হোম চলচ্চিত্র কথায় কথায় সৌমিত্র

কথায় কথায় সৌমিত্র

কথায় কথায় সৌমিত্র
1.34K
0

‘বিশে বিদ্যা, তিরিশে ধন, চল্লিশে ঠনঠন’—গাঁও-গেরামে প্রচলিত এমন কথা বয়সের সঙ্গে জীবনের একটা পাওয়া না-পাওয়ার হিশাব মেলাতে বলা হয়। অর্থাৎ বয়স ২০ বছর হলে বিদ্যা শিক্ষা অর্জন করো, ৩০-এ ধন সম্পদ করো কারণ ৪০ বছরে ঠনঠন মানে শূন্যতা বোধ হবে। আর এই কথার সূত্র ধরেই মনে হয় চলে আসে চল্লিশে চালশে। কিন্তু এমন একজন মানুষের কথা বলা হচ্ছে যার বয়স দুই ৪০ হয়েছে কিন্তু তিনি ঠনঠন হন নি। এখনও দিব্যি আছেন। যদিও বয়সের ছাপ তার শরীরে ভর করেছে তবে খিদে আছে তার আগের মতন যেমন ছিল ৩০ কিংবা ৪০-এ। এক বাঙালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি ৮০ বছর বেঁচে ছিলেন আর এখানে আরেক বাঙালির কথা বলা হচ্ছে যিনি আশি বছর পার করলেন জগৎ সংসারে। তিনি জগৎ সংসারে আশি বছর পার করার কালে ২৩ বছর বয়সে আরেক সংসার করেন, যার নাম ‘অপুর সংসার’ (১৯৫৮)। ‘অপুর সংসার’ দিয়ে চলচ্চিত্রে সংসার পাতা এই বাঙালির নাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সেই যে সংসার পাতলেন তারপর থেকে প্রায় ষাটের কাছাকাছি বৎসর তিনি এখনও সেই সংসারে আছেন। তারপরও ক্ষুধা তার মেটে না। তিনি আশায় বসত করেন। ‘আমি আশা করে আছি। কারণ আমাকেও আশা করেই থাকতে হয় মানে যখন সত্যজিৎ রায় বেঁচে ছিলেন তখনও আমি ভাবতাম কবে আবার মানিক দা ওর একটা ছবিতে আমায় নেবেন। এখনও কোনও একটা ভালো গল্প শুনলে মনে হয়, ইস যদি আমায় নেয়। আসলে অভিনয়ের খিদেটা তো এখনও মরে নি…।’১ ৮০ বছর বয়সে তিনি এইসব কথা বলেন। ততদিনে তিনি প্রায় ৩০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যিনি নিজ মুখে স্বীকার করছেন মানিক দা-র কথা—তখন এই মানিক দা-কে খোঁজ করতে হয় তার সম্পর্কে জানার জন্য।

‘অপরাজিত’ ছবি হচ্ছে জেনে সৌমিত্র আমার কাছে এসে অপুর ভূমিকায় অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। আমি তখন বলি—অপুর পক্ষে তোমার বয়স বেশি। তার দুবছর পরে যখন অপুর সংসার করা স্থির করি তখন আমি নিজেই সৌমিত্রকে ডেকে নিই।২


শিশির ভাদুড়ীর অভিনয় দেখে তিনি অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।


সেই যে ডাক পেল তারপর সত্যজিৎ রায় ওরফে মানিক বাবুর ২৭টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৪টিতেই প্রধান ভূমিকায় দেখা যায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। এভাবে বললে বিষয়টা সঠিক আন্দাজ করা যাবে না। বলা দরকার যে, তখন ছিল উত্তম কুমারের যুগ। আর সেই যুগে সত্যজিৎ রায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ১৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এসব অনেক পরের কথা। তার আগে এই বাঙালি অভিনেতার পরিচয় জানা যাক।

১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেওয়া সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি ছিল শিলাইদহের কাছে। পিতা কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করলেও অভিনয়, আবৃত্তির প্রতি নেশা ছিল। আর সেই পারিবারিক বলয় থেকে সৌমিত্র শিল্প সংস্কৃতির প্রতি টান পান। পড়ালেখা করেছেন বাংলা সাহিত্য নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর অভিনয়ে আসা নিয়ে সৌমিত্রের নিজের ভাষ্য :

অল্প বয়সে আমার একবার টাইফয়েড হয়েছিল। খুব রুগ্‌ণ ছিলাম। বাড়িতে লোকেরা বলত— ছেলেটা কালো। নাক চোখ মুখও তেমন একটা নেই। এরকম একটা ছেলে কোত্থেকে এলো আমাদের বাড়িতে? এসব শুনে শুনে নিজের চেহারা নিয়ে সবসময় সংকুচিত থাকতাম। খেলাধুলা খুব করতাম। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতন ছিলাম না। তবে ভালো খেলতাম। খুব একটা ভালো ছাত্র ছিলাম না। তবে ভালো অভিনয় করতাম। আমার অভিনয় দেখে অনেকে ভালো বলত। দেখতাম অভিনয় করে খুব সহজেই নিজেকে আড়াল করা যায়। মূলত নিজেকে আড়াল করার জন্যই অভিনয়ে এসেছি।৩

অনেক কিছু থেকে নিজেকে আড়াল করতে অভিনয়ে এলেও তাকে আড়ালে থাকতে হয় নি। প্রথম চলচ্চিত্র ‘অপুর সংসার’ দিয়েই দিয়ে খোলাসা করেন নিজেকে। তারও আগের কথা অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করা নিয়ে—

আমি ছিলাম ঘোষক। অপেক্ষা করে বসে থাকতে হতো, কখন একটি গান শেষ হবে। তারপর নতুন ঘোষণা দেবো আমি। বেশ বিরক্তির ছিল এ কাজ। তবে কাজটা করতে গিয়ে আমার ধৈর্য শক্তিটা বাড়ে। তার চেয়ে বড় কথা, ভালো করে মাইক্রোফোন ব্যবহার করাটা শিখি রেডিও থেকে। এভাবে প্রস্তুতিটা চলছিল।৪

যদিও শিশির ভাদুড়ীর অভিনয় দেখে তিনি অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তো ওইসব দিনে চলছিল ‘জলসাঘর’ আর ‘পরশপাথর’ নির্মাণ। তাকে ধৈর্য ধরে এসবের শুটিং দেখতে বলেন সত্যজিৎ রায়। তারপর একদিন সিনেমার সেটে হঠাৎ করে ছবি বিশ্বাসের সামনে সত্যজিৎ রায় বলেই ফেলেন ‘অপুর সংসার’-এর অপু সৌমিত্রের নাম। তারপর শুরু হলো তার চলচ্চিত্রের সংসার। তার প্রথম সিনেমার প্রথম দৃশ্যের ‘প্রথম দিনের শুটিং ছিল একটা ক্লোজআপ-এ ধরা একটা ঢোক গেলার মুহূর্ত।’৫ এত দৃশ্য থাকতে কেন এই ঢোক গেলার দৃশ্য তা পরিচালক সত্যজিৎ রায়-ই ভালো জানেন। তবে সৌমিত্র উৎরে যান সেই দৃশ্যে ঢোক গিলে। তারপর দর্শকেরা ঢোক গিলেন এই বাঙালি অভিনেতার অভিনয় দেখে। নায়ক নয়, নিজেকে অভিনেতা হিশেবেই তিনি পরিচয় দিতেন। কারণ তার অভিনয়ে তারকা ইমেজ ভেঙে ফেলার ঘটনা দেখা যায়। ‘ওরকম সুদর্শন চেহারা! ‘অপুর সংসার’-এর পর তিনি বাংলা ছবির প্রিয় রোমান্টিক নায়কের ইমেজে আবদ্ধ হয়ে পড়তে পারতেন। কিন্তু তারকা থাকার হাজারো প্রলোভনের হাতছানিকে উপেক্ষা করে এই যে হরেকরকম চরিত্রে সৌমিত্র অভিনয় করে এসেছেন তা অভিনয় শিল্পের প্রতি তার গভীর দায়বদ্ধতার প্রমাণ।’৬ এই গভীর দায়বদ্ধতা এখনও বহন করেন তিনি।

একদা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি কলকতা চলচ্চিত্র উৎসব বর্জন করবেন। তিনি উপলব্ধি করলেন এবং জানালেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে গড়া এই উৎসবের ভাবগাম্ভীর্য এবং চিরাচরিত ঐতিহ্য নিম্নমানের একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। তাই এই অভিমানী শিল্পী সঙ্গত কারণেই অংশ নেন নি।৭

৭০-এর দশকে বর্জন করেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। কতই-বা বয়স ছিল তখন! আর এই বয়সেও তিনি যোগ দেন আন্দোলনে। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার দায়িত্ব যখন তথাকথিত কাউকে দেওয়া হয় তার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন। এটাও কিন্তু তার দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই।

তিনি বলেছেন :

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য এমন কাউকে বেছে নেওয়া দরকার, যার কাজের ক্ষেত্রটা বেশ বিস্তৃত। সেই যোগ্যতা কি গাজেন্দ্র চৌহানের আছে?৮

তো এই ব্যক্তি বৈশিষ্ট্যের জায়গা থেকেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অনন্য। ‘সৌমিত্র বরাবরই সিরিয়াস প্রকৃতির, একটু লাজুক ধরনের।’৯ তার এই সিরিয়াসনেসের প্রসঙ্গ উঠলেই সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করতে হয়। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কটা দেখা দরকার। ‘সত্যজিতের প্রয়াণ সৌমিত্র’র কাছে দ্বিতীয়বার পিতৃবিয়োগ।’১০ এই বেদনাবোধ তো একদিনে তৈরি হয় নি। বিশেষ করে যখন সত্যজিৎ আর সৌমিত্র একটা জুটি হিশেবে বাংলা চলচ্চিত্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। তো সেক্ষেত্রে পরিচালক আর অভিনেতার বোঝাপড়াটা জরুরি।

মানিকের সঙ্গে সৌমিত্রর এক অদ্ভুত সখ্য ছিল। মানিকের কথা সৌমিত্র ছাড়া এত ভালোভাবে আর কেউ উপলব্ধি করতে পারত না। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সেরাটা মানিক তাই খুব সহজেই সৌমিত্রের কাছ থেকে পেত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুজনে আলোচনা করত সিনেমা নিয়ে। সৌমিত্র মাঝে মাঝে এটা ওটা অনেক কিছু মানিককে বলত। মানিক মনোযোগ দিয়ে ওর কথাগুলো শুনত। দুজনের মধ্যে ঝগড়া মনোমালিন্য তো দূরের কথা, সামান্য কথা কাটাকাটিও কোনওদিন আমার নজরে পড়ে নি।১১


‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায় তার প্রিয় শিল্পী সৌমিত্রকে না নিয়ে নিয়েছিলেন উৎপল দত্তকে।


সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায় বলেছিলেন এইসব কথা। এই সম্পর্কের পরও কিন্তু সত্যজিৎ রায় তার চিন্তার জায়গায় অটল ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বলা যায় ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রের কথা। ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায় তার প্রিয় শিল্পী সৌমিত্রকে না নিয়ে নিয়েছিলেন উৎপল দত্তকে।

তো এমনি এক আগন্তুক, যিনি আসল না নকল, ভালো না মন্দ, সৎ না প্রতারক সেই জিজ্ঞাসায় আলোড়িত করেন সবাইকে, চরিত্র রূপায়ণে দক্ষ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সেই ভূমিকা পালনে যোগ্য বিবেচনা করেন নি সত্যজিৎ রায়, কেননা তার মনে হয়েছিল সৌমিত্র সর্বদা এমন এক ভালোত্ব-বোধ সঞ্চার করেন যে এ নিয়ে চলচ্চিত্র দর্শকদের মধ্যে শঙ্কাসঞ্চার দুরূহ, এমনকি অভিনয়-দক্ষ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও সেই দুরূহতা মোচন করতে পারবেন না।১২

ব্যাপারটা খেয়াল করা দরকার। বিশেষ করে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে। সত্যজিৎ রায় আর সৌমিত্র’র ব্যক্তি সম্পর্ক এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে নি। চলচ্চিত্রের অভিনেতার ইমেজ আর অভিনয়ের প্রাসঙ্গিকতাই এখানে মূল ভূমিকা নিয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই সৌমিত্রকে দর্শক স্টার বা নায়ক হিশেবে নয়, পেয়েছে অভিনেতা হিশেবে। ‘নায়ক বলতে প্রচলিত অর্থে যারা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন সেই তৈরি-করা পরিকাঠামোর বাইরে গিয়ে নায়ককে একজন মানুষ হিশেবে ভাবতে চেষ্টা করেন সৌমিত্র।’১৩ তার এই ভাবনার জায়গাটা এসেছে সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে।

সত্যজিৎ সাহিত্য ভিত্তিক চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাসাহিত্যকে পর্দায় তুলে ধরলেন আর এক্ষেত্রে তিনি বাছাই করলেন বাংলার গ্রাম আর মধ্যবিত্ত শহুরে সমাজকে। সেক্ষেত্রে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় হয়ে ওঠে আর তা হলো ঔপনিবেশিকতাবিরোধী প্রভাব। সত্যজিৎ রায় ঔপনিবেশিক শাসনে মানব মনে সৃষ্ট প্রভাব আর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরার জন্যই ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপুর সংসার’, ‘অশনি সংকেত’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘চারুলতা’ বাছাই করেন। আর এইখানে সত্যজিৎ রায় উত্তর ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপটে হাজির হলেন। ‘পথের পাঁচালী’ বাদে বাকিগুলোতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনয় করেন। সত্যজিৎ রায় যে রাজনৈতিক ভাবনা থেকে এই আখ্যানগুলো বাছাই করেছিলেন তার পুরো বক্তব্যকে হাজির করার গুরু দায়িত্ব পড়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ওপর। তো তার এই অভিনয় কিন্তু পৃথিবী জুড়ে সমাদৃত হয়।

রে-রও ঔপনিবেশিকতাবাদ-বিরোধী জেহাদ অসম্পূর্ণ থেকে যেত যদি-না তিনি সৌমিত্র বাবুর মতো এক ধারালো অস্ত্রকে পেতেন, যে-অস্ত্র দিয়ে তিনি ফালাফালা করেন ঔপনিবেশিকতার অমানিশাকে।…সৌমিত্র বাবু এমনই একজন শিক্ষিত অভিনেতা যিনি উপনিবেশের কালান্তক চেহারাটাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন। রে-র মতো তিনিও রেনেসাঁসের ভোরটার সার্থক দিশারি ছিলেন। দু’জনার পারস্পরিক বোঝাপড়াটা এমনই এক উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখান থেকেই একমাত্র সম্ভব ‘অপুর সংসার’ আর ‘অশনি সংকেত’-এর নিপুণ চিত্রায়ণ।১৪

‘দি ব্যাটল অফ আলজিয়ার্স’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা জিলো পন্টিকর্ভো (Gillo Pontecorvo) বলেছিলেন এইসব কথা। জিলো পন্টিকর্ভোর এইসব কথার সূত্র ধরেই ব্যক্তি সৌমিত্র’র রাজনীতি ও সংস্কৃতির খোঁজ করা দরকার। তরুণ বয়সে কলকাতায় এসে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও উচ্চ একটা সাংস্কৃতিক আবহে থাকাটাও সৌমিত্র’র গড়ে উঠার পেছনে এক বড় ভূমিকা রেখেছে।’১৫ বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী সৌমিত্র চলচ্চিত্রাভিনেতা হিশেবে পরিচিত হলেও তিনি সমান তালে পেশাদার নাট্যমঞ্চেও অভিনয় করেন। ১৯৬৩ সালে দেব নারায়ণ গুপের পরিচালনায় ‘তাপসী’ নাটকের মধ্য দিয়ে যে পেশাদার মঞ্চনাটকে অভিনয় শুরু করেছিলেন তার ধারাবহিকতায় এই আশি বছর বয়সেও তিনি ঢাকার মঞ্চে এসে অভিনয় করে যান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথের কর্ম আর জীবন নিয়ে একটি গল্প মঞ্চস্থ করতে তিনি ঢাকায় আসেন।

সৌমিত্র তো চলচ্চিত্রেই প্রতিষ্ঠিত একজন অভিনেতা তাহলে তার এই বয়সেও মঞ্চ নাটকে অভিনয় করার দরকারটা কী? কিংবা তিনি যখন চলচ্চিত্রে ব্যস্ত অভিনেতা তখনও কিভাবে মঞ্চে অভিনয় করেন? তার কি চলচ্চিত্রে দর পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল না? এইসব প্রশ্নই সৌমিত্রকে নায়ক নয় অভিনেতা হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অভিনয়ের খিদেটা যেমন তার এখনও আছে তেমনি আছে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাও। তার মুখেই উচ্চারিত হয় ‘সর্বোপরি একজন অভিনেতাকে চার অক্ষরের একটি শব্দকে আঁকড়ে থাকতে হয়, তা হলো ভালোবাসা। কারণ ভালোবাসা ছাড়া কিছু হয় না।’১৬ আর এই ভালোবাসার টানে তিনি এই বয়সেও নাটকের দল নিয়ে মঞ্চে আসেন। যদিও তিনি বলেন, প্রয়োজেনের তাগিদে নাটক লিখেছেন। তো এই প্রয়োজনটা কি অর্থের? আসলে ব্যাপারটা তা নয়। সেরকম হলে ওইসময়ে তিনি আরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারতেন। এই প্রয়োজনটাই আসলে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা যা জন্ম দিয়েছে দায়িত্ববোধের। যে দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শুটিংয়ের সময় তরুণ শিল্পীদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে নিজ আগ্রহে কথা বলেন। আর এই ভালোবাসা তাকে একসময় পেশাদারিত্বের দিকে নিয়ে গেছে। যদিও তার কাজের প্রথম দিকেই তিনি ‘অপুর সংসার’-এর চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর একটি অভিনব কাজ করেন নিজের মতন করে—নিজের সঙ্গে অপুর বোঝাপড়ার প্রাণের তাগাদায়। এই ছবিতে যে-সব দৃশ্যে অপু নেই, সেই মাঝখানের দৃশ্যগুলোতে অপু কী করছিল, কী তার সে-সময়কার মনোভঙ্গি অথবা মুভমেন্টস এই নিয়ে সৌমিত্র একটি চিঠি-‘সাবটেক্সট’ তৈরি করেন। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা যেতে পারে অপু চরিত্রের একটি ‘সাইকোবায়োগ্রাফি’, সামগ্রিক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।১৭

সৌমিত্র কিন্তু ব্যাপারটা না করলেও পারতেন কিন্তু তিনি তা করেছেন। এটা কি কেবল অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা নাকি পেশাদারিত্ব নাকি অন্যকিছু? তো সৌমিত্রর জবানিতেই জানা যাক :

একটা যেটা চেষ্টা করেছি ক্রমাগত অভিনয়কে আরও কত জীবনসদৃশ করে তুলব। এটাই প্রাথমিকভাবে ভাবতাম এবং খুব সত্য কথা বলতে কী সেটা দেখে অভিনয় মনে হবে না—মনে হবে Slice of life এটা—সেইটুকু অনেক আগেই আমি আমার অভিনয়ের মধ্যে আনতে পেরেছি।১৮

একজন অভিনেতার অভিনয় নিয়ে এই ভাবনা কিংবা নিজেকে মেলে ধরার যে চেষ্টা তা সৌমিত্র করেছেন বৈকি, বেশ ভালোভাবেই করেছেন। যা তাকে জীবনের শেষ বেলায় ‘বেলাশেষে’র প্রধান চরিত্রে হাজির করায়। কিংবা ‘অহল্যা’তে তিনি অভিনয় করেন তার চেয়ে বয়সে অর্ধেকেরও কম বয়সী রাধিকা আপ্তের বিপরীতে এবং তাকে শুনতে হয়… আর অংশুমানের ছবিতে একজন অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বুঝিয়েছেন অভিনয়টা আসলে কী।

এখন অভিনয় যখন করি, তখন প্রত্যেক শটের সময় ভাবি যে একটা fraction of second-ও যেন আমি dead না থাকি। আমি জীবন্ত থাকব—জীবন্ত থাকা মানে এই নয় যে, যেটা চুপ করে তাকিয়ে থাকার দৃশ্য—সেখানে চোখটাকে খুব বেশি নাড়াচাড়া করছি, ভুরুটা বেশি কোঁচলালাম—তা নয়, কিন্তু আমার চোখটা সর্বদা যেন বাক্সময় থাকে, চোখটায় যেন ভাষাটা থাকে, চোখটা যেন dead না হয়।১৯


কবিতা আবৃত্তির বিষয়টাকেও তিনি চলচ্চিত্রের কাজে ব্যবহার করেছেন।


এই যে বাক্সময়তার খবর পাওয়া যাচ্ছে তখন আরও জানা যায় চলচ্চিত্রের কাহিনির সময়কে ধরার জন্য হাতের লেখা পরিবর্তনের খবর। ‘সত্যজিৎ-এর নির্দেশে তাকে রবীন্দ্রপূর্ব যুগের বাংলা হাতের লেখা শেখার জন্য খাতার পর খাতা মকশো করতে হয়েছিল। সত্যজিৎ বহু পুঁথি আর হাতের লেখার নমুনা যোগান দিয়েছিলেন তাকে।’২০ সময় পেলেই তিনি বাড়িতে হাঁটাচলা করেন মাথায় ওজন নিয়ে আর ‘হুইল চেয়ার’ চলচ্চিত্রটার জন্য ছয় মাসের বেশি সময় ধরে হুইল চেয়ারে বসে অভ্যাস করেন। আর এইসব করেন তিনি একটা স্তরে পৌঁছার জন্য আর তা হলো :

যেভাবে মানুষ জীবনে ব্যবহার করে, আচরণ করে, সেইখানে অভিনয়টাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঐ শান্তরূপ আমি খুব বিশ্বাস করি—ঠান্ডা চুপচাপ অভিনয়।২১

এই ব্যাপারটা একদিনেও হয় নি, এমনি এমনিও হয় নি। চলচ্চিত্র তো নাচ, গান, অভিনয় আরও কত কলার সংমিশ্রণের একটা ব্যাপার। আর সৌমিত্রর বেলায় কবিতা আবৃত্তির একটা ব্যাপার তো ছিলই। কবিতা আবৃত্তির বিষয়টাকেও তিনি চলচ্চিত্রের কাজে ব্যবহার করেছেন। তাই তিনি বলতে পারেন ত্যাগ আর পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না। সত্যিই যে যায় না তার প্রমাণ তো তিনি নিজেই।

ছাত্রজীবন থেকেই রবীন্দ্রপ্রভাবে বেড়ে উঠা সৌমিত্র নিজেও কবিতা চর্চা করেছেন। কবিতার বই করেছেন। আর এটা যে নিছক নয় তার প্রমাণ পাওয়া যায় কবিতা বিষয়ক কাগজ এক্ষণ-এর সম্পাদনায় তার নাম যুক্ত থাকায়। এই যে একটা মানুষ চলচ্চিত্রে, মঞ্চে অভিনয় করছেন, নাটক লিখছেন, কাব্যচর্চা করছেন, আবৃত্তি করছেন, ছবি আঁকছেন তারপরও তিনি সময় ধরে শুটিং-এর সেটে আসেন। এই বয়সেও তিনি তা পালন করেন। এই ব্যাপারটা তার ভেতরে এক ধরনের অতৃপ্তিবোধ থেকেই আসে। নিজেকে আরও মেলে ধরা কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা অতৃপ্তি।

সাধারণত আমার নিজের কোনও কাজেই সন্তুষ্টি আসে না আজও। প্রায় সারাক্ষণ অসন্তুষ্টি থাকে আমার ভিতরে।২২

৩০০ চলচ্চিত্র করার পরও যে তার এই অসন্তুষ্টি এটাই একজন প্রকৃত অভিনেতার স্বীকারোক্তি। এজন্যই তিনি টিভি সিরিয়াল নিয়ে বলতে পারেন তার মনের কথা।

ডেইলি সোপ বা সিরিয়াল, তার না আছে মাথা না আছে মুণ্ডু। আমার মনে হয়, আ ব্যাড ফিল্ম ইজ বেটার দ্যান এ সিরিয়াল। একজন অভিনেতা হিশেবে একটি ছবি সম্পর্কে বলা যায়—ছবির আগা আছে, মধ্য আছে, অন্ত আছে। সেটা কী আমি জানি। কিন্তু সিরিয়ালের আমি কিছুই বুঝতে পারি না।২৩

এই যে এত সহজে সিরিয়াল আর সিনেমার পার্থক্যটা উনি ধরিয়ে দিলেন এটাই হচ্ছে অভিজ্ঞতা। যে অভিজ্ঞতা তিনি বয়ে নিয়ে বেড়ান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। অভিনয়ের মতো একটা পরনির্ভর কর্মকে কেন্দ্র করে যখন একজন জীবন্ত মানুষকে গড়তে হয় তার ব্যক্তিত্ব তখন কিন্তু মানুষটা অসহায়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে অভিনেতার জীবনদৃষ্টিকে যখন দর্শক খুঁজতে চায় তখন সেই ব্যক্তি মানুষটা আসলে নিজের স্বকীয়তার সংকটে পড়েন। আর তা থেকে বাঁচতে তাকে হয়তোবা তোতা পাখির মতো বুলি আওড়াতে হয় আর না হলে যাপিত জীবন হয়ে পড়ে রোবোটিক। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। উত্তম কুমারও যেটা পারেন নি। উত্তমের না পারাটা তাকে হিরো ইজমের বাইরে বের হতে দেয় নি। ফলে উত্তম কুমার বলতেই একটা রোমান্টিক ভাবনায় তাড়িত হয় দর্শকেরা। কিন্তু সৌমিত্রর বেলায় তা ঘটে না। এটাতে অবশ্য ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন সৌমিত্র। ‘অপুর সংসার’-এ যে বাঙালি যুবকের ক্যারেক্টারটা উনি পান যেখানে উপন্যাস লেখার সাধ অপূর্ণ থেকে যায় সেটাতে মধ্যবিত্ত বাঙালির এক গোপন স্বপ্নকে তিনি স্পর্শ করেন। তিনি নিজেও এই শ্রেণির প্রতিনিধি আর এটা নিয়েও তার মধ্যে আক্ষেপ আছে। যা তিনি সরাসরি বলতে পারেন কিংবা সমস্যাটা চিহ্নিত করতে পারেন এভাবে—

আমাদের মধ্যবিত্ত অভিনেতার অভিনয়কর্মটাও শেষ পর্যন্ত তাই বেশিরভাগ দেশবাসীর শিল্পরূপ হতে পারে না। কলকতার মঞ্চে পর্দায় গরিবকে নিয়ে কৃষক মজদুরকে নিয়ে যেসব নাটক বা চলচ্চিত্র মাঝে মাঝেই দেখা যায় সেখানে কৃষক মজুর গরিবের যথার্থ তাই এত অনুপস্থিতি দেখি। চাষি সম্পর্কে বা চাষির পীড়ক মহাজন জোরদার সম্পর্কে মধ্যবিত্ত নাট্যকার বা পরিচালকের মতোই অভিনেতার অজ্ঞতাও সেখানে স্পষ্ট। সেখানেও ব্যবসায়িক প্রমোদমূলক ছবি বা নাটকের বস্তাপচা ভালোমন্দ টাইপের মতো কতকগুলো প্রথাসিদ্ধ টাইপ পাকা হয়ে যেন গেড়ে বসেছে। গ্রামের চরিত্র হলেই যেন সেখানে একটা আধা যশুরে আধা দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার লব্জে অভিনেতারা কথা বলতে থাকে। বলা বাহুল্য কোনো জেলার আঞ্চলিক ভাষার স্বাদই তাতে পাওয়া যায় না। কারণ আদতে সেটা কোথাও কারুরই ভাষা নয়—সিনথেটিক্ ঝুটো একটা ভাষা মাত্র।২৪

সৌমিত্রর এইসব কথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রকুশলীদেরও ভাবা দরকার। একজন অভিনেতা অভিনয় করতে করতে তার বাস্তব কিংবা যাপিত জীবনের ভেতরেও মেকি অভিনয় করার ভেক ধরেন আর সেক্ষেত্রে দেশ-কাল-রাজনীতির বিষয়গুলো সাধারণত তার চোখে উপেক্ষিতই থেকে যায়। কিংবা বলা যায় মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রতিভূ হওয়ার ফলে শহরবাসীর সংস্কৃতিই তার কাছে প্রামাণ্য হয়ে ওঠে। ফলে যে সংকটটা সে পর্দায় হাজির করতে চায় তা স্পর্শ করার কিংবা জীবনঘনিষ্ঠরূপে তুলে ধরা সম্ভব হয় না। কারণ অভিনয়টা তো একটা পণ্য হিশেবেই উঠে আসছে। ফলে অভিনেতার স্বকীয়তা থাকা সত্ত্বেও তাকে পণ্যের বাণিজ্য বিস্তার করতে হয় অন্যের মতানুসারে। তবে—

অভিনেতা যদি সত্যিকারের শিল্পী হয় তাহলে সে কেমন করে মানুষকে, মানুষের জীবনকে দেখেছে, জেনেছে, সুখ-দুঃখ শোষণ পীড়ন ভাঙাগড়ার মধ্যে মানুষের যে স্বরূপ তার অভিজ্ঞতায় ধরা পড়েছে, তাকেই সে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। এইখানেই হয়তো সে সৃষ্টিশীল লেখক পরিচালকের অংশীদার হওয়ার যোগ্য।২৫

এইসব কথা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। যার অভিনয়ে রূপান্তর ঘটেছে, আছে সেনসিটিভিটি। ফলে কোনো তকমায় আবদ্ধ না থেকে সৌমিত্র নামটাই একটা তকমা হয়েছে দর্শক মনে।


তথ্যসূত্র :


১. ‘অভিনয়ের খিদেটা এখনও মরে নি’; আজকাল (অনলাইন); ১২ নভেম্বর ২০১৫; কলকাতা।

২. রায়, সত্যজিৎ; ‘সৌমিত্র সম্পর্কে’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ. ১৩; মাওলা ব্রাদার্স; জানুয়ারি ২০০২; ঢাকা।

৩. ‘আমার চেহারা নিয়ে অনেক সংশয় ছিল!’; আনন্দ আলো (অনলাইন); ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫; ঢাকা।

৪. ‘দুই বাংলার মধ্যে কমিউনিকেশনটা জরুরি’, নিরাপদ নিউজ (অনলাইন); ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ঢাকা।

৫. পিন্টু, আনোয়ার হোসেন; ‘খোলা চিঠি’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ. ৩৭; মাওলা ব্রাদার্স; জানুয়ারি ২০০২; ঢাকা।

৬. মোকাম্মেল, তানভীর; ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়: একজন অভিনেতার আালেখ্য’; পৃ. ২৭; প্রাগুক্ত।

৭. ‘আমার চোখে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়’; সুপ্রভাত সিডনি (অনলাইন); ২৩ এপ্রিল ২০১৪; অস্ট্রেলিয়া।

৮.‘আন্দোলনে যোগ দিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়’; চ্যানেল আই (অনলাইন); ৩ আগস্ট ২০১৫; ঢাকা।

৯. রায়, বিজয়া; ‘পৃথিবীর অন্যতম সেরা অভিনেতা’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ. ৭০; প্রাগুক্ত।

১০. পিন্টু, আনোয়ার হোসেন; ‘খোলা চিঠি’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ. ৩৯; প্রাগুক্ত।

১১. মুখোপাধ্যায়, সুব্রত; ‘অভিনয়ের জন্য হাতের লেখা পাল্টানোর ঘটনা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অভিনব’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ.৭১; প্রাগুক্ত।

১২. হক, মফিদুল; ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় : বাংলাদেশের চোখে’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ. ২৬; প্রাগুক্ত।

১৩. প্রাগুক্ত।

১৪. পন্টিকর্ভো, জিলো; ‘বিরাট অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ. ৬৪; প্রাগুক্ত।

১৫. মোকাম্মেল, তানভীর; পৃ. ২৯; প্রাগুক্ত।

১৬. ‘ভালোবাসা ছাড়া কিছু হয় না’; আনন্দভূবন (অনলাইন); ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫; ঢাকা।

১৭. মুখোপাধ্যায়, সুব্রত; পৃ. ৭৩; প্রাগুক্ত।

১৮. ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শিল্প-ভাবনা’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ. ৮৫;  প্রাগুক্ত।

১৯. প্রাগুক্ত।

২০. মুখোপাধ্যায়, সুব্রত; পৃ. ৭৪; প্রাগুক্ত।

২১. ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শিল্প-ভাবনা’; পৃ. ৯৫;  প্রাগুক্ত।

২২. ‘আমার কোনো কনফেশনবক্সের প্রয়োজন পড়ে না’; সংবাদ প্রতিদিন (অনলাইন); ১২ নভেম্বর ২০১৫; কলকাতা।

২৩. ‘ধারাবাহিকের চেয়ে বাজে চলচ্চিত্রও ভালো : সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়’; এনটিভি অনলাইন; ০৫ নভেম্বর ২০১৫; ঢাকা।

২৪. চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র; ‘অভিনয় ও রাজনীতি’; সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; পৃ.১১২; প্রাগুক্ত।

২৫. প্রাগুক্ত; পৃ ১১১।

Masud Parvaj

মাসুদ পারভেজ

জন্ম ২১ জানুয়ারি, ১৯৮৫; দিনাজপুর।

শিক্ষা : স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, বাংলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, শাবিপ্রবি, সিলেট।

প্রকাশিত বই—

জীবনানন্দের ট্রাঙ্ক [কবিতা, চৈতন্য, ২০১৬]
বিচ্ছেদের মৌসুম [গল্প, দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৫]
ঘটন অঘটনের গল্প [গল্প, বটতলা, ২০১১]

ই-মেইল : parvajm@gmail.com
Masud Parvaj

Latest posts by মাসুদ পারভেজ (see all)