হোম পুনর্মুদ্রণ গদ্য সময়হীনতা আর মহাসময়ের লতাজাল : অশোক দত্তচৌধুরীর কবিতার একটি পাঠপ্রয়াস

সময়হীনতা আর মহাসময়ের লতাজাল : অশোক দত্তচৌধুরীর কবিতার একটি পাঠপ্রয়াস

সময়হীনতা আর মহাসময়ের লতাজাল : অশোক দত্তচৌধুরীর কবিতার একটি পাঠপ্রয়াস
342
0

যে-ঘরের মধ্যে বাস করি আমরা, তার পাঁচিলের নানা দিকে থাকে আরও ঘর, থাকে বারান্দা, থাকে উঠান। এসব কিছু ছাড়িয়ে থাকে পথ। পথেরও পরে আরও নানা পথ। তারও পরে, হয়তো নদী হয়তো আজগুবি জঙ্গল বা আচমকা মরুভূমি কিংবা আকাশ-ছোঁওয়া পাহাড়। এমনকি পৃথিবী ছাড়িয়ে রয়েছে মহাশূন্য, আরও আরও অজানা জগতের মায়া। পরিসরের এই ছড়িয়ে পড়া চেহারাটা হয়তো কিছুটা ঠাহর ক’রে উঠতে পারি আমরা। ভুলে যেতে যেতে মনেও রাখি হয়তো। কিন্তু যে-সময়টার মধ্যে আমরা বাস করি, তা আমাদের বেজায় জব্দ ক’রে রাখে। এই মহাবিশ্বলোকের বিশালতার পটে যেমন বিন্দুবৎ আমাদের এই ঘর, তেমনই এক অনন্ত কালপ্রবাহের নিঃশব্দ নিরবচ্ছিন্নতার প্রেক্ষিতে ক্ষীণতম এক গণ্ডুষে-ধরা জলের মতোই যে আমাদের এই-সময়—একথা টের পেতেই দেয় না সে। তার নিরন্তর দংশন ও প্রলেপে মুগ্ধ বা জেরবার হতে হতে মনেও পড়ে না, এই বিচিত্রলীলার আগেও ছিল কত হাজার কোটি বছর, যখন সূর্যাবর্তও রচিত হয় নি, পরেও থাকবে, যখন হয়তো মুছে যাবে এই গ্রহঘূর্ণন। সময়ের এই বিশাল চারণভূমির মাঝে স্বসময়ের স্থানাঙ্ক নির্ণয়ের প্রয়াস হয়তো সবার স্বভাবধর্ম নয়। অনেকে আবার ইহসময়ের অবিমৃষ্যকারিতায় ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে ছেঁটে ফেলেই মহাসময়ের নাড়ি ছুঁতে চান। তাঁদের আমি আমন্ত্রণ জানাব—মাধব চ্যাটার্জি স্ট্রিটে।

মাধব চ্যাটার্জি স্ট্রিট ঠিক কোন জায়গায়, সে-ভূগোল আমিও যথাযথ জানি না। জানার দরকারও খুব একটা নেই। শুধু আগাম জেনেছি—যা ‘আরো দেড় হাজার কোটি বছরের পর আলোকতরঙ্গে জানা যাবে এই মহাকাশের অনবরত বিস্তারের শিকড় এক সরল শান্ত গলিপথ—মাধব চ্যাটার্জি স্ট্রিট।’ জেনেছি, ‘একটি চিত্ররেখা পরিমাপ করতে গিয়ে একদিন/ দেখেছিলাম পথ বকুলতলা বিকেল তারপর/ বিবৃত বিশ্বের শেষ’। জেনেছি, ‘সময়জ্ঞান বলতে এই গোলার্ধের কয়েকটা ঝাপসা বাড়ি’, তারই কোনও এক ‘পাইকপাড়ার ঘর থেকে মহাকাশ যাত্রাপথ/ যোজন-যোজন অভিলাষ’, আর এই অভিলাষের কীট যখন কুসুম হয়ে ফোটে তখন ‘ছাতের ওপর/ পড়ে থাকে দেখি, কিছু নক্ষত্রের বালি।’

এই যে আমাদের সংলগ্ন পরিসর থেকে, অব্যবহিত সময় থেকে, অন্য এক পরিসরে, অন্য এক সময়ে, ঝাঁকুনিহীন চলে যাওয়া, আবার মায়াময় ফিরে আসাও, এই চারণ-অভিজ্ঞতা অশোক দত্তচৌধুরীর কবিতার কাছে আমাদের এক অনতিক্রম্য প্রাপ্তি।

একটি আদিম বাড়ি, শ্রাবণশেষের একটি ঘর, হয়তো দোতলার বা চিলেকোঠার, সে-ঘরে পৌঁছানোর কিছু ‘নিষেধের সিঁড়ি’, একটি ‘পলাতক রাস্তা’—এসবের সময়হীন প্রান্তিকতা থেকেই মহাসময়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এক দৃশ্যাতীত জাল। জন্মান্তরের স্মৃতির মতো তবু জানা আর না-জানার সেই বাড়ি, সেই চিলেকোঠা, সেই গলিপথ, আচ্ছন্ন ক’রে রাখে তাঁর কবিতাজীবনের পর্ব-পর্বান্তর—

 

১.                                      … তিনশো বছর
ভাঙা ট্রাঙ্ক অবেলায় একদিন, ডাকলো নিঝুম
ভবানীপুরের বাড়িটায় আলো আদিম বিকেল।

অন্ধ পাতাল বিকিরণ, ১৯৯১

২.         ব্রহ্মাণ্ডের এক গলিপথ দিয়ে অন্য গলিপথ – মাধব চ্যাটার্জি স্ট্রিট

অভিলাষী কীটকুসুম, ১৯৯৫

৩.         দুপুরে হাওয়া ততটুকু দেবে
যদি বাঁচো, মৃত্যুনীল সেই ধ্রুবসখা সেই দোতলার ঘর

মেরুনিশীথের চরাচর, ১৯৯৭

৪.         কেন থাকে শূন্যতায় প্রকৃতির স্তব্ধ মেঘভার?
জানা আর না-জানার সেই বাড়ি দেখেছি আঁধার।

অগ্রন্থিত, অনুবর্তন, ফাল্গুন ১৪০৮

৫.         এ-পুরনো বাড়ির
সবাই বলছে
তুমি এলে
ভাঙা সিড়ি
একটু বসো।

অগ্রন্থিত, কীর্তিনাশা, মাঘ ১৪১০


তাঁর মতো এক নিভৃতভাষ কবির রচনাতেও ধ্বনিসংস্থানের এই সৌকর্য যদি শুধুমাত্র অবচেতনের কারসাজি মাত্রই হয়, তবে সেই গূঢ় রসায়ন তাঁর নির্জন অবলোকনকেই সংগতি দিয়েছে।


 

DSC_0230২.

ভাষাকে অতিক্রম ক’রে যাওয়ার আকুতিই হয়তো কবিতা। যদিও মনই তার জনয়িতা। তবু, মন সতত তত্ত্বদর্শী হলেও, কবিতা কদাপি তাত্ত্বিকতা নয়। সে-তত্ত্ব ভাষা-বদলেরই হোক বা আশা-বদলের। দত্তচৌধুরীর কবিতা বারবারই আমাদের সেই ভাষাতীতের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যে-রহস্যের আস্বাদে আমরা কবিতার কাছে হাঁটু মুড়ে বসি। তবে এর জন্য অভ্যস্ত ভাষাভঙ্গিকে তিনি শাণিত অস্ত্রঝঞ্ঝনায় আক্রমণ করেন নি। অত্যন্ত শান্ত ও অশ্রুতপ্রায় মূর্ছনায় তিনি খুঁজে নিতে চেয়েছেন ‘মৃত্যুর পরের ভাষা’—‘সে ভাষাভূমি/ কখনো কি লুপ্ত হয় দ্বিতীয় মাঘের।’ স্তব্ধতার সেই ভাষাপৃথিবী থেকে উঠে আসে এমন একেকটি ছবি—

 

১.   সময়ের থেকে কিছু দূরে
মেরুনিশীথের চরাচর

২.   প্রতিটি অনুপল শস্যশালিনী। হে দেবী, অলক্তক প্রাণ
চায় স্বপ্ন। নন্দিত করো দিনরাত্রি ভবানিপুরের
বাড়িঘর আকাশ পৃথিবী।

৩.   হে কুমারী, হে জাতক, চলা কত চিহ্ন বাঙ্ময় পথ
এ বিশ্বের নির্জনতা ভেঙে নির্জনতা
খুঁজে যাওয়া অন্তহীন

৪.   …পাথর আর বিরূপ নিয়তি যখন এক নিঃশব্দ
মেঘরাস্তা বাঁক নিয়েছে ঘরের মধ্যে, একটা কাঁঠাল-চাঁপা পড়ে আছে রাস্তার
ওপর।

 

এই একটি ‘মৃদু চাঁপাগন্ধ ভেসে আসে’ বারবার তাঁর কবিতায়, আর তার আলোকিত সুঘ্রাণে ভরে যায় আমাদের মেরুনিশীথগুলি। কখনও সে শ্মশানচাঁপা, কখনও কাঁঠালচাঁপা, কখনও মৃত্যুর তুহিন চাঁপা, কখনও আবার ভুঁইচাঁপা। এইসব চাঁপারাজি নিয়ে আমাদের সীবন-উন্মুখ সূচ-স্বভাব যখন গুটিগুটি কোনো একটা ঝাপসা তত্ত্বের মালা রচনার দিকে এগোতে চায়, সহসা নজরে পড়ে, কবি তাঁর এক সাম্প্রতিক রচনায় ঘোষণা দিয়েছেন—

 

তুমি আর ভুঁইচাঁপা এসেছিলে
সমস্ত তত্ত্বের জাল ছিন্ন ক’রে।
মহাকাশের ওপার মহাকাশ থেকে।
দেখেছিল নির্জন।

 

জীবন ও প্রকৃতির অনন্ত রহস্যময়তা আমাদের নশ্বর অস্তিত্বের সামনে বারংবার যে-চির-অভাবিতকে উপস্থাপিত করে, আমাদের স্তব্ধ ও বিস্মিত করে এবং এই সূত্রে আরও এক মহাজীবনের সাথে, মহাসময়ের সাথে, সব অবলীয়মান অভিজ্ঞতাগুলিকে গ্রথিত করে—এই সমগ্র প্রক্রিয়াটির এক নির্জন দর্শক হিসাবে অশোক দত্তচৌধুরীকে অতঃপর টের পেতে থাকি আমরা—

 

অলাত পাতাল বিকেলের আজ শাড়ি
তাৎক্ষণিকের ইতিহাস অতিকায়
মান্য করেছে বৃষ্টিতে ভেজা বাড়ি
সে-গলির পথ ঝাপসা চোখের প্রায়।

 

আর এই ঝাপসা চোখই ভাষান্তরে হয়ে ওঠে, একা জেগে থাকা সময়ের এক তৃতীয় নয়ন—‘জন্মবিহীন মৃত্যুবিহীন/ একা জেগে থাকে কাল ত্রিনয়ন।’ সহজ সিদ্ধির আলো-কোলাহল থেকে দূরে, অভিজ্ঞতার কোনো গহন মেরুপ্রদেশে স্বেচ্ছানির্বাসিত, প্রশ্নাতুর, একা জেগে থাকাই যে এই কবির ধর্ম, এ-কথা টের পেতে থাকি আমরা।

 

৩.

মিতভাষী এই কবির রচনাও মিতায়তন। তবু দীর্ঘ সাড়ে চার দশকব্যাপী চর্যায়, নানা ভঙ্গিমাতেই কথা বলেছেন তিনি। অবলম্বন করেছেন নানা প্রকরণের। কিন্তু তাঁর অনুচ্চকিত অন্তরঙ্গ রয়ে গেছে সর্বত্রগামী সহচরের মতো। এমনকি যখন তালপ্রধান কোনো ছন্দেও লিখেছেন তিনি, (প্রচুরই লিখেছেন, ছয় মাত্রার কলাবৃত্তেই অর্ধশতাধিক রচনা!), প্রায়শই বেছে নিয়েছেন এক ওঠানামাহীন চাল। যাতে বোঝা যায়, কবিতা তিনি শোনাতে চান নি, পড়াতেই চেয়েছেন। যদিও হরিপ্রসাদের বাঁশি বা নীল বিকিরণ-এর মতো কবিতায় ছন্দের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব খুব একটা গোপন থাকে না।

 

আমার যে পিতা আমার যে মাতা
চিত্রা জ্যোতির নীল বিকিরণ
খুব চোখে লাগে—তবু ঘরে মায়া
রতি ও আরতি।

হে মোর স্মরণ,
তাঁর কাছে লীন, স্থির পর্দার ছায়া।

নীল বিকিরণ / অন্ধ পাতাল বিকিরণ

 

দেখি, কবিতার স্বার্থে কী অনায়াসে ৪র্থ পঙ্‌ক্তিতে এসে সমপার্বিকতা ভেঙে গেল। আর, অমোঘ অন্তিম চরণে হঠাৎই ঘটে গেল অতিরিক্ত ২টি মাত্রার সংযোজন। এই শেষ শব্দে ২টিই আ-কারান্ত ধ্বনির ব্যবহারে, কবিতাটি যেন এক সীমাহীন অনন্ত গতি পেয়ে গেল। চরণান্তিক ছেদচিহ্নটিকে টপকে তা অনায়াসে ধেয়ে যেতে শুরু করল এক নিরাকার মহাশূন্যের দিকে।

এ-প্রসঙ্গে মনে পড়ে ইতস্তত ছোটকাগজে পড়া তাঁর চতুর্দশপদীগুলির কথা, যেগুলি আজও অগ্রন্থিত। স্বরধ্বনিবহুল শব্দের ব্যবহারে পয়ারের আবহমান তানপ্রবণতায় এক ব্যক্তিগত আমেজ ফুটে উঠেছে এ-কবিতাগুলিতে, যার সাথে এদের স্বগতোক্তিময় কথনের এক আত্মিক পরিণয় ঘটে গেছে বলে মনে হয়। ‘তাকে তুমি ক্ষমা করো, শব্দ তার ব্যর্থ অঘটন/ অবেলায় ঝরেছিল; ছিল পাড়া অদেখার বাঁকে/ সেই প্রান্তে বেঁচে আছি; কথা-বলা নিজের জীবন।/ ক্ষণিক বিকেল দেখা, একদিন বলেছিলে তাকে।’ ৭২মাত্রার এই ৪টি চরণে ৬২টি দল। যার মধ্যে ৪৯টিই মুক্ত, অর্থাৎ স্বরধ্বনিতে শেষ। বাকি ১৩টি রুদ্ধদলের মধ্যে ১০টিই শব্দান্তিক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এলায়িত, অর্থাৎ দ্বিমাত্রিক। অর্থাৎ এতখানি ভাব প্রকাশের জন্য প্রয়োজন হ’ল মাত্র ৩টি শব্দান্তর্গত রুদ্ধদলের বা যুক্তব্যঞ্জনের (শব্দ / ব্যর্থ / প্রান্তে)!

কবিতার রসাস্বাদনে ধ্বনিসংস্থানের এইসব খুঁটিনাটি প্রসঙ্গ অবশ্য নেহাতই গৌণ। তাছাড়া দত্তচৌধুরীকে একজন ছন্দসর্বস্ব কবি হিসাবে বিবেচনা করার কোনো অবকাশই আমাদের নেই। শুধু বলা যায়, তাঁর মতো এক নিভৃতভাষ কবির রচনাতেও ধ্বনিসংস্থানের এই সৌকর্য যদি শুধুমাত্র অবচেতনের কারসাজি মাত্রই হয়, তবে সেই গূঢ় রসায়ন তাঁর নির্জন অবলোকনকেই সংগতি দিয়েছে। এখন পাঠক হিসাবে আমরা তাকিয়ে আছি শারদ রৌদ্রপ্রবাহের মতো এই চতুর্দশপদীগুলি এবং তাঁর অন্যান্য পঠিত-অপঠিত কবিতার এক গ্রন্থবদ্ধ রূপ দেখার জন্য।

বস্তুত ষাট-অতিক্রান্ত এই কবির একটি কাব্যসমগ্রই বা বাংলার প্রকাশককুল কেন ছাপার কথা ভাবতে পারলেন না—এমন প্রশ্ন উত্থাপন করতেও লজ্জা বোধ হয়। কারণ একটি জাতির আত্মনিন্দা যত কম করা যায়, ততই শ্রেয়। বিশেষত, জনশ্রুতি যখন এই যে, নগরীর এক বহুপ্রসূ প্রকাশক এ-কবির একটি জলজ্যান্ত পাণ্ডুলিপি গায়েব ক’রে দিয়েছেন এবং সেই গোটা চল্লিশেক কবিতার কোনো প্রতিলিপিও কবির কাছে নেই। তবে, নগর-করতালির সমস্ত কোলাহলের এত সন্নিহিত হয়েও তার থেকে প্রবল দূরত্বে দাঁড়িয়ে, এই অপার রসবোধসম্পন্ন অথচ মৃদুভাষী কবি, যিনি এতদিন ধরে ‘সময়হীনতা মহাসময়ের এই লতাজাল’ বয়ন ক’রে চলেছেন, বাংলার নিরবয়ব আগামী পাঠককুল নিশ্চয়ই তাঁকে খুঁজে নেবেন।  অন্তত তাঁদের জন্য এই ইঙ্গিতটুকু থাক, যে, একুশ শতকের শুরুর এই সময়লগ্নে তিনি, অশোক দত্তচৌধুরী, বাংলা কবিতায় একজন কবিদের কবি। তাঁকে আমাদের প্রণাম।

 

নভেম্বর ২০০৫

 

সংযোজন :  কবি অশোক দত্তচৌধুরীর জন্ম এক উদ্বাস্তু পরিবারে, কলকাতায়, ৬ মার্চ ১৯৪২। আদি নিবাস বরিশাল। তাঁর লেখালেখির সূত্রপাত গত শতকের ৬০এর দশকে। প্রথম কবিতাবই, স্টেইন্ড গ্লাসের বিচিত্র প্রকাশিত হয় ১৯৭৮এ। বর্তমান গদ্যটিতে, যেটি পুরুলিয়ার অনিকেত পত্রিকার অশোক দত্তচৌধুরী সম্মাননা সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল (নভেম্বর ২০০৫), আক্ষেপ ছিল কবির একটি কাব্যসমগ্রের অভাবের জন্য। উল্লেখ করা জরুরি যে, তার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই (জুন ২০০৬) আদম প্রকাশনী থেকে সেই আকাঙ্ক্ষিত কবিতাসংগ্রহটি প্রকাশিত হয় অশোক দত্তচৌধুরীর কবিতা  নাম দিয়ে। তার পর প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আরও দু’টি কবিতাবই— বিন্ধ্যবাসিনী (২০০৯) আর  অসমাপ্ত লিপিচিত্র (২০১৫)।

গৌতম চৌধুরী

গৌতম চৌধুরী

জন্ম ১৮ ফাল্গুন ১৩৫৮, ২ মার্চ ১৯৫২, কানপুর, উত্তর প্রদেশ, ভারত। শিক্ষা : উচ্চ মাধ্যমিক। পেশা : লেখালেখি।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
কলম্বাসের জাহাজ [১৯৭৭, উলুখড়, হাওড়া]
হননমেরু [১৯৮০, উলুখড়, হাওড়া]
পৌত্তলিক [১৯৮৩, উলুখড়, হাওড়া]
অমর সার্কাস [১৯৮৯, আপেক্ষিক, হাওড়া]
চক্রব্যূহ [১৯৯১, আপেক্ষিক, হাওড়া]
নদীকথা [১৯৯৭, যুক্তাক্ষর, হাওড়া]
আমি আলো অন্ধকার [১৯৯৯, অফবিট, কলকাতা]
সাঁঝের আটচালা [২০০২, কীর্তিনাশা, কলকাতা]
আধপোড়া ইতিহাস [২০০৪, কীর্তিনাশা, পুরুলিয়া]
অক্ষর শরীরে মহামাত্রা পাব বলে [২০০৬, কীর্তিনাশা, পুরুলিয়া]
নির্বাচিত কবিতা [২০১০, সংবেদ, ঢাকা]
আখেরি তামাশা [২০১৩, ছোঁয়া, কলকাতা]
ঐতরেয় [২০১৩, রূপকথা, ক্যানিং]
উজানি কবিতা [২০১৪, মনফকিরা, কলকাতা]
ধ্যানী ও রঙ্গিলা [২০১৫, চৈতন্য, সিলেট]
কলম্বাসের জাহাজ (২য় সং) [২০১৬, রাবণ, কলকাতা]
বনপর্ব [২০১৬, সংবেদ, ঢাকা]

গদ্য—
গরুররচনা (বৈ-বই বা ই-বুক) [২০১২, www.boierdokan.com]

যৌথ সম্পাদনা—
অভিমান (১৯৭৪-৯০), যুক্তাক্ষর (১৯৯২-৯৬), কীর্তিনাশা (২০০২-০৫)

ই-মেইল : gc16332@gmail.com
গৌতম চৌধুরী