র গুহ : আমি মনে করি ৯/১১ মূলত মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাকে আক্রান্ত করেছে। আমি ভারতে এর তেমন কোনো প্রভাব দেখি না। যদিও ভারত ইতোমধ্যেই একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছে, কিন্তু সেগুলো ৯/১১ এর সাথে যুক্ত নয়। আমি আমার শেষ বক্তব্যে বলেছিলাম (ঢাকা লিট ফেস্ট) যে, মনমোহন সিং-এর সবচেয়ে ভালো বিষয় ছিল, তিনি মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তানের প্রতি প্রতিশোধ নেন নি। তিনি এটাকে প্রপাগান্ডা হিসেবেও ব্যবহার করেন নি, যদিও পাকিস্তানই এই হামলার পরিকল্পনা করেছে। একটা বৃহৎ দেশ হিসেবে ভারতের জন্য অন্য দেশের হয়ে যুদ্ধ না করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটা আমেরিকা এবং চীনের পক্ষে থেকে হোক বা অথবা আমেরিকা এবং রাশিয়ার পক্ষ নিয়ে হোক। কোনোটাই ভারত অনুসরণ করে নি। করো হয়ে সে যুদ্ধ করতে যায় নি। অসম্পৃক্ততার একটি নীতি রয়েছে এখানে। ভারত সোভিয়েত আমলের শীতল যুদ্ধে জড়াতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যেখানে পাকিস্তান আমেরিকান ব্লকে এবং চীন রাশিয়ান ব্লকে যুক্ত হয়েছিল। আমি মনে করি আমাদের জন্য মধ্যমপন্থাই সঠিক এবং বড় কোনো শক্তিতে যোগ না দেয়াই ভালো।

.

রেজাউল করিম রনি : ক্রিকেট সাহিত্যে আপনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব। ২০১৫ বিশ্বকাপে, ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল, বাংলাদেশ মোটেই খুশি ছিল না এবং এখনো আইসিসি-তে ভারতের আধিপত্য বর্তমান আছে। ভারতের ক্রিকেট কূটনীতি নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

রামচন্দ্র গুহ : দেখো, আমি জাতীয়তাবাদী নই। অনেকের মধ্যে আমার একজন প্রিয় খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম। সে একজন অসাধারণ ব্যাটসম্যান। আমি তার উইকেট কিপিং পছন্দ করি। আমার ছেলেও তাঁকে পছন্দ করে, বিশেষভাবে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তার রণতেজ এবং দৃঢ়তা দেখার মতো। সুতরাং ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেটা তুমি অবশ্যই উপভোগ করবে। ঐ সময়ে ভারতের ভূমিকা ছিল দুর্ভাগ্যজনক। এটা নিয়ে আমি একটা কলাম লিখেছি। তুমি যদি ক্রিকেট ইতিহাসের দিকে তাকাও, প্রথমে ইংল্যান্ড ছিল আধিপত্যবাদী, এরপর অস্ট্রেলিয়া, এখন ভারত। এই আধিপত্যবাদী ভূমিকা নতুন কিছু নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই অপ্রত্যাশিত।

.

রেজাউল করিম রনি : ১৯৮০’র পরে স্কুল অব সাব-অল্টার্ন হিস্ট্রিওগ্রাফির (নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চা) উদ্ভব হয়। এটা এখন বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশেও একটু সমালোচনা সত্ত্বেও এটা জনপ্রিয়। সাব অল্টার্ন স্টাডিজ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন কী?

রামচন্দ্র গুহ : আমি কেবলমাত্র সমাজের একটা অংশের পক্ষ নিতে চাই না। যদি তুমি লেখো, তাহলে সমাজের উঁচু থেকে নিচু—সব অংশের জন্য লেখো। আমার বই ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’ বা ‘গান্ধী-উত্তর ভারত’ বইতে আমি উপর থেকে নিচু উভয় অংশ নিয়েছি। কিন্তু সাব অল্টার্ন ইতিহাস কেবল একটা ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে কথা বলে। কিন্তু এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে একটা সময়। আমার সমালোচনা এই জায়গায় যে, একটা সময় পর এটা বেশি পরিমাণ একাডেমিক হয়ে গেছে। একটা কাল্ট হিসেবে এটা গড়ে উঠেছে। এটা অনেক বৃহৎ শ্রোতার কাছে পৌঁছে নি এবং তাদের জন্য লেখাও হয় নি। অর্থহীন এবং বড় বড় শব্দ এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা সেই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু ইতিহাস এগিয়ে গেছে। ইতিহাসের বিভিন্ন দিক রয়েছে।

১৯৮০’র সাব অল্টার্ন স্টাডিজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাব অল্টার্ন ইতিহাসের দুর্বলতা এই যে, দুই একটি ইস্যু ছাড়া এর কোনো ফেমিনিস্ট ইতিহাস নেই, রণজিৎ গুহের একটা বর্ণনা আছে চন্দ্রা’র মৃত্যুর ব্যাপারে ( চন্দ্রাস ডেথ)।

.

রেজাউল করিম রনি : আপনি বললেন যে সাব-অল্টার্ন স্টাডিজ জেন্ডার ইস্যুতে গুরুত্ব আরোপ করে নি। পার্থ চ্যাটার্জীর মতো অনেকেরই জেন্ডার ইস্যুতে কাজ রয়েছে। রণজিৎ গুহ সম্পাদিত বইয়ের অন্তর্গত তার দ্য ন্যাশন এন্ড ইটস উইমেন কাজটিও একটি সাব-অল্টার্ন স্টাডিজ পাঠের অংশ (১৯৮৬-১৯৯৫; অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস) এবং এটা বেশ সংজ্ঞামূলক। তিনি নারীর আপাত বৈপরীত্ব ইস্যু নিয়ে লিখেছেন, ঐতিহ্য, প্রথা এবং জাতীয়তাবাদে নারীর অবস্থান এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে। এর পরেও আপনি কি মনে করেন আপনার দাবি সঠিক?

রামচন্দ্র গুহ : না, সাব-অল্টার্ন স্টাডিজে নেই। কেবলমাত্র একজন, রণজিত গুহ, এই সম্পর্কে লিখেছেন। যদি তুমি সম্পূর্ণটা ধরে আগাও, তুমি দেখবে নারী সেখানে খুবই অবহেলিত ছিল এবং ঠিক একইভাবে ইন্ডিয়ার পোস্ট-কলোনিয়াল ইতিহাসও অবহেলিত। কলোনিয়াল পিরিয়ডের আগের বিষয় নিয়ে তাদের যত মনোযোগ, পরের সময় নিয়ে ততই উদাসীন। কিন্তু ইতিহাসের কোনো শাখাই সব উত্তর দেয় না। সুতরাং সাব-অল্টার্ন ইতিহাস বেশ ভরপুর। কিন্তু তুমি যদি অন্য মানদণ্ডগুলো দেখো, যেমন পরিবেশগত ইতিহাস, তুমি দেখবে যে সাব-অল্টার্ন ইতিহাস কখনোই এখানে গুরুত্ব দেয় নি। সুতরাং আমি মনে করি যে সাব-অল্টার্ন ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে—এটা একটা পূজা-অর্চনার মতো দাঁড়িয়েছে। এরকম ধর্মানুষ্ঠান মোটেই ভালো নয়। তারা কেবল সেগুলোকেই সামনে নিয়ে আসে। কিন্তু এই ১৯৮০’র গ্রুপটি অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

.

রেজাউল করিম রনি : আপনার নিজস্ব পরিবেশবাদী ভাবনা রয়েছে। একজন পরিবেশবাদী ইতিহাসবিদ হিসেবে ১৯৯৯ সালে একটি বৈশ্বিক ইতিহাস প্রকাশিত হয়েছে। উপমহাদেশের বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা নিয়ে আমাদের কিছু বলুন।

রামচন্দ্র গুহ : আমাদের নিজেদের নিজস্ব পরিবেশগত সমস্যা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপট থেকে সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে কিছু বলার নেই। আমাদের মাধ্যমেই পরিবেশ নষ্ট হয়েছে, সুতরাং আমরাই এর জন্য দায়ী। আমরা দ্রুত বনায়নের ধ্বংস সাধন ঘটাচ্ছি। আমরাই কেমিকাল ব্যবহার করে মাটির ক্ষতি করছি। বাংলাদেশ, ভারত এবং উপমহাদেশের অন্যান্য অংশের প্রায় ৯০ ভাগ পরিবেশের সমস্যা আমাদেরই সৃষ্টি। আমাদের নিজেদের জনগণ, নিজেদের সরকার এর জন্য দায়ী, কারণ আমাদের যথাযথ পরিদর্শন ব্যবস্থা নেই। আমাদের দুর্নীতি আছে। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের বিদেশীদের দোষ দেয়ার একটা সহজাত প্রবণতা রয়েছে। এটা একটা ভুল। বেশিরভাগ সমস্যাই আমাদের দ্বারা তৈরি। ধর্মীয় সংঘাতের মতো পরিবেশগত সমস্যার জন্য আমরাই দায়ী। আমি মনে করি বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা আমাদের সব সমস্যার জন্য সাধারণত বিদেশিদের দায়ী করেন। আমি এই ধরণের লজ্জাকর কাজ পছন্দ করি না। আমরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যা তৈরি করি। আমাদের পশ্চিমাদের দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে। আমরা স্বাধীন হয়েছি প্রায় ৭৫ বছর। আমাদের নিজেদের সমস্যার জন্য আমাদেরকেই দায় নিতে হবে। সুতরাং আমি মনে করি বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য পশ্চিমারা দায়ী, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য আমরা দায়ী।

.

রেজাউল করিম রনি : সম্প্রতি ভারতের অনেক লেখক এবং কর্মীরা রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে তাদের পদক ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনিও সাহিত্য একাডেমি পদক এবং পদ্মভূষণ পদক পেয়েছেন, কিন্তু আপনি এখনো তা ফিরিয়ে দেন নি। আপনি কি অনুগ্রহ করে বলবেন, কেন আপনি পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন নি? এবং যারা করেছে আপনি কিভাবে তাদের সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষণ করবেন?

রামচন্দ্র গুহ : হ্যাঁ, অবশ্যই যারা তাদের পদক ফিরিয়ে দিয়েছেন আমি তাদের সম্মান জানাই এবং আশা করি আমার মতো যারা পদক পেয়েছেন কিন্তু ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করেন নি, তাদের সিদ্ধান্তের প্রতিও তারা সম্মান দেখাবেন। একদল বিচারক লেখকরা আমাকে বিশ্বাসের ভিত্তিতে পুরস্কৃত করেছেন; এটা রাষ্ট্র কিংবা রাজনৈতিক দল কর্তৃক দেয়া হয় নি। আমরা যদি বিচারক এবং লেখকদের না চিনি, যারা আমার এবং অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের কাজকে পুরস্কারের যোগ্য মনে করেছেন, আমাদের উচিত তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো এবং সম্মানজনক এই পরস্কার পদ্ধতিকে এগিয়ে নেয়া। ইন্দিরা গান্ধী ও আরএসএস বিতর্ক বাদ দিলে, আমি অবশ্যই ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’ বইটির পুরস্কারকে সাধুবাদ জানাই।

আমি বিভিন্ন ম্যাগাজিন এবং সংবাদপত্রে কলাম লিখি যেখানে আমার মতামত দিয়েছি এবং ক্রিটিক করেছি। অন্যান্য মাধ্যমেও আমার মত প্রকাশের সুযোগ আছে। আমাকে যারা পুরস্কার দিয়েছেন সেসব বিচারকদের আমি সম্মান জানাই, এজন্যই আমি সেগুলো ফিরিয়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবং অন্য মাধ্যমে আমার বক্তব্য প্রদান অব্যহত রেখেছি।

.

রেজাউল করিম রনি :  আপনার সময়ের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রামচন্দ্র গুহ : তোমার জন্যও শুভেচ্ছা। আমি এখানে প্রথমবারের মতো এসেছি। আমি সত্যিকারভাবেই ঢাকা এবং লিট ফেস্ট এবং তোমার সাথে কথা বলা খুব উপভোগ করেছি।

রেজাউল করিম রনি

রেজাউল করিম রনি

সাংবাদিক, সহকারী সম্পাদক at নিউ এজ
জন্ম : ২০ জুলাই, ১৯৮৮, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ। কবি। তবে বিশেষ ঝোঁক তার সাহিত্য, রাজনীতি ও দর্শন নিয়ে বিশ্লেষণী লেখার প্রতি।

প্রকাশিত কবিতার বই : ‌‘গোলাপসন্ত্রাস’, ‘দাউ দাউ সুখ’। গদ্য: ‘শহীদুল জহিরের শেষ সংলাপ ও অন্যান্য বিবেচনা’।

ই-মেইল : rkrony@live.com
রেজাউল করিম রনি