হোম চিত্রকলা আহমদ সায়েমের ছায়াসম্পর্ক

আহমদ সায়েমের ছায়াসম্পর্ক

আহমদ সায়েমের ছায়াসম্পর্ক
963
0

আহমদ সায়েম মূলত কবি। কবিতা লিখেন। সিলেট থেকে সূনৃত নামে অনিন্দ্যসুন্দর একটি চিন্তাশীল ছোটকাগজ বের করেন। ওয়েবম্যাগ রাশপ্রিন্টের সঞ্চালক। এসবের বাইরে তার নেশা ক্যামেরা হাতে মুহূর্তকে বন্দি করা। একজন কবি যিনি নিজেই চিত্রকল্পের অন্বেষী, প্রকৃতি থেকে যিনি পেতে চান ছন্দসারস, তার দৃশ্য শিকারের বন্দুকরূপী ক্যামেরায় কিভাবে ধরা পড়ে প্রকৃতি ও নৃ, কেমন করে খেলা করে আলোছায়ার ললিতকলা, তাই তুলে ধরতে আমাদের এই ক্ষুদ্র অনলাইন প্রদর্শনী। শুরুতেই জেনে নেব আলোকচিত্রী আহমদ সায়েমের কিছু কথা। তারপর টানা কিছু আলোকচিত্র। পাঠক-দর্শক উপভোগ করুন ছায়াসম্পর্ক


শাদাকালো ছবি দিয়ে আঁকা হয় সম্পর্কের আলো।


ব্যক্তিগত ডায়েরিতে কী রাখা হয়? কেউ দিনলিপি আঁকে, কেউ স্মৃতিচারণ বা নিজের সাথে বোঝাপড়া করে শব্দে-শব্দে। কেউ-বা কাগজের পাতায় এঁকে রাখে একটা নদী; আমি যখন দেখি, তার পাতায় একটা নদীই দেখি; কিন্তু যে এই ‘নদী’ আঁকল সে কিন্তু শুধু নদী দেখে না; সে তার গন্ধ দেখতে পায়, তার রঙ তার গল্প, তার সম্পর্ক তার বিশ্বাস তার শ্রদ্ধা, তার বন্ধুত্ব সবই দেখতে পায় তার নদীতে। আমার ফটোগ্রাফিগুলোও তা-ই। একেকটা ছবিতে একেকটা গল্প রাখা। একেকটা ছবি খুলে বসলে নানান রকমের স্বাদ নেয়া যায়, দেখা যায় স্মৃতি ও মধুরতাগুলো।

প্রতিটা মানুষই আলাদা, যদিও আপাতদৃষ্টিতে এক-ও-অভিন্ন দেখায় সবাইকে। ‘ভোরের আলো’—এই বিষয়ে যদি দশজনকে লিখতে দেয়া হয়, কী দাঁড়াবে? আলাদা আলাদা দশটা গল্পই উঠে আসবে। আমরা আসলে প্রকৃতিরই আলাদা আলাদা ক্যানভাস, আর সেই ক্যানভাসে বসে আমরা আঁকছি আমাদের নদী বা চরিত্র। আমি আমার পুরাতন ডায়েরি দেখে একগুচ্ছ কবিতা তুলতে পারি। ঠিক তেমনিভাবে পারি ছবি দেখে গল্প ও কবিতা টানতে।

একবার ফটোশিল্পী ‘মুনেম ওয়াসিফ’ বলেছিলেন একটা ছবি যদি পাঁচ/ দশ মিনিট আটকে না রাখতে পারে, সে-ছবি আর ভালো হয় কী করে! হ্যাঁ, তখন তা মেনে নিয়েছিলাম, কিন্তু আজ মানছি না, আবার তত্ত্বটা যে একেবারে ভুল তাও বলব না। আমার মায়ের ছবি দেখে আমার জন্য দশমিনিট আটকে থাকা তো কোনো ব্যাপারই না, কিন্তু আপনি কেন একমিনিট খরচ করবেন? অবশ্যই না। তাই সৌন্দর্যের কোনো সংজ্ঞা নেই। আমি যেখানে সময় দেই সময়ের কোনো মূল্য না দিয়েই। আপনি হয়তো আমার মতোই গুরুত্ব দেবেন অথবা অন্য কোনো গল্পে স্থির করবেন চোখ।


ক্যামেরা এমনই একটা ভাষা যা দিয়ে তৈরি করা যায় গল্পের সিরিজ


একজনকে জানার জন্য তার নানান মাধ্যম রয়েছে ফোকাস করার। ক্যামেরা এমনই একটা ভাষা যা দিয়ে তৈরি করা যায় গল্পের সিরিজ; একটা ক্লিকে আটকে রাখা যায় অনেক কথা, দূরত্ব, গন্ধ, আর স্বচ্ছতাও। সময়ের দূরত্ব বেড়ে গেলে আবেগীয় মুহূর্তগুলো খুলে-খুলে পড়া যায়, জানা হয়—কোনো বৃষ্টি ছিল না তখনও, যেটুকুন আলো দেখা যাচ্ছিল মেঘ ছিল তার চারপাশে, গন্ধ ছিল ঠান্ডা; ফুলের গন্ধে বিভোর ছিল প্রজাপতিটা, একটা ছবি তুলব বলে যেই এগিয়ে গেলাম—একটা লাল সাইকেল দ্রুত টিংটাং শব্দে পাশ ঘেঁষে চলে গেল তার জীবনসংগ্রামে, প্রজাপতির সাথে আমার সম্পর্কের দূরত্ব বেড়ে গেল …। ঘাসে কুয়াশার ছবি তুলে স্মৃতির রঙে এঁকে রাখি সাইকেলের টিংটাং শব্দগুলো। মানুষজন ছবি দেখে বলে—সবুজ ঘাসের মাঝে শিশিরগুলো ফুটে উঠেছে, আর আমি দেখি টিংটাং শব্দে উড়ে গেছে প্রজাপতিটা …।

নিচে কিছু ছবি যুক্ত করছি যা দেখে বোঝা যাবে ভালোবাসায় কতটা অমনোযোগী ছিলাম প্রতিদিন।


 

আহমদ সায়েম

জন্ম ১৯৭৮, বারুতখানা, সিলেট। কবি।

প্রকাশিত বই :
অনক্ষর ইশারার ঘোর [কবিতা; সুনৃত, ২০১৫]

সম্পাদনা করছেন : রাশপ্রিন্ট (অনলাইন) ও সূনৃত (প্রিন্ট)।

ই-মেইল : ahmedsayem@gmail.com

Latest posts by আহমদ সায়েম (see all)