হোম চিত্রকলা কঙ্গোর সাইন আর্ট ও একজন মায়েস্ত্রো মিকা

কঙ্গোর সাইন আর্ট ও একজন মায়েস্ত্রো মিকা

কঙ্গোর সাইন আর্ট ও একজন মায়েস্ত্রো মিকা
2.77K
0

ফ্রান্সের পোস্ট ইমপ্রেশনিস্ট আর্টিস্ট পল গগ্যাঁ একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আধুনিক শিল্পের উৎকর্ষের ইতিহাস মানেই গণবিচ্ছিন্নতার ইতিহাস। এই আক্ষেপকে পাল্টে দিচ্ছে আফ্রিকার পপুলার আর্ট। পপুলার শব্দটি নিয়ে যতই নাক সিটকানি থাক না কেন, এটা যে সস্তা বাজারি বিষয় নয়, তা এখন প্রতিষ্ঠিত। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই ভাবধারার শিল্পীরা এঁকে চলেছেন। এইসব শিল্পীর অনেকেরই চিত্রকলার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা নেই। সিনেমার পোস্টার আর নিয়ন সাইন আঁকতে আঁকতে ‘বড়লোকি’ ক্যানভাসের প্রতি আগ্রহ, সেই থেকে শিল্পী হবার বাসনা। আবার কেউ কেউ পড়ছেন, ঘুরছেন ইউরোপ-আমেরিকা, পাঠ নিচ্ছেন পশ্চিমা নন্দনের, তার সঙ্গে ঘটাচ্ছেন আফ্রিকার বুনো লতাপাতার আত্মা। আঁকছেন যুদ্ধবিগ্রহ, পশ্চিমা লুণ্ঠন, মৃত্যু-জ্বরা, আগুন, গুলি। আদতে এভাবে তারা আঁকছেন নিজেকেই। যে ‘আমি’ হয়ে উঠছে সমষ্টির প্রতিনিধি। যে কেউ সেই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে সহজেই হতে পারে একাত্ম।


কঙ্গোর সমসাময়িক চিত্রকলার দুই স্তম্ভ। একজন শ্যারি সাম্বা। অন্যজন শ্যারি শ্যারিন।


জনসম্পৃক্ত পেইন্টিং-এ অনন্যতার সাক্ষর রাখছেন আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর শিল্পীরা। ওদের মেইনস্ট্রিম আর্টের বিরাট একটা অংশ পপুলার ফর্মে আঁকা। আবার কেউ বা আঁকছেন প্রাচীন গুহাচিত্রের ফর্মে। সেটাও কঙ্গবাসীর কাছে প্রাণের রেখাচিত্র। কঙ্গোর সমসাময়িক চিত্রকলার দুই স্তম্ভ। একজন শ্যারি সাম্বা। অন্যজন শ্যারি শ্যারিন। এই দুই শ্যারি কঙ্গোর চিত্রকলাকে নিয়ে গেছেন বিশ্বমানের পর্যায়ে, তৈরি করেছেন নতুন তুলিভাষ্য। তাদের দেখানো পথেই এগুচ্ছে সেখানকার আঁকিবুকি। সাম্প্রতিক সময়ে, তাদের উত্তরসূরি জেন পল মিকা, সংক্ষেপে—জেপি মিকা’র খ্যাতিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়। ১৯৮০ সালে কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসায় জন্ম নেয়া এই যুবক শৈশবে ১৩ বছর পর্যন্ত রুজিরুটির তাগিদে সাইন আর্ট বা বিজ্ঞাপন আঁকিয়ের জোগালে খেটেছেন। সাইন আর্টের পথ ধরে চিত্রকলায় আসার নজির এই প্রথম নয়। শ্যারি সাম্বা নিজেও সাইন আর্টিস্ট হিশেবে শুরু করে পুরোদস্তুর আধুনিক শিল্পী হয়েছেন। এটা দারিদ্র ও যুদ্ধকবলিত কঙ্গোর একটি বৈশিষ্ট্য। ওখানে একদম এঁদোগলি থেকে রুজিরুটির টানে—প্রথমে সাইন আর্ট, দেয়ালচিত্র, সেখান থেকে চিত্রকলায় এসেছেন বড় বড় শিল্পীরা। এ কারণেই হয়তো ওদের পেইন্টিং-এ বিজ্ঞাপন বা পোস্টারের ফর্মটি বিরাট প্রভাব ফেলেছে।

la-ruse-du-chef
la ruse du chef

জেপি মিকা ফাইন আর্টস একাডেমিতে যাওয়ার প্রথম সুযোগ পায় ২০০৫ সালে। সেখান থেকে গ্রাজুয়েশনের পর তার জীবনটা পাল্টে দেয় শ্যারি শ্যারিন। কঙ্গোর অন্যতম প্রবাদতুল্য এই শিল্পীর সান্নিধ্যে গড়ে উঠে মিকা। শ্যারিনের চেষ্টাতেই ২০০৮ সালে দেশের বাইরে স্পেনের বিলবাওয়ে প্রথম প্রদর্শনীর সুযোগ পায় মিকা। এরপর বিশ্বঅঙ্গণে সাম্বা, শ্যারিনের সাথে উচ্চারিত হতে থাকে তার নাম। যদিও শুরুর দিকে সাম্বা ও শ্যারিনের কাজের ছাপ ছিল কাজে, তবে সেখান থেকে নিজের সিগনেচার তৈরিতে খুব বেশি সময় নেন নি এই তরুণ শিল্পী। এসময়, ন্যারেটিভ ফিগার ছেড়ে আরও সরল ও এককেন্দ্রিক বিষয়বস্তুর দিকে মনোনিবেশ করেন মিকা। তার আগে অবশ্য ন্যারেটিভ ফিগার বিষয়টি একটু খোলাসা করা দরকার। সাম্বা, শ্যারিন বা মিকার (প্রথম দিককার) ছবিতে একটি কোলাজ আবহ পরিলক্ষিত হয়। যেন এক গল্পে অনেক চরিত্র, ঘটনা, দেশ থেকে বিদেশে ব্যাপ্ত কাহিনিসূত্র, মূর্ত থেকে অর্ধবিমূর্ততায় চলে যায় তুলির আঁচড়। এই যে অনেকগুলো এঙ্গেল ও চরিত্রকে ছবির গল্পে গেঁথে ফ্যালা—এটাই কঙ্গোর শিল্পীদের কাছে ন্যারেটিভ ফর্ম। এখান থেকে সরে এসে মিকা নিজের পথ খুঁজছেন। দুই ওস্তাদ থেকে আলাদা করতে চাইছেন নিজেকে। তবে এখনও গাঢ় উজ্জ্বল রঙের ক্যানভাস ভরিয়ে ফেলার স্বভাবটি বদলান নি তিনি। হয়তো সেটা ছাড়া কঙ্গোর চিত্রকলা কল্পনাও করা যায় না। এক্ষেত্রে নিজস্বতা আনতে মিকা এই কটকটা রঙের ওপর চাপিয়ে দেন একটি নস্টালজিক আবহ, একটি হালকা ফ্লোরাল পেইন্ট ফেব্রিক্সের আস্তর। শ্যারিন ও সাম্বা—দুই গুরুর সাথে নিজের বোঝাপোড়া নিয়ে ছবিও এঁকেছেন মিকা। La jonction entre Samba et Cherin বা ‘সাম্বা ও শ্যারিনের মধ্যবর্তী জংশন’ নামের পেইন্টিং একটি ডিকন্সট্রাকশনের নিদর্শন। হয়তো দুই পথপ্রদর্শকের পদচ্ছাপ ধরে নতুন গন্তব্যে পৌঁছানোর অভিপ্রায় থেকে আঁকা।

Concours de beauté, 2009
Concours de beauté, 2009

শুরুর দিককার হলেও মিকার একটি সিরিজের কথা না বললেই নয়— তা হলো সাফোলজি। ফ্রেঞ্চ এই টার্মের বাংলা করা যেতে পারে ‘বড়ফড়াঙ্গি’, ‘লোক দেখা নি’। সাফোলজি ব্যাপারটা হলো আফ্রিকান ‘ভদ্দরলোকী’। এখন এটা একটা ফ্যাশন ট্রেন্ড, যেখানে ওয়েস্টের পোশাক ও স্ট্যাইল আফ্রিকাকরণ করা হয়। ফরাসিতে বলে La Sape, সেখান থেকে la Sapologie। উচ্চারণটা সাপুরোঝি ! একে clothing (কাপড় পরা) বলেও চিহ্নিত করা চলে। এটা একটা কঙ্গোর জনপ্রয়ি স্ট্যাইল মুভমেন্টও । আমি অবশ্য ব্যাপারটাকে স্যাটায়ার হিসেবে দেখছি, দেখছি কালা-আদমির ধলা হওয়ার বাসনা হিসেবে, তাই ‘লোক দেখানি’ ‘বরফরাঙ্গী’ বলছি। সে যাই হোক। ঔপনিবেশিক আমলে কঙ্গোর যেসব মানুষ বেলজিয়ান বা ইউরোপীয় সাহেবের বাসায় কাজ করত, সেখান থেকে তারা যে উপহার পেত, এই যেমন—ফেলে দেয়া স্যুট-বুল-চশমা, সাপ্তাহিক ছুটি রোববার সেগুলো পরে মহল্লার মোড়ে মহড়া দিত কঙ্গোবাসীরা। কলোনি জামানার ইতি ঘটলেও সাফোলজির ব্যাপারটা কিন্তু এখনও বহাল কঙ্গোর সমাজে। মিকা সেই বিষয়টিকে ক্রিটিক করছেন তার পেইন্টিং-এ। মিকা নিজের বক্তব্য তৈরির জন্য আশ্রয় নিয়েছেন রূপকের, গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন জীবজন্তুর আদল। বানর, বাঘ, ভাল্লুকের গায়ে কোট-প্যান্ট চড়িয়ে দিয়েছেন মিকা। এই সাহেব জন্তুর সাথে অকৃত্রিম জন্তুর একটি তুলনায় প্রয়াস দেখা যায় মিকার ছবিতে। প্যান্ট-পরা বানর হয় মানুষের হাতে বন্দি নয়তো সার্কাসের সামগ্রী। তেমনি কঙ্গো তথা আফ্রিকার কালো মানুষগুলোকে নিয়ে সার্কাস চলছে। বেশিরভাগই সেটা বুঝছেন না। এইটাই মিকার সাফোলজি সিরিজের বক্তব্য। লক্ষণীয় বিষয়: রূপকথার আদলে আঁকা এইসব ছবির প্রতিটির পেছনে থাকে একটি শিক্ষণীয় বার্তা। যে কেউ এগুলো দেখে বুঝতে পারেন। রিলেট করতে পারেন। ধরা যাক, La stupeur বা অসারতা পেইন্টিংটির কথা। একটা বানর স্যুট-টাই পরে যাচ্ছে। তারা টিটকারি করছে আরেকটা বুনো বানরকে। বার্তা খুব পরিষ্কার। এবার এর উল্টোপিঠটা আরেক ছবিতে এঁকেছেন মিকা। সেখানে দেখা যায় একটা বানর সাইকেল চালাচ্ছে আর তাকে টিটকারি করছে একটা বুনো বানর—হয়তো বলছে—‘শালা কলুর বলদ! সাহেব সাজিছে!’


পেইন্টিং হলো শব্দহীন কবিতা।


La stupeur, 2013
La stupeur, 2013

এমনিভাবে Concours de beauté বা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ছবিটির কথা বলা যেতে পারে। মনে পড়বে Le crime du chat বা ‘বিলাড়ের অপরাধ’ কিংবা la ruse du chef বা ‘শেফের ফন্দিফিকির’ ছবিটির কথা। শেফের ফন্দিফিকিরে একটা বাঘকে ফলের টুকরি নিয়ে হরিণকে আপ্যায়নের দৃশ্য দেখি আমরা। এই আতিথেয়তার পেছনে যে ঘাড় মটকানোর ফন্দি আছে, তা কি বলার অপেক্ষা রাখে? এই ছবিগুলো বাংলাদেশের লোকজনের খুবই ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ এই ছবিগুলো আমাদের দেশের রিকশা পেইন্টিং-এর মতো। আমাদের ছেলেবেলায় শোনা নানি-দাদির রূপকথার মতো। প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীর আদি কাহিনিগুলো, গল্প, রূপকথাগুলো সর্বপ্রাণবাদের কথা বলে। মিকার ছবির একটি পরিচিত চরিত্র বাঘ। সিংহের জনপদ আফ্রিকায় এই বাঘপ্রীতি আমায় একজন বাঙালি হিশেবে খুবই প্রীত করে। সহজবোধ্য এইসব ছবি দেখে এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করে; সেই সাথে সাথে মনও খারাপ হয়। কেমন আছেন আমাদের রিকশা পেইন্টাররা? আমরা এখন একজন বহরমের কথা জানি; জানি পুরাণ ঢাকার নবকুমার কিংবা তার ওস্তাদ সিতেস্বুর কথা। কিন্তু এদের শিল্পের কদর কি করা গেল? যদিও বিদেশিদের আগ্রহে এই মাধ্যম ও চিত্রভাষাটি আগের নাক-সিটকানো অবস্থা থেকে উন্নীত করেছে। কিন্তু আমরা এইসব শিল্পীদের মূলধারায় আনতে পারছি না তেমনভাবে। তাই একজন রিকশা আর্টিস্ট শ্যারি সাম্বা কিংবা জেপি মিকায় পৌঁছাতে পারছে না। আমাদের পাশ্চাত্যপ্রীতি ও চিত্রকলাকে ‘এলিটিজমের সামগ্রী’-জ্ঞান করার মানসিকতা পীড়া দেয় ভীষণভাবে।

Désolation a l’est du Congo
Désolation a l’est du Congo

রোমান কবি হোরাস বলেছিলেন, পেইন্টিং হলো শব্দহীন কবিতা। এখানেই চলে আসে ব্যক্তিনন্দনের বিষয়, আর কে না জানে সবার নন্দন একই উৎকর্ষতার চূড়া স্পর্শ করে না। তবে কবিতার মতো দুর্বোধ্যতা ও উচ্চমার্গের ধুয়ো তুলে চিত্রশিল্পীর পার পাওয়ার সুযোগ কম। সালভাদর দালি বলতেন, পেইন্টিং হলো সততার শিল্প, এখানে ফাঁকিজুকির অবকাশ নেই। কারণ এটা চাক্ষুষ, ছবির বেলায় কোনো মধ্যম বা মাঝামাঝি বিষয় নেই, হয় এটা ভালো লাগেছে, নয়তো সেটা ব্যর্থ। তাই বলে বিমূর্ত চিত্রকলার ধারাকে খাঁটো করার সুযোগ নেই। তবে, কোনো শিল্পীর কাজ যখন একটি জনপদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও কালখণ্ডের প্রতীক হয়ে ওঠে তখন তার শিল্পকর্ম লাভ করে স্বার্থকতা, সুযোগ তৈরি হয় বিদ্যমান টাইমফ্রেমকে ডিঙিয়ে মহৎ শিল্পকর্ম হয়ে উঠার। মিকার কাজ শেষ পর্যন্ত মহৎ ও কালোত্তীর্ণ হবে কিনা তা সময়েই বলে দেবে। তবে, নিজের কাজ ও জনগোষ্ঠীর প্রতি ওর যে দরদ ও নিজস্ব রীতিতে তাদের ক্যানভাসে তুলে আনার কসরত সেটা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। মিকার রাজনীতি সচেতনতা, রঙের ব্যবহার, সবই পপুলার আর্ট মুভমেন্টবাহিত। ওখানেও আছে যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি জনপদের কথা, হত্যা-ধর্ষণ-হানাহানির চিত্র। Désolation a l’est du Congo বা ‘পশ্চিম কঙ্গোর নির্জনতা’ এই শিরোনামের ছবিতে আমরা দেখে কিভাবে নারীর চিৎকার চাপা পড়ে যায় উর্দি ও অট্টহাসির নিচে।


Change We Can Believe In


Comment il change notre monde
Comment il change notre monde

এই যে পরিস্থিতি তা যে পশ্চিমা শক্তির ‘অবদান’ সেটাও খোলাসা হয় ওর ছবিতে। উল্লেখ করা যেতে পারে Comment il change notre monde বা ‘কিভাবে বদলে যায় আমাদের পৃথিবী’—পেইন্টিংটির কথা। এখানে বারাক ওবামা, ওসামা বিন লাদেন, যুদ্ধ, অস্ত্র বাণিজ্য সব কিছুই কোলাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মনে রাখতে হবে: বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্যাম্পেইনের স্লোগান ছিল—Change We Can Believe In। এই  সব স্লোগান যে ভাওতাবাজি—তা মিকার ছবিতে ফুটে ওঠে।

শুধু কি যুদ্ধ, দলাদলি, হানাহানি?এর বাইরে কঙ্গোর আছে এক বুনো উদ্দাম ও ঝংকারময় জীবনযাত্রার ইতিহাস। যা নানা প্রতিকূলতা সত্বেও মিলিত হতে চায় সমষ্টিতে। মুখর করতে চায় জীবন। যে গ্রাম-হাট-বাজারে খুনোখুনি সেখানেই জীবনের পসরা সাজিয়ে বসে দোকানি। চলে বসচা, খুনসুটি। আবহমান এই চিত্রের বাইরে পশ্চিমা ভাবধারাও এসে দোলা দিচ্ছে একসময়কার বেলজিয়ামের এই কলোনিতে। দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে জীবন। ঢুকে পড়ছে পাশ্চাত্যের অনুষঙ্গ। ঘটছে মিথস্ত্রিয়া। এসবই আঁকার বিষয়বস্তু জেপি মিকা’র। ওর একটা বিখ্যাত সেল্ফ পোট্রেট La SAPE।

La Sape, 2014
La Sape, 2014

কেন এই ছবিতে বেল্টটা ঝুলছে টাইয়ের মতো? কেন পৃথিবীটা দুভাগে ভাগ হয়ে আছে মিকার, যে মিকা একজন কঙ্গো-আফ্রিকানের প্রতিনিধি? সে-সম্পর্কে, ২০১৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে মিকা বলছেন—আমি যে শহরে থাকি, সেই কিনসাসার অনেক যুবক sapeurs হতে চেষ্টা করছে। ফ্রেঞ্চ শব্দ sapeurs–এর অর্থ আগুন, আমার মনে হয় উনি ঝলমলে, দৃষ্টি আকর্ষক আর্থে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই sapeurs হতে গিয়ে কী হচ্ছে—অই যে বেল্টটা টাইয়ের মতো ঝুলছে কোমরে। এটাই আফ্রিকান স্ট্যাইল; জেন পল মিকার শিল্পচেতনার আধার—‘নিয়েছি অনেক কিছু, কিন্তু নিয়েছি নিজের মতো করে’। এমন জাত্যভিমান ও শেকড়মুখী, সর্বোপরি নিজেকে আলাদা করণের চেষ্টা না থাকলে একজন শিল্পীর স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি হয় কিভাবে? শ্যারি সাম্বা ও শ্যারি শ্যারিনের পর তাদের উত্তরসূরি জেন পল মিকা সেই কাজটিই করছেন।

আগে বাড়ো প্রিয় মায়েস্ত্রো! আগে বাড়ো ঝলমলে কালো মানুষ!

মাজুল হাসান
মাজুল হাসান

মাজুল হাসান

কবি ও গল্পকার
জন্ম : ২৯ জুলাই ১৯৮০, দিনাজপুর।
পড়াশুনা করেছেন দিনাজপুর জিলা স্কুল, নটরডেম কলেজ
ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস।।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
বাতাসের বাইনোকুলার ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১০।
মালিনী মধুমক্ষিকাগণ ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১৪।
ইরাশা ভাষার জলমুক ● চৈতন্য, ২০১৬।

প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
টিয়ামন্ত্র ● ভাষাচিত্র প্রকাশনী, ২০০৯।
নাগর ও নাগলিঙ্গম ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১২।

অনুবাদগ্রন্থ:
টানাগদ্যের গডফাদার, রাসেল এডসনের কবিতা ● চৈতন্য, ২০১৬।

মাজুল হাসান পেশায় সাংবাদিক। বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বার্তা বিভাগে কর্মরত।
মাজুল হাসান
মাজুল হাসান