হোম গদ্য বাংলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকে হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ এবং দেশভাগ

বাংলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকে হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ এবং দেশভাগ

বাংলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকে হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ এবং দেশভাগ
453
0
চতুর্থ কিস্তির লিংক

শেষ কিস্তি

ফজলুল হক যখন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, বর্ণহিন্দুরা খুব সহজেই এটা বুঝতে পারছিলেন তাহলে শিক্ষার উপর তাঁদের দীর্ঘদিনের একাধিপত্য কমে যাবে। সেজন্য তাঁরা বললেন, মাধ্যমিক শিক্ষাকে শিক্ষাবিদদের তত্ত্বাবধানে না রেখে একটি রাজনৈতিক সংস্থার অধীনে আনা হচ্ছে। শিক্ষাবিদ পরমেশ আচার্য বর্ণহিন্দুদের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে লিখছেন, ব্যাপারটা যেন এই, শিক্ষার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই এবং কোনোদিন ছিল না বা থাকা উচিত নয়। এ থেকে বোঝা যায় বর্ণহিন্দুরা নিজেদের একাধিপত্য রক্ষায় কী রকম অন্ধ ছিলেন। ফজলুল হক কিন্তু তাঁর প্রস্তাবে পঞ্চাশ সদস্যর এক শিক্ষা পর্ষদের প্রস্তাব করেছিলেন, যেখানে বাইশ জন হিন্দু, বিশ জন মুসলমান এবং সাত জন ইউরোপিয়ান থাকবে। পঞ্চাশ জন সদস্যের মধ্যে বাইশ জন সরাসরি শিক্ষার সাথে যুক্ত প্রতিনিধি হবেন এবং বাকিরা বিভিন্ন অংশ থেকে আসবেন। সুবিধাভোগী হিন্দুদের পক্ষে কিছুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার এই মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রস্তাব মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। প্রস্তাবটি আইন সভায় উত্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা জুড়ে এক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


‘এই বর্ণহিন্দুরাই তাঁদের রক্ত দিয়ে এইসব বিদ্যালয় গড়েছেন। আর কী সাহস, তাঁদের সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন তুলছেন!’


বাংলার আইন সভায় যদিও কোনো রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল না, মুসলমান সদস্যরা সংখ্যায় বেশি ছিলেন। বাংলা সরকারে মুসলমানদের এই প্রাধান্য হিন্দুদের বেশ সন্ত্রস্ত করে তুলেছিল। সভার হিন্দু সদস্যগণ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ গঠনের প্রস্তাবকে হিন্দুবিরোধী, শিক্ষা ও কৃষ্টি ধ্বংসকারী, প্রগতিবিরোধী প্রভৃতি অভিধায় আখ্যায়িত করেন। বহুদিনের একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির ফলে পরিবর্তিত অবস্থার সঠিক মূল্যায়নে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছিলেন। সভার জনৈক মুসলিম সদস্য বলেন, বর্ণহিন্দুরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্যই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছেন না। কংগ্রেস সদস্য হরেন্দ্রনাথ চৌধুরী গর্বের সঙ্গে তার পাল্টা জবাব দেন, ‘এই বর্ণহিন্দুরাই তাঁদের রক্ত দিয়ে এইসব বিদ্যালয় গড়েছেন। আর কী সাহস, তাঁদের সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন তুলছেন!’ ঢাকার ফজলুর রহমান তখন বর্ণহিন্দুদের দ্বারা দরিদ্র কৃষকদের শোষণ করা কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বাংলার গরিব কৃষকদের খরচায় বলুন।’ হরেন্দ্র চৌধুরী তখন রেগে গিয়ে উত্তর দিলেন, গরিব কৃষকদের কথা আসছে কেন? ছাত্রদের বেতন আর বেসরকারি স্বেচ্ছাদানে বিদ্যালয়ের খরচ সংকুলান হয়। বিদ্যালয়ে পড়তে পারে না যে-সব গরিব কৃষক, সেসব গরিব কৃষকদের পয়সায় নয়। হরেন্দ্র চৌধুরী সরাসরি বর্ণহিন্দুদের পক্ষ নিলেন।

WP_20150306_011
ঢাকা থিয়েটারের সেমিনার

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও সরাসরি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বর্ণহিন্দুদের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এই সরকার পরপর একাধিক বিতর্কিত আইন প্রণয়ন করেছেন, তবে এটির মতো আর কোনোটিই নয়। এই প্রস্তাব সাম্প্রদায়িকতার জঘন্যতম নিদর্শন। তিনি বলেন, সরকারের পুনর্গঠিত পাঠ্যপুস্তক বাংলা ভাষাকে ছারখার করে দেওয়ার পথ ধরেছে। তিনি সরকারকে মনে করিয়ে দেন, তিনি কী করে ভুলবেন এই প্রদেশের পনেরশো উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি বাদে প্রায় সবই হিন্দুদের দানে আর উদ্যোগে গঠিত। শ্যামাপ্রসাদ খোলাখুলিই বলেন, এই প্রস্তাবকে আইনে পরিণত করা হলে তিনি তা মানবেন না। তিনি বলে দেন, এই প্রস্তাব জোর করে তাঁদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হলে হিন্দুদের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপোসের কোনো রাস্তা খোলা নেই এবং আমরা এই নতুন বিপদের বিরুদ্ধে লড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একে স্বীকার করার অর্থ হিন্দুর সর্বনাশ।’ শ্যামাপ্রসাদ দৃপ্ত ভঙ্গিতে ঘোষণা দেন, ‘আমি বলছি যদিও আমরা সংখ্যালঘু তবু আমাদের যথেষ্ট দেশাত্মবোধ, সাহস ও প্রভাব রয়েছে আমাদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষা করার জন্য রুখে দাঁড়াবার। আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার চাইতে মহান আর কোনো কর্তব্য আমাদের নেই। এর জন্য আমরা যে-কোনো বিপদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’

হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের উপর সরকারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ খণ্ডন করে আবু হুসেন সরকার বলেন, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও কোনো স্বাধীন সংস্থা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে সরকারের পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং উপাচার্য বাদে একশো দশ জন সদস্যর মধ্যে মাত্র বিশ জন নির্বাচিত, দশ জন পদাধিকার বলে সদস্য আর বাকি আশিজন আচার্যের মনোনীত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, চিত্তরঞ্জন দাশ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘গোলামখানা’ বলেছিলেন। তিনি অভিযোগের সুরে জানান যে, বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন মাত্র বিশ থেকে ত্রিশ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই শিক্ষকদের উন্নতির জন্য কিছুই করেন নি। মধ্যশিক্ষা প্রস্তাবকে কিরণশঙ্কর রায় শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা আমদানির ব্যবস্থা বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান চোদ্দশো বিদ্যালয়ের বারশোই হিন্দুদের দ্বারা স্থাপিত, তিন লক্ষ ছাত্রের মধ্যে মাত্র আশি হাজার মুসলমান।’ প্রচ্ছন্ন গর্বের সঙ্গে তিনি আরো বললেন যে, যদিও তিনি এর জন্য গর্ব প্রকাশ করছেন না কারণ একজন কংগ্রেসী হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সাম্প্রদায়িক নয়। কিন্তু মুসলমানরা কিছু চাপিয়ে দিলে তিনি অবশ্যই সাম্প্রদায়িক হতে দ্বিধা করবেন না।

নলিনীরঞ্জন সরকার মধ্যশিক্ষা প্রস্তাবটিকে সাম্প্রদায়িক এবং অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করলেন। হিন্দু সদস্যদের বিভিন্ন আলোচনার প্রেক্ষিতে মুস্তা গসোয়াল বলেন যে, সাম্প্রদায়িকতার ধুয়া তুলে বিরোধী পক্ষ আইনের মাধ্যমে সরকারের নেয়া সব ভালো প্রচেষ্টাকে বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি প্রসঙ্গক্রমে দেখান যে, বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষা আইন, বঙ্গীয় কৃষিঋণ সংক্রান্ত আইন, মহাজনী আইনগুলি প্রায় বৈপ্লবিক ফল দিয়েছে। অথচ বিরোধী পক্ষ সাম্প্রদায়িকতার কথা বলে সেদিনও সে-সব আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। সৈয়দ বদরুদ্দোজা বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব সাম্প্রদায়িক নয়, শুধু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্বার্থ সুরক্ষা করার ব্যবস্থা মাত্র। তিনি বলেন, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে সংখ্যাধিক্যের জোরে সমস্ত কণ্ঠস্বর চেপে দেওয়া হয়, এটা সেরকম নয়। মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ গঠিত হলে শিক্ষা পরিচালনায় মুসলমানরাও তাঁদের বক্তব্য বলার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন মাধ্যমিক শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ একান্তই জরুরি—শুধুমাত্র এক সম্প্রদায়ের দ্বারা এবং এক সম্প্রদায়ের স্বার্থ দেখার জন্য নয়, এদেশে বসবাসকারী সকল শ্রেণির এবং সকল অবস্থার মানুষের জন্য।


হিন্দু ভাইয়েরা সবসময়ই সাম্প্রদায়িক চিন্তা করেন, কিন্তু প্রকাশ করেন জাতীয় পরিভাষায়


শরৎচন্দ্র বসু সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, মধ্যশিক্ষা প্রস্তাব আইনে পরিণত করা হলে প্রয়োজনে সরকারি পর্ষদের পাল্টা জাতীয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ গঠন করা হবে। আবদুর রশিদ মামুদ হিন্দু মানসিকতার পর্যালোচনা করেন এভাবে যে, হিন্দু ভাইয়েরা সবসময়ই সাম্প্রদায়িক চিন্তা করেন, কিন্তু প্রকাশ করেন জাতীয় পরিভাষায়। তিনি আরো বলেন, যদিও মুসলমানরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাহেতু মধ্যশিক্ষা প্রস্তাব গ্রহণ করলে তা হবে আইনসঙ্গত এবং গণতান্ত্রিক কিন্তু হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা তা করতে চাইছেন না বলেই তা করাটা হবে এখন তাদের চোখে সাম্প্রদায়িক। মধ্যশিক্ষাকে ঘিরে এই যে বিতর্ক, তা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক চেতনাকে আবার জাগিয়ে তুলল। মাধ্যমিক শিক্ষা প্রস্তাব সম্পর্কে অতুলচন্দ্র সেন দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, ‘যদি কখনো এই জঘন্য প্রস্তাবটি আইনে পরিণত করার চেষ্টা করা হয় তখন আমরা দেখাবো, আমরা জানি কী করে একে রুখতে হয়। পঁয়ত্রিশ বছর আগে আমরা একবার তা দেখিয়েছিলাম বর্তমান প্রধানমস্ত্রীর চেয়ে অনেক বড় মাপের এক ব্যক্তির সরকারি আদেশের বিরুদ্ধে লড়ে।’ তিনি বঙ্গভঙ্গ রদ করার উদাহরণ টানেন। সোহরাওয়ার্দী তখন বলেন, সেটা আজকে আর সম্ভব নয়। অতুলচন্দ্র দৃঢ়তার সাথে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ মশায়। আজকেও আমরা যে কোনো সিদ্ধান্ত পাল্টে দিতে পারি। নিষ্পত্তি হওয়া ব্যাপারকেও রুখে দিতে পারি।’ ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত তাই দাঁড়িয়েছিল। বর্ণহিন্দুরা তা রুখে দিয়েছিলেন বাংলা ভাগের মধ্য দিয়ে।

2012-05-10-17-53-45-4fac00a94c80a-2
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও এ কে ফজলুল হক

মধ্যশিক্ষা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বর্ণহিন্দুরা আইনসভার মধ্যে এবং আইনসভার বাইরেও এক বিরাট আন্দোলন গড়ে তোলেন সাম্প্রদায়িকতা প্রশ্ন তুলে। শিক্ষক সমিতির শিক্ষকদেরকে পর্যন্ত হিন্দু-মুসলমানে বিভক্ত করে এই আন্দোলনে জড়িয়ে ফেলা হয়। রবীন্দ্রনাথও বাংলা ভাষাকে রক্ষার নামে সে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ লিখে পাঠান তার মৃত্যুর সামান্য আগে। ব্যাপারটি সম্পূর্ণভাবে সাম্প্রদায়িক লড়াই হয়ে ওঠে, যার শেষ পরিণাম বাংলা ভাগ। অথচ সাতচল্লিশের দেশভাগের পর বায়ান্ন সালেই পশ্চিমবঙ্গে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ গঠিত হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত থেকে মাধ্যমিক শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ মাধ্যমিক পর্ষদের হাতে চলে যায়। বর্ণহিন্দুরা তখন আর ব্যাপারটিতে আপত্তি তোলেন নি। ফজলুল হকের মাধ্যমিক শিক্ষা প্রস্তাবকে আরো অনেকের মতো রবীন্দ্রনাথ মনে করেছিলেন, শিক্ষার পবিত্র মন্দিরে সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ। তিনি অবশ্য তখন মৃত্যুশয্যায়। বর্ণহিন্দুদের কাছে কী শুনে তিনি একথা বলেছেন তা জানার উপায় নেই। তিনি তাঁর বাণীতে মুসলমানদের হাত থেকে বাংলা ভাষাকে রক্ষার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি মনে করছিলেন, পাঠ্যপুস্তক রচনার ভার মুসলমানদের হাতে পড়লে বাংলা ভাষা বিনষ্ট হবে। তিনি দেখে যেতে পারলেন না, পূর্ব বাংলার বাঙালি মুসলমানদের হাতেই বাংলা ভাষা এখন টিকে আছে। বায়ান্ন সালে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে পূর্ব বাংলার জনগণ। শহীদদের সকলেই ছিলেন সাধারণ মুসলমান বাঙালি। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথের রচনা পড়ানো হয়। বাংলার নিম্নবর্গের কৃষক ও সাধারণ মুসলমানদের সম্পর্কে তাঁরা সেদিন নানা ভুল ধারণা পোষণ করতেন।


‘…কারণ যাহাই হউক শিক্ষিত হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে যে বিদ্বেষ দেখা যায়, অশিক্ষিতের মধ্যে তাহা নাই।’


বাংলায় সাম্প্রদায়িক বিভেদের যে কথা বলা হয়, সে সমস্যাটা মূলত হিন্দু আর মুসলমানের ছিল না। প্রথমত সেটা ছিল সুবিধাভোগী বর্ণহিন্দুদের সাথে নিম্নবর্গের হিন্দু-মুসলিম কৃষকদের বিরোধ। বাংলার নিম্নবর্গের হিন্দুদের সাথে নিম্নবর্গের মুসলমানদের সে-ধরনের বিরোধ ছিল না। ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় তাই লিখেছিলেন, ‘ইংরাজের লেখা ইতিহাস পড়িয়া হিন্দু-লেখকেরা মুসলমানদের উপর অনেক অবিচার করিয়াছেন। মুসলমান তাহা ক্ষমা করুন। হিন্দু পুরাকালে মুসলমান কর্তৃক উৎপীড়িত ও লাঞ্ছিত হইয়া থাকিলে তাহা ভুলিয়া যাউন। হিন্দু-মুসলমানের সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে এখন কোমর বাঁধিতে হইবে।… শিক্ষিত লোকেরাই সমাজের নেতৃত্বের উপযুক্ত, এইজন্য শিক্ষিত লোকদিগকে লক্ষ্য করিয়া এইসব কথা বলিতেছি। তা ছাড়া, কারণ যাহাই হউক শিক্ষিত হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে যে বিদ্বেষ দেখা যায়, অশিক্ষিতের মধ্যে তাহা নাই।’ রামানন্দ সঠিক মন্তব্য করেছিলেন। বাংলার সাধারণ হিন্দুর সাথে সাধারণ মুসলমানের সেদিন কোনো বিবাদ ছিল না, বর্ণহিন্দু আর সুযোগসন্ধানী মুসলমানরাই এই বিরোধ সৃষ্টির জন্য দায়ী ছিলেন।

সাতচল্লিশ সালে দেশভাগের প্রাক্কালে বাংলার তেভাগা আন্দোলন ছিল প্রধানত হিন্দু জমিদার ও হিন্দু-মুসলিম জোতদারদের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম কৃষকদের মিলিত লড়াই। কৃষক আন্দোলনে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সর্বদাই এক পতাকার তলে ছিল। নড়াইলে একবার হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধাবার জন্য স্বার্থান্বেষীরা একটা মুসলমান মেয়েকে বিবস্ত্র করে রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে রেখে মুসলমান চাষিদের খ্যাপাতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাঙ্গা বাধানো যায় নি হিন্দু-মুসলিম চাষিদের যৌথ প্রচেষ্টায়। কৃষক-আন্দোলনের বিরুদ্ধে তখন কংগ্রেস-মুসলিম লীগ ছিল একজোট। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে বাইশ জন কৃষক মারা পড়েছিল। কালী সরকার স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের কাছে গেলেন সেইদিনই একটা প্রতিবাদ করার জন্য। সাড়া পেলেন না। জমিদার-জোতদারদের পক্ষে কংগ্রেসের পক্ষপাতিত্ব সেদিন পরিষ্কার হয়ে গেল। যদিও মুসলিম লীগ প্রচার চালিয়েছিল, কিসের তেভাগা, পাকিস্তান হলে পূর্ব বাংলার সব জমিই কৃষকদের হবে। মিথ্যা আশ্বাস ছিল সেটা। মুসলিম লীগের মুসলমান আর কংগ্রেসের হিন্দু নেতারা উভয়েই সেদিন একজোট হয়ে তেভাগার বিরুদ্ধে লড়েছিল। হিন্দু জমিদার ও মুসলিম জোতদার সেদিন ছিলেন একই গোত্রভুক্ত। বিশ শতকের মধ্যভাগে বর্ণহিন্দুদের সাথে সুবিধাভোগী মুসলমানদের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল সেটা ‘হিন্দু-মুসলিম’ সাম্প্রদায়িক বিরোধ ছিল না, সেটা ছিল শক্তিমান দুইগোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অর্থনৈতিক লড়াই।

ভারত স্বাধীন হলো বাংলা বিভক্তির মধ্য দিয়ে। দুই বাংলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা তারপর যে খুব এগিয়ে গিয়েছিল তা নয়। দুই বাংলায় একইভাবে শাসকশ্রেণি বা সমাজের উচ্চবর্গের হাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার আগ্রগতি আটকে রইল। পূর্ব বাংলায় বর্ণহিন্দুদের জায়গাটা দখল করল সুবিধাভোগী উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত বাঙালি মুসলমানরা। সাধারণ মানুষের সাক্ষরতা নিয়ে পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত মুসলমানদের আর বড় একটা হৈ চৈ করতে দেখা গেল না।

——————

তথ্যসূত্র :
 ১. সিদ্ধার্থ গুহ রায় ও সুখরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, আধুনিক ভারতের ইতিহাস, কলকাতা: প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স ২০১২, পৃ. ৩৩৮-৩৩৯
 ২. রণজিৎ ঘোষ, আধুনিক ভারতে শিক্ষার বিকাশ, কলকাতা: সোমা বুক এজেন্সী ২০১১, পৃ. ৮২-৮৩
 ৩. রাস্তার মানুষদের ভাষা প্রবচন ধার করে কালীপ্রসন্ন সিংহের লেখা ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ তার অন্যতম। ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ বাবু-সংস্কৃতিকেই আক্রমণ করে।
 ৪. বেবী দত্ত, মধুমালা সেনগুপ্ত, দেবিকা গুহ, ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাস, কলকাতা: প্রগতিশীল প্রকাশক, ২০১১, পৃ. ১৩৩
 ৫. পরমেশ আচার্য, ‘বাঙালি ভদ্রলোকের শিক্ষাচিন্তা: উনিশ শতক’, উনিশ শতকের বাঙালিজীবন ও সংস্কৃতি, কলকাতা: পুস্তক বিপণি, ২০০৩, পৃ. ২৩০
 ৬. মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুম, ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলিম শিক্ষা সমস্যা ও প্রসার, ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ২০০৮, পৃ. ৬০
 ৭. দ্রষ্টব্য, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, ১ ভাদ্র ১৭৬৫ শক, ১ সংখ্যা
 ৮. ঐ,
 ৯. সুশীল চৌধুরী, ‘পলাশী কার চক্রান্ত’, দেশ, ১৮ই মে ১৯৯১
 ১০. ঐ,
 ১১. পঞ্চানন সাহা, হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক: নতুন ভাবনা, কলকাতা:বিশ্ববীক্ষা ১৯৯৭, পৃ.৭৮
 ১২. আতিউর রহমান ও লেনিন আজাদ, ভাষা আন্দোলনের অর্থনেতিক পটভূমি, ঢাকা: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ১৯৯০, পৃ. ২৩-২৪
 ১৩. দ্রষ্টব্য, সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, গ্রাম বাংলার গড়ন ও ইতিহাস, কলকাতা : অনুষ্টুপ, ২০১১, পৃ. ৭৮-৮২
 ১৪. দ্রষ্টব্য,উৎপল দত্ত, গিরিশ-মানস, কলকাতা: এম সি সরকার এ্যন্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড ১৯৮৩ পৃ, ৫
 ১৫. ঐ, পৃ. ৪
 ১৬. মল্লিকা সেনগুপ্ত, কবির বউঠান, কলকাতা:আনন্দ ২০১১, পৃ. ১৬-১৭
 ১৭. কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার উডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশই বহুদিন পর্যন্ত কার্যকর করার প্রয়োজন বোধ করে নি।
 ১৮. সুখময় সেনগুপ্ত, বঙ্গদেশে ইংরেজী শিক্ষা: বাঙালীর শিক্ষা চিন্তা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, ১৯৮৫, পৃ. ১৬৩
 ১৯. কাজী শহীদুল্লাহ, পাঠশালা থেকে স্কুল, আবদুল মমিন চৌধুরী অনূদিত, ঢাকা: বাংলা একাডেমী ১৯৯৪, পৃ. ১১
 ২০. পরমেশ আচার্য, বাঙালির শিক্ষাচিন্তা, কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং ২০১১, পৃ. ৩৪
 ২১. ঐ, পৃ. ৫৪-৫৫
 ২২. বিনয় ঘোষ, বিদ্যাসাগর ও বাঙালী সমাজ, কলকাতা: ওরিয়েন্ট ব্ল্যাকসোয়ান ২০১১, পৃ. ১৯৯
 ২৩. সুখময় সেনগুপ্ত, পূর্বোক্ত, পৃ. ৫১
 ২৪. দ্বারকানাথ ঠাকুরের সন্তান দেবেন্দ্রনাথ তাঁর পুত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য দশজনের অধিক গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেছিলেন সেই যুগে এবং রবীন্দ্রনাথের শিশু বয়সেই। ব্যায়াম, মল্লযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে তাঁরা শিশু রবীন্দ্রনাথকে শিক্ষা দিতেন।
 ২৫. সুখময় সেনগুপ্ত, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৪৩-১৪৪
 ২৬. প্রফুল্ল কুমার পান, বাংলা বর্ণপরিচয়ের দুশো পঞ্চাশ বছর, কলকাতা: সাহিত্যলোক ২০০৬, পৃ. ১৪২
 ২৭. ঐ, পৃ. ১৪৩-১৪৪
 ২৮. বশীর আল হেলাল, মীজানুন রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা, বিদ্যাসাগর সংখ্যা, এপ্রিল-জুন ১৯৯৭, পৃ. ৭৭
 ২৯. মুস্তফা নূরউল ইসলাম, সাময়িকপত্রে জীবন ও জনমত, ঢাকা: বাংলা একাডেমী ১৯৭৭, পৃ. ৩১
 ৩০. পরমেশ আচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ৬৯
 ৩১. শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, আবার শিশুশিক্ষা, কলকাতা: অনুষ্টুপ ২০১০, পৃ. ৮৯-৮১
 ৩২. পরমেশ আচার্য, বাঙালীর শিক্ষাচিন্তা, পূর্বোক্ত, পৃ. ৯৮
 ৩৩. পরমেশ আচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ২৪১-২৪২
 ৩৪. কাজী শহীদুল্লাহ, পূর্বোক্ত, পৃ. ৮৬
 ৩৫. পরমেশ আচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ২৪৮
 ৩৬. বঙ্কিচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, কলকাতা: সাহিত্য সংসদ, ১৯৩০, পৃ. ৮৮৮-৮৯৩
 ৩৭. ঐ, পৃ. ৮৮৮-৮৯৩
 ৩৮. পরমেশ আচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ৩৫
 ৩৯. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার ও পুনরাবিষ্কার, কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং ১৪১৭, পৃ. ১৫-১৬
 ৪০. পরমেশ আচার্য, বাঙালীর শিক্ষাচিন্তা, পূর্বোক্ত, পৃ. ৫৮ ও ৭৪
 ৪১. বঙ্কিচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ‘আনন্দমঠ’, বঙ্কিম রচনাবলী উপন্যাস সমগ্র, কলকাতা: তুলিকলম ১৯৮৬, পৃ. ৭০৪
 ৪২. সিদ্ধার্থ গুহ রায় ও সুখরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, পূর্বোক্ত, পৃ.৩৮৪-৩৮৫
 ৪৩. দ্রষ্টব্য, ঐ, পৃ. ৩৭৯
 ৪৪. ঐ, পৃ. ৯৬
 ৪৫. লর্ড কার্জনের শাসনকালেই এটা ঘটেছিল, যদিও লর্ড কার্জনই এর প্রথম প্রবক্তা ছিলেন না। আঠারশো সাতান্ন সালের পর থেকেই ইংরেজ সরকারের ভাবনায় ছিল বিষয়টি। বাংলা প্রদেশের বিপুল আয়তন বিভিন্ন সময় বহু ইংরেজকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল।
 ৪৬. সিদ্ধার্থ গুহ রায় ও সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, পূর্বোক্ত, পৃ.৬১৫
 ৪৭. সরল চট্টোপাধ্যায়, ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্রমবিকাশ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ ১৯৮৫, পৃ. ১২১
 ৪৮. পঞ্চানন সাহা, পূর্বোক্ত, পৃ. ১১০
 ৪৯. ঐ, পৃ. ১০৯
 ৫০. সুকান্ত পাল, ভারতে সাম্প্রদায়িকতা উদ্ভব ও বিকাশ, পূর্বোক্ত, পৃ. ৩১-৩২
 ৫১. অমলেন্দু দে, বাঙালী বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ ১৯৮৭, পৃ. ১৮৯
 ৫২. সুকান্ত পাল, পূর্বোক্ত,
 ৫৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ব্যাধি ও প্রতিকার, কমল চৌধুরী সম্পাদিত বঙ্গভঙ্গ ও সমকালীন বঙ্গসমাজ, কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং ২০০৫, পৃ. ১৬২
 ৫৪. ঐ
 ৫৫. সিদ্ধার্থ গুহ রায় ও সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, পূর্বোক্ত, পৃ.৬২৬
 ৫৬. দ্রষ্টব্য, পঞ্চানন সাহা, পূর্বোক্ত, পৃ. ১০৬
 ৫৭. এনায়েতুর রহিম, বাংলায় স্ব-শাসন, জাকারিয়া শিরাজী অনূদিত, ঢাকা: বাংলা একাডেমী ২০০১, পৃ. ২৬
 ৫৮. সিদ্ধার্থ গুহ রায় ও সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, পূর্বোক্ত, পৃ. ৪৮২, আঠারশো আশি সালে ভারত এক কোটি দশ লাখ বেশি টাকার পাট রপ্তানি করে। আঠারশো উননব্বই সালে এই রপ্তানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দুই কোটি ষাট লক্ষ টাকায়।
 ৫৯. অবনী লাহিড়ী, তিরিশ চল্লিশের বাংলা, কলকাতা: সেরিবান ২০০৬, পৃ. ১০৩
 ৬০. ঐ, পৃ. ১১৩-১১৪
 ৬১. পরমেশ আচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ১১৪
 ৬২. ঐ, পৃ. ১১৪-১১৫
 ৬৩. ‘বঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার বিল’, প্রবাসী, ১ম খণ্ড: পঞ্চম সংখ্যা, ভাদ্র ১৩৩৭, পৃ. ৭৫৭
 ৬৪. মোঃ আবদুল্লাহ আল-মাসুম, পূর্বোক্ত, পৃ. ২৫৩-৫৪
 ৬৫. এম ইদ্রিছ, ‘কৈফিয়ত’, আল এছলাম, ৫ম ভাগ, ১১শ সংখ্যা, ফাল্গুন ১৩২৬, পৃ. ৫৮৯
 ৬৬. হাতেম উল্লা, ‘মুসলমান ছাত্র জীবন’ কোহিনূর, ৭ম বর্ষ: ২য় সংখ্যা, জ্যৈষ্ঠ ১৩১৩, পৃ. ৪৩
 ৬৭. বহু বছর পর একই অভিযোগ তুলেছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন, তাঁর নিজের লেখা ‘নয়াপাড়া’ আরবি-পারসি শব্দের আতিশয্যের অজুহাতে বাতিল হয়ে যায় ফজলুল হক প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে।
 ৬৮. মোহাম্মদ আকরম খাঁ, ‘স্কুল-পাঠশালার পাঠ্যপুস্তক’, মাসিক মোহাম্মদী, ৭ম বর্ষ: ৫ম সংখ্যা, ফাল্গুন ১৩৪০, পৃ. ৩৬২-৩৬৮
 ৬৯. মুস্তফা নূরউল ইসলাম, পূর্বোক্ত, পৃ. ৩২
 ৭০. ঐ, পৃ. ৩২
 ৭১. পরমেশ আচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৩
 ৭২. মোঃ আবদুল্লাহ আল-মাসুম, পূর্বোক্ত, পৃ. ২৫৪
 ৭৩. পরমেশ আচার্য, পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৪-২৬
 ৭৪. কমল চৌধুরী সম্পাদিত বঙ্গভঙ্গ ও সমকালীন বঙ্গসমাজ, পূর্বোক্ত, পৃ. ৩৯-৪০
 ৭৫. অবনী লাহিড়ী, পূর্বোক্ত, পৃ. ১১৩
 ৭৬. ঐ, পৃ. ১০৯