হোম গদ্য কবিতার বইগুলো : ৫ম পর্ব

কবিতার বইগুলো : ৫ম পর্ব

কবিতার বইগুলো : ৫ম পর্ব
687
0

“রঙে আর রূপে অচ্ছেদ্য সম্বন্ধ। রূপ যেখানে রং সেখানে, রং যেখানে রূপ সেখানে। এই হলো স্বভাবের নিয়ম।”   —অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এমন সূর্যের নিচে হুট করে কাউকে মেরে ফেলা যায়। তারপর জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকা। আকাশের রং শেখা।
আজ অখণ্ড অবসর।

(অবসর)

অমিতকে পড়তে গেলে আমার জীবনানন্দকে মনে পড়ে। না, তাদের মধ্যে শিল্প-সৃষ্টির রহস্য বা শিল্পের ভেতরকার সত্য ও তার সার্বিক লক্ষণসমূহের কোনো রূপের মিল ধরা পড়ে না। তবু আমাদের দূরত্ব, অজ্ঞাতবাস, আর নিঃসঙ্গতা, আমাদের মানসলোকের অভ্রান্ত রূপটাকে তারা টেনে এনেছেন। প্রকাশময় রং আর রেখার টানে সৃষ্টি করেছেন নতুন বাক্প্রতিমা। তাদের কবিতার বর্ণবিভা, আলো ও অন্ধকারের যে পরিস্ফুটন, যেন আমাদের জীবনকে এক মহা পরিসরের বন্ধন-সীমা থেকে কোনো গভীরতম যাত্রার ইঙ্গিত দেয়। অনুরাগের রং (অর্থাৎ রাগ আর রং) একাকার হয়ে ওইখানে প্রকাশ করে অস্তিতের রহস্যময়তা। আনন্দ।


রঙের আনুপাতিক অপস্রিয়মাণতায় গড়ে উঠছে অমিতের কবিতার ডৌল।


ফরাসি ঔপন্যাসিক ও দার্শনিক প্রুস্ত লিখেছিলেন, “সত্যিকার শিল্পের মহত্ত্ব হচ্ছে নতুনভাবে এ সত্যকে আবিষ্কার করা যে আমাদের জীবনযাত্রার জ্ঞাত বাস্তবতা থেকে বহু দূরে যথার্থ বাস্তবতার স্থিতি।’’ তো কী সেই জ্ঞাত বাস্তবতা থেকে যথার্থ বাস্তবতায় তিরোহিত হওয়ার পন্থাটি? সে কি ‌’আমাদের সাইকেডেলিক মনোবিভ্রমের পাশে’ ‘সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’র বাইরে গিয়ে এক নবতর পরমার্থের দিকে যাত্রা। ‘সন্ধ্যার মোলায়েম ইন্ট্রিগ’ ভেঙে বেরিয়ে আসা এক বা একাধিক আলোকরশ্মির প্রতিবিম্ব। সুর আর রঙের অবিমিশ্র সম্মিলন।

একটা ঝকঝকে নীলাকাশ আঁকতে আঁকতে ভাবছি মাশরুম রঙা মেয়েদের রোদ পোহাতে আসার সম্ভাবনার কথা।

(স্কেচ)

বা অবসর কবিতা শুরুটা—

নানান রঙের স্পিডবোটগুলো ভাসছে জলে, জেটিতে কয়েকজন চুরুট ধরিয়ে তাকিয়ে আছে সমুদ্রের নীলে

এইখানে নীল শব্দটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। অমিতের কবিতায় রং ভাষার প্রতিনিধিত্ব করছে। (নীল (রং)—প্রশান্তি, মোহনীয়তা (বিশেষ সংবেদন)–শীতলতা, রমণীয়, কান্তি (রস প্রতিপত্তি)–নির্মেঘ আকাশ (উৎপ্রেক্ষা)/ সৈয়দ আলী আহসান)। এ থেকেই আমিতের স্বর বা স্বরের রস সৃষ্টির লক্ষণগুলো টের পাওয়ার কথা। এই নীল বা রঙের আনুপাতিক অপস্রিয়মাণতায় গড়ে উঠছে অমিতের কবিতার ডৌল। এই যে রঙের অপস্রিয়মাণতা, এ হলো রঙের এগিয়ে আসা বা পিছিয়ে যাওয়া। শেঁজা প্রথম প্রমাণ করেছিলেন যে দৃষ্টিতে বিভিন্ন রংয়ের আনুপাতিক অপস্রিয়মাণতা আছে। অর্থাৎ একই সমতলে থাকলেও কোনো রঙ মনে হয় সামনে এগিয়ে আসছে এবং কোনো রঙ মনে হয় পিছিয়ে যাচ্ছে।

আকাশে
ডেমোনিক মেঘগুলোকে
আঁকে?          (নিক্রপলিশ)

সাগরের তলদেশে
নীলচে সবুজ আলো          (জলতান)

নীলচে চোখ, নম্র ডায়ালেকট—
ইতিহাস থেকে উঠে আসা বিষণ্নত          (গাউচো)

নীলচে রাতের
দৃক জানালায়

…  …  …

ঘুমাচ্ছে আন্তোনিয়ো, নীল জামা পর          (আন্তোনিয়ো)

আকাশে ক্ল্যাপটনের নীল          (ক্ল্যাপটনের নীল)

নীলের অনেক রকম ছায়া আছে          (ডীপার শেইডস অফ ব্লু)

রঙের ব্যবহারটা মানুষ তার রঙের প্রতি দুর্বলতা থেকে করলেও (যদিও, রংয়ের বিমিশ্রণকে শিল্পীর জানতে হয়—সৈয়দ আলী আহসান) অমিত সচেতনভাবেই ক্যানভাসে সেই রঙগুলোকেই মান্যতা দিয়েছেন যা তার সুরের সাথে মিশে যেতে পারে।

‘রং যে নিজস্ব আভায় একটি অস্তিত্ববান সুনিশ্চয়তা’ অমিত তার সাথে একাত্ম হতে পেরেছেন বলে মনে হয়। যদিও নীরবতার অর্থ বিচ্ছেদ নয়, ধ্যান এবং আত্মিক পূর্ণতার প্রস্তুতির বিষয়। রঙের সতত পরিবর্তনশীল স্বভাবকে অমিত হৃদয়ের তাপে গলিয়ে এক শীতলতম সুরের নির্মাণ করেছেন।

“শব্দের সাথে রূপকে জড়িয়ে নিয়ে বাক্য যদি হলো উচ্চারিত ছবি, তবে ছবি হলো রূপের রেখার রঙের সঙ্গে কথাকে জড়িয়ে নিয়ে রূপকথা।” (অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

ওই রূপকথাটিকে অমিত ধরতে চেয়েছেন। ‘সময়’ কবিতায় :

আওয়ার গ্লাসের ভেতর
স্তব্ধতা গড়িয়ে পড়ে মসৃণ

তারপর উঠে আসছে আমাদের ‘চারপাশে বহমান মৃত্যুর নৈরব’—সাইকেলের ঘণ্টি ফেলে কেউ একজন ফিরে আসছে খামার বাড়ির দিকে। তারপর আবারও নির্জনতার আভাস। নির্জনতা চিরে দেখা গেল কবিতায় :

নির্জনতা চিরে দেখা গেল একটা শীতের সকাল, ক্রমে বিভাবিত বারান্দার সামনে।

এইভাবে রঙ আর নির্জনতার (রঙের ভাষারও এ ক্ষমতা ও স্বাধীনতা আছে—আকাশের রূপ নেই কিন্তু রঙের আভাস দিয়ে সে কথা বলে) এক সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে অমিতের কবিতার মিড়, মূর্ছনা। কখনও ‘উন্মাদ ঘুমহীন, রাত্রির গোপন সেলারে’ কখনওবা ‘মাংস আর তামাক কিনে ঘরে ফেরা’ মানুষের ‘বলা কথার ঘন হয়ে’।

বাতাসের রেইজ। গাছটা নড়ে ওঠে অগাস্টের এই দীর্ঘ বিকেলে

(ক্রাচ)

অমিতের কবিতায় প্রকৃতি চুপ হয়ে নিজেকে গুটির মধ্যে গুটিপোকার মতো বদ্ধ করে রেখেছে। নিজের বর্ণ ও রেখার সমস্তকে তরঙ্গায়িত করে গেঁথেছে আলো আর ছায়ার খেলা। ‘ক্রাচ’ কবিতার এই বিকেলটা ফলে আরও দীর্ঘ হতে হতে যখন মিলিয়ে যাচ্ছে ‘বহু দূরের ভূগোলে’, তখন :

পৃথিবীর সবগুলো মাউথ অর্গান বেজে উঠছে তোমাকে লক্ষ করে। মাউথ অর্গানের পিছনে কোনো ঠোঁট নাই।

(নকটার্ন ৪)

উপনিষদ বলে একটি বিশেষ অবস্থা হতে যা অনুমান করা যায় তাই অর্থোৎপত্তি। তাকে অবস্থা ঘটিত প্রমাণও বলা যায়। কবিতায় সাধারণত যে ভাবধারা মূল স্থান দখল করে আছে, তার সঙ্গে অন্যান্য অনুঘটনাগুলোর সামঞ্জস্য রক্ষা করা হয়। গৌণ ভাবধারাকে মুখ্য ভাব দ্বারা আচ্ছাদিত করাই কবির কাজ। ফলে স্থাপিত বিষয়কে সরল (?), উৎকৃষ্টরূপে মীমাংসা করাই শ্রেয়। জীব আর জড়ের এই অন্তর্জগৎ আর বহির্জগৎ পরস্পর পৃথক হলেও, একটা বিন্দুতে অমিত তাদের ধারণ করতে পেরেছেন। জড়ের মধ্যেও যে ক্রিয়াশীলতা, প্রছন্ন ও সমগ্রভাবে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে তাকেই তিনি বহুরূপে প্রকাশ করেছেন। এই যে মাউথ অর্গান বেজে উঠল, কয়েটা বিছিন্ন নোটে। তারপর মেলোডি হয়ে জানালা দিয়ে বাইরে চলে গেল। ইতস্তত, সেই সুরে আমাদের কেবল ‘ভুলে যাওয়া মুখগুলো মনে পড়ে’, আশলে আমরা ‘নির্লিপ্তে ভুলে যাই’ মাউথ অর্গানের পিছনে ঠোঁটের প্রয়োজনীয়তার কথা। এই বিচ্যুতি আমাদের মনে থাকে না। আমাদের মলিন ইন্দ্রিয়, মন দ্বারা শুধু ওই সুরটির প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে থাকি। (এখানে বিশ্বরহস্যকে ভেদ করবার আকুতি হতে সঞ্জাত যে জ্ঞানতৃষ্ণা তাই বোধ হয় আমাদের চালনা করে। আর ওই রহস্যের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত শক্তিকে ভেদ না করতে পারলেও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আমাদের তাতে কমে না।)

এক ধরনের অনুপুস্থিতি। আপাত দৃশ্যমান ব্যক্তিটির বাস্তব উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও সমগ্রের অন্তর্নিহিত সামঞ্জস্য ও সঙ্গতি দ্বারা নিয়মিত হয়ে আছে।

তখন তোমাকে খুঁজি

সন্ধ্যার মোলায়েম ইন্ট্রিগ ভেঙে
একটা উজ্জ্বল জোনাকি
বেরিয়ে এসো পৃথিবীর অন্ধকারে।

(সন্ধ্যার মোলায়েম ইন্ট্রিগ)

পুরো কবিতার কোথাও এই জোনাকির অবস্থিতি না থাকলেও শেষে এসে তাকেই পুরো কবিতার সমগ্র বিষয় বলে মানতে আর কষ্ট হয় না।

লোকটা মৃত্যু বাজাচ্ছে চেলোতে
বৃষ্টি মগ্ন সড়কের মতো নির্জন

(কান্তো দে লা মুয়ের্তে)


শিল্পে ব্যবহৃত উপাদানসমূহ কবি তার সংস্কৃতি থেকেই গ্রহণ করেন।


একটা মিউট মিউজিক অমিতের কবিতাকে জড়িয়ে রেখেছে। (লুঙ্গিনুস প্রকৃতপক্ষে চেয়েছিলেন আর্ট যেন নিসর্গের ভিতরকার sequence-কে মেনে চলে।) যে মিউজিক আরও গভীর হয়ে মানস কল্পনাকে ঠেলে কল্পলোকের দিকে দানা বেধেছে। স্বরগ্রামের যে নিখাদ স্বরটা খেয়ালি, সে অজানা সুরের সুরভি ধরে সৃষ্টির জাল ফেলছে। লোকটার এই মৃত্যু বাজানোর মধ্যে এক ধরনের অভিনবত্ব আছে। যখন মৃত্যু মানুষের সারকথা, তাকে মিউজিকে পরিণত করাটা যেন তাকে বিদ্রূপ করার মতোই। তবে এই ধরনের হেত্বাভাস, অমিতে খুব একটা নাই। জীবন ও জগৎ বিষয়ে অমিত শেষপর্যন্ত কোনো বোঝাপড়ায় আসতে চান নি। ফলে তার কবিতা রূপকল্পনার মধ্যে নানারকম ভাব ও ভাবনার মহিমায় নির্মিত। শব্দ, সুর, ছন্দ, রূপ ইঙ্গিত—ভঙ্গি নিংড়ে নিংড়ে তার কবিতা নিরাভরণ বেরিয়ে এসেছে।

একজন কবি যদি তার ভাষা বা সংস্কৃতির প্রধান বাহক হয়ে থাকেন তবে এ কথা তো সত্যি যে তাকে ওই ভাষায় স্থিতি বা ওই সংস্কৃতির বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদানসমূহের মধ্যে একটা বোঝাপড়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। কেননা শিল্পের সেই ধ্রুব বস্তুটি, যার আভাস মুহূর্তের অভিজ্ঞানে বা দিব্যদর্শনে শিল্পীর কাছে ধরা পড়ে। তার সত্য রূপ উন্মোচনে ওর দরকার হয়ে পড়ে। তাছাড়া ভাষাকে লিখিত রূপে আত্মস্থ করতেও একটা ন্যূনতম প্রস্তুতির প্রয়োজন। যেহেতু ভাষা সমাজ থেকে আলাদা নয়। সমাজ থেকেই এর উদ্ভব, শিল্পে ব্যবহৃত উপাদানসমূহ কবি তার সংস্কৃতি থেকেই গ্রহণ করেন।

এলুয়ার কয়েকটি বোতাম স্পর্শ করলেন
আর দেওয়াল খুলে যায় অবলীলায়

(শ্রদ্ধার্ঘ্য/ টোমাস ট্রান্সট্রোমার/ অনুবাদ : কুমার চক্রবর্তী)

পল সেলান। প্রকৃত বিষাদ তাকে স্পর্শ করেছিল।

(অমিত চক্রবর্তী)

রাইনের ওকের পিপেয় ঘুমিয়ে আছে মদ।
আমাকে জাগিয়ে দিলে মিটেলবের্গহাইমের আঙুরবনের
ছোট্ট গির্জের ঘণ্টার শব্দ।

(মিটেলবের্গহাইম/ চেশয়াভ মিউশ/ অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

মাউন্ট ভার্ননের নারীরা

(অমিত চক্রবর্তী)

উদ্ধৃতিগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য এই নয় যে কবিতাগুলোর মধ্যে কোনো সাযুজ্য আছে। বা প্রভাব। অমিতের কবিতার মৌলিকতা যদিও তারা নষ্ট করছে না কিন্তু কবিতাগুলো কোনো না কোনোভাবে সমগোত্রীয়। ওই কবিতাগুলোর  যে উপকরণ, তার দূরত্ব, আকার বা নিরন্তর সৃষ্টির মধ্যে, একটা এককেন্দ্রিক প্রবহমানতা লক্ষ করা যায়। (তাদের মধ্যে সৃষ্টির অর্থ ও সার্থকতার মিল পাওয়া যায়।) এই ভাষাসমষ্টির মধ্যে অপরিচয়ের প্রাচীর এত উঁচু যে কখনও কখনও ওই রূপানুভুতির ইঙ্গিত আমরা ধরতে পারছি না। (আমাদের এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নাই যে, সমাজজীবনে সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। এ হলো নিরন্তর সংস্কারের মাধ্যমে প্রাপ্ত মানবগুণ। এবং সত্যিকার অর্থে মানুষের একক বৈশিষ্ট্য। যার মাধ্যমে মানুষ জীবজগতের স্বতন্ত্র মর্যাদার সমাসীন হয়েছে।) আলোচ্য কবিতাগুলোয় তিনজনই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থিতি থেকে তাদের আকুতি ঢেলে দিলেও কবিতার শিল্প-উপাদানগুলোর মধ্যে একটা মিল পাওয়া যায়। এলুয়ারের কয়েকটি বোতাম স্পর্শ করা আর বিষাদের সেলানকে স্পর্শ করার মধ্যে অনুভূতির দূরত্ব বা সৌন্দর্য নির্মাণের পার্থক্য থাকলেও উপকরণগত মিল পাওয়া যায়। (কোনো না কোনোভাবে অমিতের কিছু কবিতাকে অনুবাদ কবিতার কাছাকাছি মনে হয়। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সংস্কৃতির চর্চা করতে দেখা যায় না। তাকে কেবল ছুটতেই দেখা গেছে। আমি ঠিক তাকে বুঝে উঠতে পারি নি এই কবি ঠিক কোন ভাষা বা সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করছেন।) মানসকে সুন্দরভাবে প্রকট করার বাসনায়, আমিত যে ভাষার সৃষ্টি করেছেন তার ইঙ্গিত (কান্তো দে লা মুয়ের্তে, ক্ল্যাপটনের, ডায়ালেকট, ইন্ট্রিগ, চেলো, ফরচুনটেলার) অস্পষ্টতাদোষে দূষিত কি—সে প্রশ্ন তাই উঠতেই পারে। দুইটা কবিতার অংশবিশেষ পাশাপাশি রেখে শেষ করছি :

অজানা এক শহরে তার সাথে হুট করে দেখা
হয়তো পোর্তো এলেগ্রা বা
করিয়েন্তসের প্রদেশের কোনো বিকেল তখন

(গাউচো/অমিত চক্রবর্তী)

অ্যানাহোরিশ
আমার ‘স্বচ্ছ জলের হ্রদ’
পৃথিবীর প্রথম পাহাড়চূড়ো
যেখানে ঝরনা ধুয়ে দেয়
উজ্জ্বল ঘাসেদের

(অ্যানাহোরিশ/ সিমাস হিনি)

অনুপম মণ্ডল

অনুপম মণ্ডল

জন্ম ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৮; কৃষ্ণনগর, খুলনা। সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। পেশায় শিক্ষক।

প্রকাশিত বই :
ডাকিনীলোক [কবিতা, চৈতন্য, ২০১৬]

ই-মেইল : anupamsoc@gmail.com
অনুপম মণ্ডল