হোম গদ্য রাযীব কোরাইয়া’র মনোলগ : ২

রাযীব কোরাইয়া’র মনোলগ : ২

রাযীব কোরাইয়া’র মনোলগ : ২
498
0

এবং এভাবেই “ক্ষুধা” পৃথিবীর সবচেয়ে অশ্লীলতম শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে একদিন সকালে…

অর্গাজমিক ব্রেকফাস্ট

বাহ্যিক যৌনাঙ্গের অস্থিরতায় কাঁটাতার গলায় ফাঁসের মত চেপে বসে। তাতে নিঃশ্বাস ভারি হয়। সংকোচন-প্রসারণ এর খেলায় মাতে মাংসপেশী। বাহ্যিকতা থেকে আর একটু ভেতরে ঢুকলেই আরও বিশাল যৌনাঙ্গ, আরও একটু গভীরে গেলে আরও বিশাল। মানুষ জানে না, কাম-ক্রোধ সব ছাপিয়ে পাকস্থলী হয়ে ওঠে যৌনাঙ্গ, ক্ষুধা হয়ে ওঠে তীব্র যৌন অবদমনের প্রকাশ। পাকস্থলী থেকে বের হয়ে আসা হাইড্রোক্লোরিক এসিডের তীব্র যন্ত্রণা পেছনে ফেলে দেয় হরমোনের নেশাকে।

প্রতিটা ক্ষুধার্ত নারীর পাকস্থলী যেন এক একটা কামার্ত যৌনাঙ্গ।
প্রতিটা ক্ষুধার্ত পুরুষের পাকস্থলী এক একটা ক্ষুধার্ত উত্থিত যৌনাঙ্গ।

ক্ষুধার্ত উলঙ্গ রাস্তার মানবশিশুরা উত্থিত হয়ে থাকে। রাস্তার ধারে পরে থাকা আধখাওয়া একটা রুটির টুকরো নিয়ে একটি উলঙ্গ ছেলেশিশু এবং একটি উলঙ্গ মেয়েশিশুর মারামারি, কামড়াকামড়ি আর পাকস্থলীর অবদমিত যৌনসুখের অবসানের অ্যান্টিহরমোনাল নেশায় মেতে ওঠা দেখে বেশ্যার দালাল কামাল হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফ্যালে এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষিত সাদাশার্ট খদ্দেরের মুখ থেকে যৌনতার বুলেট বেরোয়…
“Damn fucking hungry people…”

অথচ, ততক্ষণে আধখাওয়া রুটির টুকরো তার আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ভুলে গিয়ে হয়ে উঠেছে অল্টারনেটিভ যৌনতার শিহরণ, আর ক্ষুধার্ত শিশুদ্বয় ভাগাভাগি করে খেয়ে নিয়েছে তাদের পাকস্থলীর যৌনাঙ্গের অতৃপ্ত অর্গাজম।

rajib
রাযীব কোরাইয়া

***

রাস্তার উল্টোপাশে আর্টিস্ট আনোয়ার সোহেল, যে সাদা ক্যানভাস নিয়ে প্রস্ততি নিয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে অশ্লীলতম চিত্রটি আঁকার, এই দৃশ্য দেখে তার মনে ও মগজে তোলপাড় ওঠে। যৌনতা, অযৌনতা, নগ্নতা, শিশ্ন, ভগাঙ্কুর, শিশু, রুটি, বেশ্যার দালাল, সব একাকার হয়ে যায় তার ভেতরে। উন্মাদের মত রং-এর স্ট্রোক টানে সে। এবং দীর্ঘক্ষণ যন্ত্রের মত তুলি টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে আর্টিস্ট আনোয়ার সোহেল হঠাৎ করেই আবিষ্কার করে, তার সাদা ক্যানভাসের ঠিক মাঝখানে শুধু মাত্র একটা শব্দই লেখা, “ক্ষুধা”।

এবং এভাবেই “ক্ষুধা” পৃথিবীর সবচেয়ে অশ্লীলতম শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে একদিন সকালে…

রাযীব কোরাইয়া’র মনোলগ : ১