হোম গদ্য শহীদ কাদরীর কবিতা : সূচ্যগ্র চমকের ‘সহসা সন্ত্রাস’

শহীদ কাদরীর কবিতা : সূচ্যগ্র চমকের ‘সহসা সন্ত্রাস’

শহীদ কাদরীর কবিতা : সূচ্যগ্র চমকের ‘সহসা সন্ত্রাস’
2.38K
0
এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল সোহেল হাসান গালিব সম্পাদিত ‘ক্রান্তিক’ পত্রিকায় ২০০৪ সালে।

তখন পর্যন্ত শহীদ কাদরীর (১৪ আগস্ট ১৯৪২ – ২৮ আগস্ট ২০১৬) কবিতার বই তিনটি—
উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা (১৯৭৪) এবং কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই (১৯৭৮)।

এরপর তাঁর দীর্ঘ প্রবাসজীবনে একটিমাত্র কবিতার বই প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে।
নাম : আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও

মহাকালের দ্বারে কড়া নাড়ার সানন্দ আগ্রহ প্রকাশে যার বাক্য-বিন্যাস মিত অভিজ্ঞানে স্পষ্ট, তিনি শহীদ কাদরী। ব্যক্তিত্বের প্রত্যুৎপন্ন নির্দেশনায় নাগরিকের একাগ্র একাকিত্ব ছিল শহীদের নখদর্পণে। কতটুকু নৈঃসঙ্গ্য-আবহ পাঠককে ধৈর্য-সীমায় চঞ্চল করবে তাও তিনি বুঝতেন। তাই বলে শহুরে জীবন-বিবৃতির ঘোর নির্মাণে তার রুচি ইচ্ছা ছিল না। ছিপছিপে তার প্রতিটি বাক্য, শব্দগুলো টানটান, কিন্তু উত্তেজনার অনুষঙ্গে বেপথুমান নয়। অবধারিত তার বয়ান-ভঙ্গি, কিন্তু আবশ্যিকের চাপ কোথাও অনুভূত হয় না।

বাংলাদেশের কবিতা কিংবা বাংলা ভাষার কবিতা বিষয়ে ভাবতে গেলে কবি-ব্যক্তিত্বে শহীদ কাদরীর তিনটি টোকা পাঠকের অনুভূতিকে চমকের স্পৃষ্ট-সহচর করে তোলে। ‘উত্তরাধিকার’ (১৯৬৭), ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ (১৯৭৪), ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ (১৯৭৮)—তিনটি কাব্যের খোঁজ কবিতা-প্রিয়রা জানেন। আড্ডায় জাহিরে বা একান্তে স্মরণে শহীদ কাদরীর এই তো পরিচয়, বাকিটা অস্পষ্ট—স্বেচ্ছা-নির্বাসিত প্রবাস-যাপন, এই বিষয়ক কুয়াশা-গল্প এবং রৌদ্রের মতো দুএকটা খবর, সামান্য-আগ্রহীদের এইটুকুই তুষ্টি।

তার প্রথম কাব্যের (উত্তরাধিকার) প্রথম কবিতায় (বৃষ্টি, বৃষ্টি) প্রারম্ভ-বাক্য—‘সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো’। বৃষ্টির এত চমৎকার নাগরিক অভিব্যক্তি, মনে হয় ভাবালুতার সামান্য ছিটেফোঁটা নেই। তবু—

আর ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায় শোনে
ক্রন্দন ক্রন্দন
নিজস্ব  হৃৎপিণ্ডে…

কবিতার অর্ধেক দূরত্ব অতিক্রান্ত হলেই এই লাইন কটি আমাদের সচকিত করে। কবি কাদরীর ব্যতিরেকী উপস্থাপন এই গুণপনার সাযুজ্যেই। কোনো আয়ত্তীকৃত কৌশল হিশেবে নয়, তার চারিত্র-বৈশিষ্ট্যের প্রকাশটাই কাব্য-ধরনে এমন ভিন্নতাপন্থি—দৃঢ় অথচ আবেগদগ্ধ। প্রতিনিধিত্বে স্বকীয় অবস্থান তার চাই, কিন্তু স্বাতন্ত্র্যের এককত্বে নির্বাসিত তার ব্যক্তি ও কবিতা-চরিত্র—কেন? এই প্রশ্ন কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাহিত্যরুচির রাজনীতি-ইতিহাস পর্যালোচনা সম্ভব, কিন্তু শহীদ কাদরীর কবিতা তাতে অশুচি হতে পারে। সন্তের উক্তির মতো তার কবিতা-চরিত—

… সবার আত্মার পাপ
আমার দু’চোখে শুধু পুঞ্জ পুঞ্জ কালিমার মতো লেগে আছে?
জানি, এক বিবর্ণ গোষ্ঠীর গোধূলির শেষ বংশজাত আমি,
বস্তুতই নপুংসক, অন্ধ, কিন্তু সত্যসন্ধ দুরন্ত সন্তান!

(নপুংসকের উক্তি)


গ্রাম-ইতিহাস থেকে উঠে আসা নগর, তার কালিমা, বিবর্ণ গোষ্ঠীর ম্রিয়-গোধূলির আখ্যান—এসব থেকে দূরে তিনি ছিলেন না।


অভিজ্ঞতার আপাদ-নাগরিকত্ব স্বীকার করে গ্রাম-প্রকৃতির দূরান্বয়ী কল্পনা থেকে তিনি রেহাই দিয়েছেন পাঠক ও নিজেকে। সমকালের কাব্য-প্রবণতার এই বৈশিষ্ট্য-বিষয়কে বাদ দিয়ে অভিজ্ঞতার সততা-নির্ভর তার উপমা-বিষয়। গ্রাম-ইতিহাস থেকে উঠে আসা নগর, তার কালিমা, বিবর্ণ গোষ্ঠীর ম্রিয়-গোধূলির আখ্যান—এসব থেকে দূরে তিনি ছিলেন না। এক্ষেত্রে লক্ষ্যযোগ্য তার উপস্থাপনের প্রকৃতি—

আমি করাত-কলের শব্দ শুনে মানুষ।
আমি জুতোর ভেতর, মোজার ভেতর সেঁধিয়ে যাওয়া মানুষ
আমি এবার গাঁও-গেরামে গিয়ে
যদি ট্রেন-ভর্তি শিউলি নিয়ে ফিরি
হে লোহা, তামা, পিতল এবং পাথর
তোমরা আমায় চিনতে পারবে তো হে!

(এবার আমি)

বলিষ্ঠ সারল্যে জানিয়েছেন, ‘খুব সাধ ক’রে গিয়েছিলাম গ্রামে’ এবং স্বীকার করেছেন ‘নেহাৎ মন্দ নয়’। জীবনের প্রকৃতিস্থ পরিবেশ তারও কাম্য ছিল—

আমিও তো আবাল্য হা-ঘরে
‘কুটির’ ‘কানন’ ‘নদীতীর’ এসবই চেয়েছিলাম।

কিন্তু সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়েছেন ব­্যাক-আউটে আঁধারে—

জন্মেই কুঁকড়ে গেছি মাতৃজরায়ন থেকে নেমে—
সোনালি পিচ্ছিল পেট আমাকে উগ্রে দিল যেন
দীপহীন ল্যাম্পোস্টের নীচে, সন্ত্রস্ত শহরে

—বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। স্বাধীনতার পর লিখেছেন—

আর আমাকে ফিরিয়ে দিলে
মধ্যরাত পেরুনো মেঘলোকে ডোবা সকল রেস্তোরাঁ
স্বাধীনতা তোমার জরায়ু থেকে
জন্ম নিল নিঃসঙ্গ পার্কের বেঞ্চি,
দুপুরের জনকলে­াল
আর যখন-তখন এক চক্কর ঘুরে আসার
ব্যক্তিগত, ব্যথিত শহর, স্বাধীনতা!

(স্বাধীনতার শহর)

নগরেই তার কবিপ্রাণ উৎসাহ পেয়েছে। ‘সশব্দে নিসর্গের কড়া নেড়ে’ বলেছেন—

কেক-পেস্ট্রির মতন সাজানো থরে থরে নয়নাভিরাম
পুষ্পগুচ্ছের কাছেও গিয়েছি ত’, ম্লান রেস্তোরাঁর
বিবর্ণ কেবিনে আশ্রয়ের যে আশ্বাস এখনও
টেবিল ও চেয়ারের হিম-শূন্যতায় লেখা আছে
তেমন সাইনবোর্ড কোন জুঁই, চামেলী অথবা
চন্দ্রমলি­কার ঝোপে-ঝাড়ে আমি ত’ খুঁজেও পেলাম না।

(নিসর্গের নুন)

নাগরিক বন্ধুতার মানুষ, তার অপ্রকাশ্য অনুভব-অন্তরঙ্গের প্রকৃতি সম্পর্ক নিংড়ে বের করে দেখিয়েছেন—

শর্করার মতো রাশি রাশি নক্ষত্রবিন্দুর স্বাদে
রুচি নাাই, ততটাই বিমুখ আমরা বন্ধুদের
উজ্জ্বল সাফল্যে অলৌকিক।

কবি তিনি, সকলের অনুভূত সত্যকে যথার্থ শব্দের ঝরঝরে বাক্যে সাজিয়ে দিয়েছেন। কাদরীর কবিতায় শব্দের অর্থ আবিষ্কারে কষ্ট স্বীকারের বিড়ম্বনা নেই, শব্দগুলো বাক্যে তার উপস্থিতি নিয়ে একটি অর্থ-ভাবনার আটপৌরে আদল থেকে নতুন পরিচয় ব্যক্ত করে—

নতুন, সোনালি পয়সার মতন দুই পকেট ভর্তি স্বপ্নের ঝনৎকার       (আমি কিছুই কিনব না)

এবং বাউলের একতারার মতো বেজে ওঠে চাঁদ       (জানালা থেকে)

কোনোমতে টিকে-থাকা, যেন বেঢপ ভূমিকাশূন্য তানপুরা      (কবিতাই আরাধ্য জানি)

নরম পাৎলুন আর চকচকে চালাকির মতো সব চোখামুখো জুতো       (পতন)


বাক্যবন্ধে ভাবের ঘোর অপেক্ষা অনুভবে স্বতঃস্ফূর্তি-প্রকাশক ঝকঝকে শব্দ-উপমা তার সহজ নৈকট্য উপহার দেয়।


অনুভূতি প্রকাশে অপকট তার কবিতা, তাই আলুলায়িত ভঙ্গির আবেশ কোথাও লক্ষ করা যায় না। আবেগের প্রাণ-স্পন্দন ক্লান্তির ক্লিশতায় খিন্ন হয়েছে, তার এমন কবিতা পাওয়া দুষ্কর। বাক্যবন্ধে ভাবের ঘোর অপেক্ষা অনুভবে স্বতঃস্ফূর্তি-প্রকাশক ঝকঝকে শব্দ-উপমা তার সহজ নৈকট্য উপহার দেয়। অনায়াস-উপলব্ধির কল্পনা-আবিষ্কারে পাঠক নিজের সামর্থ্য বুঝে নিয়ে তৃপ্ত হয়। মহৎ শিল্পের এই গুণ কাদরীর কবিতায় রয়েছে বলেই পাঠক-প্রিয়তায় তার কবিতার লাইন অনেকেরই প্রিয় স্মরণ। ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘ প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই/ কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না…’ কবিতার কল্প-ভাঁড়ারি পাঠকদের কাছেও এই কবিতা দুটো বেশ পরিচিত।

বাংলাদেশের এই নগর-কবি অভিজ্ঞতার জীবন-ভাবনা ও বিশ্বযুদ্ধোত্তর শিল্প-ভাবনায় একাত্ম হয়েই কবিতায় উপস্থিত। আধুনিক মানুষের ‘নিঃসঙ্গতা’ অনুভবকে তিনি বিভিন্ন কবিতায় দেশ, কাল, আন্তর্জাতিকতা—এই ত্রিবিধ মাত্রাতেই শিল্পরূপ দিয়েছেন।

কেন এই স্বদেশ-সংলগ্ন আমি, নিঃসঙ্গ, উদ্বাস্তু,
জনতার আলিঙ্গনে অপ্রতিভ, অপ্রস্তুত, অনাত্মীয় একা,          (নপুংসক সন্তের উক্তি)

আর আমি শুধু আঁধার নিঃসঙ্গ ফ্ল্যাটে রক্তাক্ত জবার মতো
বিপদ-সংকেত জ্বেলে একজোড়া মূল্যহীন চোখে
পড়ে আছি মাঝরাতে কম্পমান কম্পাসের মতো
অনিদ্রায়।                                                                     (উত্তরাধিকার)

আমার নিঃসঙ্গে তথা বিপর্যস্ত রক্তে মাংসে
নূহের উদ্দাম রাগী গরগরে লাল আত্মা জ্বলে
কিন্তু সাড়া নেই জনপ্রাণীর অথচ
জলোচ্ছ্বাসে নিঃশ্বাসের স্বর, বাতাসে চিৎকার,
কোন আগ্রহে সম্পন্ন হয়ে, কোন শহরের দিকে
জলের আহ্লাদে আমি একা ভেসে যাবো ?                         (বৃষ্টি, বৃষ্টি)

বিশ্ব-পরিস্থিতির অস্থিরতা সমকালে সাহিত্যের ঊষর-বন্দনা-রীতি, সর্বোপরি ব্যক্তি-জীবনের যন্ত্রনাযাপন—এইসব মিলে তার আশ্রয় হয়েছিল কবিতা—

আততায়ী,—লুকিয়ে রয়েছে প্রেমিকার অনুনয়ে,
অনুজের মূল্যবোধে, আমাদের উদ্বাস্তু দশকে
প্রগতির অন্বেষায় আর প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ
পিছুটানে, যত্রতত্র সমৃদ্ধির সকল খবরে,
সংবাদপত্রে ও মানুষের অন্তিম গন্তব্যে, আর
ক্রুদ্ধ সম্পাদকীয় মন্তব্যে!
ফলত নিঃশব্দে নেমে পড়ি
কবিতার শুঁড়িলোকে,

(নিরুদ্দেশ যাত্রা)


‘বাংলাদেশের কবিতা’—এই স্বাদ নির্মার্ণে ’৪৭-পরবর্তী সময়ে এই কবি পাঠককে প্রাপ্তিতে তুষ্ট করেছেন, প্রত্যাশায় হতাশ্বাসও করেছেন।


বিশ শতকের তিরিশ-অতিক্রান্ত বাংলা কবিতার পরিবর্তমান ধারাক্রমেই শহীদ কাদরীর হ্রস্ব অথচ যথার্থ কবি-উপস্থিতি। ‘বাংলাদেশের কবিতা’—এই স্বাদ নির্মার্ণে ’৪৭-পরবর্তী সময়ে এই কবি পাঠককে প্রাপ্তিতে তুষ্ট করেছেন, প্রত্যাশায় হতাশ্বাসও করেছেন। কাব্যগুণে তার তুষ্টিবিধান আর সংখ্যাগুণে পাঠকের মনস্তাপ-নিদান। অবশ্য বিস্তর কথনের অভিপ্রায় তার কবিতাতে কখনো প্রকাশিতও হয় নি। তিনি কবিতাই আরাধ্য মেনেছেন এবং কবিতা ছাড়া কোনো সাহিত্য-পদবাচ্য ছাপায় প্রকাশও করেন নি। কবিতা-শিল্প বিষয়ে সুতীক্ষ্ণ রুচি-ভাবনা কবিতাতেই জানিয়েছেন। বাংলা কবিতার ধারা-গন্তব্য বিষয়ে তার ভাবনা-প্রাখর্য কবিদের যথেষ্ট নাকালও করেছে। রবীন্দ্রকাব্যকে বাংলা কবিতার চৈতন্যপ্রবাহে ‘ট্রাফিক আইল্যান্ডে’র স্থান দিয়েছেন। শুশ্রূষাকারী চিকিৎসকের উপমা-কৌতুকে রবীন্দ্রনাথেই অন্তিম সমর্পণ করেছেন। কবিতা-অনুভূতির বাণিজ্যালয়ে ঋণ স্বীকার করেছেন জীবনানন্দ, সুধীন্দ্রনাথ, ওসামুদাজাই, বোদলেয়ার, রিল্কে, এজরা পাউন্ডের কাছে। সেই সাথে নিজের কাব্যার্জন বিষয়েও স্বচ্ছ ধারণা ছিল—

আমার বিব্রত অস্তিত্বের কাছে
কেউ নয় ঋণী—এমন দারুণ কথা
কি করে যে বলি!

(টাকাগুলো কবে পাবো ?)

এবং সকৌতুকেই কবির ন্যায্য দাবি জানিয়েছন—

ছড়ানো ছিটানো
প্রোজ্জ্বল কবিতাগুলো চতুর্দিক থেকে উঠে এসে
দুটো নিরপরাধ নরম বই হয়ে ইতিমধ্যে
তোমাদের নোংরা অঙ্গুলির নীচে চলে গেল,
এই কি যথেষ্ট নয়? এতেই কি লক্ষ লক্ষ টাকা
লেখা হলো না আমার নামে পাওয়া হলো না?

(প্রাগুক্ত)

কবিতা-লেখকের সফলতা তার রয়েছে। লেখনি চলতে থাকলে হয়তো আরো রূপকল্প-বিজয়ীর সম্মান তিনি পেতেন। দূরদৃষ্টতার দুঃসাহসিকতাই হোক, অপ্রকাশেচ্ছু সিদ্ধান্তের কারণেই হোক কিংবা সমকালের অন্য-ভিন্ন সাহিত্যাভিসন্ধির প্রতি অরুচিই হোক, কবিতা লেখায় তিনি নিরস্ত হয়েছেন। বিংশের তিরিশ পরবর্তী কাল থেকে একবিংশের সাময়িক কাল পর্যস্ত বাংলা কবিতার ইতিহাস কি কোনো নতুন বাঁক সৃষ্টি করেছে? এইসব প্রশ্ন তর্ক-বিতর্কের বিষয়। শহীদ কাদরী হয়তো সেই সবে তোয়াক্কা না করে তার ‘বাংলা কবিতার ধারা’ কবিতাকে উত্তর বিবেচ্য করে চুপে আছেন—

এবং স্বপ্নের অভ্যন্তরে কবিদের নিঃসঙ্গ করুণ গণ্ডদেশে
মহিলার মতো ছদ্মবেশে জাঁদরেল নপুংসক এক
ছুঁড়ে মারল সুতীক্ষ্ণ চুম্বন।

—এই চুম্বন বাংলা কবিতার নির্বীজ উত্তেজনার স্তব্ধতাকে সশব্দ শিল্পরূপ দিয়েছে। এই বক্তব্য, শহীদ কাদরীর নির্লিপ্ততা সত্য কি মিথ্যা, ভালো কি মন্দ, তা পরিস্থিতিসাপেক্ষ মহাকাল জানান দেবে। আপাতত শহীদ কাদরীর কবিতার যুৎসই সমালোচনা প্রাপ্য, অন্যথায় অন্তত নিম্নবর্তী প্রশ্নের উত্তর—

হে সময়, হে কাল, হে শিল্প, হে বান্ধববৃন্দ,
টাকাগুলো কবে পাবো, কবে, কবে, কবে?

জাকারিয়া আকন্দ বিপ্লব

জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল : biplob.akand@gmail.com

Latest posts by জাকারিয়া আকন্দ বিপ্লব (see all)