হোম সাক্ষাৎকার কবিকহন : জব্বার আল নাঈম

কবিকহন : জব্বার আল নাঈম

কবিকহন : জব্বার আল নাঈম
329
0
10834854_844120035627488_7053859375744440071_o
জব্বার আল নাঈম

ব্যক্তির স্বকীয়তা না থাকলে স্বতঃস্ফূর্ততা অাসবে কোথা থেকে

স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্যে কোনটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?

স্বকীয়তা থেকেই স্বতঃস্ফূর্ততার অাবির্ভাব। কোনোটার চেয়ে কোনোটার গুরুত্ব কম নয়। তাই অালাদা করে বলাটা একটু কঠি। এর পরও যদি পক্ষের কথা বলেন, তাহলে বলতে হবে, স্বকীয়তার কথা। ব্যক্তির স্বকীয়তা না থাকলে স্বতঃস্ফূর্ততা অাসবে কোথা থেকে?
শুধু মানুষ কেন, প্রত্যেকটা প্রাণীরই অালাদা একটা স্বকীয়তা অাছে। অাছে ভাব এবং ভাষা। অার এসবের প্রকাশকে বলা যায় স্বতঃস্ফূর্ততা।

ছন্দ ব্যবহার করাটা কবির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে

কবিতার কথা উঠলেই দুটো প্রসঙ্গ চলে আসে—ছন্দ এবং দশক। দুটো বিষয় নিয়ে আপনার কী পর্যবেক্ষণ?

জীবন ছন্দময় হলে কবিতায় ছন্দ থাকবে না কেন? কবিতায় ছন্দ অাছে। প্রাচীনকালের কবি সাহিত্যিকগণ ছন্দ দিয়ে দিয়ে কবিতা বলতেন। এর মূল কারণ অনুধাবন এবং সহজে মনে রাখার সুবিধা। ঐ সময় হাতে লেখার সুযোগ ছিলো কম। তাই মুখে মুখে কবিতা বানানো হতো। ছন্দময়তার কারণে সহজে তা মনে রাখা যেত। এখনকার কবিরা সেই সময় অতিক্রম করেছে। কাগজ পেয়েছে। অনেক প্রযুক্তি পেয়েছে। সো, মানুষ মনে রাখার জন্য অনেক মাধ্যম পাচ্ছে। অার কবিতা লিখতে অাসলে ছন্দ জানাটা জরুরি। তবে হ্যাঁ, ছন্দ ব্যবহার করাটা কবির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে।

অনেকের ধারণা দশক ধারণ করা হয় মূলত দুর্বল কবিদের তালিকায় ধরে রাখার জন্য

দশক জিনিসটা অামার কাছে ভালো লাগে না। এই চক্র সিরিজে অনেকে ভালো কবিও অাবদ্ধ হয়ে গেছেন। অনেকের ধারণা দশক ধারণ করা হয় মূলত দুর্বল কবিদের তালিকায় ধরে রাখার জন্য। কিন্তু, এই দশক নিয়ে এতো লাফালাফি করার কী অাছে? তা না করে বরং ভালো কোন কাজ নিয়ে ভাবা উচিত।

নিজের পাঠকের জন্য আপনার পছন্দের কিছু বইয়ের নাম বলুন।

10306555_847054038667421_2452540959342177780_n
শুভ্র প্রকাশনী, অমর একুশে বইমেলা, ২০১৫

যদিও এ তালিকাটা বেশ লম্বা, অাবার সময়ে সময়ে পরিবর্তনশীল। অাগে বাংলা সাহিত্যের কথা বলি। অাবারও পড়তে ইচ্ছে হয় অাকতারুজ্জামান ইলিয়াস-এর চিলোকোঠার সেপাই, হাসান অাজিজুল হক-এর অাগুন পাখি, অধ্যাপক শাহেদ অালী’র জিব্রাইলের ডানা, অাল মাহমুদের কাবিলের বোন। এছাড়াও অাবুল হাসান এবং অাবিদ অাজাদের কথা উল্লেখ করব। আর মধুসূদন, জীবনানন্দ, জসীম উদ্দিন, রবীন্দ্রনাথ তো আছেনই।


বিদেশী লেখকদের মধ্যে শেখ সাদী’র গুলিস্তাঁ ও বোস্তাঁ, অাল্লামা ইকবাল-এর সিকওয়া এবং জবাবে সিকওয়া, ফিওদর দস্তয়ভস্কি’র ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট, অরুন্ধতী রায়-এর দ্যা গড অব স্মল থিংস, রাহুল সংকৃতায়নের ভোলগা থেকে গঙ্গা, খুশবন্ত সিংয়ের লেখা। এছাড়াও অারো বই আছে যা এই মুহূর্তে মনে অাসছে না।
কবি
বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেছেন

জব্বার আল নাঈম

জন্ম ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬; মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর। হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স। পেশায় সাংবাদিক।

প্রকাশিত বই :
তাড়া খাওয়া মাছের জীবন [কবিতা; শুভ্র প্রকাশ, ২০১৫]
বিরুদ্ধ প্রচ্ছদের পেখম [কবিতা; বিভাস প্রকাশন, ২০১৬]

ই-মেইল : jabbaralnayeem@gmail.com

Latest posts by জব্বার আল নাঈম (see all)