হোম নাটক শেক্সপিয়ার কিনলে মার্লো ফ্রি

শেক্সপিয়ার কিনলে মার্লো ফ্রি

শেক্সপিয়ার কিনলে মার্লো ফ্রি
1.73K
0

কুশীলব :

নীল (২৬)
যুবক
বিন্দু (২২)
নীলের গার্ল ফ্রেন্ড
আরবাজ (৫৫)
নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ
সুকি (১৯)
আরবাজের স্ত্রী
ডেভিড (২৮)
ল’ইয়ার
শাহমিকা (৪৫)
হতাশাগ্রস্ত নারী
ভি (১৫)
টিনেজার
ইউরেকা (২৫)
যুবক
এবং আরো কয়েকজন।

দৃশ্য ১
দিন/ নীলের অ্যাপার্টমেন্টের গ্যারেজ
চরিত্র : বিন্দু, একটা বিদেশি কুকুর ও দুটো লাভ বার্ড

বিন্দু গাড়ি থেকে নামল। তার এক হাতে কুকুরের চেইন অন্য হাতে লাভ বার্ডের খাঁচা। সে ঠাশ করে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দ্রুততার সাথে হাঁটা দিল লিফটের দিকে।

দৃশ্য ২
দিন/ লিফটের সামনে
চরিত্র : বিন্দু, কুকুর, লাভ বার্ড ও কয়েকজন মানুষ

লিফটের সামনে মানুষের লম্বা লাইন। লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল বিন্দু। কেউ ভুলেও ওর দিকে ফিরে তাকাল না। কারণ তারা নিজেদের নিয়েই খুব ব্যস্ত। কেউ ফোনে কথা বলছে। কেউ নোটপ্যাডে লিখছে। কেউবা মোবাইলে চ্যাটিং করছে ইত্যাদি। একেকজন মানুষের দিকে তাকালে মনে হয়—তারা প্রতিটা মুহূর্ত কাজের মধ্যে আছে। যেনবা তারা একেকটা রোবট বা কম্পিউটার।

দৃশ্য ৩
দিন/ নীলের ল্যাবরেটরি
চরিত্র : নীল, বিন্দু, কুকুর ও দুটো লাভ বার্ড

কালিদাস, শেক্সপিয়ার, তলস্টয়, রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ দাশসহ পৃথিবীর স্কলার কবি-সাহিত্যিকদের ছবি এবং কবিতা সাঁটানো ল্যাবরেটরির দেয়ালজুড়ে। বেশ কিছু ছিঁড়ে-ফেটে যাওয়া দুর্লভ পুরাতন বই আছে টেবিলে সাজানো। নীল হ্যান্ডমেট পেপারে কিছু একটা লিখতে ব্যস্ত। ওর পেছন সাইডে দরজা। আস্তে করে খুলে গেল দরজাটি। সঙ্গে সঙ্গে ঘরে প্রবেশ করল বিন্দুর কুকুরটি। তারপর ঢুকল লাভ বার্ডের খাঁচা এবং সবশেষে বিন্দু। নীল লিখতে লিখতে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল কুকুরটাকে। ব্যস। এ পর্যন্তই। বিন্দু খাঁচাটা টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে বলল—

বিন্দু :

গুড নিউজ আছে, মাই ডিয়ার! নেক্সট সান ডে-তে একটা গ্র্যান্ড পার্টি দিচ্ছি আমি। আজই ডিসিশনটা নিলাম। সারা পৃথিবী থেকে আমার স্পেশাল ফ্রেন্ডরা আসছে। ওরা অবশ্য বেশি সময়ের জন্য আসবে না। হাফ এ ডে। তুমিও থেকো কিন্তু। জানো—মার্টিন, ও নেক্সট ইয়ারে ওয়ার্ল্ডের ইয়াংগেস্ট বিলিয়নারদের মধ্যে টপ অব দ্য লিস্ট হবে। সে উপলক্ষে আটলান্টিকের তিন হাজার ফুট নিচে যে সাবমেরিন পার্টি হবে সেখানে আমিও নিমন্ত্রণ পাচ্ছি। আই অ্যাম ওয়ান অব হিজ বেস্ট গার্ল ফ্রেন্ডস! (কুকুরটা কিচেনের দিকে চলে যেতে লাগল। বিন্দু দৌঁড় দিল কুকুরের পেছনে।) এই এই ববি, কিচেনে যাবে না। ফিরে এসো! ফিরে এসো বলছি। ইউ মাস্ট লিসেন টু মি। কাম ব্যাক, (বিন্দু চিৎকার করতে লাগল।) ববি ববি ববি—ও নো ববি… (কুকুরটা কিচেনে ঢুকে পড়ল। নীল ঘাড় ঘুরিয়ে একটু সময় বিন্দুর ব্যস্ততা দেখে নির্লিপ্তভাবে আবার কাজ করতে লাগল। একটু পরে বিন্দু কুকুরটাকে নিয়ে ফিরে এল। তারপর জোরে হাসতে হাসতে বলল—) জানো, আমার ছোট ভাইটা আজ ৫০ তলার উপর থেকে লাফিয়ে পড়তে চেষ্টা করেছিল। সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল সে। এপার্টমেন্টের উয়াইড জানালার কার্নিশে উঠে দাঁড়িয়ে দুহাত ছড়িয়ে পাখির মতো ভঙ্গি করেছিল। (হেসে) ঠিক তখন, মম এসে ওকে পেছন থেকে ঝাপ্টে ধরে ফেলে। ইস বেচারার আর উড়া হলো না! (হাসি) ফ্ল্যাটে এখন পুলিশে পুলিশে গাদাগাদি অবস্থা। তাই চলে এলাম তোমার ফ্ল্যাটে। উফ ডিজগাস্টিং! তুমি তোমার ঐ সব লেখা রেখে আমাকে একটু সময় দাও না ডিয়ার! (বলতে বলতে খাঁচার দিকে গেল। ওর ভাবখানা এমন যে, নীল ওকে সময় দিলে ভালো, সময় না দিলেও কোনো ক্ষতি নেই। নীল উঠে ফ্রিজ খুলে মেরুন রঙের তরল পানীয় আনল। এগিয়ে দিল বিন্দুর দিকে। পানীয়তে চুমুক দিয়ে বিন্দু দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল—) ও পেইন্টিংস! আচ্ছা কাদের ছবি এগুলো, নীল? একজনকেও তো চিনতে পারলাম না। (একজনের নাম বলার চেষ্টা করল—) ইনি হলেন.. .. মিস্টার..

 নীল :

তুমি এদের একজনকেও চিনবে না। এরা কেউই তোমার পরিচিত নয়। আমি নতুন একটা বিজনেস দাঁড় করাচ্ছি—এজন্য এদের ছবি আমার প্রয়োজন। অনেক কষ্ট করে কালেক্ট করতে হয়েছে।

বিন্দু :

ও তাই বুঝি? (ওর চোখ পড়ল লাভ বার্ডের দিকে। খাঁচার মধ্যে পাখিগুলো ছুটোছুটি করছে টের পেয়ে দৌড়ে গেল খাঁচার কাছে। লাভ বার্ড নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। পাখির সঙ্গে কথা বলতে লাগল।) আর ইউ হাংগ্রি? ওকে ওকে—আই উইল হ্যাভ সাম ফুড ফর ইউ! (বলে বেরিয়ে যেতে লাগল।) কামিং ফাস্ট, ওকে? (নীলকে বলল) নীল, আমি গ্রাউন্ড থেকে একটু আসছি। (বিন্দু চলে গেল। নীল লেখা রেখে দেয়ালে ঝুলানো আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ফেরি করার অভিনব ও চোস্ত ভঙ্গিতে অদ্ভুত কণ্ঠে প্র্যাক্টিস করা শুরু করল।)

নীল :

আছে কালিদাস জীবনানন্দ রবীন্দ্রনাথ নজরুল—
অক্ষরবৃত্ত সনেটে নির্ভেজাল ঘুম…
আছে সফোক্লেস হোমার মিল্টন শেক্সপিয়ার!
আছে বায়রন শেলি কিটস ইয়েটস আর ইলিয়াড
আছে ওয়ার্সওয়ার্থ কোলরিজ আরো আছে মার্লো
চাই কি—কবিতা ছড়া রূপকথা?
(প্র্যাক্টিস করতে করতে দেখতে পেল বিন্দুর কুকুরটা আবার কিচেনের দিকে যাচ্ছে। নীল দৌড়ে গেল কুকুরের কাছে। নিয়ে এল কুকুরটাকে। ফ্রিজ খুলে কিছু একটা খাবার দিল তাকে।)

দৃশ্য ৪
দিন/ আরবাজের রুম
চরিত্র : আরবাজ, সুকি ও মিস্টার ডেভিড

বুড়ো আরবাজ খানের প্রেশারের চাপ বেড়ে যাওয়ায় মাথায় বরফের কুচি দিচ্ছিলেন। এ-সময় তার ঘরে প্রবেশ করল সুকি ও ল’ইয়ার ডেভিড। আরবাজ কিছুটা বিচলিত হয়ে সপ্রতিভ হওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু যতই সে চেষ্টা করেন—তার বয়স তাকে কোনোভাবেই তরুণী স্ত্রীর কাছে ইমপ্রেসিভ করে তুলতে পারে না। সুকি ডেভিডকে হাত ইশারায় সোফায় বসতে বললেন। আরবাজকে বরফের কুচি মাথায় দিতে দেখে সুকি কৃত্রিম সোহাগ দেখাল। শুরু হলো সুকির খবরদারি—

সুকি :

নো নো নো। এটা ঠিক নয়, আরবাজ! তুমি মাথায় বরফের কুচি দিচ্ছ—অথচ আমাকে খবর দাও নি কেন? (ইনসার্টে আরবাজ অপরাধীর মতো তাকালেন সুকির দিকে। পাশাপাশি ডেভিডকেও একবার দেখে নিলেন।) নিশ্চয়ই এখনো পর্যন্ত কিছু খাওয়া হয় নি তোমার! এই একা ঘরে মরে থাকলে সাত আসমানের নিচে তোমাকে দেখার মতো কেউ আছে, শুনি? (ইনসার্টে তরুণী স্ত্রীর খবরদারিতে মনে হয় আরবাজ কিছুটা খুশি হওয়ার চেষ্টা করলেন।) যাকগে মিস্টার ডেভিড, আপনি ওর সাথে একটু বসুন। আমি চট করে ওর জন্য স্যুুপ-ট্যুপ কিছু একটা করে নিয়ে আসি। (ডেভিডকে) আর আপনার জন্য?

ডেভিড :

জাস্ট কফি! কফি উইল বি ওয়ান্ডারফুল।

সুকি :

ওকে! কামিং সুন। (সুকি দ্রুত চলে গেল।)

আরবাজ :

(বরফের কুচি টেবিলে রেখে ডেভিডকে বলল—) দেখলে তো ইয়াংম্যান.. .. হা হা হা.. সুকি অযথাই আমাকে নিয়ে চিন্তা করে। আমি কিন্তু তেমন প্রবলেম ফিল করছি না। মাথাটা একটু চড়ে গিয়েছিল তাই বরফের কুচি দিচ্ছিলাম। আসলে লাইফ পার্টনার হিশেবে ও অনেক ভালো একজনে উইম্যান। বাইদা উয়ে—তুমি কি সুকির নিউ ফ্রেন্ড মিস্টার ডেভিড?

ডেভিড :

নো নো আই অ্যাম আ ল’ইয়ার।

আরবাজ :

(সূক্ষ্মভাবে তাকাল ডেভিডের দিকে) ল’ইয়ার? এনি এলিগেশন প্লিজ?

ডেভিড :

ইয়েস। (ইন্টারকাটে রান্নাঘরের ক্যাসেট প্লেয়ারে একটা ইংলিশ গান বাজছে। গান শুনতে শুনতে সুকি পাশাপাশি রাখা দুটো মগে স্যুপ এবং কফি ঢালল।) মিসেস সুকি আপনার বিরুদ্ধে ছোট্ট একটা মামলা ঠুকেছিলেন। আপনি নিশ্চয়ই সেটা জানেন। (ইনসার্টে আরবাজ সম্মতিসূচক মাথা দোলালেন) আজই সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। (ব্যাগ থেকে একটা ফাইল বের করে দিল আরবাজের সামনে।) এটাই হচ্ছে—আদালতের রায়। আপনার স্ত্রী—আই মিন মিসেস সুকিকে মাসিক ১০ লক্ষ টাকা ভরণ-পোষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেও আপনি দিচ্ছেন না। চলতি মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। আপনাকে এটা দিতে হবে।

আরবাজ :

কিন্তু ওর যখন যত টাকা লাগছে নিয়ে নিচ্ছে তো! আমি কখনোই হিশাব করে ওকে টাকা দিই না। অনেক সময় আমার চেকও থাকে সুকির কাছে।

ডেভিড :

(হেসে) দ্যাট ইজ পার্সোনাল। আদালত সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে চায় না। তাছাড়া আমার মক্কেল এখন থেকে এই পদ্ধতিতেই তার পাওনা গ্রহণ করতে আগ্রহী। অবশ্য আপনি চাইলে উচ্চ আদালতে আপিলও করতে পারবেন।

আরবাজ :

(চিন্তা করতে করতে একবার ফাইলের দিকে আর একবার ডেভিডের দিকে তাকিয়ে বললেন—) ওকে আই হ্যাভ নো আর্গুমেন্ট। রায়টা আমি মেনে নিচ্ছি। আপিলে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। (এক বাটি স্যুপ ও এক কাপ কফি নিয়ে এল সুকি। আরবাজের সামনে স্যুপের বাটি এবং ডেভিডের সামনে কফির কাপ রাখতে রাখতে আবার শুরু করল আরবাজের প্রতি তার খবরদারি।)

সুকি :

কিচেনটা একেবারে ডার্টি করে রেখেছ আরবাজ। যতক্ষণ ছিলাম ঘিনঘিনে লাগছিল। বি কেয়ারফুল। পয়জন তোমাকে শেষ করে দেবে। এটা খাও। ফাস্ট। (ডেভিডকে) আপনার কাজ শেষ হয়েছে মিস্টার ডেভিড?

ডেভিড :

(হ্যাঁ বোধক মাথা ঝাঁকিয়ে—) ইয়েস ম্যাম!

আরবাজ :

(আরবাজ স্যুপের বাটিটা নেন। একটু মুখে দিয়ে বেশ টেস্টি হয়েছে—এমন একটা ভঙ্গি করেন।)

সুকি :

ওকে ফাইন। লেট আস গো।

আরবাজ :

আর একটু বসবে না, সুকি? তোমার সঙ্গে কিছু কথা বলতাম…

ডেভিড :

স্যরি ডিয়ার। এ মাসটা আমি ভীষণ বিজি। নেক্সট মান্থে আশা করি তোমাকে সময় দিতে পারব। সে পর্যন্ত ভালো থেক। আর বরফের কুচি-টুচি আমি একদম ডিজলাইক করি। এসব ফেলে দিয়ে মনে শক্তি সঞ্চয় কর। স্ট্যান্ড আপ লাইক আ ম্যান! মরে যাওয়ার মতো বয়স এখনো তোমার হয় নি আরবাজ! (কৃত্রিম হেসে) আপনার কী মনে হয় মিস্টার ডেভিড?

ডেভিড :

(ডেভিড হেসে মাথা দুলিয়ে—) ইয়েস আপনি যা বলেছেন। (আরবাজ বালিশের নিচ থেকে চেক বই বের করে দশ লক্ষ টাকা লিখে সাইন করে দিলেন। চেকটা প্রথমে নিল ডেভিড। ডেভিড তা দিল সুকির হাতে। চেক পেয়ে মিষ্টি করে হেসে আরবাজকে হালকা আদর করে সুকি বলল—)

সুকি :

ইউ আর আ গ্রেটম্যান! শীঘ্রই আবার আমাদের দেখা হচ্ছে। আজ উঠছি। নিজের যত্ন নিয়ো প্লিজ! উঠে দাঁড়িয়ে ডেভিড হ্যান্ডশেক করল আরবাজের সঙ্গে। তারপর ওরা চলে গেল। দরজাটা বন্ধ হওয়া মাত্র আরবাজ হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর বরফের কুচি তুলেন নিলেন হাতে।

দৃশ্য ৫
রাত/ ভি’র রিডিং রুম
চরিত্র : বিন্দু এবং ভি

টিনএজার ভি বিন্দুর ছোট ভাই। অভিনব হিয়ার স্টাইল ওর। ভীষণ ব্যস্ত কম্পিউটারে। ওর কম্পিউটার স্ক্রিনে নানারকম হিয়ার স্টাইলের ক্যাটালগ। শুধু কম্পিউটার স্ক্রিন নয়, ওর ঘরের পুরো দেয়ালেও একই দৃশ্য। ভি সারাদিন পড়ে থাকে হিয়ার স্টাইল গবেষণা নিয়ে। সে বোতল থেকে ঢেলে খয়েরি রঙের পানীয় খেয়ে নিল। এ-সময় ঘরে প্রবেশ করল বড় বোন বিন্দু। পাশে দাঁড়িয়ে ভি’র কাজ দেখতে লাগল। ভি ঘাড় ঘুরিয়ে বলল—

ভি :

পুলিশকে খবর দিয়ে কাজটা ভালো করিস নি।

বিন্দু :

নো নো নো ভি! ইট’স নট ফেয়ার। তোর সুইসাইড করতে ইচ্ছে হয়েছে—করবি! আমি কেন বাধা দিতে যাব? পুলিশকে খবর দিয়েছে তোর প্রিয় ড্যাড। (ভি’র বোতল থেকে একটু পানীয় খেয়ে নিয়ে) তুই তো দেখছি গোপনে কোনো কাজই করতে পারিস না। এই যে হিয়ার স্টাইল নিয়ে গবেষণা করছিস, এটা সাংবাদিকরা জানল কিভাবে? কোনো কিছু করতে হলে কি ঢোল পিটিয়ে মানুষকে জানান দিতে হয়?

ভি :

তা অবশ্য ঠিক বলেছিস। জানিস তো আমার কিছু নেট ফ্রেন্ড আছে। ওদের জন্য কোনোকিছু গোপন রাখতে পারি না।

বিন্দু :

আচ্ছা ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু তুই সুইসাইড করতে ছাদে গিয়েছিলি কেন? কাজটা এত সহজ নয়—ইউ নো। আরো নিরিবিলি জায়গা দরকার।

ভি :

ছাদে গিয়েছিলাম—বিকজ দ্যাট ওয়াজ আ পার্ট অব মাই প্ল্যান। ছয় মাস ধরে আমি ৫০তলার ছাদ থেকে পড়ে সুইসাইড করার প্ল্যানটা করছিলাম।

বিন্দু :

ও আই সি! এ-কারণেই বুঝি ড্যাডকে রিকোয়েস্ট করে এই ফ্ল্যাটটা কিনিয়েছিস?

ভি :

হ্যাঁ। ইউ আর অ্যাবসোলিউটলি রাইট।

বিন্দু :

তোর প্ল্যান তো সাকসেসফুল হলো না। এখন কী করবি?

ভি :

আপাতত সুইসাইড করার প্ল্যানটা থেমে থাকবে। আবার নতুন কোনো প্ল্যান এলে চেষ্টা করব। তবে তা বছরখানেকের আগে নয়।

বিন্দু :

ওকে ফাইন। (বোতলটা নিয়ে) এটা নিয়ে নিচ্ছি ভি! আমার ঘরে একটাও নেই। (সে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। ভি বলল—)

ভি :

জানি তো এটাই নিতেই এসেছিলি। নিয়ে নে। আর শোন—নভেম্বরে বার্লিন যাচ্ছি। ড্যাডকে বলিস। আর শুনে রাখ, বার্লিন যাওয়ার আগে একটা পুলিশ খতম করে যাব।

বিন্দু :

গতমাসেই না হংকং ঘুরে এলি?

ভি :

(কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত করল বিন্দুকে। তারপর মুচকি হেসে বলল—) দেখ এগুলো। (বিন্দু আগ্রহী হয়ে দেখা আরম্ভ করল। ভি মাউস ঘুরিয়ে নানারকম হিয়ার স্টাইল দেখাতে লাগল।) ওখানে হিয়ার স্টাইল ফেস্টিবল হচ্ছে। মোর দ্যান ফিফটি থাউজেন্ড ডিজাইনারস অ্যাটেন্ড করবে। আই অ্যাম অলসো ইনভাইটেড। আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, পৃথিবীতে এই মুহূর্তে আমিই সেরা। এ-কারণেই সুইসাইডের প্ল্যানটা থেমে আছে। যখনই আমার মনে হবে আমি সেরা নই, তখনই সুইসাইড করব। আমার সব কথা তোকে বলে দিলাম। সো নেক্সট সেভেন ডেজ আমার সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করবি না। (হেসে) সি ইউ দেন সিস্টার! আই অ্যাম কোয়াইট বিজি। জাস্ট লিভ নাউ।

বিন্দু কী যেন বলার চেষ্টা করল। কিন্তু ভি কম্পিউটারে এমনভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়ল যে, ও আর কিছু বলতেই সুযোগ পেল না। কয়েক সেকেন্ড থেমে থেকে শেষে চলে গেল।

দৃশ্য ৬
রাত/শাহমিকার বেড রুম
চরিত্র : শাহমিকা

শাহমিকা ঘুমাতে পারছে না। এপাশ-ওপাশ করছে। নানাভাবে বালিশ টিকঠাক করে ঘুমের পিল খেল। কিন্তু চোখ বন্ধ করতেই শুনতে পেল টিকটিকির শব্দ। ঘড়ির ব্যাটারি খুলে ফেলে রেখে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করল। এবার রাস্তা থেকে এল গাড়ির শব্দ। সে বিরক্ত হয়ে রুমের মধ্যে পায়চারি শুরু করল। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। এক পর্যায়ে ফ্রিজ খুলে মদের বোতল বের করল। তারপর চলে গেল রুমের বাইরে।

দৃশ্য ৭
রাত/ গলির মোড়
চরিত্র : নীল

নীলের গাড়িটি এসে গলির মোড়ে থামল। সে গাড়ি থেকে নেমে হ্যান্ডমাইক বের করল। তাকাল আশ-পাশের ফ্ল্যাটের দিকে। দেখতে পেল, সব ফ্ল্যাটেই আলো জ্বলছে।

দৃশ্য ৮
রাত/ ব্যালকনি
চরিত্র : শাহমিকা

শাহমিকা ব্যালকনিতে বসে আছে। হাতে মদের গ্লাস। ছোট্ট টেবিলে মদের বোতল। বোঝা যায় এইমাত্র মদ খেয়েছে। এক পর্যায়ে সে মদের গ্লাসটা ১০তলা থেকে নিচে ফেলে দিল। বোতলের পড়ে যাওয়া দেখে সে বেশ উচ্ছ্বাসিত হয়ে পড়ল—

শাহমিকা :

ওহ! হট আ ফল! ইট’স আ গুড আইডিয়া!.. .. পেয়েছি!.. .. আমিও তো এভাবে পড়ে যেতে পারি! (সে কথাটা বলামাত্র উঠে পড়ল। চলে গেল ছাদের উদ্দেশ্যে।)

দৃশ্য ৯
রাত/ ছাদ
চরিত্র : শাহমিকা

শাহমিকা ছাদ থেকে পড়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছে। এমন সময় ভেসে এল নীলের কণ্ঠ:

নীল :

(অডিও) কালিদাস জীবনানন্দ দাশ রবীন্দ্রনাথ!
অক্ষরবৃত্ত সনেটে নির্ভেজাল ঘুম.. ..
অপরিচিত যুবকের কণ্ঠ শুনে শাহমিকা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নিচের দিকে তাকাল। নীলকে দেখে খুশি হলো। সে দৌড়ে নেমে গেল ছাদ থেকে। ক্যামেরা এবারও তাকে ফলো করতে থাকল।

দৃশ্য ১০
রাত/ গলির মোড়
চরিত্র : নীল ও শাহমিকা

নীলের দামি গাড়িটি থেকে লাউড স্পিকারে ভেসে আসছে ওর ভরাট কণ্ঠ। সে একজন কবিতার ফেরিওয়ালা। বিশেষ ভঙ্গিতে হ্যান্ডমাইকের সাহায্যে জোরে হাঁক ছাড়ছে—

নীল :

আছে কালিদাস জীবনানন্দ রবীন্দ্রনাথ নজরুল
অক্ষরবৃত্ত সনেটে নির্ভেজাল ঘুম.. ..
আছে সফোক্লেস হোমার মিল্টন শেক্সপিয়ার!
আছে বায়রন শেলি কিটস ইয়েটস আর ইলিয়াড
আছে ওয়ার্সওয়ার্থ কোলরিজ আরো আছে মার্লো
চাই কি—কবিতা ছড়া রূপকথা?
(এ সময় সুউঁচ্চ বাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে শাহমিকা হাত ইশারায় ডাক দিল নীলকে।)

শাহমিকা :

এই এই কবি! কাম হিয়ার! দিজ উয়ে। দিজ উয়ে। টেনথ ফ্লোর। (নীল উপরের দিকে তাকিয়ে শাহমিকাকে দেখার চেষ্টা করল। ফারিয়া ব্যালকনি থেকে হাত নাড়িয়ে বলল—) হ্যাঁ হ্যাঁ.. উপরে চলে এসো।

নীল শাহমিকার বাড়িতে প্রবেশ করল।

দৃশ্য ১১
রাত/ শাহমিকার ড্রয়িং ডাইনিং
চরিত্র : নীল ও শাহমিকা

শাহমিকা মিষ্টি করে হেসে দরজা খুলে দিল। ভেতরে প্রবেশ করল নীল। ওকে একরকম জড়িয়ে ধরে নিয়ে বসাল মুখোমুখি সোফায়। শাহমিকার যেন একদম তর সইছে না।

শাহমিকা :

বের কর—বের কর—কুইক! গত রাতে তোমার কবিতায় বেশ উপকার পেয়েছি। তুমি জানো, আমি ঘুমাতে পারি না। শত চেষ্টা করেও আমার চোখে ঘুম আসে না। কিন্তু গতরাতে তোমার কবিতা পড়ে কিভাবে যে ঘুম এসেছিল আমি একদম টের পাই নি। শুধু এইটুকু মনে আছে—(চোখ বন্ধ করে) কবিতা পড়তে পড়তে আমি শূন্যে ভাসছিলাম। আহ : (মুখ ঝাঁকিয়ে দুহাত প্রসারিত করে) জাস্ট লাইক ক্লাউডস—নো নো নো—লাইক আ ড্রিম। কী যেন ওই কবিটার নাম?

নীল :

(হেসে) জীবনানন্দ দাশ! উনি ছিলেন—লক্ষ্মী ট্যারা। আর ভীষণরকম ভাবুক।

শাহমিকা :

ও রিয়েলি? এক্সিলেন পোয়েট্টি! কাল রাতে ওর কবিতা আমাকে খুব ধরেছিল। আমাকে জীবনের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। উনি কোন দেশের পোয়েট? ওর কবিতা যতগুলো আছে সবগুলো দাও আমাকে।

নীল :

না না ম্যাডাম। এক সঙ্গে সবগুলো নেওয়া ঠিক হবে না। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ভয় আছে। কিছুদিন আগে ডগ রোডের এক পাঠক জীবনানন্দ দাশের সব কবিতা একসঙ্গে পড়তে ট্রাই করেছিলেন। তিনি এখন ক্লিনিকে। সো ইউ মাস্ট বি কেয়ারফুল! (হাতে তৈরি জীবনানন্দ দাশের সুদৃশ্য দুটো কবিতার কার্ড দিল মহিলার হাতে।)

শাহমিকা :

(কবিতা দুটো নিতে নিতে) রিয়্যালি? ও মাই গড! আমি ক্লিনিকে যেতে চাই না। ওখানে গেলে সার্জনরা আমাকে কেটে-কুটে একাকার করে ছাড়বে। বুঝলে, আমাকে পেলে ওরা খুব খুশি হয়ে মনের ইচ্ছা মতো কাটাকাটি শুরু করে দেয়। তারপর দুই তিন সপ্তাহের জন্য ফেলে রাখে ইনটেনসিভ কেয়ারে। টু মাচ ডিজগাস্টিং। (সে কবিতার কার্ড দুটো পড়া শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে নীল বলল—)

নীল :

ম্যাডাম, ইট’স নট দ্য রাইট টাইম ফর রিডিং দিজ পোয়েমস। (পরামর্শের ভঙ্গি করে) একা একা!—লোনলি অ্যাট মিড নাইট—যখন পাশে কেউ থাকবে না—হালকা আলো—জানালা খোলা—নিঝুম। কবিতা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই টিপস্‌গুলো অবশ্যই পালন করতে হবে।

শাহমিকা :

(আহ্লাদী কণ্ঠে) ওহ ইউ আর আ নটি বয়! শুধু টিপস্ আর টিপস্। (নাক টিপে দিয়ে) কবিতার ডাক্তার! (মুগ্ধভাবে নীলের দিকে তাকিয়ে।) গুড! আই থিংকÑইউ উইল উইন দ্য ওয়ার্ল্ড! (তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে ভেতরের ঘরে যেতে উদ্যত হয়ে বলল—) জাস্ট আ মিনিট। (তারপর দ্রুত চলে গেল ভেতরের দিকে। নীল ব্যাগ থেকে কবিতার কার্ডগুলো বের করে দেখতে লাগল। একটু পরেই ফিরে এল শাহমিকা। নীলের হাতে ধরিয়ে দিল একটা চেক। নীল চেকটা নিয়ে উঠে দাঁড়াল।) স্যরি, ক্যাশ পেমেন্ট করতে পারলাম না। কাল মাস্ট এসো কিন্তু! আমি ঐ লক্ষ্মী ট্যারা কবিটাকেই চাই। আ ফ্যান্টাস্টিক পোয়েট!

নীল উঠে দাঁড়াল। শাহমিকার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে বিদায় নিল।

দৃশ্য ১২
দিন/ বাথটাব
চরিত্র : আরবাজ

বিষণ্ন আরবাজ বাথটাবে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। বাথটাবে বড় বড় দুখণ্ড বরফ ভাসছে এবং কপালে বরফের কুচি। আপ্রাণ চেষ্টা করছেন শরীর ঠান্ডা করতে। কিন্তু কোনোভাবেই তার শরীর ঠান্ডা হচ্ছে না। ফলে তার চোখে মুখে শরীর ঠান্ডা করার আকুতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিগ ক্লোজ আপে তিনি পলকহীন তাকিয়ে আছেন।

॥আউট অব ফোকাস॥
॥ইলুউশান॥

দৃশ্য ১৩
দিন/ সবুজ মাঠ
চরিত্র : আরবাজ

আরবাজের শার্টের প্রথম দুটি বোতাম খোলা। বুকের পাকা লোমগুলো দৃশ্যমান। তিনি বিশাল এক খোলা মাঠের মুক্ত বায়ু সেবন করতে করতে পাইপ টানছেন। তার মনে ভীষণ আনন্দ। ভয়েজ ওভার :

কণ্ঠ :

আমি অত তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছবার সময় আছে;
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব’সে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।
জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই এসে বহন করুক; আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচলমানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।
জীবননান্দ দাশ
অগ্রন্থিত কবিতা
রাত্রি, মন, মানব পৃথিবী

॥ইলুউশান থেকে ফিরে আসা॥

॥দৃশ্য ১২-এ ফিরে যাওয়া॥
হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তার ইলুউশান ঘোর কাটল এবং দ্রুত বাথটাব থেকে উঠে বসলেন। এসময় আর একবার কলিংবেল বাজল।

আরবাজ :

আসছি সুকি!

তিনি বাথরুম থেকে চলে গেলেন দরজা খোলার জন্য।
ইন্টারকাট

দৃশ্য ১৪
দিন/ লিফট
চরিত্র : নীল ও কিছু মানুষ

নীল ও আরো কিছু মানুষ লিফটে উঠেছে। নীল কবিতা পড়ছে :

নীল :

DEATH, be not proud. though some have called thee
Mighty and dreadful, for thou art not so;
For those whom thou think’st thou dost overthrow
Die not, poor Death: nor yet canst thou kill me.
From Rest and Sleep, which but thy picture be,
Much pleasure, then from thee much more must flow,
And soonest our best men with thee do go,
Rest of their bones and soul’s delivery!
Thou art slave to fate, change, kings, and desperate men,
—John Donne

পাশের লোকেরা নীলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
ইন্টারকাট

দৃশ্য ১৫
দিন/ আরবাজের ফ্ল্যাটের দরজা
চরিত্র : আরবাজ

আরবাজ দ্রুত দরজা খুললেন। কিন্তু দরজা খুলে দেখলেন কেউ নেই। ডানে-বায়ে তাকিয়ে খোঁজাখুজি করলেন। না, কেউ নেই। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বুঝতে পারলেন কলিংবেলের শব্দটা ছিল মনের ভুল। তিনি এতক্ষণ সুকিকে ভাবছিলেন। হতাশভঙ্গিতে দরজা বন্ধ করে দিল।

দৃশ্য ১৬
দিন/ জনৈকা তরুণী গৃহকর্তৃর ড্রয়িং
চরিত্র : নীল ও জনৈকা তরুণী গৃহকর্তৃ

তরুণী গৃহকর্তৃর ড্রয়িং রুমে টিভি দেখছিলেন। এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভয় পেয়ে গেলেন এবং ড্রয়ার খুলে পিস্তল বের করলেন। ট্রিগারে আঙ্গুল চেপে পা টিপে টিপে দরজার কাছে গেলেন। পিপহোলে দেখে নিলেন কে অপেক্ষা করছে। তারপর পিস্তল লুকিয়ে সন্তর্পণে দরজা খুললেন। নীল তাকে কবিতার কার্ড দেখিয়ে কিছু বলল কিন্তু জনৈকা মহিলা মোটেও আগ্রহ প্রকাশ করলেন না। ধন্যবাদ জানিয়ে নীল চলে গেল।
ফেইড ইন
ফেইড আউট

দৃশ্য ১৭
দিন/ দরজার সামনে
চরিত্র : নীল ও গৃহকর্তা

নীল দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর গৃহকর্তা দরজা খুললেন। নীল তাকে কবিতার কার্ড দেখিয়ে কী কী বোঝাতে লাগল। গৃহকর্তা অর্ধেক কথা শুনেই মুখের ওপর ঠাস্ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। চুপচাপ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল নীল। তারপর চলে গেল অন্য বাড়ির উদ্দেশ্যে।
ফেইড ইন
ফেইড আউট

দৃশ্য ১৮
দিন/ আরবাজের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে
চরিত্র : আরবাজ ও নীল

নীল দাঁড়িয়ে আছে আরবাজের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে। আরবাজ দরজা খুলে দেয়। তিনি ভেবেছিলেন সুকি এসেছে। কিন্তু অপরিচিত কাউকে দেখতে পেয়ে কিছুটা অবাক হলেন। নীলকে দেখতে লাগলেন। হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো নীল।

নীল :

হাই! আমি নীল। নাইস টু মিট ইউ।

আরবাজ :

আমি আরবাজ খান।

নীল :

থ্যাংক ইউ সো মাচ! আমি আপনার কিছুটা সময় নিতে চাই।

আরবাজ :

শিওর। আমি একা থাকি। কিছুটা নয়, তুমি আমার অনেকটা সময় নিতে পারো। কিন্তু তার আগে আমি তোমার সম্বন্ধে জানতে চাইব।

নীল :

আমি আসলে একজন সেলসম্যান। কবিতা বিক্রি করি।

আরবাজ :

(অবাক না হয়ে) ও আচ্ছা তাই নাকি? ভেরি ইন্টারেস্টিং। (সম্ভাষণ জানিয়ে) তোমার প্রডাক্টগুলো সম্বন্ধে একটু বলো। না এখানে নয়, ভেতরে এসে বলো, ওকে?

নীল :

ইয়েস।

নীল আরবাজের ঘরে প্রবেশ করল।

দৃশ্য ১৯
দিন/ আরবাজের ড্রয়িং
চরিত্র : আরবাজ  ও নীল

আরবাজ এবং নীল ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করল। নীল সোফায় বসল। আরবাজ বলল—

আরবাজ :

হ্যাঁ এবার বলো শুনি

নীল :

শিওর। আসলে প্রডাক্টগুলো আমার নিজের নয়। সংগৃহীত। এ বিজনেসটা শুরু করেছি ছ’মাস হলো। ইতোমধ্যে আমি অনেক কনজিউমার পেয়েও গেছি। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতক থেকে শুরু করে দুই হাজার এগার পর্যন্ত সময়ের মধ্যকার প্রধানতম কবিদের মাস্টারপিসগুলো আমি সংগ্রহ করেছি। সেগুলোই এখন আমার প্রডাক্ট। আমি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সাপ্লাই দিয়ে থাকি। অবশ্যই রিজেনেবল প্রাইজে।

আরাবাজ :

খুবই ভালো। তোমার ব্যবসাটা নতুনরকম মনে হচ্ছে। কিন্তু তোমার প্রডাক্টগুলো ব্যবহার সম্বন্ধে তো কিছু বললে না? আচ্ছা একটু পরেই শুনি। কী খাবে বলো? কফি অর সামথিং কোল্ড?

নীল :

কফি উইল বি নাইস!

আরবাজ :

একটু বসো প্লিজ। তোমার জন্য কফি নিয়ে আসছি।

নীল :

ওকে থ্যাঙ্কস। (আরবাজ চলে গেলেন পাশের ঘরে। নীল চুপচাপ বসে রইল। কিছুক্ষণ পর ওর মোবাইল বেজে উঠল। পকেট থেকে মোবাইল বের করে রিসিভ করল।) হ্যালো বিন্দু!…(খুশি হয়ে) ও তাই নাকি!… এইমাত্র দেশে ফিরেছ?…বলো তোমাদের সাবমেরিন পার্টি কেমন হলো?..

ফোন কাউন্টার দৃশ্য ১৯/ক
দিন/এয়ারপোর্ট
চরিত্র : বিন্দু

বিন্দু ফোনে কথা বলতে বলতে এয়ারপোর্ট থেকে বের হলো। গাড়ির দিকে যেতে যেতে কথা বলছে—    

বিন্দু :

গর্জিয়াস। ইউ কান্ট ইমাজিন! বাকিটা গভীর রাতে কফি খেতে খেতে বলব। (ট্রলির জিনিসগুলো গাড়িতে ঢোকাল) তুমি এখন কোথায়?

নীল :

 কিছু কবিতা সেল করার জন্য বের হয়েছি। কোয়াইট বিজি।

বিন্দু :

(গাড়িতে উঠল। গাড়িটা চলতে শুরু করল।) ও, তোমার নিউ বিজনেস তো? ঠিক আছে চালিয়ে যাও। আমি আমার ফ্রেন্ডসদের সঙ্গে তোমার বিজনেসের ব্যাপারে কথা বলেছি। ওরা কয়েকজন বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। মনে হয় তোমার সঙ্গে নেটে যোগাযোগ করবে। ওদের দুয়েকজনের সঙ্গে ডিলিংস সাকসেসফুল হলে বেশ কয়েকটা দেশে তোমার প্রডাক্ট ছড়িয়ে পড়বে।

নীল :

ও থ্যাঙ্কস আ লট বিন্দু! আমি অবশ্যই ওদের সঙ্গে কথা বলব।

বিন্দু :

ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম। ঠিক আছে রাখছি তাহলে।

নীল :

বাই!

আরবাজ :

(লাইন কেটে দিল নীল। দুকাপ কফির মগ নিয়ে এল আরবাজ। নীলকে এক কাপ কফি দিয়ে এবং নিজে এক কাপ নিয়ে মুখোমুখি বসল। কফিতে চুমুক দিয়ে খুবই আগ্রহী দৃষ্টিতে তাকাল নীলের দিকে।) হ্যাঁ এবার বলো—     

দৃশ্য ২০
রাত/ ফুটপাথ
চরিত্র : নীল, শাহমিকা ও ইউরেকা

নীল নিয়ন আলোতে বসে কবিতার কার্ড বানাচ্ছে। শাহমিকার গাড়ি এসে থামল নীলের পাশে। গাড়ির গ্লাস খুলে তাকাল নীলের দিকে।

শাহমিকা :

হাই নীল!

নীল :

(শাহমিকাকে দেখে খুশি হলো!) হাই, কোথায় যাচ্ছেন?

শাহমিকা :

কোথাও না। ঘুরে বেড়াচ্ছি। আজ পুরো শহর ঘুরব। তুমি আজ আমাদের স্ট্রিটে আসছ তো?

নীল :

(ঘড়ি দেখে।) লেট নাইটে একবার যাব। কয়েকজন ক্লায়েন্টের সঙ্গে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট আছে।

শাহমিকা :

তাহলে অবশ্যই আমার ফ্ল্যাটে একবার আসছ কিন্তু। আর ও হ্যাঁ, শুনলাম ইংরেজ কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারকে নিয়ে তুমি একটা প্যাকেজ শুরু করেছ?

নীল :

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। ওটা মনের এলোমেলো অবস্থা কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করে। বেশ সাড়া পাচ্ছি।

শাহমিকা :

(খুশি হয়ে) তাই নাকি? তাহলে ওটা কিন্তু আমার চাই-ই চাই। মানসিকভাবে আমিও কিছুটা যন্ত্রণার মধ্যে আছি।

নীল :

ওকে, আপনার জন্য নিয়ে যাব। এই প্যাকেজটা নিউলি এসেছে। আর ও হ্যাঁ, শেক্সপিয়ার নিলে মার্লো ফ্রি, ম্যাডাম।

শাহমিকা :

(অবাক হয়ে হাসে) মার্লো! সে আবার কে?

নীল :

(রহস্য করে হেসে) তিনিও আর একজন স্কলার। ডক্টর ফস্টাস আপনার ভালোলেগে যেতে পারে।

শাহমিকা :

(নীলের কাজকে স্বাগত জানিয়ে মিষ্টি করে হেসে) তুমি দেখছি প্রতি সপ্তাহেই একটা করে প্যাকেজ ছাড়ছ! ইউ আর সো হার্ড ওয়ার্কিং ম্যান। গুড জব! আরো অনেক অনেক প্যাকেজ তৈরি করতে থাক। বাই।

শাহমিকা চলে গেল। নীল আবার মনোযোগ দিল নিজের কাজে। এবার আর একটা গাড়ি এসে থামল নীলের পাশে। গাড়ি থেকে নেমে এল এক যুবক। যুবকের নাম ইউরেকা। নীল তাকে চিনতে পারল না। যুবক ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। হ্যান্ডশেক করল। পরিচিত হলো দুজনে। অনুমতি নিয়ে যুবকটি ওর পাশে বসে পড়ল। দেখতে লাগল কবিতার কার্ডগুলো। ভীষণ বিস্মিত হলো নীলের কাজ দেখে।

দৃশ্য ২১
দিন/পার্ক
চরিত্র : নীল ও বিন্দু

জনমানবহীন বিশাল প্রান্তর। সবুজ মাঠে শুয়ে আছে নীল। তার চারপাশে ছড়ানো কাগজ। সে গভীরভাবে কিছু একটা ভাবছে। একপর্যায়ে সে আনন্দিত হয়ে আকাশের দিকে তাকাল। স্ক্রিনে নীলাকাশ আর শাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে দেখানো হলো। ঠিক তখন পার্কের অপর দিক থেকে একটি গাড়ি এসে থামল নীলকে উদ্দেশ্য করে। বিন্দুর গাড়ি। গাড়ির দিকে তাকাল নীল। খুশি হলো। বিন্দু গাড়ি থেকে নেমে ববিকে নিয়ে নীলের দিকে গেল। আদর করে দিলো ববিকে। তারপর দুজনে হাঁটতে হাঁটতে পার্কের মধ্যে চলে গেল।

দৃশ্য ২২
দিন/পার্ক
চরিত্র : বিন্দু ও নীল

সুন্দর একটা জায়গায় বসেছে নীল এবং বিন্দু। ববিকে আদর করতে করতে বিন্দু কথা বলছে। দেখে মনে হচ্ছে নীলের চেয়ে ববিই যেন তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিন্দু :

কবে যেন টেলিভিশনে তোমাকে দেখলাম। মনে হয় সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলে। এম আই রাইট?

নীল :

(হালকা রকম হেসে হ্যাঁ বোধক মাথা দুলিয়ে) ইয়েস ইউ আর রাইট।

বিন্দু :

তার মানে তুমি তোমার বিজনেস জমিয়ে ফেলেছ?

নীল :

তা বলতে পারো।

বিন্দু :

তাহলে বলো পার্টি দিচ্ছ কবে?

নীল :

পার্টি দেওয়ার সময় এখনো হয় নি। তাছাড়া ব্যবসাটা ঠিক ওরকমও নয়। তুমি বুঝতে পারছ না। আমি মানুষের জন্য কিছু করতে চাচ্ছি। নিজের বড় কোনো প্রফিটের জন্য নয়।

বিন্দু :

বলো কী? তাহলে এটা কেমন ব্যবসা হলো? এটা তো কোনো ব্যবসা নয়। আই উয়ান্ট টু ম্যারি ইউ। অ্যান্ড ইউ হ্যাভ টু মেক মানি। ফয়সাল আবারও আমাকে প্রপোজ করেছে। তাহলে আমি বরং নতুন করে ভাবি। ওকে বাই। সি ইউ টু নাইট। ইউ আর লুকিং হ্যান্ডসাম। সো কুল। আই জাস্ট কান্ট উয়েট। আই হ্যাভ টু গো। (বিন্দু ববিকে নিয়ে চলে গেল। নীল চুপ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর চলে গেল।)

দৃশ্য ২৩
দিন/ রাস্তা
চরিত্র : বিন্দু

বিন্দু ড্রাইভ করতে করতে ফোনে কথা বলছে।

বিন্দু :

হ্যাঁ ফয়সাল শোনো! আমি তোমাকে বিয়ে করছি কিনা সেটা আগামীকাল জানাব।

ফোন কাউন্টার ২৩/ক
দিন/ ফয়সালের অফিস
চরিত্র : ফয়সাল

ফয়সাল :

আজকে নয় কেন? এরকম সিম্পল একটা কথার জন্য একটা দিন উয়েট করার কোনো অর্থ হয়, বিন্দু?

বিন্দু :

আমার কিছু কনফিউশন আছে। তাছাড়া আজ রাতেই আমি নীলকে প্লিজেন্ট গুডবাই বলতে চাই।

ফয়সাল :

ও আচ্ছা। এজ ইউ উইশ। আজ কী একবার দেখা হবে আমাদের?

বিন্দু :

ঠিক বলতে পারছি না। তুমি কী অফিসে?

ফয়সাল :

হ্যাঁ। কিছু সুইডিস ডেলিগেটস-এর জন্য উয়েট করছি। চলে আসতে পারো।

বিন্দু :

ওকে, আই উইল কল ইউ ডিয়ার।

ফোন রেখে ববিকে একটু আদর করল। হঠাৎ বুঝতে পারল সে ভুল রাস্তায় চলে এসেছে। রাস্তাটি ভালোভাবে দেখে গাড়ি ব্যাক টার্ন নিয়ে চলে গেল।

দৃশ্য ২৪
দিন/ নীলের ল্যাব
চরিত্র : নীল

নীল পায়চারি করছে। বিন্দুর ওভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারে নি নীল। তাই মন খারাপ। ওর মোবাইল বেজে উঠল। সে ফোন রিসিভ করল।

নীল :

হ্যাঁ মিস্টার আরবাজ, বলুন!

ফোন কাউন্টার দৃশ্য ২৪/ক
রাত/ আরবাজের রুম
চরিত্র : আরবাজ

আরবাজ :

ইয়াংম্যান! ইউ আর গ্রেইট। তোমার কবিতা পড়ে আমি অদ্ভুত একধরনের প্রশান্তি পেয়েছি। আমি তোমাকে ঠিক বোঝাতে পারছি না, আমি কেমন অনুভব করছি। ইট’স ওয়ান্ডারফুল! আই নিড ইউআই নিড মোর মোর পোয়েমস। তুমি এখন হিরো, বুঝেছ? ইউ হ্যাভ ডান আ ফ্যান্টাস্টিক জব। তুমি একটা বিশাল কাজ করে ফেলেছ। আই উয়ান্ট টু প্রেস ইউ অন মাই হার্ট—মাই সান! (আরবাজের চোখে যেন পানি চলে এল।)

নীল :

ইউ আর মোস্ট উয়েলকাম। (লক্ষণীয় আরবাজের ফোন পাওয়ার পর থেকে নীল অনেকটা ঝলমলে হয়ে উঠেছে। বিন্দু তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় একটু আগেও ওর মন খারাপ ছিল।)

আরবাজ :

তুমি আমাকে প্রশান্তি দিয়েছ। আমিও তোমাকে কিছু দিতে চাই। তুমি নেবে তো?

নীল :

(খুশি হয়ে) শিওর। কেন নেব না? বলুন আমাকে কী দিতে চান?

আরবাজ :

আমার অনেক অনেক প্রপার্টিজ। সেই প্রপার্টিজ থেকে আমি তোমাকে থার্টি পারসেন্ট উইল করে দিতে চাই।

নীল :

(শুস্ক হাসি হেসে) থ্যাংক ইউ মিস্টার, আরবাজ!

আরবাজ :

তুমি চলে এসো। আমি ল’ইয়ারকে ডাকছি।

নীল :

মিস্টার আরবাজ, আই এম সো স্যরি! আমি তো আপনাকে আগেই বলেছিলাম আমার কবিতাগুলো হবে রিজেনেবল।

আরবাজ :

রিজন? কোন রিজনের কথা বলছ তুমি? তোমার প্রডাক্ট তো পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রডাক্টের চেয়ে মূল্যবান। তাই মূল্য তো তোমার নেওয়াই উচিত।

নীল :

হ্যাঁ, আমি তো অররেডি আপনার কাছ থেকে একটা এমাউন্ট নিয়েছি। আমার বিজনেস চালানোর জন্য সেটাই যথেষ্ট। আর আপনি যে মূল্যের কথা অনুভব করছেন, সেটা মানি কিংবা প্রপার্টিজ দ্বারা পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা কেবলমাত্র সেটা অনুভব করতে পারি—অ্যান্ড দ্যাট ইজ মাই বিজনেস এথিকস। আশা করি আপনি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন মিস্টার আরবাজ। আমি এই কবিতাগুলোর সাহায্যে আপনার অনেক কাছে চলে এসেছি, তাই না? এটাই আমার সাকসেস। এর’চে বেশি কিছু আমার চাওয়ার নেই। ভালো থাকবেন। বাই।

আরবাজ :

(ফোন রাখতে রাখতে স্বগতোক্তি) কী দারুণ কথা বলেছে ছেলেটা! ফিলোসফার। আ নিউ ফিলোসফি! বাহ!
নীল (টেবিলে বসে। কাজে মনোযোগ দিল। একটু পরে আবার ফোন বেজে উঠল।)

ফোন কাউন্টার দৃশ্য ২৪/খ
রাত/ ব্রিজের ওপর
চরিত্র : ইউরেকা

ইউরেকা গাড়ি থামিয়ে একটা ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে।

ইউরেকা :

নীল, তোমার কি দুমিনিট সময় হবে? আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছি।

নীল :

তোমার জন্য যথেষ্ট সময় আছে। বলো।

ইউরেকা :

লং ড্রাইভে যাচ্ছিলাম। কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। হঠাৎ মনে হলো লং ড্রাইভে গিয়ে কি হবে? তাই একটা ব্রিজের ওপর থেমে পড়লাম। আর তখনই তোমার কথা মনে হলো।

নীল :

আমাকে মনে করার জন্য ধন্যবাদ। প্রাউড ফিল করছি।

ইউরেকা :

নীল, আমি তোমার সাথে কাজ করতে চাই। তুমি নেবে আমাকে?

নীল :

কেন নয়? মোস্ট উয়েলকাম, ম্যান!

ইউরেকা :

থ্যাংক ইউ! বিশ্বাস করো, আমি আর উদ্দেশ্যহীন লং ড্রাইভে যেতে চাই না। মনের মতো কিছু করতে চাই। আর তোমার কাজটা আমার ভালো লেগেছে। তুমি আমাকে তোমার ক্লার্ক বানিয়ে নাও। আমি তোমার ক্লাইন্ডদের সমস্ত রেকর্ড রাখব। আমার উপর আস্থা রাখতে পারো। আমি খুব মনোযোগী।

নীল :

দ্যাটস গুড।

ইউরেকা :

আমি কি তোমার সঙ্গে আজ একবার দেখা করতে পারি?

নীল :

অবশ্যই! ল্যাবে চলে এসো।

দৃশ্য ২৫
রাত/ নীলের বেড রুম
চরিত্র : নীল

ব্যস্ত নীল হ্যান্ড মাইকে ব্যাটারি ভরতে ভরতে ইমেইল চেক করছিল। হঠাৎ একটা ইমেইল দেখে চমকে উঠল। ইমেইলে লেখা: I don’t like flowers. নীল সঙ্গে সঙ্গে ফোন করল—

ফোন কাউন্টার ২৫/ক
রাত/ ভি’র রুম
চরিত্র : ভি

ভি-ও ব্যস্ত ছিল কম্পিউটারে। তার ফোন বেজে উঠল। সে ফোন রিসিভ করল—

ভি :

হ্যাঁ, বলো নীল!

নীল :

তুমি মনে রাখবে যে তুমি ঈশ্বর নও। মানুষ খুবই তুচ্ছ। আর মৃত্যু নিয়ে খেলার অধিকার মানুষের নেই।

ভি :

আর কিছু বলবে? (ইন্টারকাটে ল্যাবে দেখা যাবে বড় টেবিলে বিছানো কবিতার কার্ডগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ভরছে ইউরেকা।)

নীল :

ফুলও মানুষের মতো তুচ্ছ, সাধারণ, ক্ষণস্থায়ী। কাজেই তোমার সঙ্গে ফুলের সম্পর্ক খুব কাছাকাছি। ফুলকে ভালোবাসতে শেখা উচিত। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, হোয়াট আই মিন? তুমি সময় নাও। আর একটু ভেবে দেখ।

ভি :

ওকে আমি ভাবব।

নীল :

তোমাকে যে ফুলগুলো আমি পাঠিয়েছি, সেগুলোর যত্ন করো। ওগুলো ক্ষণস্থায়ী হলেও লক্ষ করে দ্যাখো—ওগুলো ভীষণ সুন্দর।

ভি :

(টেবিলে অগোছালো রাখা ফুলের দিকে তাকাল।)

নীল :

আপাতত রাখছি। পরে কথা বলব। বাই।

ভি :

সি ইউ।

দৃশ্য ২৬
রাত/ গলির মোড়
চরিত্র : নীল ও ইউরেকা

নীলের গাড়িটি এসে থামল গলির মোড়ে। নীলের সঙ্গে আজ আছে ইউরেকা। ওর হাতে কবিতার কার্ডগুলো। নীল মাইকিং শুরু করল—

নীল :

আছে কালিদাস জীবনানন্দ রবীন্দ্রনাথ নজরুল—
অক্ষরবৃত্ত সনেটে নির্ভেজাল ঘুম.. ..
আছে সফোক্লেস হোমার মিল্টন শেক্সপিয়ার!
আছে বায়রন শেলি কিটস ইয়েটস আর ইলিয়াড
আছে ওয়ার্সওয়ার্থ কোলরিজ আরো আছে মার্লো
চাই কি—কবিতা ছড়া রূপকথা?
সুউঁচ্চ অ্যাপার্টমেন্টের জানালা দিয়ে বেশ কয়েকজন কাস্টমার ওদেরকে ডাকতে লাগল।

এন্ড টাইটেল

মহিউদ্দীন আহ্‌মেদ

জন্ম ১ জুলাই ১৯৭৮, ধামরাই, ঢাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশায় স্ক্রিপ্ট-রাইটার।

সম্পাদিত ছোটকাগজ : জলসিঁড়ি।

ই-মেইল : mohiuddin_neil@yahoo.com