হোম সাক্ষাৎকার কবিকহন : মোস্তফা হামেদী

কবিকহন : মোস্তফা হামেদী

কবিকহন : মোস্তফা হামেদী
272
0
_MG_5456
মোস্তফা হামেদী; জন্ম : ২৭ আগস্ট, ১৯৮৫; দেইচর, ফরিদ্গঞ্জ, চাঁদপুর

স্বতঃস্ফূর্ততা যে শিল্পের দ্বাররক্ষী, তার রাজদরবারের সম্রাট হলো স্বকীয়তা

স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্যে কোনটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে কি?

প্রতিটি মানুষের মধ্যে সাধারণ প্রজাতিগত কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যগত ঐক্য থাকলেও, আঙুলের ছাপের মতো মৌলিক শারীরিক স্বাতন্ত্র্যও রয়েছে। কিন্তু এই স্বাতন্ত্র্যই ব্যক্তিকে বিশেষ করে নাও তুলতে পারে। বিশেষত্বকে মূর্ত করে তোলে স্বকীয়তা। স্বকীয়তার গর্ভে থাকে নবতর শিল্পদৃষ্টি। এই স্বকীয়তাই পরিপার্শ্বকে বিমূঢ়-বিস্মিত-বিমুগ্ধ করে তুলতে সক্ষম। এটি অর্জনের বিষয়। আমার মতে, স্বতঃস্ফূর্ততা যে শিল্পের দ্বাররক্ষী, তার রাজদরবারের সম্রাট হলো স্বকীয়তা। চূড়ান্ত বিচারে স্বকীয়তাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আমার কাছে ছন্দ-সর্বস্বতার অপর নাম দৈন্য

কবিতার কথা উঠলেই দুটো প্রসঙ্গ চলে আসে ছন্দ এবং দশক। দুটো বিষয় নিয়ে আপনার কী পর্যবেক্ষণ?

for fb
বা বুকস, একুশে বইমেলা ২০১৫

বাংলা কবিতার আলোচনায় ছন্দ এবং দশক-প্রসঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে বিস্তর মনোযোগ পেয়ে আসছে। আমি অজ্ঞতাকে প্রশ্রয় দিতে ইচ্ছুক নই। কবিতাচর্চার ক্ষেত্রে কাব্যভাষার ইতিহাস জানাটা জরুরি। সাধারণ লেখ্যভাষা শিক্ষার বর্ণ-শব্দ-বাক্যের মতো কাব্য ভাষা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর ছন্দ জ্ঞান। প্রথাগত ছন্দগুলো বাংলা কবিতার ভাষাকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে। সেগুলো সম্পর্কে জানাটা দরকার ন্যূনতম এই প্রয়োজনে, যেন ঐ সময়কার কাব্য ভাষার ইতিহাস অনুধাবনে ফাঁকি না পড়ে। তবে আমার কাছে ছন্দ-সর্বস্বতার অপর নাম দৈন্য। আমি মনে করি, বস্তু ও ভাবের প্রতীক যে শব্দ, তাতে ছবি-সুর-ছন্দ ইলেকট্রন-প্রোট্রন-নিউট্রন কণার মতো অঙ্গীভূত হয়ে থাকে। আমাকে ঘিরে রয়েছে যে শব্দ-নৈঃশব্দ্য ও বাক্যের সংসার, তার অন্দরে প্রোথিত আছে সকল ছন্দের মূল। আমার গন্তব্য ঐখানে পৌঁছানো। কোনো সংজ্ঞার দরবারে নয়।

একটা অসুস্থ লক্ষণ কি আমাদের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যাবে

দশক বলতে আমি সময় পরিমাপের এক ধরনের একককে বুঝি। প্রতিভা পরিমাপের একক দশক হতে পারে না। সাহিত্য আলোচনায় শ্রেণিকরণের স্বার্থে কোনো সাহিত্যিকের চর্চার প্রারম্ভলগ্ন নির্ধারণের ক্ষেত্রে দশক বিবেচনা কাজের হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত বিচারের ক্ষেত্রে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিবিরোধী। একটা অসুস্থ লক্ষণ কি আমাদের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যাবে? প্রতিটা দশ বছর অন্তর দশকের ব্যারিয়ার টেনে আমরা অবসরপ্রাপ্তের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছি কি না কিংবা আমরা কি কোনো প্রকৃত প্রতিভাকে অনাহূত করে তুলছি?

আমার পছন্দের পরিপূর্ণ প্রকাশ এখানে ঘটবে না

নিজের পাঠকের জন্য আপনার পছন্দের কিছু বইয়ের নাম বলুন।

নিজের পছন্দের বইয়ের তালিকা করাটা আসলে খুব মুশকিল। কেননা প্রকৃত তালিকা বেশ দীর্ঘ হবে। ফলে সংক্ষিপ্ত পথ ধরা ছাড়া উপায় দেখছি না। বলে নেয়া ভাল, যেসব মহান সাহিত্যিকরা এখনো তুমুলভাবে সক্রিয় আছেন তাঁদের সৃষ্টিকর্ম তালিকায় রাখছি না। এ কারণেই আমার পছন্দের পরিপূর্ণ প্রকাশ এখানে ঘটবে না। যাই হোক, তালিকাটা এমন : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মেঘনাদবধ কাব্য, রবীন্দ্র রচনাবলী। এছাড়া যাদের প্রায় সকল কবিতাই আকর্ষণ করে তাদের মধ্যে আছেন কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান, শহীদ কাদরী, বিনয় মজুমদার, আবুল হাসান, পাবলো নেরুদা, গার্সিয়া লোরকা, নিকানোর পাররা, কাহ্লিল জিবরান, মাহমুদ দারবিশ প্রমুখ।

প্রভাষক, বাংলা বিভাগ
সরকারি মুজিব কলেজ
কম্পানিগঞ্জ, নোয়াখালী
বইয়ের প্রচ্ছদ : সঞ্জীব পুরোহিত
mostafahamedchd@gmail.com