হোম গদ্য মিথের আয়নায় মানিক-সাহিত্য

মিথের আয়নায় মানিক-সাহিত্য

মিথের আয়নায় মানিক-সাহিত্য
1.14K
0

মিথ প্রাগৈতিহাসিক মানুষের কল্পনাশক্তির রমণীয় অভিব্যক্তি মাত্র। বাঞ্ছিতকে দূরত্বের বাধা দূর করে প্রাপ্তির নৈকট্যের মধ্যে অনুভব করা অতিপ্রাকৃত বাসনার মধ্যে যে রোম্যান্টিকতা, মিথের বিশেষ লক্ষণ তাই। বীরদের আখ্যান, প্রচলিত সব ঐন্দ্রজালিক কিংবদন্তি, ধর্মীয় সব বিশ্বাস, রহস্যময়তা আর উন্মেষ, ইতিহাসের সাথে ঐতিহ্যগতভাবে জড়িয়ে থাকা গাথাসমূহ, অতীতের সাথে সাজুয্যপূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা অথবা সামাজিক প্রথা বা রীতি—এসব মিলিয়েই মিথের সামষ্টিক রূপ। পৃথিবী জোড়া বিভিন্ন জাতি নিজেদের মতো করে সঞ্চিত রেখেছে সেই কাহিনিগুলি, মৌলিক কাঠামোর ওপরে পড়েছে দেশ ও কালে সংযোজিত রূপ। তৈরি হয়েছে মিথ, ধ্রুপদী পুরাণবৃত্ত।


সিগমুন্ড ফ্রয়েড পুরাকথাকে বলেছেন মানুষের আদি সাহিত্য, যেখানে থাকে ব্যক্তিমানসের আকাঙ্ক্ষার পদক্ষেপ।


ভাষাতাত্বিক ফ্রেডারিখ ম্যাক্সমুলারের মতে, পৃথিবীর প্রাচীন ভাষাবিকাশের স্তর-পরম্পরায় তৈরি হয় পুরাকথা। দেবতা বা দেবভাবনা পুরাকথার শক্তির সংহত রূপ। রঁল্যা বার্ত বলেন, ‘Myth is a system of communication, that it is message’। দেশকালধৃত দৃশ্যমান জগতের আড়ালে যে অনাদি অনন্ত রহস্য থাকে, তা পুরাকথাই নির্মাণ করে। পৃথিবীর সমস্ত সমাজ ধারণ করে পুরাকথাকে। পুরাকথার মধ্যে মিশে থাকে ছোট ছোট অন্য পুরাকথার উপাদান। নৃতাত্ত্বিক ক্লদ লেভি স্ট্রোস একে বলেছেন, ‘Mythical cell’। সিগমুন্ড ফ্রয়েড পুরাকথাকে বলেছেন মানুষের আদি সাহিত্য, যেখানে থাকে ব্যক্তিমানসের আকাঙ্ক্ষার পদক্ষেপ। ফ্রয়েডের ভাবশিষ্য ইয়ুংকে বলতে শোনা যায়, ‘collective unconsciousness’, যা বর্তমানেও মানুষের মনে সক্রিয়। পুরাকথায় বা মিথে ধরা পড়ে জাতির স্মৃতি-পরম্পরা। মিথের সাথে একই সমান্তরালে যে ব্যাপারটি চলে আসে সেটি মিথলজি। মিথের যে চর্চা বা আলোচনা তাকেই বলা হচ্ছে মিথলজি বা পুরাণতত্ত্ব। মিথলজির শাব্দিক অর্থ আসে গ্রিক শব্দ মিথলগিয়া (mythología) থেকে, যার সমন্বয়মূলত মিথোস (mythos) আর লোগোস (logos) শব্দদ্বয় হতে। মিথোস অর্থ বর্ণনাত্মক আর লোগোস বোঝাচ্ছে বক্তব্য বা কথন। মিথলজির বুৎপত্তিগত প্রকাশ তাই বর্ণনাত্মক বক্তব্য বা কথন হলেও এর বিস্তৃতি যে কত ব্যাপক, এর সামগ্রিক বিন্যাস দিয়ে নিশ্চয়ই তা বোঝা যায়। আর মিথের শ্রেণিগত বিন্যাস হতে পারে সামাজিক, ধর্মীয়, ভাষিক এবং সভ্যতাভিত্তিক। মিথের আলোচনায় যে মিথগুলো সর্বাধিক সমৃদ্ধ সেগুলোর মধ্যে ভারতীয় মিথ, গ্রিক মিথ, মিশরীয় মিথ, নর্স মিথ, ক্রিশ্চিয়ান মিথ, বৌদ্ধ মিথ, হিন্দু মিথ, ইংরেজি মিথ, লাতিন মিথ, রেডইন্ডিয়ান মিথ ইত্যাদি প্রাণিধানযোগ্য। এসবই মিথের তাত্ত্বিক আলোচনা, কিন্তু মিথের অর্ন্তগঠন এত সরল নয়। মিথের সাথে মিশে থাকে বিশ্বাস, ভাষা, সমাজ, শিক্ষা, ধর্ম, জীবনযাপন, সভ্যতার আদিরূপ—আরো অনেক প্রয়োজনীয় মানস-গাঠনিক একক। মিথ ধারণ করে পুরনো সব গল্প, কালের বিবর্তনে তা ধারণ করে বর্তমানের প্রচলিত ধাবমানতার খোলস। আদতে মিথের মূলচিন্তা একই এবং তা একই ছিল সব সময় । স্থানিক-কালিক ভেদে রূপভেদের রূপান্তর ঘটে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভৌগোলিক ভিন্নতায় মিথের নানান বর্ণ ফুটে ওঠে ক্রমান্বয়ে। একেবারে মূল থেকে বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ শতকের বিদগ্ধ ও প্রধান মিথতাত্ত্বিক জোসেফ ক্যাম্পবেল তাঁর The Hero With a Thousand Faces বইতে যে ধারণা প্রকাশ করেন সেটি হচ্ছে, সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি প্রবাহে বাধা রায় মিথের সত্যিকারের প্রকাশ মেলে–১. প্রকৃতি আর প্রাকৃ্তিক জগতের সাথে মানুষের সম্পর্ক স্থাপন, ২. সমাজতাত্ত্বিক বিভিন্ন অনুষঙ্গের সাথে ব্যক্তি জীবনের মিশেলের অভিজ্ঞতা অর্জন। তাই এভাবে বলতে পারি মিথ বা পুরাণ হচ্ছে মানব জীবনের এক ত্রিকালসন্ধি চলমান গাঁথা ; যা কিনা অতীতের অস্পর্শ সব হাতছানিকে ধারণ করে বর্তমানের চৌকাঠে, আর সেখান থেকেই ভবিতব্যের স্বপ্নময়তা মানুষের চোখে গড়ে দেয় সন্ধ্যাকালের রহস্যময়তার সেতুবন্ধনের মতো।


ঈশ্বরে আস্থা না রাখা মানিক এক অন্য তত্ত্বের সন্ধান দিয়েছিলেন তাঁর লেখায়।


বাংলা সাহিত্যে কৃত্তিবাসী রামায়ণ থেকে হাল আমলের কবি লেখকরা মিথকে ব্যবহার করেছেন যুগের প্র্রেক্ষিতে। মাইকেল এবং রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যে এর ভুরি ভুরি পরিমাণ নির্দশন পাওয়া যায়। তারপরেও কবি-লেখকরা এ যাবৎকাল পর্যন্ত মিথ-পুরাণকে নানাভাবে ভেঙেছেন, আবার গড়েছেনও ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিমানসের রোগ নির্ণয় ও রোগ নিরাময়ের পথ অনুসন্ধানের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছিল–ব্যক্তি সমাজজাত-রুগ্‌ণতা, ক্ষয়ের উৎস ও সমাজ সংস্কার। শুধুমাত্র ফ্র্রয়েডীয় মনোবিকলন তত্ত্বচর্চা নয়, মনো অস্তিত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ নয়, অথবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষুধা নয়, যৌনক্ষুধার নানামুখী বিশ্লেষণও নয়, ঈশ্বরে আস্থা না রাখা মানিক এক অন্য তত্ত্বের সন্ধান দিয়েছিলেন তাঁর লেখায়। প্রচলিত, ছকে বাঁধা গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে তির্যক ভঙ্গিতে তাকালে একজন অপ্রচলিত মানিককে দেখতে পাবো আমরা। একদিকে তিনি যেমন বিপ্লবী শক্তিশালী অভিযাত্রার পথে ছিলেন তেমনি বাংলার লৌকিক পুরাকাহিনির (Myth) সামান্য প্রয়োগও তাঁর ভিন্নমাত্রার পর্যবেক্ষণের ফসল।

মানিকের অনবদ্য উপন্যাস ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’য় একটি চরিত্র যাদব। সূর্য বিজ্ঞানে পারদর্শী যাদব দাবি করে যে রথের দিন তাঁর প্রাণ বিয়োগ হবে। আধ্যাত্মিক মানব হিশেবে গ্রামের পর গ্রাম ছড়িয়ে পড়ে তার খ্যাতি। একটি মিথ্যা ঘোষণা পাগল করে দেয় মানুষকে। তখনই মানিক বলেছেন,

নির্লোভ সদাচারী শান্তিপূর্ণ নিরীহ মানুষ, মানুষের কাছে অপার্থিব ক্ষমতার অধিকারী হইয়া থাকিবার কামনাও পার্থিব কোন লাভের জন্য নয়। ও যেন একটা শখ যাদবের, একটা খেয়াল।

যাদবের নৈকট্য লাভ ও দেহত্যাগ দেখার জন্য গ্রামে মানুষের ভীড় জমে গেছে। এসব দেখেও যাদব বিচলিত হয় না। সেও রথের দিনের অপেক্ষায় মগ্ন হয়ে যায়। নিজ ইচ্ছায় দেহত্যাগ করবে যাদব। কিন্তু এ তো গ্রামবাসীর জানা নাই। তারা জানে যাদব সূর্যবিজ্ঞানের জ্ঞান থেকে অলৌকিক ভাবে জেনেছে তার প্রাণ যাবে রথের দিন। এক পর্যায়ে যাদবের দেহ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। স্বেচ্ছায় দেহত্যাগ করা যাদবের ঘটনা সবার কাছে অলৌকিক হয়েই রয়ে যায়। তখনই মানিক উল্লেখ করেন এক অসাধারণ বাক্য।

সত্য-মিথ্যার জড়ানো জগৎ। মিথ্যারও মহত্ত্ব আছে। হাজার হাজার মানুষকে পাগল করিয়া দিতে পারে মিথ্যার মোহ। চিরকাল সত্য হইয়াও থাকিতে পারে মিথ্যা’।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যুগের ফসল বস্ত্রসঙ্কট যাকে কেন্দ্র করে মানিক লিখেছিলেন, ‘দুঃশাসনীয়া’ নামটির আড়ালেই আছে মহাভারতের এক কৌরব ভ্রাতা দুঃশাসনের নাম। শকুনির পাশা খেলার মঞ্চে যুধিষ্ঠির বাজি খেলায় হেরে গেলে মানবিকতাকে অতিক্রম করে শাস্তি স্বরূপ দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করে দুঃশাসন। ঠিক সেভাবেই যেন মানিকের দুঃশাসনীয়া গল্পটি মহাভারতের সেই আখ্যানটিই তুলে ধরে। দুঃশাসনের মতো যুদ্ধপরবর্তী সমাজে কালোবাজারী, বস্ত্রসঙ্কট, দ্রৌপদীর নয় সারা গ্রাম বাংলার দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করে চলেছে দুঃশাসনীয়া অপরাধ। পুরাকাহিনি আর বাস্তব সমান বা এক হয় না, তাই মহাভারতের নারীর লজ্জা ফিরে এলেও বাংলার নারীর লজ্জা কে ফিরিয়ে দেবে, এমনি ইঙ্গিত দিয়েছেন মানিক এই গল্পে।

চোখের পলকে একটি চাপা উলঙ্গিনী–বিদ্যুৎ ঝলকের মতো ফিরে যাবে বেড়ার ওপাশে…. কোন ছায়ার গায়ে লটকানো থাকে এক ফালি ন্যাকড়া, কোন ছায়ার পাশে কোমরে জড়ানো থাকে গাছের পাতার সেলাই করা ঘাঘরা, কোন ছায়াকে ঘিরে থাকে সীমাহীন রাত্রির আবছা আঁধার, কুরুসভায় দ্রৌপদীর অন্তহীন অবর্ণনীয় রূপক বস্ত্রের মতো’।

যাকে ঘুষ দিতে হয় গল্পটির আড়ালেও রামায়ণের আদল লক্ষণীয়। দ্বাপর যুগে রাম সীতাকে পরপুরুষ রাবণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য গণ্ডি কেটে দিয়ে যেতেন আর কলিযুগের রাম অর্থাৎ মাখন অর্থলোভে সীতাকে রক্ষা করা যায় তো দূরের কথা সুশীলাকে দাস সাহেবের লোলুপ গ্রাসে তুলে দিয়ে যায়। এও তো আরও এক পতিতমনা, দুর্বল রামের কাহিনি। লক্ষ টাকার কনট্রাক্ট পাওয়ার লোভে মাখন সুশীলাকে দাস সাহেবের কাছে অরক্ষিত অবস্থায় রেখে চলে যায়, সকল পরিস্থিতি জেনেও। অর্থলোভই এই অনৈতিক কাজের উৎস।

মানিকের আরেকটি গল্পকুষ্ঠরোগীর বৌযেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র যতীন এবং তার মহাশ্বেতা। বিবাহের পর যতীন মরণব্যাধি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ‘পুরুষ মানুষের আঙ্গুল তো নয়, উর্বশী মেনকার কাছ থেকে ধার করেছো’। জ্যোতির্ময় পতিব্রতা’র নিষ্ঠা মহাশ্বেতার স্বামীকে ভালো করার।

কবি বাণভট্ট ও পুত্র ভূষণভট্টের কাব্য কাদম্বরী’ কাব্যের চরিত্র মহাশ্বেতা। কাদম্বরী কাব্যে মহাশ্বেতা তার প্র্রিয়তম পুণ্ডরীকের জন্য বিরহ জ্বালায় প্রাণ বিসর্জন দিতে চাইলে পুণ্ডরীককে পুনর্বার ফিরে পাওয়ার দৈববানী প্র্রেরিত হয় মর্ত্যে। বহু প্রলোভনের হাতছানি উপেক্ষা করে মহাশ্বেতা পুণ্ডরীকের অপেক্ষায় তপস্যারত। এখানে লক্ষণীয় যে, মহাশ্বেতা দুর্গা বা পার্বতীর অপর নাম। তারা শিবের জন্য প্রার্থনা করেছেন তেমনি মানিকের মহাশ্বেতা স্বামী যতীনের জন্য প্রার্থনারত। পুণ্ডরীক শব্দের অর্থ শ্বেতপদ্ম। শ্বেত পদ্মের মতো কোমল ছিল যতীন। মদনের জন্য রতি, শিবের জন্য পাবর্তী, পুণ্ডরীকের জন্য মহাশ্বেতা এবং যতীনের জন্য আর এক মহাশ্বেতার প্রার্থনার চিত্র পুরাকথার গণ্ডিকে অতিক্রম করে যায়।


গর্ভবতী অবস্থায় কোন নারীর মৃত্যু হলে সে হবে পেত্নী, বাঁশ গাছে হবে তার অবস্থান।


হলুদ অশুভ শক্তির প্রতিষেধক। হলুদ পোড়া গল্পেও অপঘাতে মৃত্যু হওয়া বলাই-এর ভাইপো নবীনের বউ যখন আত্মজনিত রোগে ভুগছে তখন ‘ভর-সাঁঝে ভর ছড়াতে এসে’ কুঞ্জ গুনিন হলুদ পোড়াকে শুভ উপাদান হিশেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই গল্পের নানা জায়গায় নানা বিধিনিষেধ মিথের সাথে জড়িত—কম বয়সী মেয়েরা আসতে সাহস পায় নি, যদি নজর লাগে—নূতন বাঁশ কেটে আগা না পুড়িয়ে আড়াআড়ি রাখা এবং তা না ডিঙানো— বিকালে মাছ রান্না না করা, কারণ এঁটোকাঁটা অশরীরী আত্মাকে আকর্ষণ করে…ইত্যাদি।

গর্ভবতী অবস্থায় কোনো নারীর মৃত্যু হলে সে হবে পেত্নী, বাঁশ গাছে হবে তার অবস্থান। এমন প্লট ব্যবহার করেছেন মানিক যা লোকাচার ও লৌকিক মিথের মিশ্রণে বিন্যস্ত। এবং তা অনায়াসে মানিকের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমাকে অতিক্রম করে। তাই এই গল্প মনস্তাত্ত্বিমূলক বিশ্লেষণের বিচারকে ছাড়িয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতির আঙিনায় চমকপ্রদ অবস্থান নেয়।

প্রগতিশীল মার্কসবাদী লেখকের সাথে মিথের সর্ম্পক ও সংযোগ যেমন মেনে নেওয়া যায় না, তেমনি আত্মহত্যার অধিকার গল্পে মানিকের নীলমণির দুঃখ, দুর্দশা নীলাম্বর দেবাদিদেব শিবের চিত্রকল্পের সাদৃশ্যও অস্বীকার করা যায় না।

এভাবে মানিক-সাহিত্যে মিথ ঢুকে গেছে ছবির মতো, মিথের আয়নায় মানিক-সাহিত্যের আস্বাদ তাই মার্কসবাদী মানিককে একটু দ্বন্দ্বেই ফেলে দেয়, তাঁর ডায়েরীতে মায়ের চরণতলে আশ্রয় নেবার কথা দেখতে পাওয়া যায়। প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার মানুষ মানিক শেষ বয়সে এসে ঐশ্বরিক চেতনায় থমকে গিয়ে বাস্তবতার চরম সত্যের কাছে মাথা নত করেছিলেন। পুরাকাহিনিকে আশ্রয় করে তাঁর রচনা তাঁর চিন্তা-চেতনার প্রশ্নে দ্বান্দিকতার সুযোগ রাখে। তবে এতে তাঁর শিল্পসত্তার একাধিক প্যাটার্নের কথাও মনে করিয়ে দেয়। লৌকিক মিথ বা অলৌকিকত্বের ছোঁয়ায় মানিক-সাহিত্য এক অভিনব ব্যাখ্যার রঙে রঙীন একথা অনস্বীকার্য।

আঁখি সিদ্দিকা

আঁখি সিদ্দিকা

জন্ম ১৭ অক্টোবর, মানিকগঞ্জ। বাংলায় স্নাতকোত্তর।
পেশা : চাকরি; কর্মকর্তা, আইসিবি।

প্রকাশিত বই :
ছায়াচর
বালক
নক্ষত্রের জলে কয়েকটি তারা
বিষণ্ন সরাইখানা

বই-চড়ুইয়ের সাদা ডিম ভাঙ্গা দুপুরে (২০১৬)

ই-মেইল : ankheesiddika@Gmail.com.
আঁখি সিদ্দিকা