হোম গদ্য রোহিঙ্গাদের প্রতি বাঙালির জাতীয় কর্তব্য

রোহিঙ্গাদের প্রতি বাঙালির জাতীয় কর্তব্য

রোহিঙ্গাদের প্রতি বাঙালির জাতীয় কর্তব্য
1.22K
0

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বাধিকার অর্জনের পথে প্রধান অন্তরায় হলো, বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের নৃতাত্ত্বিক ও ভাষাগত আত্মপরিচয় তুলে ধরতে না পারা। এই দুর্ভাগ্য আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে কারণ—বাংলাদেশ, পশ্চিমবাংলা, ত্রিপুরার মানুষও এই জনগোষ্ঠীকে তাদের নৃতাত্ত্বিক ও ভাষিক স্বজাতির স্বীকৃতি দিচ্ছে না। দুনিয়ার চোখের সামনে ক্রমাগত জাতিগত গণহত্যার শিকার হতে থাকা সর্বাপেক্ষা নিপীড়িত এবং বৃহত্তর স্টেটলেস এই জনগোষ্ঠীর একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠেছে মুসলমান। এ কারণে একদিকে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের বাঙালিদের কাছ থেকে জাতিগত ঐক্যের সহায়তা থেকে বঞ্চিত, অন্যদিকে সারা দুনিয়ার অমুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছ থেকেও প্রাপ্য সমর্থন আদায় করতে পারছে না। আরো অবিচার হচ্ছে এই, রোহিঙ্গাদের সঠিক জাতিগত, ভাষাগত পরিচয় শনাক্তের কোনো প্রচেষ্টা কোথাও লক্ষ‍ করা যাচ্ছে না।

আমরা জানি, নৃতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে আরাকানের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এটুকু মানি, বাংলার সঙ্গে আরাকানের এই নৈকট্যের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক এবং বিশেষত্বমণ্ডিত। কিন্তু পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরার মতো আরাকানও যে বৃহৎবঙ্গের অংশ, এই কথাটি আমরা স্বীকার করছি না।  বাংলাদেশ, পশ্চিমবাংলা ও ত্রিপুরার বাঙালিরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে আজকে যে গর্ব অনুভব করছে, তারা ভেবেও দেখছে না বাংলা সাহিত্যের প্রথম কেন্দ্র ছিল আরাকান। ড. আহমদ শরীফের ভাষ্য, ‘মধ্যযুগের মুসলিম রচিত সাহিত্যের অধিকাংশ মিলেছে চট্টগ্রামে (বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য)।’ অন্যত্র তিনি বলেছেন, ‘এমন কি বাংলাদেশের যে কোনো অঞ্চলের চাইতে চট্টগ্রামের হিন্দুর দানও কম নয়।’ ‘চট্টগ্রাম বিভাগে ও রোসাঙ্গে মুসলিম রচিত বাঙলা সাহিত্যের বহুল চর্চা দেখতে পা‌ই (মধ্যযুগের কবি ও কাব্য/ বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য))।’ বললে অত্যুক্তি হবে না, বাংলা সাহিত্যের প্রথম পরিপূর্ণতাও ঘটে এই আরাকানে। ইতিহাসের ‘রোসাঙ্গ রাজসভা’ অর্থাৎ আরাকান রাজদরবার ছিল আজকের রোহিঙ্গাদের পূর্বপুরুষদের সাধনার বাংলা সাহিত্যের প্রথম রাজধানী। চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ানো কবি শাহ মুহম্মদ সগীর (১৪শ-১৫শ), জয়েনউদ্দীন (১৫শ), সৈয়দ সুলতান (১৫শ), শাহ বারিদ খান (১৫শ), কবীন্দ্র পরমেশ্বর (১৫শ-১৬শ),  শ্রীকর নন্দী (১৫শ-১৬শ), দৌলত উজির বাহরাম খান (১৬শ), দৌলত কাজী (১৬০০-১৬৩৮), কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৬০০-১৬৬০), আলাওল (১৬০৭-১৬৮০), আবদুল হাকিমদের (১৬২০-১৬৯০) উত্তরপুরুষই হলো আজকের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।


আরাকানের বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির উত্তরপুরুষই হলো আজকের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।


আরাকান রাজাদের বাংলা সাহিত্যের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার কারণে মধ্যযুগে রোসাঙ্গ রাজসভা ছিল বৃহৎবঙ্গের প্যারিস। মধ্যযুগের বাঙালি কবিদের শিরোমণি আলাওল (১৬০৭-১৬৮০) ছিলেন এই দরবারের শীর্ষরত্ন।  আর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন হলো শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জোলেখা (১৩৮৯-১৪১০)। সগীরও ছিলেন আরাকানের। বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম আদর্শ নিদর্শন ধরা হলেও এর সময়কালের নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই।  যে কারণে ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ আজো বাংলা সাহিত্যে এক আলোচিত ধাঁধা। বিভিন্ন পণ্ডিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ভিন্ন ভিন্ন রচনাকাল নির্দেশ করেছেন। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অনুমান এর রচনাকাল চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতক, আর সুকুমার সেনের মতে ষোড়শ শতকের মধ্যভাগে। সুকুমার সেন তার বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস বইয়ের প্রথম খণ্ডে লিখেছেন, ‘আমরা শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের কালনিরূপণে ভুল করিয়াছি। আমরা নিশ্চিতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথিতে আবদ্ধ ও জমাট বাঁধা চতুর্দশ-পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীর সাহিত্যের ভাষা সম্পূর্ণ পাই নাই।  পাইয়াছি মোটামুটি মধ্যকালীন বাঙ্গালা ভাষা—যাহা দক্ষিণ-পশ্চিম প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোটামুটি অবিকৃত রূপে আধুনিককাল পর্যন্ত চলিয়া আসিয়াছে। প্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কাঠামো অভিনব, বস্তুত কতকটা অভিনব।  তাই বলিয়া রচনাটিকে সর্বাংশে প্রাচীন স্বীকার করা যায় না।’ কিন্তু গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) শাসনামলে আরাকানে রচিত ইউসুফ জোলেখার সময়কাল নিয়ে কোনো বিরোধ নেই।

চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের আরম্ভ ধরা হলেও বাংলায় বাংলা সাহিত্যের আসল ইতিহাস অনেক পরের।  সুকুমার সেনের মতেও, ‘১২০০ হইতে ১৪৫০ অব্দের মধ্যে বাঙ্গালা সাহিত্যের কোনো নিদর্শন তো নাই-ই বাঙ্গালা ভাষারও কোনো হদিশ পাওয়া যায় না (বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম খণ্ড)।’ মূলত শ্রীচৈতন্যের (১৪৮৬-১৫৩৩) মৃত্যুর পরে বাংলায় বাংলা সাহিত্যের প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়।  চৈতন্যদেবের আগে ও আরাকানের বাইরে বাংলা সাহিত্যের যে কিঞ্চিৎ নিদর্শন পাওয়া যায় তা বিচ্ছিন্ন ও পারম্পর্যহীন এবং রচনাকালের দিক থেকেও বিতর্কিত। চৈতন্যপূর্ববর্তী কালের এই অনুমাননির্ভর বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মালাধর বসু ওরফে গুণরাজ খানের শ্রীকৃষ্ণবিজয় ও কৃত্তিবাস ওঝার শ্রীরাম পাঁচালী বা রামায়ন ছাড়া পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরায় শ্রুতিসাহিত্যের বাইরে বাংলা সাহিত্যের কোনো আদর্শ নিদর্শন পাওয়া যায় না। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রসঙ্গে সুকুমার সেনের ভাষ্য, ‘ইহার মধ্যে জোড়াতালি ও প্রক্ষেপ যথেষ্ট আছে। জোড়াতালি হইতে অনুমান হয় যে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থটি যিনি রচনা করিয়াছেন তিনি প্রাচীন নাটুয়ার (ও পুতুল বাজিকরের) কৃষ্ণলীলা পালাগান পাইয়াছিলেন। তাহার মধ্যে দুই একটি পালার একাধিক পুঁথি ছিল।  সেইগুলি জোড়াতালি দিয়া বইটি খাড়া হইয়াছে।  যিনি জোড়াতালি দিয়াছিলেন তিনি সর্বত্র জোড় মিলাইতে পারেন নাই। ভালো জোড় না খাওয়াতে বিশ্লিষ্ট অংশ প্রক্ষেপ বলিয়া মনে হয় (বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম খণ্ড)।’ তাই চর্যাপদের পরে ও চৈতন্যপূর্ববর্তী সময়ে প্রমাণ সাপেক্ষে তুলনামূলক প্রাচীন, মানের দিক থেকে পরিপূর্ণ ও ধারাবাহিক সাহিত্যচর্চার নিদর্শন হলো আরাকানের ইউসুফ জোলেখা।  চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকে শুরু হওয়া আরাকান চ্যাপ্টারের প্রায় দেড়-দুইশো বছর পরে শ্রীচৈতন্যপরবর্তী নদীয়াপর্বে এসে আমরা বাংলায় ধারাবাহিক ও পরিপক্ব বাংলা সাহিত্যের সন্ধান পাই। ষোড়শ শতকের এই নদীয়াকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগ। কিন্তু তার আগে থেকে আরাকানে বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বলযুগ শুরু হয়। এদের হাতেই সংস্কৃতেতর বাংলা প্রথম ‘বিশুদ্ধ সাহিত্য’ হয়ে ওঠে। রোসাঙ্গ রাজসভায় পাওয়া যায় মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওলকে। ড. আহমদ শরীফের ভাষায়, ‘মধ্যযুগের বাঙালী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব এই যে,  দেব-ধর্ম প্রেরণাহীন নিছক সাহিত্যরস পরিবেশনের জন্য তারাই লেখনী ধারণ করেন। আধুনিক সজ্ঞায় বিশুদ্ধ সাহিত্য পেয়েছি তাদের হাতেই (বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য)।’ দীনেশচন্দ্র সেন, ড. এনামুল হক, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, ড. আহমদ শরীফ প্রমুখ মধ্যযুগবিষয়ক পণ্ডিত আরাকানের বাংলা সাহিত্যের অভ্যুদয়, কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠা ও সেখানে বিপুল বাংলাভাষী মানুষের বসবাসের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির উত্তরপুরুষই হলো আজকের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। কিন্তু দীর্ঘ বিচ্ছেদ ও বিস্মৃতির কারণে রোহিঙ্গা ও বাঙালি যে একই জাতিগোষ্ঠী—সেই কথাটি আজ আমরা ভুলে গেছি।  এ ক্ষেত্রে বাঙালির মতো আত্মবিস্মৃত ও সম্পর্ক অস্বীকারকারী জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে বিরল।

রোহিঙ্গাদের যদি বাংলাভাষী মনে করা না হয়, তাহলে ভাষার কথ্য ও আঞ্চলিকতাকে অস্বীকার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীরা যেমন পূর্ববঙ্গের অধিবাসীদের ভাষাকে ‘বাঙ্গাল ভাষা’ উপনামে ডাকে তেমনি আরাকানের অধিবাসীদের ভাষাকেও আমরা ‘রোহিঙ্গা ভাষা’ বলি। ফলে রোহিঙ্গাদের বাঙালি পরিচয় অস্বীকার করলে জলপাইগুড়ি, মেদিনীপুর, বীরভূম, পালামৌ, নাগপুর, সাঁওতাল পরগনা, বরিশাল, সিলেট, আগরতলা, উদয়পুর, গোয়ালপাড়া, বরাক উপত্যকা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, আন্দামানসহ বৃহৎবঙ্গের অনেক এলাকার মানুষের বাঙালি পরিচয় খারিজ হয়ে যায়।  মূলত কলকাতার কথ্যরূপ থেকে উদ্ভাবিত সাহিত্যের ভাষাকে প্রমিত বাংলা ভাষা হিসাবে গ্রহণ ও মানভাষার ধারণা থেকে এই প্রপঞ্চের সৃষ্টি হয়।  বাংলাভাষার বৃহৎ পরিপাকতন্ত্রের কোনো হদিশ এদের কাছে নেই। কিন্তু বাংলার মানুষের কথ্যভাষাপ্রীতি সুবিদিত। বাংলা, আসাম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ডের বাঙালিরা আঞ্চলিক ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছে।  তাই, ভাষার প্রশ্নে বাঙালির এই স্মৃতিভ্রষ্টতা খুবই পরিতাপের।

আরাকানের উত্তর-পশ্চিমাংশে প্রাচীনকাল থেকে বাঙালি নৃগোষ্ঠীর বসবাস।  ড. আহমদ শরীফের মতে, ‘আরাকানে দশ কিংবা বারো শতকের পূর্বে বর্মি অনুপ্রবেশ ঘটে নি। পক্ষান্তরে উত্তরভারতিক আর্যেরা খ্রিস্টীয় সনের গোড়া থেকেই আরাকানে বসতী নির্মাণ করে (চট্টগ্রামের ইতিহাস)।’ বাংলায় মুসলমান শাসনের বহু আগে অবিভক্ত আরাকানে আরব বণিকের আগমন ও ইসলাম বিস্তার ঘটে। ভারতবর্ষে প্রথম মুসলমান জনগোষ্ঠী উদ্ভবের এলাকাগুলির মধ্যে আরাকান অন্যতম। আর এসবের কেন্দ্রে ছিল চট্টগ্রাম। ‘প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রাম ও আরাকান একই ভূখণ্ড (চট্টগ্রামের ইতিহাস)’। ইতিহাসে দেখা যায়, পর্বত ও সমুদ্রবেষ্টিত চট্টগ্রাম অঞ্চলটির দখল নিয়ে আরাকান, বাংলা ও ত্রিপুরার মধ্যে ক্রমান্বয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ চলেছে। চট্টগ্রাম কখনো আরাকানের থেকেছে, কখনো বাংলার অংশ হয়েছে, কখনো গেছে ত্রিপুরায়। তবে ১৬৬৬ সালে মুঘল শাসনামলে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁর ছেলে উমেদ খাঁ’র দখলের পর চট্টগ্রাম স্থায়ীভাবে বাংলার অংশে পরিণত হয়।

মধ্যযুগে আরাকান ও বাংলার রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিল যে ক্ষমতার রদবদল বা ওঠানামায় দুই দেশ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ১৪৩০ সালের দিকে রাজা নরমিখলা বাংলার সুলতান জালালুদ্দিন শাহের সহায়তায় বর্মিদের কাছ থেকে আরাকান পুনরুদ্ধার করেছিলেন। স্বাধীন আরাকানি মুদ্রায় স্থানীয় ভাষার পাশাপাশি ছিল ফারসি ভাষায় কালেমা। আরাকান রাজারা বৌদ্ধধর্মের হলেও সিংহাসনে অভিষিক্ত হতেন মুসলমান নাম গ্রহণ করে। রাজা নরমিখলাও মোহাম্মদ সোলায়মান শাহ্ নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন। দরবারে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল ফারসি, আরবি ও বাংলা ভাষা।  রাজসভায় সাহিত্যের প্রধান ভাষা ছিল বাংলা। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পরেও চট্টগ্রামের অধিবাসী ও রোহিঙ্গাদের মাতৃভাষায় এখনো সেই ঐক্য রয়েছে।  আরাকান অঞ্চল ও চট্টগ্রামের মানুষের ভাষাকে স্থানীয়ভাবে এখনো ‘আরাকানি বাংলা’ নামে অভিহিত করা হয়। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোধপায়া আরাকান দখল করে বার্মার করদরাজ্যে পরিণত করেন।  এ সময় লক্ষাধিক রাখাইন ও রোহিঙ্গা পালিয়ে ইংরেজ অধিকৃত চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয়। ১৮২৬ সালে আরাকান ব্রিটিশ অধিকারভুক্ত হলে, ইংরেজরা তাদের পূর্ববর্তী কলোনি বাংলা থেকে অনেক বাঙালিকে নিয়ে যান বার্মা পুনর্গঠনের জন্য। বৃহত্তর আরাকানের পতিত ভূমি কর্ষণের জন্য উত্তরআরাকান (দক্ষিণ চট্টগ্রাম) থেকে বহু মানুষকে সেখানে পুনর্বাসন করা হয়।  এ সময় আবার নতুন করে অনেক বাঙালি ভাগ্যান্বেষণে বার্মায় পাড়ি জমায়।


রোহিঙ্গা সংকট স্পষ্টভাবে একটি জাতিগত নিপীড়ন, একে ধর্মগত মনে করা অপ্রয়োজনীয়।


ইংরেজ শাসনের শেষ দিকে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের মতো, পাঞ্জাব আর কাশ্মীরের মতো আরাকানেও রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত হয়। ভারত ভাগের প্রাক্কালে রোহিঙ্গারা আরাকানকে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে, এই অভিলাষ মূলত বাংলার অংশ হওয়ার জন্য। ভারত ও বার্মা ব্রিটিশদের আলাদা কলোনি হলেও রোহিঙ্গারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে বঙ্গভূমির অংশ হয়ে স্বাধীনতা লাভের।  রোহিঙ্গা নেতারা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর শরণাপন্নও হয়েছিলেন।  তবে জিন্নাহর উদাসীনতার কারণে শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হন।  ঐতিহাসিক এই সংকটের শুরু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোড়ার দিকে, যখন ১৯৪২ সালে জাপানিরা ব্রিটিশদের কাছ থেকে বার্মা দখল করে। এই যুদ্ধে রাখাইন জাতীয়তাবাদীরা ছিলেন জাপানের পক্ষে—অন্যদিকে ব্রিটিশপন্থী ছিল রোহিঙ্গারা।  এর জের ধরে রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দাঙ্গা ঘটে। এ সময় প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে চলে যায়। ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশরা বার্মা পুনর্দখল করে, এই যুদ্ধে মিত্রবাহিনীকে সহায়তা করে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভূখণ্ডের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ব্রিটিশরা, কিন্তু যুদ্ধ শেষে তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নি। ইতোমধ্যে ভারত বিভক্তি ঘনিয়ে এলে রোহিঙ্গারা আরাকান মুসলিম লীগ গঠন করে পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার আওয়াজ তোলে।  যা বার্মার প্রতি রোহিঙ্গাদের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে চিত্রিত হয়। এরপর ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়ে গেলে রোহিঙ্গারা স্বাধীন আরাকানের জন্য লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে শেষপর্যন্ত তাতেও ব্যর্থ হয়।

রোহিঙ্গাদের এই সংকটটি মূলত বাঙালি মুসলমানের রাষ্ট্রবাসনারই সংকট। যে রাষ্ট্রবাসনা থেকে পূর্ববঙ্গের বাঙালি মুসলমান পাকিস্তান গঠন করে, সেই একই রাষ্ট্রবাসনা থেকে আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানরাও পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দিতে চেয়েছিল। বাঙালি মুসলমানের পাকিস্তান চাওয়া নেসেসিটি অব হিস্ট্রি মনে করা হলেও, একই প্রচেষ্টার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানরা আরাকানে অবিশ্বাসী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। কেবল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমরা বাঙালি মুসলমানের হাজার মাইল দূরের পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হওয়াকে অসঙ্গত মনে করি না। কিন্তু যুক্ত ভূখণ্ডের হয়েও আরাকানের পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় নি। আধুনিক ইতিহাসকালে এসেও বিষয়টি আমাদের ন্যূনতম মনোযোগ পায় নি।  মূলত, বাংলার অংশ হওয়ার ইচ্ছার কারণে রোহিঙ্গাদের আজ এই ভাগ্যাহত জীবন বরণ করে নিতে হয়েছে।  উপরন্তু আপনজনের কাছেও তারা আজ বিস্মৃত। বাঙালি মুসলমানের রাষ্ট্রবাসনার সবচেয়ে মর্মন্তুদ ট্র্যাজেডির শিকার আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

চট্টগ্রাম অঞ্চলটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঞ্চলভুক্ত থাকলেও আরাকানের সঙ্গে কখনো এর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় নি। জনসাধারণের মধ্যে প্রাকৃত স্থানান্তরও ছিল বহমান।  ভারত, পাকিস্তান ও বার্মার স্বাধীনতা লাভের পর আধুনিক রাষ্ট্র-সীমানা প্রথম দেয়াল তৈরি করে চট্টগ্রাম ও আরাকানের মধ্যে।  চট্টগ্রাম থেকে আরাকানের এই বিচ্ছিন্নতাকে আমরা রোহিঙ্গাদের প্রেক্ষাপটে দেশভাগ বলতে পারি।  একই জনগোষ্ঠী, একই ভাষা হলেও এই আভিঘাতে চট্টগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা জনগোষ্ঠীতে পরিচিত হতে শুরু করে আরাকানের রোহিঙ্গারা।

.
মিয়ানমারের নাগরিকত্ব বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা পৃথিবীর বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। আরাকান রাজ্যের আনুমানিক ৩১ লাখ জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা (২০১৭ সালের আগস্ট এক্সোডাসের আগের হিসাবে তাদের জনসংখ্যা ছিল ১০ লাখেরও বেশি)। এদের প্রায় সবাই মুসলমান হলেও হিন্দুও রয়েছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মোট সংখ্যা আনুমানিক ২৬ লাখ।  আরাকানের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই রাখাইন, এদের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। রাখাইনরা আরাকানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও পুরো মিয়ানমারে তারা একটি সংখ্যালঘু নৃ-গোষ্ঠী। মিয়ানমারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বর্মি জাতিগোষ্ঠী যেখানে ৬৮ ভাগ, রাখাইন সেখানে আছে চার শতাংশ।  আর মোট ছয় কোটি জনসংখ্যার মিয়ানমারে মুসলমানের সংখ্যা আনুমানিক ২৫ লাখ। সাড়ে চার কোটি বর্মি বৌদ্ধের পরেই তৃতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী হলো মুসলমান।  এর মধ্যে কেবল রাখাইন রাজ্যেই ছিল ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান।  বাকি ১৫ লাখ মুসলমান বাস করে বিভিন্ন রাজ্যে, তাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ও রোহিঙ্গাদের থেকে আলাদা। রোহিঙ্গা ছাড়া অন্য মুসলিম জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ভোগ করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা বিতাড়ন ভয়াবহ রূপ নিলেও ব্যাপারটি শুরু হয়েছে বার্মার স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই।  আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা জাতিগত নির্মূলে রাখাইনরা সমর্থন পাচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।  প্রায় প্রতিবছর কোনো না কোনো অজুহাত সামনে এনে তাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নৃশংস নির্যাতন নেমে আসে। আর তাড়া খেয়ে তারা নাফ নদীর তীরে জড়ো হয়, জীবন তুচ্ছ করে শরণার্থী হয় বাংলাদেশে। রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অন্তরালে থাকার কারণে বিভিন্ন দেশের মুসলমান জনগণ এই নিপীড়নকে দেখছে কেবল মুসলমানদের ওপর বৌদ্ধদের নির্যাতন আকারে।  রোহিঙ্গাদের একমাত্র সীমান্ত লাগোয়া দেশ ও বড় ভরসাস্থল বাংলাদেশের বাঙালি মুসলমানও সংকটটিকে এভাবেই দেখছে। এই ধর্মীয়করণের ঘেরাটোপে রোহিঙ্গারা আবদ্ধ থাকায় সামগ্রিকভাবে সব বাঙালির কাছে পৌঁছাচ্ছে না তাদের আর্তি।  জাতীয়তার বাইরে কেবল ধর্মের মাধ্যমে চিত্রিত হওয়ার ফলে বাঙালির নিজস্ব মুক্তিচেতনার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয় নি।

যারা রোহিঙ্গা নিপীড়নকে কেবল মুসলমান নিপীড়ন হিসেবে গণ্য করেন তারা তাদের জাতিগত সশস্ত্র লড়াইকে ‘জিহাদ’ হিসেবে প্রতিপন্ন করছে, যা প্রকারান্তরে মিয়ানমার সরকারকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুবিধা করে দিচ্ছে। সারা বিশ্বের জাতিগত মুক্তির লড়াইয়ের ইতিহাস থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের সংগ্রাম।  এর ফলে বিশ্বসহ বাংলাদেশের অমুসলিম ও সেক্যুলার গোষ্ঠীও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর দায় অনুভব করছে না।  রোহিঙ্গা সংকট স্পষ্টভাবে একটি জাতিগত নিপীড়ন, একে ধর্মগত মনে করা অপ্রয়োজনীয়। পরিবর্তিত বিশ্বপ্রেক্ষাপটেও রোহিঙ্গাদের এই চিত্রায়ণ সঠিক কৌশল হিসেবে দাঁড়াতে পারে না।  রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাবি-দাওয়ার যে বয়ান আমরা পাই সেখানে সমগ্র মিয়ানমারের মুসলমান জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার কথা নয়, বরং আছে রাখাইনে শোষণ-বঞ্চনা-নিপীড়ন বন্ধের দাবি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস এবং তাদের সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের মুসলমানদের সম্পর্ক বিবেচনায় নিলেও রোহিঙ্গাদের সমস্যাটি নৃ-ভাষিক সংকট হিসেবে বোঝা যায়।  যে কারণে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে জাতীয়তাবাদী লড়াইয়ের মাধ্যমেই।


জাতীয় চেতনার রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেই রয়েছে এই জনগোষ্ঠীর প্রকৃত মুক্তি। 


রোহিঙ্গা সমস্যাকে ধর্মীয় সমস্যা আকারে বুঝতে গেলে এর বিপদ বাড়ে।  তাতে অমুসলিম বাঙালির পক্ষে এই সমস্যাকে স্বজাতির বিপদ হিসেবে দেখা সম্ভব হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে একসময় বিশ্বজনমত দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু এখন তা কেবল মুসলমানদের লড়াইয়ে পর্যবসিত।  ১৯৮৫ সালে কলকাতার লেখক সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন—‘আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি।’ ২০০৩ সালেও আমেরিকার ইরাক আক্রমণের বিরুদ্ধে কলকাতার রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে।  নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮ হাজার তরুণ ফিলিস্তিন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করতে গেছেন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‌এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে গঠিত হয় এই যোদ্ধা দল (ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস এবং প্যালেস্টাইন প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলুর সাক্ষ্য)।  জাসদের কর্নেল আবু তাহেরের ভাই ও আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালও ছিলেন এদের একজন।  অথচ এখন ফিলিস্তিনের জন্য এ উদ্যোগ ভাবা যায় না।  এর কারণ মধ্যপ্রাচ্যের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর লড়াইকে কেবল ইসলামের লড়াই হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে।  ফলে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে যদি মুসলমানের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, তাতে কেবল সংকটই বাড়বে।  এতে কয়েকটি মুসলিম রাষ্ট্রের অনুদান এবং কিছু মানুষকে পুনর্বাসন ছাড়া রোহিঙ্গাদের আর কোনো উপকারের আশা নেই।  নিজেদের শোচনীয় পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী বাঙালি মুসলমানের কাছে আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে রোহিঙ্গারা হয়তো মুসলমান পরিচয়কে তুলে ধরতে চাইবে।  কিন্তু এই পরিচয়ের চেয়েও তাদের জাতিগত পরিচয়কেই সামনে আনা জরুরি।  এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন রোহিঙ্গাদের আরাকানি বাংলাভাষীর স্বীকৃতি।  আমাদের দায়িত্ব রোহিঙ্গাদের সমস্যাটিকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠা করা।  রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সহায়তা ও জোরদার করা।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি ‘আরসা’ সারা দুনিয়ার কাছে পরিষ্কার দাবি করেছে, তাদেরকে জিহাদি নয়, জাতীয়তাবাদী বলে গণ্য করা হোক।  কয়েক দফা বিবৃতিতে তারা বলেছে, তাদের ওপর মিয়ানমারের নির্যাতন ধর্মীয় নয়, জাতিগত নিপীড়ন।  রাখাইন রাজ্য রোহিঙ্গা ও রাখাইন উভয়ের এবং রাষ্ট্রীয় সমান সুযোগ সবার প্রাপ্য বলেও পরিষ্কার জানিয়েছে তারা। ‘আরসা’র এই বক্তব্য লড়াইয়ের মাঠে থাকা একটি পরিণত জাতীয়তাবাদী সংগঠনকে আমাদের সামনে হাজির করে।  রোহিঙ্গাদের সাধারণভাবে রাজনীতি অসচেতন মনে করা হলেও ‘আরসা’ দেখাচ্ছে—দীর্ঘদিনের ব্যর্থ চিত্রায়ণ থেকে বের হয়ে এসে তারা এখন জাতীয় মুক্তির প্রকৃত পথের দিশা চিহ্নিত করতে সক্ষম। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মের লড়াইয়ের এই নীতি ও কৌশল আশাবাদী হওয়ার মতো। বারবার নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা, ধর্মীয় সম্পর্কের কারণে সামান্য আশ্রয়, প্রজন্মের পর প্রজন্মের ঠিকানাহীন পরবাস—কোনোটিই রোহিঙ্গাদের মুক্তি দিতে পারবে না।  বরং জাতীয় চেতনার রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেই রয়েছে এই জনগোষ্ঠীর প্রকৃত মুক্তি।  আর সেই লড়াইয়ে সমর্থন দেওয়াই বাঙালির জাতীয় কর্তব্য।

আলমগীর নিষাদ

জন্ম ১৩ নভেম্বর, ১৯৭৯; সিরাজগঞ্জ। কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পেশায় সাংবাদিক।

প্রকাশিত বই—

জোছনার ওহি [কবিতীর্থ, কলকাতা, ২০০৪]
জোছনার ওহি ও অন্যান্য কবিতা [বাংলালিপি, ঢাকা, ২০১৪]

ই-মেইল : kobialnishad@gmail.com