হোম গদ্য বার্মিজ স্যান্ডেল ও মুরগিছানা

বার্মিজ স্যান্ডেল ও মুরগিছানা

বার্মিজ স্যান্ডেল ও মুরগিছানা
1.87K
0

ভোরের আলো ফুটলে বোটকু আর ছোটকু দেখল তাদের ছোট্ট ঘর পানিতে ভাসছে। ঘরের গলা পর্যন্ত উঠে গেছে পানি। কেমন ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ঢেউ উঠছে। ভাগ্যিস রাতটা তারা ঘরের চালে কাটিয়েছিল। ভেতরে থাকলে ভোরের আলো আর দেখা লাগত না। ওদের মা পাখা ছড়িয়ে বাচ্চাদুটোকে কোলের ভেতর টেনে নিল। বোটকু আর ছোটকু মায়ের পালকের ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে দেখতে লাগল পানির তাণ্ডব। ওদের চেহারায় শিশুসুলভ কৌতূহল।

বোটকু-ছোটকুর বয়স চৌদ্দ দিন। বোটকু বড় আর ছোটকু ছোট। বড় বলতে বোটকু ডিম ফুটে বেরিয়েছে রাতের প্রথম প্রহরে আর ছোটকু শেষ প্রহরে। কয়েক ঘণ্টার আগপিছ। এই গল্প ওরা মায়ের কাছে শুনেছে। প্রথমে ওরা ছিল পাঁচ ভাইবোন। তখন ওদের নাম ছিল না। ডাকার দরকার পড়লে ‘এই খোকাখুকিরা’ বলে মা ওদের ডাক দিত। ওরা চিঁ চিঁ করে ছুটে আসত। বাঁশবাগানে বেড়াতে গিয়ে তিনজনকে বেজি খেয়ে ফেলছে। ওরা হয়ে গেছে দুইজন। মা ওদের দুজনের নাম দিয়েছে বোটকু আর ছোটকু।


মানুষ সবকিছুতে লাভ খোঁজে। গরুর মেলা দাম। সে জন্য নিয়ে গেল। আমাদের দাম কম। সে জন্য ছেড়ে গেল। আমরা সাথে থাকলে তাদের ভোগান্তিও বাড়বে।


মৃত তিন ভাইবোনের জন্য ছোটকু আর বোটকুর মনে খুব দুঃখ। চোখ বন্ধ করলে এখনো ওদের চেহারা ভাসে। একটা ছিল খয়েরি, একটা ঘিয়ে, আরেকটা কালো। তিনজনই ছিল ভারি নাদুসনুদুস। পাঁচ ভাইবোন একসাথে থাকত, কিন্তু কখনো ঝগড়া করত না। পোকা খাওয়া নিয়ে অনেক সময় কাড়াকাড়ি লাগত বটে, তবে খাওয়ার পর সব মিটমাট। খাওয়ার চেয়ে কাড়াকাড়ির আনন্দটাই ছিল বেশি। সেই আনন্দময় দিনগুলো কোথায় হারিয়ে গেল!

ভাইবোনের শোক ভুলতে না ভুলতে বোটকু ছোটকুর জীবনে আসলো আরেক বিপদ। বন্যা। এমনিতে পানি দেখলে ওরা ভয় পায়। এখন শুধু পানি দেখতে হচ্ছে না, রীতিমতো সমুদ্র। গতকাল বিকেল থেকেই পানি আসতে শুরু করেছে। ওদের মালিক, মালিকের বউ আর ছেলেমেয়ের চেহারায় আতঙ্ক। দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার মতো সবকিছু গোছগাছ করেছে কাল সারাদিন। সন্ধ্যায় বোটকু ছোটকু ঘরে উঠতে গেলে মা নিষেধ করেছে। ওদের ছোট্ট কাঠের ঘর মাটির উপর দুটো ইট দিয়ে উঁচু করে বসানো। পানির যে ভাবগতি, রাতের ভেতরেই ঘর ধরে যাবে। কায়দা করে ওরা তাই মায়ের সাথে নিজেদের ঘরের চালে কাটিয়েছিল রাতটা। আর তাদের মালিক নিজেদের নিয়ে এত ব্যস্ত, মুরগি রাত কাটিয়েছে ঘরের চালে, সেই খেয়াল নেই।

ভোরবেলা দেখে মালিকের বারান্দায় পানি—হুহু করে বাড়ছে। মালিক মস্তবড় বোঝা মাথায় বউ-ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। সাথে নিয়ে গেল গাই-গরুটা। মালিকের বউয়ের চোখে পানি। আঁচল দিয়ে চোখ মুছছে।

বোটকু বলল, মা, গাভিটা নিয়ে গেল, আমাদের তো নিল না!

মা বলল, মানুষ সবকিছুতে লাভ খোঁজে। গরুর মেলা দাম। সে জন্য নিয়ে গেল। আমাদের দাম কম। সে জন্য ছেড়ে গেল। আমরা সাথে থাকলে তাদের ভোগান্তিও বাড়বে।

ছোটকু প্রতিবাদের গলায় বলল, কিন্তু গরুর চেয়ে আমাদের অবদান কোনো অংশে কম নয়। গরু দুধ দেয়। আমরা দিই ডিম। ডিমের পুষ্টি দুধের চেয়ে খাটো নয় কোনো দিক দিয়ে।

মা বিরক্ত হয়ে বলল, ছোটকু, পাকামো রাখ। কিভাবে বাঁচতে হবে এখন সেই চিন্তা কর। পানি দেখছিস তো! ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

– তুমি তো আছ। তোমার পাখার ভেতর লুকিয়ে থাকব। ঝড় বন্যা সবকিছু আসান হয়ে যাবে। মায়ের কোলই হলো সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়।

– কিন্তু স্বয়ং মা-ই যদি নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে, তাহলে!

বোটকু বলল, দ্যাখো মা, এটা আমাদের ঘোর বিপদের সময়। এখন তুমি কিনা আমাদের মনে বল দিবে, তা না ভয় দেখাচ্ছ!

– ভয় দেখাচ্ছি না রে। সত্যিটা বোঝানোর চেষ্টা করছি।

– ঠিক আছে। আমরা বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করছি। ওরা একসাথে কথাটা বলল তারপর মায়ের পালক থেকে বেরিয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াল আর ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারদিক দেখতে লাগল। ঠিক তখনই বড় একটা ঢেউ আছড়ে পড়ল মুরগি-ঘরের চালের উপর। ওদের মা লাফ মেরে উড়ে গিয়ে বসল আম গাছের ডালে আর চিৎকার করে বলতে লাগল, এখনই চাল ডুবে যাবে। তোরাও ডুবে যাবি। শিগগির ওই স্যান্ডেলের উপর চড়ে বস।

ওরা দেখল ঢেউয়ের সাথে ভেসে এসেছে একটা বার্মিজ স্যান্ডেল। ওদের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। একটুক্ষণ দ্বিধার পর মায়ের আদেশে ওরা লাফ মেরে উঠল স্যান্ডেলের উপর। বোটকু ঠিকঠাকই উঠল। ছোটকুর পা গেল ফসকে। সে পানিতে ভাসি ভাসি করে ঝুলতে ঝুলতে উঠে দাঁড়াল শেষ পর্যন্ত। গলা-বুক-পা ভিজে গেল বানের ঠান্ডা জলে। স্যান্ডেল ভেসে চলল। ছোটকু তখনও ধাতস্থ হয় নি। বোটকু চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, মা, আমরা তোমার কাছে থাকব। তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।


ছোটকু কান্না না থামিয়ে জেদের গলায় বলল, রাস্তা থাকলে তো মনে রাখব! সবই তো পানি। ডিম থাকতে মালিক যদি আমাদের খেয়ে ফেলত, ভালো হতো। এত বিপদ আর ভাল্লাগে না।


মা গলা ফুলিয়ে জোরের সাথে বলল, খবরদার! স্যান্ডেলের উপরই থাক। আমার কাছে আসতে গেলেই পানিতে পড়বি। আর আমি তোদের কাছে যেতে গেলে স্যান্ডেল ডুবে যাবে। বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে। সাবধানে থাকিস। নড়িস না যেন। ছোটকু, ঠান্ডা লাগাবি না—তোর ঠান্ডার সমস্যা। বলতে বলতে স্যান্ডেল ভেসে চলল অনেক দূর। ধীরে ধীরে মায়ের আওয়াজ কমে আসতে লাগল। মায়ের ছবিও ছোট হয়ে আসতে লাগল ওদের চোখে। বোটকু ছোটকু কাঁদতে লাগল।

বাড়ির সীমানা পার হয়ে স্যান্ডেল ভেসে চলল অচেনা পথে। বোটকু যেহেতু বড়, তার দায়িত্ব একটু বেশি। সে কান্না থামিয়ে বলল, কাঁদিস না ছোটকু। মা কি বলল মনে আছে! বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে আমাদের। এখন আমাদের কাজ হলো রাস্তা চিনে রাখা। পানি চলে গেলে আবার আমরা মায়ের কাছে ফিরে আসব, বুঝলি!

ছোটকু কান্না না থামিয়ে জেদের গলায় বলল, রাস্তা থাকলে তো মনে রাখব! সবই তো পানি। ডিম থাকতে মালিক যদি আমাদের খেয়ে ফেলত, ভালো হতো। এত বিপদ আর ভাল্লাগে না।

রাস্তা না থাক, এই গাছপালা, ঘরবাড়ি দেখে যদি মনে রাখা যায়! তোর গা তো একদম ভিজে গেছে। একটু পা ছড়িয়ে দাঁড়া না! পানি ঝরে যাক। ফেরার সময় যদি ঠান্ডা নিয়ে ফিরিস, মা আমাকে বকবে। বলবে, তুই বড়, ছোটকুকে দেখে রাখতে পারিস নি!

ছোটকু পা দুটো ছড়িয়ে দাঁড়াল। এতে তার একটু আরামও হচ্ছে। পানির তালে তালে স্যান্ডেল এগুচ্ছে। দোল খাচ্ছে। পা ছড়িয়ে থাকায় ব্যালান্স রাখা সুবিধা হচ্ছে।

একটা ডুমুর গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বোটকু হঠাৎ ছোটকুর কোলের ভেতর সরে এল। ছোটকুর কানের কাছে ঠোঁট নামিয়ে ফিসফিসে গলায় বলল, দেখেছিস!

বোটকুর ওই ফিসফিসানি আওয়াজের ভেতরেই সতর্কতা লুকিয়ে ছিল। ছোটকু তাই বোটকুর মতোই ফিসফিসিয়ে বলল, কী রে বোটকু?

বোটকু ডুমুর গাছের দিকে ইশারা করল। সেদিকে চোখ পড়তেই ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল ছোটকু। ডুমুর গাছের ডালের সাথে পেঁচিয়ে আছে একটা হলুদ রঙের সাপ। পানির প্রবল স্রোত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে।

সাপের সাথে পরিচয় আছে ছোটকু বোটকুদের। একবার মায়ের সাথে পোকা খুঁজতে খুঁজতে ওরা ঝোপের ভেতর চলে গিয়েছিল। মা হঠাৎ শুকনো পাতায় সরসর শব্দ শুনে বাচ্চাদের নিয়ে সরে এসেছিল নিরাপদে। দূর থেকে দেখিয়েছিল এঁকেবেঁকে একটা সাপের চলে যাওয়া। বলেছিল, এর নাম সাপ। সুযোগ পেলে ওরা তোদের মতো বাচ্চাদের ধরে ধরে খায়। সেই সাপ এখন ডুমুর ডালে—খুব কাছেই। ওরা খুব ভয় পেয়ে গেল। এই বুঝি ছুটে এসে গপ করে গিলে নেবে। মায়ের সাথে আর হয়তো দেখা হবে না। আত্মা ঠোঁটের আগায় নিয়ে ওরা চোখ বন্ধ করে রইল আতঙ্কে। কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে দেখল, বিপদ সীমা পেরিয়ে এসেছে। স্বস্তির বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে বোটকু বলল, সাপদের ব্যাপারে মায়ের বোধহয় জানাশোনা কম। এত কাছ দিয়ে গেলাম, কই, কিছু করল না তো!

ছোটকু বলল, হতে পারে সাপ নিজেই বিপদে আছে। এই বিপদের দিনে সে হয়তো অন্য কাউকে বিপদে ফেলতে চাইছে না।

লোকালয় ছেড়ে ভাসতে ভাসতে ওরা চলে এল খোলা অঞ্চলে। এখানে ঘরবাড়ি নেই। গাছপালা নেই। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। তবে বেশ দূরে মানুষের উপস্থিতি দেখতে পেল। সেদিকেই ভেসে যাচ্ছে ওদের স্যান্ডেল। মানুষের কাছাকাছি হতে ওরা খেয়াল করল, কয়েকজন লোক বিরাট এক নৌকায় দাঁড়িয়ে আছে। ওদের মধ্যে একজন লোকের চোখে কালো চশমা। কালো মোচ। বিরাট লম্বা-চওড়া শরীর। শাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা গায়ে। সে বসে আছে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে, নৌকার ভেতর। নৌকার সামনে খালি-গা মানুষের বিরাট লাইন। তারা গলা পানিতে দাঁড়িয়ে আছে লাইনে। অনেকের সাথে বাচ্চা। বাচ্চাকে তারা কাঁধে বসিয়ে রেখেছে। মোচঅলা লোকটা লাইনের মানুষদের হাতে পোটলা দিচ্ছে। পোটলা নেয়ার জন্য লাইনের লোকগুলো কাড়াকাড়ি করছে, মারামারি করছে। মোচওয়ালা যখনই পোটলা দিচ্ছে, অন্য একটা লোক চোখের সাথে কালো একটা মেশিন ধরছে আর মেশিন থেকে আলো বেরুচ্ছে। বোটকু ছোটকু বুঝল এই কালো জিনিসটা ক্যামেরা। ছবি তুলতে হয়। বাড়িতে মালিকের ছেলের হাতে এই জিনিস তারা দেখেছে।


মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো পৃথিবীটা দেখার আশায় ওরা চোখ খুলল। তখন টের পেল, ডিগবাজি খেয়ে ওরা ছিটকে এসে পড়েছে ভাসমান কাঠের-তক্তার উপর। যে তক্তায় আশ্রয় নিয়েছে একটা বেজি।


ওদের স্যান্ডেল যখন নৌকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, ক্যামেরাওয়ালার চোখ পড়ল ওদের উপর। ক্যামেরাওয়ালা চিৎকার করে সবাইকে দেখাতে লাগল বোটকু ছোটকুর অবস্থান—এই দেখুন, দেখুন, দারুণ দৃশ্য না! বলেই সে পটাপট স্যান্ডেলে ভাসমান বোটকু ছোটকুর ছবি তুলতে লাগল। মুহূর্তে নৌকার সকল মানুষের চোখ এসে স্থির হলো বোটকু আর ছোটকুর উপর। সবাই বলতে লাগল—ওয়াও!

বোটকুর কানে কানে ছোটকু বলল, আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছে। এমন করে দেখার কী আছে! এদের বাড়িতে কি মুরগি নেই!

বোটকু বলল, আমার তো বেশ ভালোই লাগছে। কেউ কোনোদিন এমন আগ্রহ নিয়ে আমাদের দেখেছে! দেখে নি।

ওরা ভাবল, এইবার বুঝি বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাওয়া গেল। চারপাশে এত মানুষ, কেউ না কেউ ওদের উদ্ধার করবে। বাড়িতে নিয়ে যাবে। আশ্রয় দেবে। কিন্তু ওরা অবাক হয়ে খেয়াল করল, মানুষগুলো শুধু বড় বড় চোখে দেখে চলেছে ওদের। কেউ দু’পা ফেলে এগিয়ে আসছে না। আশাভরা চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওরা লোকগুলোর পাশ দিয়ে চলে গেল ভেসে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসলো না।

বোটকু বলল, মন খারাপ, ছোটকু?

ছোটকু বেশ শক্ত গলায় বলল, মায়ের কথা মনে পড়ছে। বলল শক্ত গলায়, কিন্তু বলার পর আর শক্ত রাখতে পারল না। ভ্যাঁ করে কেঁদে দিল। ছোটকুর কান্না দেখে বোটকুও কাঁদতে লাগল।

অনেক দূর যাওয়ার পর ওরা পেছন থেকে ভটভট শব্দ শুনতে পেল। পেছন ফিরে দেখল সেই মস্তবড় নৌকা খুব জোরের সাথে ছুটে আসছে। ওরা ভাবল, লোকগুলোর হয়তো ভুল ভেঙেছে। বোটকু ছোটকু যে বিপদে আছে ওরা বুঝতে পেরেছে। তাই অমন জোরে ছুটে আসছে উদ্ধারের জন্য। ভাসমান জীবন থেকে মুক্তির সম্ভাব্য আনন্দে বোটকু আর ছোটকুর চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কিন্তু লোকগুলো থামল না। আগের বার তবু খেয়াল করেছিল। ছবি তুলেছিল। এবার খেয়ালই করল না। নৌকায় দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করতে করতে চলে গেল পাশ দিয়ে।

ওরা যখন গেল পাশ দিয়ে, বিরাট ঢেউ উঠল পানিতে। ঢেউয়ের তালে তালে বার্মিজ স্যান্ডেল দুলতে লাগল দোলনার মতো। দুলতে লাগল বোটকু-ছোটকুও। পরস্পরে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। ইঞ্জিনবোটের ঢেউয়ে ওদের স্যান্ডেল কয়েকবার পানি ছেড়ে লাফিয়ে উঠল শূন্যে। প্রথম দুবার নিজেদের সামলাতে পারলেও তৃতীয়বারে পারল না। ঢেউয়ের তোড়ে স্যান্ডেল ছেড়ে পানির পাঁচ-হাত উপরে ডিগবাজি খেলো দুজনই। চিৎকার দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল ভয়ে। পানিতে ডুবে করুণভাবে মরতে যাচ্ছে, নিশ্চিত হয়ে গেল ওরা। তখন মায়ের কথা খুব মনে পড়ল। বেজিতে খেয়ে ফেলা ভাইবোন তিনটার কথা মনে পড়ল। মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো পৃথিবীটা দেখার আশায় ওরা চোখ খুলল। তখন টের পেল, ডিগবাজি খেয়ে ওরা ছিটকে এসে পড়েছে ভাসমান কাঠের-তক্তার উপর। যে তক্তায় আশ্রয় নিয়েছে একটা বেজি। বেজিটা একপাশে সরে গিয়ে বোটকু ছোটকুর দাঁড়াবার জয়গা করে দিল।

সাব্বির জাদিদ

জন্ম ১৭ আগস্ট, ১৯৯৪; কুষ্টিয়া। কথাসাহিত্যিক।

ইসলামিক স্টাডিজ, অনার্স, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

প্রকাশিত গ্রন্থ :
একটি শোক সংবাদ [গল্পগ্রন্থ, ঐতিহ্য, ২০১৭]

ই-মেইল : sabbirjadid52@gmail.com

Latest posts by সাব্বির জাদিদ (see all)