হোম গদ্য সমুদ্রের ডায়েরি থেকে : পর্ব ২

সমুদ্রের ডায়েরি থেকে : পর্ব ২

সমুদ্রের ডায়েরি থেকে : পর্ব ২
363
1
10959455_797175847039405_4666096367253780409_n
সজল সমুদ্র; জন্ম : ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৮২, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম

 সমস্ত কথার পরে যে নদীর জন্ম তার নাম মনোমালিন্য 

২৫.১১.২০১৩

উৎসর্গপত্রেরও আগে, নিজেকে সেই গ্রন্থপৃষ্ঠা ভাবি; যা ছিঁড়ে গেলেও গ্রন্থের অর্থগত-ভাবগত কোনো তারতম্য ঘটে না, কাহিনিতে হয় না কোনো পরিবর্তন। জীবন বলে যাকে প্রতিমুহূর্ত বহন করি; তার তুলনা কেবল পেন্সিলে আঁকানো বোবা বন, যেখানে তাঁবু পেতে ঘুমিয়ে পড়ার বীরত্বটুকু ছাড়া আর কোনো কৃতিত্ব নাই। কল্পনা নাই। চাইলেই যে কোনো সময় যার সবই মুছে ফেলা যায়…

সমস্ত কথার পরে যে নদীর জন্ম তার নাম মনোমালিন্য। তার তীরে দাঁড়িয়ে দেখেছি—ঐপারে, সমস্ত মনোলোভাদের বাড়ি, যাদের মুখে মুখে তাবৎ জিয়ল মাছের গল্প, আর মসলাহীন রান্নার আস্কারা…

এর বেশি অর্থহীন কোনকিছু ভাবা— জীবন আমাকে শেখায় নি; অন্তত সেরকম কিছু শেখার ইশকুলের দরজায় আছড়ে পড়ি নি কোনদিন…

10956084_893435730701549_1225777871_n

 স্থানে-অস্থানে ঘুরে, ধু ধু চরাচরেও যদি মরি, তবু দুজনই দুজনকে দেখতে দেখতে মরবো 

০৭.১২.২০১৩
রোমন্থনের রাতগুলো মাঝে মাঝে দুপুরে আসে। নবকুমারের সাথে, গাউদিয়া গ্রামের শশী কিংবা সারেং কদমের সাথে আমার চরিত্রের তেমন কোনো মিল ছিল না। তবু, একজন কপালকুণ্ডলা, একজন কুসুম, একজন নবিতন জীবনে এসেছে। আত্মহত্যার আগে, হঠাৎ মহুয়ার চিঠি। ‘বিয়ে-টিয়ে বাদ, চলো বেরিয়ে পড়ি! স্থানে-অস্থানে ঘুরে, ধু ধু চরাচরেও যদি মরি, তবু দুজনই দুজনকে দেখতে দেখতে মরবো! সমাজ বা ধর্মের সব ভালোত্ব তোমাকেই বহন করতে হবে? চলো।’ পড়ে সামান্য মাথা দুলিয়েছিলাম সেদিন। ফিরতি চিঠিতে লিখেছিলাম—আমাদের প্রেম ছিল দু’জন্ম জলে ভাসা গোল্ডফিশের স্মৃতি। তোমারও বিস্মরণ হোক। অতিদ্রুত। উত্তপ্ত রৌদ্রের ভেতর সামান্য হাওয়া এসে গায়ে লেগে যেভাবে মিলিয়ে যায়! বলাবাহুল্য, সে চিঠি পৌঁছে নি।

জীবনকে একটা সাদাপৃষ্ঠার আসনে বসিয়ে তার প্রেমগুলোর দিকে মাঝে মাঝে চেয়ে থাকি। এত রেখা, এত দিকে ছুটে গেছে! সবই কেমন ঝাপসা লাগে। আর, জীবনানন্দের কথা মনে পড়ে। সত্যিই তো, ‘প্রেম ধীরে মুছে যায়’ …

 শীত আছে, আসন্ন বসন্ত ঘিরে মনোবাসী চরিত্ররা আছে 

২০.১২.২০১৩
শীতশেষে, আজ অনর্থ মনে হয়, শিমুলগাছের সব রূপকথা, ভূত আর ভুল-বোঝাবুঝি।

অন্ধকার সিঁড়িতে হাত ফসকে পড়ে যাওয়া হিরার আংটি যেমন, জীবন সেভাবেই গড়িয়ে যেতে চায়। পাতালে, তবে কি ফুলশয্যার রাত ছড়িয়ে আছে কোথাও? অন্তত, হৃত গৌরবের দিনগুলি? না থাক; শীত আছে, আসন্ন বসন্ত ঘিরে মনোবাসী চরিত্ররা আছে। যাদের কারো কারো হাতে আধোলাল কৃষ্ণচূড়া, কারো-বা হারানো প্রেমের দস্তানা।

দেখতে পাই, ধুলোমলিন জানালা ভরে উঠছে ঘোর মনোমালিন্যে…

আগের পর্বের লিঙ্ক :
http://bit.ly/1KKb6Q7
সজল সমুদ্র

সজল সমুদ্র

জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৮২, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা : শিক্ষকতা।

প্রকাশিত বই :
পত্রে রচিত ভোর [কবিতা, ২০০৫, চিহ্ন]
ডালিম যেভাবে ফোটে [কবিতা, ২০১৪, চিত্রকল্প]

ই-মেইল : sajalsomudro39@gmail.com
সজল সমুদ্র