হোম গদ্য উপন্যাস শেষ জাহাজের আদমেরা

শেষ জাহাজের আদমেরা

শেষ জাহাজের আদমেরা
464
0

পর্ব-১১

১০ম পর্বের লিংক


এ এমন এক চাপ, সামনে কোরমা-পোলাউ ফেলে রাখলেও ছুঁয়ে দেখবে না, বুক উদোম করে জগতের সেরা সুন্দরীটি সামনে দাঁড়ালেও ফিরে তাকাবে না।


অক্টোবরের ঊনত্রিশ তারিখ ভোরে জাহাজটি নোঙর তোলে। যাত্রার শুরুতেই পর পর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যাত্রীদের স্তব্ধ করে দেয়। তখন সকাল প্রায় সাড়ে সাতটা। সূর্যে দুনিয়া উজালা করা হীরকদ্যুতি। ছাদে যাত্রীদের ভিড়। টয়লেটের সামনে লাইন পড়ে গেছে। লাইনে অপেক্ষমানরা পায়খানা-পেশাবের চাপে ককাচ্ছে আর টয়লেটের ভেতরে যারা, তাদের যাচ্ছেতাই গালাগাল করছে―বাপরে! পেট না গোলা! ভরা গোলা খালি করতেও তো এত সময় লাগে না। গালিটা যে দিচ্ছে তার মনে হচ্ছে ভেতরে ঢুকে এক মিনিটেই সে কাজটা সেরে ঝটপট আবার বেরিয়ে আসতে পারবে, কিন্তু ভেতরে ঢুকলে তারও আর খবর থাকে না, এক মিনিটের জায়গায় নিশ্চিন্তে পাঁচ মিনিট পার করে দেয়। টয়লেট মোটে দুটি―একটি ইঞ্জিনরুমে স্টাফ কেবিনের পেছনে, অন্যটি আন্নির নিচে স্টোর রুমের কাছে। কেবিনের দোতলায় অবশ্য আরো একটি আছে, কিন্তু দোতলায় তো ওঠা বারণ। সিঁড়ির গোড়ায় লাঠি হাতে দুই লশকর সতর্ক পাহারায়। কেউ উপরে ওঠার চেষ্টা করলে বাধা দিচ্ছে। চাপ সইতে না পেরে কেউ কেউ কাপড় নষ্ট করে ফেলেছে। কী আর করবে তা ছাড়া? এ এমন এক চাপ, সামনে কোরমা-পোলাউ ফেলে রাখলেও ছুঁয়ে দেখবে না, বুক উদোম করে জগতের সেরা সুন্দরীটি সামনে দাঁড়ালেও ফিরে তাকাবে না। চাপ সামাল না দেওয়া পর্যন্ত পৃথিবীর সব কিছুই বিস্বাদ। চাপের তীব্রতা সইতে না পেরে এক কিশোর ঝটপট কাপড় উল্টিয়ে দেওয়ানি হলের উপর পেশাব করতে বসে গেল। ব্যস, তার দেখাদেখি বসে গেল আরো কয়েকজন। মুহূর্তে দু-পাশের দুই হলে শুরু হয়ে গেল পেশাবের প্রতিযোগিতা।

সানগ্লাসওলা তরুণটি, রনি, আন্নিতে উঠে দু-হাত দুদিকে ছড়িয়ে দিল। যেন সে পাখি, ডানা মেলে মুক্ত আকাশে উড়ছে। কণ্ঠে হিন্দি গানের গুনগুনানি―হাওয়া মে উড়তা যায়ে, মেরে লাল দোপাট্টা মলমল…। গুনগুন করতে করতে প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটি বের করে ভোরের শান্ত সমুদ্রের কয়েকটা ছবি তুলল। ছবি তোলার শেষ নেই তার। গত দুদিনে কত ছবি তুলেছে হিশাব নেই। যে দৃশ্য ভালো লেগেছে মোবাইলটি তাক করে ক্যামেরার বাটন টিপেছে। শখের সানগ্লাসটি এখন চোখের বদলে মাথায় তোলা। জিন্সের প্যান্ট, টি শার্ট আর ক্যাট্‌স পরায় দেখতে পাড়ার পুচকে মস্তানের মতো লাগলেও মুখের দিকে তাকালে কিন্তু শান্ত-শিষ্ট-সুবোধ বলেই মনে হয়। চোখ দুটি কোটরে ঢোকা, টানা ভুরু দুটি ঘন, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, মাথার চুলে আর্মিকাট, লম্বাটে মুখের মতো নাটকাও লম্বাটে। বিশ-একুশের বেশি হবে না বয়স। কারো সঙ্গে তেমন মেশে না, সারাক্ষণ মোবাইলটি নিয়ে ব্যস্ত। হয় ছবি তুলছে, নয় তোলা ছবিগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখছে। অন্যদের চেহারায় যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, তার চেহারায় তার লেশমাত্র নেই। যেন সে প্রমোদতরীতে ভ্রমণে বেরিয়েছে, ইচ্ছেমতো ফূর্তি করে ভ্রমণ শেষে আবার বাড়ি ফিরে যাবে।


এত কথা বুঝি না, পানি খেতে চাই পানি দেন, দিতে না পারলে জাহাজ ঘোরান। বিদেশের গুষ্টি মারি, যাব না বিদেশ।


চার্জের অভাবে হঠাৎ মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মনটা বেজায় খারাপ হয়ে গেল তার। জাহাজে তো চার্জের ব্যবস্থা নেই, কবে আবার খুলতে পারবে ঠিক নেই। গন্তব্যে পৌঁছতে দশ দিনও লাগতে পারে, পনের দিনও লাগতে পারে, ভাগ্য খারাপ হলে বেশিও লাগতে পারে। এতদিন মোবাইল বন্ধ থাকবে ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে তার। মোবাইল ছাড়া এক দিনও চলে না তার। ঘুমানোর সময়ও যন্ত্রটা সিথানে থাকা চাই। কানে হেডফোন লাগিয়ে গান না শুনলে তার আবার ঘুম আসে না। কী আর করে এখন, মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে বিষণ্ন মনে আন্নি থেকে নেমে হেজের গলিতে এসে দাঁড়াল। যাত্রীরা খাওয়ার পানির জন্য হৈচৈ করছে। রাতে জনপ্রতি মাত্র এক মগ পানি দিয়েছে, আরেক মগের জন্য চেঁচামেচি করেও লাভ হয় নি। সবাই এখন কমবেশি তৃষ্ণার্ত। তা ছাড়া ঘুম থেকে উঠে মুখটা তো অন্তত ধোয়া লাগে। মুখ থেকে পচা গন্ধ বেরুচ্ছে। হৈচৈ শুনে বাবুর্চি তার রুম থেকে বেরিয়ে বিশাল বপুটা নাচাতে নাচাতে কেবিনের নিচতলার দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। চোখে এখনো ঘুমের রেশ। লম্বা একটা হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে চেঁচিয়ে বলল, চোখ নাই তোমাদের? টয়লেটে পানি চোখে দেখা যায় না?

যেন মৌচাকে ঢিল মারল বাবুর্চি। সঙ্গে সঙ্গে হৈহৈ করে উঠল সবাই―ইয়ার্কি নাকি! মানুষ বলে মনে হচ্ছে না আমাদের? সাগরের নোনাপানি মুখে নেওয়া যায়? এমন জহরজালিম নোনা, মুখে নিলে পেট উল্টে বমি আসে। বাবুর্চি এবার গলা নামায়। ঠান্ডা মাথায় বোঝাতে চেষ্টা করে, জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছতে অন্তত দশদিন লাগবে, হাতমুখ ধুয়ে খাওয়ার পানি খরচ করে ফেললে পরে তো তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে মরতে হবে। কাশু বুড়ো মাথা নাড়িয়ে তার কথার সমর্থন দেয়―ঠিক কইয়্যে বদ্দায়। বেহুদা কামে পানি খরচ করিবুদে কিয়ল্লাই? রনি চোখ পাকিয়ে তার দিকে তাকালে বিব্রত কাশু দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেয়। মিনমিনে গলায় বকে। কী বকে সে ছাড়া আর কারো বোঝার সাধ্য নেই। রনি ছেলেটা তার চোখের ফাল, দেখলেই চোখে জ্বালা ধরে। রনি হাঁক দিয়ে বাবুর্চির উদ্দেশে বলে, এত কথা বুঝি না, পানি খেতে চাই পানি দেন, দিতে না পারলে জাহাজ ঘোরান। বিদেশের গুষ্টি মারি, যাব না বিদেশ।


হারামির পোয়ারা একবার ধরিলি আর ন ছাড়ে। এক্কেরে কচ্ছপের কামড়। আসমান ডাকার আগে ন ছাড়ে।


হট্টরোল শুনে মাস্টারের ঘুম ভাঙে। উদোম গায়ে ঢুলুঢুল চোখে কেবিনের বারান্দায় এসে রেলিং ধরে দাঁড়ায়। হাবভাব দেখে মনে হয় যেন ডাকসাইটে কোনো জমিদার দাঁড়াল। জমিদারই বটে, তার হুকুম ছাড়া জাহাজের ক্ষুদ্র বস্তুটিও নড়ে না, লশকর-সুকানিরা হাঁছি-কাশি দিতেও তিনবার ভাবে। কাঁচা-পাকা দাড়ি জানান দিচ্ছে, পঞ্চাশের কম নয় বয়স। চেহারায় জলজ অভিজ্ঞতার ছাপ। সারাক্ষণ পান চিবোয়। এক খিলি শেষ হওয়ার আগেই আরেক খিলি ঢোকায়। দেখে মনে হয় না মেজাজি, কিন্তু যখন কথা বলে মেজাজের মাত্রা তখন টের পাওয়া যায়। গালি ছাড়া যেন কথাই বলতে পারে না। কথায় কথায় শুধু গালি। গালি দিয়ে কথা শুরু করে, শেষও করে গালি দিয়ে। লশকর-সুকানিরা তাকে হেদুভাই বলে ডাকে। হয়তো তার নাম হেদায়েত, হেদায়েতুল্লা বা হেদায়েত হোসেন। ছাদে আদমদের ভিড় দেখে হেদুভাইর মেজাজ চড়ে যায়, চিৎকার করে গালাগালি শুরু করে―এই ফকিন্নির বেটারা, ছাদে কি তোদের? কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা খেলে তোদের বাপ এসে ছাড়াবে? দাঁতাল শুয়ারের মতো তার চিৎকারে খানিকের জন্য যাত্রীদের হট্টরোল থামে। এই নীরবতার সুযোগ নিল তালেব। মাস্টারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল―নিচে নামব কেন? এখন কি রাত? তার সুরে রনিও সুর মিলায়―নিচে কোনো মানুষ থাকতে পারে? কবরখানা একটা! যাত্রীদের উদ্দেশে বলে, আপনারা কেউ নিচে যাবেন না। দেখি কে কি করতে পারে।

ক্ষিপ্তচোখে রনির দিকে তাকায় মাস্টার। চোখে ঘুমের ঢুলুঢুল ভাবটা উবে যায়। চোখ দুটো যেন মানুষের নয়, হিংস্র হায়েনার। তুঙ্গে চড়ার জন্য তৈরি হয়ে থাকা মেজাজের লাগামটা টেনে ধরে নরম গলায় সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে, রাত-দিন বলে কথা নয়, পায়খানা-পেশাবের দরকার ছাড়া আপাতত উপরে উঠাই যাবে না। এদিকটায় মিয়ানমারের কোস্ট গার্ড টহলে থাকে, একবার তাদের হাতে ধরা খেলে কারোর রক্ষা নেই, সোজা কারাগারে। কাশু বুড়ো যথারীতি তার কাথায় তাল মেলায়―ঠিক ঠিক। হারামির পোয়ারা একবার ধরিলি আর ন ছাড়ে। এক্কেরে কচ্ছপের কামড়। আসমান ডাকার আগে ন ছাড়ে।

রনি যথারীতি আবার চোখ পাকায়। কাশুর নাকের ডগায় আঙুল নাচাতে নাচাতে বলে, আসল হারামি তো মিয়া আপনি। সব কথায় শুধু হ্যাঁ হ্যাঁ। ফাউল কোথাকার! কাশুও কম যায় না, সেও ঠোঁট বাঁকিয়ে আঙুল নাড়িয়ে বলে, বেশি ন চেতিও বাজি। বেশি চেতিলে পরে পস্তন পড়িব, বুইজ্জ না? বলে সে মুখ ঘুরায়। হাতের তেলো কপালে ঠেকিয়ে দূরে তাকায়। রোদের তেজ বাড়ছে ধীরে ধীরে। চিতেপড়া পাঞ্জাবির বগলটা ভিজে উঠেছে ঘামে। পকেট থেকে বিড়ির বাণ্ডিলটা বের করে একটাতে আগুন ধরায়। দু-টান মেরে নাকেমুখে ধোঁয়া ছাড়ে। মাস্টারের কথায় সে সমর্থন দিয়েছে, অথচ নিজে নিচে নামার কোনো তাড়া বোধ করে না। তামাকপোড়া গন্ধে কমলের মাথাটা ভোঁ ভোঁ করে। একটা টান দিতে পারলে মাথার জটটা ছাড়ত। ভিড় ঠেলে কাশুর কাছে এসে হাতটা বাড়িয়ে বলল, দেন চাচা, একটা টান দেই। কাশু হাতটা পেছনে সরিয়ে ভুরু কুঁচকে তার মুখের দিকে তাকায়। ভুরুর কুঁচকানিটার ভাষারূপ দিলে এই দাঁড়ায়―এ্যাঁহ! বিড়ি কি এত সস্তা যে চাইলেই দিয়ে দেব? গুনে গুনে দশটা বাণ্ডিল নিয়ে জাহাজে উঠেছি। এ ক’দিনে আবার আট বাণ্ডিল খতম। এত শখ হলে বিড়ি নিয়ে উঠলে না কেন?


বাঁচার কোনো পথ খুঁজে পায় না। একবার ভাবে জলে ঝাঁপ দেবে, কিন্তু সাহসে কুলায় না। এত বিশাল নদী, কত গভীর আল্লামালুম। স্রোতও ভয়ঙ্কর।


আচমকা হৈহৈ করে উঠল কাশু। তার হাত থেকে বিড়িটা কেড়ে নিয়েছে দীপঙ্কর। যক্ষের ধন ছিনতাই হয়ে যাওয়ায় সে গালাগালি শুরু করল। দীপঙ্করের কাণ্ড দেখে এত দুঃখের মধ্যেও কমলের হাসি পায়। কষে দুটো টান দিয়ে দীপঙ্কর বিড়ির গোড়ালিটা তাকে দেয়। বাণ্ডিল থেকে আরেকটা বিড়ি বের করতে করতে কাশু বলে, তোরা আঁরে পাগল পাইয়ুস না? দেখবি, মুখত পোকে ধরিব। ওদিকে মাস্টারের বুঝ মেনে কিছু যাত্রী নিচে নেমে গেলেও বাকিরা পানির জন্য আবারো হৈচৈ শুরু করে দিল। স্টোর রুমের সামনে মহিলার দলটিও পানির জন্য চেঁচামেচি করছে। দেখে-শুনে মেজাজের লাগামটা আর টেনে ধরে রাখতে পারল না মাস্টার। নিজের রুমে ঢুকল। খানিক পর বেরিয়ে সিঁড়ির মাথায় দাঁড়াল। তার পেছনে এক লশকর, ডান হাতের কব্জিটা যার কাটা। কব্জিকাটা লোকটাকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল মঈন। সারা দিন সারা রাত একবারও তাকে জাহাজে দেখতে পায় নি। ভেবেছিল, আবার বুঝি শাহপরী ফিরে গেছে লোকটা। ভেবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। স্বস্তি, কারণ লোকটার ভয় এখনো তার মন থেকে মোছে নি। মানুষ কতটা পাষাণ হতে পারে ট্রলারে সেদিন তার আচরণে বুঝেছে। জেটিঘাট থেকে তাকে জোর করে তুলে ট্রলারটি নোঙর তোলার পর মাঝিদের যখন হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল তালেব, একটা লাঠি হাতে কব্জিকাটা লোকটা উড়ে এসে তাকে শাঁসাতে শুরু করল―কারে ধমক দিস? চিনস তুই আমারে? হোগায় বাঁশ ঢুকিয়ে দইজ্জার মাঝখানে খাড়া করি রাখমু মুগ্গার পো।

লোকটার কুঁদন দেখে তালেব দমে যায়। ভয়ও পায় কিছুটা। অজানা-অচেনা জায়গা, মেরে ভাসিয়ে দিলেও কিচ্ছু করার নেই। ক্ষুব্ধচোখে শুধু তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ফাঁদে পড়া বকের মতো মঈন তড়পায়। বাঁচার কোনো পথ খুঁজে পায় না। একবার ভাবে জলে ঝাঁপ দেবে, কিন্তু সাহসে কুলায় না। এত বিশাল নদী, কত গভীর আল্লামালুম। স্রোতও ভয়ঙ্কর। উপায় খুঁজে না পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। প্রমত্তা নাফের বিপুল জলরাশি আর সন্ধ্যার বিষণ্ন অন্ধকার কান্না আরো উস্কে দেয়। কোনোভাবেই কান্না থামাতে পারে না, আজন্মের জমা কান্নার উদ্‌গীরণ ঘটল। সেন্টমার্টিন পৌঁছা পর্যন্ত থেমে থেমে কান্না চালিয়েই গেল। ওসমানকে তুলতে ট্রলারটি সৈকতে ভিড়লে আশার আলো দেখতে পায়। তার ভেতরের মানুষটা কানে কানে বলল, এই সুযোগ মঈন, পালাও পালাও। সুযোগ আর নাও পেতে পারো। দ্বিতীয় সত্তার ডাকে সে সাড়া দেয়। নিশ্চয় পালাবে। আড়চোখে একবার মাঝিদের দিকে তাকায়। মাঝিরা গলুইর কাছে। নিঃশব্দে সে উঠে দাঁড়ায়। ডাঙায় লাফ দিতে যাবে, ঠিক তখুনি পেছন থেকে কলারটা চেপে ধরল কব্জিকাটা লোকটা―যাস কই হারমজাদা? খাড়া, তার ভাগা ছুটাচ্ছি আমি। বলতে বলতে পাটাতনে ফেলে লাঠিপেটা শুরু করল বেদম। মানুষকে নয়, যেন গরু-ঘোড়াকে চবকাচ্ছে। মঈন কাঁদে না, একবার চিৎকারও করে না। যেন লাঠিপেটা তার প্রাপ্য, সুদে-আসলে পাওনা বুঝে নিচ্ছে।

কিন্তু শরীরটা তো রক্ত-মাংসের, মার কতক্ষণ সওয়া যায়? হঠাৎ সে বিদ্রোহী হয়ে উঠল। লাঠিটা দু-হাতে শক্ত করে ধরে গালাগাল শুরু করল। ব্যস, শুরু হয়ে গেল দুজনের ধস্তাধস্তি। যেন সাপ-নেউলের লড়াই। শক্তিতে কেউ কারো থেকে কম নয়। তালেব কি আর বসে থাকতে পারে? উঠে দুজনকে থামাতে যাবে অমনি আরেক মাঝি উড়ে এসে মঈনের কোমরে মারল প্রচণ্ড লাথি। পাটাতনে উপুড় হয়ে পড়ে গেল মঈন। নাক আর ঠোঁট ফেটে রক্ত দেখা দিল। চোখের সামনে এমন মারদাঙ্গা দেখে হতবুদ্ধি জুলফিকার কর্তব্য ঠিক করতে পারে না। মাঝিদের উদ্দেশে বলল, তোমরা কি মানুষ? এভাবে কেউ মারে?

১২শ পর্বের লিংক

স্বকৃত নোমান

স্বকৃত নোমান

জন্ম ৮ নভেম্বর, ১৯৮০, বিলোনিয়া, পরশুরাম, ফেনী। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে তিনি কামিল পাস করেন। বিএ পাশ করেন সোনাগাজী ডিগ্রি কলেজ, ফেনী থেকে। পেশায় সাংবাদিক।

উল্লেখযোগ্য বই :
নাভি (উপন্যাস), ২০০৮, ধাবমান ও বনলতা পাবলিকেশন্স।
রাজনটী (উপন্যাস), ২০১১, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।
বেগানা (উপন্যাস) ২০১২, বিদ্যাপ্রকাশ।
হীরকডানা (উপন্যাস) ২০১৩, বিদ্যাপ্রকাশ।
নিশিরঙ্গিনী (গল্পগ্রন্থ) ২০১৪, জাগৃতি প্রকাশনী।
কালকেউটের সুখ (উপন্যাস) ২০১৫, জাগৃতি প্রকাশনী
বালিহাঁসের ডাক (গল্প), ২০১৬, অনিন্দ্য প্রকাশ

আবদুশ শাকুরের জীবনী, বাংলা একাডেমি, ২০১৫
প্রাচ্যের ভাব আন্দোলনের গতিধারা (প্রবন্ধ), ২০০৯, বাঙলায়ন।
খ্যাতিমানদের শৈশব (গবেষণা), ২০১০, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।
আবদুশ শাকুরের বয়ান, শ্রোতা স্বকৃত নোমান (সম্পাদনা) ২০১২, রোদেলা প্রকাশনী।
গুণীজন কহেন (সাক্ষাৎকার সংকলন) ২০১২, অন্বেষা প্রকাশন।
বহুমাত্রিক আলাপ (সাক্ষাৎকার সংকলন), ২০১৫, বিদ্যাপ্রকাশ।

ই-মেইল : swakritonoman@gmail.com
স্বকৃত নোমান

Latest posts by স্বকৃত নোমান (see all)