হোম নির্বাচিত বাংলা কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার

বাংলা কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার

বাংলা কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার
480
0

দ্বিতীয় কিস্তির লিংক

শেষ কিস্তি…


জাহিদ হায়দার

আচ্ছা এখানে ফরিদ যেটা বলল, সেখানে দুটো শব্দ—সম্ভাবনা এবং সংকট, নাকি সম্ভাবনা বা সংকট।

ফরিদ কবির 

সম্ভাবনা বা সংকট।

জাহিদ হায়দার 

আসলে, কবিরা, লেখকরা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্প্রদায়। প্রজা, দাস যেখানেই থাকুক না কেন তারা তাদের মতো করে শব্দ ব্যবহার করে এবং আমরা তাদের করি। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার হচ্ছে শহরে। আমাদের বাংলাদেশের কবিতার ভেতরে, আমি কবিতার জায়গায় যাচ্ছি, অন্য কোথাও যাচ্ছি না। সেটা হচ্ছে যে, একদিকে ‘আ জার্নি বাই বোট’, মারজুক রাসেলের কবিতার ইংরেজি শিরোনাম। যাই বলেন, কোথাকার ইংল্যান্ডের ভাষা, এই যে ভাষার মিশ্রণ আন্তর্জাতিকভাবে এখনকার কবিরা ভাবছেন, যেমন সিকদার আমিনুল হককে একদিন আমি প্রশ্ন করেছিলাম, এই যে ইংরেজি ভাষার মিশ্রণ আপনি কবিতায় প্রচণ্ডভাবে ঢুকাচ্ছেন, এটা কেন? কয় যে দেখ, আমি তো আন্তর্জাতিক জায়গায় বসে করি। আমি ত এইখানে বসে কবিতা লিখছি না। এখন এই যে সামগ্রিক মিশ্রণ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ই যখন ‘গণ্ডোলা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তখন, এখন আপনি জানেন না গণ্ডোলা কি? আবার কেউ হয়তো ‘পানসি’ ব্যবহার করছেন। হ্যাঁ, আমার এখানকার পানসিই নৌকা বা গণ্ডোলা। এইভাবে যে মিশ্রণ ঘটছে, এখন পুরো বিশ্বই বিভিন্ন টেকনোলজির কারণে, কবিরা ওই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্প্রদায় হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন, একই সঙ্গে তারা কিন্তু ডেভেলপ করে যাচ্ছেন। এখন আমি এই প্রশ্নতে আসি যে আপনি বলছেন, সম্ভাবনা বা সংকট। সম্ভাবনার জায়গা কিন্তু একদিনে তৈরি হয় না, অনেকরকম দ্বান্দ্বিকতার ভেতর থেকে সম্ভাবনা তৈরি হয়, এগুলি খুবই বইয়ের ভাষা। এখন একজন মানুষকে আপনি কীভাবে গ্রহণ করবেন? তার ভাষাকে কীভাবে গ্রহণ করবেন? আমি উদাহরণ দিচ্ছি যে, একজন স্প্যানিশ মানুষ, সে অন্য কোনো ভাষা জানে না। ঠিক আরেকজন জাপানি মানুষ জাপানিজ ভাষাটি জানে এবং আর কোনো ভাষা জানে না। তো তারা কিভাবে একে অপরের সঙ্গে কমিউনিকেট করবে? এখন এই অনুভব অনুভূতির জায়গায় পৌঁছে এদেশেও দুই অঞ্চলের দুই মানুষের মধ্যে এটা ঘটতে পারে। একজন আরেকজনকে বলতে পারে, আমি তোমার ভাষা বুঝি না। তো ভাষার সম্ভাবনা ব্যাপক, কিন্তু দেখতে হবে সামগ্রিক জনগোষ্ঠী কিংবা পরবর্তী জেনারেশান এটাকে কিভাবে নেবে? একটি কথা কিন্তু বারবার ঘুরেফিরে এসেছে, শিহাব ভাই বলেছেন, রফিক ভাই বলেছেন, সম্ভবত আমরাও কেউ কেউ বলেছি যে ব্যাপারটি মানসম্মত হবে কিনা! শিল্পের মানসম্মত হবে কিনা কবিতার মানসম্মত হবে কিনা! কিংবা এটা কে গ্রহণ করবে, কে গ্রহণ করবে না। শিল্প-সাহিত্য সমস্তকিছু, এটা আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস যে, একাকী মানুষকে সঙ্গ দেয়া। এখন সেই একাকী মানুষ কী রকম? যেমন আমি একটা উদাহরণ দিই যে, পদ্মার ভেতরে যে মানুষটি মধ্যরাতে বাঁশি বাজাচ্ছে নৌকায় চড়ে অথবা যে ভাষায় সে গান গাচ্ছে তার তীরে বসা আমরা কিছু মানুষ মনে করছি যে তাতে একটি বেদনা জারিত হচ্ছে। আমার মতো করে তার ভাষাটা ঠিকই হয়তো অনুভব করছি, কিন্তু আমি তার ভাষাটা বলতে পারছি না। এইসব জায়গাগুলি আসলে খুবই জটিল। এইটার ভেতরে যে সম্ভাবনার ভাষা তৈরি করে তুষার দাশ যেটাকে বলেছেন কম্যুনিকেশান, সেই কম্যুনিকেশানের জায়গাটা ব্যাপকভাবে তৈরি হয়ে গেলে ১০ বছর পরে…

ফরিদ কবির 

আমি প্রশ্নটা জুড়ে দিই। আপনি কি মনে করেন, শুধু কম্যুনিকেশানের জন্যই আমরা কবিতায় এটা ব্যবহার করছি? তার মানে কি আমরা যে ভাষাটা ব্যবহার করছি সেই ভাষাটা দিয়ে কম্যুনিকেট করতে পারা যাচ্ছে না। অর্থাৎ এটা শুধু কম্যুনিকেশানের জন্য করতে চাচ্ছেন, নাকি আপনার অন্য উদ্দেশ্য আছে? একটা হচ্ছে যে আপনি নতুন ভাষা তৈরি করতে চাচ্ছেন, অথবা আপনি স্রেফ একটা স্টান্ট তৈরি করতে চাচ্ছেন।

জাহিদ হায়দার 

আমি এই স্টান্টের কথা প্রথমেই বলেছিলাম।

ফরিদ কবির 

তিন নাম্বার হচ্ছে যে আপনি আসলে স্টান্ট তৈরি করছেন না, আপনি মনে করছেন যে আমি আসলে কম্যুনিকেট করতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে আমি এভাবে বলব, এ ভাষায় কম্যুনিকেট করা আরো কঠিন, কারণ আপনি যদি বরিশালের ক্রিয়াপদ দিয়ে আমাকে কম্যুনিকেট করতে চান, আমি একজন নোয়াখাইলা পোলা, আপনি আমাকে কিভাবে কম্যুনিকেট করবেন। একটু আগেই ডেভিড সজ্জন বিপ্লব যেমন বলল, ‘ফাল পারো ক্যান’—এটা তো প্রমিত হবে না। কারণ কেউ এভাবে বলবে, আবার কেউ বলবে ‘লাফ দিচ্ছ কেন’। অর্থাৎ, ‘ফাল পারো ক্যান’ এ কথাটার নানান এক্সপ্রেশান আছে। এখন ফাল পারার অর্থ দুই জনের কাছে দুই রকমও হতে পারে। তাহলে আপনি কিভাবে আমাদের একইভাবে কম্যুনিকেট করবেন? এমনিতেই কবিতা কিছুটা বিমূর্ত…

জাহিদ হায়দার 

এখানে কম্যুনিকেশান অর্থে আমি যেটা বোঝাতে চাইছি, যেমন রবীন্দ্রনাথ ইটালিয়া কবিতায় ব্যবহার করেছেন ‘ঘোমটা উতারো’, নজরুল লিখেছেন ‘আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন…’, এখন কথাটা হচ্ছে এই যে যে-শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা কোন জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে? এটা হচ্ছে লেখকের যোগ্যতা, কবির যোগ্যতা অন্য কিছু না। এখন সম্পূর্ণ আঞ্চলিক ভাষায় ব্যবহার করলে এই যে অঞ্চল থেকে অঞ্চলে প্রতি ১৫ মাইল পর পর ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে যায় সেখানে অতটা হবে কিনা…

ফরিদ কবির 

এখানে আমার একটা প্রশ্ন আছে। টিপু যেমন বলেছে, সে মনে করে ‘পৃথিবীর সকল ভাষা যেহেতু আঞ্চলিক ভাষা, ফলে আঞ্চলিক ভাষা বলে কিছুই নাই’ তাহলে আপনি এটা কিভাবে দেখেন?

জাহিদ হায়দার 

না না আঞ্চলিক ভাষা আছে।

ব্রাত্য রাইসু 

আঞ্চলিক ভাষা কার কাছে? নোয়াখালির লোক কি বলে যে আমি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেছি। আঞ্চলিক ভাষা হচ্ছে কেন্দ্রের কাছে অর্থাৎ কেন্দ্র ঠিক করে যে কোনটা আঞ্চলিক হবে। অর্থাৎ কেন্দ্র তারে আইডেন্টিফাই করে আঞ্চলিক বইলা। এখন আমরা বলি দরিদ্র, দরিদ্র হচ্ছে যে কারণ তারা গরিব, আমরা যারা নিজেদের বড়লোক ভাবি তারা ঠিক করি যে ওরা গরিব…

ফরিদ কবির 

আচ্ছা ধরা যাক যে কোনো আঞ্চলিক ভাষা নেই। একটাই ভাষা, সেখানে কেন্দ্র কি ভাষার বাইরে যেতে পারে, বা ভাষাকে কি তার কেন্দ্র নির্দেশ করতে পারে? অথবা তার ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিনা? অর্থাৎ আমরা ধরে নিচ্ছি যে কেন্দ্র আমাদের ভাষাটা নিয়ন্ত্রণ করে দিচ্ছে। যেটা টিপু আগেও বলল যে কেন্দ্র এখানে একটা ভাষা তৈরি করে দিচ্ছে এবং এই ভাষার মধ্যে সে তার প্রভাবটা দেখছে।

মাতিয়ার রাফায়েল 

এখানে ভাষাই বরং কেন্দ্র সৃষ্টি করছে। যেই ভাষাটা মান ভাষা…

ফরিদ কবির 

যদি মান ভাষাটা কেন্দ্র ঠিক করে দিয়ে থাকে, আমি ধরে নিচ্ছি যে মান ভাষা বলে কিছু নাই, ধরা যাক, যে কোনো একটা ভাষা আমরা সৃষ্টি করলাম…

ব্রাত্য রাইসু 

যে কোনো ভাষা সৃষ্টি করলে সেটা তো মান ভাষাই হবে।

ফরিদ কবির 

না না। ধরো যে, কোনো অঞ্চলের ভাষাই নাই, তাহলে কি কেন্দ্র আমাদের ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে পারে?


আমরা যেই ভাষায় কথা বলি সেই ভাষায় লিখতে পারার চেষ্টা করা উচিত, তাতে আমাদের অনুভূতি এবং উপলব্ধির বারবার প্রতিধ্বনিকরণ বা অনুবাদ করতে হয় না


ব্রাত্য রাইসু 

ধরেন, নোয়াখালির ভাষায় একটা উপন্যাস বেরুইলে বিক্রি হলো ৩০ হাজার, আর আমাদের মান ভাষায় একটা উপন্যাস বেরুইলে ৩০০ কপি বিক্রি হইলো। সুতরাং আমরা বলতে পারি না যে মান ভাষায় উপন্যাস বের করতে হবে। এ রকম আমরা আকছার বলতে পারি না যেটা বেশি বিক্রি হবে সেখানেই যাইতে হবে আমাদের। এখন সেই ক্ষেত্রে নোয়াখালির যে ভাষা, সেটা শুধু নোয়াখালির মান ভাষা। নোয়াখালির লোকদের জন্য মান ভাষা, তাইলে আপত্তি উঠতেছে কী নিয়া? মান ভাষা এবং তথাকথিত আঞ্চলিক ভাষা যেটা বলতেছি সেটাও আসলে মান ভাষাই অর্থাৎ নোয়াখালির লোকদের জন্য সেটা মান ভাষা। ঢাকা অঞ্চলের বা রাজধানী অঞ্চলের জন্য বা সারাদেশের জন্য আমরা একটা মান ভাষা তৈরি করছি। দুই ধরনের মান ভাষা। এখন একটা শাসন ক্ষমতার সঙ্গে আছে, আরেকটা শাসন ক্ষমতা সঙ্গে রাইখাই মান ভাষায় এখন আমরা যারা চেষ্টা করতেছি। যারা কিনা ওই অর্থে মিশনারি কায়দায় না। যেমন ধরেন সৈয়দ শামসুল হক যখন পরানের গহীন ভিতরে লেখেন, ওইটা তো মিশনারি কায়দায় লেখা। নিজে গরিব না কিন্তু গরিব সাইজা আমরা লিখতেছি। মহাশ্বেতা দেবী যখন ‘চট্টিমুণ্ডা…’ লেখেন তখন ওই অঞ্চলের জন্য প্রাণ কাইন্দা কুতুকুতু হইয়া লেখেন, এই হচ্ছে বিষয় আর কি। এইটা ব্রিটিশরা আইসাও আমাদের অনেক এ রকম আদর করছে। বা কী যেন ঢোঁড়াই চরিতমানস, তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে তিতাস একটি নদীর নাম। ওই হচ্ছে মালুর ভাষা, মালুই লিখছে, এইটা ঠিক আছে। বলছি যে এখন আমাদের চেষ্টাটা হচ্ছে আমরা যেই ভাষায় কথা বলি সেই ভাষায় লিখতে পারার চেষ্টা করা উচিত, তাতে আমাদের অনুভূতি এবং উপলব্ধির বারবার প্রতিধ্বনিকরণ বা অনুবাদ করতে হয় না। কিন্তু যখনই সাধু ভাষায় বা মান ভাষায় বা এক ধরনের বিশুদ্ধ ভাষায় আমরা লিখতে চেষ্টা করি তখনই আমাদের অনুভূতির প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। মানে আমরা যেটা অনুভব করি সেটা অনুবাদ করতে গিয়ে সইরা আসি, সেইজন্য মানে আপনারা যখন বলবেন যে নোয়াখালি লোকের ভাষা বা মান ভাষা এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। শিহাব ভাই বললেন যে নতুন কইরা একটা মান ভাষা তৈরি করা—এইটা অর্থহীন জিনিস। মান ভাষা তো একটা আছেই। এই ভাষাটারে দরকার হইলে আরো প্রসিদ্ধ করতে পারেন। তাইলে নোয়াখালির ভাষা মান ভাষা বা চিটাগাঙের ভাষা মান ভাষা দুইটাই মান ভাষা, আবার সব ভাষারই মিশ্রিত ভাষা আছে। এখন ধরেন চট্টগ্রামের মেয়েদের ভাষা আছে একটা, কিন্তু আলাদা, ছেলেদের ভাষা ভিন্ন রকম। সুতরাং সব ভাষা তো এক নয়। যারা কিনা অল্প, সংখ্যালঘু তাদের কে কথা বলতে দেওয়া হবে কিনা এবং যারা অন্য ধরনের প্র্যাকটিস করেন যেমন ধরেন মারজুক রাসেল এক ধরনের ভাষা-টাসা নিয়ে লেখেন। এই ধরনের লেখা আমরা নেব কিনা এইটাই ব্যাপার। ওরা তো চায় না যে এটার মান ভাষা তৈরি করতে হবে। সাখাওয়াত টিপু নিশ্চয়ই বলে নাই যে সলিমুল্লাহ খান বলতে পারে যে তার ভাষা মান ভাষা হইতে হবে, আমি শুনি নাই, ওইটা মান ভাষা হইতে হবে উনি বলেন নাই। মান ভাষা যেটা আছে সেটা ঠিকই আছে। মান ভাষারই তো বিরুদ্ধে আমরা। এক মান ভাষা মাইনা আরেকটা মান ভাষা তৈরি করা—সেটা তো মান ভাষাই রইলো। আমরা তো মান ভাষারই বিরুদ্ধে অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ভাষার বাইরে যেগুলি আছে, যত রকম অভিক্ষেপগুলি আছে, সবগুলিরে জায়গা দেওয়া, সেইগুলিরে শক্তিশালী কইরা তোলা—এই হলো মান ভাষা।

জাহিদ হায়দার 

আচ্ছা এখানে আমি একটা কথা বলি। ব্রাত্য যেটা বললেন যে তিনি মান ভাষারই বিরুদ্ধে। একটু আগে যা ব্রাত্য বলেছেন, সেটা নিজেই হয়তো ভুলে গেছেন। তার কারণটা হচ্ছে যে, ওই নোয়াখালির উদাহরণও দিয়েছেন, তারপর বিভিন্ন জায়গার উদাহরণ দিয়েছেন। এটা তৈরি হওয়ার পরে এটা তো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি হয়। একটা ভাষা তৈরি হয় সেটা মানুষের জন্যই, তাহলে বিরোধিতার জায়গাটা কোথায়?

ব্রাত্য রাইসু 

এটা হচ্ছে অধিকারের প্রশ্ন। মান ভাষা বলে যেটা বলা হয়, সেটা হচ্ছে ক্ষমতাসীন যারা আছে, ক্ষমতাসীন ভাষাগোষ্ঠীর ভাষা বলতে যারা নিজেদের ভাষাকে সব সময় দাবি করে। এখন সেটা আমরা রাষ্ট্রীয় অবস্থানে থাকি বলে সেটা আমরা মানতে বাধ্য। আমি আজকে আদালতে গিয়া আমার ভাষায়, যে ভাষায় আমরা কবিতা লিখি, সে ভাষায় কথা বললে হবে না। যতটুকু পারা যায়, শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে হবে। এই যে মান ভাষা থেকে আসা জিনিস অর্থাৎ মান ভাষায় যেটারে ফলো করা যায় সেইটারে মান ভাষা ফলো করে। ফলে মান ভাষা এইটা, দাবিকৃত জিনিস, এটা ঊর্ধ্বকমা সহকারে আসে, এটা আপনি চাইলেই আমরা বাদ দিতে পারব না। এটার বিরুদ্ধে আপনি যুদ্ধ করতে পারেন এবং নতুন মান ভাষা তৈরি করতে পারেন। কিন্তু মান ভাষা এটা থাকবেই, কারণ ক্ষমতা বা রাষ্ট্র আছে বইলা এটা থাকবে সব সময়। ফরিদ ভাই আপনি যেটা বলতে চাইছিলেন…

ফরিদ কবির 

মানে, ধরে নিচ্ছি রাষ্ট্র নেই। তাইলে আমরা কী ভাষায় বই পড়ব?

ব্রাত্য রাইসু 

বই পড়ার তো দরকার নাই। বই পড়ে তো রাষ্ট্র টিকা থাকে। তিনভাবে রাষ্ট্র টিকা থাকে। এক হচ্ছে যারা পড়ায়, আরেক হচ্ছে যারা বুদ্ধিজীবী, আরেক হচ্ছে সংবাদপত্র। এরা হচ্ছে রাষ্ট্রের পক্ষের শক্তি সব সময়। ফলে ছাত্রছাত্রীদের যদি আমরা পড়াই, আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে পড়াই, এরা পড়বেই রাষ্ট্র টিকায়া রাখার জন্য। ফলে সেক্ষেত্রে শিক্ষা তো দরকারি জিনিস না ফরিদ ভাই, শিক্ষা তো অপ্রয়োজনীয় জিনিস। না না না শিক্ষালাভ কইরা কেউ কবিতা লেখে না, শিক্ষালাভের ইতিহাস খুবই অল্প দিনের, কবিতা লেখার ইতিহাস তার চেয়ে অনেক বেশি দিনের।

ফরিদ কবির 

এখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের জায়গায় যাওয়ার জন্য মানুষকে শিক্ষা লাভ করতে হবে। যদি একটা চিঠি লিখি তোমাকে, বা তুমি আমাকে একটা চিঠি লেখো তাহলে এই ভাষা কী হবে?

ব্রাত্য রাইসু 

বাংলা ভাষায় লিখব, ইংরেজি ভাষায় লিখব, নোয়াখালির ভাষায় লিখব।

ফরিদ কবির 

না না, আহা! তাইলে তো একটা ভাষাকে তুমি স্বীকার করে নিচ্ছ। স্বীকার করে নিচ্ছ না, তাইলে এই ভাষাটায়ই তো শিক্ষা লাভ করতে হবে।

ব্রাত্য রাইসু 

হ্যাঁ, মানে শিক্ষা লাভ করতে হবে বিষয়টা বুঝলাম না…

আবদুর রব 

আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে যে, রাইসু যেটা বলেছে, আসলে অনেকগুলো মান ভাষা, মান ভাষা একটা না। অনেকগুলো মান ভাষা, এটা গ্রহণযোগ্য কথা। এবং এইভাবেই কিন্তু আঞ্চলিক ভাষার ডিকশনারি যখন হচ্ছে, আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে গবেষণা যখন হচ্ছে সেগুলোকে আবার সংগৃহীত করা হচ্ছে। তখন এটাই প্রমাণ করে যে সেগুলোকে মান ভাষা হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে। সেটার বিকল্প নেই। কিন্তু আরেকটা কথা, যেটা কেউ কেউ বলেছে গ্রহণযোগ্য যে, বিভিন্ন রকম অঞ্চলের ভাষা মিশে যখন একটা ভাষা হচ্ছে, হচপচ যে ভাষা, সেই ভাষাটা কেন হচ্ছে? এইটা হওয়ার মূল কারণটা হচ্ছে আমরা যখন বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি, বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন জিনিস কিন্তু আমরা নিয়ে আসছি। মানে দেশে-বিদেশে যেখানেই যাচ্ছি না কেন! সেগুলো এসে কিন্তু হচপচ ভাষাটা তৈরি হচ্ছে। এখন এই হচপচ ভাষায় আমি লিখে যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, আমার মনের কথা পরিষ্কার করে বলতে পারি তাহলে আমাকে সেটা করতে দেওয়াই উচিত। এখন এই যে ঠিকমতো আমাকে প্রকাশ করতে পারলাম, এটা করার স্বাধীনতা আমার থাকা দরকার। সেই স্বাধীনতা কিন্তু মিথ্যে। কিন্তু এখন অন্য পাঠকরা এটা কিভাবে বুঝবে? বা আদৌ বুঝবে কিনা বা তাদের জন্য আমাদের চিন্তা করার আছে কিনা? এই প্রশ্নের জায়গায় আমরা বলব, আসলে সাহিত্য তো, যদি এক অর্থে বলা হয় জীবনে যা কিছু ঘটছে, সেগুলোকে ইমিটেট করে। ইমিটেটটা করা হয় কিন্তু একটু সৌন্দর্য বা রস দেওয়ার জন্যে। যার সঙ্গে মিশ্রিত থাকে জীবনের প্রকৃত বোধ, প্রকৃত অভিজ্ঞতা, পাশাপাশি ইমিটেশান। এই দুটোর সংমিশ্রণেই কিন্তু সৌন্দর্যটা তৈরি হচ্ছে। তো এটাকে যদি ভাষার সৌন্দর্য ধরে নেওয়া হয় তাহলেও কিন্তু নেওয়া যেতে পারে। সুতরাং আমি দেখছি যে ভবিষ্যতে আসলে মান ভাষাও অগ্রসর হবে। এই ধরনের ভাষাগুলোকে বুঝতে বুঝতে বা একোমডেড করতে করতে। তার মানে, মান ভাষা কিন্তু সব সময় এই ভাষাকে ফলো করতে থাকবে, আমি এটা মনে করি। আর এই ভাষাও কিন্তু ক্রমশ আরো দূরে সরে যেতে থাকবে। আমি মনে করি যে ভাষার এই প্রক্রিয়াটা চলতে থাকবে। আর আপনি দ্বিতীয় যে কথাটা বললেন, যেসব অঞ্চলের ভাষা উঠে আসে সেটা তো আমরা আলাপই করলাম। আমি শুধু রাইসুর একটা জায়গায় কোয়ালিফাই করতে চাচ্ছি যে, আঞ্চলিক ভাষায় যে কেউ একটা মিশনারির দায়িত্ব নিয়েছে। আসলে মিশনারি হওয়াটা খুব সহজ ব্যাপার না, তাহলে দেখা যেত বাংলাদেশের সবাই খ্রিস্টান হয়ে যেত। যারাই কোনো একটা ভাষার দরদি হয়ে, কোনো একটা জনগোষ্ঠীর দরদি হয়ে এই কাজ করতে গিয়েছে তারা কোনোদিনই টেকে নাই, তারা কোনোদিনই সফল হয় নাই।

ব্রাত্য রাইসু 

কিন্তু বাংলা ভাষা তো মিশনারিদের হাতে তৈরি হওয়া ভাষা…

আবদুর রব 

না, ওটা আপনি যাই বলেন না কেন? ওটা কিন্তু একটা পর্যায়ে তাদের কাজ চালানোর ভাষা ছিল।

ব্রাত্য রাইসু

উইলিয়াম কেরির বাংলায় আমরা কথা বলি…

আবদুর রব 

আপনি যেটা বলছেন সেটা তো ভয়েস অব আমেরিকা থেকে আমদানি। এটা কিন্তু আসলে আমি মনে করি যে এইটা কিন্তু আমরা করছি না। কবিরা করছে না…

ফরিদ কবির 

আচ্ছা, মাদল বোধ হয় এইখানে কিছু বলতে চাচ্ছে…

আবদুর রব 

…যখন আমার মতো করে কথা বলছি তখন কিন্তু লক্ষ্য থাকে না যে বয়েসীদেরকে এখানে এনে তাদের ট্রেইন্ডআপ করব এই শহরের ভাষায়। সুতরাং এই কথাটাও কিন্তু আমি একটু ইন্টারফেয়ার করতে চাই যে এটা কারা করছে? তারা নিজেরাই কিন্তু এরকম করছে।

ফরিদ কবির 

মাদল বোধ হয় কিছু বলবে। আমি বলতে চাই আমার মনে হয় যে এটুকু বোধ হয় সবাই এগ্রি করেছেন যে, সাহিত্যের যে কানো ভাষায় অর্থাৎ ভাষার যে কোনো ক্রিয়াপদ নিয়ে কোনো অঞ্চলের ভাষা বা শব্দ ব্যবহার করলে আমার মনে হয় না যে এটা নিয়ে কেউ আপত্তি করবে। যদি আমরা মান ভাষার কোনো পরিবর্তন আনি তখন দেখব এটার সম্ভাবনা এবং কোনো সংকট আছে কিনা, সেটা। সাহিত্য চর্চা যদি আমাদের ফাইনাল কাজ হয়ে থাকে তাহলে তো এটা যে কোনো লেখকই বুঝবেন যে সাহিত্যে এটা কোন অঞ্চলের শব্দ এবং ভাষা…

ব্রাত্য রাইসু 

কিন্তু এইসব চাপের কারণে মাথাটা তো বদলায়া যায়, মাথামুথা আগের মতো থাকে না…

ফরিদ কবির 

আমরা কবিতায় যদি মান ভাষার বদলে অন্য ভাষা প্রয়োগ করতে চাই, সে রকম কোনো সম্ভাবনা বা সংকট আছে কিনা?

মাদল হাসান 

আমি একটি উল্টা কথা বলব। আমি একটু পিছন থেকে আসব, সম্ভবত সবাই প্রসঙ্গটা ভুলে গেছেন, সেই প্রসঙ্গটা তুলব। যখন কসমোপলিটন ভাষার কথা বলা হইছে। মাতিয়ার রাফায়েল বলেছিলেন যে নব্বই দশকে এই যে মান ভাষার বাইরে লেখার কথা, শামীম রেজাকে বলেছিলেন…

ফরিদ কবির 

না না না…

মাদল হাসান 

না, আমি নোট করে রেখেছিলাম… আমি যদিও এই মান ভাষার বাইরের ভাষায় লেখার চেষ্টা করি, মানে জুনিয়র একজন আর কি। কিন্তু আমি যাদেরকে আসলে আমার সম্মুখবর্তী বা অগ্রজ বা বলব পাইওনিয়ার হিসাবে পেয়েছিলাম, তাদের মধ্যে শুধুমাত্র একজনকে পাইছি। আমি কিন্তু ওইসময় লক্ষ করছিলাম যে… খুব সম্ভবত ‘নদী’ পত্রিকাটা আমার হাতে আসে, মারুফ রায়হান দেন। তো ওই পত্রিকায় রাইসু ভাইর ‘ছাগল’ কবিতাটা ছিল…


ভাষাটার চরিত্রটা যেটার উপর নির্ভর করে, ইডিয়ম যেটা বা প্রবচন। এটা আসলে মানুষের বুলিকে পাল্টে দেয়


মাতিয়ার রাফায়েল 

ওইটা তো আঞ্চলিক ভাষায় না…

মাদল হাসান 

আমি বলি… তারপরে একই সঙ্গে সাখাওয়াত টিপু, মাতিয়ার রাফায়েল…।

ফরিদ কবির 

জহির যেটা বলেছে, আরেকটা জিনিসের ব্যবহার হচ্ছে শুধুমাত্র শব্দ এবং ক্রিয়াপদের ব্যবহার। মানে এটা শুধু কোনো একটা অঞ্চলের ভাষা না।

মাদল হাসান

এর সাথে যুক্তভাবে স্ল্যাঙের একটা বিষয় আছে। কিন্তু ঘাটতি যেটা আছে, আমি যেটা মনে করি, সেটা হচ্ছে প্রবচনের অভাব। মানে ভাষাটার চরিত্রটা যেটার উপর নির্ভর করে, ইডিয়ম যেটা বা প্রবচন। এটা আসলে মানুষের বুলিকে পাল্টে দেয়, আসলে জ্যান্ত ভাষায় পরিণত হয়। আমার মনে হয়, আগামী দিনের ভাষাটা আসলে এরকম হবে। যেখানে প্রবচননির্ভর হবে ভাষাটা…

ব্রাত্য রাইসু

তাইলে তো হইছে যে, সেটা হচ্ছে বলার ভাষায় আসতে হবে আপনাকে। সেটা আপনার নোয়াখালির মান ভাষা, সিলেটের মান ভাষা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। মান ভাষায় থাকা যাবে না। এবং কথিত ভাষায় প্র্যাকটিসের কারণে নোয়াখালি অঞ্চলে যে সিলেটের লোকজন থাকে তখন তো তার একটা ডিসটেন্স তৈরি হয়। যখন সে ওই ধরনের কথা বলে, সাহিত্যটা তার কাছে থাকে।

মাদল হাসান 

আমি একটু শেষ করি। রাইসু ভাই দুইটা মান ভাষার কথা বলছেন। একটা হলো, আঞ্চলিক ভাষাও মান ভাষা হিসেবে থাকবে, আবার আরেকটা ভাষা রাখতে হচ্ছে, যেটা রাষ্ট্র নির্ধারিত সেইটা থাকবে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে সত্যিকার অর্থে সাহিত্য যখন তৈরি হতে থাকবে তখন একটা চাপ পড়বে। কিন্তু আলটিমেটলি আসলেই যেটা মনে হয়, সেটা হচ্ছে রাষ্ট্র আসলে ওই রকম একটা হাতিয়ার তৈরি করে নেয়।

ব্রাত্য রাইসু 

পারবে না। কারণ বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর একটু দায়িত্ব আছে। তারা যেইভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লাইগা থাকে… বুঝছেন? এই যে দেখছেন না বিজ্ঞাপনের মধ্যে যে ইংরেজি অর্ধেক বাংলা অর্ধেক বিষয়টা চালু হইছিল ওইটা রাষ্ট্র বন্ধ কইরা দিছে। তো এইটা সব সময় বন্ধ করা যাবে না, কয়েকদিন পরে আবার চালু হবে।

ফরিদ কবির 

আমারও এই বিষয়টাই মনে হয় যে রাষ্ট্রর তো খায়া-দায়া কোনো কাজ নাই, মানুষের যদি ক্ষমতা থাকে, মানে তার ক্ষমতা যদি রাষ্ট্রের ক্ষমতার চেয়ে বেশি হয় তবে এর বাইরে মানুষ যার যার ক্ষমতা তৈরি কইরা নিবে। কয়েকটা ক্ষমতা দিয়ে মানুষ অন্যকে ডমিনেট করতে পারে। একটা হচ্ছে ইকোনমি বা অর্থ বা সম্পদের ক্ষমতা, আরেকটি জ্ঞান-বিজ্ঞান। অর্থের ক্ষমতা দিয়ে মানুষ ডমিনেট করে আবার ভাষার ক্ষমতা দিয়েও করে। চিটাগাঙের একজন মানুষ, সে চিটাগাঙের ভাষা দিয়েই তার অঞ্চলের যারা অপেক্ষকৃত দরিদ্র তাদেরকে ডমিনেট করবে তার ভাষা দিয়েই। এইটার খেসারত দেবে কারা? যদি তার একটা কথা খাটো হয়ে যায়… অর্থাৎ ভাষাটা… দরিদ্রের ভাষা…

ব্রাত্য রাইসু 

না না, ওইটা তো আপনি যেটা বললেন একটু আগে, সেটা হচ্ছে অর্থের ক্ষেত্রে ডমিনেশানটা এভাবে। কিন্তু ডমিনেশান তো ভাষা দিয়েই হয়।

ফরিদ কবির 

হ্যাঁ, ওই ভাষা কখন হয়? ওই ভাষার সঙ্গে ওই ভাষার যে জ্ঞান… ওই ভাষায় যে মূর্খ, ওই ভাষায় যে দরিদ্র আমি তাকে ডমিনেট করি। আমি মনে করি, শুধু ভাষা দিয়ে তো মানুষ ডমিনেট করে না। তাহলে যে দেশের ভাষা এক, এক ভাষাতেই ধনী-দরিদ্র কথা বলে, তখন সখানে মানুষ কিভাবে ডমিনেট করে? ওইখানে এই দুইটা দিয়েই, মানে জ্ঞান এবং প্রতিপত্তি দিয়ে। মানে সম্পদ দিয়ে বা জ্ঞান দিয়ে…। এইবার মাদল একটু শেষ করুক তারপর ডেভিড বলবে…

মাদল হাসান 

চিন্তার ভাষা আঞ্চলিক ভাষায় সম্ভব কিনা? যেমন আমি বলতে পারি ফরহাদ মজহারের নাম। এক্ষেত্রে তার ভাবান্দোলন নিয়ে লেখা প্রবন্ধে ‘পড়ন যায়’, ‘খাওন যায়’, ‘দাওন যায়’ এই ধরনের ক্রিয়াপদের ব্যবহার কিন্তু আছে, এবং ভাষাটা খুবই সাবলীল। এবং মনে হয় ভাষাটা খুবই জ্যান্ত, ফলে আমার মনে হয় যে চিন্তার ভাষায় যদি এরকম ভাষা ব্যবহার করা যায় তাহলে তো আসলে সব ক্ষেত্রেই এটা সম্ভব। যাই হোক আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় থাকব…

ফরিদ কবির 

হ্যাঁ, হ্যাঁ কেন সম্ভব নয়? ডেভিড মনে হয় কোনো বিষয় বলতে চাইছে…।

ডেভিড সজ্জন বিপ্লব 

আমি যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, যেটা আমাদের মূল জায়গা, মানে আমরা কবিতার দিক থেকে অন্যদিকে চলে গেছি। আমার মনে হয় যেটা, ক্ষমতা আসলে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে, কে কোন ভাষায় কথা বলতেছে—এইটা যে নিয়ন্ত্রণ করা, এ ব্যাপারে রাষ্ট্র কিন্তু একটা আলাদা ক্ষমতা রাখে। রাষ্ট্র না থাকলেও একটা অলিখিত স্ট্রাকচার থাকে, সেটা হচ্ছে ক্ষমতাহীনদের জায়গায়। এখন এইখানে একটা কথা আসতে পারে যে সেটা ক্ষমতা কিনা। এখন সাহিত্যে যে ভাষাটার চর্চা হয়, এখন দেখা যায়, বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে লিখতেছে, তার মধ্যে দশ-বারো জন দেখতেছি। এর মধ্যে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি যে তাদের দশ/বারো জনের মধ্যে একেকটা শব্দের প্রয়োগ ভালো লাগতে পারে। সেখানে তার ওই যে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করার ক্ষমতা, এইটা বোধ হয় একটা ক্ষমতা। ক্ষমতা এখানে দুটো। আরেকটা হচ্ছে যে ব্যবহার করার যে ক্ষমতা, তার দিক থেকে তার কতটুকু ক্ষমতা আছে, সহজভাবে লোকের মধ্যে যেখানে সে জাতীয়করণ করবে। আর এদিকে রাষ্ট্র সেই ভাষাটাকে নেবে যার ক্ষমতা রাষ্ট্রে থাকবে। আর ক্ষমতা তো আসলে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা। আবার যে ক্ষমতা অর্জন করতেছে এই যে সহজবোধ্যতা এবং ভাষার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতেছে, সেটা কী জন্যে? রাষ্ট্র যদিও এখানে দুই-তিনটা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতেছে, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র দেখছে যে তার আসলে কোন ভাষাটা কাজে লাগছে। সে যেটাকে শক্তিাশালী হিসাবে পাবে সেটাই হবে মান ভাষা! আমি আরো যেটা বলতে চাচ্ছিলাম যে, লেখাপড়া… লেখাপড়া আসলে রাষ্ট্রের জন্যে জরুরি, কারণ লেখাপড়া কেন করি আসলে? এই অপ্রাসঙ্গিকতা থেকে… লেখাপড়া আসলে এই জন্য প্রয়োজন হয়। আদারওয়াইজ লেখাপড়ার এ রকম প্রয়োজন নেই। তার মধ্যে লেখাপড়ার আগেও আমরা উপভাষা ক্রিয়েট করেছি, দেখা গেছে তা পিছিয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ক্ষমতার সাথে আসলে নির্মাণের একটা সম্পর্ক আছে। আর লেখারও একটা ক্ষমতা সাহিত্যেরও একটা ক্ষমতা থাকবে। সেই ক্ষমতাটা শুধুমাত্র রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই ব্যবহার করবে…।


একটা সমাজে ভাষাটা জীবিত হচ্ছে তার উৎপাদনব্যবস্থার মাধ্যমে, তার যে মানসিক সংগতি-অসংগতি, মানসিক চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে


ফরিদ কবির 

হতে পারে, এমনকি যার কবিতা হয়ে উঠবে, সবার কবিতা তো টিকবে না। কারণ ভাষাটা তো কবি বা ভাষা-শিল্পী করতে যাচ্ছে। আমি কবিতা লিখতে যাচ্ছি, কাজেই তার কথাটাই টিকবে যার কবিতা হয়ে উঠবে… হ্যাঁ, আমরা টিপুর কথা শুনি…

সাখাওয়াত টিপু 

আমি যেটা মনে করি, ব্যক্তিগতভাবে, সেটা হচ্ছে যে কোনো আঞ্চলিক ভাষা নাই, কোনো উপভাষা নাই। রবীন্দ্রনাথ আঞ্চলিক ভাষা বলেন নাই, বলছেন উপভাষা। হ্যাঁ, এ আলোচনায় নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভাষাকে বলা হচ্ছে আঞ্চলিক ভাষা। প্রমিত ভাষার বাইরেও ওই নির্দিষ্ট ভাষাটাকে তিনি বলেছেন ‘উপভাষা’ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন ‘কথ্যভাষা’। এখানে ‘উপভাষা’ ধারণাটাই বৈষম্যবাদী বক্তব্য। রবি ঠাকুরের গণ্ডগোলটা এখানেই। এখন যদি একাধিক ভাষা হয়, সেটা তার উৎপাদনব্যবস্থার মধ্যে থাকবে। এখন তার শাসনকাঠামো, উৎপাদনব্যবস্থা, রাজনৈতিক-সামাজিক সম্পর্কের ভিতরেই সেই ভাষা জীবিত থাকবে। উদাহরণ দিয়েই বলি, একজন কৃষক ধান রোপা থেকে বিক্রি পর্যন্ত তার একটি উৎপাদনের ভাষা আছে। তার ভাষা টিকে থাকবে সে উৎপাদনব্যবস্থার ভিতর দিয়ে। তিনি যদি কৃষিকাজ করেন, তিনি যদি জোলার কাজ করেন, তার ভাষার পরিবর্তনও হবে সেভাবে। সমস্যাটা হচ্ছে ওইখানে, যখন এই উৎপাদনব্যবস্থাকে ক্ষমতার ভাষা দিয়ে দাবিয়ে রাখা হয় অর্থাৎ যখন তার অধিকারকে খর্ব করা হয়, ভাষার ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রশ্নটাই ওইখানে সমস্যামূলক। আপনি যদি একটাই প্রমিত বাংলায় কথা বলেন, তখন আমাদের উৎপাদনব্যবস্থা কী হবে? আমরা কীভাবে থাকতে চাই? এইখানে একজন বললেন, বাউল কবিদের লোকধারার সাহিত্য। সম্ভবত ডেভিডই বললেন। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি এখানে অ-লোক সাহিত্য করি? তাহলে বলতে হয়, লোকধারার বাইরে তো কোনো সাহিত্যই নাই। সকল ধারার সাহিত্যই লোকধারার সাহিত্য। একটা জিনিস আমি বিবেচনায় রাখতে চাই, আমরা তো বাউলদের মতো জীবনযাপন করি না, তাই বলে আমাদের সাহিত্য কি অ-লোক সাহিত্য? এই বলার ভেতরে একটা শ্রেণিবৈষম্য থাকে। একজন নাগরিক চাইলে সহজেই বাউলদের সমাজে প্রবেশ করতে পারেন না। তার সমাজে প্রবেশ করতে হলে তার উৎপাদনব্যবস্থা এবং ভাষার ভেতর দিয়েই যেতে হবে। আমরা যখন এই বিভাজনগুলা দেখি, এই সংকটগুলা দেখি একটা সমাজের, একটা রাষ্ট্রের—এইটাই ক্ষমতার সংকট বা ক্ষমতার বিভাজন। ক্ষমতা কিভাবে ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে? লালনকে তো নাগরিকরা একটা সময় পর্যন্ত নেয় নাই। লালনের গান মুখে মুখে ছিল। লালনের লিখিত ফর্ম খুব বেশি দিনের না। আমার বক্তব্য হচ্ছে, ভাষার ভেতরে অ-লোক ভাষা কিংবা আলোক ভাষা বলে কিছু নাই। এখানে স্পষ্ট করা দরকার, একটা সমাজে ভাষাটা জীবিত হচ্ছে তার উৎপাদনব্যবস্থার মাধ্যমে, তার যে মানসিক সংগতি-অসংগতি, মানসিক চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে। এইসব কিছুর ভেতরে কিছু ভাষা হারাবে, কিছু থাকবে, এই তো নিয়ম। এই হারানোটা কেন? আমাদের অনেক জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও তো হারিয়ে গেছে। ফলে ক্ষমতার প্রশ্নে নাগরিকদের ভাষা নাগরিকদের মতোই থাকতেছে! মানে বদলাইতেছে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মতো করেই।

জহির হাসান : টিপু যেটা বলছে, আমি এটার সাথে একমত। যে অঞ্চল, আসলে যখন কেন্দ্র তার ভাষা নির্ধারণ করছে তখন কেন্দ্র তার উৎপাদনও নির্ধারণ করতেছে। এখন রপ্তানি বলতে কী হবে? এখন কয়েকদিন রাষ্ট্র্র বন্ধ থাকল, এখন সবাই কৃষিতে ইন্টারফেয়ার করে, কৃষি রপ্তানি করতে হবে। এখন কৃষকরা সব কাজ ফালায়া রাইখা তাদের যে ট্রাডিশনাল… ট্রাডিশনাল শব্দটা আমি মানি না, এখন তারা যেই জীবনে অভ্যস্ত ছিল সেই জীবন ফালায়া কী করল, এমন কিছু জিনিস নতুন করে রপ্তানি করতে শুরু করল। এখন রাষ্ট্র্র জিজ্ঞেস করল যে এই জিনিসগুলো, বিদেশে বিক্রি করলে আমরা পয়সা পাব। আর কৃষকরা কী করল, কিছু কিছু কৃষক দেখা গেল ওইটা মাইনা নিতে পারল না। আবার কিছু কৃষক আছে যে তারা মেনে নিছে যে, না আমাদের লাভ হবে, আমার টাকা দরকার, পয়সা দরকার, রাষ্ট্র নির্দেশ করছে রপ্তানিমুখী শিল্প… টিপু এটাই বলতেছে যে এখন উৎপাদনব্যবস্থার…

ফরিদ কবির 

আলোচনার এ পর্যায়ে আমি কবি জাহিদ হায়দারকে কিছু বলতে অনুরোধ করছি।

জাহিদ হায়দার 

আচ্ছা, প্রথম অংশটায় কিন্তু আমি কিছু আলোচনা শুরু করেছিলাম। সেটা হচ্ছে যে বাংলা কবিতায় আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারে সম্ভাবনার কথা। ওই সম্ভাবনার জায়গাগুলোর কথা বলতে বলতে বিষয়টি অন্য জায়গায় চলে গেছে। তারপরে আপনার যে প্রশ্নটা ছিল সেটা হচ্ছে, এটি কোনো সংকট তৈরি করবে কিনা। ইতোমধ্যে যেসব আলোচনা হয়েছে তাতে সংকটের জায়গাগুলো প্রায় চিহ্নিত হয়েছে। এবং সংকট ও সম্ভাবনা এই দুই জায়গায় যদি তর্ক না থাকে বিরোধ না থাকে তাহলে এগুনো যাবে না। আর আপনার একেক গোষ্ঠী একেকটা কাজ করবে, করতেই থাকবে, এর কোনো শেষ নাই। এখন কথা হচ্ছে যে, আমরা যে বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে বিষয়টা বিশ্লেষণ করছি, কথাবার্তা বলছি, এটা কিন্তু যে কৃষকের কথা বলছি বা যে লোকটার আঞ্চলিক ভাষার কথা বলছি, তার কিন্তু এতে কিচ্ছু আসছে যাচ্ছে না। সে কোনোদিন এসব পাত্তাও দেয় না। সে পাত্তাও দেয় না, গোঁও করে না, চিন্তাও করে না। তার ভাবটা এমন যে তুমি তোমার কাজ করো! অন্যদিকে পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে জানা নাই যে একটা গরিব মানুষের সাহিত্য নিয়ে সাহিত্য করার পর ওই গরিব মানুষটা সেটা পড়ে উপকৃত হয়েছে। একজন টিপু বা একজন ব্রাত্য…  ব্রাত্য নাও পড়তে পারে, হয়তো একজন ফরিদ পড়ে উপকৃত হয়েছে…

ফরিদ কবির 

যারা সাহিত্য করে তারা আসলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির। তারাই কিন্তু ভাষার কাজটা করে…

জাহিদ হায়দায় 

এটি কিন্তু বিখ্যাত কথা, ‘আমি তোমাকে লাঙল বানান শিখালাম, তুমি আমাকে লাঙল চালনা শিখাও’… এখন কথা হচ্ছে যে এই যে মিশ্রণ, এটা চলতে থাকবে। এখন এইটার যে সাধারণীকরণের কথা আমরা বলছি, পৃথিবীর সকল স্বীকৃত সমাজ যে মানটা তৈরি করেছে, এ বিষয়ে কথাবার্তা চলতেই থাকবে। এর কোনো শেষ নাই।

ফরিদ কবির

ডেভিড সজ্জন বিপ্লব মনে হয় কিছু বলতে চাইছে… আমরা তাকে একটু বলার সুযোগ দেই, তারপর আমরা রাইসুর বক্তব্য দিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করতে চাচ্ছি।

ডেভিড সজ্জন বিপ্লব 

কৃষকের যে ভাষা, মানে যেটা তার নিজস্ব ভাষা সেটাও কিন্তু তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা আমি আগেও বলেছি যে ক্ষমতা আসলে দরিদ্রদের, মানে কৃষকদের নিয়ন্ত্রণ করে। আর লোকসাহিত্য নিয়ে আমি দুইটা কথা বলব। বাউলদের সাথে যখন আমাদের মিডিয়ার লোকজন মিশে যাচ্ছে তখন কিন্তু তাদের মধ্যে অন্য জীবনের ঝুঁকি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। আগেও বলেছি, যাদের মেধা আছে, যারা ভাষা বা সাহিত্যচর্চা করে তাদেরও একটা ক্ষমতা আছে, আরেকটা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা…

ফরিদ কবির 

আমি বলছি জ্ঞানের ক্ষমতা। যাদের জ্ঞান আছে, তারাও আসলে ক্ষমতাশালী, তারাও তাদের জ্ঞান চাপিয়ে দেয় যারা জ্ঞানের চর্চা করে না তাদের ওপরে…

আবদুর রব 

আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, সেটা হচ্ছে গ্রামের সাহিত্যিক যারা আছে তারা কিন্তু তাদের শ্রেণিকেই প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা কিন্তু তাদের কাছ থেকেই সমস্ত উপাদান নেয়। আমাদের কাছ থেকে কিছু নেয় না। আবার আমরা যারা সাহিত্য করছি শহরে বসে, আমাদের মতো লোকেরাই কিন্তু এটার কনজিউমার। আর আমরা যে পরস্পরের সঙ্গে আদান-প্রদান করছি সেটা ভাষাগত, শ্রেণিগত বা অর্থনৈতিক কারণে, যে কোনো কারণেই হোক এটা কিন্তু এরকমই চলে আসছে এবং এটা চলতে থাকবে। কৃষির উৎপাদনশীলতার কথা যেটা একজন বললেন সেটার সঙ্গে ভাষার সম্পর্ককে আমি ওইভাবে দেখি না। আমি বরং মনে করি যে, কবি বা শিল্পী যখন উৎপাদনশীলতার কথা বলেন সে উৎপাদনশীলতা হচ্ছে তার চিন্তা ও ইনোভেশান, তিনি জটিল যে অনুভূতিগুলো প্রকাশ করছেন সেইসব জিনিসগুলো প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তিনি কতখানি উৎপাদনশীল সেটা দিয়ে কিন্তু তিনি তার উৎপাদনশীলতা দেখেন।

ফরিদ কবির 

রাইসু…

ব্রাত্য রাইসু 

রব ভাই উৎপাদনশীলতার কথা বললেন। আসলে উৎপাদন-সম্পর্কের সাথে তো সবই সম্পর্কিত। মানুষ তো বাঁইচাই থাকে উৎপাদন-সম্পর্কের উপরে। এটা নিয়ে আমাদের আর বলার কোনো সুযোগ নেই। দেখেন, আমরা বলি যে রাষ্ট্র ভাষা নিয়ন্ত্রণ করে। আমি বলতেছি যে রাষ্ট্র লিখিত ভাষা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কিন্তু আপনি সংসদ ভবনে গিয়ে দেখেন তারা কী ভাষায় কথা বলে। আমরা যে ভাষায় লিখতে চাই, তারা সেই ভাষায় কথা বলতেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র কিন্তু তাদের সেই ভাষা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টাও করে না। আমি বলছি যে রাষ্ট্র আমাদের লিখিত ভাষা শুধু নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা চাইলেও আমাদের নিজেদের ভাষায় লিখতে পারি না। রাষ্ট্র আমাদের কাছে যে ভাষা লিখিতভাবে চায়, আমাদের কথিত ভাষাও সেরকম হবে। ফলে কথিত ভাষাকে আমরা রাষ্ট্রের ভাষার দিকে নিব, নাকি রাষ্ট্রের ভাষাকে কথিত ভাষার দিকে আনব—এটা নিয়ে আবার আমার আহ্বান হচ্ছে আপনারা লেখার ভাষার পরিধি আরো বাড়ান। এতে লেখার ভাষারই উন্নতি হবে, লেখার ভাষার উপকার হবে, রাষ্ট্রেরও লাভই হবে। রাষ্ট্র থাকুক সেটা আমরা চাই। রাষ্ট্র আরো শক্তিশালী হোক, রাষ্ট্র আরো ক্ষমতা তৈরি করুক এবং যত ক্ষমতাবান হবে ততই লাভ, আর আমি অবশ্যই লাভের পক্ষে। এবং রাষ্ট্রের লাভ মানে ইরি ধান বাড়বে…

ফরিদ কবির 

আমাদের আলোচনা এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। সাপ্তাহিক কাগজ-এর তরফ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই এ আলোচনায় শামিল হওয়ার জন্য।