হোম বই নিয়ে দুঃখশোক ও নীরবতার একান্তর

দুঃখশোক ও নীরবতার একান্তর

দুঃখশোক ও নীরবতার একান্তর
577
0

কবিতা অনেক রকম। কবিতার সংজ্ঞাও অনেক। একজনকে প্রশ্ন করেছিলাম, ‘ভালো লেখা কিভাবে চেনা যায়?’ তাঁর উত্তর ছিল, ‘ভালো স্বাস্থ্যের লোক যেভাবে চেনা যায়।’ সেই চিনতে চাওয়াতেও ব্যক্তিভেদে বিপুল তফাত ঘটে। একজন যে দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করেন, অন্যজন তার চেয়ে ভিন্ন দিক থেকে দেখতেই পারেন, ফলে ভালো-মন্দ-মোটামুটি—একই বিষয়ের বেলায় আলাদা আলাদা মন্তব্য, ব্যক্তিভেদে একে-অন্যের জায়গা বদল করতে পারে। এই যে আমি শুভাশিস সিনহার কবিতার বই ‘চিহ্নহীন দিনের ডায়েরি’ সম্পর্কে এখন কিছু বলতে চলেছি, তা তো অন্য অনেকের সঙ্গে মিলতে নাও পারে।

শুভাশিস সিনহা এই সময়ের কবি। কেবল কবিই নন, গল্প, উপন্যাস, নাটক লিখে থাকেন। থিয়েটারেও অত্যন্ত সক্রিয়। কিন্তু এখনো অব্দি তার কবি পরিচয়টা ছাপিয়ে অন্য পরিচয়গুলি বড় হয়ে ওঠে নি। অন্য বিষয়ের চেয়ে কবিতার বই-ই তাঁর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। একটির পর একটি কবিতার বইতে তাঁর কবি হিশেবে অবস্থান দৃঢ় থেকে দূঢ়তর হয়েছে। ‘চিহ্নহীন দিনের ডায়েরি’ কবিতার বইটি প্রকাশিত হলো এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে। আমরা দেখতে চেষ্টা করব যে, এই বেলা কবি কতটা কবিতার দিকে নিজে গেলেন এবং আমাদেরও টেনে নিলেন।


কবিতা হলো অতিকথনের বিপরীতে থাকার শিল্প। ফলে যে কথাটা বলা হয় ‘অল্পই শিল্প’ সেটা কবিতাই সবচেয়ে বেশি ধারণ করে। পরিমিতিবোধের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি কবিতা।


 ৮০ পৃষ্ঠার বই। এই অর্থে কবিতার বইটি বিশাল। যেকোনো কবিতার বই আশি পৃষ্ঠা হওয়া মানে তা আটশো পৃষ্ঠার গদ্যের বইয়ের সমান। কবিতার বই ত্রিশ কি বত্রিশ হলে একেবারে দারুণ মাপের বলতে পারি। আসলে ষোল পৃষ্ঠার কবিতার বই-ই ছাক্কা হতে পারে, যদি তেমন করে ষোলটি কবিতা থাকে। কবিতা হলো অতিকথনের বিপরীতে থাকার শিল্প। ফলে যে কথাটা বলা হয় ‘অল্পই শিল্প’, সেটা কবিতাই সবচেয়ে বেশি ধারণ করে। পরিমিতিবোধের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি কবিতা। সেই পরিমিতিবোধ যখন গদ্যে দেখা দেয় তাও কবিতার মাত্রায় পৌঁছে যায়।

শুভশিসের কবিতার এই বইটি আদতে তো তিনটি কবিতার বইয়ের একটি সন্নিবেশ। তিনি তিনটিতে সূচিতে বলেছেন ‘কবিতাপর্ব’ সেই কবিতা পর্বের প্রথম বই ‘চিহ্নহীন দিনের ডায়েরি’ দ্বিতীয় বই ‘জলটলমল শব্দতরল’ এবং সর্বশেষ বই ‘অশ্রুসংহিতা’। প্রথম ও শেষ বই দুটোর কবিতাগুলি শিরোনামহীন। মাঝখানের বইটির কবিতাগুলি শিরোনাম দেওয়া। একটু আগে যে বললাম, কবিতার বই খুব বেশি বড় হওয়ার দরকার নেই। শুভাশিসের এই বইয়ের কবিতাপর্বে তিন পর্বের কোনোটাই ত্রিশ পৃষ্ঠার বেশি নয়।

12767694_10208565878322953_155632219_n
প্রকাশন : চৈতন্য ।। প্রচ্ছদ : তৌহিন হাসান

প্রথমপর্বে গদ্য কবিতা, দ্বিতীয়পর্বে ছন্দোময় কবিতা এবং তৃতীয়পর্বে কবিতার ছন্দ ও গদ্যের ছন্দ মিলিয়ে লেখা কবিতা। পড়তে পড়তে একটা কথাই বার বার মনে হয় যে, শুভাশিসের কাছে শব্দরা কোনোভাবেই জড় হয়ে থাকে না। অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি শব্দ ছেনে দিতে পারেন। প্রথম ও শেষ পর্বের যে শিরোনামহীন কবিতাগুলি তিনি লিখেছেন, বার বারই মনে হয়েছে, দুই-পর্বে থাকা প্রতিটি কবিতার শুরুর পঙ্‌ক্তি থেকে একেবারে শুরুর তিন কি চারটি বা একটি শব্দ দিয়ে কবিতাগুলির নাম দেওয়া যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ নিজের আঁকা ছবির নাম দিতেন না, কারণ তাতে ছবিটাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়, দর্শক তার নিজের মতো নাম দিয়ে নিক, তার কল্পনায় ও মনে মুক্ত একটা ব্যাপার সেখানে ঘটুক। শুভাশিস তেমনটাই চাইছেন কিনা বলা মুশকিল, কিন্তু পাঠকের মনে হবে শিরোনামহীন প্রতিটি কবিতার নাম তিনি না দিলেও, প্রথম লাইনের প্রথম কয়েকটি শব্দে যেন সুকৌশলে লেখা হয়ে আছে কবিতার নাম।

যেমন একেবারে শুরু কবিতা মানে ‘চিহ্নহীন দিনের ডায়েরি’র ১ সংখ্যক কবিতার নাম হতে পারে ‘গাছের নাম’। ২ সংখ্যক কবিতার নাম হতে পারে ‘কথা দিয়ে যাওয়া মেঘ’। ৩ সংখ্যক কবিতার নাম হতে পারে ‘জীবন তোমার নয়’। এভাবে অবিরাম। তবে সবগুলোতেই এটা খাপ খেয়ে যাবে, তাও নয়। যেমন ১০ সংখ্যক কবিতার শুরু লাইন ‘একবার দেহটাকে রেখে কেবল হাতের তালুভরে তার গন্ধ মেখে নিয়ে যাই’—এখানে নামটা ভেবে নেওয়া যায় না প্রথম পঙ্‌ক্তি থেকে। নিলেও সেটি নান্দনিক হয় না। যেমন ১৬ সংখক কবিতায় ‘জীবন তো বাছুরের মতো, জন্মিয়েই নিজের গায়ের লোম নিজে করে অনর্থলেহন’—এতেও সেটা জুতসই হয় না। কিন্তু কবিতাটি পাঠককে সচকিত করার সামর্থ্য রাখে। শুভাশিসের প্রায় কবিতাই মৃদুস্বরে। প্রায় অনুচ্চ, কিন্তু কোমলতার যে শক্তি থাকে, সেটি তার এই বইতে লেখা কবিতাগুলির প্রধান শক্তি হতে পারত। তবে উজ্জ্বল পঙ্‌ক্তি আছে বেশ কয়েক জায়গায়, যেমন ১৮ সংখ্যক কবিতায়—

‘জন্ম হয়েছিল, তবু পায় নি জীবন
রক্তের ক্লেদের মাঝে হাতড়াতে হাতড়াতে
সন্ধ্যা এসে তার
মধুর সে-সূর্যালোক গ্রাস করে নিল।’

এই যে জন্ম হলেও কেন জীবন পাওয়া হয় না, ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত মানুষ সন্ধ্যার শান্তি থেকে বার বার বঞ্চিত হয়। অন্ধকারে শান্তিতে চোখ বোঝার বদলে অন্ধকার তার জন্য আরো ভয়বহ হয়ে ওঠে। দিন হয় তার রক্তাক্ত বাস্তবতার, আর রাত্রিগুলি হয় দুঃস্বপ্নময়। আশাবাদী স্বরও আছে, ২০ সংখ্যক কবিতায়—

‘দরজায় দাঁড়িয়ে মনে হলো ঘরের ভেতরে আরও এক ঘর আছে,…’

সেখানেও আগুন আছে, পরীর ডানাও আগুনের, সেখানে চোখের পলকের সম্ভবনা নিয়ে জ্বলে ওঠে পুরনো উনুন। অন্যদিকে সেই ঘরের চালে চলে স্বর্ণবৃষ্টি। এভাবে কবিতায় দৃশ্য অনুভব ও মুহূর্তগুলি তৈরি করেন শুভাশিস। মৃদুভাষ্য তৈরি করেন মুহূর্তের আততি বা টেনশান—

আমি নই, অন্য কেউ তোমার ঘরে সিঁদ কাটে
ঢুকেছিল পূর্ণিমার রাতে,আমার তখন ছিল অন্ধকারবাস’


শুভাশিসের কবিতারা আমাকে সেখানে একটু দ্বিধায় ফেলে, এই বইতে তিনি ভারি ও কোমল দু’ধরনের শব্দেই প্রবাহিত করেছেন তাঁর কাব্যস্রোত।


শুভাশিসের এসব কবিতায় বার বার ফিরে আসে রঙ, ধ্বনি আর চিত্র। মৃদু চালে শব্দগুলি ঢালতে ঢালতে  প্রায়ই ‘ভোগের কুহর’ কি ‘অশ্রুর মুকুর’-এর মতো শব্দও ঢেলে দেন। কোমলতার সঙ্গে একটা তাল পাকিয়ে একটু ভারিই বোধ হয় করে দিতে চান কবিতাকে। কথাগুলি এজন্য বলছি, যে, বহু আগে আল মাহমুদের আত্মকথা ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’তে পড়েছিলাম একটি কথা, যার মানে দাঁড়ায়—চা-বাগানের চা-পাতা সংগ্রকারীরা বাছে কোমল পাতা, কবি বেছে নেন কোমল শব্দ। এই থেকে ভারি কবিতা ও তৎসম-তদ্ভব শব্দে ঝঙ্কৃত কবিতা, বা অতি-অলঙ্কারে ভারি কবিতার প্রতি আমার নিজস্ব বিরাগ আছে। যে-কারণে আমি শঙ্খ ঘোষ, আল মাহমুদ এবং ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতার বিশেষ অনুরাগী।

শুভাশিসের কবিতারা আমাকে সেখানে একটু দ্বিধায় ফেলে, এই বইতে তিনি ভারি ও কোমল দু’ধরনের শব্দেই প্রবাহিত করেছেন তাঁর কাব্যস্রোত। আনতে চেয়েছেন গদ্যছন্দের তীক্ষ্ণতা, তেমন পদ্যছন্দের আনন্দ। তাঁর এই বইয়ের দ্বিতীয়টি ‘জলটলমল শব্দতরল’,—এই নামের মতোই টলমল করে ছন্দের স্বচ্ছতায়।

‘জলকে চল’ বলে জলেই ডুবে গেলে
আমার হাতে ধুলো-মাটি
হলুদ ঘোরে যাও সাঁতার, আমি এই
শূন্যে বিছালাম পাটি।’
(জলকন্যা)

‘তোমার আসার কথা রাতে
তুমি নিজে রাত হয়ে গেলে’
(রাত ও তুমি)

‘ধরো তুমিই হাওয়া
রইলে ধরে
শ্বাসের সুতোখানি
রক্তে রক্তে নেচে ওঠা
ভাটি ও উজানি।’
(তুমি)

এগুলি তার কিছু উজ্জ্বল পঙ্‌ক্তির দৃষ্টান্ত। কিন্তু এই অংশে কবিতাগুলি বেশিরভাগেই তিনি নিজের প্রতি সুবিচার করেন নি। কিন্তু তাঁর আশ্চর্য এক দক্ষতা আছে, যে-দক্ষতার বলে তিনি একটি দুটো এমন পঙ্‌ক্তি লেখেন যা কবিতাকে বাঁচিয়ে দেয়—তাঁর সেই গুণটি এখানে তেমন দেখা যায় নি বলেই বোধ করি। তাঁর এই কবিতার বইয়ের অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অংশই বোধ করি শেষাংশে থাকা ‘অশ্রুসংহিতা’।

‘যেভাবেই বেরিয়েছিলে সেভাবেই ফিরে এলে
মাঝখানে রেখে এলে
একটা জীবন।’
(১)

একটা হারানোর শোকের আবহ মিশেছে বলেই কিনা জানি না, তার এই কবিতাগুলি আবেগের উদ্ভাস আড়ালে পড়ে না। উৎসর্গতে ‘বাবা’র উদ্দেশে বলা কথাগুলিই যেন এই বইয়ের কবিতাগুলির চাবিসূত্র। আর ‘অশ্রুসংহিতা’ নামটাতো স্বয়ং তা-ই।

‘চোখের সামনে টাঙায়েছ
আমার মৃত্যুর ছবি
গোপন ক্যামেরা নিয়ে
ঢুকেছিলে আমারই আয়ুর সর্বশেষে।’
(৬)


কবিতার মৃদু মৃদু আঘাত আমাদের এতটাই নাড়া দিতে পারে যে—গোটা একটা উপন্যাস যা না পারে, কবিতার মাত্র দু’এক পঙ্‌ক্তি তা পারে।


হারানোর বেদনাবোধ এই পর্বে এভাবে ফিরে ফিরে বেজে ওঠে। তিনি সেই আবহ থেকে বের হতে পারেন না। অধিক শোকে পাথরের মতো ভারি একটা বোধ তিনি প্রকাশ করে চলেন।

‘একদিন এরকমই হবে
তাই আমি লিখে ফেলেছিলাম আগেই
এখন যা লিখতে পারতাম
এখন আমার কোনো ভাষা নেই
কালো কালো শৃঙ্খলার রেখা
বৃত্ত ছেঁড়া ফাড়া
অশ্রু নেই’
(৯)

‘কেউ বলল, আছে আছে
কেউ বলল, নেই!
মধ্যিখানে ঝরে গেল
তারার কুসুম’
(১৩)

শুভাশিস এই পর্বে কবিতার কাছে শব্দগুলি অবিরাম সঁপে দিতে দিতে একটু একটু করে ভাষাহীন হয়ে চাইছিলেন বোধ করি। আবার অনেক কিছু বলতে চান, কিন্তু বলতে ইচ্ছা করে না, একটা অবসাদ তাকে বিধুর করে রাখে।

‘এই নৌকো তোমাকে নেবে না
এ দূর বিরহপারে
সাজিয়ে রেখেছে কুঞ্জখানি,
সারা যাত্রা ঢেউয়ে ঢেউয়ে
তার দুঃখের কথা বৈঠার আঁচড়ে
লেখা হবে বলে

কেঁদে কেঁদে ফুঁসে উঠছে
জলবর্ণমালা।’
(১৯)

আদতে এই কথাগুলি তার এই কবিতাপর্বের সার কথা হয়ে যায়। যদিও এর পরেও তিনি একটা কবিতা দিয়ে ইতি টেনেছেন, সেখানে এই কথা বলেছেন: ‘ছুঁতে চেয়েছিল সবটুকু,/ মধ্যিখানে কেবলি কুয়াশা/ ধীরে ধীরে ঢেকে নিল/ আকাঙ্ক্ষা তোমার…’—এটা আসলে আগের কথারই সামান্য সম্প্রসারণ মাত্র।

একান্ত ব্যক্তিগত ডায়েরিতে যেমন সমাজ সংসারে নিজের দিকটা কিছুটা হলেও আড়ালে পড়ে,—পাওয়া ও হারানোর কথা স্পষ্ট করে বা আভাসে লেখা থাকে, এই বইয়ের কবিতাগুলি ব্যক্তিগত গণ্ডির সেই একান্ত জায়গাটা ছাড়িয়ে উঠতে পারে নি। ডাব্লু এইচ অডেনের মতো আমরা তো বলব না যে কবিতামাত্রই ‘স্মরণীয় বক্তৃতা’ বা ‘টগবগ করতে থাকা জীবনভাষ্য’ হবে। কিন্তু কবিতার মৃদু মৃদু আঘাত আমাদের এতটাই নাড়া দিতে পারে যে—গোটা একটা উপন্যাস যা না পারে, কবিতার মাত্র দু’এক পঙ্‌ক্তি তা পারে। অডেন যখন লেখেন ‘দ্য ভিশন অব দ্য শেপার্ডস’-এ, একটি প্রশ্ন আমাদের ভেতরে নাড়া দিয়ে যায়, যখন পড়ি—

You are free
Not to be,
Why exist?

যে অর্থেই এই প্রশ্নটা করা হোক না কেন, সেখানে, ওই কবিতায় এর উত্তর থাকুক না কেন, আমাদের সত্তায় হু হু করে বেজে ওঠে, ‘কে ও? ও কে? কেন বেঁচে থাকা যদি না মুক্ত হতে না পারি?’ একেবারে সাধারণ কয়েকটি কথা, কতটা ওজনদার হয়ে ওঠে, আমার টের পাই।

শুভাশিসের এই বইয়ে শোক, বেদনার ও ব্যর্থতার, তবে কিছুটা নির্জনতার মিশেল আছে, কিন্তু এতে তিনি কতটা এগিয়েছেন তাঁর কাব্যযাত্রায়? এই প্রশ্ন জেগেই ওঠে। তিনি আর যাই হোক, তাঁর এ বইতে শক্তি বা প্রেরণা কোনোটাই সঞ্চার করতে চান নি। ‘জীবন’ শব্দটা বেশ কয়েক জায়গায় উচ্চারিত হয়েছে, কিন্তু তা কবিতার কেন্দ্রে আমাদের নিয়ে যেতে ততটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে চায় নি বলেই মনে হয়েছে। ‘আমি আমার দুঃখ বেদনা নিয়ে পড়ে রইলাম, সময় জীবন ভাষা কবিতা আপাতত বয়ে যাক, আমি একটু জিরিয়ে নিই।’ অনেকটাই এই মানসিকতাই ‘চিহ্নহীন দিনের ডায়েরি’র তিনপর্বের কবিতাগুলির তলায় শুনতে পেলাম যেন। কারো কাছে হয়তো এগুলো অনেকটাই বা পুরোটাই কবিতা—তেমন কবিতার পাঠক নিশ্চয়ই আছেনও অনেক।

হামীম কামরুল হক

হামীম কামরুল হক

জন্ম ২২ জানুয়ারি ১৯৭৩। দাদার বাড়ি ফরিদপুর, বাংলাদেশ। নানার বাড়ি বর্ধমান, ভারত।

সিলেট ক্যাডেট কলেজে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতোকত্তর। পরে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে ‘তুলনামূলক নাট্যতত্ত্ব’-এ পি.এইচ.ডি অর্জন।

পেশা: একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

প্রকাশিত বই:
রাত্রি এখনো যৌবনে [উপন্যাস, কাগজ প্রকাশন, ঢাকা, ২০০৮] গোপনীয়তার মালিকানা [উপন্যাস, ভাষাচিত্র, ঢাকা, ২০১০]
গোলাপের সিঁড়ি [নভেলা সংকলন, ত্রৈবিদ্য প্রকাশন, বগুড়া]
শূন্যপরান ও অন্যান্য গল্প [গল্পসংকলন, রোদেলা প্রকাশনী, ২০১৩] জাদুবাস্তববাদ [প্রবন্ধগ্রন্থ, সংবেদ, ঢাকা, ২০১৬]

সম্পাদনা:
লেখার শিল্প, লেখকের সংকল্প (যৌথ- মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম)
[লেখালেখি সংক্রান্ত বিশ্ববিখ্যাত লেখকদের প্রবন্ধের অনুবাদ সংকলন-গ্রন্থ, সংবেদ, ২০১১]

ই-মেইল: hamimkamrul@yahoo.com
হামীম কামরুল হক

Latest posts by হামীম কামরুল হক (see all)