হোম সাক্ষাৎকার কবিকহন : জুবিন ঘোষ

কবিকহন : জুবিন ঘোষ

কবিকহন : জুবিন ঘোষ
372
0
10967727_896710033707452_1942546418_n
জুবিন ঘোষ; জন্ম : ২১.০৮.১৯৮২, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

স্বতঃস্ফূর্ত হতে হতেই একদিন কোনও একটা স্বর স্বকীয় হয়ে ওঠে

স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্যে কোনটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?

স্বকীয়তা হচ্ছে নিজস্বতা। নিজের লেখার আঙ্গিকের একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করা। যেটা দেখলেই চেনা যাবে এটা অমুক কবির লেখা। স্বকীয়তা সচেতন বা অবচেতন দুইভাবেই আসতে পারে। কবিতাকে অনেকে শ্রেষ্ঠ শিল্পের আসনে বসিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে শিল্পের প্রাথমিক শর্ত হলো ভাবনা ও নির্মাণ। এই নির্মাণ অবচেতনের ভ্যালোরির সেই প্রথম পঙ্‌ক্তি আসার মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতে পারে পরপর পঙ্‌ক্তিগুলো। আবার কখনও প্রথম পঙ্‌ক্তি বা পরের পঙ্‌ক্তিগুলি আসার পর তাকে শিল্পের পর্যায়ে উত্তীর্ণ করার জন্য সচেতনে নির্মাণ করা যায়। কিন্তু দেখতে হবে সেটা যেন ছাপার জন্য ঘর-বাড়ি নির্মাণ করার মতো না হয়। স্বতঃস্ফূর্ততা হলো কে সেই নির্মাণকে সহজাত প্রবৃত্তি করতে পেরেছে। সেই সহজাত পদ্ধতি যদি কবি নিয়মিত একটা লেখার আঙ্গিক তৈরি করেন সেটাই তার স্বকীয়তা হয়ে যায় যা কবির স্বরকে আলাদা করে চেনায়। আমার নিজের মতে স্বকীয়তার থেকে স্বতঃস্ফূর্ততাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্বতঃস্ফূর্ত হতে হতেই একদিন কোনও একটা স্বর স্বকীয় হয়ে ওঠে।

 কবিতা লেখার আগেই যদি কবি ভাবতে বসে আমার কবিতা সবার থেকে আলাদা হবে, তাহলে কিন্তু নির্মাণের শুরুতেই সে নিজের স্বতঃস্ফূর্ততা নষ্ট করে দেয়

আমি নিজে দেখেছি প্রকরণ জেনে ও তাকে মিলিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা কবিতা হয়ে ওঠে না, প্রকরণটা বাহ্য, আসলে বোধটা খুব জরুরী। তার সঙ্গে জরুরী শিল্পবোধ। দেখার ভঙ্গিটাকে আলাদা হতে হবে। আসলে প্রতিভা থাকলেই হয় না, লিখতে লিখতে ভাষাটা তৈরি হয়। যে কোনো শিল্পের মতো এটাও কবিকে চর্চা করতে হয়। প্রকরণ মিলিয়ে ছাঁচে ফেলে দিলেই কবিতা হয় না । ভালো কবিতা হয়ে ওঠার জন্য ভীষণভাবে সেই ম্যাজিকটা দরকার যার মাধ্যমে কিছু মানুষ তার সঙ্গে সম্পর্ক (রিলেট) করতে পারে। কবিতার মধ্যে কোনও একটা দর্শন থাকা ভীষণ জরুরি। কবিতা লেখার আগেই যদি কবি ভাবতে বসে আমার কবিতা সবার থেকে আলাদা হবে, তাহলে কিন্তু নির্মাণের শুরুতেই সে নিজের স্বতঃস্ফূর্ততা নষ্ট করে দেয়। কবি-মনের কথা বলার আগেই সেটা বানানো হয়ে যায়। সেটা হয়তো কোনও ভালো কাগজে ছাপা হয়ে যাবে, কিন্তু কবিতা লিখিয়েটি কি কবি হয়ে উঠবেন? অহরহ এইরকম লক্ষ লক্ষ কবিতা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগটাই হারিয়ে যাচ্ছে।

 দেখবেন সদ্যপ্রসূত যদি না কাঁদে, তবে তাঁকে ঝাকিয়ে বা পেছন থেকে থাবড়া দিয়ে কাঁদাতে হয়। প্রথম বাক্যটার পরে এই থাবড়া দিয়ে কাঁদানোর চেষ্টাটাই হলো সেই সদ্যজাত কবির প্রথম কাজ

যে সব শব্দ আমরা শিখি ঘটনাচক্রে সচেতন (Consciously) বা অবচেতনভাবে (Sub-consciously) সেই শব্দগুলো হঠাৎই আমরা কোনও একদিন সাজিয়ে ফেলি । প্রথমে সেটা একটা বাক্য হয় । কখনও সেই বাক্যটাই হয়তো একটু অন্যরকম চেহারা নেয়, তার মধ্যে কোথাও যেন একটা গর্ভাবস্থা লক্ষ্য করা যায়, কোথাও একটা সম্ভাবনা উসকে দেয়। সাধারণ একটা মানুষ থেকে কবি হয়ে ওঠার প্রাথমিক স্তরটাই হলো সেটা–কবি হল সে যে সেই সম্ভাবনাটাকে প্রথমেই চিনতে পারে, তাকে একটু সাজাতে ইচ্ছে হয়। আগে বা পরে কিংবা একেবারে বাক্যের পেটের মধ্যে নতুন শব্দ যোগ করতে বা ছেঁটে দিতে ইচ্ছে করে। এই ইচ্ছেটা হল দ্বিতীয় তাড়না–বলতে পারেন কবিতা-মতো একটা লেখা হয়ে ওঠার আরেকটা সিঁড়ি। সেভাবেই দাঁড়িয়ে যায় অপরিণত বা পরিণত কিছু পঙ্‌ক্তি। প্রথম লেখার ক্ষেত্রে কোনও “ইজম” মানে না–সেটা যথার্থই হয়ে উঠতে চাওয়া বা হঠাৎ হয়ে ওঠা প্রথম সন্তানের মতো। দেখবেন সদ্যপ্রসূত যদি না কাঁদে, তবে তাঁকে ঝাকিয়ে বা পেছন থেকে থাবড়া দিয়ে কাঁদাতে হয়। প্রথম বাক্যটার পরে এই থাবড়া দিয়ে কাঁদানোর চেষ্টাটাই হলো সেই সদ্যজাত কবির প্রথম কাজ। এই থাবড়া দিতে দিতেই কবি একদিন শিখে যান কতোটা জোড়ে থাবড়া দিলে কবিতাটা সোচ্চার হয়ে উঠবে। এই সময়টায় কবি তার নিজস্ব ভাষার সন্ধান করছেন। দেখতে দেখতে একদিন আর থাবড়া দিতে হবে না, জন্মলগ্নেই বাচ্চাটা কাঁদতে শুরু করে–তখন বুঝতে হবে কবি তাঁর নিজস্ব ভাষা পেয়ে গেছেন।

 কবিতাকে সামগ্রিকতা দিয়ে দেখার দিন ফুরিয়েছে, আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে কবিতার আলোচনাগুলোতেও সামগ্রিকতার বদলে পঙ্‌ক্তিনির্ভর হয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে

10924808_801448693278787_5203056254684849613_n
আগুনমুখা প্রকাশনী (বাংলাদেশ), অমর একুশে বইমেলা, ২০১৫

ইদানীং কালে বহুরৈখিকতার নাম করে যা খুশি চালানোর একধরণের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। বহুরৈখিকতার দোহাই দিয়ে ঢাকা হচ্ছে দুর্বলতা। চিন্তার অসংলগ্নতার ফলে সৃষ্ট বিভ্রমের জালে নিজেরাই জড়িয়ে যাচ্ছে। শূন্য দশকের কবিতায় সর্বাগ্রে এভাবেই নজরে পড়ছে স্বাতন্ত্রহীনতা বা স্বতন্ত্র কাব্যভাষা সৃষ্টির ব্যর্থতা। একটা সামগ্রিক সমষ্টিগত সুর বেজে চলেছে। কবিতা থেকে কবির নামটুকু কেটে দিলে কেউ আলাদা নয়। সবাই কবি হয়ে যাচ্ছে এভাবেই। তবুও আশার কথা এর মধ্যেও বেশ কয়েকজনের কবিতাতে তীব্র জীবনবোধ ও দর্শন ধরা দিচ্ছে। কিছু কবিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকৃত বহুরৈখিকতায় উতরে যাচ্ছে। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই নিভৃতচারী। এই প্রতিযোগিতা নামক প্রেতাত্মার হাওয়াটি তাদের গায়ে লাগে নি। দর্শনের অভাব, কিছু বলার তাগিদের অভাব কবিতার ভেতরটাকে ফাঁপা করে দিচ্ছে। প্রত্যেকের লেখাতেই একধরণের একঘেয়েমি কাজ করছে। সার্বিকভাবে একটা কবিতা হয়ে ওঠাটাই কাল-উত্তীর্ণতার প্রথম শর্ত। সেখানে শূন্য দশকের কবিতা সার্বিকতার বদলে পঙ্‌ক্তিসর্বস্ব হয়ে দাঁড়াল। কবিতাকে সামগ্রিকতা দিয়ে দেখার দিন ফুরিয়েছে, আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে কবিতার আলোচনাগুলোতেও সামগ্রিকতার বদলে পঙ্‌ক্তিনির্ভর হয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে। তার প্রধান কারণই হল এই চরিত্রবদল ও সামগ্রিকভাবে একটি কবিতা খাড়া করতে পারার কবির ব্যর্থতা। সামগ্রিক একটি কবিতা একরৈখিকভাবে পূর্ণতা পেল কিনা, সেইদিকটার আর প্রশ্নই থাকে না, বদলে দেখা গেলো তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বহুরৈখিক কবিতায় পঙ্‌ক্তিবিশেষ কতটুকু কবিতা হয়ে উঠল। মানে একটি পঙ্‌ক্তি কতটা কবিতা হয়ে উঠছে। মানে ওই একটি পঙ্‌ক্তি বার করাটাই যেন কষ্টসাধ্য হয়ে গেল। এটা একটা ক্রাইসিস। কবি ভুলে যাচ্ছেন যে সেই বহুরৈখিকতার নিয়ন্ত্রণটি কিন্তু সুকৌশলে কবির হাতেই থাকে। পাঠক কী কী স্পেস বার করতে পারে সেটা কবির নিয়ন্ত্রণাধীন। সেটাই তো সম্মোহনের শর্ত। সেটাই তো শিল্প হে! কবিতার মতো দেখতে কিছু প্রকাশ করাই কবিতা নয়। কবিত্ব নয়। কায়কোবাদ বলেছেন, ‘কবি হওয়ার ক্ষমতা মানবের নহে।’ তাই আজকের যুগে স্বকীয়তা মানে অনেকটা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পড়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ততার অভাবে কবিতা লিখিয়েটি হয়ে উঠছেন কবির কবি, মানুষের কবি নন।

 ছন্দ শিক্ষার বইগুলি হল অনেকটা সহজপাচ্য খাবারের মতো। খিদে পেয়েছে, দোকানে গেলাম আর কিছুটা ফাস্ট ফুড খেয়ে নিলাম

কবিতার কথা উঠলেই দুটো প্রসঙ্গ চলে আসে—ছন্দ এবং দশক। দুটো বিষয় নিয়ে আপনার কী পর্যবেক্ষণ?

ছন্দটা ঠিক শেখা যায় না অনুভব করতে হয়—তাল-জ্ঞানটা শিখতে হয়। আমরা দেখেছি সাহিত্য বলতে সবার আগে কিন্তু কবিতাই এসেছে। তাও সেটা ছান্দিক। পরে গদ্য। গদ্য তো সেদিনকার ব্যাপার। কবিতার ইতিহাসে ছন্দই কিন্তু বরাবর ছিল। সেই রামায়ণ, মহাভারত বলুন কিংবা অন্য কাব্য। সেই সময় কিন্তু ছন্দ শিক্ষার জন্য কোনও বই ছিল না, ছন্দের বারান্দাও ছিল না, কবিতার ক্লাসও ছিল না। তাহলে ছন্দ কবিরা কী করে শিখল ? ছন্দটাকে অনুভব করে। যে যত ভালো অনুভব করতে পারে সে তত রকমারি শব্দের অনুরণনকে ধরতে পারে। তারপর শুরু হবে অনুভব ও কানের কাজ। ছন্দ শিক্ষার বইগুলি হল অনেকটা সহজপাচ্য খাবারের মতো। খিদে পেয়েছে, দোকানে গেলাম আর কিছুটা ফাস্ট ফুড খেয়ে নিলাম। স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, মিশ্রকলাবৃত্ত প্রভৃতি নাম দেওয়া হল সাইন্টিফিক্যালি। কিন্তু সেটা সাইণ্টিফিক্যালি না জেনেও অনেক কবি নির্ভুল ছন্দে কবিতায় প্রয়োগ করেছেন। কীভাবে করেছেন ? কানের সাহায্যে। তাই কানটাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। অনুভব করতে হবে প্রতিটা শব্দতরঙ্গের মূর্ছনাকে। হ্যাঁ, তবে, ছন্দজ্ঞানকে পড়ে রপ্ত করে প্রয়োগ করার মধ্যে সুবিধা হল, তুমি সায়েন্টিফিক্যালি ছন্দ ধারণার মধ্যে আছ। শিল্পে সেটা অবশ্যই জরুরি। আর আমি মনে করি ছন্দে রপ্ত হওয়া প্রত্যেক কবির প্রাথমিক কাজ। আমি ছন্দ জানলাম না, তা নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করলাম না আর একের পর এক গদ্যকবিতা লিখে গেলাম, সেটা কবিদের পক্ষে খারাপ প্রবণতা। কারণ গদ্যকবিতার মধ্যেও এই ছন্দের রস এক অপূর্ব মাত্রা দিতে পারে কবিতার উত্তীর্ণতায়। ছন্দটাকে আগে জানো। তারপর ভাঙো। তাতে কবি আরও পরিপূর্ণতা পায়। এটা অনেকটা ছোটবেলায় আঁকতে শেখার আগে কয়েকটা নিখুঁত গোল আর সরলরেখা টানা শেখার মতো। ওগুলো শেখা ছাড়াই বিমূর্ত চিত্র আঁকার মতো ছন্দ না জেনে গদ্যকবিতা লেখার ব্যাপারটাও ফাঁপা হবে।

 করে দেখান তো হিন্দি সিংহাবলোকন ছন্দের অনুকরণে বাংলা একটি কবিতা

আর একটা কথা, অনেকেই ছন্দ নিয়ে নাক সিঁটকান। ভাবটা এমন যেন ছন্দ মাত্রই আধুনিকতার পরিপন্থী। ছন্দে লেখা মানেই কিন্তু ছড়া নয়। আর ছড়া লিখলেও যদি নাক সিঁটকাতে হয় তাহলে বলতে হয় কবি হতে এখনও অনেক বাকি। এমন অনেক কবিতার উদাহরণ দেওয়া যায় যা ছন্দে লিখেও উত্তরাধুনিক। ছন্দে লেখা আধুনিকতার পরিপন্থি নয়। সেটা একধরণের গোঁড়ামি এবং ভুল বোঝার ফল। ছন্দ একটা মাধ্যম। কিছু কথা হয়তো ছন্দে মনের মধ্যে এলো সুতরাং সেটা ছন্দে লেখাই শ্রেয়। যেটা যেভাবে আসছে সেটা সেভাবেই আসতে দেওয়া ভালো। শিল্পে ও আবেদনে উত্তীর্ন হচ্ছে কিনা সেটাই আসল কথা। করে দেখান তো হিন্দি সিংহাবলোকন ছন্দের অনুকরণে বাংলা একটি কবিতা। বাজি রাখছি–ফেটে যাবে।

 এই যে পাকিস্থানের যে স্কুলে নারকীয় সন্ত্রাসবাদী ছাত্রহত্যা ঘটে গেল এটা তো জীবনানন্দ দেখেন নি

10441283_801448923278764_4240257334012620728_n
আশালয় প্রকাশনী (বাংলাদেশ), অমর একুশে বইমেলা, ২০১৫


দশক বিভাজনটা অনেকেই মেনে নেন না, বলেন, ‘কবিদের আবার দশক কী ! জীবনানন্দকে তবে কোন দশক বলব, রবীন্দ্রনাথকেই বা কোন দশক বলব।’ আমার মতে ‘দশক’ একটা কবির দেখার সময়ের দর্শনকে নির্দেশ করে। তার আশপাশ দিয়ে প্রবাহমান সাম্প্রতিক সময়টাকে কবি কীভাবে দেখছেন, কোন সময়কে তিনি দেখেছেন—সেটা বোঝা যায়, কবির কবিতাগুলিকেও সেই সময় ধরে অনুভব করা যায়। কবি একাধারে যেমন একজন দার্শনিক তেমনই তিনি একজন চলমান হিস্ট্রি চ্যানেল। এই যে পাকিস্থানের যে স্কুলে নারকীয় সন্ত্রাসবাদী ছাত্রহত্যা ঘটে গেল এটা তো জীবনানন্দ দেখেন নি। তিনি দেখেছেন ৪৬-৪৭, রবীন্দ্রনাথ দেখেছেন বঙ্গভঙ্গ। তেমনই রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ ‘শাহবাগ আন্দোলন’ দেখেন নি, ‘#হোক কলরব’ বা ‘#হোক চুম্বন’-এর মতো আন্দোলন নিশ্চিন্ত ভাবনার অতীত ছিল তাঁদের। এইসব ঘটনাকে ঘিরেই কত কবিতা তৈরি হয়েছে। তাই আমি কিন্তু সেই দেখাটার উপরেই জোর দিয়ে এই সময়ের সাম্প্রতিকতম তরুণ কবিদের কবিতাকে দ্বিতীয় দশক বিভাজনের মাধ্যমেই দেখার চোখ আর আধুনিকতা ও সাম্প্রতিকতাকেই খুঁজব।

 এখানে কেন যে বাংলাদেশের বইগুলো পাঠানো হয় না! খুব কম বই আসে

নিজের পাঠকের জন্য আপনার পছন্দের কিছু বইয়ের নাম বলুন।

যেগুলোই অ্যাভেইলেবল হয় আমি গোগ্রাসে পড়ে ফেলি। তবে কিছু প্রিয় কবির নামোল্লেখ করা যায় এভাবে : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী, আল মাহমুদ,  শামসুর রহমান, নির্মল হালদার, নবারুণ ভট্টাচার্য, বিভাস রায়চৌধুরী প্রমুখ। বাংলাদেশের কবিদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নের উত্তর দেবার সুযোগ আমার খুবই কম। কারণ তাদের বই এখানে তেমন অ্যাভেইলেবল নয়। এখানে কেন যে বাংলাদেশের বইগুলো পাঠানো হয় না! খুব কম বই আসে। তবে পড়েছি বেশকিছু। যেমন ওবায়েদ আকাশ-এর উদ্ধারকৃত মুখমণ্ডল, পিয়াস মজিদ-এর নাচপ্রতিমার লাশ।⌈⌋

ক্ষেপচুরিয়াস নামে একটি প্রিন্টেড ম্যাগাজিন ও ফেসবুকে ‘ক্ষেপচুরিয়াস’ গ্রুপের সম্পাদনার সাথেও যুক্ত। বর্তমানে www.khepchurian.blogspot.in নামে একটি ব্লগও তিনি পরিচালনা করছেন ।
jubgho@gmail.com
ju@gmail.com'
ju@gmail.com'

Latest posts by জুবিন ঘোষ (see all)