হোম নির্বাচিত কবিকহন : রাব্বী আহমেদ

কবিকহন : রাব্বী আহমেদ

কবিকহন : রাব্বী আহমেদ
364
0

আবার দেখা যায় কখনো কোন কবিতা ভীষণ ভালো লাগলে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঐ কবিতার অনুকরণে একটা কবিতা লিখে ফেললো

 

স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্যে কোনটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?

স্বতঃস্ফূর্ততা থেকেই স্বকীয়তার জন্ম। কেউ কবি হয়ে জন্মায় না। লিখতে লিখতে কবি হয়। যখন কেউ লেখা শুরু করে তখন সে প্রতিষ্ঠিত কবিদের অনুসরণের চেষ্টা করে। সে ভাবে, তাকেও এভাবে লিখতে হবে, এভাবে লিখলেই বুঝি তার লেখা কবিতা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তাই সে যার লেখা পড়ছে, কিংবা যে কবির লেখা তার মনে দাগ কাটছে তার দ্বারা সে প্রভাবিত হয়। আবার দেখা যায় কখনো কোন কবিতা ভীষণ ভালো লাগলে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঐ কবিতার অনুকরণে একটা কবিতা লিখে ফেললো। ভাষা এবং শব্দের ব্যবহারে প্রচ্ছন্নভাবে অগ্রজ কবির ছাপ রয়েছে। এখানে থেকেই স্বতঃস্ফূর্ততা আর স্বকীয়তার পার্থক্য বোঝা যায়। এরপর লিখতে লিখতে একসময় সে অনুধাবন করে তার লেখা অগ্রজ কবির মতো হয়ে যাচ্ছে, যাকে সে রোল মডেল হিসেবে অনুসরণ করে। এই অনুধাবনবোধ থেকেই স্বকীয়তার জন্ম। বাংলা সাহিত্যের সব বড় কবিরাই কারো না কারো দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন লেখালেখির শুরুর দিকে। যদিও, এরপর তাঁরা স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছেন বেশ ভালোভাবেই। এক্ষেত্রে প্রচুর চর্চা এবং অনান্য কবিদের কবিতা পড়া জরুরি। স্বকীয়তাই কবির মৌলিক বৈশিষ্ট্য, স্বতঃস্ফূর্ততা নয়।

 

ছন্দের ব্যাপারটা কবিতার জন্যে জরুরী না হলেও কবির জন্যে জরুরী

 

কবিতার কথা উঠলেই দুটো প্রসঙ্গ চলে আসে—ছন্দ এবং দশক। দুটো বিষয় নিয়ে আপনার কী পর্যবেক্ষণ?

কবিতার ক্ষেত্রে দশক কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। ছন্দের ব্যাপারে পরে আসছি। মূলত দশক দ্বারা একজন কবি কোন সময়ে লিখছেন, তার সমসাময়িক অন্য কবি কারা, তাঁর কবিতার ব্যাপ্তিকাল কখন, এসব জানা যায়। এছাড়া দশক দ্বারা কবির কবিতাসময়ের ধারণা পাওয়া যায়। সে সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অবস্থা, এবং পারিপার্শ্বিক ঘটনা যা কবির মনকে আন্দোলিত করে, কবিকে প্রভাবিত করে, এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে একজন কবি, সকল দশকের সকল সময়ের। কবিদের কোন দেশ কাল স্থান সময় পাত্র নেই।

আর ছন্দের ব্যাপারটা কবিতার জন্যে জরুরী না হলেও কবির জন্যে জরুরী। একজন কবির অবশ্যই ছন্দজ্ঞান থাকা প্রয়োজন। নিয়ম তখনই ভাঙা যায় যখন কেউ নিয়মটি জানে। ধরি, ছন্দ কবিতা লেখার ব্যাকরণ। এক্ষেত্রে একজন কবিকে অবশ্যই সে ব্যাকরণ জানতে হবে। এরপর সে এটা মেনে চললো কি না তাঁর বিষয়। পূর্ববর্তী কবিরা কিভাবে ছন্দের ব্যবহার কবিতায় করেছেন এটা জানা থাকা ভালো। এরপর যদি কোন কবি সে ধারা থেকে বের হয়ে এসে আলাদা কোন ফরম্যাটে নতুন কোন স্টাইলে কবিতাকে উপস্থাপন করতে চায় তবে তাকে অবশ্যই স্বাগত জানানো উচিত। কবিতা কোন আরোপিত বিষয় না। এটি মনের ভেতর থেকে উঠে আসা আবেগ আর অনুভূতির মিশেলে জন্ম নেয়া আলাদা কোন ভাষা। মনের আবেগ স্বাধীন, নির্দিষ্ট কোন ফরম্যাট মানতে বাধ্য নয়।

নিজের পাঠকের জন্য আপনার পছন্দের কিছু বইয়ের নাম বলুন।

10955916_1026747434008123_1469558590_n
বইপত্র প্রকাশন; প্রচ্ছদঃ নির্ঝর নৈঃশব্দ্য


পছন্দের বই অনেক। এত বইয়ের নাম লেখা অসম্ভব। তবে আমার প্রিয় কিছু কবিতার বইয়ের নাম বলছি পাঠকদের কাছে। কবিতা ভালবাসলে কিংবা লিখতে গেলে যে বইগুলো পড়া উচিৎ বলে মনে করি। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতা, নজরুলের সঞ্চিতা, জীবনানন্দ দাশের কবিতাসমগ্র, সুনীলের শ্রেষ্ঠ কবিতা সমগ্র, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা, রুদ্রের শ্রেষ্ঠ কবিতা, হেলাল হাফিজের যে জলে আগুন জ্বলে, আবুল হাসানের কবিতাসমগ্র, আল-মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কবিতা সমগ্র, শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা সমগ্র, গুণ দা’র প্রেমের কবিতা, মহাদেব সাহার প্রেমের কবিতা, শহীদ কাদরীর রাজনৈতিক এবং প্রেমের মিশেলে লেখা কবিতা, সৈয়দ শামসুল হকের পরানের গহীন ভেতর, হুমায়ুন আজাদের কিছু কবিতা। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে আহসান হাবীব, তারাপদ রায়, জাহিদ হায়দার, রফিক আজাদ, এবং সমসাময়িক অনেক কবিদের কিছু বই খুব প্রিয় আমার।

rr@gmail.com'
rr@gmail.com'

Latest posts by রাব্বী আহমেদ (see all)