হোম পুনর্মুদ্রণ গদ্য মৃত্যুর পরে, জন্মের আগে

মৃত্যুর পরে, জন্মের আগে

মৃত্যুর পরে, জন্মের আগে
537
0

জীবনানন্দ দাশের একটি অপ্রকাশিত কবিতা ও কবিতার ভাষ্য


আমরা কি সেই পৃথু’র আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলাম
.  কিংবা তারও ঢের আগে—
.  আর আমাদের মৃত্যু
কে জানে কবে হবে—অনেক বার হয়ে এসেছে ব’লে—হয়তো নেই আর
.               ইতিহাসের স্তরে-স্তরে
.         আমরা অনেক শিশুকে ভূমিষ্ঠ হতে দেখেছি
মহামারি ও মড়কের দেশে—
.                                   কিংবা বন্দিনীদের ক্যাম্প’এ যখন সে জন্মগ্রহণ করেছে
আর ও-দিকে—ঢের দিন বেঁচে থেকেছে ব’লে কেউ গেছে ম’রে
.                           (অনেকে ম’রে গেছে)
.  মাঝখানে ধূমাক্ত কেরোসিন’এর লণ্ঠন দু’জনকে রেখেছে পৃথক?
.                                                                   অথবা পৃথক রাখে নি।

আমরা সেই প্রদীপকে জ্ব’লে যেতে দিয়েছি।
.                                   তবু তাকে জ্ব’লে যেতে দিই নি।
.  মুস্তারি ও পারবিন’এর দিকে তাকিয়ে
.   এ-রকম অনেক জন্ম-মৃত্যু দেখে গেলাম আমরা
.    কিন্তু তবুও আমরা অনেক বার ম’রে গিয়েছি—তবুও মরি নি
.       আমরা আজও বেঁচে রয়েছি—তবু বেঁচে নেই
.       বাঁচা’র থেকে মৃত্যু কোথায় পৃথক এবং মৃত্যুর থেকে বেঁচে থাকা
.       প্রবীণ মনীষীরা যা পারে নি—
.                                                আজ এত শতাব্দী পরে এমন কে জ্ঞানী রয়েছে
এই হেঁয়ালির উত্তর—অন্তঃসার—আমাদের ব’লে দেবে
.   (যাতে সমাধির নিচে শুয়ে তবুও কেউ পুনরায়
.   ধূসর বিড়াল’এর মতো সূর্যের আলোয় স্তম্ভের উপরে আবির্ভূত হবে না।)
.    (যাতে হুডিনি’ও তৃপ্ত হয়
.   যাতে সিন্দুকের ভিতরে ঢুকে তালা লাগিয়ে তবুও কেউ পুনরায়
.     সহসা বাইরে এসে—হুডিনি’র মতো—দেখা দেবে না আর)
.        যদিও আত্তিলা অনেক দিন হয় মরেছে
.           এবং রিবেনট্রপ’ও একদিন ম’রে যাবে।

 

খ্রিস্টাব্দ ১৯৪০ সেপ্টেম্বর

 

সৌজন্য:
অমিতানন্দ দাশ
প্রিয়ব্রত দেব, প্রতিক্ষণ

‘জাত ব্যক্তির মৃত্যু ধ্রুব, এবং মৃতের জন্ম ধ্রুব।’
—শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা, (অনুবাদ: রাজশেখর বসু)

‘আমি মৃত ছিলাম
এসেছি জীবিত হয়ে’
—জালালউদ্দীন রুমি

যেন খুব সাদামাটা একটি প্রশ্ন তুলে বা প্রশ্নও নয়, সংশয়দীর্ণ কোনো উক্তি দিয়ে—শিরোনামহীন এ কবিতাটি শুরু করেছেন জীবনানন্দ দাশ: পৃথুর আমলে কি জন্ম হয়েছিল মানুষের? হিন্দু পুরাণের রাজা পৃথুর সঙ্গে মানবজাতির সম্ভাব্য উন্মেষের যোগের কথা উল্লেখ করে কেন শুরু হলো কবিতাটি? এক মন্বন্তর-জর্জরিত যুগে পৃথু তাড়া করেছিলেন পৃথিবীকে। তাঁর তাড়া খেয়ে পৃথিবী ছুটেছিল এক গাভীর রূপ ধরে। বাগে পেয়ে পৃথিবীকে হত্যা করতেও উদ্যত হয়েছিলেন তিনি। প্রাণরক্ষায় কাতর পৃথিবী তখন একটি যুক্তি দিয়ে তাঁকে হতোদ্যম করে দেয়। পৃথিবী বলে, তাকে হত্যা করলে তো চিরবিলোপ ঘটে যাবে পৃথিবীবাসী সমস্ত প্রাণিকুলেরও। এই কথায় পৃথিবীকে ছেড়ে দেন পৃথু। পৃথিবীও এর বদলে মেনে নেয় পৃথুর অভিভাবকত্ব। ‘পৃথু’র নামে তার নাম হয় ‘পৃথ্বী’। মনুকে বাছুর হিশেবে ব্যবহার করে এবার পৃথিবীর দুধ দোহন করে নেন পৃথু। শস্যদানা আর ফলমূল হিশেবে তিনি পৃথিবীর সে দুধ আহরণ করেন। পৃথিবীকে ভরিয়ে দেন প্রাণহিল্লোলে। এর আগে পৃথিবীতে না ছিল চাষবাস, না ছিল চারণভূমি, না ছিল বণিকদের জন্য মহাসড়ক।


যে মানুষের এত তাৎপর্যময় উন্মেষ, তার বিলয় ঘটবে কবে? কখন এই মানবগোষ্ঠীর মহামৃত্যু?


পৃথিবীর এই সপ্রাণ হয়ে ওঠার সঙ্গেই কি তাহলে মানুষ আর তার ইতিহাসের উদ্বোধন? নিরীহ ভঙ্গিতে এই প্রস্তাবটি রেখে জীবনানন্দ দাশ শুরু করেছেন কবিতাটি। কিন্তু পরের চরণেই আবার প্রশ্নটি পাল্টে নিতে চাইছেন তিনি। তাঁর এবারের জিজ্ঞাসা, নাকি তার আগেই জন্ম হয়েছে মানুষের? আগে মানুষ, তারপর তার ইতিহাস—এমনকি পৃথিবীরও? মানুষের অস্তিত্বশীলতাই কি তবে পৃথিবীর সপ্রাণ হওয়ার চরিতার্থতা? এসব কথা যে খুব প্রত্যক্ষে আছে এই কবিতায়, তা নয়। কিন্তু ধীরে ধীরে গড়িয়ে গড়িয়ে কবিতাটি যেখানে গিয়ে পৌঁছাবে, ইতিহাসের প্রশ্নটি সেখানে কোনোমতেই আর ঢেকে রাখা যাবে না। প্রথম চরণ কয়টির দিকে ফিরে তাকালে এগুলোর গভীরতর ভাষ্য তখন টংকার দিয়ে বেজে উঠবে। কবি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে, ঠিক পরের পঙ্‌ক্তিতেই, সরে গেছেন আরেক দিকে। ছুড়ে দিয়েছেন আরেকটি মোক্ষম প্রশ্ন। যে মানুষের এত তাৎপর্যময় উন্মেষ, তার বিলয় ঘটবে কবে? কখন এই মানবগোষ্ঠীর মহামৃত্যু? প্রশ্নটি আলগোছে তুলে আবার বেরিয়েও এসেছেন সেখান থেকে। বলছেন আবারও কিছুটা সংশয় নিয়েই—মানুষের তো বিলুপ্ত হওয়ার কারণ বারবার ঘটেছে; তাই হয়তো আর কোনো মৃত্যুই নেই মানুষের। কবিতার প্রথম চারটি চরণে জীবনানন্দ দাশ তাঁর মূল ভাবটি বীজের মতো রোপণ করলেন।

কিন্তু মৃত্যুভাবনা জীবনানন্দ দাশের কবিতায় এই প্রথম নয়। যে সময়ে নিজের কণ্ঠস্বর অব্দি তিনি খুঁজে পান নি, সেই ঝরা পালক-এও ‘শ্মশান’ বা ‘চাঁদিনীতে’ কবিতায় মৃত্যু নিয়ে তাঁর হাহাকার আমরা শুনতে পেয়েছি। সেই হাহাকার তখনো আকারহীন। কোনো ভাব তার মধ্যে দানা বাধে নি। দ্বিতীয় বই ধূসর পাণ্ডুলিপিতে কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর নিজস্ব উপলব্ধির জগৎ ও অতি বিশিষ্ট ভাষাবোধ নিয়ে জেগে উঠতে শুরু করেন। এবার যেন জীবনানন্দ ইন্দ্রিয় দিয়ে শুষে নিতে চাইছেন তাঁর চারপাশের পৃথিবীকে; আর তাকে প্রকাশ করছেন এক নেশাতুর আবেশময় ভাষায়। এই সময় থেকে মৃত্যুচিন্তাও নানা ভঙ্গিমায় ফিরে ফিরে আসতে শুরু করেছে তাঁর কবিতায়। তিনি লিখছেন, ‘যে নক্ষত্র মরে যায়, তাহার বুকের শীত/লাগিতেছে আমার শরীরে’, ‘মৃত্যুরে ডেকেছি আমি প্রিয়ের অনেক নাম ধরে’, ‘তুমি যদি বেঁচে থাকো,—জেগে রবো আমি এই পৃথিবীর ’পর,—/যদিও বুকের ’পরে রবে মৃত্যু,—মৃত্যুর কবর’, ‘উজ্জ্বল আলোর দিন নিভে যায়,/মানুষেরো আয়ু শেষ হয়’। এসব চরণে মৃত্যু নিয়ে কবির যে আবেগ ও অনুভব লক্ষ করছি, তার মধ্যে কোনো প্রশ্ন নেই; আছে নানা মাত্রার রোমান্টিক আবেশ।

মৃত্যুকে কেন্দ্রে রেখে পূর্ণ দুটি কবিতাও রচনা করেছেন তিনি ধূসর পাণ্ডুলিপিতে —‘ক্যাম্পে’ ও ‘মৃত্যুর আগে’। এই কবিতা দুটিতে মৃত্যু নিয়ে তাঁর ভাবনা এই প্রথম স্পষ্ট আকার পেতে শুরু করেছে। দুটি কবিতার সুর একেবারে দুই মেরুর। ‘ক্যাম্পে’ কবিতায় একটি হরিণ-শিকারের ঘটনায় উন্মোচিত হচ্ছে বিশেষ কিছু মানবীয় উপলব্ধির। আর কবিতার শিরোনাম হলেও ‘মৃত্যুর আগে’তে যেনবা মৃত্যুর কোনো কথাই নেই। কবিতাটি বরং জীবন উপভোগের দীর্ঘ এক তালিকা; সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে চারপাশের পৃথিবীকে উপলব্ধি করার এক চিত্রল বিবরণ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নতুন কোনো জিজ্ঞাসাই যেন আমাদের আর থাকতে পারে না। জীবনের চেয়ে বড় কোনো উপলব্ধির জগৎ কি তুলে ধরতে পারে মৃত্যু?—কবিতাটির শেষদিকে পৌঁছে এমন একটি আবছা প্রশ্নও মনে জেগে ওঠে। মৃত্যু নিয়ে এক ধরনের অনুসন্ধান তা হলে এবার শুরু হলো কবির মধ্যে। এর পরে নানা কবিতায় তাঁর এমন দার্শনিক আকুতির দেখা মিলতে থাকবে। আর তা কেলাসিত হয়ে উঠবে ‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতায়। কিন্তু এসব মৃত্যুজিজ্ঞাসা, একটু আগে যেমন বলেছি, এখনো দার্শনিক উপলব্ধির মহামানবজীবনপটে ব্যক্তির উদয় ও বিলয়ের, প্রাণিজীবনের সঙ্গে মানবজীবনের বৈপরীত্যের অভিজ্ঞতার, জীবনের স্ফূর্তির সঙ্গে মৃত্যুর যবনিকাময় সংঘর্ষের।

এর পর বছর কয়েকের মধ্যেই জীবনানন্দ দাশের চারপাশের চেনা পৃথিবী পাল্টে যেতে আরম্ভ করবে। এক পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়বে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা। পাল্টাতে শুরু করবে এ অভিজ্ঞতার ধরন। এবার তাঁর মৃত্যুজিজ্ঞাসার আনাচে-কানাচে জায়গা করে নিতে থাকবে সমকালের দুঃখদীর্ণ ইতিহাসের ভাঙাচোরা হাড়গোড়—যাতে পরিকীর্ণ হয়ে আছে ১৯৪০ সালে কিংবা তার কিছু আগেপরে লেখা এই কবিতাটিও। সমস্যা হচ্ছে, বইয়ের পরে বই ধরে জীবনানন্দ দাশের কবিতার কোনো কালানুক্রমিক বিবর্তনের রেখা টানা বড়ই ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির সন্ধান পাওয়ার পর জীবনানন্দ সম্পর্কে এ জাতীয় সরল বিবর্তনের সব রকম ছক এলোমেলো হয়ে গেছে। পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশের তারিখ ধরে এগিয়ে গেলেও একের পর এক বই ধরে ধরে কবি হিশেবে তাঁর বিবর্তনের সরল ছকটি আর টেকে না। তাঁর ১৯৪১ সালে প্রকাশিত কয়েকটি কবিতার কথাই ধরা যাক। এ বছরেই লেখা তাঁর ‘পরিচায়ক’ কবিতাটি বেরিয়েছে ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত মহাপৃথিবীতে; ‘ঘোড়া’, ‘নিরঙ্কুশ’, ‘লঘু মুহূর্ত’ ও ‘হাঁস’ কবিতাগুলো বেরিয়েছে ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত সাতটি তারার তিমির-এ; অবশেষে’ বেরিয়েছে ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন-এর সিগনেট প্রেস সংস্করণে এবং ‘তোমাকে’ বেরিয়েছে ১৯৬১ সালে—কবির মৃত্যুর সাড়ে সাত বছর পরে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ বেলা অবেলা কালবেলায়। কিন্তু প্রকাশের তারিখ মিলিয়ে জীবনানন্দের কবিতাগুলো পর পর পড়ে গেলে চোখ এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই যে ১৯৩০-এর দশকের একেবারে শেষদিক থেকে তাঁর কবিতায় অভূতপূর্ব পটপরিবর্তন শুরু হয়েছিল। আমাদের বর্তমান কবিতাটি লেখা হয়েছিল ঠিক সেই সময়সন্ধিতে।


মানুষ কেন মরছে এমন নিষ্করুণভাবে, অসহায়ের মতো? কারণ ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে এমন সব হন্তারকের আবির্ভাব ঘটে, যারা মানুষের রক্তের মূল্যে এই প্রাণবান পৃথিবীর দখল নিতে চায়।


জীবনানন্দ দাশ যখন লিখছেন এই কবিতা, তার ঠিক আগে আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘন কালিমায় পৃথিবী আচ্ছন্ন হয়ে যেতে শুরু করেছে। জাতিপ্রক্ষালনের নিষ্ঠুর প্রকল্পে ভরে উঠছে নাৎসি বন্দিশালা। মানুষ মরছে মাছির মতো। দুই কোটি সৈনিক বাদ দিয়ে কেবল ক্ষুধা, গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ আর রোগে এই মহাসমরে প্রাণ হারিয়েছে চার কোটি নিরীহ মানুষ। এই আন্তর্জাতিক নিষ্করুণ দৃশ্যপটের মধ্যে বাংলার দিগন্তেও ঘনীভূত হয়ে উঠছে বাংলার কুখ্যাত মন্বন্তর; যে মন্বন্তরে কেবল না খেতে পেয়ে ৩০ লাখ মানুষ বেঘোরে মারা পড়বে। আর এই মন্বন্তরের পিছু পিছু আসবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হবে দাপ্তরিক হিশেবে চার হাজার আর অনানুষ্ঠানিক হিশেবে সাত থেকে দশ হাজার মানুষ। এইসব অবাঞ্ছিত ও অন্যায্য রাজনৈতিক ও সামাজিক গুচ্ছমৃত্যু জীবনানন্দের মৃত্যুভাবনাকে প্রবল ধাক্কায় তছনছ করে দেয়। এই উপর্যুপরি হত্যাযজ্ঞের রক্তধারা রঞ্জিত করে দেয় তাঁর মৃত্যুচিন্তাকে। মৃত্যু এবার তাঁর কবিতায় উঠে আসতে থাকে এক প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার চেহারা নিয়ে।

এ মৃত্যু ব্যক্তির নয়, অজস্রের—যখন গুটিকয় মানুষের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা করতলবদ্ধ করার উন্মাদ বাসনার তলায় অজস্র মানুষকে ইতিহাসের নির্মম করাতকলের নিচে প্রাণ জলাঞ্জলি দিতে হয়। জীবনানন্দের কবিতায় এ সময়ে দেখা মিলতে থাকে এমন সব পঙ্‌ক্তির : ‘সূর্যসাগরতীরে মানুষের তীক্ষ্ণ ইতিহাসে/কত কৃষ্ণ জননীর মৃত্যু হলো রক্তে—উপেক্ষায়’, ‘মৃত মানুষের স্তূপ/চারিদিকে’, ‘মানুষ এখনো নীল, আদিম সাপুড়ে :/রক্ত আর মৃত্যু ছাড়া কিছু পায় নাকো তারা খনিজ, অমূল্য মাটি খুঁড়ে’, ‘পৃথিবীতে ঢের দিন বেঁচে থেকে আমাদের আয়ু/এখন মৃত্যুর শব্দ শোনে দিনমান’ কিংবা ‘যদিও লক্ষ লোক পৃথিবীতে আজ/আচ্ছন্ন মাছির মতো মরে’। মানুষ কেন মরছে এমন নিষ্করুণভাবে, অসহায়ের মতো? কারণ ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে এমন সব হন্তারকের আবির্ভাব ঘটে, যারা মানুষের রক্তের মূল্যে এই প্রাণবান পৃথিবীর দখল নিতে চায়। বিশ্বের ও বাংলার ওই সময়গ্রন্থিতে দাঁড়িয়ে জীবনানন্দের মনে হচ্ছে, ‘হয়তো চেঙ্গিস আজো বাহিরে ঘুরিতে আছে করুণ রক্তের অভিযানে।’ কবির এ অভিজ্ঞতা ঠিকরে পড়েছে বর্তমান কবিতায়ও।

এই নিদারুণ অভিজ্ঞতার পটভূমিকাতেও আমাদের বর্তমান কবিতায় জীবনানন্দ দাশ দেখতে পাচ্ছেন, ‘ইতিহাসের স্তরে-স্তরে’ ‘মহামারি ও মড়কের দেশে’ অনেক শিশু ভূমিষ্ঠ হয়েছে; তাদের জন্ম হয়েছে ‘বন্দিনীদের ক্যাম্প’-এও। এখানে মহামারি ও মড়ক যদি হয় জীবনানন্দের দেশীয় অভিজ্ঞতা, বন্দিনীদের ক্যাম্প তা হলে নিঃসন্দেহে এ কবিতায় ঢুকেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রে। এ অনুমান আরও দৃঢ় হয় কবিতার শেষে রিবেনট্রপের উল্লেখে। এই সর্বব্যাপী মৃত্যুচিহ্নিত সময়ও তবে মানুষের জন্ম ঠেকিয়ে রাখতে পারে নি? কিন্তু কথা তো এখানেও শেষ নয়। তার পরও আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে স্বাভাবিক মৃত্যুই, কারণ তারা ‘ঢের দিন বেঁচে থেকেছে’। কিন্তু মুস্তারি ও পারবিনের দিকে তাকিয়ে জন্মের পাশাপাশি যে মৃত্যুর উল্লেখ এরপর জীবনানন্দ করেছেন, তা কি স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক? জীবনানন্দ দাশের কবিতায় এক মৃত্যুলিপ্ত পরিবেশে বাঙালি হিন্দু নামের পাশাপাশি বাঙালি মুসলমানের নাম এসেছিল এর পরেও, আরও একবার—হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘনকৃষ্ণ পটে লেখা তাঁর ‘১৯৪৬-৪৭’ কবিতায়:

যদি ডাকি রক্তের নদীর থেকে কল্লোলিত হ’য়ে
ব’লে যাবে কাছে এসে, ‘ইয়াসিন আমি,
হানিফ মহম্মদ মকবুল করিম আজিজ—
আর তুমি?’ আমার বুকের ’পরে হাত রেখে মৃত মুখ থেকে
চোখ তুলে শুধাবে সে—রক্তনদী উদ্বেলিত হয়ে
ব’লে যাবে, ‘গগন, বিপিন, শশী পাথুরেঘাটার;
মানিকতলার, শ্যামবাজারের, গ্যালিফ স্ট্রিটের, এন্টালীর—
কোথাকার কেবা জানে…’

আমাদের ধারণা, আলোচিত কবিতাটিতে মুস্তারি ও পারবিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মৃত্যুও এ রকম কোনো সামাজিক সহিংসতার সঙ্গে জড়ানো। তাদের মৃত্যু স্বাভাবিক কোনো প্রস্থান নয়। এ মৃত্যু, সম্ভবত, মন্বন্তরের প্রাথমিক ছোবলের; তাঁর কবিতায় ইশারা রেখে দেওয়া ‘মহামারি ও মড়কের’ নিষ্পেষণের। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীর ফলবান হয়ে ওঠার যে প্রতিশ্রুতিময় ক্ষণে বা তারও আগে মানুষের উন্মেষ, ইতিহাসের ক্রুর আঘাতে কি তা হলে তার আমূল বিনাশ ঘটবে? চারপাশের মৃত্যুকল্লোল এ সময়ে জীবনানন্দ দাশকে মানুষের মৃত্যুর ওপারে তাকাতে বাধ্য করেছিল, মনে হয়। স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক সময়ে যেমন জন্ম হচ্ছে মানুষের, তেমনই মৃত্যুও হচ্ছে তার। মহাকালপ্রবাহের ভেতর দিয়ে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতার রক্তযতিতে মাঝে মাঝে ছিন্ন হতে হতে ঢেউয়ের পরে ঢেউয়ের মতো বয়ে চলেছে মানুষের জন্ম আর মৃত্যু, মুত্যু আর জন্মের অবিরল ধারা। আর এসব জন্ম ও মৃত্যুর কিংবা মৃত্যু ও জন্মের মাঝখানে জ্বলছে একটি ধূমায়িত লন্ঠন বা প্রদীপ।


মানুষ মানুষকে জন্ম দিয়েছে, মানুষের জীবনে প্রাণসিঞ্চন করেছে। আবার এই মানুষই মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছে।


জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে এই প্রদীপ যেমন এক ছেদবিন্দু, দুই স্তবকের এই কবিতায় এখানে এসে প্রথম স্তবকেরও ছেদ পড়ল। সেই প্রদীপের উল্লেখ দিয়ে আবার দ্বিতীয় স্তবকের সূচনা। এবার মনে হচ্ছে, এই প্রদীপ বরং আলোর বদলে কবিতাটিতে গাঢ় একটি প্রচ্ছায়া ফেলেছে। জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী নির্মানব জমিটুকুই এ কবিতায় জীবনানন্দ দাশের উদ্দিষ্ট। জীবিত ও মৃতের জগৎ যেখানে এসে মিলেছে, এই প্রদীপই সেটিকে আগলে রেখেছে। এই দুই জগৎকে তা পৃথক করে রেখেছে নাকি রাখে নি, সেটি অবশ্য মোটেও স্পষ্ট নয়। কেন? প্রদীপের ধোঁয়ায় তা আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে বলে কি? ধোঁয়ার অন্তরালে মৃত্যুর পরের ও জন্মের আগের ওই বিন্দুটিতে কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? আর এই প্রদীপ এলই-বা কোত্থেকে? এ কি আলাদিনের সেই জাদু-চেরাগ, যা ‘মায়াবীর মতো জাদুবলে’ পাল্টে দিতে পারে অসম্ভবকে সম্ভবে—ধরা যাক, মৃত্যুকে জীবনে? জীবন-মৃত্যুর এই গভীর হেঁয়ালির মধ্যে জাদুর কথা সত্যি সত্যি ফিরে আসবে এই কবিতার শেষদিকে। মানুষ এই প্রদীপ জ্বলতে দিয়েছে, আবার দেয়ও নি। জীবনের ওপর যে কখনো কখনো নেমে এসেছে মৃত্যুর ঢল কিংবা মৃত্যুপারাবারের মধ্যেও যে জীবন জেগে উঠেছে সবুজ হয়ে—এর পেছনেও আছে মানুষ। মানুষ মানুষকে জন্ম দিয়েছে, মানুষের জীবনে প্রাণসিঞ্চন করেছে। আবার এই মানুষই মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছে।

এসব প্রসঙ্গ এই কবিতায় তুলছেন জীবনানন্দ দাশ; কিন্তু তুলেই আবার ফিরে এসেছেন তাঁর মূল প্রশ্নে। জন্ম ও মৃত্যুর ভেদ কোথায়? কোথায় বেঁচে থাকা ও মরে যাওয়ার তফাত? আদৌ কি কোনো সীমারেখা আছে জন্ম ও মৃত্যুর? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার খুব আশা যে কবি করছেন, তাও নয়। কারণ প্রশ্নটি করার ঠিক পরপর, একেবারে সাদামাটাভাবে, পাল্টা আরেকটি প্রশ্নও রেখে দিচ্ছেন তিনি: ‘প্রবীণ মনীষীরা যা পারে নি—/ আজ এত শতাব্দী পরে এমন কে জ্ঞানী রয়েছে/ এই হেঁয়ালির উত্তর, অন্তঃসার, আমাদের ব’লে দেবে’। এবার দুটি আধা স্পষ্ট চিত্র রচনা করে যার একটি আবার এক জাদুকরী চমকের উল্লেখ—কবিতায় যবনিকা টানার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কবি। দুটি চিত্রই ঠিক পরপর দুটি বন্ধনীবদ্ধ পঙ্‌ক্তিতে তিনি উপস্থাপন করেছেন। বন্ধনীর ভেতরে থাকায় মনে হচ্ছে, চিত্র দুটি যেন এই কবিতার মূল বয়ানের অন্তরালের একটি বিষয়। (এই চিত্র দুটিই কি তা হলে রহস্যময় সেই প্রদীপের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন অংশটুকু?) প্রথম চিত্রে দেখা যাচ্ছে সমাধিস্থ হয়ে যাওয়ার পরও কোনো কোনো মানুষ আবার ফিরে আসছে কোনো এক স্তম্ভের ওপরে, সূর্যের আলোর নিচে। স্তম্ভের উল্লম্ব আকার এখানে বিজয়ের দ্যোতক। সূর্যের আলো তারই অনুষঙ্গ।

তবে যারা ফিরে আসবেন, তাদের উপমা হিশেবে ‘ধূসর বিড়াল’-এর উল্লেখ কিছুটা অস্পষ্ট। তারা আসছেন মৃত্যু ও জীবনের এক না-আলো না-অন্ধকারের জগৎ থেকে। সে অনুষঙ্গে ‘ধূসর’ শব্দটিকে বুঝে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ‘বিড়াল’? জীবনানন্দের আরও দুয়েকটি কবিতায় বেড়াল এসেছে। একটি রহস্যময় বেড়ালের দেখা আমরা পেয়েছিলাম বনলতা সেন বইটির ‘বেড়াল’ কবিতায়। ‘গাছের ছায়ায়, রোদের ভেতরে, বাদামী পাতার ভিড়ে’ বেড়ালটির সঙ্গে কবির সারাদিনই ঘুরেফিরে দেখা হয়। কখনো তাকে দেখা যায়, কখনো সে হারিয়ে যায় কোথায়। নানা কিছু নিয়ে ‘মৌমাছির মতো নিমগ্ন’ হয়ে থাকে সে বটে, কিন্তু সবকিছুর পরও সূর্যের পিছু নিতে থাকে সে সারাদিন ধরে। এর পর জাফরান-সন্ধ্যায় সূর্যের শরীরে থাবা বুলিয়ে খেলা করে সে; অন্ধকারকে ছোট ছোট বলের মতো লুফে এনে সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়। আরেকটি বেড়াল আমরা দেখতে পাচ্ছি ‘সুবিনয় মুস্তফী’ কবিতায়, নাভানা থেকে বৈশাখ ১৩৬১-তে বেরোনো জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা  বইটিতে। কবি এ কবিতায় সুবিনয় মুস্তফী নামে এক ‘ভূয়োদর্শী যুবা’র এক আশ্চর্য শক্তির কথা বলছেন। ইঁদুর খেতে খেতে এক সাদা বেড়ালকে এবং বেড়ালের মুখে টুকরো হতে হতে সেই ভারিক্কি ইঁদুরকে একই সঙ্গে হাসাতে হাসাতে পেটে খিল ধরিয়ে দেওয়ার এক আশ্চর্য পারঙ্গমতা ছিল সেই যুবকের। এই বেড়াল দুটি এখানে, বর্তমান কবিতাটি বুঝতে, কোনো উপকারে আসছে বলে মনে হয় না। বেড়ালের নিঃশব্দ পদচারণই সম্ভবত এ উপমার কেন্দ্র। যত নিমর্মতার সঙ্গেই মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার আয়োজন চলুক না কেন, মানুষের অভ্যুত্থান ঘটবে বারবার, বেড়ালের মতো নিঃশব্দে।


জীবনানন্দের কবিতার বাক্যবিন্যাস আপাতদৃষ্টিতে কখনো কখনো খুবই প্রতারণাময়।


দ্বিতীয় চিত্রে আসছে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন জাদুকর হুডিনির একটি বিখ্যাত জাদুর তুলনা। মানবজাতির কেউ কেউ যেন অংশ নিচ্ছে হুডিনির সেই জাদুতে। তারা ঢুকে যাচ্ছে তালাবদ্ধ লোহার বাক্সে। আর সে বাক্স গভীর সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার পর তার ভেতর থেকে ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতায় বেরিয়ে এসে তারা তাক লাগিয়ে দিচ্ছে খোদ হুডিনিকেই। দুটি চিত্রই সমান্তর। প্রথম চিত্রে মানুষ বেরিয়ে আসছে সমাধি থেকে, দ্বিতীয় চিত্রে তালাবদ্ধ বাক্স থেকে। প্রথম চিত্রে মৃত্যুর চিহ্নখচিত সমাধি এসেছিল সরাসরি, কোনো রকম আড়াল না রেখে। দ্বিতীয় চিত্রে তালাবদ্ধ বাক্সটি এসেছে সমাধির প্রতিমা হয়ে। আমাদের বিশ্বাস, জীবনানন্দ কবিতাটি পরিমার্জনা করার সুযোগ পান নি। পেলে একটি চিত্র তিনি ছেঁটে ফেলতেন। একেবারে পাশাপাশি বন্ধনীবদ্ধ দুটি বাক্য স্বাভাবিক বলে মনে হয় না।

অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, বন্ধনীবদ্ধ দুটি বাক্যই যেখানে নিষ্পন্ন হয়েছে ‘না’ দিয়ে এবং কোনো বিস্ময় বা প্রশ্নবোধক যতিচিহ্ন যেখানে দেওয়া হয় নি, আমরা তার ইতিবাচক ভাষ্য কিভাবে রচনা করলাম। আমাদের ধারণা, পরিমার্জনার অবকাশ পেলে কবি এখানে যতিচিহ্নও পাল্টাতেন। কারণ সেটি না হলে শেষ দুটি চরণ কোনো অভিপ্রায়ই ব্যক্ত করে না। যতিচিহ্নের কথাটুকু কল্পনা করে নিলেই কেবল কবিতাটির শেষ সাতটি চরণ সংগতি পায় এবং কবিতার অভিপ্রায় ধনুকের টানটান ছিলা থেকে নিক্ষিপ্ত তিরের মতো বেরিয়ে আসে। কবিতাটি শেষ হচ্ছে এই ভাষ্য রেখে যে, আত্তিলা মরে গেছেন ঠিকই, রিবেনট্রপও একদিন মারা যাবেন; কিন্তু তারপরও কোনো না কোনো মানুষ মৃত্যুর সমাধি থেকে জীবনের আলোয় ফিরে এসে জয়স্তম্ভের ওপরে উঠে দাঁড়াবে। জীবনানন্দের কবিতার বাক্যবিন্যাস আপাতদৃষ্টিতে কখনো কখনো খুবই প্রতারণাময়। যেমন, এই কবিতাটির যবনিকা পড়ছে আত্তিলা আর রিবেনট্রপের মৃত্যুর ঘোষণায়। মনে হচ্ছে মৃত্যুই অন্তিমে তার জয় ঘোষণা করছে বুঝি। কিন্তু বাক্যগুলোর ষড়যন্ত্রময় বিন্যাস খুঁটিয়ে দেখলে কবিতাটির তাৎপর্য আগাগোড়া পাল্টে যায়।

আত্তিলা আর রিবেনট্রপের নামের প্রয়োগ এ কবিতায় আকস্মিক নয়। বর্তমান কবিতার পাশাপাশি প্রায় একই সময়ে লেখা ‘রাত্রি’ কবিতায় জীবনানন্দ লিখেছিলেন, ‘রাজ্য জয় ক’রে গেছে অমর আত্তিলা।’ দুঃসাহসী হুন সমরাধিপতি আত্তিলার বিশেষণ তাঁর ‘রাত্রি’ কবিতায় ‘অমর’। আর কবিতাটি রচনার সময়ে হিটলারের নাৎসি সরকারের বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন জোয়াখিম ফন রিবেনট্রপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত জল্লাদদের তিনিও একজন। কবিতাটি আমাদের জানাচ্ছে, ‘অমর’ যে আত্তিলা, তিনিও মরেছেন; অসংখ্য লোকের জীবন ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করছেন যে রিবেনট্রপ, তিনিও মারা যাবেন। মানুষের তবু মৃত্যু নেই। মানুষ তারপরও ঠিকই উঠে আসবে মৃত্যু থেকে জীবনে। জীবনানন্দ দাশের এই প্রগাঢ় উপলব্ধির উৎস কোথায়? ঠিক এক বছর আগে ১৯৩৯ সালে লেখা ‘আবহমান’ কবিতায় দেখা যাচ্ছে, তাঁর এ উপলব্ধি এসেছে মানুষের ইতিহাসের বীক্ষণ থেকে। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের মৃত্যু নেই আজ আর,/যদিও অনেক মৃত্যুপরম্পরা ছিল ইতিহাসে’। অতীত ইতিহাস থেকে না হয় তাঁর এ উপলব্ধি হলোই যে, ‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে/ প্রথমত চেতনার পরিমাপ নিতে আসে।’ কিন্তু মানুষ মৃত্যু থেকে জীবনে ফিরে আসবে কিভাবে? সে প্রশ্নের উত্তর এ কবিতায় নেই; মানুষের অতীত ইতিহাসেও নেই। সে উত্তর হয়তো আছে মানুষের ভবিষ্যৎ ইতিহাসের গভীরে।

 

লেখাটি অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক ‘নতুন ধারা’ পত্রিকায়
২০১১ সালে প্রকাশিত
সাজ্জাদ শরিফ

সাজ্জাদ শরিফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক at প্রথম আলো
জন্ম ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩, পুরান ঢাকা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর।

প্রকাশিত বই :
ছুরিচিকিৎসা [কবিতা, ২০০৬, মওলা ব্রাদার্স]
যেখানে লিবার্টি মানে স্ট্যাচু [গদ্য, ২০০৯, সন্দেশ]
রক্ত ও অশ্রুর গাথা [অনুবাদ, ২০১২, প্রথমা]

ই-মেইল : sajjadsharif_bd@yahoo.com
সাজ্জাদ শরিফ