হোম গদ্য রবীন্দ্রনাথের কবিতা কেন পড়ি কিংবা পড়ি না

রবীন্দ্রনাথের কবিতা কেন পড়ি কিংবা পড়ি না

রবীন্দ্রনাথের কবিতা কেন পড়ি কিংবা পড়ি না
1.22K
0

একশ কুড়ি বছরেরও বেশি আগে চিত্রায় ‘১৪০০ সাল’ নামের একটি কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন :

আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে,
আজি হতে শতবর্ষ পরে!


এটা ভেবে আমার খুব সুখ হয় যে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাকে কখনো আকর্ষণ করে নি, যেমন করে নি নজরুলের কবিতা।


‘কে তুমি’র জবাবে বলা যায়, আজ এই কবিতার যে পাঠক, মানসিকভাবে সে অপরিণত, অবিকশিত; ‘কৌতূহলভরে’ এই রচনা পড়া তার পক্ষেই কেবল সম্ভব। ভবিষ্যৎপাঠক ‘কোতূহলভরে’ তার কবিতা পড়বে, এই ধারটি খুব হাস্যকর, সরল, গোলমেলে, নিরীহ এবং আংশিকতায় নিঃশেষিত। এটা ঠিক, অপরিণত মনেই জাগানো যায় বিস্ময়, তৈরি করা যায় অপার কৌতূহল। একুশ শতক কেন, বিশ শতকের তৃতীয় দশক থেকে বাংলা ভাষায় ‘কৌতূহলভরে’ কবিতা পড়ার ধারাটি বাতিল হতে শুরু করে। রোম্যান্টিকরা কৌতূহলে খুব আস্থাবান; এর প্রকাশ তারা ঘটান পাঠকের মনে বিস্ময় সৃষ্টির অভিপ্রায় পূরণের মধ্য দিয়ে। আধুনিক পাঠক কৌতূহল নিয়ে কবিতা পড়ে না; পড়ে সাহিত্যের ইতিহাস। কিন্তু কবিতার পাঠক ইতিহাসের পাঠক নয়। কেবল ‘কৌতূহলভরে’ কোনো কবিতা পড়ার মানে এই যে, রচনাটি বিস্ময় ও জ্ঞানের একটা উৎসমাত্রে এসে ঠেকেছে; এর আবেদন পাঠকের এই উপযোগ মেটানোর স্তরে নেমে গেছে। এখন অবশ্য বিস্ময়ের কিছুই কবিতাটিতে নেই; তবে তখনকার ভাষা কেমন ছিল, তা জানতে এটি সাহায্য করতে পারে। সত্য যে, এক শ বছর পরের পাঠক সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারণা সঠিক ছিল না। হয়তো, পাঠকের পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি উদাসীন ছিলেন।

এটা ভেবে আমার খুব সুখ হয় যে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাকে কখনো আকর্ষণ করে নি, যেমন করে নি নজরুলের কবিতা। আজ মনে হয়, খুব ভালো ক’রে আমার মনে হয়, কবিতায় রবীন্দ্রনাথের অপচয় বিপুল, শামসুর রাহমানও অত অপচয় করেন নি। এটা অবশ্য বিপুল রচনারই নিয়তি। তবে বড় কবিদের অপচয়ও বেশ মূল্যবান। কেননা, তাদের কাছ থেকে শেখার রয়েছে অনেক কিছুই। রবীন্দ্রনাথের কাছে যেমন শেখার আছে ভাষার আড়ষ্টতা কিভাবে কাটিয়ে উঠতে হয়; ছন্দের নিরীক্ষা, শব্দের ঐশ্বর্যের সঙ্গে প্রাত্যহিকতার মেলবন্ধন কেমন করে সম্ভব ইত্যাদি। এসব অবশ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে সাহিত্যের প্রাথমিক অবস্থায়। রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ব এ জায়গাতেই।

তিনটি উপাধি নিয়তির মতো জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামের সঙ্গে : বিশ্বকবি, কবিগুরু ও চিরআধুনিক। কবিদের নামের সঙ্গে উপাধি জুড়ে দেওয়া বাঙালি মধ্যবিত্তের সংস্কার ও ধর্ম। এও মনে হতে পারে, আবেগের আতিশয্যে এমনটি ঘটেছে; কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে কপটতা ও চালাকি। বিহারীলাল চক্রবর্তী, যাকে গুরু মেনেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তার জন্যেও বরাদ্দ হয়েছে একটি উপাধি—‘ভোরের পাখি’। নজরুলের জন্যে যেমন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘সাম্যের কবি’ আখ্যা। যদিও কবিতায় নজরুল বিদ্রোহের চেয়ে আপোস করেছেন বেশি; যে-সাম্যের ধারণা তার রচনায় প্রকাশিত, তা খুব স্থূল ও অপরিণত। যা হোক, রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের প্রতি বাঙালির আবেগের চেহারা একটু ভালো ক’রে দেখলে এর মধ্যে যে কপটতা রয়েছে, তা টের পাওয়া যায়। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগে সাহিত্যে তো বটেই, শিক্ষিত সমাজেও রবীন্দ্রনাথ লক্ষণীয়ভাবে স্বীকৃত ছিলেন না। নোবেল পাওয়ার পর যারা ছিলেন তার কবিতার কঠোর সমালোচক, তারাও ভোল পাল্টে ফেলেন। তিনি রাতারাতি হয়ে ওঠেন বিখ্যাত ও নমস্য, বাঙালি তার জন্যে বরাদ্দ করে একটি উপাধি—‘বিশ্বকবি’। এর মধ্য দিয়ে তারা প্রচার করে যে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম কবি, কেননা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পুরস্কারটি তিনি পেয়েছেন। ভুল ক’রে দেয়া ‘বিশ্বকবি’ উপাধিটির পক্ষে অনেকে তার ‘বিশ্ববীক্ষা’র কথা গালভরে বলেন, কিন্তু ‘রবীন্দ্রনাথের বিশ্ববীক্ষা’ জিনিশটি কী, তা আজও কেউ বোঝাতে পারেন নি।

বাঙালির কপটতার সম্ভবত সবচেয়ে বড় শিকার রবীন্দ্রনাথ। ‘বিশ্বকবি’ উপাধি দেওয়ার আগে বিশ্বের তো বটেই, ইংরেজি কবিতাই তারা ঠিকমতো পড়ে নি; হয়তো ভালো ক’রে পড়ে নি রবীন্দ্রনাথও। আখ্যাটির উৎস নোবেল পুরস্কার; কিন্তু গীতাঞ্জলি (১৯১০) নামের যে কাব্যগ্রন্থের জন্যে (রবীন্দ্রনাথ নোবেল পান মূলত গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সঙস অফারিঙ্‌স্‌-এর জন্যে, যাতে যোগ হয়েছিল তার আরও কিছু কবিতার অনুবাদ) এই অর্জন, তা বাঙালি হয়তো ভালো ক’রে পড়ে নি; পড়লেও প্রকাশ করে নি বা এড়িয়ে গেছে যে এটি ধারণ ক’রে আছে কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতা। এর বেশ কটি কবিতায় প্রাধান্য পেয়েছে প্রভু, দেবতা আর প্রার্থনার প্রসঙ্গ। একেবারেই ভক্তিমূলক রচনা এগুলো, মনে হয় কবির কোনো কাজ নেই প্রভু কিংবা দেবতার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে মগ্ন ও আচ্ছন্ন হওয়া ছাড়া। গীতাঞ্জলির ‘প্রতিসৃষ্টি’ কবিতায় তিনি লিখেছেন :

‘হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহপ্রাণ
কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান!
আমার নয়নে তোমার বিশ্বছবি
দেখিয়া লইতে সাধ যায় তব কবি—
আমার মুগ্ধ শ্রবণে নীরব রহি
শুনিয়া লইতে চাহ আপনার গান ॥’


‘চিরআধুনিক’ উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের প্রতি বাঙালির কপটতার খুব সুন্দর উদাহরণ।


‘কবিগুরু’ উপাধির আগে বাঙালি ভেবে দেখে নি যে কবিদের কোনো গুরু নেই, হয় না। কবির কোনো প্রতিপক্ষও নেই প্রথাগত ভাষা ও চেতনা ছাড়া। সাহিত্যে গুরুর ধারণা চলে না, কেননা, তাতে শিষ্য বা ভক্তের উপস্থিতি অনিবার্য হয়ে পড়ে। শিষ্যের কাজ গুরুর প্রশংসায় জীবন পার ক’রে দেওয়া; এখানে প্রশ্নের কোনো সুযোগ নেই। গুরু-শিষ্যে সাহিত্য হয় না; রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো কবির ওপর গুরুর ভাবমূর্তি আরোপ করা গেলেও সেই ভাবমূর্তিতে সাহিত্যের কিছু যায়-আসে না। গুরুর স্থান সাহিত্যে নেই, ফলে শিষ্যেরও নেই : বিশ শতকের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ দশকজুড়ে যে বিপুল রবীন্দ্রশিষ্যের উত্থান ঘটেছিল বাংলা কবিতায়, তাদের প্রত্যেকেরই মৃত্যু ঘটেছে জীবদ্দশাতেই। তত দিন তারা বেঁচেছিলেন, যত দিন বেঁচেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কবি হিশেবে জীবদ্দশাতেই, হায়, তারও ঘটেছে মৃত্যু। এর কারণ ভাষার গতিশীলতা, চেতনার পরিবর্তন। এই চেতনাবদল ঘটে বিশ শতকের চতুর্থ দশকে; সে হিশেবে কবি রবীন্দ্রনাথ বেঁচে ছিলেন, মানসীর প্রকাশবছর ১৮৯০ থেকে জীবনানন্দ দাশের ধূসর পাণ্ডুলিপির প্রকাশবছর ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ধরলে, ৪৬ বছর; সাহিত্যের ইতিহাসে এটি কম সময় নয়, যদি সেই ইতিহাস খুব দীর্ঘ না হয়। কিন্তু দিকে-দিকে আজও দেখা যায় রবীন্দ্রমন্দিরের পুরোহিতদের; দেখে মনে হয় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস খুব ছোট, হয়তো দেড় শ বছরের কিছু কম হবে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস যারা লিখেছেন, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই রবীন্দ্রমন্দিরের পুরোহিত, রবীন্দ্রনাথ নিয়ে তাদের আতিশয্যের শেষ নেই।

‘চিরআধুনিক’ উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের প্রতি বাঙালির কপটতার খুব সুন্দর উদাহরণ। শব্দটির স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথই, তবে বাঙালি তা আবিষ্কার ও ব্যবহার করেছে তাকে প্রশ্নোর্ধ্ব উচ্চতায় তুলে রাখার জন্য। ‘আধুনিক’ শব্দটি সুখকর একটা মোহ জাগিয়েছিল বিশ শতকের শুরুতে, বাঙালি এর অর্থ পুরোপুরি বুঝতে পেরেছিল বিশ শতকের তৃতীয় দশকে; কবিতায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে জীবনানন্দ দাশের ধূসর পাণ্ডুলিপি প্রকাশের মধ্য দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের পত্রপুট ও শ্যামলী একই বছর প্রকাশিত হয়; এ-দুটোর কোনোটিই আধুনিক নয়। দুটি কাব্যেই রোম্যান্টিকতা ও মরমিপনা জড়াজড়ি ক’রে আছে। অধিকন্তু, এই তিনটি বই পাশাপাশি রেখে পড়লে খুব নিরীহ মনে হয় রবীন্দ্রনাথকে। যাই হোক, আধুনিক হওয়ার চেষ্টা দেখা যায় তার অন্তিমপর্বের কবিতায় এবং তা সরল সংশয় আর অপরিণত ব্যক্তিক প্রকাশে ভেস্তে গেছে। তাকে ‘চিরআধুনিক’ আখ্যা দেওয়ার মূলে কাজ করেছে বাঙালি মধ্যবিত্তের আত্মপরিচয়ের রাজনীতি। বাঙালি মধ্যবিত্ত সব সময় চেয়েছে একটা সাংস্কৃতিক অবলম্বন, যা তার স্ট্যাটাস, আভিজাত্য, আধিপত্য, ব্যক্তি ও শ্রেণিস্বার্থের কাজে লাগতে পারে; সব সময়ের জন্যে যা ব্যবহারযোগ্য। মহাকাব্যের যুগ ফুরিয়ে গেছে ব’লে তারা ছুড়ে ফেলেছে মাইকেল মধুসূদন দত্তকে; এখানেও রয়েছে কপটতা; কেবল সাহিত্যের ইতিহাস ও পাঠ্যসূচির সীমায় তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে সব সময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য মনে হয়েছে বাঙালির, নজরুলকেও; এই দুই কবির জন্ম না হলে হয়তো বিহারীলালকে বেছে নেওয়া হতো, জীবনানন্দকেও। যা-ই হোক, ‘চিরআধুনিক’ শুনতে খুব সুখকর, কিন্তু শিল্পকলায় কিছুই নেই চিরআধুনিক ব’লে; এটা রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি ও বাঙালি মধ্যবিত্তের আবিষ্কার, যা তারা করেছে রবীন্দ্রনাথকে সব সময়ের জন্যে সবচেয়ে উঁচুতে রেখে আর সব শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ কবিকে গৌণ ক’রে রাখার উদ্দেশ্যেই। শিল্পকলায় ‘আধুনিক’ শব্দটি এক বিশেষ অর্থে ও তাৎপর্যে ব্যবহৃত, হার্বার্ট রিড যার চিহ্নায়নে ‘ক্যাটাস্ট্রফি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বাংলা ভাষায় এর প্রসারিত অনুবাদ হলো— ‘বিপর্যয়কারী বহুমুখী চিন্তার জটিল প্রকাশ’। আরও প্রসারিত করলে এর মানে থেকে তিনটি প্রান্তের উন্মোচন ঘটে : আধুনিকতা হলো এমন চেতনা, যা প্রথমত বিপর্যয়কারী, দ্বিতীয়ত বহুমুখী এবং তৃতীয়ত জটিল। প্রথা ও সংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, প্রচলিত ধ্যান-ধারণায় আঘাত ইত্যাদি আধুনিকতার সাধারণ লক্ষণ। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আছে কাতরতা, সারল্য আর একরৈখিকতা; প্রথা ও সংস্কারে বারবার তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। রোম্যান্টিকেরাও তা করেন না, কিন্তু তার পক্ষে এমনটি সম্ভব হয়েছে। বারবার তার কবিতায় ঘুরেফিরে এসেছে ‘প্রভু’, ‘দেবতা’, ‘প্রার্থনা’, ‘পূজা’ ইত্যাদি অনুষঙ্গ। বক্তব্যটির সমর্থনে বহু দৃষ্টান্ত ব্যবহার ক’রে দেখা যেতে পারে। তবে এখন পত্রপুট কাব্যের ‘পৃথিবী’ কবিতার একটা অংশ প’ড়ে নেওয়া যাক :

‘দেবতা এলেন পরযুগে, মন্ত্র পড়লেন দানব দমনের—
জড়ের ঔদ্ধত্য হল অভিভূত;
জীবধাত্রী বসলেন শ্যামল আস্তরণ পেতে।
উষা দাঁড়ালেন পূর্বাচলের শিখরচূড়ায়,
পশ্চিমসাগরতীরে সন্ধ্যা নামলেন মাথায় নিয়ে শান্তিঘট ॥’


কবিতায় রবীন্দ্রনাথ আধুনিক নন; চিরআধুনিকও নন


কবিতাটিতে এমন এক ‘পৃথিবী’র বর্ণনা রয়েছে, যেখানে এর ‘ইতিহাসের আদিপর্বে দানবের প্রতাপ ছিল’; দেবতা এসে দানবদের শিকলে বেঁধে ফেলে, তারা ‘নম্র’ হয়। মন্ত্রেই এমনটি ঘটে। যা-ই ঘটুক, রূপকার্থেও যদি ‘দেবতা’ শব্দটির প্রয়োগ হয়ে থাকে, বাস্তবতা হলো, এমন রূপকের প্রয়োজন ফুরিয়েছিল বেশ আগেই। দেবতায় রোম্যান্টিকরা অনাস্থা প্রকাশ করতে থাকেন আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধ্ব থেকে, আর বিশ শতকের প্রথম দশকে আধুনিকরা বাতিল ক’রে দেন দেবতার ধারণা।

কবিতায় রবীন্দ্রনাথ আধুনিক নন; চিরআধুনিকও নন, যদি সেরকম কিছু থাকে। সত্য যে, তা নেই। আধুনিক সাহিত্য এক শতাব্দী পরেও আধুনিক সাহিত্য, এর ‘চির’ হওয়ার কিছু নেই। আধুনিক হওয়া বাধ্যতামূলক নয় কোনো কবির জন্যে। তবে প্রকৃত কবির লক্ষণ ধরা পড়ে তার রচনায় সংস্কৃতির অগ্রগমনের কাজটি কেমন ক’রে কতটা সম্পন্ন হয়েছে, তা লক্ষ করলে। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও সেটি দেখা জরুরি। দেখলে বোঝা যায়, তিনি সফল হয়েছেন অপরিণত অবস্থা থেকে বাংলা ভাষাকে কবিতার জন্যে উপযোগী ক’রে তোলার সাধনায়। সেই ভাষারও মৃত্যু ঘটেছে বেশ আগে। তাহলে রবীন্দ্রনাথের কবিতা কেন পড়ব? খুব সহজ এর উত্তর : সংস্কৃতিকে বোঝার জন্য। তবে বেশ আগেই সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছেন তিনি। কবির মৃত্যু হলে তিনি তা-ই হয়ে ওঠেন। সেই সংস্কৃতি এক সময় প্রথা হয়ে যায়। প্রথাকে ভাঙতে হয়। কিন্তু হায়, বাঙালি মধ্যবিত্ত এখনও রবীন্দ্রপ্রথার অসহায় ও স্থবির বাসিন্দা।

চঞ্চল আশরাফ

চঞ্চল আশরাফ

জন্ম ১২ জানুয়ারি, ১৯৬৯; দাগনভুইয়া, ফেনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
কবিতাগ্রন্থ : চোখ নেই দৃশ্য নেই (১৯৯৩), অসমাপ্ত শিরদাঁড়া (১৯৯৬), ও-মুদ্রা রহস্যে মেশে (২০০২), গোপনতাকামী আগুনের প্রকাশ্য রেখাগুলো (২০০৮), খুব গান হলো, চলো (২০১৩)।

উপন্যাস : কোনো এক গহ্বর থেকে (১৯৯৭), যে মৎস্যনারী (২০১১)।

গল্পগ্রন্থ : শূন্যতার বিরুদ্ধে মানুষের জয়ধ্বনি (১৯৯৯), সেই স্বপ্ন, যেখানে মানুষের মৃত্যু ঘটে (২০০৭), কোথাও না অথচ সবখানে (২০১৩)।

স্মৃতিগ্রন্থ : আমার হুমায়ুন আজাদ (২০১০)।
প্রবন্ধগ্রন্থ : কবিতার সৌন্দর্য ও অন্যান্য বিবেচনা (২০১১)

ই-মেইল : chanchalashraf1969@yahoo.com
চঞ্চল আশরাফ