হোম চিত্রকলা মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম কি একটু বর্ণবাদী হয়ে যায় না?

মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম কি একটু বর্ণবাদী হয়ে যায় না?

মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম কি একটু বর্ণবাদী হয়ে যায় না?
820
0

ওখানে অনেক ন্যাংটো মানুষ মারামারি করছিল। মাঝ-সকাল হতে না হতেই রাস্তায় লোকের ভিড় পড়ে গেল, লেগে গেল ট্রাফিক জ্যাম। পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করল গোলমাল বাঁধিয়ে দেবার জন্য, কঙ্গোর ইতিহাসকে অবমাননার জন্য

একবার সবুজ চাপা পড়েছিল ভূগর্ভে। আবার ছেয়েছে সবুজ। সেই সবুজের বুক এখন পোড়ামাটির ফলক। গাছপালা—যারা মানুষের পূর্বপুরুষ, তাদের ফসিলে থাকে লুকানো আগুন। সেই আগুনের দখল নিতে পাখির মতো বিমান থেকে নেমে আসে বোমাবৃষ্টি। ফলে একটা শিশু, যার গোপন কথা বলবার ছিল কঙ্গোর জঙ্গলের জলহস্তির সাথে, তার হাতে পিস্তল-বন্দুক। কে গুঁজে দেয় জিঘাংসা? ফুলবাগানে ওই কালোহাত কার? শ্যারি সাম্বার ছবি- ‘Little Kadogo, I am for Peace, That is Why I Like Weapons’ দেখতে দেখতে সেই প্রশ্ন ওঠে মনে। ভাবি—গুলি করি, ঝড় উঠুক, ঘটুক ফুলের পরাগায়ন। অধিরাজ, প্রিয় সাইন পেইন্টার, তোমার যুদ্ধকারখানায় শৈশব অক্ষত থাক।

উনিশ ছাপ্পান্ন’র কোনো একদিন কঙ্গোর কিন্টো এম’ভিয়েলা গ্রামে, কোনো এক দমবন্ধ সময়ে শ্যারি ফুটেছিল, দশ ভাইবোনের পরিবারে। কমিক বই পড়তে পড়তে আর ছবি নকল করে হাসির খোরাক ছড়াতে ছড়াতে যে পড়ালেখা ফেলে বেরিয়ে পড়েছিল পেইন্টার হবে বলে। আর সাইন আর্ট, বিলবোর্ড, ঢাউস নিতম্বের নারী অথবা মুনাফাখোরদের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে ছড়াতে যার মনে হয়েছিল আমারও ঢের ছবি আঁকবার আছে। কিনসাসা’র রাস্তায় অনিশ্চিত আর চাপা অবদমন নিয়ে ছুটে চলা মানুষদের তবে হাসির উপলক্ষ এনে দেয়া যাক, ধূসর-কালো দুনিয়াটা উজ্জ্বল জ্বরে কেঁপে উঠুক।

শ্যারি সাম্বা এমন এক আর্টিস্ট, যিনি তথাকথিত শিল্প-বৈদগ্ধ্যকে পোছেন না, সুযোগও ছিল না। না ছিল শিক্ষাগত যোগ্যতা, না ক্যানভাস কেনার টাকা। সাইন কোম্পানির ছেঁড়া কাপড় তবুও অনেক রঙে ভরে দেয়া। কামার বাবার হাপরে ফুসফুসের দম ভরে তৈরি করতেন শিকারের বন্দুক, সেই গনগনে আগুন আর শিল্পের ক্ষুধা তাকে পরিণত করেছে আজকের গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো পূর্বতন জায়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্রশিল্পীতে। অবশ্য জনপ্রিয়তা নামের যে বাজার-কাটতি ও প্রজ্ঞাহীন শিল্পের কথা আমরা জানি, যেখানে সকালকে শুধু সকাল বলা হয়, আকাশকে কেবল আকাশ অথবা যেমনটা ভাবতে পছন্দ করে মানুষ, তেমন নয়। সাম্বা প্যারিসের আকাশ এঁকেছেন গোলাপি, চুমু খাওয়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে করেছেন আইফেল টাওয়ারের মতো গর্বিত। ক্যানভাসে একাকার শিল্পী, স্বদেশ-বিদেশ, রাজনীতি, সমরনীতি, পুরো পৃথিবী। কোনো বিমূর্ততা নেই, কোনো আরোপ নয়, নেই তত্ত্বের চাপ-ঠাপ। যে কেউ বুঝতে পারে। না বুঝে উপায় নেই শোধনযন্ত্রের। পিচকারি ছুটেছে।

তার ওপর ছবিতে ঠুসে দেয়া থাকে টেক্সট, টিপ্পনি—যেন ক্যাপশন—যেন স্টোরি লাইন। সরাসরি ও তীক্ষ্ণ সেই বক্তব্য ভুলে কেউ শুধু নান্দনিক উহ-আহ করবেন সেই সুযোগটি নেই মিস্টার ক্রিটিক। ফ্রেমের আয়তপাত্রে সাম্বা’র এই টেক্সট পুরে দেয়ার বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে সাম্বা সাইন নামে পরিচিত, যেটি তিনি হয়তো পেয়েছেন ছোটবেলায় পড়া কমিক থেকে, অথবা সাইন-বিলবোর্ড থেকে। সাম্বাকে বহুবার এ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ছবিতে আবার লেখা কেন? উনি বলছেন মজার কথা। প্রথম যেদিন নিজের স্টুডিও’র বাইরে ছবি সাঁটিয়েছিলেন নিজের আঁকা, সেদিন যখন মানুষ থমকে দাঁড়িয়ে দেখেছিল এ আবার কোন চিড়িয়া, সেদিনের আনন্দ ভোলার নয়। সাম্বা বলছেন, অনেক সময় দেখা যায় মানুষ ছবিটা দেখে হেঁটে চলে যায়। কী করে ওদের নিজের সৃষ্টির সামনে ঠায় দাঁড় করানো যায়? তখনই এই টেক্সট ইনপুটের আইডিয়াটা আসে। এখন লেখাটা পড়তে হয় বলে লোকে ছবির সামনে আরেকটু থিতু হয়। এই হলো সাম্বা সিগনেচারের সৃষ্টিরহস্য।

ছবি: Little Kadogo, I am for Peace, That is Why I Like Weapons

এক সাক্ষাতকারে সাম্বা বলছেন, ‘যেদিন আমি প্রথম স্টুডিও খুললাম, একটা বড় পেইন্টিং ঝুলিয়ে দিলাম রাস্তার পাশে, ছবিটা দুইটা গোত্রের মধ্যে মারমারি নিয়ে ছিল, ওখানে অনেক ন্যাংটো মানুষ মারামারি করছিল। মাঝ-সকাল হতে না হতেই রাস্তায় লোকের ভিড় পড়ে গেল, লেগে গেল ট্রাফিক জ্যাম। পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করল গোলমাল বাঁধিয়ে দেবার জন্য, কঙ্গোর ইতিহাসকে অবমাননার জন্য।’

উনবিংশ শতকের সত্তরের দশকে সেদিনের শিল্পী যশঃপ্রার্থী কতটা সংস্কারযুক্ত ছিলেন তার প্রমাণ মেলে তার জবানিতেই। অবলীলায় সাম্বা বলেছেন, পুলিশের ফাইনের হাত থেকে বাঁচতে তিনি সেদিন তুকতাক পারদর্শী তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। এখন অবশ্য তিনি আর তান্ত্রিকের নয়, সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হন। সাম্বা এখন একটা প্রতিষ্ঠান, কঙ্গোর গর্ব।

তবে কবিতার মতো দুর্বোধ্যতা ও উচ্চমার্গের ধুয়ো তুলে চিত্রশিল্পীর পার পাওয়ার সুযোগ কম

Le partage du gros poisson __Sharing the big fishস্টিভেন জেফারসন সাম্বাকে নিয়ে লেখা এক আর্টিকেলে বলছেন,  Samba is known for his signature brand of painting, mixing photorealism, comic book caricature and text into one hybrid style with which he addresses the condition of being a contemporary Congolese artist, and of being Congolese period. After being featured in the famous 1989 Pompidou Centre exhibition ‘Les Magicians de la Terre’, Samba rose to international prominence in the 1990s, and today his work is collected and shown all over the world.

রোমান কবি হোরাস লিখেছিলেন, পেইন্টিং হলো শব্দহীন কবিতা। এখানেই চলে আসে ব্যক্তিনন্দনের বিষয়, আর কে না জানে সবার নন্দন একই উৎকর্ষের চূড়া স্পর্শ করে না। তবে কবিতার মতো দুর্বোধ্যতা ও উচ্চমার্গের ধুয়ো তুলে চিত্রশিল্পীর পার পাওয়ার সুযোগ কম। সালভাদর দালি বলতেন, পেইন্টিং হলো সততার শিল্প, এখানে ফাঁকিজুকির অবকাশ নেই, কারণ এটা চাক্ষুষ, ছবির বেলায় কোনো মধ্যম বা মাঝামাঝি বিষয় নেই, হয় এটা ভালো, নয়তো খারাপ পেইন্টিং। সাম্বা নিজেকে অত বড় মাপের শিল্পী দাবি না করলেও তিনি বিশ্বাস করেন আর্ট জনতার জন্য। আর স্রষ্টা হিসেব তার কর্তব্য হচ্ছে সত্য বলা, সত্যকে চিনিয়ে দেয়া। উনি বলছেন, ‘আমি যখন আঁকি, তখন আমার প্রধান বিবেচ্য থাকে বিষয়কে যেমন আছে ঠিক সেইভাবে উপস্থাপন করা, চেষ্টা করি হাস্যরসাত্মকভাবে কমিউনিকেট করতে, যাতে সম্পূরক প্রশ্নের জন্ম হয় আর আমি সত্যিটা বলতে পারি। নিজেকে আমি অনেকটা পেইন্টার জার্নালিস্ট মনে করি। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থেকে আমার অনুপ্রেরণা আসে। সবসময় আমার কাছে থাকে এক স্যুটকেস ভর্তি আইডিয়া। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী থাকবে, ততদিন লেখকের কাছে বলার মতো গল্প থাকবে। আমারও কিছু বলবার থাকবে। প্রত্যেকবার আমি যখন কারো সাথে কথা বলি, কাউকে দেখি, আমার মাথায় তখন একটা-দুটো ছবির আইডিয়া আসে; কিন্তু সেগুলোর সবকটি ছাঁচে ফেলার ফুরসত আমি সবসময় পাই না।’

পাবলো পিকাসো বলেছিলেন, শিল্প আবেগের আধার, এই আবেগ বা প্রেষণা প্রেরণা থেকে আসতে পারে, পারে সবখান থেকে, আকাশ থেকে, মাটি থেকে, এক দলা কাগজ থেকে, একটা অপস্রিয়মাণ ছায়া, এমনকি একটা মাকড়শার জাল থেকেও। শিল্পের কাজ হল প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় যে ধুলাবালি-ক্লেদ জমে তা পরিষ্কার করা। সাম্বাও মুছে ফেলেছেন জীবনের ক্লেদ, উত্তরণ ঘটিয়েছেন নিজের, নিজ দেশের চিত্রকলার। ফ্রান্সের পোস্ট ইমপ্রেশনিস্ট আর্টিস্ট পল গাওগুইন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আধুনিক শিল্পের উৎকর্ষের ইতিহাস মানেই গণবিচ্ছিন্নতার ইতিহাস। ফ্রান্সের একসময়কার কলোনি জায়ারের আজকের শিল্পী শ্যারি সাম্বা শিল্পকে সেই গণবিচ্ছিন্নতার হাত থেকে রেহাই দিয়েছেন। সাম্বাকে পোস্টকলোনিয়াল আর্টিস্টদের অন্যতম কেসস্টাডি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু অন্য পোস্টকলোনিয়াল আর্টিস্টদের মতো শেকড়ের সন্ধান, অতীত ও নিজস্ব ফর্ম—এইসব নিয়ে বাছবিচার বা মাথাব্যথা নেই। ওর কাছে নিজের মেসেজটা ছবি আর সাম্বা সাইনের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়াটাই প্রধান বিবেচ্য। এ কারণে সাম্বার সাফ কথা, ছবিতে ক্যাপশন দিলে, টেক্সট দিলে ওটিকে নিজের মতো ইন্টারপ্রিট করার সুযোগ পায় না দর্শকরা। কিন্তু আমি চাই আমি যা ভেবে ছবি এঁকেছি মানুষ সেটিই জানুক ও অনুধাবন করুক। এটা শিল্পের বহুমুখিতাকে রুদ্ধ করে সন্দেহ নেই, কিন্তু সাম্বা যতটুকু রঙ পিচকারি দিয়ে ছিটিয়ে দেয় তাতে আবিষ্কারের থাকে অনেক কিছুই। বহুজাতিক কোম্পানি আর পরাশক্তিগুলোর লুণ্ঠনের নিত্যনতুন কৌশলের মুখে থরকম্প আফ্রিকার একজন তীব্র সচেতন মানুষ হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি তাকে পশ্চিম থেকে আলাদা করে। আলাদা করে রঙের ব্যবহার। কত রঙিন! কত কটকটা উজ্জ্বল রঙ! রোগাপটকা মানুষ, গুরুনিতম্বিনী কৃষ্ণ রমণী, হাস্যকর কাণ্ডকারখানা, তীব্র স্যাটায়ার; সর্বোপরি ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের সাথে মহাদেশ, মহাদেশের সাথে পুরো পৃথিবীকে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপনের কৌশল নিজেই তৈরি করে নতুন এক প্যারাডাইম। যা শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমের নন্দনকে।

ও কি গুরুনিতম্বিনী নারীটির স্বামী? প্রেমিক? প্রতারিত? সেজন্যই কি ক্যাকটাসের কাঁটা সহ্য করা

Samba Treatments(1)

সাম্বা ন্যুডিটিকে শুধু পপুলার আর্টের অনুষঙ্গই রাখেন নি, করে তুলেছেন টুকরো আখ্যান, যা উন্মোচন করে ঘটনা পরম্পরাকে। নগ্নতার এ উন্মোচন প্রকাশ করে ভিন্ন সত্যকে। চারটি পেইন্টিং Le Lavement (শোধন), Traitement Apollo (অ্যাপোলো চিকিৎসা), Traitement de la Conjonctivite (চক্ষুপ্রদাহের চিকিৎসা), Redeven Bebe (চল শিশু হয়ে যাই)। Traitement Apollo-তে চোখের রোগ সারাতে এক দীর্ঘদেহ কৃষ্ণাঙ্গ নারী পুরুষ-সঙ্গীটিকে ঠেসে ধরে চোখে দুধ ঢেলে দিচ্ছেন। Traitement de la Conjonctivite ছবিতেও একই কায়দায় চক্ষুপ্রদাহ সারাতে নাগরের চোখে স্তনপিচকারি তাক করেছেন আরেক নারী। মনে হতে পারে একই ঘটনা। কিন্তু দূরে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়তে থাকা ক্যাকটাসের রসের নিচ দিয়ে উর্ধ্বপানে তাকিয়ে থাকে আরেকটি পুরুষ। ও কি গুরুনিতম্বিনী নারীটির স্বামী? প্রেমিক? প্রতারিত? সেজন্যই কি ক্যাকটাসের কাঁটা সহ্য করা? ক্যাকটাসের ডালটি পিস্তলের মতো, যেন বঞ্চিত প্রেমিক সবুজ অভিযোগ তাক করে ধরেছেন স্রষ্টার মসনদ বরাবর। এভাবে একই প্রপস ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী হয় সাম্বার ছবিতে।

সাম্বা তথা আফ্রিকার নন্দন অনেকটা লাতিনের শিল্পচেতনার কাছাকাছি। এই সর্বসংযোগের সূত্রটির বলে নিজের অনেক পোট্রেট একেঁছেন সাম্বা। কোনোটা সাধু, কোনোটা শিল্পী, কোনোটা খল। একজন আফ্রিকান হিসেবে নিজেও যে সাবজেক্টের পার্ট এটা ফুটে ওঠে সাম্বার ছবিতে। Une Peinture à Défendre (A Painting to Defend)—এই ছবিতে আমরা দেখি, কত প্রলোভন-প্রতিরোধ হজম ও প্রতিহত করে একজন শিল্পী ছবি আঁকেন। আর দেখা যায় ছবির ভেতরে ছবি—যেন সুড়ঙ্গের ভেতর সুড়ঙ্গ। এই পকেটের ভেতর পকেট তৈরি কৌশল সাম্বার অনেক ছবিতেই পরিলক্ষিত হয়।

এভাবে অনেক ছবির কথাই বলা যায়। ওর হিউমার আর স্যাটায়ারের নমুনা হতে পারে La méthode belge pour connaître l’âge এবং Lutte contre les Moustiques Fight Against Mosquito ছবি দুটি। বেলজিয়ানরা নারীর বয়স বোঝার মানদণ্ড মনে করতো বগলের লোম গুনে। তাই La méthode belge pour connaître l’âge ­ছবিতে আমরা দেখি এক বেলিজ ভদ্রলোক দুজন কৃষ্ণাঙ্গীর বগলের লোম গুনে চলছেন আর খাতায় টালি করে যাচ্ছেন। আবার মশা মারতে কামান দাগার মতো, Lutte contre les Moustiques Fight Against Mosquito ছবিতে দেখি দুজন মানুষ তিরধনুক নিয়ে দেয়ালে আঁকা মশা মারার চেষ্টা করছে। এ যেন ছায়ার সাথে যুদ্ধ করা; প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের বালাই নেই, লক্ষ্য নেই, কেবল ধস্তাধস্তি। ধস্তাধস্তি সম্পর্কে মনে পড়ে যায় Mobali are Monyati (Battle in a home) বা বাড়িতে যুদ্ধ -ছবিটির কথা।

সাম্বা কলোনির চিহ্ন হিসেবে শুধু ফরাসি ভাষাটাকে বহন করছেন, মাঝেসাঝে প্যারিসেও থাকেন, মাগার উনি সুযোগ পাইলে ফণা তোলেন

colage 02
ছবি : (এন্টিক্লক বাম থেকে ডান) Une Peinture à Défendre, Le secret d’un petit poisson devenu grand, Lutte contre les Moustiques Fight Against Mosquito, La méthode belge pour connaître l’âge, Quel avenir pour notre art?

২০০৭ সালে ফেড রবার্টস যখন সাম্বার ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলেন, তখনকার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন, কোনো রকম অ্যাপয়েনমেন্ট ছাড়া দেখা হলো ওর সাথে। মোটামুটি গোড়া খ্রিস্টান একটা দেশে খ্রিস্টানিটির সমালোচনা করা সাম্বার সেল্ফে দুটো বাইবেলের কপি দেখলাম, সফট পর্নো ডিভিডির পাশে। ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বলল, আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে বাচ্চা ছাড়া অন্য সবার চার্চে যাওয়া নিষিদ্ধ করতাম আমি। এটা খুবই লোক দেখানো কাজ-কারবার। যতদূর জানি এখন আর আকাশ থেকে স্বর্গীয় খাবার মান্না ঝরে না, তাহলে হাঁটু গেড়ে মানুষ কেন যে নিজের সময় অপচয় করে? মনে হতে পারে, সাম্বা পশ্চিমের তথাকথিত এনলাইটমেন্টের খপ্পড়ে পড়েছেন। কিন্তু না। ওর অনেক ছবিই ক্রিটিক করে পশ্চিমের শিল্পতত্ত্বের। Quel avenir pour notre art? (আমাদের শিল্পের ভবিষ্যৎ কী?) ছবিতে সাম্বা আঁকছেন এক পাবলো পিকাসোর ছবি, যার পেছনে এক আফ্রিকান শ্যারি সাম্বা নিজেই, বসে আছেন তার এথনিক আর্ট নিয়ে। তাদের কথোপকথন হচ্ছে এমন :

পৃথিবীতে শিল্পের ভবিষ্যৎ তবে কী, যখন বেশির ভাগ শিল্পীই নিপীড়িত?

একটাই সমাধান—ফ্রান্সে স্বীকৃত হতে হবে। একজন শিল্পী ফ্রান্সে স্বীকৃতি পেলে সন্দেহাতীতভাবেই পুরো পৃথিবীতে গৃহীত হয়। মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম বলতে এখন ফ্রান্সকেই বোঝায়।

হ্যা কিন্তু এই মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম ব্যাপারটাই কি একটু বর্ণবাদী হয়ে যায় না?

(What is the future of our art in a world where most of the living artists are oppressed?

Only one solution: to be accepted in France. It seems that when an artist is accepted in France, is doubtless acceptable in the wholeworld. And who says France, also refers to the Modern art museum.

Yes, but… isn’t this Modern art museum racist???)

সাম্বা কলোনির চিহ্ন হিসেবে শুধু ফরাসি ভাষাটাকে বহন করছেন, মাঝেসাঝে প্যারিসেও থাকেন, মাগার উনি সুযোগ পাইলে ফণা তোলেন। আর কেনইবা তুলবেন না? একবার খুব জরুরি মুহূর্তে সাম্বাকে ভিসা দেয় নি ফরাসি কর্তৃপক্ষ। অথচ প্যারিসের জন্য তার দরদ ছিল তীর্থপূজারীর মতো। Louis Vuitton Travel Book-এর জন্য প্যারিসের সৌন্দর্য নিয়ে আঁকা Chéri Samba Paris বইটি পারীর অন্য সৌন্দর্য উন্মোচন করে। অবশ্য ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেই ফোঁস করেন সাম্বা। এই ফোঁস করাকে আমার প্রণাম। তাতেই শিল্পীর মাথায় মণি গজায় সাপের মতো, কখনো তা থেকে সাঁই করে বেরিয়ে আসে রকেট লাঞ্চার। প্রভুত্ববাদী চিন্তার নীল নকশা তাতে ধসে না পড়ুক, বর্ণালি আতশবাজির ঝলকানি দেখা যায় ঠিকই। তখন হয়তো একটা ছবি আঁকা হবে। নাম Après le 11 Sep 2001, ২০০১-এর ১১ সেপ্টেম্বরের পর…

Après le 11 Sep 2001

মাজুল হাসান
মাজুল হাসান

মাজুল হাসান

কবি ও গল্পকার
জন্ম : ২৯ জুলাই ১৯৮০, দিনাজপুর।
পড়াশুনা করেছেন দিনাজপুর জিলা স্কুল, নটরডেম কলেজ
ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস।।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
বাতাসের বাইনোকুলার ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১০।
মালিনী মধুমক্ষিকাগণ ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১৪।
ইরাশা ভাষার জলমুক ● চৈতন্য, ২০১৬।

প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
টিয়ামন্ত্র ● ভাষাচিত্র প্রকাশনী, ২০০৯।
নাগর ও নাগলিঙ্গম ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১২।

অনুবাদগ্রন্থ:
টানাগদ্যের গডফাদার, রাসেল এডসনের কবিতা ● চৈতন্য, ২০১৬।

মাজুল হাসান পেশায় সাংবাদিক। বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বার্তা বিভাগে কর্মরত।
মাজুল হাসান
মাজুল হাসান