হোম গদ্য বজ্র বিদ্যুৎ তবু থাকে

বজ্র বিদ্যুৎ তবু থাকে

বজ্র বিদ্যুৎ তবু থাকে
510
0

আলো হাওয়াকে বয়ে যেতে দিই মন্দ লয়ে। আঁধারকে দিই পরিসর।

ছেনে তোলা একেকটি পরিসরে জেগে থাকে কিছু অস্তিত্ব—ধ্বনি, ছবি, শূন্যতা অথবা দৃশ্যমান বা শ্রুত বা সুর-ছবির অন্তর্বয়িত সত্তা। এদের সংস্থানের মাঝে স্থিতির ছায়ায় লয়ের বিন্যাসে ধরা যায় গতির ধারাকে। কেবল এইই নয় নিশ্চয়ই। শেকড় বিজনে বিবিধ সঙ্গীতের বিচ্ছুরণ—বজ্র ও বিদ্যুৎ তবু থাকে।

***

মানস-বয়নের পরিব্রাজনের ধারাতেই গড়ে ওঠে ভাষার শরীর ও আত্মা।

রক্তে সুরাধারার নিমগ্ন আত্মা সুপ্ত থাকে বলেই না-বলা সব ধ্বনিঅতিক্রান্ত পরিক্রমাকে ধরে রাখে কবিতা। যদি অদেখার বৃন্তকে না ছোঁওয়া গেল তবে কবিতা কাকেই বা ধরবে! অদেখার মাঝেই তো বাস করে সেই পরিধি যা আঁধারকে আকৃতি দেয় আর গড়ে দেয় সুর। সুরই তো রূপ।

অদেখাকে গড়েও তো তোলে কবিতা।

***

পর্যাপ্তির ধারা গাঢ়তর হয়ে ক্রমে আঁধারের তরঙ্গ বিলায়। আঁধারের রশ্মি ছড়ায়। তেমন করে কবিতায় ধরা দেয় ধীরতা—পরিসর থেকে শব্দের চিরব্যাপ্তিতে যায়। শব্দ এলিয়ে পড়ে। তুরীয়তা গাঢ়তর হয়। এই উদ্ভাস আপনাকে স্থির করে।

***

মৌল ও পরিপার্শ্বগত পরিসরের দিকে আপনি যে চোখ রাখেন তা একাধারে সংগঠনের জন্য এবং ধ্যানের জন্যেও।

আপনার ডৌলসমূহের ভেতর জারিত হচ্ছে জগৎগুলো প্রতিনিয়ত। কথা ফুটে ওঠে তাদের মাঝে। গড়নের পরিসর আর নীরবতার পরিসরগুলোর মাঝে জেগে থাকতে দিন শ্বাস নেবার একখণ্ড জায়গা।

***

বাস্তব তথা এর সম্পূর্ণতাকে ধরতে পারার মাঝেই নিহিত আছে ধীরতা ও মৌনীর সূত্র। ধ্যান থেকেই ঘটে এর উদ্ভব। এক্ষেত্রে বাস্তব বলতে কী বোঝায় তার সূত্রটি অনুধাবন করা জরুরি। বাস্তব বলতে আমি বুঝি—যে বাস্তবকে আমি গড়ে তুলি বা যারা আমারই মাঝে বিরাজ করে, গড়ে ওঠে, বিবর্তিত হয়, পরিণত হয়। যা একান্তই আমার। আমার ভাষাকে গড়ে দেয় যে গভীরতা—আমার ভাষার মর্ম।

***

ভাবের বাহন হয়ে থাকা নিশ্চয়ই কবিতার একমাত্র কাজ নয়। ভাব অতিক্রান্ত রাগগুলো সেখানে আসবে, সহজ হয়ে। বিচ্ছুরণ বা আন্দোলনগুলো বোবা ও বাঁধভাঙা।

নানা স্রোতের মোহনা হয়ে উঠল বলেই গড়ে উঠল সঙ্গীত। সেখানে ধ্বনি ও নীরবতার মাঝে জাগল রঙ ও রাগ।

রাগ মানেই বিলাস।

***

আলোর যোনি থেকে জন্ম নেয় দেশ ও কাল।

***

অস্তিত্বকে দেখে নিন বিভিন্ন আলোয়, মাটিতে, খাদের কিনারায়, ঝর্নাতলায়। একেকটি শব্দ বা ধ্বনিকে ও ছবিকে অবশ্যই জারিত হতে হবে তরঙ্গের আন্দোলনের কেন্দ্রস্থ গভীর স্থির নৃত্যে।

বুনটকে আপনি স্পষ্ট করবেন কি উহ্য রাখবেন তা নির্ভর করবে কবিতা মুহূর্তটি স্পর্শনীয়তার, মসৃণতার, অমসৃণতার কিংবা মূক দাহের কিনা তার ওপর।

অবশ্যই প্রতিটি নীরব পরিসরের সে প্রবল টান থাকবে যা কথা কেড়ে নেবে আপনার মুখ থেকে।

অস্তিত্বকে দেখুন বিবিধ সুরে—বিরোধের নিরিখে, একই চরণে বিদ্যুল্লতার মতো বহুধা দিশেহারা করা ছন্দে ভরে যাক আপনার স্বর।

***

যা ঘনিয়ে উঠছে তার দিশা ধরে রাখি—এ তো বেড়ে উঠবেই। এর ধীর বোবা ও অন্ধ যৌনতার গতিমুখে স্নায়ু নিয়ে প্রেমের অতলকে ছুঁয়ে যাবার জন্য অধীর হয়ে থাকলাম। রেখা বঙ্কিম… রেখা সরল থেকে উৎসারের মুখ অবধি টানা… গড়ে উঠল চাপ। বিচ্ছুরিত হলো।

কেলাসিত করে দিলাম।

***

আপনাকে নিঃস্ব করে দেবার জন্যে ঝড় তৈরি হয় ধীরে কোথাও—কোন এক গর্ভে, নিজেকে সে হানে আচমকা, বিদ্যুতে ঝলসে দেয়, এরপর প্লাবনের ধারায় সিক্ত আপনার নতুন জন্ম ঘটে।

তানভীর মাহমুদ

তানভীর মাহমুদ

জন্ম ৯ অক্টোবর, ১৯৮০, ঢাকা। ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। এমবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অপরাধতত্ত্ব ও বিচার-এ এমএসএস।
পেশা : চাকরি।

প্রকাশিত বই : প্রতিবিহার (কবিতা)

ই-মেইল : editor.hansadhani@gmail.com
তানভীর মাহমুদ