হোম গদ্য হারানো নদীর সাথে নৈশভোজ

হারানো নদীর সাথে নৈশভোজ

হারানো নদীর সাথে নৈশভোজ
693
0

কোনো এক অপাপবিদ্ধ বেদে কবির করতলে যে তিনটি রেখা দেখে আঁতকে উঠেছিলেন এবং সাবধান করেছিলেন যেন আর কোনোদিন কেউ না দেখে সেই ত্রিপদ্মের আয়ু সে-সবই হয়তো পাতায় পাতায় ভরে তুলেছে কবিতা নামক অধরাখণ্ড। যেন কখনোই আর পার হওয়া যাবে না সেই বৃদ্ধ জাদুকরের গল্প যে খুব সহজেই পোষ মানিয়েছিল অ্যানাকোন্ডাদের। সজল সমুদ্রের কবিতা পড়তে গিয়ে এমনই নিদারুণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে বারবার।

সমাজ-সংসার-রাষ্ট্র এবং যে হাওয়ামুখর প্রতিবেশ চারদিকে তার সামনে কেবল নীরব হয়েই দেখতে হয় সজলের কবিতা। যেন কোলাহল ছাপিয়ে আমরা সেই চূর্ণ আয়নার সামনে দাঁড়াই যার প্রতিটা বিম্বের ফাঁকে ধরা পড়ছে অজস্র নৈঃশব্দ্যের হাহাকার। ৯০ পরবর্তী কবিতায় যে ইশারাভাষ্য বিনির্মিত হয় তারই সুপার জাতক সজলের কবিতা। পাতার পর পাতায় রচিত হয়েছে ডালিমের স্ফটিক বেদনা এবং সেইসব ফুলেদের আত্মজীবনী যারা না-ফোটা রেণুর দিকে তাকিয়ে পার হচ্ছে তুমুল শীত অথবা অপর গ্রীষ্মবাস্তব।

ডালিম যেভাবে ফোটে ঠিক কী কারণে এই কবিতাগ্রন্থকে এই সময়ের উজ্জ্বল শস্য বলা যেতে পারে—তার একটা মনোবিশ্লেষণ তো করাই যেতে পারে! সে অবশ্য একান্ত আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। যে কোনো পাঠকই ভাবতে পারেন অন্যভাবে অন্য কোনো পরাপদ্ধতির শরণ নিয়ে।


এই কবিতাগুলোর সবচেয়ে বড় গুণ এর স্লোনেস


এই কবিতাগুলোর সবচেয়ে বড় গুণ এর স্লোনেস; স্লোনেসের বাংলা কী হতে পারে—মন্থরতা? কিন্তু এই মন্থর শব্দটি সজলের কবিতাকে ধারণ করতে পারে না বলেই আমার বিশ্বাস; সেখানে এক ধরনের প্রথাগত টুলস এসে পড়ে অগোচরেই, যেমন—ধীর লয়। কিন্তু সে অর্থে সজলের এই কবিতাগুলি ঠিক ধীর লয়ের নয় বরং ইশারা-কথনের মধ্য দিয়ে এমন এক অদেখা সময় আমাদের স্নান করায় যার যোগ্য প্রতিশব্দ হতে পারে কেবল ‘স্লোনেস’।

বিশ্ব এবং বাংলা সাহিত্যের যে মণিগ্রন্থগুলি আজও পাঠকের জানালায় ঠায় দাঁড়িয়ে সরোদের সুরের মতো ছড়িয়ে দেয় সুন্দরের বিষ তাদের সবারই যে আপ্ত বিশিষ্টতা—আমার ধারণায়—সে হয়তো ঐ স্লোনেস। যেমন ধরুন এই কবিতাটি—

পৃথিবীকে, তোমার দিকে হেলে পড়া আশ্চর্য কোনো ল্যাম্পপোস্ট মনে হয়।
এই এখন যেমন ; ভোর-ভোর, তোমাকে ডেকে তুলছে কানাডার সকাল!
আর, মাথাভর্তি মুখরতা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছি, এদিকে।

[ল্যাম্পপোস্ট]

প্রশ্ন হলো, ঠিক কিসের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আমি স্লোনেসকে ডিফাইন করতে চাই? এক ধরনের ক্যাওস-এর বিপরীতে যখন শান্ত-সৌম্য বুনন প্রথাবদ্ধ লিনিয়ারিটিকে অতিক্রম করে গড়ে তোলে মন্দ্রিত ভাষাবিশ্ব, চেতন-অবচেতন-অচেতনের সীমা পেরিয়ে তূরীয় অনুভবের দিকে কবিতা তৈরি হতে থাকে, হয়তো তখনই সাপের জিহ্বার মতো লকলকে সেই স্লোনেস হাজির হয় টেক্সটে। এ যেন হাতের মুঠোয় মরুভূমির শুকনো বালু, একটু শিথিল করলেই সর সর করে উড়ে যাবে অনেক দিগন্তের দিকে। ভাবা যাক :

শান্ত, চুপচাপ একটা লাটিম শুধু দুটো বালিশের মাঝখানে ঘুরছে …   [ ল্যাম্পপোস্ট ]

এই যে মোমের শুশ্রূষা আর সন্ত পিঁপড়েদের কৌশলে সজল কথা বলেন তা যেন নিখিল কোনো চিৎকার পেরিয়ে ঢুকে যায় মর্মপরিধির সেই সুষুম্নাকাণ্ডে যেখানে চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকে দূরপরাহত এক সাইলেন্স ।

যে ভূগোলের মধ্যে কবির জন্ম, বঙ্গের হিসেবে সেটি উত্তর। যার সাথে মিশে আছে বাংলা কবিতার খুব গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন শক্তিশালী কবির নাম। তো, এটা বোধ’য় খুব একটা অনর্থক হবে না যে, ঐ সমস্ত কবির চেতনা ও যাপনের সঙ্গে সজলের যাপনের মিল থাকবে কথায়-কাজে-ভাষায়-চিন্তায়। কিন্তু বেশ অবাক হবার মতো ব্যাপার এই যে, উত্তরের সহজ-সরল মাটিবর্তী কিছু আচরণ বাদে ডালিম যেভাবে ফোটে-র কবিতাগুলি নির্মাণ করেছে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রবণতা-কাঠামো।

ভাষাকে এলায়িত না করেও কবিতাগুলো একের পর এক রচনা করে এমন ঐকতান যেখানে পাঠকের নাভিশ্বাস ফেলতে হয় না, হয়রান হতে হয় না। কারণ সজল তার টেক্সটের মধ্যে কোনো কিছু আরোপ করেন না। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি নিয়ে যান এক ধরনের মখমলে বাক্যের দিকে, পাঠকের অপার স্পেস যেখানে অপেক্ষা করছে টেক্সটগুলিকে নিজের করে নেবার দিকে। নিজের চেতনের সঙ্গে অদৃশ্য সেতু গড়ে নিতে। বলে রাখা ভালো যে, ৯০-এর কবিতায় বেশ কয়েকটি ভাষিক ঘরানা তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো বাংলা কবিতায় কিছুটা তো রয়েই গেছে; কিন্তু সজল তৈরি করতে পেরেছেন তার নিজস্ব ভাষা ও থ্রোয়িংভঙ্গিমা। এবং অভিধানের বহিরখণ্ড থেকে তুলে এনেছেন এমন সব মুক্তোজ্জ্বল কয়েনেজ এবং সিন্ট্যাক্স, যার সামনে নতজানু হই বারবার। কবিতার চলতি মিনিং-সারফেস ভেঙে কবি আঁকতে শুরু করেন অনির্দিষ্ট অর্থসংসার।

সমস্ত বাগান ঘুরে দেখা হলো নাকফুল কোথাও ফোটে নি।   [ মূক ]

এ এক অন্যরকম দেখা। নাকফুল কি ফোটে? প্রথম পাঠে অসহ্য আশ্চর্যের মুখোমুখি হতে হয়। এ তো বাঙালি বিবাহিত নারীদের সুখচিহ্ন। ধাতু বিশেষ। ফোটা না ফোটার বাইরে তার অবস্থান। কিন্তু কবির দৃষ্টি তাকে ছেঁকে এনেছে এমন এক অভিজ্ঞতায় যা সত্যমিথ্যার প্রভেদ থেকে অজস্র উত্তর দূরে।

প্লানেটোরিয়াম ঘুরে এসে মনে হয় – শীত এক পরিম্লান ঋতু,
যার অনড় কুয়াশা আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অনির্দিষ্টকাল;
আর নির্দ্বিধায় জড়িয়ে ধরতে পারছি না, পরস্পর …

[অপরাপর]

কুয়াশা, সেও আবার অনড়। আমাদের পরিচিত কুয়াশারা কখনো কি অনড় ছিল? হয়তো, বা না। কিন্তু কবি তার নিজস্ব পরিম্লান ঋতুতে এমন এক অভিজ্ঞতার কাছে অসহায় হয়ে যান যখন পরস্পর কাছাকাছি, কিন্তু কেউ কাউকে জড়িয়ে ধরতে পারছেন না। মাঝখানে কুয়াশাই বাধা শুধু। এইসব মিস্ট ঠিক কিসের? কতখানি তার সান্দ্রতা? হয়তো এত বেশুমার যে সেই সেন্সকে ধরতে অভিধান নগণ্য হয়ে যায়। তখন কেবল কবির দরোজা খুলতে শুরু করে এবং রাজকন্যা-জাগানো জিয়ন-কাঠি হয়ে চলে আসে ‘অনড়’ শব্দের বিভা। এটাই তো কবির মুক্তি।

এত ছোট ডায়েরির ভেতর—আকাশি রঙের বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্ম কিছুতে ধরে না…   [আকাশি রঙের বৃষ্টি ]

কোনোদিন ভেবেছি কি, আদতে বৃষ্টির রঙ কী হতে পারে? বৃষ্টি কি আকাশেরই প্রতিভা? কিন্তু কবির কাছে এ এক অন্য জগৎ। যেখানে বৃষ্টি আকাশের কালার নিয়েই উজ্জ্বল। ঐসব বৃষ্টিফোঁটার ভেতর যে বায়ুবুদবুদ তা হয়তো আকাশের চিঠির সারাংশকে অনুবাদ করছে গ্যাসীয় বর্ণের বিভায়? তাই কি? জানি না! কিন্তু যে অনুভব আমরা এই আনট্রেডিশনাল দেখা থেকে পাই তাই হয়তো ঐকতান।

যেখানে পাহাড়ের সাথে চূড়াদের ঝগড়া হয়, খুনোখুনি হয় …    [ ধাঁধাবনে ]

ঐদিকে, আকাশে রুপার গল্পে উড়ে যায় কাঁসার শালিক…    [ শীত ]

এইসব টেক্সটে কবি যে স্বাধীনতা নিয়েছেন, যৌক্তিক চিন্তা-কাঠামো ভেঙে কেবল নন্দন তৈরি করতে সেটাই কবিতার ডেস্টিনেশন বলে মনে হয় আমার। এবং যাকে আমি বলতে ভালোবাসি ‘পরিচিত অপর’। সেই পরিচিত অপরেরই একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক, কবি সজল সমুদ্র।


যেন গমের বাগান-ঘেঁষে কেউ একজন অনন্ত বাজিয়ে যাচ্ছেন সেতার আর এক ফ্লেমিঙ্গো উড়ছে ‘ডান্সিং ইন সাইড মি’ হয়ে।


মেমোরি এবং ডিজায়ার-এর এক অদ্ভুত কুয়াশা। এই যে স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষার বয়ান, মানুষমাত্রই এরই কাছে ফিরে যায় পরিশেষে। এবং বিম্বিত করে আত্মভঙ্গুর কাচ। কবিতা কি অনশ্বর কোনো প্রত্যাদেশ নাকি মন-প্রতিক্রিয়ার ফসল? এক আদিঅন্তহীন বিভ্রমের জায়মান অথবা অনেক কাল ধরে গড়ে ওঠা এক আর্তশাসিত হাহাকার। যার ভাষা নীরবতা, যার ছদ্মবেশ গভীর কোনো স্মৃতির অন্তর্হিত প্রাচীর। কখনো দুলে ওঠে মায়া ও ব্ল্যাক ম্যাজিকের দ্যোতনায়। সজলের কবিতাও ঠিক সেই সুরেই কথা বলে। যেন গমের বাগান-ঘেঁষে কেউ একজন অনন্ত বাজিয়ে যাচ্ছেন সেতার আর এক ফ্লেমিঙ্গো উড়ছে ‘ডান্সিং ইন সাইড মি’ হয়ে।

তুমি কি তারো দূরে, পরাগ-হারানো কোনো মুখরতা হয়ে
নিহিত স্তব্ধতার মতো লুকিয়ে পড়েছ ?

[নিহিত]

যে নিহিত স্তব্ধতার মধ্যে কবির প্রাপ্য মুখরতাটুকু হারিয়ে গেছে কেবল স্মৃতিমিনারের পাশে দাঁড়ালেই পাওয়া যেতে পারে তার নিপাট দূরত্ব। এ কি সেই রাস্তার বয়ান যা অসমবেত আর আধোভাঁজ পৃষ্ঠার মতোই? যেন দূরত্ব পেরোনোর ইচ্ছাও বিলীন হয়ে যায় স্মৃতিসমাধির কাছে।

এ লেখা ঈষৎ তুলোট চৈত্রে ফোটা আধোলাল শিমুল-সদৃশ
বহু ঘটনার স্রোতে যারা এসেছে এদিকে, এই ঝোপঝাড়ে
যেখানে ফুলের বদলে ফুটেছে কোকিলের ডিম…

[ঝোপঝাড়ে ]

কেন সেইসব আধোলাল শিমুল-সদৃশ এই টেক্সট? ব্যক্তির প্রচণ্ড মর্ষকামিতার ফলেই জন্ম নেয় অন্য বা অপর-রিক্ততা। সেলফই তখন হয়ে ওঠে স্বয়ম্ভূ। মাস-ডেস্ট্রাকশন তৈরি হতে থাকে আত্ম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাঝে। এ কি সেই পরাভূমি যেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ শুধু তার নিজের ছায়াকেই দাপিয়ে বেড়ায়? তার যেন কোনো ‘অন্য’ নেই, নেই কোনো ‘অপর’! সে এক ফাঁকা বাবলের নাগরিক। এমন পরিস্থিতিই বোধ’য় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে চিরভাসমান বটফলের ঘ্রাণ হয়ে আর ঝোপেঝাড়ে ফুলের বদলে ফোটে কোকিলের ডিম। যে ধুরন্ধর শুধু নিজেরই প্রজাতি রক্ষায়।

এঁকে রাখা আগুন কেবল ধোঁয়ালতা জন্ম দিয়ে রাখে
তাকাবে তো বিস্মরণ তাড়িয়ে বেড়াবে;

[সন্তাপ]

এই যে কবির মনঃস্থিতি, তার মৌল চারপাশের মাঝেও তিনি দ্রবীভূত হন অপার আয়েসে এবং শিল্প তার প্রতিশিল্পের পাশ দিয়ে ক্রমশ গড়ে তোলে এমন সব অজানিত ভুবন যার পাহারায় হাজার বছর প্রতীক্ষা করতে হয় এমন কিছু ফ্লোটিং টুলস নিয়ে যা দেখিয়ে দেয় সেমিট্রিক্যাল ওয়ার্ল্ড। এমন থট প্রোসেস আমি সজলের কবিতায় আবিস্কার করতে পারি খুব সহজে। যেমন ধরুন ‘সন্তাপ’ কবিতাটার উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিদুটি। কে না জানে, আগুন কেবল ধোঁয়ালতার জন্ম দেয়, কিন্তু সজল তার থট প্রসেসকে কয়েক রেডিয়ান ঘুরিয়ে এক ধরনের প্রতিসাম্য হাজির করেন এই ধারণা দিয়ে যে, তাকাবে তো বিস্মরণ তাড়িয়ে বেড়াবে। কী এক অদ্ভুত প্রোজেকশন। ডাইমেনশনকে ঘুরিয়ে দিয়ে তিনি সম্পূর্ণ আননোন একটা অভিজ্ঞতাকে মূর্ত করে তুললেন বিমূঢ় চিত্রকল্পে। নিউরনের এ এক দোর্দণ্ড অভিনিবেশ।

এমনই স্মৃতিজার্নি সজলের কবিতায় যে, সেখানে বাদ পড়ে না বহিঃস্থিত কোনো প্রতিবেশী। এবং তিনি শুনতে চান উটপাখিদের স্মৃতি এবং পরাস্ত সূর্যের কাছে পেয়ে যান স্মরণের ঘোরলাগা মুখ—

বলো উটপাখি, কবে, কোথায় হারিয়েছ ডানা; তবু—
অজস্র ধূলিঝড়, এতটা নিরুত্তর কিভাবে পার হয়ে এলে!’

[ মূক ]

কবিতা শেষতক শিল্প, যা ওহির মতো নাযিল হয় না বলেই আমার বিশ্বাস। একজন ব্যক্তি-কবি আর-সব অন্য মাধ্যমের মতো এখানেও রপ্ত করেন তার অস্থির প্রকৌশল। কখনো থিতু হন তার শব্দে-বাক্যে-টোনে আবার কখনো ভেঙে ফেলেন তার পূর্বপারম্পর্য এবং তার থাকে নন্দন সৃষ্টির মেধা ও শ্রম। ফলত খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক কবির থাকতে হয় কিছু নিজস্ব অস্ত্রসুষমা। ভাষাকে বিনির্মাণ করার যোগ্যতম ধ্যান। তাকে জানতে হয় তিনি কী লিখছেন, কেন লিখছেন এবং কিভাবে লিখছেন। তার নন্দনকাঠামো একান্ত তার, যা হয়তো গড়ে উঠেছে অজস্র চেষ্টাপদ্ধতি এবং দেখার ভিন্নতার মধ্য দিয়ে। যে কোনো মহৎ কবিই তার সময়ের ভাষাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান, দান করেন এক বা একাধিক শিল্পিত রূপ। গড়ে তোলেন নিজস্ব ভাষিক তাড়না, যা হয়তো ধীরে ধীরে আক্রান্ত করবে তার জনগোষ্ঠীকে, প্রভাবিত করবে সামসাময়িক এবং পরবর্তী কবিগোষ্ঠিকে। তো এইসব লক্ষণ কি সজলের কবিতায় [বলা ভালো, ডালিম যেভাবে ফোটে-তে] কতটুকু আছে বা তার সাফল্য বা ব্যর্থতা কতখানি। [আমি কিন্তু মোটেও বিচারের দিকে যাচ্ছি না। সে ভার আমি নিতেও অপারগ। শুধু আমার পাঠপ্রতিক্রিয়াই আমি শেয়ার করতে চাইছি। আগামী দিন অন্য কোনোভাবে হয়তো শক্তিশালী কেউ সে দিকে পা বাড়াবেন। আর আমার অবজার্ভেশনের সঙ্গে আমি আপনাকে একমতও হতে বলছি না। সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার নিজস্ব পথেই হাঁটবেন বলে আমার বিশ্বাস।]


একজন কবি যখন তার চেনা বিশ্ব থেকে অনুষঙ্গ নিয়ে চেতন-অবচেতন বা অচেতনের দিকে জার্নি শুরু করেন তখন ভাষাই হয়ে ওঠে তার প্রধান বাহন।


একজন কবি যখন তার চেনা বিশ্ব থেকে অনুষঙ্গ নিয়ে চেতন-অবচেতন বা অচেতনের দিকে জার্নি শুরু করেন তখন ভাষাই হয়ে ওঠে তার প্রধান বাহন। যেভাবে চিত্রকরের আছে রঙ, গায়কের আছে নানান সুরশৈলী এবং ইন্সট্রুমেন্ট। যেভাবে শক্তি বাহিত হয় তরঙ্গের উপর ভর করে। কিন্তু কবির আছে কেবল শব্দ। কবিকে পেরিয়ে যেতে হয় তার সমসাময়িক ভাষাদারিদ্র্য, দাঁড়াতে হয় ভাষিক প্রথার বিপরীতে। বরণ করতে হয় গঞ্জনামুকুট। তো প্রবেশ করা যাক সজলের রসুঁই-ঘরে।

ঠিক কিভাবে তিনি সামাল দেন এত কিছু!

আগেই বলেছি, সজল তার কবিতায় আর্থস্তরের কোনো সীমা টানেন না; পাঠকের জন্য রাখতে চান অনন্য স্বাধীনতা; ফলে এই ধরনের কবিতায় সাধারণত টোটালিটির কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে যে কোনোভাবে। যেহেতু তিনি Open Ended-এ কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই তার কবিতায় আসতে থাকে একের পর দৃশ্য এবং তিনি নানান টুলস দিয়ে সেগুলোকে জুড়ে দেন কৌশলের সঙ্গে। এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়তে গিয়ে এমনই মনে হয়েছে আমার।

সমগ্র ডালিম যেভাবে ফোটে-র কবিতাগুলো লেখা হয়েছে এক প্রকার ইন্টিরিওর মনোলগের মাধ্যমে। কবি যেখানে তার ভাষাকে ব্যবহার করছেন নানান রকমের সম্পর্ক ডিফাইন করেই। একজন সামাজিক ব্যক্তি হিসেবেই তিনি প্রকাশ করছেন নিজের ভালো-লাগা, মন্দ-লাগা, বিবমিষা, তার সম্পর্ক ও অসম্পর্কের জগৎকে। এবং আন্তর্টেক্সট তৈরি হচ্ছে, কানেক্ট করছে তার সেলফকে। ধরা যাক, এই কবিতাটি—

পাখিকে ফুলের রূপে ফোটাতে গিয়ে কারা আজ সুবাসিত
বলবো না তাদের নাম, কারা অট্টালিকা, কারা কারা কিঞ্চিৎ
পাহাড়সমান…

কাদের ডানার ভারে বিমর্ষ আলাপের রোদ ছড়িয়ে পড়েছে
লিখবো না তারা কারা, কেন ভাগ্যরেখা ধরে তারা আজ
ঘুরে যাওয়া হাওয়া…

মুখে যা বলার আছে, ঠোঁটে যেটুকু মানান আজ সই
পৃথিবীর মানচিত্র বহুরাতে ঘুরিয়ে রেখেও
কোনোদিন দক্ষিণে সূর্যাস্ত হলো না…

[নভেম্বর]

কবিতাটা পড়তে গিয়ে যখন কিছু দূর এগোই, বুঝতে পারি কবি তার কবিতাকে প্রি-জেনারিক করে তুলছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি কবিতায় পোস্ট-জেনেরিক ফর্মটাই রাখতে চাই, কারণ সেখানে কোনো লক্ষ্য থাকে না এমন কোথাও পৌঁছানোর যেখানে পাঠকের স্বাধীনতা খর্ব করা হয় বা কবি কেবল সেই মায়াদ্বীপেই যেতে চান। কবির অবচেতনা এবং পাঠকের অবচেতনা মিশ্রিত হয়ে নতুন টেক্সট ত’য়ের হয়। হয়তো সেটাই হাইব্রিডাইজেশন অব এক্সট্রাকনশাস। সেদিক থেকে ‘নভেম্বর’ নামের এই কবিতাটা একটুখানি পিছিয়ে পড়ে আমার পাঠে। কিন্তু সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায় যে লেস-টোটালিটির অভিযোগ তোলা হয় সেদিক থেকে এই বইয়ের কবিতাগুলি মুক্ত বলেই মনে হয় আমার। কারণ সজল বিনির্মাণ করেন ফ্লোটিং সিগনেচার। পাঠক ভাসতে পারেন তার নিজের তৈরি করা যৌথ-অবচেতনায়। তাই খুব সহজেই তার কাছেও মনে হয়, এই মানচিত্র সত্যিই ভীষণ জড় এবং সূর্যাস্তভেক্টর কেবল একমুখী।

খুব প্রথাসিদ্ধভাবে কবি ব্যবহার করতে চান না প্রচলিত কবিতাকাঠামো। আর তাই, আমরা লক্ষ করতে থাকব, এই কবিতাগুলি আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিছু পরিচিত টুলস থেকে বাইরে আসবার। যেমন ধরুন, উপমা, উৎপ্রেক্ষা এমন কিছু বহুল পরিচিত টুলস। সম্ভবত কবি এই বহু-ব্যবহৃত অস্ত্রটি আর শানাতে চান না। তবুও কিছু কবিতায় এই প্রকৌশলটি দেখা যায়। সাধারণত সজল তার উপমেয়র জন্য উপমানগুলো খুঁজে আনেন আমাদের দেখার বা’র-জগৎ থেকে। বস্তুকে তার সাধারণ গুণের বাইরে এনে প্রতিস্থাপন করেন বহুদূরের কোনো ইঙ্গিতের সাথে [যা আধুনিক বাংলা কবিতায় বেশ আগেই ঘটে গেছে]। উপমান এবং উপমেয় হয়ে ওঠে নৃত্যোজ্জ্বল। এমন কয়েকটা উপমা আমি তুলে দিচ্ছি ডালিম যেভাবে ফোটে থেকে—

আধোভাঁজ পৃষ্ঠার মতোই ● গোপন কথার মতো ● কথার মতো ● না-বলা কথার মতো ● জখম চিহ্নের মতো ● নদীর মতো শুয়ে-পড়া ● কালো পিঁপড়েদের মতো ● বৃষ্টি রাতের মতো ● ভুল অঙ্কের মতো ● বোকার মতো

এই ব্যবহারগুলো হয়তো এমন আহামরি গোছের কিছু নয়। কিন্তু সজল যেভাবে সরে যান যান কৌশলকেন্দ্র থেকে এবং অভিনিবেশ দেন এমন কিছু প্যারাডাইম তৈরি করতে যা হয়তো আগামী দিনের বাংলা কবিতাকে বেশ খানিকটা এগিয়ে দেবে তার ক্র্যাফটম্যানশিপে। পড়তে পড়তেই আমি আবিষ্কার করি উপমা নিয়ে এমন কিছু থ্রোয়িং যা হয়তো ব্যবহৃত হবে আগামী দিনে। যেখানে এই আটপৌরে [কোনো শব্দই আসলে আটপৌরে নয়, ওটা হতে পারে তার ব্যবহারে] ‘মতো’ শব্দটি দ্যোতনাহীন হয়ে বাদ পড়ে যায়, সৃষ্টি করেন নতুন সিমিলারিটি।

 এ লেখা ঈষৎ তুলোট চৈত্রে ফোটা আধোলাল শিমুল-সদৃশ

শিমুলের মতো নয় তিনি বললেন শিমুল-সদৃশ; এবং ডায়াক্রোনিক সিন্ট্যাক্সে চলে এল এক ধরনের উপমা। যা যুগপৎ অচেনা এবং নান্দনিক । আরেকটা কবিতায় তিন লিখছেন, ‘বলবো না তাদের নাম, কারা অট্টালিকা, কারা কারা কিঞ্চিৎ/ পাহাড়সমান…’। সজল আরেকটা প্রথা-ভাঙা উপমা ব্যবহার করেছেন যা আমার কাছে মোটামুটি দুঃসাহস বলেই মনে হয়। সিন্ট্যাক্স এর মধ্যে স্পেস ক্রিয়েট করে শব্দকে তার এযাবৎকালীন ফর্ম থেকে সরিয়ে তিনি অবলীলায় ভাসিয়ে দেন সৌন্দর্য। অবাক হয়ে যাই এমন ব্যবহারে। দেখুন সেই মহার্ঘ ব্যবহার—‘মুখে যা বলার আছে, ঠোঁটে যেটুকু মানান আজ সই’। ‘মতো’ অর্থে মানানসই-এর সই প্রত্যয়কে তিনি কতখানি ড্রিবল করছেন! বাংলা কবিতায় এই ধরনের ফর্ম-ভাঙচুর এক অদ্ভুত ঘটনা।


যে কোনো কবিই মূলত তৃতীয় ভূমির সন্তান। তার বস্তবিশ্ব অন্যের কাছে শুধু অপরই নয় এক ঘোরগ্রস্ত সীমানাও বটে।


যে কোনো কবিই মূলত তৃতীয় ভূমির সন্তান। তার বস্তবিশ্ব অন্যের কাছে শুধু অপরই নয় এক ঘোরগ্রস্ত সীমানাও বটে। তিনি তার সাবলাইমকে তুলে ধরেন অন্য কোনো রপ্ত করা হাওয়ায়। তার স্পার্ক উসকে দেয় যৌথস্নায়ু। এইসব মিথস্ক্রিয়া রূপ পায় ভাষাতন্তুর গভীরে। আর তাই কবির কনসেপ্ট হয়ে ওঠে বিওন্ড মেডিটেটেড। তার বাক্য ফুঁড়ে যেন বের হয় রাশি রাশি তামার জোকার। যেন সন্দেহই সৌন্দর্যের প্রথম শর্ত হয়ে ওঠে। ডালিম যেভাবে ফোটে-র কবিতাগুলোতে তিনি এমনই ইঙ্গিত দেন এবং তার অনিবার্য বাহন হয়ে ওঠে মাত্র একটি শব্দবন্ধ—‘মনে হয়’। অনেক কবিতায় তিনি এই টুলসটি ব্যবহার করে অনায়াসে—

শতাব্দীর সমান প্রাচীন মনে হয় এ শরীর। মনে হয়—জগতের সবচেয়ে নাজুক,
এক অনাবিষ্কৃত গুহা এ জীবন।    [ সংকেত ]

কোথায় কাকে মনে হয়েছিল সমমনা-বোবা    [ বাক্যালাপ ]

 হাওয়া এত ঝড়সুদ্ধ আসে, মনে হয় হারাবো—সেসব রোমন্থনও    [ রোমন্থন]

প্রায় বারোটি জায়গায় এভাবেই ব্যবহার করেছেন ‘মনে হয়’। যে উপায়ে সজল সন্দেহ এবং চেনা আবছায়া তৈরি করেছেন উল্লিখিত পঙ্‌ক্তিগুলোতে সেসবই শেষ পর্যন্ত নান্দনিক। কিন্তু একই কবিতাগ্রন্থে যখন এতবার তা ব্যবহৃত হতে দেখি তখন কিছুটা মনোটোনাস লাগে। ভাবি, সচেতনতাও হয়তো মাঝে মাঝে ক্ষমা করে না অসচেতনতাকে।

সজলকে আমরা বিভাষার দিকে খুব একটা ঝুঁকতে দেখি না। কিন্তু সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায় বেশ কনফিডেন্সের সঙ্গেই ইউজ করা হচ্ছে অন্য ভাষার শব্দ। যদিও তা সব ক্ষেত্রেই পোয়েটিক এমনটা হয়তো নয়। আরোপিতও মনে হতে পারে অনেকখানেই। কিন্তু এই বইয়ে বিভাষা তেমনটা ব্যবহৃত হয় না খুব সচেতনভাবেই। এটা কি কবির আরবাননেসের প্রতি এক প্রকার অনীহা নাকি তার বেড়ে ওঠা মফস্বলে বলে? দ্বিতীয়টিই হবে হয়তো। কেননা, তিনিও নগরের বাইরে নন। আসলে কেউ কি বাইরে যেতে পারেন এখন? তবুও প্রায় ৭টা কবিতায় তিনি ব্যবহার করছেন অপর ভাষার শব্দ।

মার্বল্ড বিড়াল, মিস করা ট্রেন, স্যানাটোরিয়াম, সাইনোসিস, দেবদারু লেন, সুইসাইড, অ্যানাগোন্ডা, ডিভিডি, ল্যাম্পপোস্ট—এই শব্দগুলো। সম্ভবত সজলের কবিতা যে সাইলেন্সের দিকে থিতু হয় সেখানে অন্য ভাষার শব্দ হয়তো ক্যাওস তৈরি করে ভেঙে দেয় বোধের প্রতিমা। তাই তিনি খুব সচেতন ভাবেই এড়িয়ে চলেন এসব। অর্থাৎ কলোনিয়ালিজমের ভূত খুব সহজে আক্রান্ত করে না তাকে!

কবিতার বাহির আর ভেতর হয়তো আলাদা কিছু। ফর্ম কি কন্টেন্ট-এর চেয়েও অধিক কিছু? হয়তো না। কিন্তু ডালিম যেভাবে ফোটে সাজানো হয়েছে ম্যাট্রিক্স-এর মতো সুষমা দিয়ে—প্রত্যেকটা কবিতার বাহ্যকাঠামো মোটামুটি একই ধরনের। তাদের পঙক্তিবিন্যাস, এলাইনমেন্ট প্রায় ক্ষেত্রেই একই। পড়তে গিয়ে, একবার একটা প্রশ্ন এসেছিল। এমন যে, আচ্ছা কবিতাগুলো যদি টানা গদ্যে লেখা হতো তবে এই অনুভব তৈরি হতো? অথবা যদি ছোট আকারের না হয়ে দীর্ঘ কবিতা করে তোলা হতো তবে কি অন্য রকম লাগত না? যদিও এইসব প্রশ্ন অবান্তর, তবুও অনেকবার ভেবেছি। তাতে মনে হয়েছে, যে মিউজিক্যালিটি এই কবিতাগুলো অন্যতম গুণ তা হয়তো আর না-ও থাকতে পারত। আসলে আজকের জীবনবাস্তবতা, প্রযুক্তি-নির্ভরতা বাংলা কবিতাকেও প্রভাবিত করছে, যার জন্য কবিতাও হয়ে উঠছে মাইক্রোনন্দন।

কবি কি ওরাকল? কোনো দিব্যজ্ঞানে তাকেও কি সতর্ক করতে হয় তার পাঠককে? এই প্রশ্নগুলো খুব স্বাভাবিক ছিল আমার কাছে। কেননা সজলের কবিতা মাঝে মাঝেই এই দায়গুলো নিতে চেয়েছে। আপ্তবাক্য শোনাতে চেয়েছে অনেকবার। যেন বাক্যেরও সন্ত হবার কোনো সাবকন্সাস আকাঙ্ক্ষা ছিল। সম্ভবত স্মরণীয় পঙ্‌ক্তি তৈরির ফাঁদ থেকেই এমনটা হয় যা কবিতার অনির্দেশ্য ইশারাকে খুন করে এবং পর্যবসিত হয় বারোয়ারি চেতনায়।

গ্রহণের যোগ্য চাঁদ প্রতিদিন আকাশে ওঠে না   [ এক ডানার পাখি ]

মৃতদের চশমা পড়ে পৃথিবীকে দিকভ্রষ্ট বলে মনে হয়   [ দিকভ্রষ্ট ]

বুঝি নি আধপোড়া মোম গন্ধই ছড়ায় বেশি আলো ও উজ্জ্বলতার চেয়ে   [ গরিমা ]

মানুষ মোমের ঘোড়া কালে কালে গলে যাচ্ছে এই আস্তাবলে   [ সন্তাপ ]

ডালিম যেভাবে ফোটে এমন এক অনির্দেশ যাত্রার স্মৃতি, যেন নিরুপম উৎসবের দিনে বেজে যাওয়া একটি ঘুমাবার দীপ। যা জ্বালিয়ে রাখা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই যেন। এ যেন সেই সর্বনামের স্মৃতি যেখানে আর সব অপরের মতো আমিও অভিপ্রায়হীন হয়ে যাই কোনো লুপ্ত অমীমাংসিতের জানালায়। পুরো বইয়ের কবিতা পড়তে গিয়ে আমি যেন অনুভব করি গোপন ক্লিওপেট্রার সেই অন্তিম যাপন, যখন একটি অ্যাস্প তার বিষের ছোঁয়ায় কাঁপিয়ে দিচ্ছে আমারই মনোভূমি, যা ছিল অতল ও না-ফোটা ফুলের আলাপ। যেন মৃত্যু-চিৎকার ও নৈঃশব্দ্য জন্মের মাঝে একটি অনন্ত পাখির উড়ে যাওয়া হালকা পালকের শ্বাস। এবার তবে যাওয়া যাক জড়ভাষার সেই ইস্কুলের দিকে…

হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

জন্ম ১৯ আগস্ট ১৯৮৯, বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী আযিযুল হক কলেজ; বগুড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশিত বই : ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে [কবিতা, ২০১৬, চৈতন্য]

ই-মেইল : hrobayet2676@gmail.com
হাসান রোবায়েত

Latest posts by হাসান রোবায়েত (see all)