হোম চলচ্চিত্র নাইফ ইন দ্য ওয়াটার : রোমান পোলানস্কি

নাইফ ইন দ্য ওয়াটার : রোমান পোলানস্কি

নাইফ ইন দ্য ওয়াটার : রোমান পোলানস্কি
531
0

ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ সিনেমা নিয়ে লিখতে বসলে আমার প্রথমেই মনে পড়ে পোলিশ সিনেমার কথা। হয়তো আমার প্রিয় পরিচালক ক্রিস্তোফ কিওলস্কির দেশ বলে, কিংবা এও বলা যেতে পারে, ‘নাইফ ইন দ্য ওয়াটার’ সিনেমাটি এখানেই নির্মিত, সে কারণে। পোলিশ সিনেমার যে ইতিহাস ও যত নামকরা পরিচালক রয়েছেন এই পরিমণ্ডলে, সেখানে বিশেষভাবে এই একটি সিনেমার প্রতি এমন পক্ষপাত, এক ধরনের ফ্যাসিনেশন-ই বলা যেতে পারে। কিন্তু রোমান পোলানস্কির সার্বিক পাঠ শেষে বিষয়টি নিতান্তই আর ফ্যাসিনেশন থাকে না, বরং হয়ে ওঠে দারুণ অভিজ্ঞতার ব্যাপার, যেখানে আমরা দেখতে পাই মুভি মেকিং এর মাস্টারি, ভিন্ন ভাবে গল্প বলার প্রয়াস ও সিনেমাটোগ্রাফিক উৎকর্ষতা। কেবলমাত্র তিনটি চরিত্র নিয়ে বানানো এমন একটি অনবদ্য সিনেমা দিয়েই পোলানস্কি একদিকে যেমন হয়ে ওঠেন অবশ্যপাঠ, অন্যদিকে হয়ে ওঠেন মহীরুহ, যাকে দ্বিধাহীনভাবেই স্বীকার করা হয় একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী পরিচালক হিশেবে।


চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটিই কোনো পরিচালকের বেস্ট ডেব্যু ফিল্ম।


সুনির্দিষ্ট প্লটবিহীন খুবই শাদামাটা ধরনের একটি সাইকোলজিক্যাল ড্রামা এটি। কিন্তু, আপাতভাবে সিনেমাটিকে যত সাধারণই মনে হোক না কেন, পোলিশ সিনেমার ইতিহাস এই সিনেমাটিকে স্মরণ রাখতে বাধ্য নানাবিধ কারণে এবং যতবার সেখানে বেস্ট সিনেমার তালিকা তৈরি করা হবে, ততবারই এর নাম উঠে আসবে সবার আগে। অনেক পরিচালকই তার প্রথম সিনেমা দিয়ে বাজিমাত করেছেন, কিংবা বিশ্ব-সিনেমার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন সফলভাবে, কিন্তু পোলানস্কি তার প্রথম সিনেমা দ্বারা কেবল বাজিমাতই করেন নি, বরং আচমকা এমন এক সিনেমা অ্যাপ্রোচ ও ল্যাংগুয়েজের সাথে আমাদের পরিচয় ঘটিয়েছেন, যা এখনও আমাদের জন্য সিনেম্যাটিক বিউটির নতুন অভিজ্ঞতা হয়েই রয়েছে। অনেকেই মত পোষণ করে থাকেন, চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটিই কোনো পরিচালকের বেস্ট ডেব্যু ফিল্ম আর আমার নিজস্ব মতামত, ‘নাইফ ইন দ্য ওয়াটার’ যারা দেখে নি, তারা পোলানস্কির পরিচালকীয় মেজাজ-মর্জি ও কাজ সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞই রয়ে গেছেন। উনার অধিকাংশ সিনেমা দেখার পর মনে হয়েছে, এটিই তার সবচেয়ে মৌলিক ও সেরা কাজ, যার সমান্তরাল আর একটিমাত্র সিনেমাকেই আমি কল্পনা করতে পারি, সেটি ‘হোয়াট (১৯৭৩)’, যেখানে আমি ‘নাইফ ইন দ্য ওয়াটার’ এর সেই মেজাজি পোলানস্কিকে খুঁজে পাই।

১৯৬২ সালে শাদা-কালোয় নির্মিত এই সিনেমাটিকে বলা হয়ে থাকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, কিন্তু আমার মনে হয়েছে, এটি একটি উৎকৃষ্টমানের সাইকোলজিক্যাল ড্রামা, যেখানে হঠাৎ করেই আমাদের পরিচয় ঘটে অসম বয়সী সম্পূর্ণ ভিন্নচরিত্রের তিন মানুষের সাথে এবং দর্শক হিশেবে কোনোকিছু গুছিয়ে ভাবা বা বুঝে ওঠার আগেই দ্রুত জড়িয়ে পড়ি তাদের একদিনের নৌকা ভ্রমণ, মানসিক দ্বন্দ্বপূর্ণ ঘাত-প্রতিঘাতে, আর 10পরিচালক সেখানে আমাদের মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসিয়ে রাখেন, বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ গাছাগাছালি ঘেরা জনমানবহীন লেক, খোলা আকাশ ও তার মধ্যে দিয়ে তরতরিয়ে এগিয়ে চলা শাদা পালতোলা নৌকা, এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলীর আবেশে। সময় এই সিনেমায় নিজস্ব গতিতে এগুতে থাকে, যার সাথে আমরা এগিয়ে গিয়ে কিছু মেলাতে ব্যর্থ হলেও এর চিত্রনাট্য বা সংলাপ থেকে কিছুই বর্জন করতে সক্ষম হই না। অদ্ভুতভাবে এই তিনটি পৃথক চরিত্রের সাথে দীর্ঘ ৯৪ মিনিট অতিবাহিত করার পর উপলব্ধি করি, আমরা কিছুই শিখলাম না আসলে, অথচ পুরো ব্যাপারটাই আমাদের কাছে হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ। এক প্রকার সাইকোলজিক্যাল চাপ আমরা অনুভব করি ও আলাদা আলাদাভাবে যখন চরিত্র তিনটির সাথে একাত্ম হতে চেষ্টা করি, তখনই পোলানস্কির এই সিনেমা আমাদের মস্তিষ্কে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে যায়, যেখানে পরস্পর অর্থহীন বা আপাত গুরুত্বহীনভাবে সংঘটিত ঘটনা পরম্পরায় আমরা সবকিছু অবলোকন করলেও, বুঝে উঠতে পারি না কিছুই, অথচ যখন সিনেমা শেষ যায়, তখন নিস্তব্ধ এক প্রান্তরে নিজেদের খুঁজে পাই সুগভীর বোধে ভারাক্রান্ত অস্তিত্বের মতো, যেখানে সবকিছুই স্পষ্ট, প্রতীয়মান, তারপরও অচেনা, অজানা এক ঘোর ও রহস্যময়তার আবরণে আচ্ছাদিত।


উপভোগ্য করে তোলে চিত্রনাট্যের বৈচিত্র্য, পরিমিত সংলাপ, বাঙ্ময় অভিব্যক্তি ও বিস্তৃত লোকেশনের উপস্থিতি।


সিনেমাটি শুরু হয় আন্দ্রেজ (লিওন নিইমচেক) ও1 ক্রিস্তিনা (জোলানতা উমেকা) দম্পতির সাপ্তাহিক অবসরে নৌকা ভ্রমণে বেরুনো থেকে এবং শুরুতেই চলমান গাড়ির মধ্যে এই দম্পতির বিপরীতধর্মী অভিব্যক্তি আমাদের সামনে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যে, আমরা বুঝতে ব্যর্থ হই তাদের গন্তব্য বা ভ্রমণের উদ্দেশ্য। কেবলমাত্র লেকের ধারে পৌঁছালেই আমরা অনুমান করতে সক্ষম হই তাদের পরিকল্পনা, অথচ ততক্ষণে আমরা নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু করি, যা আমাদের মধ্যে এক প্রকার বিভ্রান্তি তৈরি করে। হঠাৎ করেই কাহিনি নাটকীয়ভাবে মোড় নেয়। লেকে যাবার সময় আন্দ্রেজ রাস্তার মাঝে এক হিচ-হ্যাকার (যারা পথের মধ্যে মোটর বা লরি চালককে অনুরোধ জানিয়ে বিনা পয়সায় ভ্রমণ করে) যুবককে (জিগমন্ত মালানোভিচ) প্রায় গাড়ি চাপা দিতে দিতে বেঁচে যায়। এরপর তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয়া, একসঙ্গে লেকে পৌঁছানো ও নিজেদের ভ্রমণ সঙ্গী করার পর থেকেই সিনেমাটি যেন গতি পায়। ক্রমশই আমরা পরিচিত হতে শুরু করি তিনজন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতা, আচরণ, দ্বন্দ্ব ও সংকটের সাথে, যা উপভোগ্য করে তোলে চিত্রনাট্যের বৈচিত্র্য, পরিমিত সংলাপ, বাঙ্ময় অভিব্যক্তি ও বিস্তৃত লোকেশনের উপস্থিতি।

5ছোট্ট একটি নৌকার উপর টেকনিক্যাল ক্রুসহ তিনজন মানুষের উপস্থিতি কোনো প্রকার অসুবিধাই তৈরি করে না আমাদের জন্য, বরং অনেকগুলো ক্লোজ শট আমাদের সাহায্য করে এই সাইকোলজিক্যাল ড্রামা অথবা থ্রিলারের চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হতে, কাছ থেকে তাদের অবলোকন করতে। সিনেমা দেখতে দেখতে আমরা প্রায়শই নানাবিধ প্রশ্নের সন্মুখীন হতে থাকি, অথচ কোনো একটার উত্তর বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই নতুন আরেকটি দ্বন্দ্বময় সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ি, যেখানে দুজন অসমবয়সী পুরুষকে দেখতে পাই একটি নারীকে কেন্দ্র করে তাদের অস্তিত্বহীনতার সংকটে ভুগতে থাকার দ্বন্দ্বে ও একে অপরের উপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার প্রচেষ্টায়। মাতৃভাষায় পোলানস্কি এই একটিমাত্রই সিনেমা বানিয়েছেন আর পরবর্তীতে ফ্রান্সে যাবার পর থেকে যে কাজগুলো করেছেন, তা আমার কাছে গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতো হয়েই ধরা দিয়েছে, যেখানে তার প্রয়াস নিতান্তই সিনেমা বানানো কিংবা গল্প বলা বা নানাবিধ চরিত্রের সাথে পরিচয় ঘটানো ছিল না, 9বোধ করি তার চেয়ে অধিক কিছুই তিনি ভেবেছেন এবং সচেতনভাবেই চেষ্টা করেছেন কাহিনি বর্ণনা, নির্মাণ কলা-কৌশল ও চরিত্রের বিকাশ নিয়ে পরীক্ষা করতে। তার এই পরীক্ষায় তিনি দর্শকদেরও সম্পৃক্ত করেছেন সমানভাবে, নতুবা ‘নাইফ ইন দ্য ওয়াটার’ সিনেমাটি এভাবে আমাদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হতো না। এখানে চরিত্রগুলোর সাথে সাথে নিজেরাও অভিজ্ঞ হয়ে উঠি আর একটা দূরত্ব অতিক্রম করে এসে লক্ষ করি, আসলে কিছুই শেখা হয় নি আমাদের, অথচ নতুন অভিজ্ঞতাকে ভুলে যাবার মতো অবস্থানও আর নেই আমাদের। পরিচালকের এই অভূতপূর্ব মেজাজ-মর্জির কারণেই আমি সেই পোলানস্কিকেই খুঁজে ফিরি আজও, পরবর্তীতে যার দেখা পেয়েছিলাম ‘হোয়াট’-এ।


যুবক দুজনেই চাইছিল তাদের সঙ্গী রমণীটির মনোযোগ আকর্ষণ করতে।


এই সিনেমাটির আরেকটি লক্ষণীয় দিক, চরিত্রগুলোর পরিমিত কথা বলা। এমনকি তারা অভিনয় পর্যন্ত করছে না বললেই চলে, শুধুমাত্র বাঙ্ময় অভিব্যক্তি দিয়েই ফুটিয়ে তুলছে সবকিছু। 6ক্রিস্তিনা, আন্দ্রেজ অথবা মালানোভিচ, কাউকেই দেখা যায় না অতিরিক্ত কথায় ব্যস্ত হতে, যদিও আন্দ্রেজ অন্য দুজনের চেয়ে কথা বলছিল বেশি, কিন্তু সে কথাগুলো বলছিল যবুকের সাথে, যাকে সে কিছুক্ষণ পরপরই নৌকা চালানো বিষয়ে জ্ঞান দিচ্ছিল এবং নিজেকে দক্ষ নাবিক প্রমাণ করে তার উপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চাইছিল। পক্ষান্তরে যবুকটি তার কথায় বিন্দুমাত্র কান না দিয়ে নিজের গোঁয়ার্তুমি প্রকাশ করে চলেছিল উদ্ভট সব কার্যকলাপে। সেখানে ক্রিস্টিনা ছবির শুরু থেকে শেষ, সবসময়-ই ছিল নিরাসক্ত ও চুপচাপ। আসলে আন্দ্রেজ ও যুবক দুজনেই চাইছিল তাদের সঙ্গী রমণীটির মনোযোগ আকর্ষণ করতে। ক্রমেই তাদের এই মানসিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের7 রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে আন্দ্রেজ যুবকের কাছে থাকা তার শিকারের প্রিয় ছুরিটা জলে ফেলে দিলে তা মারামারি পর্যন্ত গড়ায়। যুবকটি আন্দ্রেজের ধাক্কায় জলে পড়ে যায়। সে সাঁতার জানত না বিধায় স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জলে নেমে তাকে মরিয়া হয়ে খুঁজতে থাকে, অথচ পায় না। ক্রিস্তিনা নৌকায় ফিরে স্বামীকে খুনি বলে চিৎকার করে তার উপর নিজের রাগ ও ঘৃণা প্রকাশ করে। আন্দ্রেজ ঘটনার অকস্মিকতায় ভীত হয়ে নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়। যুবকটি নৌকা থেকে দূরে একটি বয়ার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখে এবং আন্দ্রেজ পালিয়ে যাবার পর নৌকায় ফিরে আসে। ক্রিস্তিনার প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ তার পূর্বেই ছিল। নৌকায় ফিরে আসার পর ক্রিস্তিনার সাথে তার সাময়িক প্রণয় ও শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে নৌকা নিয়ে ক্রিস্তিনা একা একা তীরে ফিরে আসে এবং বাড়ি ফেরার সময় গাড়িতে স্বামীকে জানায় যে যুবকটি মরে নি, সে পালিয়ে আসার পর ফিরে এসেছিল, যা আন্দ্রেজ বিশ্বাস করতে চায় না। এমনকি যুবকের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা জানালেও পূর্বের মতোই অবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে গাড়িটি সে একটি দ্বিমুখি রাস্তার মোড়ে থামায়, যেখান থেকে গাড়িটি আর নড়ে না। এভাবেই সিনেমাটি শেষ হয়।


টেকনিক্যাল বিচারেও এই সিনেমা এক বিশেষ মাইল ফলক।


2

এতগুলো বছর পেরিয়ে যাবার পরও এই সিনেমাটি আমি ভুলতে পারি না, কারণ পোলানস্কির ব্যতিক্রমী সৃষ্টিশীল মেজাজ, যেখানে তিনি হুট করে কয়েকটা খাপছাড়া চরিত্র একত্র করে আমাদের ফেলে দেন বিভ্রান্তি ও সংকটে, আবার একই সাথে পরিচয় ঘটান নতুনতর অভিজ্ঞতার সাথে। শুধু যে কাহিনির ব্যতিক্রমী উপস্থাপন বা চরিত্রগুলো মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ, তা নয়, বরং টেকনিক্যাল বিচারেও এই সিনেমা এক বিশেষ মাইল ফলক।

বিশেষ করে ক্যামেরার কাজ এই সিনেমার সেই অনবদ্য দিক, যার কথা বারবার করেই ফিরে ফিরে আসবে। কখনও এক সাথে তিন জনের উপস্থিতি, কখনও-বা দুজন, আবার কখনও শুধুমাত্র একজনকেই বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল ও ক্লোজ শট থেকে এই সিনেমায় বারবার দেখানো হয়েছে, 3তাও অত ছোট একটি নৌকায়, চলমান অবস্থায়, যা একই সাথে চ্যালেঞ্জ ও সাহসিকতারও বটে, আর সেই সাহসিকতাকে চরম উৎকর্ষতার দিকে ত্বরান্বিত করেছেন ক্যামেরাম্যান জার্জি লিপম্যান, যিনি নৌকার পাঠাতনে যুবকের শুয়ে থাকার দৃশ্যটি, অথবা মাস্তুলে বসা যুবকের অবস্থান থেকে আন্দ্রেজের শুয়ে থাকা কিংবা তিন জনেরই নৌকার তিন অবস্থানে বসে থাকা একটি শটে চিত্রায়ন করার দৃশ্যটি আজ অর্ধশতাব্দী পরও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে ঘোর, বিস্ময় ও শ্রদ্ধা জাগায়। ১৯৬২ সালে এমন অনবদ্য অ্যারিয়েল শট, অন্তত এই সিনেমার পূর্বে এভাবে কল্পনা করা ছিল কষ্টকর, যার জন্য জার্জি লিপম্যানের প্রশংসা নিতান্তই কম। শটটি নেবার জন্য তিনি নিজেকে মাস্তুলের সাথে বেঁধে রেখেছিলেন, কিন্তু অতি উৎসুক পোলানস্কি উপর থেকে শটটি কেমন হচ্ছে তা বারবার জানতে চাইবার দরুন, লিপম্যান যখন রাগত হয়ে তাকে জানান, ‘ভালো, বেশ ভলো হচ্ছে’, তখন ক্যামারিটি লেকের পানিতে পড়ে যায়। পরে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। হয়তো ‘নাইফ ইন দ্য ওয়াটার’-এর অনবদ্য এক স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও তা জলের অতলে কোথাও পড়ে আছে।

4

পরিশেষে বলব, যারা রোমান পোলানস্কির প্রকৃত পরিচালকীয় মেজাজের সাথে পরিচিত হতে চান, তারা অবশ্যই ‘নাইফ ইন দ্য ওয়াটার’ সিনেমাটি দেখে ফেলুন, নতুবা তার সৃষ্টিশীলতার বিশাল একটা দিক আপনার অজানাই রয়ে যাবে।

অরণ্য

অরণ্য

জন্ম ১৯৮১, রাজশাহী। এইচ. আর.-এ এমবিএ। পেশা : ম্যানেজার, এইচ. আর.।

প্রকাশিত বই :
যে বেলুনগুলো রংহীন [কবিতা]
কাক সিরিজ [কবিতা]
এখন আমি নিরাপদ [ছোট গল্প]

ই-মেইল : mail.aronno@gmail.com
অরণ্য