হোম নির্বাচিত আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো : পাঠক্রিয়া

আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো : পাঠক্রিয়া

আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো : পাঠক্রিয়া
442
0

আমার ঠাহরবিদ্যায় কবিতার কোনো সংজ্ঞা নাই, অন্য কারো ঠাহরবিদ্যায় এর সংজ্ঞা আছে কিনা তাও আমার অজানা। আমি মনে করি কবিতা মানুষের ভাষার মধ্যে সমাজস্থিত যে জীবন ও জীবনবোধ এবং শ্রেণিবিভক্ত সামাজিক যে কাঠামো বিদ্যমান—তার মধ্যে স্বাধীন হয়ে ওঠার ইশারাব্যঞ্জনায় মূর্ত করে তোলে অনুভব ও অনুধাবনের শ্রীসাধন ক্ষেত্রকে। সামাজিকীকরণে উদ্ভাসিত মানুষের পরিবর্তিত চেতনালোকে রক্ষিত সৌন্দর্যবোধকে প্রবর্তনার বার্তা দিতে চায়, মানুষের টিকে থাকার যে তীব্র তৃষ্ণার্ত বোধ ও সন্দেহ-সংশয় তাতে কবিতা ভাষার মাধ্যমে যুক্ত করে ইশারাব্যঞ্জনা। এর ফলে বহুমাত্রিক চৈতন্যলোকের উন্মেষ ঘটে। মূর্ত হয়ে ওঠে বহুরৈখিক উপলব্ধির কুয়াশাকেবিন। পাঠক হিসেবে এরকমই মনে হয় আমার। ওই কুয়াশাকেবিন আমার বেঁচে থাকার ঠাহরবিদ্যাকে প্ররোচনা দেয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির দিগ্বলয়কে প্রসারিত করে। আমি মানুষকেই পাঠ করি কবিতার ভেতর দিয়ে, তার চৌপাশকে অবলোকন করতে চাই এই কবিতার ভাষিক প্রবাহনের বহুমাত্রিক স্বরে ও কম্পনে।

জয়ের কবিতার অবয়বে ভেসে ওঠে ওই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরই ভাষিক স্বর—যা মন্থন করলে তাঁদের যাপিত জীবনযাত্রার ধরণ, বোধ ও স্বপ্ন আমাদের সামনে দিয়ে প্রবাহিত হতে চায় যেন

রুহুল মাহফুজ জয়ের কবিতা পাঠ করে মনে হলো তাঁর কবিতা ব্যক্তির সংবেদনশীল মনের চাওয়া-পাওয়াকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে, সেখানে সমসাময়িক সময়ের মধ্যে শিক্ষিত যে জনগোষ্ঠী—তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষার গণ্ডির ভেতর মূর্ত করে তুলছে তাঁদের যা হাতের নাগালে নাই তারই একটা রূপ, ওখানে কোনো ভণিতা নেই, সাদামাটাভাবে ওইটাকে যেন পেতে চাচ্ছে, সাদাসিধে ভাষায়, এই সময়ের তরুণদের বহুব্যবহৃত ভাষায়। মুখের ভাষায়। ওই ভাষার হয়তো গভীর ব্যঞ্জনা নাই, তাতে কিছু এসে যায় না, অনুভব করা যায়, উপলব্ধিও করা যায় সহজেই। বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনাতেই শুধু মানুষের স্বাধীন সত্তার দৃশ্যানুভূতিকে পাঠ্য করে তোলা যায় এমন ভাবনার তলপেটে সমসাময়িক কবিতার বহুব্যবহৃত ভাষায় বর্ণিত ভাষ্যকে ছুড়ে ফেলা যায় না, তাতেও লেগে থাকে নাগরিক মননের তৃষিত পেটির ছায়া, যা হয়তো খুবই বিমূর্ত ভঙিমার লোমকূপের সমুদ্রে নিয়ে যায় না বা বহুস্বরের বহুরৈখিক রেখার ঢেউয়ে নিয়ে যেতে পারে না, কিন্তু তা সাদাসিধে আটপৌরে অনুভবমালাকে ক্ষণিকের জন্যে হলেও ভাসিয়ে নিতে চায়—এরকম ভাসা ও ভেসে যেতে জয়ের কবিতা আমাদেরকে প্ররোচিত করে। এটাই জয়ের কবিতার নাগরিক অবয়ব। জয়ের কবিতা পাঠ করতে গিয়ে বারবার মনে পড়ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক প্রয়াত সৈয়দ আহমদ খানের সমাজবীক্ষণের পদ্ধতিগত দিকের কথা। উনি আমার শিক্ষক ছিলেন। উনাকে অনেকেই বাজে শিক্ষক হিসেবে জানতেন। আমার খুব পছন্দের শিক্ষকদের মধ্যে উনি ছিলেন। উনি বলতেন রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক কতটুকু এগিয়েছে তা যদি বুঝতে চাও তাহলে দেয়াল-লিখনগুলি পড়ো, শহরের ভেতর মানুষ কোথায় কোথায় প্রস্রাব করছে দেখো, হকাররা কী কী পণ্য বিক্রি করছে, কী কী লিফলেট বিলি করছে দেখো, পর্যবেক্ষণ করো, দেখবে এসবের মধ্যেই তোমার রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক কতটুকু এগিয়েছে তা বোঝা যাবে। তুমি বুঝতে পারবে। জয়ের কবিতার ভেতরও এই সময়ের নাগরিকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মনোবাসনার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঢেউ যেন ওইসব নাগরিক মন ও মননের দেয়াললিখন লেপটে আছে। শহরের মধ্যেও যেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রাম ও গ্রাম থেকে ধেয়ে আসা মানুষের দঙ্গল—তাঁদের আশা-নিরাশা, বেঁচে থাকার বৃত্ত, ভাবনা এইসব—ওঁর কবিতার খুব গভীরে লুকিয়ে আছে যেন, আমার পাঠে এইরকমই মনে হলো, অন্য পাঠকের কাছে তা মনে নাও আসতে পারে। নাগরিক জীবনযাপনের নানাবিধ অনুষঙ্গ পর্যালোচনা করলে এই সময়ের রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এই সম্পর্কের ভেতর দিয়েই যে মানুষের ভাষা বদলে গেছে তা টের পাওয়া যায়, এই ভাষা মধ্যবিত্ত শ্রেণিভুক্ত মানুষের, যা জয়ের ভাষায়—ভাবির ব্লাউজের নিচে আরো ডাল-ভাত মাখা হতে থাকে যেন। এর ফলে আমাদের চোখের সামনে হাজির হয় অধিকাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমাজজীবনের টুকরো টুকরো আচরণ, বেড়ে উঠা জীবনপ্রণালি, চিন্তাভাবনার খণ্ডাংশের দৃশ্যও স্পষ্ট ভেসে ওঠে মানসপটে। একই সাথে শ্রেণিবিভক্ত সমাজের মানুষের আচরণগত পার্থক্য, ভাবনাখণ্ড এবং সংস্কৃতির ভেদরেখাগুলোও দৃষ্টিগোচরে আসে। জয়ের কবিতার অবয়বে ভেসে ওঠে ওই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরই ভাষিক স্বর—যা মন্থন করলে তাঁদের যাপিত জীবনযাত্রার ধরণ, বোধ ও স্বপ্ন আমাদের সামনে দিয়ে প্রবাহিত হতে চায় যেন, সেখানে ব্যক্তি মানুষের একলা হওয়ারও আকুতি যেমন ফুটে ওঠে তেমনি সমাষ্টিক জীবনবোধের ঢেউয়ে কখনও কখনও তা মিশেও যায়। এর ভিতর দিয়েই আমরা দেখতে থাকি মানুষের গোপন অনুভব, তাতে টুকরো টুকরো জীবনের অতলস্পর্শী উপলব্ধির ছাদ মূর্ত হয়ে ওঠে। এতে আমাদের মনে উন্মুক্ত খোলা হাওয়ার মতো স্পর্শ করে ওই মূর্ততার ভাষিক স্বর ও সুর, এই স্বর ও সুর আমাদের মথিত করে, টেনে নিয়ে যায় চৈতন্যের গহনতলে, তখন ভালো লাগার থেকে মনে হয় এটাই তো এই সময়ের মানুষেরই জীবনতৃষ্ণার ছড়ানো-ছিটানো হাল-হকিকত। জয়ের কবিতা গ্রন্থের তিনটা অংশে বর্ণিত হয়েছে ওইসব মানুষেরই হাল-হকিকত, যা তাঁর কবিতাভাষার ভেতরই নিমজ্জিত, ওই ভাষার গভীরে এসময়ের মানুষেরই অন্তরশশী যেন বর্ণিত হয়েছে, যা তাঁদের জীবনঘনিষ্ঠ আচরণ বা ক্রিয়ারূপের চিন্তনবিশ্বও লেপটানো, যার অনুরণন আমাদের দেহ-মনের আভাতে ফুটে ওঠে কবিতা নামে। তাঁর কবিতা গড়ে উঠেছে তাঁরই যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতার ভেতর, বাস্তবের যে সাংস্কৃতিক কাঠামো বা বলয় আর তার ভেতর প্রতিনিয়ত মানুষের যে আচার-আচরণ-চিন্তা-ভাবনা বহমান, তার সাপেক্ষেই তাঁর কবিতায় সেসবের ফিরিস্তি অভিজ্ঞতার আদল নিয়ে গড়ে উঠেছে। এখানে নাজেলকৃত কোনো বিষয়-আশয় নাই। রুহুল মাহফুজ জয় এই সময়ের কবি। তাঁর কবিতাগ্রন্থ ‘আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো’র পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে এই সময়ের মানুষেরই মুখ ও মুখশ্রী।


পাণ্ডুলিপি থেকে 

রুহুল মাহফুজ জয়


শুরুর কথা

.
মা, ধরিত্রির খুব জ্বর, গা পুড়ে যায়, কেউ দেখার নাই তারে। মহাবিশ্ব এক এতিমখানা, ধরিত্রি এতিমদের রাণী, তার রাজা নাই, মুকুট নাই, সিংহাসন নাই, প্রজারা দরিদ্র, যা ছিল তার সবই যেন খেয়ে ফেলেছে লোভী মানুষ, রাষ্ট্র আর সংঘ।

জননী কহেন—চাল নিয়ে নাড়াচাড়া করি, মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে সহস্র উদর, পিশাচের চোখ আর বুভুক্ষু হৃদয় নিয়ে অনেক অনেক মানুষ ঘুরছে এ পথ থেকে ও পথে, এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি, বাজার, শহর, দেশ থেকে দেশান্তর। খাবারের জন্যে মুখ হা করে থাকে, চোখ খুলে রাখলে পিটপিট করে। শিরা-উপশিরা, লৌহকণিকা, প্রতি ফোটা রক্ত নিজস্ব ক্ষুধার দিকে আত্মহত্যাপ্রবণ।

ও মা, মাগো…আমিই যেন ভাতের মাড় গলে পড়া চালের অসুখ। আমাকে ফেরাও, সিদ্ধ হয়ে গলে পড়ার এই খেলা আর ভাল্লাগে না আমার।


আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো-৫

.আমি
আমি

যে লোকটা বৃষ্টির শব্দকে প্রেমিকার হাসি ভেবে
রোজ একবার করে মরে যায় কোনো এক রাতে
কবরের ফুল থেকে অন্ধকার চুরি করার লোভে—

হুরপরীরা আমাকে প্রেমের দিকে টানে, আমি যাই
অগ্নিযোনির দিকে—তোমরা তাকে বলো সন্ন্যাস।


আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো-১২

.
নার্গিসের চোখে একটা পড়ন্ত বিকাল রয়েছে দাঁড়িয়ে, ভীতু অশ্বের মতো লেজ নাড়ছে চোখের পলক। সহস্র মাইল দীর্ঘ এক ছায়া উঠেছে বেড়ে কপালের ভাঁজে, খিদা পেলে নার্গিস নার্গিস নার্গিস বলে শ্লোগান তুলছে পরাজিত মানুষের ক্লান্তিরা—ওর সোয়ামিও পরাজিত মানুষ, হাইস্কুলের নগণ্য দফতরি এক।

নার্গিসের মুখের রেখাগুলিতে তাঁবু পেতেছে এ পর্যন্ত হওয়া পৃথিবীর সব ভুল সম্পর্ক, যেখানে ওর নিজেরই হয়নি ঠাঁই। ইশকুল দফতরির ঘণ্টাবাদনকে ঈশ্বরের হাঁক ভেবে ক্লাস টেনে ঈশ্বরী সেই নার্গিস—
হা-মুখ
না-মুক
শামুকের
মতো কামুক হয়ে খিদার রাজ্য পাহারা দিয়ে ছেলেকে দুধপান করাতে করাতে নার্গিস ওর সোয়ামিকে ’ফহিন্নির পুত’ বলে গালি দিচ্ছে…..।


নাইটমেয়ার

যেভাবে আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো নাইটমেয়ার হয়…

.
বেঁচে থাকা—কোথায় তোমার বাস, বলো কিসের মর্মরে বাজে খঞ্জনি তোমার? কার পায়ের কাছে বসে পায়েস মনে করে খাও ধুলো, তোমার স্বপ্নেও কি হাঁপিয়ে ওঠে বলিউডি ক্লিভেজ? শুনেছি তোমার কাছে লোভ এসে লেজ নাড়ে, তু তু করে তুমি তাকে আদর করে বিস্কুট খেতে দাও। বেঁচে থাকা—তুমি নাকি গিটারের কর্ডে ক্ষুধা মিশিয়ে হয়ে যাও অ্যারিক ক্ল্যাপ্টন, শিঙ্গা ফুঁকে আরো আরো হ্যামিলন তুমি শিশুহীন করে দাও! এত আশ্চর্যসঙ্গীত তোমার চিবুকে নাকি ঠোঁটে ফোটে?

বেঁচে থাকা—ক্ষুধাময় পৃথিবীতে তোমাকে একটা সবুজ দ্বীপ ভেবে পাতার ওষ্ঠে ঘুমাতে যাই, একশ একটা কারণ নিয়ে পথে বেরোই, একদিন প্রেম-বিয়ে-ছেলেপুলে নিয়ে তোমার কাছে নতজানু হই, কিছু কিছু ক্ষুধা সাপের লোভ নিয়ে বেরিয়ে করে হিস্ হিস। সকল ক্ষুধারা একদিন নাইটমেয়ার হয়ে মানুষের চোখে জমে যায়…গড়ে তোলে বিশালকায় মর্গ এক….।


নাইটমেয়ার-৮

.
কাকতাড়ুয়ার হাসি হয়ে মাঠে মাঠে দাঁড়িয়ে আছি, হাওয়ার পোশাকে আমার কাছে এসেছে মৃত পাখির পালক, যতিচিহ্ন উড়ছে তারাদের, খসে পড়ছে চেনা পৃথিবীর আয়ু। আমার যে ছায়াগুলোর অক্ষর হবার কথা ছিল—তারা আজ বিষণ্ন বিড়ালছানা। সাদা কালিতে যে আমার হাসি এঁকেছে, তাকে খুঁজতে গিয়ে দেখি কবিতারা সব সিসিফাস—কথার বদলে বয়ে বেড়াচ্ছে পাথর। পাথরগুলোর নাম একাকিত্ব—চাপা পড়ার ভয়ে মাঠে মাঠে কাকতাড়ুয়ার হাসি হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি। তা দেখে পালিয়ে উড়ছে নিশিপাখি—যার ডানায় আঁকা রয়েছে আমার গন্তব্য।


মৃত্যুপর্ব

.
একটা ফুল আরেকটা ফুলকে চোখ মারে, তা দেখে অন্য ফুলেরা ছোটায় ঈর্ষার ট্রেন। এরই মাঝে মাছেদের উড়ার সাধ কিভাবে জলদেবতার কাছে মার খায়—বৃষ্টি এসে সে গল্প শুনিয়ে যায়। কোনোকালে বৃষ্টি কি তবে ফুলের দুধ মা ছিল? একটা ফুল বৃষ্টির কাছে জিজ্ঞেস করে—
: আমাদেরও কি একজন জীবনানন্দ দাশ আছেন? ঝরে যাওয়া ফুলের কষ্ট কি বনলতা সেনের চোখের জল?
: ঝরাফুলের তরে জীবনবাবুরা কবিতা লিখে না সোনা! উত্তর দিয়ে হাওয়ায় মেলায় বৃষ্টিকণা। একটা ফুল ঝরে যাবার কালে অন্যটির পানে কেঁদে বলে—
: আমার ভীষণ ভয়, তুমিহীন কী করে কাটবে এই টবজীবন আমার! একসঙ্গে ফুটেছি, শেষ বিদায় কেন নয় একই সময়ে?
: দ্যাখো, মৃত্যু হয়ে যে উপত্যকায় যাচ্ছি, আমার ঝরে পড়ার শব্দে সেখানে ভয়াবহ ভূকম্পন হতে পারে, তুলার মতো উড়তে পারে মৃতদের রাজধানী! তুমি অন্তত আর এক প্রহর বেঁচে থাক প্রিয়তমা আমার। এই নাও আমার আয়ু—তোমার প্রাণে ভরে নাও! আসলে মানুষ ও ফুলের মধ্যে তফাৎ নেই তেমন। পুরোটা ইহজনম পরের তরে সাজিয়ে মৃত্যুর কাছে যেতে হয়।
: তাহলে কি মৃত্যুই একমাত্র সত্য! বাকি সব মৌমাছির ঘোর, যে ঘোরের জন্ম ফুলের কামরস থেকে? তুমি আমার জন্য একটা কবিতা লিখবে বনলতা সেনের মতো?
: বনলতা বা ফুলতা, কোনো সেনই আমাকে তাড়িত করে না। তুমি শুধু আমার নাম ধরে ডাক বন্ধু, তারই অনুরণন চৌরাসিয়ার বাঁশি হয়ে বাজে আমার কানে।
: বিদায় বেলায় আমার প্রশ্বাসে তুলে নিলাম তোমার গায়ের গন্ধ। ওটুকু ফুরিয়ে গেলে একই মাটিতে ঝরে যাব আমিও। মিশে যাব যেখানে তুমি ঝরে যাচ্ছ আজ। জেনে রাখ, আমাদের ফসিল থেকেই ফুটবে আরো আরো গন্ধরাজ!

মুক্তি মণ্ডল

মুক্তি মণ্ডল

জন্ম ২২ জুলাই ১৯৭৬, চুয়াডাঙা।

সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
পেশা : গবেষণা।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই :
ঘড়ির কাঁটায় ম্যাটিনি শো (কৌরব ২০০৮)
পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি (জোনাকরোড ২০০৯)
উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি (আবহমান ২০১১)
ভেল্কিবাজের আনন্দধাম (এন্টিভাইরাস ২০১৫)

ই-মেইল : mukte.mandal@gmail.com
মুক্তি মণ্ডল